পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে শনিবার (১ আগস্ট) থেকে সব ধরণের গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইস সংযোজন ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। নতুন নিবন্ধন এবং ফিটনেস সনদ নবায়নের ক্ষেত্রে জিপিএস সংযোজনের প্রমাণপত্র ও এর কার্যকারিতা প্রদর্শন করতে হবে।সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জিপিএস সংযুক্ত ও সচল না থাকলে কোনো গণপরিবহনের নতুন নিবন্ধন দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ফিটনেস সনদ ইস্যু বা নবায়নও করা হবে না। এ বিষয়ে পরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।দেশের সড়কে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রী তোলাকে কেন্দ্র করে বাসের রেষারেষি, যেখানে-সেখানে থেমে যাত্রী ওঠানামা এবং একাধিক লেন দখল করে যানবাহন দাঁড় করানোর মতো নানা অনিয়মের কারণে যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়ছে। এসব সমস্যা নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদারের অংশ হিসেবে জিপিএস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির সঙ্গে জিপিএস সংযোজনের বিষয়ে ইতোমধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তবে ১ আগস্ট থেকেই সব গণপরিবহনে এটি শতভাগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও কিছু সময় লাগবে।বিআরটিএ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, নতুন কোনো যানবাহন নিবন্ধনের জন্য এলে সেটিতে অবশ্যই জিপিএস সংযুক্ত থাকতে হবে। একইভাবে ফিটনেস সনদ নবায়নের ক্ষেত্রেও জিপিএস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য বিআরটিএ নিজস্ব প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাও গড়ে তুলছে, যাতে সহজেই নিশ্চিত হওয়া যায় কোনো যানবাহনে জিপিএস সংযুক্ত ও সচল রয়েছে কি না।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের এই উদ্যোগ সড়ক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। তবে পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনে জিপিএস সংযোজন কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ জন্য প্রযুক্তির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার, কঠোর তদারকি এবং আইন প্রয়োগের ওপরও সমান গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না। প্রযুক্তির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কার্যকর সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। সুশাসনের সঙ্গে প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো গেলেই এ উদ্যোগের সুফল পাওয়া সম্ভব হবে।
১ মাস ১৮ দিন আগে
সড়ক নিরাপত্তায় শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসের লক্ষ্যে এক সভার আয়াজন করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) চট্টগ্রামের বিসিএসআইআর ল্যাবরেটরী উচ্চ বিদ্যালয়ে এই সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) রায়হান আক্তার উর্থি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কে. এম. মাহাবুব কবির, উপপরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং), বিআরটিএ, চট্টগ্রাম জেলা সার্কেল। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উথোয়াইনু চৌধুরী, সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং), বিআরটিএ, চট্টগ্রাম জেলা সার্কেল এবং মো. আলাউদ্দিন, মোটরযান পরিদর্শক, বিআরটিএ, চট্টগ্রাম জেলা সার্কেল।অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তারা ট্রাফিক আইন মেনে চলা, রাস্তা পারাপারে সতর্কতা অবলম্বন, জেব্রা ক্রসিং ও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার, মোটরসাইকেলে মানসম্মত হেলমেট পরিধান এবং সড়ক ব্যবহারে দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের সচেতনতার মাধ্যমেই পরিবার ও সমাজে নিরাপদ সড়ক সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব।এ সময় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক একটি কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। কুইজে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে অতিথিবৃন্দ পুরস্কার বিতরণ করেন এবং তাদের অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীকে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন থেকে নিজে ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।
১ মাস ২১ দিন আগে
আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকার বিশ্বখ্যাত মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড ইয়ামাহার নতুন শোরুম 'টুয়েন্টি এইট মোটরস'। শনিবার (২৫ জুলাই) চট্টগ্রাম মহানগরীর সিডিএ অ্যাভিনিউয়ের মুরাদপুর এলাকায় শোরুমটির উদ্বোধন করেন তামিম ইকবাল নিজেই।উদ্বোধন উপলক্ষে ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাবের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালিরও আয়োজন করা হয়। র্যালিটি সিআরবি মোড় থেকে শুরু হয়ে টাইগারপাস হয়ে মুরাদপুরের নতুন শোরুমে এসে শেষ হয়। এতে অংশ নেওয়া মোটরসাইকেলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসিআই মোটরস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুভ্রত রঞ্জন দাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টুয়েন্টি এইট মোটরসের স্বত্বাধিকারী আয়েশা সিদ্দিকা, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল খান এবং জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক পেসার রুবেল হোসেন। এ ছাড়া ইয়ামাহা ও এসিআই মোটরসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসমৃদ্ধ এ শোরুমটি মোটরসাইকেলপ্রেমীদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতার দ্বার উন্মোচন করবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। এক ছাদের নিচে ইয়ামাহার জনপ্রিয় বিভিন্ন মডেলের মোটরসাইকেল দেখার পাশাপাশি ক্রেতারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী বাইক কেনার সুযোগ পাবেন। শোরুমটিতে রয়েছে আধুনিক সার্ভিসিং সুবিধা এবং শতভাগ জেনুইন স্পেয়ার পার্টসের নিশ্চয়তা। এ ছাড়া গ্রাহকরা এখান থেকে ইয়ামাহার অফিসিয়াল জেনুইন অ্যাপারেলস ও রাইডিং গিয়ারও সংগ্রহ করতে পারবেন।আয়োজকরা জানালেন, নতুন শোরুমের মাধ্যমে চট্টগ্রামের গ্রাহকদের আরও উন্নত ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
১ মাস ২৪ দিন আগে
