কাতার বিশ্বকাপে অতিমানবিক ও মহাকাব্যিক অর্জনের পর, বিশ্বজুড়ে কোটি ফুটবল আশা করেছিলেন—বিদায়বেলায় চেনা জাদুকর মেসি আরও একবার ট্রফি উঁচিয়ে ধরবেন, মাঠজুড়ে উড়বে আকাশি-সাদা আবির। কিন্তু ফুটবল দুহাত যেমন ভরিয়ে দেয়, তেমনি কখনো কখনো নির্মমভাবে কেড়েও নেয়।কোটি ভক্তের হৃদয় ভেঙে দিয়ে, মাঠের সবুজ ঘাসে একরাশ বিষণ্ণতা আর আক্ষেপ ছড়িয়ে এবার শূন্য হাতেই বিদায় নিতে হলো ফুটবলের জাদুকর মেসিকে। বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে শূন্য হাতে ফিরলেও, লিওনেল আন্দ্রেস মেসি ফুটবল নামক খেলাটিতে রেখে গেলেন এক সুবিশাল ও অজেয় সাম্রাজ্য। যে সাম্রাজ্যের মুকুটহীন রাজা তিনিই থাকবেন চিরকাল। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেও গল্পটা এমন বিষাদময় ছিল না। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার মিশন আর মেসির শেষ বিশ্বকাপকে রাঙিয়ে রাখার এক বুক স্বপ্ন নিয়ে কোটি চোখ তাকিয়ে ছিল আমেরিকার মাঠগুলোর দিকে। কিন্তু আধুনিক ফুটবলের গতি, শারীরিক শক্তি আর প্রতিপক্ষের নিখুঁত ট্যাকটিকাল ব্লকের সামনে এবার চেনা জাদুকরকে বড্ড একাকী লেগেছে। বয়স আর সময়ের অমোঘ নিয়মকে ফাঁকি দিয়ে জাদুদণ্ডের শেষ ছোঁয়া দিয়ে দলকে টেনে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা তিনি করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু ভাগ্য এবার আর সহায় হয়নি।যখন শেষ বাঁশিটা বাজলো, তখন ক্যামেরা আর কোটি জোড়া চোখ শুধু একজনের দিকেই নিবদ্ধ ছিল। মাঠে নিথর দাঁড়িয়ে থাকা ১০ নম্বর জার্সিধারী সেই মানুষটি, যিনি যুগের পর যুগ ধরে ফুটবল বিশ্বকে বুঁদ করে রেখেছিলেন আনন্দ-উল্লাসে, আজ তাঁর নিজের চোখেই টলমল করছিল জল। এই শূন্যতা শুধু আর্জেন্টিনার নয়, এই শূন্যতা পুরো ফুটবল বিশ্বের।ফুটবল ইতিহাসে মেসির গল্পটা সবসময়ই ছিল চরম নাটকীয়তায় ভরা। ২০১৪ সালের মারাকানার সেই ট্রাজিক ফাইনাল, কিংবা টানা দু'টি কোপা আমেরিকার ফাইনালে হেরে গিয়ে ২০১৬ সালের সেই কান্নাসিক্ত সাময়িক অবসর—মেসিকে ভাঙতে দেখেছে বিশ্ব। এরপর ২০২১-এর কোপা আমেরিকা এবং ২০২২-এর কাতার বিশ্বকাপে ট্রফি জিতে তিনি যেন পৌঁছে গিয়েছিলেন অমরত্বের চূড়ায়।সবাই ভেবেছিল, অলিম্পাসের সেই চূড়াতেই হয়তো শেষ হবে তাঁর যাত্রা। কিন্তু ফুটবলপ্রেমীদের অতৃপ্ত আকাঙ্ক্ষা আর নিজের দেশের প্রতি টান তাঁকে টেনে এনেছিল ২০২৬-এর মঞ্চে। আর সেখানেই লুকিয়ে ছিল নিয়তির অন্য এক স্ক্রিপ্ট। কাতারের সেই সোনালী ট্রফি জয়ের পর এই শূন্য হাতে বিদায় যেন ভক্তদের আরও বেশি করে মনে করিয়ে দিচ্ছে—ফুটবল কতখানি নিষ্ঠুর হতে পারে।খেলার পরিসংখ্যান কিংবা ইতিহাসের পাতায় হয়তো লেখা থাকবে, ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে মেসি কিছুই পাননি। কিন্তু ফুটবল কি কেবলই ট্রফি আর মেডেলের শুষ্ক হিসাব? লিওনেল মেসি নামক যে জাদুকর গত দুই দশক ধরে প্রতি শনি-রবিবারে কোটি মানুষকে জীবনের ক্লান্তি ভুলিয়ে এক পরম আনন্দ উপহার দিয়েছেন, তাঁর বিদায়কে কোনো ধাতব ট্রফির মাপকাঠিতে বিচার করা অসম্ভব।তিনি এবার মেডেল পাননি ঠিকই, কিন্তু মাঠ থেকে যখন তিনি শেষবারের মতো হেঁটে টানেলের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন গ্যালারিজুড়ে প্রতিপক্ষ ভক্তদেরও দাঁড়িয়ে দেওয়া করতালি আর কোটি মানুষের চোখের জল প্রমাণ করে গেছে—তাঁর অর্জন ট্রফির চেয়েও বহুগুণ বেশি। তিনি ফুটবলকে যা দিয়েছেন, তা কোনো মিউজিয়ামের শোকেসে বন্দি করা যায় না; তা মিশে আছে ফুটবল ইতিহাসের ডিএনএ-তে।মারাকানার কান্না যেমন কাতারে গিয়ে হাসিতে রূপ নিয়েছিল, ফুটবলের এই চিরন্তন চক্রে এবার বিদায়ের সুরটা বড্ড করুণ, বড্ড অসমাপ্ত। ট্রফিহীন এই বিদায় হয়তো আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে একটা দীর্ঘশ্বাস হয়ে থাকবে, কিন্তু ফুটবল রোমান্টিকদের মনে মেসি চিরকাল অমর থাকবেন তাঁর পায়ের সেই অবিশ্বাস্য ড্রিবলিং, চোখ ধাঁধানো ফ্রি-কিক আর মাঠের ভেতরের বিশুদ্ধ সৌন্দর্যের জন্য, ট্রফির সংখ্যায় নয়।
২ মাস ১৩ দিন আগে
