চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি ঘিরে দু‘গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ ও দেশীয় অস্ত্রের ঝনঝনানিতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের জেরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঘণ্টাব্যাপী অবরোধের কারণে ব্যাপক যানজট তৈরি হয়।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সীতাকুন্ড পৌরসভা গেট এলাকায় বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী ও যুবদল নেতা কাজী সালাহউদ্দিনের অনুসারীদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মধ্যে পড়ে একটি ওষুধ কো¤পানির এক বিক্রয় প্রতিনিধিসহ কয়েকজন মারধরের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।স্থানীয়রা জানান, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালনের জন্য পূর্বঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা সীতাকুন্ড পৌরসভার এলকে সিদ্দিকী স্কয়ারে এবং কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা উপজেলা পরিষদের বিপরীতে মুনস্টার কমিউনিটি সেন্টারে জড়ো হন। দুই নেতার অনুসারীরা মিছিল নিয়ে যাবার পথে পৌরসদরে মুখোমুখি হলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।তাদের হাতে ব্যানার-ফেস্টুন ছাড়াও বাঁশ, লাঠি, লোহার রড ছিল। পাঞ্জাবি ও জিনসের প্যান্ট পরা একজনকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে পুলিশের সামনে হেঁটে যেতে দেখা যায়। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে ৫-৬টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপক্ষ আরেকপক্ষের ব্যানার-ফেস্টুন কেড়ে নেয়। তবে পুলিশ গিয়ে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ধাওয়া দিয়ে দুইপক্ষকে তাদের নিজ নিজ কর্মসূচিস্থলে সরিয়ে দেয় পুলিশ।সংঘর্ষের জেরে সীতাকুন্ডে বাঁশবাড়িয়া এলাকায় কাজী সালাহউদ্দিন এবং পৌরসদরে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। অবরোধের কারণে মহাসড়কে প্রায় ১০ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে। শত, শত দূরপাল্লার যানবাহন আটকে আছে। বিকাল পৌনে ৫টা পর্যন্ত যানজট অব্যাহত ছিল। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে সীতাকুন্ড থানার ওসি মাহিনুল ইসলাম বলেন, উভয়পক্ষের ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। আহত হওয়ার মতো সংঘর্ষ হয়নি। আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি। এখন উভয়পক্ষ আলাদা-আলাদা স্থানে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান করছে। রাস্তায় সর্বোচ্চ ২০ মিনিটের মতো ব্যারিকেড ছিল। অস্ত্রের¿ মহড়ার মতো তেমন কিছু আমাদের চোখে পড়েনি।সীতাকুন্ড মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, আমরা দুই পক্ষকে আলাদা সময়ে অনুষ্ঠান করার নির্দেশনা দিয়েছি। সার্বিক পরিস্থিতির ওপর আমাদের নজর রয়েছে। এই মুহূর্তে পুলিশের একটি টিম বাঁশবাড়িয়া মহাসড়কে ব্যারিকেড সরানোর কাজ করছে।উল্লেখ্য, আসলাম চৌধুরী বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ও কাজী সালাহ উদ্দিন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি। গত সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড ও নগরীর একাংশ) আসনে সালাহ উদ্দিনকে প্রথমে মনোনয়ন দিয়েছিল বিএনপি। পরে সেটা পাল্টে আসলাম চৌধুরীকে দেওয়া হয়। তিনি নির্বাচনে জিতলেও খেলাপি ঋণ জটিলতায় উচ্চ আদালত থেকে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।# ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম। ০১ সেপ্টেম্বর’২০২৬ ইং, ০১৭৯৩২০০০২৪
১৭ দিন আগে
২৫৫ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষে ফল ঘোষণা করা হয়।নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচনি কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ৩৪৯, ভোট পড়েছে ৩৪৩টি। নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ও কর্নেল (অব.) অলি পেয়েছেন ৮৮ ভোট।এর আগে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচিত হওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানও।নির্বাচনি কর্মকর্তা ও সিইসি নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, আজ বৃহস্পতিবারই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের গেজেট প্রকাশ করা হবে।