ঈদুল আজহা সামনে রেখে আজ বুধবার থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে রেলওয়ে। প্রথম দিন মোট ৩১ হাজার ২৪০টি আসনের টিকিট বিক্রির জন্য অনলাইনে তোলা হয়। যা মাত্র আড়াই ঘন্টার মধ্যে বিক্রি শেষ হয়ে যায়।
আর এসব টিকিট ক্রয়ের জন্য প্রথম ৩০ মিনিটে মোট ৯৩ লাখ হিট পড়েছে সার্ভারে। এর মধ্যে প্রথম ৩০ মিনিটে পশ্চিমাঞ্চলের টিকিট সংগ্রহ করতে হিট পড়েছে ৬০ লাখ। আর দুপুর ২টায় বিক্রি শুরু হওয়া পূর্বাঞ্চলের টিকিট পেতে প্রথম ৩০ মিনিটে আরও ৩৩ লাখ হিট সার্ভারে যুক্ত হয়।
রেলওয়ের তথ্য বলছে, এবারের ঈদে মোট ৪৩টি ট্রেনে ৩১ হাজার ২৪০টি আসন রাখা হয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলে ১৫ হাজার ২৬৬টি এবং পূর্বাঞ্চলে ১৫ হাজার ৯৭৪টি আসন রয়েছে। রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের টিকিট বিক্রি শুরু হয় আজ বুধবার সকাল ৮টা থেকে। শুরু হওয়ার আড়াই ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যায় সব টিকিট। আধা ঘণ্টা পর অনলাইনে বিক্রির জন্য বাকি ছিল ৯১৩টি টিকিট। অর্থাৎ এই সময়ে পশ্চিমাঞ্চলে ৯৪ শতাংশ টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে যায়।
আর পূর্বাঞ্চলে প্রথম আধা ঘণ্টা পর বিক্রির জন্য বাকি ছিল ৩ হাজার ৬৬৬টি টিকিট। অর্থাৎ প্রথম ৩০ মিনিটে পূর্বাঞ্চলে বিক্রি হয় ৭৭ শতাংশ টিকিট। টিকিট বিক্রি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও হয়ে উঠে মুখর।
রেলের ফ্যান ফোরাম গ্রুপে টিকিট পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন অনেকেই, আবার কেউ টিকিট না পাওয়ার হতাশার কথাও জানিয়েছেন। এমনই একজন লিখেছেন, ঈদযাত্রার প্রথম দিনের টিকিট ৩ সেকেন্ডেই শেষ হয়ে গেল। আমি টিকিট পাইনি। কোন কোন ব্যক্তি টিকিট পাইলেন কমেন্ট বক্সে দেখতে চাচ্ছি।
রেলওয়ে বাণিজ্যিক বিভাগের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ঈদের সময় বরাবরের মতো এবারও দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের টিকিটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি ছিল। অনেকে দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও টিকিট পাননি অনলাইনে। তাদের ভাষ্য, চাহিদার তুলনায় আসন কম থাকায় সবাইকে টিকিট দেওয়া সম্ভব হয়নি।
রেলওয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিক্রি হবে ২৪ মে যাত্রার টিকিট। ঈদের অগ্রিম যাত্রার ক্ষেত্রে একজন যাত্রী একবারই টিকিট কিনতে পারবেন। তাও সর্বোচ্চ চারটি। আর অগ্রিম সংগ্রহ করা এসব টিকিট ফেরত দেওয়ার সুযোগ থাকছে না। দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট মিলবে। তবে সেটি বিক্রি শুরু হবে ট্রেন ছাড়ার দুই ঘণ্টা আগে।