ধরাশায়ী আর্জেন্টিনা। কাঁদল মেসির দল, বিশ্বজুড়ে কাঁপল সমর্থকরাও। এমনভাবে বিশ্বকাঁপিয়ে বিশ্বকাঁপ জয় করলো স্পেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আধিপত্য বিস্তার করে ১-০ গোলে জয় নিশ্চিত করে দ্বিতীয়বারের মতো ফুটবলের সর্বোচ্চ শিরোপা নিজেদের করে নিল স্পেন।খেলার শুরু থেকেই আর্জেন্টিনাকে যেন অদৃশ্য জালে আটকে একের পর এক আক্রমণ চালিয়েছে স্পেন। অসহায়ের মতো শুধু রক্ষণভাগ সামলাতেই হলো আর্জেন্টিনাকে। বার বার দারুণ সব প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ফাইনালে একেবারে হতাশা উপহার দিল আর্জেন্টিনা। প্রত্যাবর্তন দূরে থাক সামান্য আশাও জাগাতে ব্যর্থ হলো মেসিরা। প্রথমার্ধেই একাধিকবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল স্পেন। লামিনে ইয়ামালের শট ঠেকিয়ে দেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। পরে তোরেসের হেডও দুর্দান্তভাবে রুখে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক। ফলে নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্যভাবেই শেষ হয়।ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে উইলিয়ামসের একটি শক্তিশালী শট রুখে দেন আর্জেন্টিনা কিপার। এর কিছুক্ষণ পর কুবার্সিকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে আর্জেন্টিনাকে ১০ জনের দলে পরিণত করে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। তবে অতিরিক্ত সময়ে এসে আর রক্ষা হয়নি আর্জেন্টিনার। ম্যাচের ১০৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের নিখুঁত হেড থেকে বাড়িয়ে দেওয়া বল আর্জেন্টাইনদের স্বপ্ন ভেঙে জালে ঢোকান ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস। সেই এক গোলই গড়ে দেয় শিরোপার ভাগ্য। গোল হজমের পর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ আরও কঠিন হয়ে যায় আর্জেন্টিনার।পরিসংখ্যানও স্পেনের আধিপত্যেরই গল্প বলেছে। ১৯৬৬ সালের পর এই প্রথম কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচের প্রথমার্ধে একটি শটও নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। শুধু তাই নয়, পুরো ৯০ মিনিটে তারা গোলমুখে কোনো শট রাখতে পারেনি এবং বলের দখলেও ছিল মাত্র ৩৪ শতাংশ—যা ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে তাদের সর্বনিম্ন।সব মিলিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে কার্যত নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগই দেয়নি স্পেন। জমাট রক্ষণ, নিয়ন্ত্রিত মাঝমাঠ আর ধারালো আক্রমণের সমন্বয়ে পুরো টুর্নামেন্টের মতো ফাইনালেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করল স্পেন। আর টানা দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে রানার্সআপ হয়েই বিশ্বকাপ শেষ করতে হলো সেলেসাওদের।
২ মাস ১৩ দিন আগে
বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল শুধু দুই দলের লড়াই নয়, এটা অনেক মানুষের কাছে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অবস্থানেরও প্রতিফলন হয়ে উঠেছে। নিউ জার্সিতে এবারের ফাইনালে স্পেন ও আর্জেন্টিনা শিরোপাও যেন তেমন হয়ে উঠেছে। হাজার কিলোমিটার দূরে থেকেও স্পেনের পক্ষে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার মানুষের উল্লাস শুনতে পাচ্ছে বিশ্ব। তাদের এই সমর্থনের কারণ শুধু ফুটবল নয়, ফিলিস্তিনের প্রতি স্পেনের অবস্থানের ফলে বিশ্বকাপের ফাইনালকে ঘিরে গাজায় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। সেখানে অনেক ফিলিস্তিনি সমর্থক স্পেনের জয়ের প্রত্যাশা করছেন। তাদের মতে, ফিলিস্তিনের প্রতি স্পেন সরকারের রাজনৈতিক ও মানবিক অবস্থান তাদের এই সমর্থনের অন্যতম কারণ।গাজার প্রতিবন্ধী ফুটবল দল ‘গাজা আল ইরাদা’র প্রধান কোচ হাতেম আল মাগরিবি বলেন, পুরো ফিলিস্তিনি জনগণ চান স্পেন শিরোপা জিতুক। তার ভাষায়, যেসব মানুষ যুদ্ধের কারণে হাত-পা হারিয়েছেন, তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশের শক্তি হারাননি। যারা ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান জানাতেই তারা স্পেনকে সমর্থন করছেন।তিনি বিশ্বকাপ চলাকালে ফিলিস্তিনিদের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানানোর জন্য মিসরের কোচ হোসাম হাসানকেও ধন্যবাদ জানান। তবে যুদ্ধের কারণে গাজায় বিশ্বকাপের ম্যাচ উপভোগ করাও কঠিন হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিনের সংঘাত, বিদ্যুতের সংকট এবং জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে অনেক পরিবার নিয়মিত খেলা দেখতে পারছেন না।সাবেক ফুটবলার ও স্টেডিয়াম ব্যবস্থাপক আদনান আল আফিফি বলেন, বিদ্যুৎ থাকলেই কেবল খেলা দেখা সম্ভব হয়। কিন্তু জ্বালানির অভাবে জেনারেটর চালানোও অনেকের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর।এই পরিস্থিতির মধ্যেও ফুটবলের আনন্দ ফিরিয়ে আনতে গাজা সিটির প্যালেস্টাইন স্পোর্টস ক্লাবে বিশ্বকাপ উপলক্ষে দুটি প্রদর্শনী ম্যাচের আয়োজন করা হয়। বর্তমানে এটিই গাজার একমাত্র সচল ফুটবল ক্লাব, যেখানে খেলোয়াড়রা অনুশীলনের সুযোগ পাচ্ছেন।প্রদর্শনী ম্যাচে ফিলিস্তিন ও স্পেনের প্রতিনিধিত্বকারী দুটি দল অংশ নেয়। আন্তর্জাতিক ম্যাচের আবহ তৈরি করতে রেফারির পাশাপাশি প্রতীকী ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবস্থাও রাখা হয়। আল আফিফির মতে, পুরো আয়োজন ছিল আবেগ, আনন্দ ও স্পেনের প্রতি সমর্থনের এক অনন্য প্রকাশ।