চট্টগ্রাম মহানগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভার থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে চট্টগ্রামে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটিকে রাজনৈতিক হত্যা বলে দাবি করলেও পুলিশ বলছে আত্নহত্যা।
পুলিশের মতে, নিহত ব্যক্তির কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ এখন পর্যন্ত মেলেনি। তবে আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল সিদ্দিকী নিহত যুবককে সংগঠনটির মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক স¤পাদক কাউসার আহমেদ বলে নিশ্চিত করেছেন।
পাহাড়তলী থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক মাসুদুর রহমান বুধবার সকালে জানান, নিহত ব্যক্তি বিএসআরএম-এ নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন বলে পরিবারের কাছ থেকে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্নহত্যা বলেই ধারণা করছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, সোমবার (১১ মে) দিবাগত রাত ৩টার দিকে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাগরিকা ফ্লাইওভার থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পাহাড়তলী থানা পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
মঙ্গলবার (১২ মে) দিনগত রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আলাউদ্দিন এ তথ্য গণমাধ্যমকে জানান। একই সাথে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়, নিহত যুবক আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক স¤পাদক কাউসার আহমেদ। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
কিন্তু পাহাড়তলী থানা পুলিশের ভাষ্যমতে, উদ্ধারকৃত মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তারপরও নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে নিহত ব্যক্তির স¤পৃক্ততার দাবিও সঠিক নয়।