বিনা টিকিটে রেল ভ্রমণ ও টেন্ডার কার্যক্রমসহ সরকারি নানা কাজে রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাঁধা-হেনস্তা ও হামলার ঘটনা বাড়ছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একাধিক হামলার প্রতিবাদ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করেছেন উদ্ধিগ্ন ও আতঙ্কিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রামের সিআরবি রেলভবন এলাকায় এই মানববন্ধন কর্মসুচিতে অংশ নেন বাংলাদেশ রেলওয়ে ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সোমবার দিনগত রাতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের গণসংযোগ কর্মকর্তার দপ্তর থেকে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, আন্ত:নগর ট্রেনগুলোতে বিনা টিকিটের চিহ্নিত কিছু যাত্রী এসি শ্রেণির কোচ ও কেবিনে ভ্রমণ করে বৈধ টিকিটধারী যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ভ্রমণে বিঘ্ন সৃষ্টি করছেন। তারা কখনোই টিকিট কেটে ট্রেনে ভ্রমণ করেন না। টিকিট দেখতে চাইলে ৮-১০ জন একত্র হয়ে হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে টিকিট চেকিংয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেয়া হয়। সংঘবদ্ধ এই চক্র বিনা টিকিটে ভ্রমণ ছাড়াও অফিসিয়াল টেন্ডার কার্যক্রমসহ সরকারি নানা কাজে বাধা ও চলন্ত ট্রেনে হামলার মতো ফৌজদারি অপরাধ করছে নিয়মিত। অভিযোগে বলা হয়, গত ৭ আগস্ট তারিখে ৭৫৩ নম্বর সিল্কসিটি ট্রেন আব্দুলপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে আসার পর এসি কোচে কয়েকজন বিনা টিকিটের যাত্রী পাওয়া যায়। তাদের ন্যুনতম ভাড়া ও জরিমানা আদায় করে নন-এসি কোচে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরবর্তীতে ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছানোর পর সংঘবদ্ধ চক্রটি রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর অতর্কিতভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা করে। এর আগে ৪ আগস্ট ৭৯২ নম্বর বনলতা এক্সপ্রেস এবং ২৫ জুলাই ৭২৬ নম্বর সুন্দরবন ট্রেনে বিনা টিকিটের যাত্রীরা সন্ত্রাসী হামলা করে। মানববন্ধনে আরও বলা হয়, এসব ঘটনার ফলে টিকিট চেকিং কার্যক্রমের সঙ্গে স¤পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মস্থলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এর কারণে টিকিট চেকিং কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং সরকারি রাজস্ব আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।মানববন্ধনে বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর এ ধরনের অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা এবং সরকারি কাজে বাধাদান একটি ফৌজদারি অপরাধ। গত ৭ আগস্টসহ বিভিন্ন সময়ে রেলওয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।এ ছাড়া সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন দপ্তরের অফিস কক্ষেও কিছু সন্ত্রাসী দ্বারা হেনন্তা-হুমকি ও হামলার শিকার হয়েছেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী বিভাগীয় কার্যালয় ডিইএন-১ কার্যালয়েও হামলার ঘটনা ঘটে। শুধু তাই নয়, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জিএম থেকে প্রধান প্রকৌশল কার্যালয়সহ সবকটি প্রকৌশল কার্যালয়ের টেন্ডার কর্মসুচিতেও বাঁধা-হেনস্থা ও হামলার হুমকি চলছে প্রতিনিয়ত। পাহাড়তলী সরঞ্জাম ক্রয় দপ্তরের অবস্থা আরও শোচনীয়। এতে হুমকির মুখে পড়েছে নিরাপদ কর্মপরিবেশ। ফলে সরঞ্জাম ক্রয় দপ্তরসহ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সবকটি দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হেনস্তা ও হামলার ভয়ে নিয়মিত অফিস করতেও ভয় পাচ্ছেন। এসব ঘটনায় চট্টগ্রামের পাহাড়তলী বিভাগীয় কার্যালয়ে এর আগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) তৌষিয়া আহমেদের নেতৃত্বে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। কিন্তু এরপরও সন্ত্রাসীদের স্বভাবের কোন পরিবর্তন হয়নি। কারণ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবে সন্ত্রাসীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। যা এর আগে কোন সময় ঘটেনি। মানববন্ধনে অংশ গ্রহণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি বিনা টিকেটে রেল ভ্রমণ, টেন্ডার কার্যক্রমসহ সরকারি বিভিন্ন কাজে বাঁধা ও হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে সরকারি দায়িত্ব পালনে নিরাপত্তা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারী দেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মানববন্ধন পরিচালনায় মূখ্য ভুমিকা রাখেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চীফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মো. সফিকুর রহমান, প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক সুজিত কুমার বিশ্বাস, প্রধান প্রকৌশলী মো. তানভিরুল ইসলাম, প্রধান বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক শওকত জামিল মোহসী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান, যন্ত্র প্রকৌশলী আমীর উদ্দিন, ডেপুটি সিওপিএস তারেক মুহাম্মদ ইমরান, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মুরসালীন রহমান, টিএসও আহসান উদ্দিন, ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ার রিয়াসাদ ইসলাম, ডেপুটি সিসিএম মো. হারুনুর রশিদ প্রমুখ। ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দলীয় নেতা-কর্মী পরিচয়ে সংঘবদ্ধ কিছু সন্ত্রাসী বিনা টিকিটে রেল ভ্রমণ, টেন্ডার কার্যক্রমসহ সরকারি নানা কাজে রেল কর্মকর্তাদের হেনস্থা ও হামলার ঘটনায় লিপ্ত হয়েছেন। তাদের সাথে কিছু ঠিকাদারও জড়িত। যারা নানাভাবে উস্কানি দিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের এসব অপরাধমূলক কর্মকান্ড ঘটাতে উৎসাহ যোগাচ্ছে। রেলওয়েকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
১ মাস ১৪ দিন আগে
কমিশন ছাড়া ফাইল ছাড়েন না রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষার। চাহিদা মতো কমিশন না পেলে ঠিকাদারদের করেন তুলোধুনো হয়রানি। এমন অভিযোগ নিয়ে বক্তব্য চাইতে গেলে তারেক মো, সামছ তুষারের সাফ জবাব, জিএম সব জানে, ওনার সাথে কথা বলুন।এমন কথায় বিস্মিত হয়ে ফের প্রশ্ন করা হয়, আপনার অনিয়ম ও দূর্নীতির দায় কি জিএম সাহেব নিবেন? তিনিও ফের উত্তর দেন, হ্যাঁ যা বলবেন জিএমকে বলুন, তিনিই এর জবাব দিবেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, কে কি বলল না বলল, আর আপনি তা লিখে দিবেন? এগুলোর কী প্রমাণ আছে?ঠিকাদারদের অভিযোগ ও একাধিক রেকর্ড থাকার কথা জানালে-এক পর্যায়ে তিনি বলেন, এখন ইজিপিতে টেন্ডার হয়, কমিশন নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। কোন ঠিকাদার কমিশনের কথা বলেছে তাকে এখানে নিয়ে আসুন। সেরকম কোন নিয়ম না থাকার কথা জানালে তিনি বলেন, ঠিক আছে যান।ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, ইজিপি টেন্ডার রেলওয়ের জন্য আইওয়াশ। ইজিপি ছাড়া যেমন কমিশন, ঘুষ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মও দূর্নীতি হয়েছে। ইজিপিতে তার চেয়ে বেশি অনিয়ম ও দূর্নীতি হচ্ছে। বরং এ নিয়ে কোন সাংবাদিক প্রশ্ন করলে তাদের ইজিপির দোহাই দিয়ে বাচার চেষ্টা করছেন রেলওয়ের দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা।ঠিকাদাররা জানান, রেলওয়ের কতিপয় দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের মতো প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ দপ্তরের প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষারও অবকাঠামো ও মালামাল ক্রয়ের যে কোন ইজিপি টেন্ডার নানা কলা-কৌশলে পছন্দের ঠিকাদারকে পাইয়ে দেন। সেই সুত্রে তিনি ৫% থেকে ১০% পর্যন্ত (টেন্ডার ভেদে) কমিশন হাতিয়ে নেন।টেন্ডার পাওয়া ঠিকাদারও কাজ পেয়ে কমিশন দেন। অন্যথায় টেন্ডারের ব্যপ্তি ও মূল্য নির্ধারণে গড়ি মসি করেন প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষার। চাহিদা মতো কমিশনের বিনিময়ে প্রয়োজনের তুলনায় টেন্ডারের ব্যস্তি ও মালামাল ক্রয়ে বাজার মুল্য অতিরিক্ত ধরে ঠিকাদারদের সুবিধা দেন।শুধু তাই নয়, টেন্ডার বাস্তবায়ন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের স্তরে স্তরে ঘুষ দিতে হয়। তা না হলে টেন্ডারের ওয়ার্ক অর্ডার পেতে ঘাম ঝড়াতে হয় ঠিকাদারদের। আবার কাজ শেষে টেন্ডারের বিল তৈরী থেকে নিয়ে হিসাব শাখা থেকে বিলের চেক নিতে ঘাটে ঘাটে দিতে হয় কমিশন ও ঘুষ।আর কমিশন ও ঘুষ আদায়ে সব দপ্তরের কর্মকর্তারা একাট্টা। এক্ষেত্রে কমিশন ও ঘুষ বাণিজ্যে বড় ভুমিকা রাখে বাজার দর কমিটি। যে কমিটিতে রেলের সব কর্মকর্তারা কোন না কোনভাবে জড়িত। কর্মকর্তাদের এমন সিন্ডিকেটে বন্দি রেলওয়ের কাজে সম্পৃক্ত ঠিকাদাররা। এরপরও নানা কারসাজির মাধ্যমে লাভ বের করে আনেন ঠিকাদাররা।ঠিকাদাররা জানান, শুধু ইজিপি নয় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষারের বিভিন্ন ভুয়া নামে একাধিক ঠিকাদারী লাইসেন্স আছে। যেগুলোর কোন আস্তিত্ব নেই। এসব লাইসেন্সের নামে কৌশলে চলে যায় বেশিরভাগ ইজিপি টেন্ডার। তবে এসব কাজে প্রধান সহযোগী হলেন এ দপ্তরের একজন কর্মচারী। যা দুদক বা নিরপেক্ষ কোন সংস্থা দিয়ে তদন্ত করলে মিলবে বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল।ঠিকাদারদের মতে, প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশল শাখার অধীনে প্রতি অর্থবছরে শত শত কোটি টাকার মালামাল ক্রয়, সংকেত ও টেলিযোগাযোগের অবকাঠামো সংক্রান্ত উন্নয়ন কাজ হয়। যেখান থেকে তিনি ইজিপি টেন্ডারের নামে ঠিকাদারদের মাধ্যমে ৩ থেকে ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। আবার কিছু কিছু টেন্ডার নিজের কাছে থাকা লাইসেন্সে নিয়ে পুরো টাকা হাতিয়ে নেন। যা জানা কষ্ঠসাধ্য।দূর্নীতির এসব টাকায় তিনি নিজ জেলাসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় স্থায়ী-অস্থায়ী অনেক সম্পদের মালিক হয়ে উঠেছেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে উপযুক্ত তথ্য প্রমাণসহ এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।সম্প্রতি এ নিয়ে কথা বলতে প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুয়ারের দপ্তরে গেলে বড় বাবু খ্যাত মোস্তাফিজুর রহমান নির্বিঘ্নে বলে দেন, স্যার তো কথা বলে না। কিছু জানার থাকলে জিএমের সাথে যোগাযোগ করেন।কেন? পরিচয় হতেও আপত্তি আছে নাকি- এমন প্রশ্ন করা হলে জানতে তিনি প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুয়ারের কাছে নিয়ে যান। তার উপস্থিতিতে তারেক মো. সামছ তুষার বলেন, আমি কিছুই বলতে পারব না, কিছু জাসতে চাইলে আপনারা জিএমের কাছে যান, ওনার সাথে কথা বলুন।আপনার অনিয়ম ও দূর্নীতির দায় কি জিএম সাহেব নিয়ে নিবেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, হ্যাঁ-যা বলবেন জিএমকে বলুন। তিনিই এর জবাব দিবেন। এমনভাবে রূঢ় আচরণ করেন প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষার।এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো, সুবক্তগীন বলেন, প্রকৌশলী সামছ তুষার যদি অনিয়ম করে থাকে, তাহলে তাকে নিয়ে লিখেন। সেখানে আমাকে পেছাচ্ছেন কেন? আমি কি সামছ তুষারের খাই, না সামছ তুষার আমার খাই। আপনার অভিরুচির মধ্যে পড়লে আমাকে টানেন।প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষার আপনাকে টেনে আনছেন, আমি আনছি না-এমন কথায় তিনি বলেন, ঠিক আছে আপনি কাল (৩ আগস্ট, সোমবার) সকাল ১১টার দিকে আসেন। আমি তাকে ডেকে প্রশ্ন করব, সে আমার কথা বলবে কেন? এ কথা বলেই সংযোগ কেটে দেন তিনি।
