মাসুদ আলমকে চিনেন না এমন মানুষ মেলা ভার। ফ্যাসিস্ট সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের উক্তি-‘মাসুদ তুমি আর ভাল হইলা না’ নেট দুনিয়ায় এমন সেরা উক্তিই তাঁর পরিচিতির মূল কারণ। ২০১৭ সালের ১৮ জানুয়ারি বিআরটিএ মিরপুর কার্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে এই উক্তি করেছিলেন তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।
পরিদর্শেনে হাজারো অনিয়ম চোখে পড়ার পরও সেদিন বিআরটিএ মিরপুর কার্যালয়ে মাসুদ আলম সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর কাছে তদবির করেছিলেন। ফলে এই মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের। তাতে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। এতো অনিয়ম-দূর্নীতির পরও ওবায়দুল কাদেরের উক্তি ছিল আন্তরিকতায় পূর্ণ। পরে জানা গেছে, মাসুদ আলমের সাথে অনেক আগে থেকেই ওবায়দুল কাদেরের বিশেষ সম্পর্ক ছিল।
সে কারণে দেশ ছেড়ে পলায়নের আগে ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ মাসুদ আলম পান হাইব্রিড বদলি। দায়িত্ব পান বিআরটিএ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালকের (ইঞ্জিনিয়ারিং) পদে। এই বদলি মাসুদ আলমের জন্য একেবারে সোনায় সোহাগা। এরপর থেকে সোনার ডিম কুড়ানো শুরু হয় চট্টগ্রামসহ বিভাগের ১১ জেলায় থাকা বিআরটিএর কার্যালয় থেকে।
অভিযোগ উঠেছে, যোগদানের পর থেকে এমন কোন দিন নেই চট্টগ্রামের বালুচরা এলাকায় অবস্থিত বিআরটিএ কার্যালয় থেকে ঘুষের ৫-৬ লাখ টাকা না নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। যা অদ্যাবধি অব্যাহত রয়েছে। একইভাবে বিআরটিএ চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপ-পরিচালক কে এম মাহবুব করিম (ইঞ্জি:) প্রতিদিন পান দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। সহকারি পরিচালক রায়হানা আক্তার উর্থী, সহকারি পরিচালক উথোয়াইনু চৌধুরী, সহকারি পরিচালক সিরাজুল ইসলামও পান ঘুষের টাকার ভাগ।
এছাড়া লাইসেন্স শাখার পরিদর্শক মেহেদি হাসান, ফিটনেস শাখার পরিদর্শকসহ অফিস সহকারি থেকে সক্রিয় দালাল চক্রের সদস্যরা পর্যন্ত পান ঘুষের ভাগ। ফলে সংঘবদ্ধ চক্র গাড়ি চালক ও মালিকদের জিম্মী করে ঘুষের মহৌৎসব চালাচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল থেকে সরেজমিন বিআরটিএ, চট্টগ্রাম কার্যালয় পরিদর্শনে মিলেছে এর প্রমাণও। এ সময় লাইসেন্সের জন্য ফিঙ্গার প্রিন্ট দিতে আসা নগরীর পলিটেকনিক মোড় এলাকার বাসিন্দা সরওয়ার আলম বলেন, এক হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে ফিঙ্গার দিয়েছি। ঘুষ না দেওয়ার এর আগে তিনদিন তিনবার এসে ফেরত যেতে হয়েছে। লাইসেন্স করতে দিতে হয়েছে ২২ হাজার টাকা। অথচ সরকারি খরচ তার তিনভাগের একভাগও না।
নগরীর চাঁদগাও আবাসিক এলাকার বাসিন্দা এমরান হোসেন জানান, তিনি নতুন একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে আসেন লাইসেন্স শাখায়। কিন্তু সেখানে কাজ করা একজন লোক বলেন, সরকারি খরচ ১০ হাজার টাকা। এ টাকার বাইরে অফিস খরচসহ ২২ হাজার টাকা দিতে হবে। শেষে আমি যেখানে ড্রাইভিং শিখেছি, সেই প্রশিক্ষণ সেন্টারের শিক্ষককে ১৮ হাজার টাকা দিয়ে লাইসেন্স করে নিয়েছি।
আমির হোসেন নামে অপর এক গ্রাহকের অভিযোগ, একটি ভারী লাইসেন্সের জন্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা ঘুষ গুণতে হয়েছে তার। কারণ ঘুষ ছাড়া কাজ হবে না, তাই হয়রানী এড়াতে টাকা দিয়ে নিবন্ধন করতে বাধ্য হই। ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে আসা ফারুক আহমেদের অভিযোগ, বিআরটিএ অফিসে ঘুষ ছাড়া গাড়ীর নতুন বা নবায়ন লাইসেন্স হয় না। তাও নিজে করতে গেলে পোহাতে হয় নানা বিড়ম্বনা। দ্বারস্থ হতে হয় দালালদের।