বাংলাদেশ সচিবালয় ও সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আগামীকাল শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ নেবেন। এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। এর আগে গত ২৪ জুলাই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর ৬ আগস্ট শূন্য পদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। রাষ্ট্রপতির হাতে যত ক্ষমতাবাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তি। সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রের অন্য সব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছে। সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপ্রধান হলেও সরকার প্রধান নন। সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার মূল কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে বাধ্য নন। একটি হলো প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং অন্যটি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে সাধারণত সেই দলের সংসদীয় দলের নেতাকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। তবে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে কে সরকার গঠন করতে পারবেন, তা নির্ধারণে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতির স্বাধীন সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ও পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত বিষয় সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখেন। রাষ্ট্রপতি কোনো বিষয় মন্ত্রিসভার বিবেচনার জন্য পাঠাতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে কোনো পরামর্শ দিয়েছেন কি না বা দিয়ে থাকলে কী পরামর্শ দিয়েছেন, এ বিষয়ে কোনো আদালত তদন্ত করতে পারে না।দণ্ড মওকুফের ক্ষমতারাষ্ট্রপতির অন্যতম ক্ষমতা হলো দণ্ড মার্জনা, স্থগিত, হ্রাস বা মওকুফ করার ক্ষমতা। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে এ ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া দণ্ড রাষ্ট্রপতি নির্দিষ্ট সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে মার্জনা বা কমাতে পারেন।দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়মুক্তি রয়েছে। তার কার্যকাল চলাকালে তার বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি মামলা করা যায় না। তাকে গ্রেপ্তার বা কারাগারে পাঠানোর জন্য আদালত থেকে পরোয়ানাও জারি করা যায় না।তবে রাষ্ট্রপতি সম্পূর্ণভাবে অপসারণের বাইরে নন। সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় তাকে অভিশংসন করা যায়। শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণেও তাকে অপসারণের বিধান রয়েছে।অভিশংসনের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাক্ষরযুক্ত অভিযোগ স্পিকারের কাছে জমা দিতে হয়। রাষ্ট্রপতিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর সংসদের মোট সদস্যের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে প্রস্তাব পাস হলে তার পদ শূন্য হয়।রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। তবে উত্তরাধিকারী দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি পদে বহাল থাকেন। একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতি থাকতে পারেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে আবদুল হামিদ পরপর দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।কীভাবে নির্বাচিত হনবাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। জাতীয় সংসদের সদস্যরা তাকে নির্বাচিত করেন। একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করেন এবং অন্য একজন তা সমর্থন করেন। একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটে সর্বাধিক ভোট পাওয়া ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সমান ভোট হলে সংবিধান অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণের বিধান রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনী কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।পাবেন যেসব সুযোগ-সুবিধারাষ্ট্রপতির আর্থিক সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (সংশোধন) অ্যাক্ট-এ। বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এ বেতন আয়করমুক্ত। সর্বশেষ ২০১৬ সালে রাষ্ট্রপতির বেতন বাড়ানো হয়। এর আগে মাসিক বেতন ছিল ৬১ হাজার ২০০ টাকা।রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়ার পরও সাবেক রাষ্ট্রপতির জন্য কিছু সরকারি সুবিধা বহাল থাকে। রাষ্ট্রপতির আপ্যায়ন বা এন্টারটেইনমেন্টের জন্য বার্ষিক ভাতার ব্যবস্থাও রয়েছে এবং এই ব্যয়ের নিরীক্ষা করা হয় না।রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন। ভবনটির সাজসজ্জা, রক্ষণাবেক্ষণসহ প্রয়োজনীয় ব্যয় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করা হয়। সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য রাষ্ট্রপতিকে গাড়ি ও প্রয়োজনীয় পরিবহনসুবিধা দেওয়া হয়। সরকারি কাজে বিদেশ সফরের সময় সরকার নির্ধারিত হারে ভাতাও তিনি পান।রাষ্ট্রপতির স্বেচ্ছাধীন তহবিল বছরে ২ কোটি টাকা। রাষ্ট্রপতির বিবেচনায় বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে এ অর্থ ব্যয় করা যায়। রাষ্ট্রপতি ও তার পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্যও বিশেষ সুবিধা রয়েছে। দেশের যেকোনো হাসপাতালে তারা বিনা খরচে চিকিৎসা নিতে পারেন। চিকিৎসকের পরামর্শে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সেই ব্যয়ও সরকার বহন করে।রাষ্ট্রপতির বিমানভ্রমণের বিমাসুবিধা রয়েছে, যার বর্তমান অর্থ বছরে ২৭ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের আগে এই সুবিধার পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ টাকা।
২৯ দিন আগে