১ মাস ২৩ দিন আগে
পর্যটননগরী কক্সবাজারের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার রেল যোগাযোগ আরও জোরদার করতে চলতি মাসেই ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আরও এক জোড়া নতুন মহানগর ট্রেন চালুর ঘোষণা দিয়েছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।একই সঙ্গে দেশের অন্যতম আধুনিক কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু ও উন্নত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে এর পরিচালনার দায়িত্ব একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে কক্সবাজার আইকনিক স্টেশন ও রামু জংশন পরিদর্শন শেষে চকরিয়া উপজেলার হারবাং রেল স্টেশন এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে চলতি মাসেই ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আরও এক জোড়া নতুন ট্রেন চালু করা হবে। এতে এ রুটে যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ, আরামদায়ক ও সময়োপযোগী হবে।কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনবান্ধব রেল হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্টেশনের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে এর পরিচালনার দায়িত্ব একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়া হবে।তিনি বলেন, দেশের রেল যোগাযোগব্যবস্থাকে আধুনিক ও সম্প্রসারিত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার এবং ঢাকা থেকে সিলেট পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পর্যটন শিল্পের বিকাশও ত্বরান্বিত হবে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, দোহাজারী-কক্সবাজার ১০২ কিলোমিটারের দীর্ঘ রেলপথ নির্মাণের সময় প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার গাছ কাটতে হয়েছিল। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ইতোমধ্যে রোপণ করা গাছগুলোর বর্তমান অবস্থান পরিদর্শন করেছি। পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য একটি দেশের মোট ভূখণ্ডের অন্তত ২৫ শতাংশ বনাঞ্চল থাকা জরুরি। রেলপথের দুই পাশে নতুন করে সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণের জায়গা চিহ্নিত করে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন তিনি।প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, চকরিয়া, ডুলাহাজারা ও হারবাংসহ এই লাইনের সকল স্টেশনে আধুনিক আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা হবে। যাত্রীদের নিশ্চিন্তে যাতায়াতের জন্য রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো, যাত্রীসেবা কেন্দ্র, অপেক্ষমাণ কক্ষ, নিরাপত্তাব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা, টিকিটিং কার্যক্রম ও চলমান উন্নয়নকাজ ঘুরে দেখেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় যাত্রীবান্ধব সেবা নিশ্চিত, স্টেশনের অবকাঠামোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী। পরিদর্শন ও মতবিনিময়কালে কক্সবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সবুক্তগীন মাহমুদ, কক্সবাজার রেল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) এরশাদুল হক, তমা কনস্ট্রাকশনের প্রকল্প পরিচালক বিমল সাহা, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার ও চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১ মাস ২৪ দিন আগে
ঢাকাগামী আন্তঃনগর সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) চেয়ার কোচের কম্প্রেসারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় মিরসরাইয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় এক ঘন্টা পর ত্রুটির আংশিক সমাধান হলেও ট্রেনটি ধীরগতিতে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের পরিচালক সুজন দত্ত শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে এ তথ্য জানান। তিনি জানান,শুক্রবার বিকেল ৫টায় চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে নির্ধারিত সময়েই ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় সোনার বাংলা এক্সপ্রেস। সীতাকুন্ড এলাকা অতিক্রম করার পর একটি এসি কোচের কম্প্রেসারে ত্রুটি দেখা দিলে মিরসরাইয়ের উত্তর ওয়াহেদপুর এলাকায় ট্রেনটি থামিয়ে দেওয়া হয়।তিনি জানান, কম্প্রেসার থেকে অনবরত বাতাস বের হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেনটি চালানো সম্ভব হয়নি। কম্প্রেসারের ত্রুটি সারাতে কারিগরি কর্মীরা প্রায় এক ঘন্টা ধরে কাজ করেছেন। কিন্তু পুরোপুরি ত্রুটি সারনো সম্ভব হয়নি। ফলে ত্রুটি নিয়েই ধীরগতিতে ট্রেনটি ঢাকা অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছে।ট্রেনে থাকা এক যাত্রী জানান, নির্ধারিত সময়েই ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে ছেড়েছিল। কিন্তু সীতাকুন্ড পার হওয়ার পর হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উত্তর ওয়াহেদপুর এলাকায় ট্রেনটি থেমে যায়। এ সময় একই রেলপথে চলাচলকারী চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটের মেঘনা এক্সপ্রেসও সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের পেছনে অপেক্ষমাণ থাকায় দুটি ট্রেনের শত শত যাত্রীকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এক ঘন্টা পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ট্রেনটি ঢাকার দিকে যাত্রা শুরু করে। এ নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছেন যাত্রীরা।তিনি আরও বলেন, সোনার বাংলা এক্সপ্রেসে যতবার ভ্রমণ করেছি, ততবারই কোনো না কোনো সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। এবারও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকতে হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে যাত্রীদের।এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী সাদেকুর রহমান বলেন, সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের যান্ত্রিক ত্রুটির কিছুটা সমাধান হয়েছে। ট্রনটি এখন ঢাকা অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছে। ঢাকায় পৌছার পর পুরোপুরি ত্রুটি সারানোর কাজ শুরু করা হবে।
১ মাস ২৫ দিন আগে
পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে শনিবার (১ আগস্ট) থেকে সব ধরণের গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইস সংযোজন ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। নতুন নিবন্ধন এবং ফিটনেস সনদ নবায়নের ক্ষেত্রে জিপিএস সংযোজনের প্রমাণপত্র ও এর কার্যকারিতা প্রদর্শন করতে হবে।সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জিপিএস সংযুক্ত ও সচল না থাকলে কোনো গণপরিবহনের নতুন নিবন্ধন দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ফিটনেস সনদ ইস্যু বা নবায়নও করা হবে না। এ বিষয়ে পরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।দেশের সড়কে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রী তোলাকে কেন্দ্র করে বাসের রেষারেষি, যেখানে-সেখানে থেমে যাত্রী ওঠানামা এবং একাধিক লেন দখল করে যানবাহন দাঁড় করানোর মতো নানা অনিয়মের কারণে যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়ছে। এসব সমস্যা নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদারের অংশ হিসেবে জিপিএস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির সঙ্গে জিপিএস সংযোজনের বিষয়ে ইতোমধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তবে ১ আগস্ট থেকেই সব গণপরিবহনে এটি শতভাগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও কিছু সময় লাগবে।বিআরটিএ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, নতুন কোনো যানবাহন নিবন্ধনের জন্য এলে সেটিতে অবশ্যই জিপিএস সংযুক্ত থাকতে হবে। একইভাবে ফিটনেস সনদ নবায়নের ক্ষেত্রেও জিপিএস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য বিআরটিএ নিজস্ব প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাও গড়ে তুলছে, যাতে সহজেই নিশ্চিত হওয়া যায় কোনো যানবাহনে জিপিএস সংযুক্ত ও সচল রয়েছে কি না।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের এই উদ্যোগ সড়ক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। তবে পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনে জিপিএস সংযোজন কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ জন্য প্রযুক্তির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার, কঠোর তদারকি এবং আইন প্রয়োগের ওপরও সমান গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না। প্রযুক্তির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কার্যকর সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। সুশাসনের সঙ্গে প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো গেলেই এ উদ্যোগের সুফল পাওয়া সম্ভব হবে।
১ মাস ২৫ দিন আগে
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল মোড় এলাকায় বেপরোয়া গতির একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দোকানের সামনে ছয় গাড়িকে ধাক্কা দিলে সেগুলো দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ ঘটনায় দুই নারী নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিনগত রাত ৮টার দিকে আনোয়ারা উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজারসংলগ্ন টানেল মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুই নারী হলেন- উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের ঝিওরি এলাকার বাসিন্দা পলি দত্ত (৪০) ও ইফা শীল (৪০)। আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।দুর্ঘটনায় আহত সিএনজি চালক সিদ্দিক জানান, পশ্চিম দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস প্রথমে একটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এরপর পূর্ব দিকে গিয়ে আরও পাঁচটি সিএনজিকে সজোরে আঘাত করে। এতে তার সিএনজিটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি লাফিয়ে পড়ে প্রাণে রক্ষা পান।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে টানেল মোড় এলাকায় যাত্রীর অপেক্ষায় কয়েকটি সিএনজি ও অটোরিকশা দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় একটি বেপরোয়া গতির বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা সড়কের পাশের দোকানে উঠে যায়। বাসটির ধাক্কায় সেখানে থাকা অন্তত ছয়টি অটোরিকশা ও রিকশা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন যাত্রী ও পথচারী চাপা পড়ে আহত হন।খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান বলে জানান আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত তাদের কাছে ১০ জন আহত হওয়ার তথ্য রয়েছে। হাসপাতালে নেওয়ার পর দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে।আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অনিন্দিতা জানান, দুর্ঘটনায় দুই নারী নিহত হয়েছেন। আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।আনোয়ারা থানার ওসি জুনায়েত চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ক্ষতিগ্রস্ত অটোরিকশাগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর বাসের চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছেন। তাদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
