
টেলিভিশনে ঈদের অনুষ্ঠান দেখার লোভ দেখিয়ে চট্টগ্রামে ৭ বছরের এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠেছে। ঘটনার পর পালিয়ে যায় নিপীড়ক দুলাল ড্রাইভার। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তার। অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে আটক করেছে।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার মুহুরী প্রজেক্ট এলাকা থেকে তাকে আটক করে বলে জানান জোরারগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক মো. ওয়াদুদ।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকালে থানায় এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়। শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনা স¤পর্কে অবগত হয়। এরপর অভিযান চালিয়ে মুহুরী প্রজেক্ট এলাকা থেকে অভিযুক্ত দুলাল ড্রাইভারকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আটক দুলাল ড্রাইভার ওই এলাকার শফী সওদাগর বাড়ির মৃত ফকির আহমদের ছেলে। আর ধর্ষণের শিকার ওই শিশুটির বাড়ি অন্য জেলায়। তবে তার পরিবার কাজের সূত্রে ৩০ বছর যাবৎ মিরসরাই উপজেলার বারইয়ারহাট পৌরসভার চিনকির আস্তানা এলাকায় বসবাস করেন। সেখানে ধর্ষণের শিকার হয় শিশুকন্যাটি।
শিশুকন্যার চাচা বলেন, ঈদের দিন সোমবার বিকেলে দুলাল ড্রাইভার প্রথমে আমার ভাতিজিকে চকলেট খাওয়ার জন্য ডাকে। তখন সে যায়নি। পরবর্তীতে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে টেলিভিশনে ঈদের অনুষ্ঠান দেখার লোভ দেখায়। তখন আমার ভাতিজি টেলিভিশন দেখার জন্য তাদের ঘরে যায়। তখন দুলাল তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে সে চিৎকার দিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে চলে আসে।
তিনি জানান, ওই সময় দুলাল ড্রাইভারের ঘরে কেউ ছিল না। রাতে ব্যাথা শুরু হলে ভাতিজী তার মাকে সবকিছু খুলে বলে। মঙ্গলবার সকালে এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানায় গেলে সেখান থেকে পুলিশ আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. বাঁধন দাশ বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে ৭ বছরের এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে তার পরিবার নিয়ে আসে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।