অন্যদিকে ৩৩ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি আহমেদ আল বোজম বলেন, তিনি স্পেনের পক্ষেই রয়েছেন। তার মতে, স্পেন ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে বলেই তিনি তাদের সমর্থন করছেন। গাজার অনেক মানুষের মধ্যেই একই ধরনের অনুভূতি কাজ করছে।এদিকে ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরাইলে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে তিনি আর্জেন্টিনা দলের জন্য শুভকামনা জানান। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু উল্লেখ করে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন।ফলে বিশ্বকাপের এই মহারণ শুধু মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকছে না। স্পেন ও আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক অবস্থান, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং মানুষের আবেগও এবারের ফাইনালকে দিয়েছে ভিন্ন এক মাত্রা। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের মে মাসে স্পেন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। সে সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছিলেন, এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য ছিল দুই রাষ্ট্রভিত্তিক শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথকে এগিয়ে নেওয়া, গাজার মানবিক সংকট মোকাবিলায় ভূমিকা রাখা এবং যুদ্ধবিরতি ও ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করা।শুধু সরকার নয়, স্পেন জাতীয় দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচও গাজার মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল এবং কোচ পেপ গার্দিওলার বক্তব্যও ফিলিস্তিনিদের কাছে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
২ মাস ১৪ দিন আগে
বাংলাদেশের জন্য ফিফার দেয়া উপহারের বিশ্বমানের ফুটবল টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণ অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। দীর্ঘ পাঁচবছর রশি টানাটানির পর কক্সবাজারের রামুর রশিদনগরে স্বপ্নতরী বিনোদন কেন্দ্রের পাশে মহাসড়ক লাগোয়া ১৫.২০ একর জমি বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জমি বরাদ্দের ফাইল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেড়ারেশন (বাফুফে)। রেজিস্ট্র সম্পন্ন হলেই শুরু হবে টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের কাজ। এমনটি জানিয়েছেন বাফুফের শীর্ষ কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান কামরুল হাসান হিলটন। তিনি বলেন, জাতীয় দল ও বয়সভিত্তিক দলগুলোর নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কোচিং শিক্ষা এবং ট্যালেন্ট ডেভেলপমেন্ট কার্যক্রমকে এক ছাতার নিচে আনতেই এই টেকনিক্যাল সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির জন্য ৮৮ কোটি টাকা (৬.৬ মিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ করেছে ফিফা।তিনি বলেন, জমি বরাদ্দ সংক্রান্ত্র স্থানীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রকল্পের ফাইলটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। সেখানে অনুমোদনের পর বন্দোবস্তের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সাথে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি, শিগগিরই অনুমোদন হয়ে যাবে। তিনি বলেন, আমাদের নানা সংকট ও সীমাবদ্ধতার কারণে এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি ঝুলে গিয়েছিল। ফিফার কাছে দুঃখ প্রকাশ করে আমরা দফায় দফায় সময় নিয়েছি। এতে একাধিকবার বাতিলের কথাও জানায় ফিফা। বহু অনুরোধ করে একাধিকবার চিঠি দিয়ে প্রকল্পটি রক্ষা করেছি। এমন সুযোগ হাতছাড়া হলে আমাদের বড় ক্ষতি হয়ে যেতো। আমরা এবার সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে চাই।সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক সুযোগ–সুবিধাসম্পন্ন এই সেন্টারে থাকবে আন্তর্জাতিক মানের একাধিক প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম ঘাসের ফুটবল মাঠ, জিমনেশিয়াম, চারতলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবন, ক্লাসরুম এবং স্পোর্টস সায়েন্স সুবিধা, ইনডোর ট্রেনিং সুবিধা, স্পোর্টস সায়েন্স ও মেডিকেল ইউনিট, ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার, ভিডিও অ্যানালাইসিস ল্যাব, কোচিং এডুকেশন সেন্টার, ডাইনিং ও কনফারেন্স সুবিধা এবং বয়সভিত্তিক দলের জন্য পৃথক আবাসন। এ কেন্দ্র থেকেই ভবিষ্যতে জাতীয় দল, নারী দল, অনূর্ধ্ব–১৭, অনূর্ধ্ব–২০, অনূর্ধ্ব–২৩ সহ সব বয়সভিত্তিক দলের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে।বাফুফে কর্মকর্তাদের মতে, এই টেকনিক্যাল সেন্টার চালু হলে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মানের স্থায়ী প্রশিক্ষণ অবকাঠামো গড়ে উঠবে। এতে বিদেশে প্রশিক্ষণের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে, খেলোয়াড়দের বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত হবে, কোচ ও ম্যাচ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ উন্নত হবে এবং সারাদেশ থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে বাংলাদেশ ফুটবল নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে শুধু কক্সবাজার নয়, পুরো বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়নের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই টেকনিক্যাল সেন্টার স্থাপন হলে জাতীয় ফুটবলের কেন্দ্রবিন্দু হবে কক্সবাজার।বাফুফের দাপ্তরিক সূত্র জানায়, বাংদেশের ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই টেকনিক্যাল সেন্টারটি উপহার দিচ্ছে ফিফা। ২০২২ সালে বাংলাদেশের জন্য এই ফুটবল টেকনিক্যাল সেন্টার বরাদ্দ করে ফিফার নির্বাহী কমিটি। তখনই কাজ শুরু করতে নিদের্শনা দেয় বিশ্বফুটবলের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তারই আলোকে স্থান নির্ধারণের জন্য সারাদেশের বিভিন্ন স্থানের সমীক্ষা চালায় বাফুফে। সমীক্ষা শেষে সার্বিক উপযোগিতার ভিত্তিতে কক্সবাজারে বেছে নেয়া হয়।এ ব্যাপারে বাফুফের প্রকল্প কর্মকর্তা তানভির আহমেদ ছিদ্দিকী জানান, কক্সবাজারকে বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে ভৌগোলিক সুবিধা, প্রশস্ত জায়গা এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা। মহাসড়কের পাশে অবস্থান হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও সহজ হবে। এর অংশ হিসেবে ২০২২ সালেই কক্সবাজারে জমি নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথমে রামু উপজেলার খুনিয়াপালংয়ে একটি জমি নির্ধারণ করা হয়। একই বছর জুলাইয়ে রামুর খুনিয়াপালংয়ে ২০ একর জমিটি বাফুফের অনুকূলে হস্তান্তর করে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগ।তিনি আরো জানান, বাফুফে সেখানে সেন্টার নির্মাণের প্রস্তুতি নিয়ে ফিফার কাছে এনভায়রনমেন্ট সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট অ্যানালাইসিস রিপোর্ট পাঠায়। কিন্তু পরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জানায়, জায়গাটি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যে পড়ায় সেখানে নির্মাণকাজে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা আছে। একই সাথে পরিবেশ অধিপ্তরের আপত্তি ও পরিবেশ আইনবিদ সমিতি–বেলার সুপারিশে সেটি বাতিল হয়। এরপর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বাফুফেকে বিকল্প জায়গায় টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু এরপর বিভিন্নভাবে জমি খুঁজেও পাওয়া যায়নি। তিন বছর পর ২০২৫ সালে রামুর রশিদ নগরের ধলিরছড়া মৌজার খাস শ্রেণির ১৫.২০ একর জমি নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারণের পর জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কমিটি বাফুফের নামে বন্দোবস্তমূলক ফুটবল টেকনিক্যাল সেন্টারটি নির্মাণে বরাদ্দ করা হয়। এক লাখ টাকা অনুদানে বরাদ্দ সম্পন্ন হয়।এ ব্যাপারে প্রকল্পের স্থানীয় লিঁয়াজো কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ জানান, জমির জন্য ২০২২ সাল থেকে নানা প্রক্রিয়া চলে আসছে। তার জন্য বাফুফের শীর্ষ কর্মকর্তারা দফা দফায় কক্সবাজার আসেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের সুপারিশে সর্বশেষ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর বাফুফের একটি উচ্চ পর্যায়ের দল পরিদর্শনে আসেন। দলটি রশিদনগরের ধলিরছড়ার জমিটি চূড়ান্ত করেন। জমিটি তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল দখলে রেখেছিলেন।পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জমির উদ্দীন বলেন, জমিটি পাহাড় শ্রেণির নয়। এছাড়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নে গাছ–পালাসহ পরিবেশগত ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। পরিবেশ অধিদপ্তর সার্বিক সমীক্ষা করে ফুটবল টেকনিক্যাল সেন্টার স্থাপনে অনাপত্তিপত্র ইস্যু করেছে।কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইমরান হোসাইন সজীব বলেন, গত বছর (২০২৫) প্রকল্পটির জমি বরাদ্দে ব্যবস্থা নেয়ার দেয়ার জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হয়। সে মোতাবেক বাফুফের সাথে সমন্বয় করে জমি নির্ধারণ করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