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতন হলেও দূর্নীতিবাজ ছাত্রলীগ নেতা জামিল হোসেনকে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপোতে পূনর্বাসন করা হয়েছে। গত ১৭ জুন বিআরটিসির জিএম দীনেশ সরকার স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই বদলি কার্যকর করা হয়। ভুয়া সনদে চাকরি নেওয়া এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিআরটিসি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়া এই বিতর্কিত কর্মকর্তাকে লাভজনক ডিপোতে পাঠানো কার্যত প্রমোশনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করার শামিল। অভিযোগ উঠেছে, বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে প্রধান কার্যালয়কে ম্যানেজ করে এই বদলি ভাগিয়ে নিয়েছেন তিনি।বিগত সরকারের আমলে নিজেকে গোপালগঞ্জের সন্তান এবং শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী ও বর্তমানে পলাতক ‘লিকু’র ভাগ্নে পরিচয় দিয়ে বিআরটিসিতে রামরাজত্ব কায়েম করেন এই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। তৎকালীন সময়ে প্রভাব খাটিয়ে ভুয়া শিক্ষা সনদ দিয়ে তিনি বিআরটিসিতে চাকরি নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চাকরি পাওয়ার পর থেকেই লিকুর ভাগ্নে এবং গোপালগঞ্জের কোটা—এই দুই পরিচয়কে পুঁজি করে বিআরটিসিকে নিজের একক নিয়ন্ত্রণে নেন জামিল। বিভিন্ন ডিপোতে কর্মরত থাকাকালীন তাঁর সীমাহীন দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নিজ এলাকায় বানিয়েছেন আলিশান বাড়ি।সূত্র মতে, বিগত সরকারের সময়ে বরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপোসহ যেখানেই জামিল হোসেনের পোস্টিং হয়েছে, সেখানেই তিনি জড়িয়েছেন নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে। বিভিন্ন বাস ডিপোতে থাকাকালীন গাড়ি মেরামতের নামে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে লাখ লাখ টাকা পকেটস্থ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস থেকে ট্রিপ প্রতি ১০০০ টাকা করে অবৈধ চাঁদা আদায় এবং এসি বাসের যাত্রীদের জন্য ইন্টারনেট ওয়াইফাই সুবিধা চালু না করেই ভুয়া বিল তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করতেন তিনি।বরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপোর ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় জামিল হোসেন ডিপোর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের করে সরকারি তহবিলের কয়েক লাখ টাকা পকেটে নেন। তাঁর এই নানামুখী বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির কারণে গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর বরিশাল বাস ডিপো থেকে তাঁকে গোপালগঞ্জের বাগডিভূতে বদলি করা হয়েছিল।ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি উঠলেও, জামিল হোসেন তাঁর অবৈধ উপায়ে অর্জিত কালো টাকা দিয়ে ঢাকা হেড অফিসের একটি চক্রকে ম্যানেজ করে চট্টগ্রামের মতো লাভজনক ডিপো বাগিয়ে নেওয়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে বিআরটিসির সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে।এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডিপো ম্যানেজার জামিল হোসেনকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
১ মাস ২৬ দিন আগে
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে চলে হাজারো নিষিদ্ধ যানবাহন। সড়কটির শাহ আমানত ব্রিজ ও কর্ণফুলী মইজ্জ্যারটেকে গেলে মিলে হাজারো অবৈধ লোকাল সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত যানবাহন। যাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে গিয়ে চরম বিপাকে কর্ণফুলী মইজ্জ্যারটেক ট্রাফিক বক্সের টিআই আবু সাঈদ বাকার। কারণ অবৈধ এসব সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত যানবাহন দাপিয়ে চলার মুলে রয়েছে বিশেষ এক টোকেন। যেগুলো নিয়ন্ত্রণ করে স্থানীয়ভাবে গড়ে উঠা সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিক্সা সমিতির নেতারা। যাদের মাথার ওপর ছায়া হয়ে রয়েছে কর্ণফুলী মইজ্জ্যারটেক ট্রাফিক বক্সে দায়িত্বরত সার্জনরা। এদের অন্যতম হচ্ছেন সার্জন ওবাইদুল, সার্জন মোহিত মিঠু ও সার্জন রিয়াজ। যারা টোকেন বানিজ্য তদারকির জন্য রোহিঙ্গা খোরশেদ, রাসেল, ইউসুপ, ইউনুস, আনোয়ার, সাকিব ও মহিউদ্দিনসহ কয়েকজনকে দালাল হিসেবে পোষেন। একাধিক মামলার আসামি এসব অপরাধির সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেট টোকেনের বিনিময়ে সুনির্দিষ্ট অর্থের চুক্তিতে হাজার হাজার নিষিদ্ধ যানবাহনকে মহাসড়কে নির্বিঘ্নে চলাচলের ‘পাস’ দিচ্ছে। যেখান থেকে প্রতিমাসে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সিন্ডিকেট চক্র। আর এর চূড়ান্ত খেসারত দিচ্ছে যাত্রী সাধারণ। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করতে ১৯ জুলাই রবিবার সকাল থেকে শেষ দুপুর পর্যন্ত অনুসন্ধান চালান দৈনিক ঈশানের এই প্রতিবেদক। অনুসন্ধানে মইজ্জ্যারটেক মোড়ে গ্রাম গাড়ি হিসেবে খ্যাত বাঁশখালী থেকে আসা সিএনজি অটোরিকশা চালক মুজিবুর রহমানের সাথে কথা হয়। এ সময় সিএনজি অটোরিকশার কাগজপত্র আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, না-সেল রিসিট ছাড়া কোন কাগজপত্র নেই। শুধু আমার নয়, গ্রাম গাড়ির কোনটার নেই। ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কি না জানতে চাইলে, সহজ উত্তর-নাই। তাহলে গাড়ি চালান কেমনে-প্রশ্ন করা হলে বলেন, ‘টোকেন’ নিয়ে গাড়ি চালায়। টোকেন নিতে কত টাকা দেন-জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিমাসে ৮০০ টাকা। এছাড়া প্রতি টিউবে সমিতি নেয় ২০ টাকা। একই কথা বলেছেন সিএনজি চালক মশিউর, জাবের, কাদেরসহ আরও কয়েকজনে। তাদের অভিযোগ, টোকেন নিয়ে আগে শান্তিতে গাড়ি চালালেও এখন তা আর পারছি না, নানা উছিলায় গাড়ি ধরে নিয়ে গিয়ে হয় মামলা দিচ্ছে, না হয় প্রতি গাড়ি থেকে ৩-৪ হাজার টাকা নিয়ে ছেড়ে দিচ্ছে। আর এসব টাকা নাকি নতুন টিআইয়ের জন্য। নতুন টিআই (ট্রাফিক ইনেসপেক্টর) নাকি অনেক গরম এবং সৎ, অবৈধ গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা না দিলে সার্জনদের চাকরি থাকবে না। একই কথা বলেছেন মইজ্জ্যারটেক সিএনজি অটোরিকশা চালক সমিতির সেক্রেটারি মো. সেলিম। তিনি বলেন, ট্রাফিক বক্সে আগের টিআই আরিফ স্যার যখন ছিলেন, তখন এমন পরিস্থিতি হয়নি। টোকেন নিয়ে ড্রাইভাররা শান্তিতে গাড়ি চালিয়েছেন। কিন্তু নতুন টিআই আবু সাঈদ বাকার স্যার আসার পর তিনি অবৈধ গাড়ি পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। আর এ সুযোগে গাড়ি ধরে সার্জন ওবাইদুল, সার্জন মোহিত মিঠু ও সার্জন রিয়াজ হাজার হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। কিন্তু জানতে পারলাম, সার্জনরা নতুন টিআই স্যারকে বেচে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিলেও তিনি তা জানেন না। তবে বিষয়টি স্যারকে আমরা জানিয়েছি। একই অভিযোগ করেন ব্যাটারিচালিত রিক্সা সমিতির নেতারাও। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভিন্নমত পোষণ করেন মইজ্জ্যারটেক ট্রাফিক বক্সে কর্মরত একাধিক সার্জেন্ট। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে তারা বলেন, আমরা যখন মহাসড়কে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো অবৈধ সিএনজি বা ফিটনেসবিহীন গাড়ি ধরে মামলা দেওয়ার জন্য বক্সে নিয়ে আসি, তখন টিআই আবু সাঈদ বাকার স্যার আমাদের ওপর চড়াও হন। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা বা প্রভাবশালীদের ‘ফোনকল’ এসেছে বলে গাড়িগুলো ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। আমরা আইনি দায়িত্ব পালন করতে চাইলে উল্টো আমাদের তিরস্কার ও প্রশাসনিক হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে।আর এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কর্ণফুলী মইজ্জ্যারটেক ট্রাফিক বক্সের টিআই আবু সাঈদ বাকার বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, পেকুয়া, মগনামা ও বদরখালীসহ স্থানীয়ভাবে প্রতিদিন আনুমানিক চার-পাঁচ হাজার অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের মইজ্জ্যারটেক থেকে চলাচল করে। সেই সাথে অন্তত আর ২ হাজার ব্যাটরিচালিত রিকশা রয়েছে। যেগুলোর বৈধ কোন কাগজপত্র নেই, নেই কোন রুট পারমিট। এগুলো পরিচালনার জন্য স্টেশনে-স্টেশনে, মোড়ে-মোড়ে নানা নামে বহু সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছে। যেগুলোর সাথে রাজনৈতিক যোগসুত্র রয়েছে। ফলে সংগঠনের নেতারা ট্রাফিক প্রশাসনের উপর প্রভাব বিস্তার করে। যাদের সাথে আমাদের কিছু লোকজনও মিলে মিশে রয়েছে। রয়েছে চিহ্নিত দালাল চক্রও। যারা বিগত সময়ে বিশেষ টোকেনের মাধ্যমে অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত গাড়ি চলাচলের সুযোগ করে নেয়। কিন্তু আমি এখানে আসার পর থেকে সেই টোকেন বন্ধ করে দিয়েছি। এখন অবৈধ গাড়ি জব্দ করে সেগুলো ডাম্পিংয়ে পাঠাচ্ছি। এখানে এখন কোন টোকেন নেই। ট্রাফিক সার্জনদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার জানামতে এমন ঘটনা ঘটেনি। যদিও চালকদের কেউ কেউ বিষয়টি আমাকে বলেছেন। বিষয়টি ইতোমধ্যে আমার উর্ধ্বতন স্যারকে অবহিত করেছি। আশা করি এ সমস্যা দ্রুত সমাধান হবে। আক্ষেপ করে টিআই আবু সাঈদ বাকার বলেন, এলাকা ভেদে এমনিতেই ট্রাফিক পুলিশ সদস্য কম। অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা আটক করতে গিয়ে এখানে অনেক ট্রাফিক বনস্টেবল ও সার্জন চালকদের হামলার শিকার হয়েছে। চালকদের সিন্ডিকেট এতই শক্তিশালী যে, স্বল্প জনবল নিয়ে তাদের মোকাবেলা করা কঠিন। সব মিলিয়ে তিনি চরম বেকায়দায় রয়েছেন বলে জানান। তবে টিআই আবু সাঈদ বাকারের ভিন্ন তথ্য মিলেছে অনুসন্ধানে। খোদ চালকরা জানান, সাধারণ রুটে প্রতিমাসে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, গুরুত্বপূর্ণ ও দূরপাল্লার রুটে প্রতিমাসে ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা দিয়ে চলছে হাজার হাজার অবৈধ গ্রামীণ সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা। ছোট একটা কাগজের টুকরোয় বিশেষ সাংকেতিক চিহ্ন দেয়। চালকরা এই টোকেন দেখালেই সসম্মানে গাড়ি ছেড়ে দেন ট্রাফিক পুলিশ বা সার্জনরা। কোনো চালকের কাছে যদি এই টোকেন না থাকে মুহূর্তের মধ্যে তার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেওয়া হয় কিংবা গাড়ি আটকে হয়রানি করা হয়। মইজ্জ্যারটেক ট্রাফিক বক্সের এই টোকেন বাণিজ্যের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ এতটাই শক্তিশালী যে প্রশাসনিক রদবদলও এই সিন্ডিকেটের চাকা থামে না। এই চক্রের মাঠপর্যায়ের মূল মাস্টারমাইন্ড বা সমীকরণ পরিচালনাকারী হিসেবে কাজ করছেন রোহিঙ্গা খোরশেদ, রাসেল, ইউসুপ, ইউনুস, আনোয়ার, সাকিব ও মহিউদ্দিনসহ কয়েকজন দালাল। বলতে গেলে তারাই ট্রাফিক সার্জন। এই সিন্ডিকেটের হাত শুধু লোকাল সিএনজিতেই সীমাবদ্ধ নেই। ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন মাঝারি ও দূরপাল্লার যাত্রীবাহী পরিবহন থেকেও নিয়মিত মাসোহারা বা মাসিক চাঁদা আদায় করে তারা। সৈয়দ নামের এক ব্যক্তির মধ্যস্থতায় বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানি থেকে প্রতি মাসে ১০,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত ট্রাফিক বক্সের নামে চাঁদা তোলা হয়। এমনকি রুট পারমিট ও বৈধ কাগজপত্রের তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে পরিচালিত দূরপাল্লার ‘ঈগল পরিবহন’ থেকেও প্রতি মাসে ‘চা-খরচ’ বা ‘লাইন খরচ’ নাম দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই টোকেন বাণিজ্যের আড়ালে দক্ষিণ চট্টগ্রামে সক্রিয় থাকা শত শত চোরাই সিএনজি অটোরিকশাও মহাসড়কে অবাধে বুক ফুলিয়ে চলাচল করছে। সিন্ডিকেটের টোকেন কেনা থাকলে সেই গাড়ির বৈধ কাগজপত্র আছে কি না, কিংবা সেটি চুরি হওয়া গাড়ি কি না, তা খতিয়ে দেখার কোনো প্রয়োজন মনে করে না দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ। এতে সড়ক নিরাপত্তা যেমন তলানিতে ঠেকেছে, তেমনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। চালকদের অভিমত, প্রতি মাসে টোকেন বাবদ এবং রাস্তায় প্রতিনিয়ত যে টাকা দিতে হয়, সেই ঘাটতি পোষাতে তারা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে বাধ্য হন। ফলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, পেকুয়া, মগনামা ও বদরখালীসহ বিভিন্ন এলাকার নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ, যারা জীবিকার প্রয়োজনে প্রতিদিন এই রুটে যাতায়াত করেন, তারা চরম অর্থনৈতিক শোষণের শিকার হচ্ছেন। মইজ্জ্যারটেক স্টেশন ও আশপাশের সংযোগ সড়কগুলো ঘুরে দেখা যায়, মহাসড়কের পাশে ট্রাফিক বক্স ঘিরে অবৈধভাবে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ড। মাঝেমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে লোকদেখানো উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবার পরিস্থিতি আগের রূপ ধারণ করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, টোকেন বা চুক্তির টাকা সময়মতো পৌঁছে গেলেই আবার রাস্তা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার (বন্দর) কবীর আহম্মেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মহাসড়কে কোনো ধরনের টোকেন বাণিজ্য বরদাশত করা হবে না। বর্তমানে টোকেন বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ এবং আমাদের টিম নিয়মিত অবৈধ গাড়ি জব্দ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও সিন্ডিকেটের কথা বলছেন তার সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। (বি: দ্র: সড়ক-মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন চলাচল নিয়ে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির বিষয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে দৈনিক ঈশান। প্রতিবেদন তৈরিতে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করার জন্য পাঠকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ রইল)
