শুক্রবার- ৪ এপ্রিল, ২০২৫

রক্তে রঞ্জিত চট্টগ্রামের লোহাগাড়া

তিন দিনে সড়ক দূর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১৫ জনের

রক্তে রঞ্জিত চট্টগ্রামের লোহাগাড়া
print news

কের পর এক সড়ক দূর্ঘটনায় রক্তে রঞ্জিত হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা। ঈদের দিন সকাল থেকে এ পর্যন্ত ভয়াবহ তিন দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১৫ জনের। আহত হয়েছেন আরো ২৪ জন।

আর সবগুলো দুর্ঘটনায় ঘটেছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি বনরেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সম্মুখস্থ জাঙ্গালিয়া মাজার টেক এলাকায়। ফলে জায়গাটি এখন দূর্ঘটনার হটস্পট হয়ে উঠেছে।

বুধবার (২ এপ্রিল) এ তথ্য জানান লোহাগাড়া থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান। তিনি বলেন, লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি বনরেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সম্মুখস্থ জাঙ্গালিয়া মাজার টেক এলাকা কক্সবাজার মহাসড়কের সবচেয়ে বিপদজনক মোড় হিসেবে পরিচিত। অন্য যে কোন স্থান থেকে মোড়টি অত্যন্ত সরু ও বাঁকা। তার উপর লবণবাহী গাড়ি থেকে পানি পরে সড়ক পিচ্ছিল হওয়ার কারণে বারবার এই এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটছে। এলাকার মাত্র ৩০০ মিটার সড়ক এখন দূর্ঘটনার হটস্পট হয়ে উঠেছে।

তিনি জানান, বুধবার সকাল ৭টায় এই এলাকায় সর্বশেষ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। কক্সবাজার থেকে আসা রিলাক্স পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে কক্সবাজারমুখী একটি মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে ১০ যাত্রী প্রাণ হারান। গুরুতর আহত হয়েছেন আরো ৬ যাত্রী। হতাহত সবাই মাইক্রোবাসের বলে জানা গেছে। তবে তাদের তাৎক্ষণিক পরিচয় পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাইক্রোবাসটি কিশোরগঞ্জ থেকে কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে রিলাক্স পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস চট্টগ্রামের দিকে আসছিল। দুটি গাড়ি লোহাগাড়া চুনতি বনরেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে জাঙ্গালিয়া মাজার টেক পৌঁছালে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান মাইক্রোবাসের ৮ যাত্রী। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দু‘জন মারা যান।

লোহাগাড়া থানার অপারেশন অফিসার মোহাম্মদ জাহিদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। আহতদের মধ্য থেকে গুরুতর ৪ জনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ‘দুর্ঘটনার কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ঘণ্টাখানেক যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশ টিম যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

এর আগে গত মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) ভোরে একই এলাকায় দুটি পর্যটকবাহী মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে যায়। এই ঘটনায় অন্তত ৯ জন যাত্রী আহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই ঢাকা ও কুমিল্লার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, ঢাকা জেলার সাভার এবং কুমিল্লা থেকে প্রায় ২২ জন পর্যটক নিয়ে পৃথক দুটি মাইক্রোবাস কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দিকে যাচ্ছিল। মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে গাড়ি দুটি চুনতি জাঙ্গালিয়া মাজার টেক এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।

এতে মাইক্রোবাস দুটি মহাসড়কের পূর্ব পাশে থাকা প্রায় ৩০ ফুট গভীর খাদে পড়ে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মতিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজে সহায়তা করে এবং দুর্ঘটনা কবলিত একটি মাইক্রোবাস জব্দ করেছে। এই ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এই দুর্ঘটনার ২৪ ঘণ্টা আগে অর্থাৎ সোমবার (৩১ মার্চ) সকাল সোয়া সাতটার দিকে জাঙ্গালিয়া মাজার টেক এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও একটি মিনিবাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় লোহাগাড়া উপজেলার চারজন এবং পার্শ্ববর্তী সাতকানিয়া উপজেলার একজনসহ মোট পাঁচ তরুণ প্রাণ হারায়। ওই ঘটনায় আরও ৯ জন আহত হয়েছিলেন।

পরপর তিন দিনে একই স্থানে তিনটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়া মাজার টেক এলাকাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্ঘটনার হট¯পট হিসেবে সামনে এসেছে। স্থানীয়রা এই অংশে সড়ক প্রশস্তকরণের মাধ্যমে নিরাপত্তা বৃদ্ধি, লবণবাহি গাড়ি চলাচল বন্ধসহ চালকদের আরও সতর্ক হওয়ার উপর জোর দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগে অতিরিক্ত দায়িত্বরত নির্বাহী প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন খালেদ চৌধুরী বলেন, যানবাহনের তুলনায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি সরু। এ কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। মহাসড়কটি প্রশস্ত করার একটি প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পটি বর্তমানে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মধ্যে আছে। সড়ক প্রশস্ত করা গেলে দুর্ঘটনা কমে আসবে।

ঈশান/মখ/মসু

আরও পড়ুন

No more posts to show