২ মাস ১৬ দিন আগে
সেমিফাইনালের মাঠে স্প্যানিশদের বিরুদ্ধে খেই হারিয়ে ফেলল কিলিয়ান এমবাপে-উসমান দেম্বেলেদের ফ্রান্স। বিপরীতে মাঠজুড়ে ফরাসিদের চেনা ছন্দের চেয়েও বেশি গোছানো ফুটবল উপহার দিল স্প্যানিশরা। পেলেন উপযুক্ত ফলাফলও। ইউরোপ চ্যাম্পিয়নরা এবার জায়গা করে নিল বিশ্বকাপের ফাইনালে। ডালাসে মঙ্গলবার প্রথম সেমি-ফাইনালে গোছানো ফুটবল খেলে ২-০ গোলের জয়ে শিরোপা লড়াইয়ে পা রাখল স্প্যানিশরা। প্রতিপক্ষের এক অমার্জনীয় ভুলে পাওয়া পেনাল্টিতে দলকে এগিয়ে নেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। পরে দারুণ গোলে ব্যবধান গড়ে দেন ডিফেন্ডার পেদ্রো পররো। ষোড়শ মিনিটে প্রতিপক্ষের একটি আক্রমণ রুখে, দ্রুততায় বল সামনে বাড়ান দেম্বেলে আর বল ধরে ক্ষিপ্রতায় দৌড় দেন এমবাপে। তার ও গোলরক্ষকের মাঝে একমাত্র বাধা তখন পররো, পেছন থেকে পাউ কুবার্সি ও এমরিক লাপোখ্ত ছুটে গিয়ে তিন জন মিলে দলকে বিপদমুক্ত করেন। ওই একটি মুহূর্তে ফ্রান্সের ভয়ানক গতির আভাস মিলল ঠিকই; কিন্তু বাকি সময়ে সেটা কখনোই পূর্ণতা পেল না।তারকাসমৃদ্ধ দল, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যনির্ভর পারফরম্যান্স, এসবের পাশেও আরেকটি দিক ছিল, যেটা প্রথম ছয় ম্যাচে ফ্রান্সকে করে তুলেছিল অজেয়, আর সেটা হলো দলগত পারফরম্যান্স। এদিন এর কোনোটাই দৃশ্যমান হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে তাদের বিবর্ণতাই আরও বেশি করে ফুটে উঠেছে। বরং শেষের কয়েক মিনিটের আগ পর্যন্ত তো ফরাসিদের কোনো প্রচেষ্টা লক্ষ্যেই ছিল না! শেষ কয়েক মিনিটে তাদের কয়েকটি শট ঠিকঠাক লক্ষ্যে থাকলেও, তা আসলে তেমন কোনো রোমাঞ্চ জাগাতে পারেনি।বল দখলে দুই দলই ছিল সমানে-সমান। পরিসংখ্যানের হিসাবে শেষ পর্যন্ত অবশ্য আক্রমণেও তাই; তবে ম্যাচের পুরোটা সময় ছন্দ খুজে ফিরেছে ফ্রান্স। তাদের ১০ শটের তিনটি ছিল লক্ষ্যে, স্পেনের ১০ শটের দুটি। এমবাপের ওই শুরুর ব্যর্থ প্রতি-আক্রমণের চার মিনিট পরই ডি-বক্সে অদ্ভূত এক ফাউল করে পেনাল্টি হজম করেন লুকা দিনিয়ে। ডি-বক্সে ডান দিকে উঁচু হয়ে আসা বল ঠিকঠাক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অবস্থায় ছিলেন না লামিন ইয়ামাল, কিন্তু ডিফেন্ডার দিনিয়ে যেন কোনো কিছু না দেখেই ভলি করতে যান এবং মেরে বসেন প্রতিপক্ষের পায়ে। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। দারুণ স্পট কিকে বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে নেন ওইয়ারসাবাল। আসরে তার গোল হলো পাঁচটি। আর জাতীয় দলের হয়ে তার মোট গোল হলো ৬০ ম্যাচে ৩০টি।শিরোপা পুনরুদ্ধারের অভিযানে এসে, আসরে সপ্তম ম্যাচে প্রথমবার পিছিয়ে পড়ল ফ্রান্স। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টার আগেই আরেক ধাক্কা খায় তারা; ৩০তম মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন উইলিয়াম সালিবা, বদলি নামেন আরেক ডিফেন্ডার মাক্সস লাকোয়া।৩৮তম মিনিটে দুর্দান্ত ওয়ান-টাচ স্প্যানিশ আক্রমণের দেখা মেলে। যার শুরুটা অবশ্য হয় মাইক মিয়াঁর ভুল পাসে। ডি-বক্সের মুখ থেকে দানি ওলমোর পাস ডান দিকে পেয়ে ইয়ামাল মাঝে খুঁজে নেন ফাবিয়া রুইসকে; তবে দাইয়ু উপামেকানোর চ্যালেঞ্জে দারুণ পজিশন থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন রুইস। চার মিনিট পর আবার তড়িৎ পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করে ফরাসিরা। তবে এমবাপে বল পাওয়ার আগে, সময়মতো ডি-বক্সের অনেকখানি বাইরে এসে ক্লিয়ার করেন উনাই সিমন।ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য যা করতে হতো, দ্বিতীয়ার্ধেও তেমন কিছু করতে পারেনি এমবাপে-দেম্বেলেরা। তাদের পাশাপাশি মাইকেল ওলিসেও এদিন ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিপক্ষকে সেভাবে সুযোগই দেয়নি রদ্রি-রুইস-ওলমোরা।৫৮তম মিনিটে ফরাসিদের লড়াইয়ে ফেরার আশা একরকম শেষই হয়ে যায়। ডি-বক্সের মুখে ওলমোকে বল বাড়িয়ে চোখের পলকে ভেতরে ঢুকে পড়েন পররো, প্রতিপক্ষের বাধায় ঠিকঠাক বলে পা ছোঁয়া দিতে পারেননি ওলমো, তবে সৌভাগ্যবশত বল ঠিকই যায় পররোর কাছে এবং নিখুঁত শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন এই রাইট-ব্যাক। একটু পর দারুণভাবে ডি-বক্সে ঢুকে জালে বল পাঠান ইয়ামাল, তবে অফসাইডে ছিলেন তিনি। দ্বিতীয় হাইড্রেশন ব্রেকের আগে জোরাল কোনাকুনি শট নেন এমবাপে, কিন্তু পা বাড়িয়ে বলের গতিপথ পাল্টে দেন কুকুরেইয়া।