১ মাস ৩০ দিন আগে
আদালতের জব্দের নির্দেশের পরও সড়ক দাপিয়ে চলছে খন্দকার এনায়েত উল্লাহর মালিকানাধীন ‘এনা পরিবহন’। নির্দেশ অনুযায়ী ১৭৯টি বাস জব্দ করে বিআরটিসির জিম্মায় দেয়ার কথা থাকলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত জব্দ করতে পেরেছে মাত্র ৫টি বাস। এ বিষয়ে খন্দকার এনায়েত উল্লাহকে অনৈতিক সুবিধা দিতে বাস জব্দে গাফিলতির অভিযোগ তুলে গত নভেম্বরে দুদকে একটি স্মারকলিপি দিয়েছে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বলছে, আদালতের নির্দেশের এক বছর পার হয়ে গেছে। নির্দেশ বাস্তবায়নে গতি আনতে তারা আবারও আদালতের শরণাপন্ন হবেন।সূত্র মতে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত শুরু করে।এরপর গত বছরের মে মাসে আদালত এনা পরিবহনের ১৭৯টি বাস জব্দের নির্দেশ দেন। আদেশে বলা হয়, পুলিশ বাসগুলো জব্দ করে বিআরটিসির কাছে হস্তান্তর করবে এবং বিআরটিসি সেগুলো পরিচালনা করবে। তবে এক বছরেরও বেশি সময় পার হলেও অধিকাংশ বাস এখনো জব্দ হয়নি। বরং সেগুলো দিয়েই পরিবহনটি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে খন্দকার এনায়েত উল্লাহ। এতে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এনা পরিবহনের ডিপোতে গিয়ে দেখা গেছে, জব্দের তালিকায় থাকা বাসগুলো এখনও দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটে চলাচল করছে। যদিও ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে, তবে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী ও কক্সবাজার রুটে নিয়মিত চলছে এসব বাস।চালক ও শ্রমিকরা বলছেন, জব্দের আদেশের পর থেকে তারা নানা প্রশাসনিক জটিলতায় পড়েছেন। খুব অল্প টিকিট বিক্রি হচ্ছে। এতে কোম্পানির বড় ধরনের লোকসান হচ্ছে। একটি বাস চালাতে চালক, স্টাফ ও সুপারভাইজারসহ অনেক খরচ হয়। গাড়ির মালিকদের হয়তো খুব বেশি সমস্যা হয় না, কিন্তু শ্রমিকদের জীবিকাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।এনা ট্রান্সপোর্টের এজিএম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে মালিক সমিতির অভিযোগের কোনো সম্পর্ক নেই। বিআরটিসির কাছে বাস হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে রিটও করেছেন। এসব বাস ব্যাংক ঋণ নিয়ে কেনা হয়েছে। যদি ধারাবাহিকভাবে বাসগুলো আটক করা হয়, তাহলে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করা কোম্পানির জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পুলিশের। তবে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ বাসের অবস্থান খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ বেশিরভাগ বাসই এখন ঢাকার বাইরে চলাচল করছে। বাসগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাজধানীতে থাকে না, দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলাচল করে। চলন্ত অবস্থায় প্রতিটি বাসের ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর যাচাই করা তাৎক্ষণিকভাবে সবসময় সম্ভব হয় না। তবে এখন পর্যন্ত পাঁচটি বাস জব্দ করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে দূর্নীতি দমন কমিশনের পাবলিক প্রসিকিউটর খাদেমুল হক বলেন, অনেক সময় পার হয়ে গেছে। তাই কমিশনের পক্ষ থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবেদন করা হবে, যাতে আদালত পুলিশকে আবারও নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য স্মরণ করিয়ে দেন।
২ মাস ১ দিন আগে
মোবাইলে পাঠানো ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের জরিমানা পরিশোধের বার্তা ভুয়া। সাইবার দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে জাল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এমন প্রতারণার চেষ্টা করছে একটি চক্র। এসব বার্তায় থাকা লিংকে ক্লিক করলে ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার তীব্র ঝুঁকি রয়েছে। এ ধরনের সাইবার অপরাধের হাত থেকে রক্ষা পেতে সরকারি দপ্তরগুলোকে বিশেষভাবে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সম্প্রতি দেশের সব মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিবদের কাছে এ সংক্রান্ত জরুরি চিঠি পাঠিয়ে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।বিআরটিএ’র চিঠিতে বলা হয়, কতিপয় অসাধু ব্যক্তি বা চক্র বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে ‘ট্রাফিক জরিমানার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি বিজ্ঞপ্তি’, ‘স্পিডিং ফাইন বকেয়া রয়েছে, দ্রুত পরিশোধ করুন’, কিংবা ‘আপনার বকেয়া জরিমানা আছে’— এই ধরনের প্রতারণামূলক বার্তা মোবাইলে পাঠাচ্ছে।বার্তাগুলোর সঙ্গে ‘bsbrtcar-bdpay.sbs’, ‘bspbrtcar-govbd.online’, ‘bspbrtn-gov.cc’, ‘bspbrtcar-payfeebd.icu’, ‘bsp.brtagov.top’, ‘bsp.brta.vu/bd’, ‘bsp.brtas.vuwbd’, ‘bspbrtai-gov.cc’, ‘bsapqzc.lat’ কিংবা ‘bsp.brtas.cfd’- এর মতো বিভিন্ন ফিশিং লিংক পাঠানো হচ্ছে। এসব লিংক হুবহু বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল (বিএসপি)-এর আদলে তৈরি। তবে এসব জাল ওয়েবসাইট বা পোর্টালের সঙ্গে বিআরটিএর প্রকৃত সার্ভিস পোর্টালের লিংক (bsp.brta.gov.bd) কিংবা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই।এটিকে সম্পূর্ণ প্রতারণামূলক কার্যক্রম উল্লেখ করে চিঠিতে আরও বলা হয়, এই ধরনের সন্দেহজনক মোবাইল মেসেজের লিংকে ক্লিক না করা, কোনো ব্যক্তিগত তথ্য বা আর্থিক লেনদেন না করার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে এ ধরনের প্রতারক চক্রের বিষয়ে তথ্য পেলেই তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে (স্থানীয় থানা বা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট) অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হলো।