সূত্র জানায়, নতুন লাইসেন্স ইস্যু করতে কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে চুক্তি করতে হয়। চুক্তি না হলে ফেল করানো হয়। মাসে ১৫ টি বোর্ড বসে, প্রত্যেক বোর্ডে ১৬০ জনের ভাইবা হয়, তম্মধ্যে ১২০-১৩০ জনকে পাশ করানো হয়। যারা পাশ করে প্রত্যেকেই মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে পাশ করতে হয়। এভাবে শুধুমাত্র লাইসেন্স শাখা থেকে প্রতি মাসে ঘুষ আসে এক কোটি টাকারও বেশি।
লাইসেন্স প্রার্থীদের অভিযোগ, অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ১০ হাজার ও পেশাদারদের জন্য ১২ হাজার টাকা নিয়ে লাইসেন্স দিচ্ছে সংস্থাটি। এক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহণকারীদের কোনো ধরনের লিখিত বা ব্যবহারিক পরীক্ষা লাগছে না। অথচ বৈধভাবে লাইসেন্স পেতে বছরের পর বছর পরীক্ষা দিয়ে ১০ বছরেও লাইসেন্স না মেলার নজির রয়েছে। এতে করে গ্রাহক হয়রানি যেমন বাড়ছে তেমনি দিন দিন বেড়ে চলেছে অনাকাঙ্কিত সড়ক দূর্ঘটনা।
ফিটনেস শাখাও যেন ঘুষের হাট। সেখানে ফিটনেস শতভাগ ঠিক থাকা সত্ত্বেও ঘুষ দিয়ে ফিটনেস সনদ নিতে হয়। এর মধ্যে সিএনজি ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা, ট্রাক ১৮০০ থেকে ২০০০, হিউম্যান হলার ৪ থেকে ৫ হাজার, ফোরস্ট্রোক থেকে ২৫০০ টাকা, বাস ও ট্রাক প্রতি ১০ হাজার টাকা ঘুষ আদায় করা হয়। এই ঘুষ আদায়ে যারা কাজ করে তারাও বিআরটিএর স্থায়ী কোন স্টাফ নই। ওরা দালাল। গাড়ির ফিটনেস দেখে দালালরাই।
ফিটনেস শাখায় ৫ জন ইন্সপেক্টর থাকলেও তারা গাড়ির ফিটনেস দেখে না। দালালদের সাথে ঘুষসহ কথা ফাইনাল হলে তাদের সংকেত অনুযায়ী ফিটনেস সনদ প্রদান করে। যদি কোন ব্যত্যয় হয় তাহলে চালক বা মালিকদের হয়রানি করা শুরু হয়। তখন ফিটনেস থাকলেও থাকে না। সনদ মিলবে না-এমন হুমকি সহ্য করতে হয়। একপর্যায়ে মোটা অঙ্কের মাশুল দিলে তারপর মিলে ফিটনেস সনদ। এক্ষেত্রে ডিমান্ড তখন ৫০ হাজার থেকে এক লাখ পর্যন্ত উঠে।
অথচ ফিটনেস নেই, এমন গাড়িরও ফিটনেস সনদ মিলছে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে। সবকিছু নির্ভর করে দালালদের সংকেতের উপর। সম্প্রতি ফিটনেস বিহীন একটি গাড়ির ফিটনেস দিতে এক মালিক মোবাইল ফোনে কথা বলেন ফিটনেস শাখার অফিস সহকারি ও কম্পিউটার কাম মুদ্রাক্ষরিক মেহেদী ইকবালের সাথে। সেখানে কথোপকোথনে শুনা যায় এক লাখ টাকা দাবির বিষয়টি। যার অডিও সংরক্ষিত রয়েছে এই প্রতিবেদকের কাছে।
এছাড়া রেজিস্ট্রেশন শাখায় মালিকানা পরিবর্তনের জন্য সরকার নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পরও গাড়ি প্রতি ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয় অফিস খরচ হিসেবে। এছাড়া নতুন বাস পারমিটের জন্যও দিতে হয় ১০ হাজার টাকা ঘুষ, নবায়নের ক্ষেত্রে ৩-৪ হাজার টাকা, ট্রাক প্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার, সিএনজি ১৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা ঘুষ আদায় করা হয়। আর ঘুষ দিতে না চাইলে মডেল আউট বলে হয়রানি করা হয়।
বিআরটিএর তথ্যমতে, গত এপৃল মাসে ১১৮৫টি নতুন পারমিট দেয়া হয়েছে। যার প্রতিটি গড়ে ৩০০০ টাকা হিসাব করলে ওই মাসে এই খাতে ঘুষের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩৪ লাখ টাকা। এছাড়া নতুন রুট তৈরি করতে দিতে হয় ২ লাখ টাকা ঘুষ। এছাড়া মালিকানা বদলির ক্ষেত্রেও টাকা। আর দুর্ঘটনার রিপোর্ট প্রদানকালে দিতে হয় বড় অংকের অর্থ। আর এসবই হয় অফিস খরচের নামে।
