
বিশেষ উৎসাহ বোনাস পেয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর ও নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রত্যেকে এককালীন থোক বিশেষ উৎসাহ বোনাস পেয়েছেন ৬০ হাজার টাকা করে। এতে ঈদের আগেই ঈদ উৎসব চলছে চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে।
চট্টগ্রাম বন্দরে রেকর্ড সংখ্যক কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং হওয়ায় বন্দরের নিজস্ব তহবিল থেকে বিশেষ উৎসাহ বোনাস দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের ৫ হাজার ১১৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য খরচ হয়েছে ৩০ কোটি ৬৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চট্টগ্রাম বন্দরে রেকর্ড সংখ্যক কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং হওয়ায় বন্দরের নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থ ব্যয়ের শর্তে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এককালীন থোক ৬০ হাজার টাকা করে বিশেষ উৎসাহ বোনাস অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
তিনি জানান, চট্টগ্রাম বন্দরে ৫ হাজার ১১৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। যাদের এই উৎসাহ বোনাসে বন্দরের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩০ কোটি ৬৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বন্দরের ইতিহাসে এ ধরণের উৎসাহ বোনাস এই প্রথম। এই উৎসাহ বোনাসে বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে নতুন কর্ম উদ্দিপনা বাড়াবে।
চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের (সাবেক সিবিএ) সাবেক সহ সাধারণ স¤পাদক মোজাহের হোসেন চৌধুরী বলেন, আমাদের দাবি ছিল ৭৫ হাজার টাকা বিশেষ উৎসাহ বোনাস দেওয়ার। কর্তৃপক্ষ জনপ্রতি ৬০ হাজার টাকা অনুমোদন দিয়েছেন। এতে চট্টগ্রাম বন্দরে এখন উৎসবের আমেজ চলছে। কোনো বৈষম্য না থাকায় এ বোনাস নতুন উদ্যমে সবাইকে কাজের প্রেরণা জোগাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বন্দর সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ দশমিক ২৭ মিলিয়ন টিইইউস (২০ ফুট হিসেবে) কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে। কার্গো হ্যান্ডলিং করেছে ১২৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন। জাহাজ হ্যান্ডলিং করেছে ৩ হাজার ৮৬৭টি। ২০২৩ সালের তুলনায় কনটেইনারে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ, কার্গোয় ৩ দশমিক ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্দরে ৩২ লাখ ৭৫ হাজার ৬২৭ টিইইউস কনটেইনার এবং ১২ কোটি ৩৯ লাখ ৮৬ হাজার ১৪ টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে। বহির্নোঙর জাহাজের গড় অপেক্ষার সময় একদিনে নেমে এসেছে বলে জানান তিনি।
২০২৪ সালের পঞ্জিকাবর্ষ অনুযায়ী রাজস্ব আয় ৫০৫৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। যা আগের বছরের তুলনায় ২১ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি ও রাজস্ব উদ্বৃত্ত ২০২৪ সালের পঞ্জিকাবর্ষানুসারে ২৯৪৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। যা আগের বছরের চেয়ে ৩৭ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।
আগের বছরে বন্দরের রাজস্ব আয় ছিল ৪১৬৫ কোটি ১৮ লাখ টাকা। রাজস্ব উদ্বৃত্ত ছিল ২১৪৩ কোটি ১০ লাখ টাকা। এছাড়া ২০২৪ সালের পঞ্জিকাবর্ষ অনুযায়ী রাজস্ব ব্যয় ২১০৭ কোটি ২ লাখ টাকা। আগের বছর রাজস্ব ব্যয় ছিল ২০২২ কোটি ৮ লাখ টাকা। সে হিসেবে আগের বছরের তুলনায় রাজস্ব ব্যয় ১১৫ কোটি ৬ লাখ টাকা কম।