বিআরটিএ’র নাম ব্যবহার করে এমন সুনির্দিষ্ট প্রতারণার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা। তিনি বলেন, ‘এটি কোনো সাধারণ বা নির্বিচার গণবার্তা (বাল্ক এসএমএস) নয়। যাদের মুঠোফোন নম্বরের সঙ্গে গাড়ির নিবন্ধন যুক্ত রয়েছে, মূলত তাদের কাছেই এই নিখুঁত বার্তাগুলো বেশি যাচ্ছে। এতে প্রাথমিকভাবে প্রতিয়মান হয় যে, এতে কোনো না কোনোভাবে বিআরটিএর লোকজন জড়িত। তা না হলে যানবাহন নিবন্ধন-সংক্রান্ত ডেটাবেজের তথ্য অপব্যবহার বা ফাঁস হলো কীভাবে? এ ঘটনার গভীর তদন্তে বিআরটিএর অটোমেশন সিস্টেম, সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান (ভেন্ডর) এবং পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কীভাবে বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারীর এই গোপন তথ্য প্রতারকদের হাতে পৌঁছাল, তা অবশ্যই তদন্তের মাধ্যমে বের করতে হবে।তানভীর হাসান জোহা আরও বলেন, ‘অনেকেই ফিশিংয়ের বিষয়টি বুঝতে না পেরে লিংকে গিয়ে টাকা দিয়েছেন, ক্রেডিট/ডেবিট কার্ডের তথ্য দিয়েছেন কিংবা বিভিন্ন মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। কিন্তু এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের পরও অনেক ক্ষেত্রে তদন্তের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায় না।’এই তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মনে করেন, বিআরটিএর তথ্যভান্ডার ও অনলাইন সেবাগুলোতে কোনো নিরাপত্তা দুর্বলতা (ভালনারেবিলিটি) রয়েছে কি না, সেটি অবিলম্বে পরীক্ষা করা জরুরি; কারণ নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার শতভাগ দায়িত্ব রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপরই বর্তায়।তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি কোনো তথ্য ফাঁস বা নিরাপত্তা দুর্বলতার ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তা দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে ঘটনার পেছনে জড়িত মূল চক্রকে আইনের আওতায় আনতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগে ফিশিং লিংক, ভুয়া ডোমেইন, অবৈধ পেমেন্ট গেটওয়ে এবং বার্তা প্রেরণকারী মূল উৎস শনাক্ত করা মোটেও অসম্ভব নয়।তানভীর হাসান জোহা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সাইবার সক্ষমতা এতটা দুর্বল নয় যে এসব ফিশিং চক্রের অবস্থান শনাক্ত করা যাবে না। সঠিক কারিগরি তদন্তের মাধ্যমে এসব প্রতারণার উৎস, সংশ্লিষ্ট সার্ভার এবং জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা সম্ভব। তা ছাড়া, সাইবার অপরাধ ঘটার পর সতর্কবার্তা দেওয়ার চেয়ে আগে থেকেই নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো বেশি কার্যকর। এতে সাধারণ মানুষ প্রতারণার ফাঁদে পড়ার ঝুঁকি থেকে বাঁচবে।’ একই সঙ্গে তিনি দেশের সর্বস্তরের নাগরিকদের অজানা বা সন্দেহজনক কোনো লিংকে ক্লিক না করার এবং ওটিপি (OTP), পাসওয়ার্ড, ব্যাংক কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পিন নম্বর কারও সঙ্গে শেয়ার না করার আহ্বান জানান।
৩ মাস ৮ দিন আগে
মাসুদ আলমকে চিনেন না এমন মানুষ মেলা ভার। ফ্যাসিস্ট সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের উক্তি-‘মাসুদ তুমি আর ভাল হইলা না’ নেট দুনিয়ায় এমন উক্তিই তাঁর পরিচিতির মূল কারণ। ২০১৭ সালের ১৮ জানুয়ারি বিআরটিএ মিরপুর কার্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে এই উক্তি করেছিলেন তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। পরিদর্শনে হাজারো অনিয়ম চোখে পড়ার পরও সেদিন বিআরটিএ মিরপুর কার্যালয়ে মাসুদ আলম সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর কাছে তদবির করছিলেন। ফলে এই মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের। তাতে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের চোখ ছানাবড়া হয়েে উঠে। এতো অনিয়ম-দূর্নীতির পরও ওবায়দুল কাদেরের উক্তিটি ছিল ঘনিষ্টজনদের মতো। পরে জানাও গেছে, মাসুদ আলমের সাথে অনেক আগে থেকেই ওবায়দুল কাদেরের বিশেষ সম্পর্ক ছিল। সে কারণে দেশ ছেড়ে পলায়নের আগে ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ মাসুদ আলম পান হাইব্রিড বদলি। দায়িত্ব পান বিআরটিএ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালকের (ইঞ্জি:) পদে। এই বদলি মাসুদ আলমের জন্য হয়ে উঠে একেবারে সোনায় সোহাগা। এরপর থেকে সোনার ডিম কুড়ানো শুরু হয় চট্টগ্রামসহ বিভাগের ১১ জেলায় থাকা বিআরটিএর কার্যালয় থেকে। অভিযোগ উঠেছে, যোগদানের পর থেকে এমন কোন দিন নেই চট্টগ্রামের বালুচরা এলাকায় অবস্থিত বিআরটিএ কার্যালয় থেকে ঘুষের ৫-৬ লাখ টাকা না নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন মাসুদ আলম। যা অদ্যাবধি অব্যাহত রয়েছে। একইভাবে বিআরটিএ চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপ-পরিচালক কে এম মাহবুব কবির (ইঞ্জি:) প্রতিদিন নিয়ে যান দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। সহকারি পরিচালক রায়হানা আক্তার উর্থী, সহকারি পরিচালক উথোয়াইনু চৌধুরী, সহকারি পরিচালক সিরাজুল ইসলামও পান ঘুষের টাকার ভাগ। এছাড়া লাইসেন্স শাখার পরিদর্শক মেহেদি হাসান, ফিটনেস শাখার পরিদর্শকসহ অফিস সহকারি থেকে সক্রিয় দালাল চক্রের সদস্যরা পর্যন্ত পান ঘুষের ভাগ। ফলে সংঘবদ্ধ চক্র গাড়ি চালক ও মালিকদের জিম্মী করে ঘুষের মহৌৎসব চালাচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল থেকে সরেজমিন বিআরটিএ, চট্টগ্রাম কার্যালয় পরিদর্শনে মিলেছে এর প্রমাণও। এ সময় লাইসেন্সের জন্য ফিঙ্গার প্রিন্ট দিতে আসা নগরীর পলিটেকনিক মোড় এলাকার বাসিন্দা সরওয়ার আলম বলেন, এক হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে ফিঙ্গার দিয়েছি। ঘুষ না দেওয়ার এর আগে তিনদিন তিনবার এসে ফেরত যেতে হয়েছে। লাইসেন্স করতে দিতে হয়েছে ২২ হাজার টাকা। অথচ সরকারি খরচ তার তিনভাগের একভাগও না। নগরীর চাঁদগাও আবাসিক এলাকার বাসিন্দা এমরান হোসেন জানান, তিনি নতুন একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে আসেন লাইসেন্স শাখায়। কিন্তু সেখানে কর্মরত একজন বলেন, সরকারি খরচ ১০ হাজার টাকা। এ টাকার বাইরে অফিস খরচসহ ২২ হাজার টাকা দিতে হবে। শেষে আমি যেখানে ড্রাইভিং শিখেছি, সেই প্রশিক্ষণ সেন্টারের শিক্ষককে ১৮ হাজার টাকা দিয়ে লাইসেন্স করে নিয়েছি। আমির হোসেন নামে অপর এক গ্রাহকের অভিযোগ, একটি ভারী লাইসেন্সের জন্য সরকার নির্ধারিত ফি ছাড়াও ১৫ হাজার টাকা ঘুষ গুণতে হয়েছে তার। কারণ ঘুষ ছাড়া কাজ হবে না, তাই হয়রানি এড়াতে টাকা দিয়ে নিবন্ধন করতে বাধ্য হই। ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে আসা ফারুক আহমেদের অভিযোগ, বিআরটিএ অফিসে ঘুষ ছাড়া গাড়ীর নতুন বা নবায়ন লাইসেন্স হয় না। তাও নিজে করতে গেলে পোহাতে হয় নানা বিড়ম্বনা। দ্বারস্থ হতে হয় দালালদের।সূত্র জানায়, নতুন লাইসেন্স ইস্যু করতে কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে চুক্তি করতে হয়। চুক্তি না হলে ফেল করানো হয়। মাসে ১৫টি বোর্ড বসে, প্রত্যেক বোর্ডে ১৬০ জনের ভাইবা হয়, তম্মধ্যে ১২০ থেকে ১৩০ জনকে পাশ করানো হয়। যারা পাশ করে প্রত্যেকেই মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়েই পাশ করতে হয়। এভাবে শুধুমাত্র লাইসেন্স শাখা থেকে প্রতি মাসে ঘুষ আসে এক কোটি টাকারও বেশি।লাইসেন্স প্রার্থীদের অভিযোগ, অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ১০ হাজার ও পেশাদারদের জন্য ১২ হাজার টাকা নিয়ে লাইসেন্স দিচ্ছে সংস্থাটি। এক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহণকারীদের কোনো ধরনের লিখিত বা ব্যবহারিক পরীক্ষা লাগছে না। অথচ বৈধভাবে লাইসেন্স পেতে বছরের পর বছর পরীক্ষা দিয়ে ১০ বছরেও লাইসেন্স না মেলার নজির রয়েছে। এতে করে গ্রাহক হয়রানি যেমন বাড়ছে তেমনি দিন দিন বেড়ে চলেছে অনাকাঙ্কিত সড়ক দূর্ঘটনা।ফিটনেস শাখাও যেন ঘুষের হাট। সেখানে ফিটনেস শতভাগ ঠিক থাকা সত্ত্বেও ঘুষ দিয়ে ফিটনেস সনদ নিতে হয়। এর মধ্যে সিএনজি ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা, ট্রাক ১৮০০ থেকে ২০০০, হিউম্যান হলার ৪ থেকে ৫ হাজার, ফোরস্ট্রোক থেকে ২৫০০ টাকা, বাস ও ট্রাক প্রতি ১০ হাজার টাকা ঘুষ আদায় করা হয়। এই ঘুষ আদায়ে যারা কাজ করে তারা বিআরটিএর স্থায়ী কোন স্টাফ নই। ওরা দালাল। গাড়ির ফিটনেস দেখে দালালরাই। ফিটনেস শাখায় ৫ জন ইন্সপেক্টর থাকলেও তারা গাড়ির ফিটনেস দেখেন না। দালালদের সাথে ঘুষসহ কথা ফাইনাল হলে তাদের সংকেত অনুযায়ী ফিটনেস সনদ প্রদান করা হয়। যদি কোন ব্যত্যয় হয় তাহলে চালক বা মালিকদের হয়রানি করা শুরু হয়। তখন ফিটনেস থাকলেও থাকে না। সনদ মিলবে না-এমন হুমকি সহ্য করতে হয়। একপর্যায়ে মোটা অঙ্কের মাশুল দিলে তারপর মিলে ফিটনেস সনদ। এক্ষেত্রে ডিমান্ড তখন ৫০ হাজার থেকে এক লাখ পর্যন্ত উঠে। অথচ ফিটনেস নেই, এমন গাড়িরও ফিটনেস সনদ মিলছে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে। সবকিছু নির্ভর করে দালালদের সংকেতের উপর। সম্প্রতি ফিটনেস বিহীন একটি গাড়ির ফিটনেস দিতে এক মালিক মোবাইল ফোনে কথা বলেন ফিটনেস শাখার অফিস সহকারি ও কম্পিউটার কাম মুদ্রাক্ষরিক মেহেদী ইকবালের সাথে। সেখানে কথোপকোথনে শুনা যায় এক লাখ টাকা দাবির বিষয়টি। যার অডিও সংরক্ষিত রয়েছে এই প্রতিবেদকের কাছে। এছাড়া রেজিস্ট্রেশন শাখায় মালিকানা পরিবর্তনের জন্য সরকার নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পরও গাড়ি প্রতি ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয় অফিস খরচ হিসেবে। এছাড়া নতুন বাস পারমিটের জন্যও দিতে হয় ১০ হাজার টাকা ঘুষ, নবায়নের ক্ষেত্রে ৩-৪ হাজার টাকা, ট্রাক প্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার, সিএনজি ১৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা ঘুষ আদায় করা হয়। আর ঘুষ দিতে না চাইলে মডেল আউট বলে হয়রানি করা হয়। বিআরটিএর তথ্যমতে, গত এপৃল মাসে ১১৮৫টি নতুন পারমিট দেয়া হয়েছে। যার প্রতিটি থেকে গড়ে ৩০০০ টাকা ঘুষ হিসাব করলে ওই মাসে এই খাতে ঘুষের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩৪ লাখ টাকা। এছাড়া নতুন রুট তৈরি করতে দিতে হয় ২ লাখ টাকা ঘুষ। এছাড়া মালিকানা বদলির ক্ষেত্রেও দিতে হয় টাকা। আর দুর্ঘটনার রিপোর্ট প্রদানকালে দিতে হয় বড় অংকের অর্থ। আর এসবই হয় অফিস খরচের নামে। আরও অভিযোগ করেছেন নগরীর চকবাজার এলাকার বাসিন্দা লেগুনা চালক আবু তাহের এবং স্টিল মিল এলাকার সিএনজি চালক এরশাদ হোসেন, অলংকার এলাকার প্রাইভেট কার চালক জহির উদ্দিন, সদরঘাট থানাধীন মাঝিরঘাট এলাকার বাসিন্দা আবুল কাসেমসহ অসংখ্য ভুক্তভোগী।ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, বিআরটিএর গ্রাহক সেবা ঠিকমতো দেয়ার জন্য কয়েকটি শাখায় ভাগ করা আছে। এর মধ্যে মোটরযান নিবন্ধনের আওতায় ৮টি সেকশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স এর আওতায় তিনটি, রুট পারমিট, মোটরযান ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন এর আওতায় একটি করে সেকশন রয়েছে। প্রত্যেকটা সেকশনে নির্ধারিত ঘুষ দিয়ে সেবা পেতে হয়। এ সুযোগে ঘুষের হাট বসিয়ে রেখেছেন বিআরটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বহিরাগত দালালরা। যার নেপথ্যে নায়ক মাসুদ আলম।ভুক্তভোগীরা বলেন, আমরা সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও আমাদের গাড়ির নাম্বার প্লেট ও যাবতীয় কাজের কোন সমাধান পাচ্ছি না, বরং যারা আমাদের পরে আসছেন তারা এই অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে এবং তাদেরকে আমাদের সামনেই ঘুষ দিয়ে তাদের কাজ আগেই হয়ে যাচ্ছে। তবে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান ও সাংবাদিকদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় কর্মকর্তারা সরাসরি টাকা গ্রহণ করেন না। সবকিছু দালালদের দিয়ে করান। সূত্র জানায়, ঘুষের টাকার ৫০% পান চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মাসুদ আলম, যার পরিমাণ মাসে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত। সে হিসেবে প্রতিদিন তিনি নিয়ে যান ৫-৬ লাখ টাকা। ২০% পান উপ-পরিচালক কে এম মাহবুব কবির। যার পরিমাণ মাসে ৬০-৭০ লাখ টাকা। সে হিসেবে তিনি প্রতিদিন পান ২ লাখ টাকারও বেশি। ১৫% পান সহকারি পরিচালক ও বাকি ১৫% পান পরিদর্শকরা। এছাড়া নামে-বেনামে বিল ভাউচার দিয়েও চলে সরকারি অর্থ আত্নসাৎ। এসব ঘুষের টাকা থেকে কর্মকর্তারা নামে বেনামে সম্পদের পাহাড় গড়ছেন। যা দুদক দ্বারা তদন্ত হলে থলের বেড়াল বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।নাম প্রকাশ না করা শর্তে সংস্থাটির সাথে সম্পৃক্ত কয়েকজন জানায়, চট্টগ্রাম বিআরটিএর কতিপয় অসৎ কর্মকর্তারা উপরমহলকে ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষের রাজত্ব কায়েম করছেন। গড়ে তুলেছেন ঘুয বাণিজ্যের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। তারা আক্ষেপের সুরে বলেন, জনরোষে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চট্টগ্রাম বিআরটিএ ছিল একচ্ছত্র ঘুষের হাট। সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর বিভিন্ন দপ্তরে ঘুষের কারবার অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসলেও বিআরটিএ, চট্টগ্রাম কার্যালয়ে তার কোন ছোঁয়া লাগেনি।