নির্ধারিত সময়ের আট মিনিট বাকি থাকতে সুবর্ণ এক সুযোগ আসে ফ্রান্সের সামনে। তাদের একটি আক্রমণ রুখতে আবারও ডি-বক্সের অনেকটা বাইরে চলে আসেন সিমন; কিন্তু এবার তিনি পারেননি ক্লিয়ার করতে। সেই সময় ফাঁকায় বল পেয়ে যান দেজিরে দুয়ে। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে গোলরক্ষক বিহীন পোস্টেও শট নিতে অনেক দেরি করেন পিএসজির এই উইঙ্গার। পরে পজেশনও হারান তিনি!শেষের কয়েক মিনিটে কিছু ভালো সুযোগ অবশ্য আসে দলটির সামনে। কিন্তু এমবাপে যেমন লক্ষ্যভ্রষ্ট ফ্রি-কিকে হতাশা বাড়ান। হতাশার বশেই কিনা, তিনি মাঝে একবার অহেতুক সিমনকে ফাউলও করেন। অন্তিম সময়ে দেম্বেলে ডি-বক্সে ভালো পজিশনে বল পান; কিন্তু তার শট রুখে দেন ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত খেলা সিমন।প্রথম কয়েক ম্যাচের দাপুটে পারফরম্যান্সে চারপাশে আলোচনা শুরু হয়েছিল, এই দুর্বার ফ্রান্সকে আটকাবে কে? গোছানো পারফরম্যান্সে সগৌরবে উত্তরটা দিয়ে দিল দে লা ফুয়েন্তের সেনারা। সেই সঙ্গে পুরোনো এক ধারাও অব্যাহত রইল- র্যাঙ্কিংয়ের সেরা দলের হাতে সোনালী ট্রফিটি এবারও উঠল না। আর এ নিয়ে টানা তিন সেমি-ফাইনালে ফ্রান্সকে হারাল স্পেন। আগের দুইবার- ২০২৪ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ও ২০২৫ সালের উয়েফা নেশন্স লিগে। ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা দ্বিতীয়বারের মতো উঠল বিশ্বকাপের ফাইনালে। আগামী রোববার নিউ জার্সির ফাইনালে তারা লড়বে ইংল্যান্ড অথবা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে।
২ মাস ১৮ দিন আগে
‘চোরের দল' লিখে গুগলে সার্চ করলেই সামনে আসছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল ম্যাচের তথ্য। বিষয়টি ঘিরে ফেসবুক, এক্সসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা, শেয়ার হচ্ছে অসংখ্য স্ক্রিনশট এবং তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন বিতর্ক।প্রযুক্তি বিশ্লেষক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি গুগলের কোনো আনুষ্ঠানিক নামকরণ বা কোনো দলের প্রতি অবস্থান নয়। বরং দীর্ঘ সময় ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনাকে ব্যঙ্গ করে বিপুল সংখ্যক পোস্ট, মিম, ভিডিও ও ক্যাপশনে ‘চোরের দল’ শব্দবন্ধ ব্যবহার হওয়ার কারণে গুগলের সার্চ অ্যালগরিদম ওই শব্দের সঙ্গে আর্জেন্টিনার ম্যাচকে সম্পর্কিত হিসেবে শনাক্ত করছে। ফলে একই ধরনের সার্চে সংশ্লিষ্ট ম্যাচের তথ্য সামনে চলে আসছে।এই আলোচনার পেছনে রয়েছে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত এক অধ্যায়। ১৯৮৬ সালের ২২ জুন মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে জয় পেলেও প্রথম গোলটি নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক বিতর্ক।আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি দিয়াগো ম্যারাডোনা রেফারির চোখ ফাঁকি দিয়ে হাত দিয়ে বল জালে পাঠান। গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং পরে ম্যারাডোনা নিজেই সেটিকে ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে উল্লেখ করেন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বহু বছর ধরেই প্রতিপক্ষ সমর্থকদের একটি অংশ আর্জেন্টিনাকে বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক নামে ডাকতে শুরু করে, যার মধ্যে ‘চোরের দল’ শব্দবন্ধও রয়েছে। তবে একই ম্যাচে ম্যারাডোনা প্রায় অর্ধেক মাঠ একাই ড্রিবল করে যে অসাধারণ গোলটি করেছিলেন, সেটি পরবর্তীতে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ হিসেবে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে স্থান করে নেয়। ফলে ম্যাচটি একদিকে যেমন বিতর্কের জন্য স্মরণীয়, অন্যদিকে তেমনি অসাধারণ ফুটবল নৈপুণ্যের জন্যও সমানভাবে আলোচিত।এদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপে আবারও সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসার পর ১৯৮৬ সালের সেই স্মৃতি নতুন করে সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে অসংখ্য ট্রোল, মিম ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকের মতে, এসব কনটেন্টের ব্যাপক প্রচারের কারণেই ‘চোরের দলের খেলা কবে’ এই সার্চটি এখন দ্রুত ভাইরাল হয়ে গুগলেও আলোচিত সার্চ ফলাফলের অংশ হয়ে উঠেছে।উল্লেখ্য, সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহারকারীদের তৈরি বিপুল পরিমাণ অনলাইন কনটেন্ট, জনপ্রিয় কী-ওয়ার্ড এবং বিভিন্ন ওয়েবপেজের তথ্য বিশ্লেষণ করে ফলাফল প্রদর্শন করে। তাই কোনো শব্দ বা বাক্যাংশ বেশি ব্যবহৃত হলে সেটি নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা ঘটনার সঙ্গে অ্যালগরিদমিকভাবে সম্পর্ক তৈরি করতে পারে। ফলে এমন সার্চ ফলাফল দেখা গেলেও সেটিকে গুগলের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা অবস্থান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