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসরদের ৭ স্থাপনায় অভিযান চালিয়ে ২৭ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। স্থাপনাগুলোর একটি চসিকের সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের। অন্যগুলো হচ্ছে আবাসন কোম্পানী সিপিডিএল-পিটুপি-জুমাইরার স্থাপনা। যারা আওয়ামী দোসর হিসেবে পরিচিত। বুধবার (১৯ আগস্ট) চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি ও চকবাজার এলাকায় পরিচালিত অভিযানের নেতৃত্ব দেন বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজীন। সিডিএর জোন-২-এর সহকারী অথরাইজড অফিসার হামিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, নগরীর লালদিঘীর পাড়, আসকার দিঘীর পাড় ও চট্টেশ্বরী রোড এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। ভবন নির্মাণে নকশার ব্যত্যয়, অনুমোদনবহির্ভূত নির্মাণ ও পার্কিংয়ের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযানের একপর্যায়ে সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের চট্টেশ্বরী রোডের ছয়তলা হামদর্দ বিল্ডিংয়ে অভিযান চালানো হয়। ভবনটির নিচতলার পার্কিং স্পেসে দোকান নির্মাণের অভিযোগে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরের মধ্যে পার্কিং স্পেসে নির্মিত দোকানপাট অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'সিপিডিএল, পি টু পি ও জুমাইরাসহ বিভিন্ন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের নির্মিত ভবনসহ সাতটি ভবনে অভিযান চালানো হয়। এসব ভবনের অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ২৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি ভবন সিলগালা এবং দুটি ভবনের মালিকের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।'সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, এই শহরকে উন্নয়নের নামে অপরিকল্পিত ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে ইট-পাথরের জঞ্জালে পরিণত করা হয়েছে। নগরীতে ভবন নির্মাণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছি। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।তিনি বলেন, যত বড় প্রভাবশালী ব্যক্তি হোক না কেন, অনিয়মের ক্ষেত্রে সিডিএর অবস্থান জিরো টলারেন্স। অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণ, নকশার ব্যত্যয় কিংবা অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিডিএ চেয়ারম্যান আরও বলেন, নগরীতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করতেই অভিযান জোরদার করা হয়েছে। চট্টগ্রামকে সবুজ, পরিকল্পিত ও নান্দনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) অথরাইজড জোন-১-এর আওতাধীন পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে নকশাবহির্ভূত ও অনিয়মপূর্ণ নির্মাণের অভিযোগে তিনটি ভবন সিলগালা এবং একটি ভবনকে ১২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। বেবি সুপার মার্কেট এলাকায় একটি প্লটের অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করে প্লটটি বরাদ্দপ্রাপ্ত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
১ মাস আগে
দেশের রাজনীতির ভেতরে-বাইরে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ৭৭ বছরের দীর্ঘ বর্ণাঢ্য জীবনে তিনি কখনো ছিলেন শ্রেণিকক্ষে অর্থনীতির পাঠ দেওয়া প্রিয় শিক্ষক, কখনো ছিলেন সচিবালয়ে কর্মরত দক্ষ কর্মকর্তা। আবার কখনো প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সামলেছেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর।তবে তাঁর পরিচয়ের সবচেয়ে বড় ক্যানভাসটি রচিত হয়েছে পিচঢালা রাজপথে। বহু হামলা-মামলা, আর দফায় দফায় কারাবাসের নির্মম নির্যাতন সয়েও অটল ধৈর্যে যিনি সামলেছেন রাজনীতির কঠিন আন্দোলন ও প্রতিকূল সময়। সবশেষ তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক এবার বসতে যাচ্ছেন দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ বঙ্গভবনে।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এর আগে দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কক্ষে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তাঁকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়।দলীয় ঐতিহ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক শিষ্টাচার বজায় রেখে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ার পরপরই তিনি বিএনপির মহাসচিব এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করা বিএনপির প্রার্থী হওয়ায় এখন তাঁর রাষ্ট্রপতি হওয়ার আনুষ্ঠানিকতাটুকুই কেবল বাকি।মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপ্রধানের পদে আনার এই সিদ্ধান্তকে দলমত-নির্বিশেষে সবাই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সুশীল সমাজের মতে, রাজনীতিবিদ হিসেবে ফখরুলের রুচিবোধ, প্রজ্ঞা, চরম বৈরী পরিবেশেও দলকে আঁকড়ে রাখা এবং সততারই এক সর্বোচ্চ স্বীকৃতি এই বঙ্গভবনযাত্রা।রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলকে মনোনীত করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসা করেছেন সাবেক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, দীর্ঘ দুই যুগ পর দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ বঙ্গভবনে একজন উপযুক্ত ও ব্যক্তিত্ববান আসীন হতে যাচ্ছেন। বহুবছর পর আমরা পেতে যাচ্ছি এই পদের জন্য সবদিক দিয়ে যোগ্য একজন ব্যক্তিকে।শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে মির্জা ফখরুলের অবদান ও ত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দুঃশাসনকালে মির্জা ফখরুল বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দলের হাল ধরেছেন, বহুভাবে নির্যাতিত হয়েছেন এবং ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তিনি ব্যক্তিত্ববান, সুশিক্ষিত, সদাচারী ও সুবক্তা হিসেবে অগ্রগণ্য।রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাঁর প্রায় ছয় দশকের পথচলা। ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন একজন প্রখ্যাত আইনজীবী, সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী।মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনেই তাঁর রাজনীতির পাঠ শুরু। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন শাখার সভাপতি এবং এসএম হল শাখার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।১৯৬৯-এর ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের সময়ও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় নেতৃত্ব দেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রারম্ভিক অধ্যায় ছিল বামপন্থী রাজনীতিকে ঘিরে। পরে তিনি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাপের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন।রাজনীতির পাশাপাশি মির্জা ফখরুলের কর্মজীবনও ছিল বৈচিত্র্যময়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে তিনি ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।পরবর্তীতে তিনি ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজেও শিক্ষকতা করেন। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে সাধারণ মানুষের রাজনীতির আকর্ষণে ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে নেমে পড়েন। ১৯৮৮ সালে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।নব্বইয়ের দশকের শুরুতে দেশব্যাপী এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে তাঁকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়। পরবর্তীতে কৃষক দলের প্রথম সহসভাপতি ও দীর্ঘদিন সভাপতির দায়িত্ব সামলান। ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন।২০০৯ সালে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তাঁকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়। ২০১১ সাল থেকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে টানা দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি। এর পাশাপাশি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে তারেক রহমানের নতুন সরকারে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনে অধিষ্ঠিত হন।রাজনীতির ময়দানে মির্জা ফখরুলের যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনকালে দমন-পীড়ন ও নির্যাতনে বারবার বিপর্যয় ও অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছিল বিএনপি। সেই চরম দুর্দিনে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রবাসে অবস্থানকালে দেশে মূল কাণ্ডারি হিসেবে রাজপথের আন্দোলন সামলাতে হয়েছে মির্জা ফখরুলকেই।এ আন্দোলন চালাতে গিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১১১টি মামলা দেওয়া হয়েছিল। জীবনের নানা সময়ে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে। বিশেষ করে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিন দফায় গ্রেপ্তার হয়ে জীবনের প্রায় সাড়ে তিন বছর তাঁকে কাটাতে হয়েছে কারাগারে। তবে কোনো গ্রেপ্তার বা নির্যাতন তাঁকে আদর্শের পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।২০১৮ সালে বগুড়া-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও ভোট কারচুপির প্রতিবাদে দলের সিদ্ধান্তে শপথ না নিয়ে বিরল রাজনৈতিক নজির স্থাপন করেছিলেন তিনি। ব্যক্তিজীবনে বিনয়ী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির মানুষ হিসেবে পরিচিত মির্জা ফখরুল। তাঁর সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তাঁদের বড় মেয়ে ড. মির্জা শামারুহ অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কর্মরত এবং ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ ঢাকার একটি ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।
১ মাস ৬ দিন আগে