ঘুষের বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিএ চট্টগ্রাম কার্যালয়ের লাইসেন্স শাখার পরিদর্শক মেহেদি হাসান বলেন, এখানে কোন কাজই তো নেই, অনিয়ম-ঘুষ বাণিজ্য চলবে কোথা থেকে। বিআরটিএতে আগে একসময় লাইসেন্স করানোর জন্য লাইন ধরত, এখন তার ছিটেফোটাও নেই। রাস্তায় গাড়িও কমে গেছে নাকি, এমন প্রশ্নে বিষয়টি এড়িয়ে তিনি বলেন, আপনি ক্ষেপে যাচ্ছেন কেন? এমন ছেলে মানুষি করলে তো আর সম্পর্ক হবে না। মেহেদি হাসান বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বিআরটিএ, চট্টগ্রামের সহকারি পরিচালক উথোয়াইনু চৌধুরীর কাছে। তিনি বলেন, এখানে কাজ যা হচ্ছে তার শতভাগ সঠিকভাবে হচ্ছে-এটা বললে যেমন সত্য বলা হবে না, তেমনি দুই-একটা ভুল হলেও সংখ্যানুপাতে সেটা বিবেচনা করা উচিত। সবকিছু এভাবে ধরাধরি না করে একটু স্বাভবিক হোন। আপনাকেও চলতে হবে, আমাদেরও চলতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভাই আমরা হলাম হিলের মানুষ। এত প্যাঁচ বুঝি না। আগে এই অনিয়ম-টনিয়ম কিছুই বুঝতাম না। এখানে এসে যখন এগুলো শুনেছি, তখন আমার কাছে কেমন কেমন লাগত, অবাক হতাম আমি। ফিটনেস শাখার অনিয়ম সম্পর্কে আলাপ করতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মোটরযান পরিদর্শক বলেন, এসব বিষয়ে সবকিছু আমাদের এডি স্যার জানেন। উনিই আমাদের নিয়ন্ত্রণকারী বস। উনি যেভাবে আমাদের কাজ করতে বলেন, আমরা সেভাবে করছি। এ বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামে মেট্রো সার্কেল-২ এর উপ-পরিচালক কে এম মাহবুব কবিরের অফিস কক্ষে গেলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। এমনকি মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। মেসেজ অপশনে ক্ষুদে বার্তা লিখে প্রেরণ করা হলেও তিনি কোন উত্তর দেননি।একইভাবে অফিসে ছিলেন না বিআরটিএ, চট্টগ্রাম বিভাগের বিতর্কিত পরিচালক মো. মাসুদ আলমও। একাধিকবার ফোন করার পর কল রিসিভ করে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি দেখতেছি। আপনি আগামী রোববারে অফিসে আসুন। বসে কথা বলব। নিউজ-টিউজ এখন করিয়েন না। ওবায়দুল কাদেরের মাসুদ আলম এখন প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ট বন্ধু!সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতৃমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত বিআরটিএ, চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক (ইঞ্জি:) মাসুদ আলম। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাতারাতি রূপ পাল্টে তিনি হয়ে যান বিএনপির বড় শুভাকাঙ্খি। তিনি নাকি এখন প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ট বন্ধু। এই পরিচয়ে বিআরটিএতে এখন প্রভাব খাটান মাসুদ আলম। চাঞ্চল্যকর এই তথ্য জানিয়েছেন বিআরটিএ চট্টগ্রাম কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, মাসুদ আলম এখন বিএনপি নেতা। প্রধানমন্ত্রী নাকি তাঁর ঘনিষ্ট বন্ধু। তাঁকে নাকি পদোন্নতি দিয়ে ঢাকায় নিয়ে যেতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু তিনি যাচ্ছেন না। বিআরটিএ চট্টগ্রাম কার্যালয়ে অফিসিয়াল মিটিংয়ে এসব কথা বলেন মাসুদ আলম। ওই কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, মাসুদ আলম বিএনপি সরকারের লোকজনকে হয়তো বলেছেন তিনি আওয়ামী লীগ করেন না, এ কারণে ওবায়দুল কাদের তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করে এমন কটুক্তি করেছেন। এই কথা বলে তিনি বিএনপির মধ্যে ঢুকে গেছেন। অথচ গত ১৭ বছর তিনি আওয়ামী লীগের দোসর ছিলেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিক একই কথা বলেন মাসুদ আলম। তিনি প্রশ্ন রাখেন, আমি ওবায়দুল কাদেরের প্রিয় হলে কি এমন কটুক্তি করতেন? উল্লেখ্য, মাসুদ আলমকে উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, মাসুদ তুমি আর ভাল হইলা না? ভালো হয়ে যাও মাসুদ, ভালো হয়ে যাও। তোমাকে আমি অনেক সময় দিয়েছি, তুমি ভালো হয়ে যাও। তুমি কি এখানে আবার পুরানো খেলা শুরু করেছো? তুমি কি কোনোদিনও ভালো হবে না?মূলত গ্রাহকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী সেদিন তাকে সতর্ক করেছিলেন। এরপর মন্ত্রীর সেই কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে মাসুদ আলমকে নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। (বি:দ্র :- বিআরটিএ, চট্টগ্রাম কার্যালয়ের ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে প্রথম পর্ব প্রকাশিত হলো। দ্বিতীয় পর্বে আসছে দালাল চক্রের সদস্যদের ছবিসহ প্রতিবেদন। পর্যায়ক্রমে কর্মকর্তাদের অঢেল সম্পদ নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। প্রিয় পাঠক চোখ রাখুন দৈনিক ঈশানে। সহযোগীতা করুন অনিয়ম ও দূর্নীতির তথ্য দিয়ে)
৪ মাস ৪ দিন আগে
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। পৃথিবীর দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত-এ যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন বিদেশী নাগরিকসহ দেশের ৬৪টি জেলার লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াত এই মহাসড়কে। তবে এ পথে যাত্রীদের কাছে এখন আতঙ্কের নাম 'মারছা' পরিবহনের গাড়ি। বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের কারণে অনেকেই এই গাড়িগুলোকে 'আজরাইলের ছায়া' হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। গত শনিবার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি এলাকায় মারছা পরিবহনের দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা যেন তারই প্রমাণ মেলে। এ ঘটনায় আহত হন আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী। দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মারছা পরিবহন বয়কটের আহ্বান জানিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেন অনেকে। দুর্ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ফোর সিজন রেস্টুরেন্টের সামনে মারছা পরিবহনের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় জনতা। আরিফুর রহমান নামে এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'মারছা গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো কি প্রশাসন দেশে নেই?' মহাসড়কে চলাচলকারী এসব গাড়ি বন্ধে এলাকাবাসীর প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।