
রেলওয়ে লুটেপুটে খাচ্ছে রেল কর্মকর্তারাই। এদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) আফজাল হোসেন। যিনি লুটপাটের টাকায় ফুলেফেঁপে উঠছেন প্রতিনিয়ত। গড়েছেন পাহাড়সম সম্পদ। নিজে দূর্নীতিবাজ হওয়ায় রেলওয়ের অন্য দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই নেন না তিনি।
এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী ও দূর্নীতি বিরোধী কর্মকর্তাদের। তাদের মতে, অপ্রয়োজনীয় নানা প্রকল্প তৈরি করে লুটপাটে এগিয়ে থাকা মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ রেলওয়ে। আ‘লীগ আমলের দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে রেলওয়েতে। দূর্নীতির কারণে কালোবিড়াল খ্যাতিও পেয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।
সূত্র মতে, রেলওয়ের লুটপাটের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পদ্মা রেল সেতু সংযোগ প্রকল্প। এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ছিলেন রেলওয়ের বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) ও আওয়ামী লীগের দোসর খ্যাত আফজাল হোসেন। যিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও শাস্তির বদলে রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) পদে পদোন্নতি পেয়ে করছেন দাদাগিরি।
একইভাবে লুটেপুটে খাওয়া কক্সবাজার রেলপথ প্রকল্পের পরিচালকরাও পেয়েছেন পদোন্নতি। আর পদোন্নতির পর এবার পুরো রেলকে গিলে খাওয়ার ফাঁদ আটছেন মহাপরিচালক আফজাল হোসেনের সিন্ডিকেট।
কর্মকর্তারা জানান, ডিজির এই সিন্ডিকেট লুটপাটের নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পছন্দের কর্মকর্তাদের পদায়ন, অপছন্দের কর্মকর্তাদের ঢাকার বাহিরে বদলি, রেলের পুরনো মালামাল (স্ক্র্যাপ) বিক্রি, বিভিন্ন প্রকল্পের কেনাকাটাসহ নানা অনিয়মে ব্যস্ত। যা নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে চলমান কর্মকান্ডকে।
এর মধ্যে টেন্ডারের আওতায় হাজার হাজার টন স্ক্র্যাপ পাচার হয়েছে ইতোমধ্যে। পাচার চলমান রয়েছে এখনো। ঘটছে নানা প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্য। প্রকল্প কাজ বাস্তবায়নে হচ্ছে নানা কারচুপি। এসব অনিয়ম ও দূর্নীতি নিয়ে গণমাধ্যমে হরদম প্রতিবেদন প্রকাশ, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান থেকে রেলওয়ের ডিজি, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও দুদক বরাবরে অসংখ্য অভিযোগ গেলেও কার্যত কোন ব্যবস্থা নেই। যার পেছনে কারিগর হচ্ছেন মহাপরিচালক আফজাল হোসেন।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, পদ্মা রেল সেতু সংযোগ প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। সরকারের অডিট বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সরকারের ক্ষতি হয়েছে ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। অর্থাৎ বরাদ্দের প্রায় এক তৃতীয়াংশ অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে।
সরকারি সূত্র বলছে, প্রকল্পটির বাস্তবিক প্রয়োজন ছিল না। পদ্মা সেতু নির্মাণের পর রেল সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা ছিল অপ্রয়োজনীয়। ফলে ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকার ব্যয় মূলত উধাও হয়ে গেছে। পদ্মা সেতুর চেয়েও বড় মাত্রায় দুর্নীতি-লুটপাট হয়েছে পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পে। শুরুতেই এই প্রকল্পের অস্বাভাবিক হিসাব-নিকাশ দেখিয়ে প্রকল্পের ব্যয় কয়েকগুণ বাড়িয়ে ধরা হয়েছে।
এরপরও একনেকে অনুমোদনের মাত্র দু’বছরের মাথায় একবারেই ব্যয় ৪ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হয়। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই থেকে শুরু করে প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যন্ত সবকিছুই করছে চীনারা। এরসঙ্গে রেলেরও একাধিক কর্মকর্তা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন।
তাদের অন্যতম হলেন মো. আফজাল হোসেন। যিনি বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক পদে আসীন। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট লুটেরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার বোন শেখ রেহানার পছন্দের কর্মকর্তা এই আফজাল হোসেন পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক পদের দায়িত্ব পেয়েছিলেন।
এই আফজাল হোসেনের হাত দিয়েই প্রকল্পের অস্বাভাবিক ব্যয় ও ভুয়া হিসাব-নিকাশ দেখিয়ে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। আফজাল হোসেন নিজেও চীনা ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে প্রতিটি বিল পরিশোধের ওপর বড় অংকের কমিশন পেয়েছেন। এ ছাড়া সাব-কন্ট্রাক্টদের সঙ্গে সিন্ডিকেট করে হাতিয়ে নিয়েছেন সরকারি অর্থ।
এই রেল প্রকল্পে কতটা দুর্নীতি-লুটপাট হয়েছে তা সর্বশেষ সরকারের অডিট বিভাগের প্রতিবেদনেই কিছুটা বেরিয়ে এসেছে। দুর্নীতি-লুটপাটের কারণে পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পে ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি ৫২ লাখ টাকা সরকারের আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে মর্মে মহাপরিচালক, অডিট অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে।