১ মাস ২৬ দিন আগে
সড়ক নিরাপত্তায় শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসের লক্ষ্যে এক সভার আয়াজন করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) চট্টগ্রামের বিসিএসআইআর ল্যাবরেটরী উচ্চ বিদ্যালয়ে এই সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) রায়হান আক্তার উর্থি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কে. এম. মাহাবুব কবির, উপপরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং), বিআরটিএ, চট্টগ্রাম জেলা সার্কেল। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উথোয়াইনু চৌধুরী, সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং), বিআরটিএ, চট্টগ্রাম জেলা সার্কেল এবং মো. আলাউদ্দিন, মোটরযান পরিদর্শক, বিআরটিএ, চট্টগ্রাম জেলা সার্কেল।অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তারা ট্রাফিক আইন মেনে চলা, রাস্তা পারাপারে সতর্কতা অবলম্বন, জেব্রা ক্রসিং ও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার, মোটরসাইকেলে মানসম্মত হেলমেট পরিধান এবং সড়ক ব্যবহারে দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের সচেতনতার মাধ্যমেই পরিবার ও সমাজে নিরাপদ সড়ক সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব।এ সময় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক একটি কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। কুইজে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে অতিথিবৃন্দ পুরস্কার বিতরণ করেন এবং তাদের অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীকে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন থেকে নিজে ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।
১ মাস ২৮ দিন আগে
মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লেগে কারিগরি সমস্যার কারণে বন্ধ রয়েছে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ। এতে পরিবহন খাত থেকে শিল্প কারখানা, এমনকি রান্নাবান্নায়ও প্রভাব পড়েছে। গৃহিণীদের নির্ভর করতে হচ্ছে ইলেকক্ট্রিক চুলার উপর। ফলে সরকারি গ্যাস সংযোগ খরচের পাশাপাশি তাদের গুণতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। অন্যদিকে গ্যাস পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও চাহিদা অনুসারে গ্যাস পাচ্ছেন না বিভিন্ন পরিবহন চালক-শ্রমিকরা। আয় সীমিত হয়ে যাওয়ায় পরিবহনে নির্ভর করে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষেরা তলিয়ে যাচ্ছেন চরম আর্থিক সংকটে। গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলছে তীব্র গ্যাস সংকট। চলছে হাহাকার। চলমান গ্যাস সংকটে দিন যতই গড়াচ্ছে ততই বাড়ছে ভোগান্তি। জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে যাচ্ছে। ফলে যেকোনো মূল্যে দ্রুত এর সমাধান চান সবাই। তবে ভুক্তভোগীরা বলছেন, কৃত্রিমভাবে গ্যাস সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর কোনো অপচেষ্টা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে সরকারকে।তবে সরকারের পক্ষ থেকে গ্যাস সংকটের কারণ হিসেবে কক্সবাজারের মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কথা বলা হচ্ছে। তাতে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট কমে গেছে। তিতাসের আওতাধীন এলাকায় দৈনিক প্রায় ২০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সরবরাহ মিলছে ১৫৫ কোটি ঘনফুটের মত। সে কারণে পাম্পে প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ থাকছে না।তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি বলছে, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তিতাসের আওতাধীন রাজধানী ও আশেপাশের জেলায় সব শ্রেণির গ্রাহক প্রান্তে গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ বিরাজ করবে।গ্যাসের চাপ না থাকায় বাসা বাড়িতেও রান্নায় বিঘ্ন ঘটছে। কোথাও কোথাও একেবারেই চাপ কম থাকায় বাইরে থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে নগরবাসীকে। ঢাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে আছেন মোহাম্মদপুরের মানুষ। প্রায় ২০ দিন ধরে গ্যাস-সংকটে আছেন তাঁরা। শুরুতে জলাবদ্ধতার কারণে পাইপলাইনে পানি ঢুকে গ্যাস বন্ধ হয়ে যায় বেশ কিছু আবাসিক এলাকায়। শেখেরটেক এলাকায় এখনো এই সমস্যা কাটেনি। এর মধ্যে গ্যাসের সরবরাহ কমায় অন্যান্য এলাকাতেও গ্যাসের চাপ কমে গেছে। বাসাবাড়িতে কেউ কেউ বিদ্যুৎ-চালিত চুলা কিনছেন। আর নিম্ন আয়ের মানুষ মাটির চুলায় লাকড়ি দিয়ে রান্নার চেষ্টা করছেন। ধানমন্ডি, কলাবাগান, কাঁঠালবাগান, মিরপুর, বাড্ডা, রামপুরা ও বাসাবোসহ বিভিন্ন এলাকায়ও দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাস থাকছে না। কোথাও সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গ্যাসের চাপ এতটাই কম থাকছে যে, রান্না করাই সম্ভব হচ্ছে না। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা, ইন্ডাকশন কুকার ও এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করছে। কেউ কেউ গভীর রাতে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়লে তখন পরদিনের জন্য রান্না সেরে রাখছেন।মনসুরাবাদের গৃহিণী সাইরা বেগম বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। বাধ্য হয়ে বাজার থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। এভাবে আর কত দিন চলা যায়? মালিবাগের আফওয়া নাজমা বলেন, সকাল থেকে গ্যাসের চাপ এতটাই কম ছিল যে, কোনো রান্না করা সম্ভব হয়নি। রাত নয়টার পর গ্যাস এলেও শুধু ভাত রান্না করতেই প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগেছে। অন্য কোনো রান্না করা সম্ভব হয়নি। কাঁঠালবাগানের সুফিয়া জান্নাত বলেন, দুপুরে প্রায় এক ঘণ্টা চুলায় কড়াই বসিয়ে রেখেও তেল গরম করা যায়নি। ছোট শিশুর জন্য সময়মতো খাবার তৈরি করতে না পেরে প্রতিদিন বাইরে থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে।চলমান গ্যাস সংকটে ভোগান্তির চিত্র রাজধানীর গ্যাস পাম্পগুলোতেও। ফিলিং স্টেশনের বাইরে যানবাহনের লম্বা সারি। তিন থেকে চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস পাচ্ছেন না চালক-শ্রমিকরা। কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ভাড়ায় চালিত গাড়ি চালকরা। ফলে পুরো পরিবহনখাতই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন পাম্পগুলোও। দ্রুত সমাধানের আকুতি পাম্প শ্রমিকদেরও। তবে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, এলএনজি সরবরাহ নির্বিঘ্ন হলে এ সংকট কেটে যাবে।গত সোমবার ফিলিং স্টেশনগুলো ঘুরে দেখা গেছে, কয়েকটি পাম্পে পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় গ্যাস বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। যেগুলো খোলা আছে, সেগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও চাহিদা মোতাবেক গ্যাস পাচ্ছেন না সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকরা। পাম্পগুলো থেকে মাত্র ২০০ টাকার গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন এভাবে দিনের অর্ধেক সময় অলস ব্যয় করে গাড়ির জমা ও পরিবারের ভরণপোষণ নিয়ে পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। টানা এই সংকটে ক্রমান্বয়ে ভোগান্তি বাড়ছে যানবাহন নির্ভর অন্য কর্মজীবীরাও। তারা বলেন, গ্যাসের জন্য পাম্পের বাইরে তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। তবুও পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না তারা। এতে ফের এসে গ্যাসের লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকরা বলেন, পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় আয় রোজগারে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে তাদের। গ্যাসের অভাবে ভাড়ার গাড়ি চালাতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।পাম্পের কর্মচারীরাও বলেন, চাহিদা অনুসারে গ্যাস দেয়ার মতো মজুদ নেই তাদের কাছে। তবে স্বল্প পরিমাণে সারাদিনই গ্যাস সরবরাহ করতে পারবেন তারা। আর কর্তৃপক্ষ বলছে, সরবরাহ কমে আসায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। আর্থিক ক্ষতি এড়াতে পাম্প বন্ধও রাখতে হচ্ছে। তবে সরবরাহ বাড়লে এ সংকট কেটে যাবে। একজন পাম্প কর্মচারি বলেন, যুদ্ধের কারণে বাইরে থেকে এলএনজি খুব একটা আসছে না। আর বর্তমানে বৈশ্বিক বৈষম্যের কারণে একটু কম আনা হচ্ছে। যার জন্য হয়তো প্রেশারটা একটু কম পাচ্ছে। যদি এলএনজি ঠিকমতো আসতে পারে, তাহলে আপনার প্রেশার ঠিকমতো স্বাভাবিক হয়ে যাবে, আশা রাখি।’রাইড শেয়ারিংয়ে ভাড়ায় গাড়ি চালান গাবতলী এলাকার নাছির উদ্দিন। তিনদিন ধরে গ্যাস সংকটে নাকাল নাছির উদ্দিন বলেন, গাবতলীতে অনেক পাম্প, কিন্তু বেশিরভাগই বন্ধ। তার ভাষ্য, শুধু গাবতলীই নয়, বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে ‘গ্যাস নেই’। যেগুলোতে আছে, চাপ খুব কম। সে কারণে সিলিন্ডারের অর্ধেক পরিমাণও গ্যাাস ঢুকছে না।তিনি বলেন, ‘সাভার এলাকার পাম্পগুলাও সব বন্ধ। আজকে একটা ট্রিপ নিয়ে গেছিলাম ডেমরা। স্টাফ কোয়ার্টারে (পাম্পে) লাইনে দিয়া দাঁড়াইতে গেলাম। দেখি বিশাল সিরিয়াল। কিছুক্ষণ পর পাম্প এমনিই বন্ধ হবে। বাধ্য হয়ে খালি ট্যাংক নিয়াই এখন বাসার দিকে রওনা দিছি।’কল্যাণপুরের হাফিজা সিএনজি পাম্পের কর্মী ফিরোজ বলেন, ‘সারাদিন কমপ্রেশর মেশিন চালাইয়াও প্রেশার উঠতাছে না। লাইনে গ্যাসই নাই।’এদিকে গ্যাস সংকটে ঢাকার রাস্তায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল কমে গেছে, বেড়ে গেছে ভাড়া। চালক জহির মোল্লা বলেন, ‘আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা লাগতেছে পাম্পেই। তাও যে গ্যাস ঢুকে, তাতে আধা বেলা গাড়ি চালান যাচ্ছে না। এজন্য ড্রাইভাররা গাড়িই বাইর করতেছে না।’ বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ফারহান নূর বলেন, লাইনে আমাদের দেওয়ার কথা ১৫ পিএসআই (পাউন্ড পার স্কয়ার ইঞ্চ) চাপের গ্যাস। সেখানে আমাদের তিন থেকে পাঁচ পিএসআই পর্যন্ত দেওয়া হয়। ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকায় আমরা কখনো ১০ থেকে ১১ পিএসআই চাপের গ্যাস পাই। এখন গ্যাস একেবারেই জিরো বলা যায়।’ তিনি বলেন, ‘লাইনে ১৫ পিএসআই চাপের গ্যাস থাকলে আমাদের মেশিনগুলো ঘণ্টায় ৫০০ কিউবিক মিটার গ্যাস কমপ্রেস করতে পারে। আর আমরা গাড়িতে গ্যাস ডেলিভারি দেই তিন হাজার পিএসআই প্রেশারে। ইনপুটে পিএসআই যত কমবে, আউটপুটও তত কম আসবে।নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি রাশিদুল হাসান বলেন, কারখানায় ৭৫ শতাংশ উৎপাদন কমে গেছে। এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে সমস্যা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রয়াদেশের পণ্য সরবরাহ করতে না পারার ঝুঁকিও আছে। এতে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ বাতিল হতে পারে। গাজীপুরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে, যার বড় অংশ গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন প্রায় ২০ লাখ শ্রমিক। এক সপ্তাহ ধরে পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় অনেক কারখানায় উৎপাদন কমিয়েছে, কোথাও শ্রমিকদের বসিয়ে রাখতে হচ্ছে।