মো. ইলিয়াছ নামে এক ব্যক্তি বলেন, দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে চালকরা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালান। অদক্ষ চালক ও অতিরিক্ত ওভারটেকিংয়ের কারণেই দুর্ঘটনা বাড়ছে। তাদের স্টাফদের আচরণও ভালো নয়। কাউন্টারে টিকিট আছে কি না জানতে চাইলে অনেক সময় শুনেও না শোনার ভান করে।আমীর হোসেন নামে একজন বলেন, অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে গাড়ি ছাড়ে না। টিকিট নেওয়ার পরও দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মারছা পরিবহনের কার্যক্রম বন্ধের দাবী জানিয়েছেন।এ বিষয়ে লোহাগাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, শনিবার মারছা পরিবহনের দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে রেহানা বেগম (৬০) নামের এক নারী ঘটনাস্থলেই মারা যান। তার বাড়ি পটিয়া উপজেলায়। গুরুতর আহত অবস্থায় নাঈমুদ্দিন, দীপ্ত দত্ত, নাইমুল ইসলাম ও মাসুম নামে চারজনকে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছিল। তাদের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলায়। আহতদের মধ্যে নাঈমুদ্দিন, নাইমুল ইসলাম ও মাসুম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দীপ্তকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান দোহাজারী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুস সাত্তার।পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, দুর্ঘটনায় পড়া বাস দুটি ছিল বিপরীতমুখী। লোহাগাড়ায় ফোর সিজনস হোটেলের সামনে চলন্ত বাস দুটি একেবারে রাস্তার মাঝামাঝিতে চলে আসে। সাইড নিতে গিয়ে একটির সঙ্গে আরেকটির দুই পাশের সংঘর্ষ হয়।এতে পূর্ব পাশের বাস রাস্তার পাশে একটি মুদি দোকান ভেঙেচুরে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে থেমে যায়। অন্য বাসটিও রাস্তার পশ্চিম পাশে গাছের সঙ্গে আটকে যায়। দুই বাসের সামনের অংশ একেবারে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের টিম গিয়ে বাসের ভেতর আটকে থাকা অবস্থায় পাঁচজনকে উদ্ধার করে।দোহাজারী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সালাহউদ্দিন চৌধুরী বলেন, শুধু মারছা পরিবহন নয়, যেকোনো গাড়ি যদি গতিসীমা লঙ্ঘন করে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা ফিটনেস না থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশের প্রধান শাহীনুর আলম খাঁনের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি।বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সাধারণ স¤পাদক মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, এখানে গাড়ির দোষ নয় ব্যবস্থাপনার দোষ। বেপরোয়া গতির দায়ে চালকের দোষ হতে পারে। তবে মহাসড়কটি ৬ লাইনে উন্নিতি করা গেলে দুর্ঘটনা কমে আসবে। অভিযোগের বিষয়ে মারছা পরিবহনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. আলমগীরের বক্তব্য জানতে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি।
৪ মাস ৭ দিন আগে
ডিজেলের দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি পড়ল সড়কপথে যাত্রী পরিবহনে। প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা ভাড়া বাড়িয়ে নতুন হার নির্ধারণের পরই ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরসহ আন্তজেলা ও দূরপাল্লার বাস-মিনিবাসের নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। রবিবার (২৬ এপৃল) এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। তবে তালিকায় গত বৃহস্পতিবার থেকেই নতুন ভাড়া কার্যকর হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগরে ৫২ আসনের বাসে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৫৩ পয়সা করা হয়েছে। এই হারে কালুরঘাট ব্রিজ থেকে চট্টগ্রাম নিউমার্কেট পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার পথের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ টাকা। একই তালিকায় সর্বনিম্ন ১০ টাকা ভাড়ায় চকবাজার মসজিদ থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত যাতায়াত করা যাবে। কালুরঘাট ব্রিজ থেকে শরাফত পেট্রলপাম্প পর্যন্ত যেকোনো গন্তব্যেও সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।চট্টগ্রাম নিউমার্কেট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ১৮ দশমিক ৬ কিলোমিটার পথে সম্পূর্ণ যাত্রায় ভাড়া পড়বে ৪৭ টাকা। তবে এই রুটে নিউমার্কেট থেকে বাদামতলী পর্যন্ত সর্বনিম্ন ভাড়া রাখা হয়েছে ১০ টাকা। চট্টগ্রাম মহানগর থেকে বিভিন্ন উপজেলা ও জেলার পথে চলাচলকারী বাসগুলোর ক্ষেত্রেও একই হারে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তজেলা ও দূরপাল্লার বাসের ক্ষেত্রে ৫১ আসনের জন্য প্রতি কিলোমিটার ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২ টাকা ২৩ পয়সা। তবে যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য অনেক পরিবহন কোম্পানি বড় বাসে আসন সংখ্যা কমিয়ে ৪০-এ নামিয়ে চালায়, সে ক্ষেত্রে ভাড়া বাড়তি দিতে হবে। দূরপাল্লার পথে ফেরি ও সেতুর টোল থাকলে সেটিও ভাড়ার সঙ্গে যুক্ত হবে। চট্টগ্রাম থেকে ফেনী হয়ে সোনাপুর পর্যন্ত ১৪৭ কিলোমিটার পথে ৫১ আসনের বাসের ভাড়া ৩২৮ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৪১৮ টাকা দিতে হবে। চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত ১৫৪ কিলোমিটার দূরত্বে ৫১ আসনের বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪৩ টাকা, আর ৪০ আসনের বাসে তা ৪৩৭ টাকা।ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে চট্টগ্রাম রুটে ৫১ আসনের বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০৪ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৫৫২ টাকা। নতুন ভাড়া কাঠামো অনুযায়ী, এই রুটে টোল বাবদ অতিরিক্ত ৪৫০ টাকা যোগ হবে। কক্সবাজার রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৯০০ টাকা ও ৪০ আসনের বাসে ১ হাজার ১৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। টেকনাফ রুটে ৫১ আসনের বাসে ১ হাজার ৪৭ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ১ হাজার ৩৩৫ টাকা ভাড়া ধার্য করা হয়েছে। এ ভাড়া শুধুমাত্র ডিজেল চালিত পরিবহনের জন্য কার্যকর হবে। গ্যাসচালিত বাসে বাড়তি ভাড়া নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানান, গ্যাসের দাম না বাড়ায় গ্যাসচালিত কোনো যানবাহনের ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ নেই। গ্যাসচালিত যানবাহনে আগের মতোই ভাড়া নিতে হবে। বেশি ভাড়া নেওয়া বা কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৪ মাস ২৩ দিন আগে