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তন আসতে পারে— এমন আলোচনা চলছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে। আলোচনায় রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ে এবং পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।তবে এ বিষয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা বা প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত রাজনৈতিক মহলের আলোচনা ও সম্ভাব্য রদবদরের গুঞ্জন হিসেবেই রয়েছে। এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিএনপি থেকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ায় ওই মন্ত্রণালয়টি খালি হয়েছে। এ কারণেই দুই মন্ত্রীর দফতর পুনর্বণ্টনের বিষয়টি সামনে এসেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন আলোচনা থাকলেও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পরিবর্তনের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার একমাত্র উপায় হলো প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন। তাই ‘সালাহউদ্দিন এলজিআরডি, এ্যানি স্বরাষ্ট্র’—এই সমীকরণটি আপাতত সম্ভাব্য রদবদরের আলোচনায় থাকলেও এটিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।সরকার শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ দুই দফতর—স্বরাষ্ট্র ও এলজিআরডিতে পরিবর্তনের এই আলোচনা সরকারের পরবর্তী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কৌশল নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।দুই নেতার নাম মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাসের আলোচনায় আসার পেছনে শুধু প্রশাসনিক কারণ নয়, বিএনপির অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক সমীকরণও বিবেচনায় রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আছে। দলের জাতীয় কাউন্সিল ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনায় এর আগে সালাহউদ্দিন আহমদ ও শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি—দু’জনের নামই গুরুত্বপূর্ণ পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এসেছে।তবে মন্ত্রিসভার দায়িত্ব পরিবর্তনকে দলের সাংগঠনিক পদ-পদবির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার মতো কোনো সরকারি বা দলীয় সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। সালাহউদ্দিন আহমদকে এলজিআরডি এবং এ্যানিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হলে সরকারের পক্ষ থেকে কয়েকটি রাজনৈতিক বার্তা যেতে পারে।প্রথমত, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে রাজনৈতিকভাবে আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ হিসেবে এটি দেখা হতে পারে। দ্বিতীয়ত, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন নেতৃত্ব এনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নতুন গতি আনার চেষ্টা হিসেবে বিষয়টি ব্যাখ্যা হতে পারে।তবে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ব্যক্তির রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, প্রশাসনিক দক্ষতা, মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজন এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক কৌশল—সবকিছুই বিবেচনায় আসে। এর মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর সালাহউদ্দিন আহমদকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুখ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক সহিংসতা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে নিয়মিতভাবে তাকে সামনে আসতে হয়েছে।সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্যেও আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তার সক্রিয় অবস্থান দেখা গেছে। জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিয়েও তিনি সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তাকে এলজিআরডিতে দেওয়া হলে সরকারের তৃণমূলভিত্তিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর একটি নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমন আলোচনা রয়েছে।অন্যদিকে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বর্তমানে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। সংসদে সরকারি বিভিন্ন আইন ও নীতিগত বিষয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি রাজনৈতিক বক্তব্যেও তাকে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি তিনি ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করেন।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাকে আনা হলে সেটি হবে তার জন্য বড় ধরনের দায়িত্ব পরিবর্তন। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা, পুলিশ প্রশাসন ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয় সামলাতে রাজনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থান ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আমি যেখানে আছি ভালো আছি। এখানে বেশ কয়েকটি বড় কাজ রয়েছে। এগুলো দেশের উন্নয়নে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রণালয় বণ্টনে কোনো পরিবর্তন আনবেন কি না সেটি আমার জানা নেই।
১ মাস ৬ দিন আগে