গাজীপুরের সাদমা গ্রুপের পরিচালক সোহেল রানা বলেন, তিন থেকে চার পিএসআই গ্যাস সরবরাহ থাকলে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ উৎপাদন চালানো সম্ভব হয়। কিন্তু বর্তমানে গ্যাসের চাপ এত কম যে শ্রমিক ও অপারেটরদের অধিকাংশ সময় বসে থাকতে হচ্ছে।উৎপাদন কমেছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) পরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, সব মিলকারখানা বন্ধ প্রায়। কোনো কোনো এলাকায় গ্যাসের সঙ্গে বিদ্যুৎও নেই। কত দিন থাকবে না, সেটা সরকার ঘোষণা দিতে পারে। তাহলে শ্রমিকদের বসিয়ে না রেখে ছুটি দেওয়া যায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের গ্যাস খাত দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিতে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উত্তাল সমুদ্র বা যেকোনো দুর্ঘটনায় টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হতে পারে। অতীতে একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত হয়ে সামিটের টার্মিনালটি ২০২৪ সালে সাড়ে তিন মাস গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখেছিল। আর একটি টার্মিনাল স্থলভাগে করা হলে এখনকার পরিস্থিতি এড়ানো যেত। এ ছাড়া যেকোনো সময় আমদানি ব্যাহত হতে পারে। বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে ২০২২ সালের জুলাই থেকে টানা ৭ মাস খোলাবাজারে এলএনজি কেনেনি সরকার। আমদানিনির্ভরতার এ ঝুঁকি থাকবেই।বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সাবেক সদস্য (গ্যাস) মকবুল ইলাহী চৌধুরী বলেন, গত আড়াই দশকের অবহেলায় আজকের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিদেশনির্ভর হয়ে জ্বালানি খাত চলবে না। গ্যাস অনুসন্ধানে অনেক কম কূপ খনন করে বেশি সফলতার পরও অবহেলা করা হয়েছে। সারা দেশে গ্যাসের অনুসন্ধান জোরদার করতে হবে। এ ছাড়া দ্রুত কূপ সংস্কার করে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে হবে।
১ মাস ২৮ দিন আগে
আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকার বিশ্বখ্যাত মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড ইয়ামাহার নতুন শোরুম 'টুয়েন্টি এইট মোটরস'। শনিবার (২৫ জুলাই) চট্টগ্রাম মহানগরীর সিডিএ অ্যাভিনিউয়ের মুরাদপুর এলাকায় শোরুমটির উদ্বোধন করেন তামিম ইকবাল নিজেই।উদ্বোধন উপলক্ষে ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাবের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালিরও আয়োজন করা হয়। র্যালিটি সিআরবি মোড় থেকে শুরু হয়ে টাইগারপাস হয়ে মুরাদপুরের নতুন শোরুমে এসে শেষ হয়। এতে অংশ নেওয়া মোটরসাইকেলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসিআই মোটরস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুভ্রত রঞ্জন দাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টুয়েন্টি এইট মোটরসের স্বত্বাধিকারী আয়েশা সিদ্দিকা, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল খান এবং জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক পেসার রুবেল হোসেন। এ ছাড়া ইয়ামাহা ও এসিআই মোটরসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসমৃদ্ধ এ শোরুমটি মোটরসাইকেলপ্রেমীদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতার দ্বার উন্মোচন করবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। এক ছাদের নিচে ইয়ামাহার জনপ্রিয় বিভিন্ন মডেলের মোটরসাইকেল দেখার পাশাপাশি ক্রেতারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী বাইক কেনার সুযোগ পাবেন। শোরুমটিতে রয়েছে আধুনিক সার্ভিসিং সুবিধা এবং শতভাগ জেনুইন স্পেয়ার পার্টসের নিশ্চয়তা। এ ছাড়া গ্রাহকরা এখান থেকে ইয়ামাহার অফিসিয়াল জেনুইন অ্যাপারেলস ও রাইডিং গিয়ারও সংগ্রহ করতে পারবেন।আয়োজকরা জানালেন, নতুন শোরুমের মাধ্যমে চট্টগ্রামের গ্রাহকদের আরও উন্নত ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
২ মাস আগে
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে চলে হাজারো নিষিদ্ধ যানবাহন। সড়কটির শাহ আমানত ব্রিজ ও কর্ণফুলী মইজ্জ্যারটেকে গেলে মিলে হাজারো অবৈধ লোকাল সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত যানবাহন। যাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে গিয়ে চরম বিপাকে কর্ণফুলী মইজ্জ্যারটেক ট্রাফিক বক্সের টিআই আবু সাঈদ বাকার। কারণ অবৈধ এসব সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত যানবাহন দাপিয়ে চলার মুলে রয়েছে বিশেষ এক টোকেন। যেগুলো নিয়ন্ত্রণ করে স্থানীয়ভাবে গড়ে উঠা সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিক্সা সমিতির নেতারা। যাদের মাথার ওপর ছায়া হয়ে রয়েছে কর্ণফুলী মইজ্জ্যারটেক ট্রাফিক বক্সে দায়িত্বরত সার্জনরা। এদের অন্যতম হচ্ছেন সার্জন ওবাইদুল, সার্জন মোহিত মিঠু ও সার্জন রিয়াজ। যারা টোকেন বানিজ্য তদারকির জন্য রোহিঙ্গা খোরশেদ, রাসেল, ইউসুপ, ইউনুস, আনোয়ার, সাকিব ও মহিউদ্দিনসহ কয়েকজনকে দালাল হিসেবে পোষেন। একাধিক মামলার আসামি এসব অপরাধির সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেট টোকেনের বিনিময়ে সুনির্দিষ্ট অর্থের চুক্তিতে হাজার হাজার নিষিদ্ধ যানবাহনকে মহাসড়কে নির্বিঘ্নে চলাচলের ‘পাস’ দিচ্ছে। যেখান থেকে প্রতিমাসে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সিন্ডিকেট চক্র। আর এর চূড়ান্ত খেসারত দিচ্ছে যাত্রী সাধারণ। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করতে ১৯ জুলাই রবিবার সকাল থেকে শেষ দুপুর পর্যন্ত অনুসন্ধান চালান দৈনিক ঈশানের এই প্রতিবেদক। অনুসন্ধানে মইজ্জ্যারটেক মোড়ে গ্রাম গাড়ি হিসেবে খ্যাত বাঁশখালী থেকে আসা সিএনজি অটোরিকশা চালক মুজিবুর রহমানের সাথে কথা হয়। এ সময় সিএনজি অটোরিকশার কাগজপত্র আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, না-সেল রিসিট ছাড়া কোন কাগজপত্র নেই। শুধু আমার নয়, গ্রাম গাড়ির কোনটার নেই। ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কি না জানতে চাইলে, সহজ উত্তর-নাই। তাহলে গাড়ি চালান কেমনে-প্রশ্ন করা হলে বলেন, ‘টোকেন’ নিয়ে গাড়ি চালায়। টোকেন নিতে কত টাকা দেন-জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিমাসে ৮০০ টাকা। এছাড়া প্রতি টিউবে সমিতি নেয় ২০ টাকা। একই কথা বলেছেন সিএনজি চালক মশিউর, জাবের, কাদেরসহ আরও কয়েকজনে। তাদের অভিযোগ, টোকেন নিয়ে আগে শান্তিতে গাড়ি চালালেও এখন তা আর পারছি না, নানা উছিলায় গাড়ি ধরে নিয়ে গিয়ে হয় মামলা দিচ্ছে, না হয় প্রতি গাড়ি থেকে ৩-৪ হাজার টাকা নিয়ে ছেড়ে দিচ্ছে। আর এসব টাকা নাকি নতুন টিআইয়ের জন্য। নতুন টিআই (ট্রাফিক ইনেসপেক্টর) নাকি অনেক গরম এবং সৎ, অবৈধ গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা না দিলে সার্জনদের চাকরি থাকবে না। একই কথা বলেছেন মইজ্জ্যারটেক সিএনজি অটোরিকশা চালক সমিতির সেক্রেটারি মো. সেলিম। তিনি বলেন, ট্রাফিক বক্সে আগের টিআই আরিফ স্যার যখন ছিলেন, তখন এমন পরিস্থিতি হয়নি। টোকেন নিয়ে ড্রাইভাররা শান্তিতে গাড়ি চালিয়েছেন। কিন্তু নতুন টিআই আবু সাঈদ বাকার স্যার আসার পর তিনি অবৈধ গাড়ি পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। আর এ সুযোগে গাড়ি ধরে সার্জন ওবাইদুল, সার্জন মোহিত মিঠু ও সার্জন রিয়াজ হাজার হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। কিন্তু জানতে পারলাম, সার্জনরা নতুন টিআই স্যারকে বেচে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিলেও তিনি তা জানেন না। তবে বিষয়টি স্যারকে আমরা জানিয়েছি। একই অভিযোগ করেন ব্যাটারিচালিত রিক্সা সমিতির নেতারাও। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভিন্নমত পোষণ করেন মইজ্জ্যারটেক ট্রাফিক বক্সে কর্মরত একাধিক সার্জেন্ট। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে তারা বলেন, আমরা যখন মহাসড়কে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো অবৈধ সিএনজি বা ফিটনেসবিহীন গাড়ি ধরে মামলা দেওয়ার জন্য বক্সে নিয়ে আসি, তখন টিআই আবু সাঈদ বাকার স্যার আমাদের ওপর চড়াও হন। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা বা প্রভাবশালীদের ‘ফোনকল’ এসেছে বলে গাড়িগুলো ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। আমরা আইনি দায়িত্ব পালন করতে চাইলে উল্টো আমাদের তিরস্কার ও প্রশাসনিক হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে।আর এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কর্ণফুলী মইজ্জ্যারটেক ট্রাফিক বক্সের টিআই আবু সাঈদ বাকার বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, পেকুয়া, মগনামা ও বদরখালীসহ স্থানীয়ভাবে প্রতিদিন আনুমানিক চার-পাঁচ হাজার অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের মইজ্জ্যারটেক থেকে চলাচল করে। সেই সাথে অন্তত আর ২ হাজার ব্যাটরিচালিত রিকশা রয়েছে। যেগুলোর বৈধ কোন কাগজপত্র নেই, নেই কোন রুট পারমিট। এগুলো পরিচালনার জন্য স্টেশনে-স্টেশনে, মোড়ে-মোড়ে নানা নামে বহু সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছে। যেগুলোর সাথে রাজনৈতিক যোগসুত্র রয়েছে। ফলে সংগঠনের নেতারা ট্রাফিক প্রশাসনের উপর প্রভাব বিস্তার করে। যাদের সাথে আমাদের কিছু লোকজনও মিলে মিশে রয়েছে। রয়েছে চিহ্নিত দালাল চক্রও। যারা বিগত সময়ে বিশেষ টোকেনের মাধ্যমে অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত গাড়ি চলাচলের সুযোগ করে নেয়। কিন্তু আমি এখানে আসার পর থেকে সেই টোকেন বন্ধ করে দিয়েছি। এখন অবৈধ গাড়ি জব্দ করে সেগুলো ডাম্পিংয়ে পাঠাচ্ছি। এখানে এখন কোন টোকেন নেই। ট্রাফিক সার্জনদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার জানামতে এমন ঘটনা ঘটেনি। যদিও চালকদের কেউ কেউ বিষয়টি আমাকে বলেছেন। বিষয়টি ইতোমধ্যে আমার উর্ধ্বতন স্যারকে অবহিত করেছি। আশা করি এ সমস্যা দ্রুত সমাধান হবে। আক্ষেপ করে টিআই আবু সাঈদ বাকার বলেন, এলাকা ভেদে এমনিতেই ট্রাফিক পুলিশ সদস্য কম। অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা আটক করতে গিয়ে এখানে অনেক ট্রাফিক বনস্টেবল ও সার্জন চালকদের হামলার শিকার হয়েছে। চালকদের সিন্ডিকেট এতই শক্তিশালী যে, স্বল্প জনবল নিয়ে তাদের মোকাবেলা করা কঠিন। সব মিলিয়ে তিনি চরম বেকায়দায় রয়েছেন বলে জানান। তবে টিআই আবু সাঈদ বাকারের ভিন্ন তথ্য মিলেছে অনুসন্ধানে। খোদ চালকরা জানান, সাধারণ রুটে প্রতিমাসে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, গুরুত্বপূর্ণ ও দূরপাল্লার রুটে প্রতিমাসে ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা দিয়ে চলছে হাজার হাজার অবৈধ গ্রামীণ সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা। ছোট একটা কাগজের টুকরোয় বিশেষ সাংকেতিক চিহ্ন দেয়। চালকরা এই টোকেন দেখালেই সসম্মানে গাড়ি ছেড়ে দেন ট্রাফিক পুলিশ বা সার্জনরা। কোনো চালকের কাছে যদি এই টোকেন না থাকে মুহূর্তের মধ্যে তার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেওয়া হয় কিংবা গাড়ি আটকে হয়রানি করা হয়। মইজ্জ্যারটেক ট্রাফিক বক্সের এই টোকেন বাণিজ্যের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ এতটাই শক্তিশালী যে প্রশাসনিক রদবদলও এই সিন্ডিকেটের চাকা থামে না। এই চক্রের মাঠপর্যায়ের মূল মাস্টারমাইন্ড বা সমীকরণ পরিচালনাকারী হিসেবে কাজ করছেন রোহিঙ্গা খোরশেদ, রাসেল, ইউসুপ, ইউনুস, আনোয়ার, সাকিব ও মহিউদ্দিনসহ কয়েকজন দালাল। বলতে গেলে তারাই ট্রাফিক সার্জন। এই সিন্ডিকেটের হাত শুধু লোকাল সিএনজিতেই সীমাবদ্ধ নেই। ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন মাঝারি ও দূরপাল্লার যাত্রীবাহী পরিবহন থেকেও নিয়মিত মাসোহারা বা মাসিক চাঁদা আদায় করে তারা। সৈয়দ নামের এক ব্যক্তির মধ্যস্থতায় বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানি থেকে প্রতি মাসে ১০,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত ট্রাফিক বক্সের নামে চাঁদা তোলা হয়। এমনকি রুট পারমিট ও বৈধ কাগজপত্রের তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে পরিচালিত দূরপাল্লার ‘ঈগল পরিবহন’ থেকেও প্রতি মাসে ‘চা-খরচ’ বা ‘লাইন খরচ’ নাম দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই টোকেন বাণিজ্যের আড়ালে দক্ষিণ চট্টগ্রামে সক্রিয় থাকা শত শত চোরাই সিএনজি অটোরিকশাও মহাসড়কে অবাধে বুক ফুলিয়ে চলাচল করছে। সিন্ডিকেটের টোকেন কেনা থাকলে সেই গাড়ির বৈধ কাগজপত্র আছে কি না, কিংবা সেটি চুরি হওয়া গাড়ি কি না, তা খতিয়ে দেখার কোনো প্রয়োজন মনে করে না দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ। এতে সড়ক নিরাপত্তা যেমন তলানিতে ঠেকেছে, তেমনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। চালকদের অভিমত, প্রতি মাসে টোকেন বাবদ এবং রাস্তায় প্রতিনিয়ত যে টাকা দিতে হয়, সেই ঘাটতি পোষাতে তারা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে বাধ্য হন। ফলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, পেকুয়া, মগনামা ও বদরখালীসহ বিভিন্ন এলাকার নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ, যারা জীবিকার প্রয়োজনে প্রতিদিন এই রুটে যাতায়াত করেন, তারা চরম অর্থনৈতিক শোষণের শিকার হচ্ছেন। মইজ্জ্যারটেক স্টেশন ও আশপাশের সংযোগ সড়কগুলো ঘুরে দেখা যায়, মহাসড়কের পাশে ট্রাফিক বক্স ঘিরে অবৈধভাবে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ড। মাঝেমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে লোকদেখানো উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবার পরিস্থিতি আগের রূপ ধারণ করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, টোকেন বা চুক্তির টাকা সময়মতো পৌঁছে গেলেই আবার রাস্তা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার (বন্দর) কবীর আহম্মেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মহাসড়কে কোনো ধরনের টোকেন বাণিজ্য বরদাশত করা হবে না। বর্তমানে টোকেন বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ এবং আমাদের টিম নিয়মিত অবৈধ গাড়ি জব্দ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও সিন্ডিকেটের কথা বলছেন তার সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। (বি: দ্র: সড়ক-মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন চলাচল নিয়ে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির বিষয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে দৈনিক ঈশান। প্রতিবেদন তৈরিতে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করার জন্য পাঠকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ রইল)
২ মাস ৬ দিন আগে
ইঞ্জিন-কোচ কেনা, রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সরঞ্জাম ক্রয় এবং অবকাঠামো সংরক্ষণ ও উন্নয়নে বেপরোয়া দূর্নীতির বেড়াজালে এখন চরমভাবে কাবু দেশের বৃহৎ গণপরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ রেলওয়ে। সংস্থাটির কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সবাই নানা অনিয়মে খাতটি এখন জটিল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এমন তথ্য মিলেছে। রেলওয়ের কারিগরি বিভাগের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, রেলওয়ের যন্ত্রাংশ তৈরির দুটি কারখানা রয়েছে দেশে। এগুলোর একটি চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে, অপরটি সৈয়দপুরে। কিন্তু এ দুটি কারখানায় রেলের উল্লেখযোগ্য তেমন কোন যন্ত্রাংশ তৈরি হয় না। এরপরও এ দুটি কারখানা সংশ্লিষ্ট শতাধিক কর্মকর্তা ও হাজারো কর্মচারী অযথা জড়িয়ে রয়েছে। যাদের পেছনে সরকারের বড় অঙ্কের বেতন ব্যয় করতে হচ্ছে প্রতিবছর। এখানে থেমে নেই বিষয়টি, দৃুটি কারখানায় যন্ত্রাংশ তৈরির নামে শতকোটি টাকার বরাদ্দও নিচ্ছে। আবার অধিকাংশ যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আমদানিও করা হচ্ছে। যার পেছনে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। আর এই টাকা কমিশনসহ নানা কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এক্ষেত্রে কারখানা দুটোতে নিম্নমানের কিছু যন্ত্রাংশ যেমন তৈরি করা হয়, তেমনি বিদেশ থেকেও নিম্নমানের কিছু যন্ত্রাংশ আমদানি করা হয়। অনেকক্ষেত্রে এসব যন্ত্রাংশ কাগজে-কলমে স্টোরে সংরক্ষিত রাখা হলেও বাস্তবে অস্তিত্ব খুঁেজ পাওয়াই দুস্কর। যা দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে মাঝেমধ্যে প্রকাশ পায়। তদন্তে প্রমাণ পেলেও এ নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। সর্বোচ্চ শাস্তি হয় বদলি। তাও যেন পুরস্কার স্বরূপ। রেলওয়েতে প্রবাদ আছে-যে যত বড় দূর্নীতিবাজ, তার প্রমোশন আগে, বদলিও হয় দূর্নীতির উর্বর স্থানে। যার উদাহরণ বর্তমান ডিজি থেকে শুরু করে বিগত ১৮ বছরে দায়িত্বপালন করা সাবেক ডিজি(মহাপরিচালক), এডিজি(অতিরিক্ত মহাপরিচালক) রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল জিএম(মহাব্যবস্থাপক)গণ। যারা প্রমোশনের সাথে যেখানে বদলি পেয়েছে সেখানে বেপরোয়া দূর্নীতি করে সরঞ্জাম কেনাকাটা ও অবকাঠামোর উন্নয়নে সরকারের ভুর্তুকির হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে ট্রেন পরিচালনায়। আর খেসারত দিতে হচ্ছে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে। সূত্র গুলো বলছে, বর্তমানে রেলওয়েতে ব্যবহৃত ইঞ্জিনের বড় একটি অংশ মেয়াদোত্তীর্ণ। এসব ইঞ্জিন সচল রাখার নামে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও রোগ সারছে না। এছাড়া অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রকল্পেও লোপাট হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। ট্রেন পরিচালনার মূল শক্তি হিসেবে বিবেচিত লোকোমোটিভ/ইঞ্জিন সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে এ সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। সূত্র মতে, বাংলাদেশ রেলওয়ের দুটি অঞ্চলে (পূর্ব ও পশ্চিম) মোট ইঞ্জিন আছে ২৭১টি। তম্মধ্যে মিটারগেজ ১৫০টি ও ব্রডগেজ ১২১টি। এর মধ্যে ৮৭টি অকেজো, বাকিগুলো চলে জোড়াতালি দিয়ে। এসব ইঞ্জিন দিয়েই বছরে প্রায় ১০ কোটি যাত্রী ও ৪০ লাখ টন পণ্য পরিবহন করে রেলওয়ে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সূত্র জানায়, রেলওয়ে পাহাড়তলী ডিজেল শপের অধীনে থাকা ৯০টি ইঞ্জিনের মধ্যে ৪০টি অকেজো আর ৫০টি মেরামত করে চালানো হচ্ছে। খুচরা যন্ত্রাংশের অভাবে এসব ইঞ্জিন প্রয়োজনীয় মুহুর্তে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ ইঞ্জিনের অধিকাংশ যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে কিনতে হয়। লুটের আঘাতে অচল ৩০০০ সিরিজের আধুনিক ইঞ্জিনও রেলওয়ের যান্ত্রিক প্রকৌশলীদের মতে, রেলওয়ে ইঞ্জিনের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল সাধারণত ২৫ বছর ধরা হয়। কিন্তু আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের ১৯৫৩, ১৯৫৪ ও ১৯৫৬ সালে আমদানি করা ২০০০ সিরিজের ইঞ্জিনের বয়স ৭২ বছর পার হলেও জোড়াতালি দিয়ে চালনো হচ্ছে। বিপরীতে ২০২০ সালে হুন্দাই রোটেমে এর সরবরাহ করা ৩০০০ সিরিজের আধুনিক ৩০টি লোকোমোটিভ/ইঞ্জিনও এখন অচল রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, রেলকে আধুনিক করার পরিকল্পনা নিয়ে করোনা পরবর্তী এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইলেক্ট্রো মোটিভ ডিজেল (ইএমডি)-এর লাইসেন্সের আওতায় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ৩০টি লোকোমোটিভ আমদানি করা হলেও তা অল্প সময়ে নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে পাহাড়তলীর অধীন ২২টি ইঞ্জিনের মধ্যে সচল আছে মাত্র ৯টি আর মেরামতাধীন আছে ১৩টি। সব মিলিয়ে ৩০০০ সিরিজের ২০ ইঞ্জিন অনেকটাই অচল। এই ইঞ্জিন ক্রয়ে সিমাহীন দূর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এর আগে ২০০০ সিরিজের (১৯৫৩, ১৯৫৪ ও ১৯৫৬ সালের) ৩টি ইঞ্জিনের ২টি, ২২০০ সিরিজের (১৯৬১ থেকে ১৯৬৩ সালের) ৭টির মধ্যে ১টি, ২৬০০ সিরিজের (১৯৮৮ সালের) ১৬টির মধ্যে ৮টি, ২৭০০ সিরিজের (১৯৯৪ ও ১৯৯৬ সালের) ১৮টির মধ্যে ৭টি ইঞ্জিন লাইফটাইম (আয়ুষ্কাল) শেষ হলেও জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে। বাকিগুলো অচল। আবার ১৯৯৯, ২০০৪, ২০১১ ও ২০১৩ সালে আমদানি করা ২৯০০ সিরিজের ৩৯টি ইঞ্জিনের মধ্যে ২০টি সচল থাকলেও ১৯টির আয়ুষ্কাল শেষ। এগুলো মেরামত করে চালানোর উপযোগী করা বেশ কষ্টকর।১ কোটি টাকার ডায়েচ ডিজেল ইঞ্জিনের স্পেয়ার পার্টস ৮ কোটিতে ক্রয় রেলওয়ের ডায়েচ ডিজেল ইঞ্জিনের এক কোটি টাকার স্পেয়ার পার্টস ৮ কোটি টাকায় ক্রয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চারটি টেন্ডারের সকল নথি ও রেকর্ডপত্র চেয়ে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে অবস্থিত বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক।দুদকের প্রধান কার্যালয়, ১ সেগুনবাগিচা, ঢাকা থেকে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা স্মারক নং- ০০.০১.১৫২০.৬০৪.০৩.২৬৪.২৬/চট্টগ্রাম ৫৪১২-এর মাধ্যমে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল ইসলাম অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হিসেবে স্বাক্ষর করেন।চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের সরঞ্জাম বিভাগ থেকে ই-জিপি টেন্ডার আইডি নং ১০৯৩৭৪৪, ১০৯৩৮৮৫ ও ১০৯৩৮২৬-এর মাধ্যমে বৈদ্যুতিক বিভাগে ব্যবহারের জন্য ১৪টি আইটেমের ডায়েচ ডিজেল ইঞ্জিন স্পেয়ার পার্টস কেনা হয়।দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় ১ কোটি টাকা বাজারমূল্যের স্পেয়ার পার্টস ৮ কোটি টাকায় ক্রয় করে সরকারের প্রায় ৭ কোটি টাকা ক্ষতি করা হয়েছে। অতিরিক্ত মূল্যে ক্রয়ের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনায় বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রভাবশালী ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। অনুসন্ধানের স্বার্থে দুদক সংশ্লিষ্ট ৪টি টেন্ডারের ক্রয় নথি, দরপত্র অনুমোদন, বাজারদর, দাপ্তরিক প্রাক্কলন, এপিপি, দরপত্র মূল্যায়ন প্রতিবেদন, কৃতকার্য দরদাতার ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর, ই-টিআইএন, ভ্যাট (বিআইএন), জাতীয় পরিচয়পত্র, অভিজ্ঞতার সনদ, নোটিশ অব অ্যাওয়ার্ড (NOA), চুক্তিপত্র, মালামাল সরবরাহ সংক্রান্ত তথ্যসহ যাবতীয় সত্যায়িত কাগজপত্র জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে।চিঠিতে প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক, বাংলাদেশ রেলওয়ে, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম-কে আগামী ২২ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে চাহিদাকৃত তথ্য ও রেকর্ডপত্র দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার কাছে সরবরাহ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।