
ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফুলকলির কারখানার বর্জ্যে দূষিত একটি খাল ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রামের পটিয়া আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে পটিয়া উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি ওই এলাকা পরিদর্শনে যান।
দীর্ঘদিন ধরে ফুলকলি কারখানার বিরুদ্ধে উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের ইউনিয়ন কৃষি স্কুলের সামনের খালে বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষণের অভিযোগ পেয়ে এই উদ্যোগ নেন তিনি।
এ সময় দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের কাছে দুই মাসের সময় চেয়েছেন বলে জানান এমপি এনামুল হক।
তিনি জানান, শপথ গ্রহণের পর থেকেই পটিয়াকে অপরাধ, চাঁদাবাজি, অবৈধ মাটি কাটা ও পরিবেশ দূষণমুক্ত করতে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে ফুলকলির কারখানা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রয়া ত্রিপুরা এবং পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জিয়াউল হক।
এছাড়া পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম, জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বখতিয়ার মোহাম্মদ বকুল এবং ফুলকলি কারখানার ম্যানেজার জসিম উদ্দীনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনের বিষয়ে জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বখতিয়ার মোহাম্মদ বকুল জানান, সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম সরেজমিনে গিয়ে ফুলকলি কারখানার বর্জ্য খালে ফেলায় পরিবেশ দূষণের বিষয়টি নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করেছেন।
বখতিয়ার মোহাম্মদ বকুল বলেন, খালে বর্জ্য ফেলার কারণে দুর্গন্ধ সৃষ্টি ও চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার বিষয়ে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল। বিষয়টির স্থায়ী সমাধানে সংসদ সদস্য সশরীরে উপস্থিত হওয়ায় স্থানীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে বখতিয়ার মোহাম্মদ বকুল উল্লেখ করেন। দূষণ ও দুর্গন্ধ বন্ধ করার জন্য ফুলকলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দুই মাস সময় চাওয়া হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
স্থানীয়রা জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে অবস্থিত খালটিতে প্রতিনিয়ত কারখানার বর্জ্য পড়ায় তীব্র দুর্গন্ধের শিকার হচ্ছেন পথচারী ও যাত্রীরা। প্রশাসনের যথাযথ তদারকির অভাব ও কারখানা কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির কারণেই এই বিষাক্ত বর্জ্য মিশ্রিত পানি খালে পড়ছে।
এর ফলে আশপাশের কৃষিজমির চাষাবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। পরিবেশ অধিদপ্তর বিভিন্ন সময় শুধু জরিমানা ও চিঠি দিয়ে দায় সারলেও স্থানীয়দের দুর্ভোগের কোনো স্থায়ী সমাধান এতদিন হয়নি।
দুর্গন্ধ ছড়ানোর বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন পটিয়া ফুলকলি কারখানার ম্যানেজার জসিম উদ্দীন। সমস্যার সমাধানের বিষয়ে জসিম উদ্দীন জানান, দুর্গন্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার জন্য তারা কারখানায় এয়ার পিউরিফায়ার স্থাপন করবেন। এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে তাদের প্রায় দুই মাসের মতো সময় লাগতে পারে।










































