রবিবার- ৩১ আগস্ট, ২০২৫

ভারী বৃষ্টির মধ্যে চট্টগ্রামে নালায় পড়ে শিশুর মৃত্যু

ভারী বৃষ্টির মধ্যে চট্টগ্রামে নালায় পড়ে শিশুর মৃত্যু

ট্টগ্রামে অতি ভারী বৃষ্টির মধ্যে খোলা নালায় পড়ে হুমায়রা আক্তার নামে ৩ বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে। বুধবার (৯ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে নগরীর হালিশহর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল বিকেল পৌনে ৪টার দিকে নগরীর হালিশহর থানার আনন্দিপুর এলাকায় নালা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হুমায়রা আক্তার আনন্দিপুর মসজিদ কলোনির আবদুর রহমানের মেয়ে। আবদুর রহমান স্থানীয় একটি ক্যাবল সংযোগ প্রতিষ্ঠানের লাইনম্যান হিসেবে কর্মরত আছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘটনাস্থলে থাকা হালিশহর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইমন দত্ত। তিনি বলেন, একটি শিশু নালায় পড়ে নিখোঁজের তথ্য পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। ফায়ার সার্ভিসের টিমও আসে। স্থানীয় লোকজন ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় শিশুটির লাশ উদ্ধার করেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, বিকেল ৩টার দিকে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছিল। এর মধ্যে হুমায়রা পাশের একটি দোকানে যাচ্ছিল। পথে একটি নালার স্ল্যাব ছিল না। এর ওপরে পানি জমে ছিল। ফলে সেখানে নালা আছে সেটি বোঝার উপায় নেই। অসাবধানতাবশত শিশুটি সেখানে পা রাখলে নিচে পড়ে যায়। পানির স্রোতে সে ভেসে যায়। প্রথমে স্থানীয়রা এবং পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা উদ্ধার অভিযান চালায়।

আরও পড়ুন :  ইসলামী ব্যাংকের ১৬০০ কোটি টাকা গায়েব

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে আগ্রাবাদ স্টেশন থেকে দ্রুত ডুবুরি টিম পাঠানো হয়। তারা অল্প সময়ের মধ্যে শিশুটিকে উদ্ধার করে। তবে তাকে প্রাণে বাঁচানো যায়নি।

এর আগে চলতি বছরের ১৮ এপৃল ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা থেকে চকবাজার এলাকায় ছিটকে উন্মুক্ত নালায় পড়ে যায় দুই নারী ও তাদের সঙ্গে থাকা সেহরীশ নামে ছয় মাস বয়সী এক শিশু। স্থানীয়দের সহায়তায় দুই নারীকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা হয়। পানির স্রোতে শিশুটি তলিয়ে যায়। পরদিন চাক্তাই খাল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন :  পিআরও‘র আড়ালে বেলাল কেজিডিসিএলের ঠিকাদারও?

এ ঘটনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে সিটি করপোরেশন নগরীর সব খাল-নালার পাড়ে বাঁশের বেস্টনী দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। বাঁেশর বেস্টনী দেওয়ার কাজ কিছু এগিয়ে গেলেও ওই নালা ও খালে দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানান চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান।

এর আগে ২০২১ সালের ২৫ আগস্ট নগরীর মুরাদপুর মোড়ে সবজি বিক্রেতা সালেহ আহমেদ বৃষ্টির মধ্যে নালায় পড়ে নিখোঁজ হন। দীর্ঘদিন উদ্ধার অভিযান চালানো হলেও তার মরদেহ আর পাওয়া যায়নি। একই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর আগ্রাবাদ এলাকায় হাঁটার সময় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সেহেরীন মাহবুব সাদিয়া উন্মুক্ত নালায় পড়ে মারা যান।

২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর ষোলশহর এলাকায় নালায় পড়ে নিখোঁজ হয় শিশু কামাল। তিন দিন পর মুরাদপুর থেকে উদ্ধার হয় তার নিথর দেহ। ২০২৩ সালের ২৭ আগস্ট আগ্রাবাদ রঙ্গীপাড়ায় উন্মুক্ত নালায় পড়ে যায় ১৮ মাসের শিশু ইয়াছিন আরাফাত। ১৭ ঘণ্টার চেষ্টার পর উদ্ধার হয় তার মরদেহ।

আরও পড়ুন :  সিরাজ-দুলাল দুই ভাইয়ের কব্জায় কেজিডিসিএল!

এভাবে গত ছয় বছরে নগরে খাল-নালায় পড়ে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২০২০ সালে ২ জন, ২০২১ সালে ৫ জন, ২০২৩ সালে ৩ জন, ২০২৪ সালে ৩ জন এবং চলতি বছর এ পর্যন্ত ২ জন।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম নগরীতে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। রাতভর অঝোর ধারায় বর্ষণের পর বুধবার সকাল থেকেও থেমে থেমে বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিল। তবে বেলা গড়াতেই টানা মুষলধারে বৃষ্টিপাত শুরু হয়।

নগরীর পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মো. ইসমাইল ভূঁইয়া জানান, বুধবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬০ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যাকে অতি ভারী বর্ষণ বলছে আবহাওয়া অফিস। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় এ বৃষ্টিপাতের মাত্রা কমে আরও অন্তঃত দুইদিন থাকবে। এই সময়ে নগরবাসীকে সাবধানে চলাফেরা করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

ঈশান/খম/সুম

আরও পড়ুন