আরও অর্থ ঢালার আবদার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রেল সচলের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের পাহাড়তলী ডিজেল শপের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী এহেতেশাম মো. শফিক বলেন, ‘ইঞ্জিন সংকটে বিভিন্ন রুটে অনেক ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। যথাসময়ে ইঞ্জিন সরবরাহ করতে পারলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন অনেক বাড়বে। এতে করে রেলের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি লোকসান কমানোও সম্ভব হবে।তিনি আরও বলেন, ইঞ্জিন রক্ষাণাবেক্ষণ ও মেরামতে যেখানে হাজার কোটি টাকা দরকার সেখানে বরাদ্দ আছে ১২০ কোটি টাকা। তাও আবার টাকা ছাড় করতেই অর্থবছর শেষ হয়ে যায়। ফলে কেনাকাটায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি টাকা ছাড়ের পদ্ধতি সহজ করা দরকার। তার ভাষ্য, অর্থবছরের শুরুতেই যদি প্রয়োজনীয় অর্থ পাওয়া যায় তাহলে সময় নিয়ে দরকারি যন্ত্রাংশ কেনাকাটা করা যায়। এ খাতের বেশিরভাগ যন্ত্রাংশই আমদানি করতে হয়, সুতরাং বরাদ্দের টাকা ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট সময়ও বরাদ্দ রাখা জরুরি। এই তিন বছর রেলসেবা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দরকার। প্রায় একই কথা বলেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) ফকির মো. মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, জনবল ও খুচরা যন্ত্রাংশ সংকট চরম অবস্থায় পৌছেছে। ইতিমধ্যে ৬০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন আমদানির প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও এগুলো আসতে কমপক্ষে তিন বছর সময় লাগবে। তা ছাড়া চীন ২০টি ইঞ্জিন উপহার দেবে অল্প সময়ের মধ্যে। আর সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্রতি অর্থবছরে সরকার ভূর্তুকি থেকে যে বরাদ্দ দেয় তাও কমিশনসহ বিভিন্ন কৌশলে লুট করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সরকার যে ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় তার ২০ কোটি টাকাও যদি রেলওয়ের উন্নয়নের কাজে ব্যয় হত তাহলের রেলের এ দশা হতো না। এরপরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পেট ভরছে না। সরকার থেকে হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ পেলে সুইজারল্যান্ডে তাদের আমানত আরও ভারীূ হতো। এতে তাদের মন ভরত। আয় নেই কানাকড়িও, ভর্তুকিতে উন্নয়নসংশ্লিষ্টদের মতে, রেলওয়েতে আয় নেই কানাকড়িও। যাত্রী ও পণ্য পরিবহণে যা আয়ঢ হয় তা বছর শেষে ব্যয় সমন্বয়ের পর দেখা যায় লাভের খাতা শূণ্য। যা মেটানো হয় ভুর্তুকি দিয়ে। আর কানাকড়ি আয় না থাকার অন্যতম কারণ হলো অপারেশনাল দক্ষতার ঘাটতি। তাদের মতে, একটি ইঞ্জিন দীর্ঘ সময় অচল থাকলে শুধু পরিবহন সক্ষমতাই কমে না, রাজস্ব আয়ও হ্রাস পায়। ফলে প্রতিষ্ঠানটি আরো বেশি ভর্তুকি নির্ভর হয়ে পড়ে। অন্যদিকে সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে একই ইঞ্জিন থেকে দীর্ঘ সময় সেবা পাওয়া সম্ভব এবং নতুন ইঞ্জিন কেনার চাপও কমে আসে।রেলওয়ের কমার্শিয়াল বিভাগ সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে যে পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে রেল পরিচালিত হচ্ছে তার একটি বড় অংশ অপারেশনাল অদক্ষতা ও যন্ত্রপাতির অকার্যকারিতার সঙ্গে সম্পর্কিত। ইঞ্জিন ও কোচের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে ট্রেন চলাচলের নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে, যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, পণ্য পরিবহন সম্প্রসারিত হবে এবং রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।বিশেষজ্ঞদের মতরেলওয়ের যুগ্নমহাপরিচালক (যান্ত্রিক) মুহাম্মদ খুদরত ই খুদার ভাষ্য, ইঞ্জিনের নির্ভরযোগ্যতা ধরে রাখতে প্রয়োজন সময়মতো ওভারহলিং, যন্ত্রাংশ পরিবর্তন এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর রক্ষণাবেক্ষণ। এসব কাজ নিয়মিতভাবে না হলে ইঞ্জিন বিকল হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বর্তমানে রেলওয়ের বিভিন্ন ওয়ার্কশপ ও লোকোমোটিভ শেডে এমন অনেক ইঞ্জিন রয়েছে যেগুলো প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে মেরামতের অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু যন্ত্রাংশ সংকটে এসব ইঞ্জিনের প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এক্ষেত্রে আর্থিক সংকট দেখানো হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে সরকারের বরাদ্দ যদি সঠিকভাবে কাজে লাগত তাহলে এ সমস্যা প্রকট হতো না।
২ মাস ৭ দিন আগে
আদালতের জব্দের নির্দেশের পরও সড়ক দাপিয়ে চলছে খন্দকার এনায়েত উল্লাহর মালিকানাধীন ‘এনা পরিবহন’। নির্দেশ অনুযায়ী ১৭৯টি বাস জব্দ করে বিআরটিসির জিম্মায় দেয়ার কথা থাকলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত জব্দ করতে পেরেছে মাত্র ৫টি বাস। এ বিষয়ে খন্দকার এনায়েত উল্লাহকে অনৈতিক সুবিধা দিতে বাস জব্দে গাফিলতির অভিযোগ তুলে গত নভেম্বরে দুদকে একটি স্মারকলিপি দিয়েছে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বলছে, আদালতের নির্দেশের এক বছর পার হয়ে গেছে। নির্দেশ বাস্তবায়নে গতি আনতে তারা আবারও আদালতের শরণাপন্ন হবেন।সূত্র মতে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত শুরু করে।এরপর গত বছরের মে মাসে আদালত এনা পরিবহনের ১৭৯টি বাস জব্দের নির্দেশ দেন। আদেশে বলা হয়, পুলিশ বাসগুলো জব্দ করে বিআরটিসির কাছে হস্তান্তর করবে এবং বিআরটিসি সেগুলো পরিচালনা করবে। তবে এক বছরেরও বেশি সময় পার হলেও অধিকাংশ বাস এখনো জব্দ হয়নি। বরং সেগুলো দিয়েই পরিবহনটি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে খন্দকার এনায়েত উল্লাহ। এতে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এনা পরিবহনের ডিপোতে গিয়ে দেখা গেছে, জব্দের তালিকায় থাকা বাসগুলো এখনও দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটে চলাচল করছে। যদিও ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে, তবে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী ও কক্সবাজার রুটে নিয়মিত চলছে এসব বাস।চালক ও শ্রমিকরা বলছেন, জব্দের আদেশের পর থেকে তারা নানা প্রশাসনিক জটিলতায় পড়েছেন। খুব অল্প টিকিট বিক্রি হচ্ছে। এতে কোম্পানির বড় ধরনের লোকসান হচ্ছে। একটি বাস চালাতে চালক, স্টাফ ও সুপারভাইজারসহ অনেক খরচ হয়। গাড়ির মালিকদের হয়তো খুব বেশি সমস্যা হয় না, কিন্তু শ্রমিকদের জীবিকাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।এনা ট্রান্সপোর্টের এজিএম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে মালিক সমিতির অভিযোগের কোনো সম্পর্ক নেই। বিআরটিসির কাছে বাস হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে রিটও করেছেন। এসব বাস ব্যাংক ঋণ নিয়ে কেনা হয়েছে। যদি ধারাবাহিকভাবে বাসগুলো আটক করা হয়, তাহলে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করা কোম্পানির জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পুলিশের। তবে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ বাসের অবস্থান খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ বেশিরভাগ বাসই এখন ঢাকার বাইরে চলাচল করছে। বাসগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাজধানীতে থাকে না, দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলাচল করে। চলন্ত অবস্থায় প্রতিটি বাসের ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর যাচাই করা তাৎক্ষণিকভাবে সবসময় সম্ভব হয় না। তবে এখন পর্যন্ত পাঁচটি বাস জব্দ করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে দূর্নীতি দমন কমিশনের পাবলিক প্রসিকিউটর খাদেমুল হক বলেন, অনেক সময় পার হয়ে গেছে। তাই কমিশনের পক্ষ থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবেদন করা হবে, যাতে আদালত পুলিশকে আবারও নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য স্মরণ করিয়ে দেন।
২ মাস ৮ দিন আগে
টানা ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে রেল লাইন। ফলে ঢাকা ছেড়ে আসা কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন আটকা পড়েছে চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহর এলাকায়। মঙ্গলবার বেলা ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ট্রেনটি আটকা পড়ে। বিকাল সাড়ে ৫টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ট্রেনটি কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে পারেনি। ফলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার লাইনে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।চট্টগ্রাম ষোলশহর স্টেশনের মাস্টার আরিফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ৬৫০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিল। ষোলশহর স্টেশন পার হয়ে কিছু দূর গিয়ে ট্রেনটি পানির কারণে আর এগোতে পারেনি।পরে ট্রেনটি পিছিয়ে ষোলশহর স্টেশনে এনে রাখা হয়েছে। রেললাইন থেকে পানি সরলে তারপরই ট্রেনটি কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৬টায় রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে পর্যটক এক্সপ্রেস যাত্রা শুরু করে। একই সময়ে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেনের পথেও বাধা সৃষ্টি হয়। দোহাজারী এলাকায় রেললাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় ট্রেনটি সেখানে আটকে রাখা হয়েছে বলে জানান স্টেশন মাস্টার আরিফুল ইসলাম। ফলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার লাইনে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।স্থানীয়রা জানান, সোমবার দিনগত মধ্যরাত থেকে চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে চট্টগ্রামের নিচু এলাকা ডুবে যেতে শুরু করে। দুপুরের দিকে বঙ্গোপসাগরের জোয়ারের পানি কর্ণফুলী দিয়ে উপচে পড়ে চট্টগ্রাম ষোলশহরসহ শহরের বেশিরভাগ জায়গা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বর্তমানে পানিতে থই থই করছে চট্টগ্রাম শহর। থেমে থেমে চলছে ভারী বর্ষণ। পতেঙ্গা আবাহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মাহমুদুল আলম জানান, মঙ্গলবার ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৮৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। নিম্নচাপের প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। অতি ভারি বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি কয়েকটি এলাকার মূল সড়কেও পানি উঠেছে।
২ মাস ১৮ দিন আগে
বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের ডিএফএ-স্টোরস অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট শাখার হিসাব কর্মকর্তা (সংগ্রহ) কাজী সাঈদা বেগম নিপার বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য, অনিয়ম, ভুয়া বিলের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্নসাৎ এবং নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ অর্জনের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা।গত ১৩ জুন লিখিত এই অভিযোগ চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের পরিচালক বরাবরে দায়ের করা হয় ২২ জুন। লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ডিএফএ-স্টোরস অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট শাখায় বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ২ থেকে ৩ শতাংশ কমিশন ছাড়া কোনো বিলের ফাইল ছাড়েন না কাজী সাঈদা বেগম নিপা। কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট শাখায় প্রতি অর্থবছরে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার বিল পরিশোধ হয়। এর বিপরীতে কমিশনের নামে বছরে প্রায় সাড়ে ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা অবৈধ কমিশন আদায় করা হয়। পাশাপাশি ভুয়া বিলের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্নসাতের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন একই শাখায় দায়িত্ব পালন করার সুযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তা দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, চট্টগ্রামের হালিশহরে তার স্বামীর নামে প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে। এছাড়া নগরীর একে খান, সিটি গেট এবং মিরসরাই উপজেলার শ্বশুপুরবাড়ি এলাকায় জমি ও বাড়ি রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। জন্মস্থান বরিশালেও বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণের তথ্য অভিযোগপত্রে তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব সম্পদের একটি বড় অংশ নিজের নামে না রেখে স্বামী ও স্বজনদের নামে ক্রয় করা হয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দুর্নীতির অর্থের একটি অংশ রেলওয়ে দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেওয়ার কথা বলে কমিশন আদায় করা হলেও অধিকাংশ অর্থ নিজেই আত্নসাৎ করেন। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকে স্বজনদের নামে একাধিক হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ গচ্ছিত রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।ঠিকাদারদের অভিযোগ, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কার্যকর তদারকির অভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে রেলওয়ে জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন নামে কথিত একটি সংগঠনের কয়েকজন নেতাকে নিয়মিত মাসোহারা দেওয়া হয়।এ বিষয়ে অভিযোগে স্বাক্ষরকারী ঠিকাদারদের পক্ষ থেকে দ্রুত দুদকের অনুসন্ধান, অভিযুক্ত কর্মকর্তার স¤পদের উৎস যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থের অপচয় ও ঠিকাদারদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য দুদকের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।অভিযোগকারী ঠিকাদাররা অভিযোগপত্রের অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অর্থ), রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার এবং প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের বরাবরেও প্রেরণ করেছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে কাজী সাঈদা বেগম নিপার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। এ কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।প্রতিবাদ ও উকিল নোটিশ প্রেরণ গত ১৪ জুন দৈনিক ঈশান এর অনলাইন ও প্রিন্ট ভার্সনে `কাজী সাঈদার দূর্নীতিতে কাঁপছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের হিসাব শাখা' শীর্ষক প্রতিবেদন ও সাপ্তাহিক পূর্বধারা পত্রিকায় এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের কোন অনুমোদন ছাড়াই কথিত আইনজীবীর মাধ্যমে প্রতিবাদ ও উকিল নোটিশ প্রদান করা হয়। যেখানে প্রকাশিত তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে অভিযুক্তের বক্তব্য ছাড়াই একতরফাভাবে প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। অথচ প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সরাসরি সাক্ষাতে নেওয়া বক্তব্য যথাযথভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। যার অডিও রেকর্ড দৈনিক ঈশান কার্যালয়ে সংরক্ষিত রয়েছে। একই অডিও রেকর্ড অভিযুক্ত সাঈদা বেগম নীপার কাছেও সংরক্ষিত থাকার কথা উকিল নোটিশে বলা হয়েছে। যা পুরোপুরি স্ববিরোধী এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার উপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। উক্ত প্রতিবেদন সুনির্দিষ্ট তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছে। অভিযোগের স্বপক্ষে একাধিক ভুক্তভোগী ঠিকাদারের কাছ থেকে কমিশন নেওয়ার স্বীকারোক্তিমূলক রেকর্ডও সংরক্ষিত রয়েছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সুবক্তগীন বলেন, দুদকে অভিযোগের বিষয়ে এই মুহুর্তে আমি ঠিক বলতে পারছি না। অভিযোগের কপি পেলে সংশ্লিষ্ট সেকশনে পাঠিয়ে দিব। আর প্রতিবাদ বা উকিল নোটিশের ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। বিষয়টির খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২ মাস ১৯ দিন আগে
মোবাইলে পাঠানো ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের জরিমানা পরিশোধের বার্তা ভুয়া। সাইবার দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে জাল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এমন প্রতারণার চেষ্টা করছে একটি চক্র। এসব বার্তায় থাকা লিংকে ক্লিক করলে ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার তীব্র ঝুঁকি রয়েছে। এ ধরনের সাইবার অপরাধের হাত থেকে রক্ষা পেতে সরকারি দপ্তরগুলোকে বিশেষভাবে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সম্প্রতি দেশের সব মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিবদের কাছে এ সংক্রান্ত জরুরি চিঠি পাঠিয়ে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।বিআরটিএ’র চিঠিতে বলা হয়, কতিপয় অসাধু ব্যক্তি বা চক্র বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে ‘ট্রাফিক জরিমানার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি বিজ্ঞপ্তি’, ‘স্পিডিং ফাইন বকেয়া রয়েছে, দ্রুত পরিশোধ করুন’, কিংবা ‘আপনার বকেয়া জরিমানা আছে’— এই ধরনের প্রতারণামূলক বার্তা মোবাইলে পাঠাচ্ছে।বার্তাগুলোর সঙ্গে ‘bsbrtcar-bdpay.sbs’, ‘bspbrtcar-govbd.online’, ‘bspbrtn-gov.cc’, ‘bspbrtcar-payfeebd.icu’, ‘bsp.brtagov.top’, ‘bsp.brta.vu/bd’, ‘bsp.brtas.vuwbd’, ‘bspbrtai-gov.cc’, ‘bsapqzc.lat’ কিংবা ‘bsp.brtas.cfd’- এর মতো বিভিন্ন ফিশিং লিংক পাঠানো হচ্ছে। এসব লিংক হুবহু বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল (বিএসপি)-এর আদলে তৈরি। তবে এসব জাল ওয়েবসাইট বা পোর্টালের সঙ্গে বিআরটিএর প্রকৃত সার্ভিস পোর্টালের লিংক (bsp.brta.gov.bd) কিংবা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই।এটিকে সম্পূর্ণ প্রতারণামূলক কার্যক্রম উল্লেখ করে চিঠিতে আরও বলা হয়, এই ধরনের সন্দেহজনক মোবাইল মেসেজের লিংকে ক্লিক না করা, কোনো ব্যক্তিগত তথ্য বা আর্থিক লেনদেন না করার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে এ ধরনের প্রতারক চক্রের বিষয়ে তথ্য পেলেই তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে (স্থানীয় থানা বা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট) অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হলো।বিআরটিএ’র নাম ব্যবহার করে এমন সুনির্দিষ্ট প্রতারণার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা। তিনি বলেন, ‘এটি কোনো সাধারণ বা নির্বিচার গণবার্তা (বাল্ক এসএমএস) নয়। যাদের মুঠোফোন নম্বরের সঙ্গে গাড়ির নিবন্ধন যুক্ত রয়েছে, মূলত তাদের কাছেই এই নিখুঁত বার্তাগুলো বেশি যাচ্ছে। এতে প্রাথমিকভাবে প্রতিয়মান হয় যে, এতে কোনো না কোনোভাবে বিআরটিএর লোকজন জড়িত। তা না হলে যানবাহন নিবন্ধন-সংক্রান্ত ডেটাবেজের তথ্য অপব্যবহার বা ফাঁস হলো কীভাবে? এ ঘটনার গভীর তদন্তে বিআরটিএর অটোমেশন সিস্টেম, সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান (ভেন্ডর) এবং পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কীভাবে বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারীর এই গোপন তথ্য প্রতারকদের হাতে পৌঁছাল, তা অবশ্যই তদন্তের মাধ্যমে বের করতে হবে।তানভীর হাসান জোহা আরও বলেন, ‘অনেকেই ফিশিংয়ের বিষয়টি বুঝতে না পেরে লিংকে গিয়ে টাকা দিয়েছেন, ক্রেডিট/ডেবিট কার্ডের তথ্য দিয়েছেন কিংবা বিভিন্ন মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। কিন্তু এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের পরও অনেক ক্ষেত্রে তদন্তের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায় না।’এই তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মনে করেন, বিআরটিএর তথ্যভান্ডার ও অনলাইন সেবাগুলোতে কোনো নিরাপত্তা দুর্বলতা (ভালনারেবিলিটি) রয়েছে কি না, সেটি অবিলম্বে পরীক্ষা করা জরুরি; কারণ নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার শতভাগ দায়িত্ব রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপরই বর্তায়।তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি কোনো তথ্য ফাঁস বা নিরাপত্তা দুর্বলতার ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তা দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে ঘটনার পেছনে জড়িত মূল চক্রকে আইনের আওতায় আনতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগে ফিশিং লিংক, ভুয়া ডোমেইন, অবৈধ পেমেন্ট গেটওয়ে এবং বার্তা প্রেরণকারী মূল উৎস শনাক্ত করা মোটেও অসম্ভব নয়।তানভীর হাসান জোহা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সাইবার সক্ষমতা এতটা দুর্বল নয় যে এসব ফিশিং চক্রের অবস্থান শনাক্ত করা যাবে না। সঠিক কারিগরি তদন্তের মাধ্যমে এসব প্রতারণার উৎস, সংশ্লিষ্ট সার্ভার এবং জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা সম্ভব। তা ছাড়া, সাইবার অপরাধ ঘটার পর সতর্কবার্তা দেওয়ার চেয়ে আগে থেকেই নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো বেশি কার্যকর। এতে সাধারণ মানুষ প্রতারণার ফাঁদে পড়ার ঝুঁকি থেকে বাঁচবে।’ একই সঙ্গে তিনি দেশের সর্বস্তরের নাগরিকদের অজানা বা সন্দেহজনক কোনো লিংকে ক্লিক না করার এবং ওটিপি (OTP), পাসওয়ার্ড, ব্যাংক কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পিন নম্বর কারও সঙ্গে শেয়ার না করার আহ্বান জানান।