আরও অভিযোগ করেছেন নগরীর চকবাজার এলাকার বাসিন্দা লেগুনা চালক আবু তাহের এবং স্টিল মিল এলাকার সিএনজি চালক এরশাদ হোসেন, অলংকার এলাকার প্রাইভেট কার চালক জহির উদ্দিন, সদরঘাট থানাধীন মাঝিরঘাট এলাকার বাসিন্দা কাসেমসহ অসংখ্য ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, বিআরটিএর গ্রাহক সেবা ঠিকমতো দেয়ার জন্য কয়েকটি শাখায় ভাগ করা আছে। এর মধ্যে মোটরযান নিবন্ধনের আওতায় ৮টি সেকশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স এর আওতায় তিনটি, রুট পারমিট, মোটরযান ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন এর আওতায় একটি করে সেকশন রয়েছে। প্রত্যেকটা সেকশনে নির্ধারিত ঘুষ দিয়ে সেবা পেতে হয়। এ সুযোগে ঘুষের হাট বসিয়ে রেখেছেন বিআরটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বহিরাগত দালালরা।
ভুক্তভোগীরা বলেন, আমরা সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও আমাদের গাড়ির নাম্বার প্লেট ও যাবতীয় কাজের কোন সমাধান পাচ্ছি না, বরং যারা আমাদের পরে আসছেন তারা এই অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে এবং তাদেরকে আমাদের সামনেই ঘুষ দিয়ে তাদের কাজ আগেই হয়ে যাচ্ছে। তবে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান ও সাংবাদিকদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় কর্মকর্তারা সরাসরি টাকা গ্রহণ করেন না। সবকিছু দালালদের দিয়ে করান।
সূত্র জানায়, ঘুষের টাকার ৫০% পান চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মাসুদ আলম, যার পরিমাণ মাসে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত। সে হিসেবে প্রতিদিন তিনি নিয়ে যান ৫-৬ লাখ টাকা। ২০% পান উপ-পরিচালক কে এম মাহবুব আলম। যার পরিমাণ মাসে ৬০-৭০ লাখ টাকা। সে হিসেবে তিনি প্রতিদিন পান ২ লাখ টাকারও বেশি। ১৫% পান সহকারি পরিচালক ও বাকি ১৫% পান পরিদর্শকরা। এছাড়া নামে-বেনামে বিল ভাউচার দিয়েও চলে সরকারি অর্থ আত্নসাৎ। এসব ঘুষের টাকা থেকে কর্মকর্তারা নামে বেনামে স¤পদের পাহাড় গড়ছেন। যা দুদক দ্বারা তদন্ত হলে থলের বেড়াল বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে সংস্থাটির সাথে স¤পৃক্ত কয়েকজন জানায়, চট্টগ্রাম বিআরটিএর কতিপয় অসৎ কর্মকর্তারা উপরমহলকে ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষের রাজত্ব কায়েম করছেন। গড়ে তুলেছেন ঘুয বাণিজ্যের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। তারা আক্ষেপের সুরে বলেন, জনরোষে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চট্টগ্রাম বিআরটিএ ছিল একচ্ছত্র ঘুষের হাট। সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর বিভিন্ন দপ্তরে ঘুষের কারবার অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসলেও বিআরটিএ, চট্টগ্রাম কার্যালয়ে তার কোন ছোঁয়া লাগেনি।
ঘুষের বিষয়ে জানতে চাইলে লাইসেন্স শাখার পরিদর্শক মেহেদি হাসান বলেন, এখানে কোন কাজই তো নেই, অনিয়ম-ঘুষ বাণিজ্য চলবে কোথা থেকে। বিআরটিএতে আগে একসময় লাইসেন্স করানোর জন্য লাইন ধরত, এখন তার ছিটেফো^ঁটাও নেই। রাস্তায় কি গাড়িও কমে গেছে নাকি, এমন প্রশ্নে বিষয়টি এড়িয়ে তিনি বলেন, আপনি ক্ষেপে যাচ্ছেন কেন? এমন ছেলে মানুষি করলে তো আর সম্পর্ক হবে না।
মেহেদি হাসান বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বিআরটিএ, চট্টগ্রামের সহকারি পরিচালক উথোয়াইনু চৌধুরীর কাছে। তিনি বলেন, এখানে কাজ যা হচ্ছে তার শতভাগ সঠিকভাবে হচ্ছে-এটা বললে যেমন সত্য বলা হবে না, তেমনি দুই-একটা ভুল হলেও সংখ্যানুপাতে সেটা বিবেচনা করা উচিত। সবকিছু এভাবে ধরাধরি না করে একটু স্বাভবিক হোন। আপনাকেও চলতে হবে, আমাদেরও চলতে হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভাই আমরা হলাম হিলের মানুষ। এত প্যাঁচগোচ বুঝি না। আগে এই অনিয়ম-টনিয়ম কিছুই বুঝতাম না। এখানে এসে যখন এগুলো শুনেছি, তখন আমার কাছে কেমন কেমন লাগত, অবাক হতাম আমি।