২ মাস ২০ দিন আগে
মরক্কোর বিপক্ষে ড্র দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ পর্ব পেরোয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শেষ বত্রিশে জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট কাটলেও কোয়ার্টার ফাইনালে আর যাওয়া হল না দলটির। রাউন্ড অব সিক্সটিনে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিল হলুদ জার্সিধারীরা। আর্লিং হলান্ডের ৭৯ মিনিটের গোলে প্রথমে পিছিয়ে পড়ে নেইমার জুনিয়ররা। এরপর ৯০ মিনিটে দ্বিতীয় গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হলান্ড। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে নেইমার গোল করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। হলান্ডের জোড়া গোলেই ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কেটেছে নরওয়ে। নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে শুরুতেই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়তে পারত ব্রাজিল। ম্যাচ শুরুর দুই মিনিট পরই জালের দেখা পেয়েছিল আর্লিং হলান্ডের দল। তবে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। বেঁচে যায় ব্রাজিল। এরপর দশ মিনিটের খেলা শেষ না হতেই পেনাল্টি পায় সেলেসাওরা। নরওয়ে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খেললেও ম্যাচের আট মিনিটের মাথায় দারুণ এক আক্রমণ শাণায় কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। সেই আক্রমণ থামাতে নিজেদের বক্সে মাথেউস কুনিয়াকে ফাউল করে বসেন নরওয়ে ডিফেন্ডার ক্রিস্টোফার আয়ের।রেফারি শুরুতে পেনাল্টি না দিলেও ভিএআর রিভিউয়ের পর পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। এদিকে স্পটকিক নিতে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বদলে এগিয়ে আসেন ব্রুনো গিমারেস। দারুণ এক সুযোগ থেকে দলকে এগিয়ে দিতে ব্যর্থ হন এই সেলেসাও ফুটবলার।তাঁর শট ঠেকিয়ে দিয়েছেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ড। লিড পেতে ব্যর্থ হয় সেলেসাওরা। এদিকে গিমারেস দলকে এগিয়ে দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর ম্যাচের ২৩ মিনিটে গোলের দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিলেন কুনিয়া। ওয়ারন ভার্সেস ওয়ান লড়াইয়ে বল নিয়ে ডি বক্সে প্রায় ঢুকেই পড়েছিলেন। কিন্তু নিজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেননি। ফলে হাইড্রেশন ব্রেকের আগ পর্যন্ত গোল পায়নি ব্রাজিল। এদিকে হাইড্রেশন ব্রেকের পর শুরুতেই গোলের আরেকটি সুযোগ তৈরি করেছিল ব্রাজিল। গোলপোস্টের কাছে থেকে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি শট নিয়েছিলেন। কিন্তু নরওয়ে গোলরক্ষকের প্রচেষ্টায় এবারও নিরাশ হয় ব্রাজিল। এদিকে ম্যাচের ৩৭ মিনিটে গোলের সুযোগ পেয়েছিল নরওয়েও। তবে হলান্ড সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। এর দুই মিনিট পরই দারুণ এক শট নিয়েছিলেন ভিনি জুনিয়র। তবে নরওয়ে গোলরক্ষক এবারও দারুণ এক সেভে নিরাশ করেন তাকে। এদিকে প্রথমার্ধের নির্ধারিত ৪৫ মিনিটের খেলা শেষের পর যোগ হয় ৬ মিনিটের। এই সময়ের দুই মিনিট যেতেই গোলের দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিল নরওয়ে। প্রতি আক্রমণে বল পেয়েছিলেন হ্লান্ড। তবে শট নিতে পারেননি তিনি। হলান্ড ব্যর্থ হলেও বল পেয়ে যান মার্তীন ওডেগার্ড। তবে নরওয়ে অধিনায়কের শট ঠেকিয়ে দলকে বাচান অ্যালিসন বেকার। বিরতির পর নরওয়ে মাঠে নামে দুটি পরিবর্তন নিয়ে। আলেক্সান্দার সরলথ ও আন্তোনিও নুসার জায়গায় মাঠে নামেন অস্কার বব ও আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ। এই শেলদেরুপের পাস থেকেই ম্যাচে প্রথম গোলের দেখা পায় নরওয়ে। এর আগে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে কুনিয়ার বদলে মাঠে নামেন এন্দ্রিক। মাঠে নেমেই ভিনির পাস থেকে গোল করার দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তবে গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি তিনি। এখানেও দারুণ অবদান নিলান্ডের। এন্দ্রিকের সেই মিসের পরই দারুণ এক শট নিয়েছিলেন রায়ান। তবে এবারও ব্রাজিলকে হতাশ করেন নিলান্ড। শেষ ষোলোয় নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিলকে বারবার হতাশ করছেন নরওয়েজিয়ান এই গোলরক্ষক। এদিকে বদলি হয়ে মাঠে নেমে নরওয়ের আক্রমণের ধার বাড়াতে থাকেন আন্দ্রে শেলদেরুপ। তাঁর সাজিয়ে দেওয়া আক্রমণের ধারাবাহিকতায় প্রথম গোলের দেখা পায় নরওয়ে। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে শেলদেরুপের দুর্দান্ত এক ক্রস থেকে হেডে গোল দিয়ে দলকে এগিয়ে দেন হলান্ড। এদিকে শেষদিকে গোল হজম করে ব্রাজিল তখন বাদ পড়ার শঙ্কায়। ম্যাচে ফিরতে মরিয়ে হয়েই লড়াই শুরু করে সেলেসাওরা। নেইমার-ভিনিরা আক্রমণের ধার বাড়াতে থাকেন। দারুণ কিছু সুযোগও তৈরি করেছিলেন। তবে নরওয়ে গোলরক্ষক নিলান্ডের দক্ষতায় ভেস্তে যায় সব। এরই মধ্যে দ্বিতীয় গোল হজম করে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ব্রাজিল। ৯০ মিনিটে শেলদেরুপের অ্যাসিস্ট থেকেই দ্বিতীয় গোল করেন হলান্ড। দুই গোলে পিছয়ে পড়ার পর আর কিছুই করতে পারেননি নেইমার-ভিনিরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত সময় আসে সাত মিনিট। এই সাত মিনিটেই বাড়ে নাটকীয়তা। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। আর স্পটকিক থেকে গোল করেন নেইমার। সান্ত্বনার সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ব্রাজিল। যেখানে শুরু সেখানেই শেষ নেইমারনরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপের শেষ ১৬ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের রেশ কাটতে না কাটতেই সেলেসাও ভক্তদের জন্য এলো সবচেয়ে বড় এবং হৃদয়বিদারক ধাক্কা। আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়র। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি থেকে ব্রাজিলের একমাত্র সান্ত্বনার গোলটি করার পর মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন এই পিএসজি ও বার্সার সাবেক মহাতারকা। ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের জিই টিভি কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে জানান, বিশ্বমঞ্চে ট্রফি জেতার তাঁর সমস্ত চেষ্টা এখন "শেষ"।মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুম টানেলে দাঁড়িয়ে শূন্য চোখে নেইমার বলেন, "আমি চেষ্টা করেছি, বারবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন সব শেষ। আমি এখানেই শুরু করেছিলাম (মেটলাইদ স্টেডিয়ামে), আর এখানেই শেষ করলাম।" রবিবারের এই পরাজয় কেবল নেইমারের বিদায়ঘণ্টাই বাজায়নি, এটি সামগ্রিকভাবে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ইতিহাসকেও এক অন্ধকার অধ্যায়ে ঠেলে দিয়েছে। ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই (শেষ ১৬ থেকে) বিদায় নিতে হলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।ডালাস ও নিউ জার্সির দর্শকদের কাঁদিয়ে বিদায় নেওয়া সান্তোসের এই তারকা আরও একটি নেতিবাচক রেকর্ডের সঙ্গী হলেন। ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে ৪টি বিশ্বকাপ খেলেও একটিও ট্রফি ছুঁয়ে দেখতে না পারা দ্বিতীয় খেলোয়াড় এখন নেইমার জুনিয়র। এর আগে তাঁরই সাবেক সতীর্থ ও ডিফেন্ডার থিয়াগো সিলভা প্রথম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে এই দুঃখজনক রেকর্ডের মুখোমুখি হয়েছিলেন।কার্লো আনচেলত্তির ছকে সাদিয়ার স্পন্সরশিপের নতুন জোয়ারে এবার হেক্সা জয়ের যে স্বপ্ন নেইমার দেখেছিলেন, ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা সেই স্বপ্ন এরলিং হালান্ডের নরওয়ের কাছে এভাবে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে, তা হয়তো কোনো ফুটবল ভক্তই কল্পনা করেননি। ৩৬ বছর পর এমন লজ্জায় ডুবল ব্রাজিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের ২৪ বছরের বিশ্বকাপ খরা কাটানোর মিশন থমকে গেল নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই। শেষ ১৬-র রুদ্ধশ্বাস ও নাটকীয় মহাকাব্যে ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েছে নরওয়ে। ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই (শেষ ১৬ থেকে) বিদায় নেওয়ার চরম লজ্জায় ডুবল সেলেসাওরা। এর আগে ১৯৯০ সালে বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছিল ব্রাজিল। সেবার গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচই জিতেছিল সেলেসাওরা। তবে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার কাছে ১-০ গোলে হেরে কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বিদায় নেয় ব্রাজিল। এই বিদায়ের ফলে নিশ্চিত হয়ে গেল যে, ২০৩০ বিশ্বকাপ আসা মানেই ব্রাজিলের শিরোপাহীনতার বয়স দাঁড়াবে টানা ২৮ বছর। নিজেদের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ (১৯৫৮) জয়ের পর থেকে এত দীর্ঘ সময় ট্রফি ছাড়া কখনো কাটায়নি সাম্বা বয়রা।
২ মাস ২৭ দিন আগে