এ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান তখন পদ্মা রেল সেতু এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে অত্যন্ত হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি পদ্মা সেতু নির্মাণের পর পদ্মা রেল সেতু নির্মাণের কোনোই প্রয়োজনীয়তা ছিল না বলে মন্তব্যও করেছেন। তিনি বলেন, প্রকল্প ব্যয়ের পুরো ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকাই জলে গেছে। প্রকল্পটি মূলত হাতে নেয়া হয়েছিল লুটপাটের ধান্দাকে সামনে রেখেই।
এর প্রমাণ পাওয়া যায় প্রকল্পের অধীন একটি রেল স্টেশন নির্মাণের চিত্র থেকেই। চিত্রে দেখা যায়, ফরিদপুরের ভাঙ্গা রেলস্টেশন, যেখানে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা ব্যয়ই যথেষ্ট ছিল সেই রেল স্টেশনে ব্যয় করা হয়েছে ১৫০ কোটি টাকারও বেশি। মূল প্রকল্পে এখানে বিপুল ব্যয়ে রেল স্টেশন নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। প্রকল্প পরিচালক আফজাল হোসেনই অন্য কৌশলে এটিকে প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অবাক করা ব্যাপার হলো, প্রকল্পটির অপব্যয়, দুর্নীতি-লুটপাট হলেও প্রকল্প পরিচালক, দুর্নীতির মূল হোতা আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটির নজিরবিহীন উচ্চ ব্যয়, অপ্রয়োজনীয় ব্যয়, দুর্নীতি-লুটপাট সবকিছুই হয়েছে তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেনের পরিকল্পনায়। এই প্রকল্পের সুবাদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার বোন শেখ রেহানার সঙ্গেও আফজাল হোসেনের যোগাযোগের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। প্রকল্পের ওপর পুরো প্রভাব তাঁর বরাবরই বজায় ছিল। প্রকল্পের সাব-কন্ট্রাক্টররা প্রায় সবাই ছিল তাঁর নিয়োজিত। প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ২০২১ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি পিডি পদে ছিলেন।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পের শুরু থেকেই সরকারি অর্থের অপব্যয় ও আত্মসাত চলছিল। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মোট ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা অনিয়ম হয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর অনিয়ম অর্থাৎ মীমাংসা যোগ্য নয় এমন অনিয়মের পরিমাণ ৯ হাজার ৬৯৩ কোটি টাকা।
জানা গেছে, এই গুরুতর অনিয়মও এখন ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে। এটি মহাপরিচালক আফজাল হোসেনের তত্ত্বাবধানেই হচ্ছে। এতো অপকর্মের পরও অন্তর্বর্তী সরকার তাকে প্রকল্প পরিচালক থেকে কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে সরাসরি ডিজি পদে পদোন্নতি দিয়েছেন। অথচ রেল কর্মকর্তারা বলছেন, দুদক যদি যথাযথ তদন্ত চালাত, আফজাল হোসেন ফেঁসে যেতেন এবং এতে উপদেষ্টা-সচিবও সমস্যায় পড়তে পারতেন। কিন্তু তারা তখনকার ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন।
সূত্র বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের একটি অংশের প্রচেষ্টায় হাসিনা-রেহানার হাজার কোটি টাকার মেগা দুর্নীতির খতিয়ান ধামাচাপা দেয়ার তৎপরতা চলে। এ লক্ষ্যে রেল বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার সমন্বয়ে আনঅফিসিয়ালি একটি টিম গঠন করা হয়, যারা ডিজি আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে কাজ করছে।
অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মীমাংসা যোগ্য নয় এমন গুরুতর অনিয়মগুলোর মাধ্যমে সরকারের অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে। ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে মূল চুক্তির বাইরে ৫৫৬ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ দেখিয়ে তা আত্মসাত করা হয়েছে। ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত রেল লাইন নির্মাণে মূল নকশার তুলনায় গড়ে ১.৭ মিটার কম উচ্চতায় মাটি ভরাট ও অন্যান্য আইটেম কম হলেও ঠিকাদারদের অতিরিক্ত বিল দেয়া হয়েছে। এ ধরনের অনিয়মে ২ হাজার ১৩০ কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। রেল লাইন নির্মাণে বালির স্তরও মূল স্পেসিফিকেশনের তুলনায় গড়ে ২০০ মিমি কম হলেও ঠিকাদারকে অতিরিক্ত বিল দেয়া হয়েছে ২১৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
এ ছাড়া পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রগ্রেস রিপোর্টের তুলনায় কাজ বেশি দেখিয়ে ১ হাজার ১১ কোটি টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পকে ‘বিশেষায়িত’কাজ হিসেবে দেখিয়ে চুক্তি করা হয়েছে প্রাক্কলনের ১৭.১৫% উচ্চমূল্যে (ইপিসি/টার্নকি), যার মাধ্যমে আত্মসাত হয়েছে ৩ হাজার ৬০৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এভাবে নানা অনিয়ম ও অসঙ্গতির কারণে সরকারের ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা ক্ষতি ও অর্থ আত্মসাত হয়েছে।