ফিটনেস শাখার অনিয়ম সম্পর্কে আলাপ করতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মোটরযান পরিদর্শক বলেন, এসব বিষয়ে সবকিছু আমাদের এডি স্যার জানেন। উনিই আমাদের নিয়ন্ত্রণকারী বস। উনি যেভাবে আমাদের কাজ করতে বলছেন, আমরা সেভাবে করছি।
এ বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামে মেট্রো সার্কেল-২ এর উপ-পরিচালক কে এম মাহবুব করিমের অফিস কক্ষে গেলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। এমনকি মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। মেসেজ অপশনে ক্ষুদে বার্তা লিখে প্রেরণ করা হলেও তিনি কোন উত্তর দেননি।
একইভাবে অফিসে ছিলেন না বিআরটিএ, চট্টগ্রাম বিভাগের আলোচিত পরিচালক মো. মাসুদ আলমও। একাধিকবার ফোন করার পর কল রিসিভ করে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি দেখতেছি। আপনি আগামি রোববারে অফিসে আসুন। বসে কথা হবে। আপনি নিউজ-্িটউজ করিয়েন না।
ওবায়দুল কাদেরের মাসুদ আলম এখন বিএনপির
সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতৃমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত বিআরটিএ, চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক (ইঞ্জি:) মাসুদ আলম। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাতারাতি রূপ পাল্টে তিনি হয়ে যান বিএনপির বড় শুভাকাঙ্খি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নাকি তাঁর বন্ধু।
এই পরিচয়েই বিআরটিএতে এখন প্রভাব খাটান মাসুদ আলম। চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য জানিয়েছেন বিআরটিএ চট্টগ্রাম কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, মাসুদ আলম এখন বিএনপি নেতা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নাকি তাঁর পূরনো বন্ধু। তাঁকে নাকি পদোন্নতি দিয়ে ঢাকায় নিয়ে যেতে চান প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু তিনি যাচ্ছেন না।
বিআরটিএ চট্টগ্রাম কার্যালয়ে অফিসিয়াল মিটিংয়ে এসব কথা বলেন মাসুদ আলম। ওই কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, মাসুদ আলম বিএনপি সরকারের লোকজনকে হয়তো বলেছেন তিনি আওয়ামী লীগ করেন না, এ কারণে ওবায়দুল কাদের তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এমন কটুক্তি করেছেন। এই কথা বলে তিনি বিএনপির মধ্যে ঢুকে গেছেন। অথচ গত ১৭ বছর তিনি আওয়ামী লীগের দোসর ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিক একই কথা বলেন মাসুদ আলম। তিনি প্রশ্ন রাখেন, আমি ওবায়দুল কাদেরের প্রিয় হলে কি এমন কটুক্তি করতেন?
উল্লেখ্য, মাসুদ আলমকে উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, মাসুদ আর ভাল হইলি না? ভালো হয়ে যাও মাসুদ, ভালো হয়ে যাও। তোমাকে আমি অনেক সময় দিয়েছি, তুমি ভালো হয়ে যাও। তুমি কি এখানে আবার পুরানো খেলা শুরু করেছো? তুমি কি কোনোদিনও ভালো হবে না?
মূলত গ্রাহকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী সেদিন তাকে সতর্ক করেছিলেন। এরপর মন্ত্রীর সেই কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে মাসুদ আলমকে নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
(বি:দ্র :- বিআরটিএ, চট্টগ্রাম কার্যালয়ের ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে প্রথম পর্ব প্রকাশিত হলো। দ্বিতীয় পর্ব আসছে দালাল চক্রের সদস্যদের ছবিসহ সচিত্র প্রতিবেদন। পর্যায়ক্রমে কর্মকর্তাদের অঢেল সম্পদ নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। প্রিয় পাঠক চোখ রাখুন দৈনিক ঈশানে)