৩ মাস ১৫ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলবে মনোরেল ও মেট্টোরেল। পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে নেওয়া হচ্ছে সমন্বিত মহাপরিকল্পনা। এ জন্য মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ চলছে। চট্টগ্রাম মহানগরকে এক সুতোয় গাঁথতে পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন সড়কের পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। রবিবার (৭ জুন) ডিটিসিএর একটি প্রতিনিধিদল নগরীর কালুরঘাট, আমান বাজার ও অক্সিজেন মোড়সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন।মশিউর রহমান জানান, ট্রাফিক পরিস্থিতি ও যাত্রীদের চাহিদা বিশ্লেষণ করে নির্ধারণ করা হবে কোন রুটে কী ধরনের গণপরিবহন সবচেয়ে কার্যকর হবে। ‘ট্রান্সপোর্ট মাস্টারপ্ল্যান অ্যান্ড প্রিলিমিনারি ফিজিবিলিটি স্টাডি অব আরবান মেট্রো রেল ট্রানজিট কনস্ট্রাকশন অব চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এরিয়া’ প্রকল্পের অধীনে এই মহাপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।নগরীর অক্সিজেন মোড়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যাত্রীদের চাহিদার ওপর নির্ভর করে গণপরিবহন ব্যবস্থাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। চাহিদা বেশি থাকলে মেট্রোরেল, মাঝারি হলে লাইট রেল ট্রানজিট (এলআরটি) এবং কম হলে মনোরেল চালুর পরিকল্পনা করা হয়।তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন রুটে বিভিন্ন রকমের চিত্র দেখা যাচ্ছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে পাওয়া একটি প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করতেই ডিটিসিএর প্রতিনিধিদল সরেজমিনে পরিদর্শনে এসেছে। যাচাই শেষে তারা তাদের মতামত জানাবে।ডিটিসিএ নির্বাহী পরিচালক বলেন, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মনে হচ্ছে দু-একটি রুটে অবশ্যই মনোরেল হবে। তবে কোন রুটে মনোরেল আর কোন রুটে মেট্রোরেল হবে, তা সম্পূর্ণ চাহিদা বিশ্লেষণের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বর্তমানে এই বিশ্লেষণ ও কারিগরি মূল্যায়নের কাজ চলছে।তিনি জানান, প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ অনুযায়ী ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মাস্টারপ্ল্যান ও এ সংক্রান্ত সুপারিশমালা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন জানান, যানজট এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি চট্টগ্রামের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। জনগণ যেন অল্প সময়ে ও স্বল্প ব্যয়ে সহজে যাতায়াত করতে পারে, সেটাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সূত্রমতে, চট্টগ্রাম মহানগরীর দেশের অন্যতম যানজটের নগরী। নগরীর কালুরঘাট-বিমান বন্দর সড়ক, অক্সিজেন-নিউমার্কেট সড়ক, নিউমার্কেট বহদ্দার সড়ক, বহদ্দারহাট-শাহ আমানত সড়ক, জিইসির মোড়-একে খান-সিটি গেইট সড়ক, ডিটি রোড, অলঙ্কার মোড়-বন্দর সড়ক, পতেঙ্গা-ফৌজদারহাট রোড, সদরঘাট-বারেকবিল্ডিং রোডসহ বহু সড়ক অত্যন্ত ব্যস্ততম। যেখানে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নগরবাসী। এসব সড়কে বিকেল ৩টা হলে আর গাড়ি মেলে না। মিললেও গুণতে হয় সকালের চেয়ে তিন-চারগুণ বেশি ভাড়া। এক্ষেত্রে বেশি এগিয়ে সিএনজি অটোরিক্সা চালকরা। তখন ১০০ টাকার ভাড়া ৩০০ টাকা গুণে গন্তব্যে যেতে হয়। এমনকি বাস মিনিবাস, টেম্পুসহ সব ধরণের গাড়িতে ১০ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা গুণতে হয় নগরবাসীকে। এরপরও গাড়ি মেলাতে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থাকতে হয় নগরীর পেশাজীবী মানুষগুলোকে। এ সময় যানবাহন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হয় ট্রাফিক পুলিশকেও। চট্টগ্রাম মহানগর ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, এটা সত্য যে, চট্টগ্রাম মহানগর এখন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। নগরীতে ধারণক্ষমতার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি গাড়ি চলাচল করে। এ কারণে নগরীর সবকটি সড়কে প্রায় সময় যানজট লেগে থাকে। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় ট্রাফিক পুলিশ ও নগরবাসীকে। এই পরিস্থিতি উত্তরণে পরিকল্পিত পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের কোন বিকল্প নেই।
৩ মাস ১৭ দিন আগে
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। পৃথিবীর দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত-এ যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন বিদেশী নাগরিকসহ দেশের ৬৪টি জেলার লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াত এই মহাসড়কে। তবে এ পথে যাত্রীদের কাছে এখন আতঙ্কের নাম 'মারছা' পরিবহনের গাড়ি। বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের কারণে অনেকেই এই গাড়িগুলোকে 'আজরাইলের ছায়া' হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। গত শনিবার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি এলাকায় মারছা পরিবহনের দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা যেন তারই প্রমাণ মেলে। এ ঘটনায় আহত হন আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী। দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মারছা পরিবহন বয়কটের আহ্বান জানিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেন অনেকে। দুর্ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ফোর সিজন রেস্টুরেন্টের সামনে মারছা পরিবহনের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় জনতা। আরিফুর রহমান নামে এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'মারছা গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো কি প্রশাসন দেশে নেই?' মহাসড়কে চলাচলকারী এসব গাড়ি বন্ধে এলাকাবাসীর প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।মো. ইলিয়াছ নামে এক ব্যক্তি বলেন, দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে চালকরা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালান। অদক্ষ চালক ও অতিরিক্ত ওভারটেকিংয়ের কারণেই দুর্ঘটনা বাড়ছে। তাদের স্টাফদের আচরণও ভালো নয়। কাউন্টারে টিকিট আছে কি না জানতে চাইলে অনেক সময় শুনেও না শোনার ভান করে।আমীর হোসেন নামে একজন বলেন, অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে গাড়ি ছাড়ে না। টিকিট নেওয়ার পরও দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মারছা পরিবহনের কার্যক্রম বন্ধের দাবী জানিয়েছেন।এ বিষয়ে লোহাগাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, শনিবার মারছা পরিবহনের দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে রেহানা বেগম (৬০) নামের এক নারী ঘটনাস্থলেই মারা যান। তার বাড়ি পটিয়া উপজেলায়। গুরুতর আহত অবস্থায় নাঈমুদ্দিন, দীপ্ত দত্ত, নাইমুল ইসলাম ও মাসুম নামে চারজনকে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছিল। তাদের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলায়। আহতদের মধ্যে নাঈমুদ্দিন, নাইমুল ইসলাম ও মাসুম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দীপ্তকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান দোহাজারী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুস সাত্তার।পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, দুর্ঘটনায় পড়া বাস দুটি ছিল বিপরীতমুখী। লোহাগাড়ায় ফোর সিজনস হোটেলের সামনে চলন্ত বাস দুটি একেবারে রাস্তার মাঝামাঝিতে চলে আসে। সাইড নিতে গিয়ে একটির সঙ্গে আরেকটির দুই পাশের সংঘর্ষ হয়।এতে পূর্ব পাশের বাস রাস্তার পাশে একটি মুদি দোকান ভেঙেচুরে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে থেমে যায়। অন্য বাসটিও রাস্তার পশ্চিম পাশে গাছের সঙ্গে আটকে যায়। দুই বাসের সামনের অংশ একেবারে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের টিম গিয়ে বাসের ভেতর আটকে থাকা অবস্থায় পাঁচজনকে উদ্ধার করে।দোহাজারী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সালাহউদ্দিন চৌধুরী বলেন, শুধু মারছা পরিবহন নয়, যেকোনো গাড়ি যদি গতিসীমা লঙ্ঘন করে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা ফিটনেস না থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশের প্রধান শাহীনুর আলম খাঁনের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি।বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সাধারণ স¤পাদক মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, এখানে গাড়ির দোষ নয় ব্যবস্থাপনার দোষ। বেপরোয়া গতির দায়ে চালকের দোষ হতে পারে। তবে মহাসড়কটি ৬ লাইনে উন্নিতি করা গেলে দুর্ঘটনা কমে আসবে। অভিযোগের বিষয়ে মারছা পরিবহনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. আলমগীরের বক্তব্য জানতে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি।
৪ মাস ১৪ দিন আগে
ডিজেলের দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি পড়ল সড়কপথে যাত্রী পরিবহনে। প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা ভাড়া বাড়িয়ে নতুন হার নির্ধারণের পরই ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরসহ আন্তজেলা ও দূরপাল্লার বাস-মিনিবাসের নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। রবিবার (২৬ এপৃল) এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। তবে তালিকায় গত বৃহস্পতিবার থেকেই নতুন ভাড়া কার্যকর হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগরে ৫২ আসনের বাসে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৫৩ পয়সা করা হয়েছে। এই হারে কালুরঘাট ব্রিজ থেকে চট্টগ্রাম নিউমার্কেট পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার পথের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ টাকা। একই তালিকায় সর্বনিম্ন ১০ টাকা ভাড়ায় চকবাজার মসজিদ থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত যাতায়াত করা যাবে। কালুরঘাট ব্রিজ থেকে শরাফত পেট্রলপাম্প পর্যন্ত যেকোনো গন্তব্যেও সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।চট্টগ্রাম নিউমার্কেট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ১৮ দশমিক ৬ কিলোমিটার পথে সম্পূর্ণ যাত্রায় ভাড়া পড়বে ৪৭ টাকা। তবে এই রুটে নিউমার্কেট থেকে বাদামতলী পর্যন্ত সর্বনিম্ন ভাড়া রাখা হয়েছে ১০ টাকা। চট্টগ্রাম মহানগর থেকে বিভিন্ন উপজেলা ও জেলার পথে চলাচলকারী বাসগুলোর ক্ষেত্রেও একই হারে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তজেলা ও দূরপাল্লার বাসের ক্ষেত্রে ৫১ আসনের জন্য প্রতি কিলোমিটার ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২ টাকা ২৩ পয়সা। তবে যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য অনেক পরিবহন কোম্পানি বড় বাসে আসন সংখ্যা কমিয়ে ৪০-এ নামিয়ে চালায়, সে ক্ষেত্রে ভাড়া বাড়তি দিতে হবে। দূরপাল্লার পথে ফেরি ও সেতুর টোল থাকলে সেটিও ভাড়ার সঙ্গে যুক্ত হবে। চট্টগ্রাম থেকে ফেনী হয়ে সোনাপুর পর্যন্ত ১৪৭ কিলোমিটার পথে ৫১ আসনের বাসের ভাড়া ৩২৮ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৪১৮ টাকা দিতে হবে। চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত ১৫৪ কিলোমিটার দূরত্বে ৫১ আসনের বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪৩ টাকা, আর ৪০ আসনের বাসে তা ৪৩৭ টাকা।ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে চট্টগ্রাম রুটে ৫১ আসনের বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০৪ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৫৫২ টাকা। নতুন ভাড়া কাঠামো অনুযায়ী, এই রুটে টোল বাবদ অতিরিক্ত ৪৫০ টাকা যোগ হবে। কক্সবাজার রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৯০০ টাকা ও ৪০ আসনের বাসে ১ হাজার ১৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। টেকনাফ রুটে ৫১ আসনের বাসে ১ হাজার ৪৭ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ১ হাজার ৩৩৫ টাকা ভাড়া ধার্য করা হয়েছে। এ ভাড়া শুধুমাত্র ডিজেল চালিত পরিবহনের জন্য কার্যকর হবে। গ্যাসচালিত বাসে বাড়তি ভাড়া নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানান, গ্যাসের দাম না বাড়ায় গ্যাসচালিত কোনো যানবাহনের ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ নেই। গ্যাসচালিত যানবাহনে আগের মতোই ভাড়া নিতে হবে। বেশি ভাড়া নেওয়া বা কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৪ মাস ৩০ দিন আগে
