হাম ও রুবেলার সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৯টি ওয়ার্ডকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করতে বিশেষ ‘মপ-আপ’ টিমও কাজ শুরু করেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন নিয়ে আয়োজিত সমন্বয় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। নগরীর টাইগারপাস এলাকায় সিটি করপোরেশন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
চিহ্নিত হটস্পটগুলো হলো : ২ নম্বর জালালাবাদ, ৪ নম্বর চান্দগাঁও, ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী, ১৪ নম্বর লালখানবাজার, ১৮ নম্বর পূর্ব বাকলিয়া, ৩১ নম্বর আলকরণ, ৩৮ নম্বর দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর, ৩৯ নম্বর দক্ষিণ হালিশহর ও ৪০ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ড। শিল্পাঞ্চল অধ্যুষিত এসব এলাকায় হাম-রুবেলার সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি বলে চিহ্নিত করা হয়। তাই বাড়তি নজরদারি ও টিকাদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে সভায়।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, চলতি বছরের ১১ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরীতে সন্দেহভাজন ১ হাজার ২১৫ জন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। জেলা ও মহানগর মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৫ জনে। আক্রান্তদের বড় অংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।
এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এলাকায় ৩ লাখ ২৮৫ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৭৯ হাজার ৫২০ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৯৩ দশমিক ৮ শতাংশ।
চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, উত্তর কাট্টলী এলাকায় টিকাদানের অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি হলেও দেওয়ানবাজার ও পাঁচলাইশ এলাকায় এখনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। এ কারণে নিয়মিত টিকাদান দলের পাশাপাশি ৪১টি বিশেষ ‘মপ-আপ’ টিম ও ১৪টি সান্ধ্যকালীন সেশন পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে চার দিন ধরে এসব টিম কাজ করবে।
সভায় চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ক্যাম্পেইনের বাকি দিনগুলোর মধ্যে টিকার টার্গেট পূর্ণ হবে বলে আশা করছি। পাশাপাশি একটি শিশুও যেন টিকা থেকে বঞ্চিত না হয়। টার্গেট পূরণ হলেও টিকার বাইরে কোনো শিশু থাকলে তাকে টিকা দিতে হবে। এ ছাড়া চাকরিজীবী অভিভাবকদের সুবিধার্থে সান্ধ্যকালীন টিকাদান কার্যক্রমও চালু রাখতে হবে। বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তালিকা প্রস্তুত ও মাইকিং করতে হবে।
চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আমিন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেখ ফজলে রাব্বি, সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম ও সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইমাম হোসেন রানা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০ এপৃল মাসব্যাপী টিকাদান হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে সিটি করপোরেশন। চলবে ২০ মে পর্যন্ত।