জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রীকে পদের লোভ দেখিয়ে চট্টগ্রামের হোটেল পেনিনসুলার মদের বারে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করার ঘটনা এবার আদালত পর্যন্ত গড়াল।
অভিযোগকারী পদপ্রত্যাশী নারীকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযুক্ত এনসিপি নেত্রী সাদিয়া আফরিন বাদি হয়ে আদালতে মানহানির মামলা করেছেন। গত ২১ জুন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে মামলাটি করেন।
আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) মামলা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বাদিপক্ষের আইনজীবী মোজাম্মেলন হক বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০৬, ১২০ (বি) ও ৩৪ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। আদালত পিবিআইকে একমাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে মামলার প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন।
মামলার আরজিতে উল্লেখ রয়েছে, গত ১৯ জুন সংবাদ সম্মেলন করে পদপ্রত্যাশী এক নারীকর্মী অভিযোগ করেছিলেন, নারীশক্তির পদ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সাদিয়া আফরিন তাকে গত ১৪ জুন নগরীর জিইসি মোড়ে পেনিনসুলা হোটেলের মদের বারে নিয়ে যান।
সেখানে এনসিপি নেতা আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজাউদ্দিন ছিলেন। সাংগঠনিক বৈঠকের নামে সুজা ‘মদ্যপ অবস্থায়’ তাকে অস্বস্তিকর প্রস্তাব দেন। আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজাউদ্দিন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। সাদিয়া আফরিন চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব। দলটির সহযোগী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠকও তিনি।
এ নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যে সাদিয়া আফরিনের করা মামলায় নারীকর্মীর পাশাপাশি তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী উল্লেখ করে এনসিপি ছেড়ে যাওয়া হুজ্জাতুল ইসলামকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার আরজিতেেআরও উল্লেখ করা হয়েছে, সুজা ও সাদিয়ার ছবিসহ ব্যানার ব্যবহার করে সংবাদ সম্মেলন করে নারীকর্মী যৌন হয়রানি ও এতে সহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তথ্যউপাত্ত, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনায় অভিযোগকারীর বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব ঘটনার কোনো সঙ্গতি পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে নারীকর্মী এমন অভিযোগ তুলেছেন সাদিয়া আফরিন। আইনি প্রক্রিয়ায় প্রকৃত সত্য উদঘাটন হবে বলে প্রত্যাশা তার।