জানা গেছে, দুদকের এক কর্মকর্তাকে আফজাল হোসেনের অলিখিত ব্যবসায়িক পার্টনারও বলা হয়ে থাকে। আফজাল হোসেন এখন একেতো অগাধ অবৈধ অর্থের মালিক, তার ওপর আবার মহাপরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে। তার ছাতা হিসেবে রয়েছেন খোদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও সচিব। আর দুর্নীতি ধামাচাপা দেয়ার সরাসরি দায়িত্বে রয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অডিট বিভাগ এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা। এ কাজের জন্য তাদের হাতে বরাদ্দ আছে বড় অংকের ফান্ডও। শুধু ২০২৩-২৪ অর্থবছরের এই প্রতিবেদনই নয়, ইতিপূর্বে প্রকল্পটির শুরু থেকেই প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার অডিট আপত্তি হয়েছে। যার অনেকাংশই মো. আফজাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের সদস্যরা ধামাচাপা দিতে সক্ষম হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পদ্মা সেতু নির্মাণের পর একই পথে আবার পদ্মা রেল সেতু নির্মাণের প্রয়োজন ছিল না। তারপরও প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে শুধুমাত্র সরকারি অর্থ আত্মাসাতের লক্ষ্যকে সামনে রেখেই। বাস্তবে হয়েছেও তাই। চীনা দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে এবং তাদের পরামর্শে অনেকটা হঠাৎ করেই এ প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছিল। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, ডিপিপি তৈরি, একনেক অনুমোদন প্রভৃতি কাজগুলো হয়েছে অত্যন্ত দ্রুততা এবং গোপনীয়তার সঙ্গে। এমনকি একনেক অনুমোদনের পরও অনেক কিছুতে রাখঢাক ছিল।
দুর্নীতিবাজ বলে চিহ্নিত চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে এটা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। চীন সরকারের উচ্চহার সুদের ঋণে এ প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছিল। যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের যেসব ভুয়া হিসাবকে সামনে রেখে এই বৃহৎ প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে তা আদৌ কখনো বাস্তবায়িত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ সক্ষমতা অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন কখনোই সম্ভব হবে না। তাও রেল পরিচালনা বাবদ প্রতি মাসে বড় অংকের লোকসান দিতে হচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষকে। পদ্মা সেতুর কারণে সড়ক পথেই এখন সবাই মালামাল পরিবহনে আগ্রহী। একেতো অস্বাভাবিক ব্যয় দেখিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। তারওপর যা কিছু নির্মাণ হয়েছে সেটাও সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
একইভাবে ২১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সেখান থেকেও এক তৃতীয়াংশ সরকারি বরাদ্দ লুটপাট করা হয়। আর প্রকল্প কাজে নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করে পুরো রেলপথকে ঝুঁকিতে ফেলা হয়। বলতে গেলে এটিও ছিল সরকারের অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প। প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজে এ পর্যন্ত তিন কর্মকর্তা পিডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। যারা প্রকল্পের অর্থ লুটেপুটে পাহাড়সম সম্পদ গড়েছেন। পেয়েছেন পদোন্নতিও।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার শুরুতেই জানিয়েছিল যে পদ্মা রেল সেতুর দুর্নীতি-লুটপাটের বিষয়ে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে। গণমাধ্যমে পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পের দুর্নীতি প্রকাশের পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নড়েচড়ে উঠেছিল। তবে রেল বিভাগের পক্ষ থেকে উপদেষ্টা-সচিবের অজুহাত দেখিয়ে যোগাযোগ করে তা থামিয়ে দেয়া হয়। অথচ রেল বিভাগের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন সরাসরি এই প্রকল্পের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত।
দুদককে তিনি জানিয়েছেন, অডিট প্রতিবেদন সবই মীমাংসা হয়ে যাবে, তাই আর কোনো পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই। এ প্রসঙ্গে তিনি তৎকালীন উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ও সচিব মো. ফাহিমুল ইসলামের রেফারেন্সও ব্যবহার করেছেন। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে মনে করছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা। তবে তারা আশা করছেন বর্তমান বিএনপি সরকার তদন্ত করলে আফজাল হোসেনের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।
এ ব্যাপারে জানতে রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেনের মুঠোফোন ও অফিসফোন নাম্বারে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হুয়্যাটস অ্যাপ মেসেজ অপশনে খুদে বার্তা লিখে পাঠালেও তিনি কোনরকম সাড়া দেননি। এমনকি সম্প্রতি তাঁর দপ্তরে গেলেও তিনি নেই বলে জানান।












