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের ৫১ নং হিলাগাজী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হলেন রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, দৈনিক যায়যায়দিনের রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি ও সিনিয়র সাংবাদিক মো. মঞ্জুরুল ইসলাম। তিনি জাতীয়তাবাদি দল বিএনপির অঙ্গ সংগঠন জিয়া মঞ্চের চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। আর নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি হলেন পোমরা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুস সবুর। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির সভাপতি, ইউএনও মো. নাজমুল হোসেন ও সদস্য সচিব, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লিপি রাণী গোপ এ কমিটির অনুমোদন দেন। পদাধিকার বলে অনুমোদিত কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ মুনিরুজ্জামান চৌধুরী। নবগঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাওলানা এসএম আব্দুল কাদের, জমিদাতা আবুল হাসেম চৌধুরী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধি রেখা সুলতানা, অভিভাবক সদস্য জাফর আহমদ, সাগর দেবনাথ, ইয়াসমিন আক্তার, পারভীন আক্তার, লাকি আক্তার। দায়িত্ব পেয়েই কমিটির সভাপতি সাংবাদিক মো. মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, দায়িত্ব যখন পেয়েছি তা সঠিকভাবে পালন করা হবে। বিশেষ করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ সুন্দর ও আধুনিক করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, ঝরে পড়া রোধ, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয় শুধু পাঠ্যবই পড়ানোর প্রতিষ্ঠান নয়; শিশুদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকরা যাতে নির্বিঘ্নে পাঠদান করতে পারেন এবং শিক্ষার্থীরা আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে, সে লক্ষ্যে কমিটির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। তিনি বিদ্যালয়ের উন্নয়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক, শিক্ষানুরাগী ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
১ মাস ৬ দিন আগে

বিনা টিকিটে রেল ভ্রমণ ও টেন্ডার কার্যক্রমসহ সরকারি নানা কাজে রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাঁধা-হেনস্তা ও হামলার ঘটনা বাড়ছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একাধিক হামলার প্রতিবাদ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করেছেন উদ্ধিগ্ন ও আতঙ্কিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রামের সিআরবি রেলভবন এলাকায় এই মানববন্ধন কর্মসুচিতে অংশ নেন বাংলাদেশ রেলওয়ে ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সোমবার দিনগত রাতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের গণসংযোগ কর্মকর্তার দপ্তর থেকে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, আন্ত:নগর ট্রেনগুলোতে বিনা টিকিটের চিহ্নিত কিছু যাত্রী এসি শ্রেণির কোচ ও কেবিনে ভ্রমণ করে বৈধ টিকিটধারী যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ভ্রমণে বিঘ্ন সৃষ্টি করছেন। তারা কখনোই টিকিট কেটে ট্রেনে ভ্রমণ করেন না। টিকিট দেখতে চাইলে ৮-১০ জন একত্র হয়ে হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে টিকিট চেকিংয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেয়া হয়। সংঘবদ্ধ এই চক্র বিনা টিকিটে ভ্রমণ ছাড়াও অফিসিয়াল টেন্ডার কার্যক্রমসহ সরকারি নানা কাজে বাধা ও চলন্ত ট্রেনে হামলার মতো ফৌজদারি অপরাধ করছে নিয়মিত। অভিযোগে বলা হয়, গত ৭ আগস্ট তারিখে ৭৫৩ নম্বর সিল্কসিটি ট্রেন আব্দুলপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে আসার পর এসি কোচে কয়েকজন বিনা টিকিটের যাত্রী পাওয়া যায়। তাদের ন্যুনতম ভাড়া ও জরিমানা আদায় করে নন-এসি কোচে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরবর্তীতে ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছানোর পর সংঘবদ্ধ চক্রটি রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর অতর্কিতভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা করে। এর আগে ৪ আগস্ট ৭৯২ নম্বর বনলতা এক্সপ্রেস এবং ২৫ জুলাই ৭২৬ নম্বর সুন্দরবন ট্রেনে বিনা টিকিটের যাত্রীরা সন্ত্রাসী হামলা করে। মানববন্ধনে আরও বলা হয়, এসব ঘটনার ফলে টিকিট চেকিং কার্যক্রমের সঙ্গে স¤পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মস্থলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এর কারণে টিকিট চেকিং কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং সরকারি রাজস্ব আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।মানববন্ধনে বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর এ ধরনের অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা এবং সরকারি কাজে বাধাদান একটি ফৌজদারি অপরাধ। গত ৭ আগস্টসহ বিভিন্ন সময়ে রেলওয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।এ ছাড়া সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন দপ্তরের অফিস কক্ষেও কিছু সন্ত্রাসী দ্বারা হেনন্তা-হুমকি ও হামলার শিকার হয়েছেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী বিভাগীয় কার্যালয় ডিইএন-১ কার্যালয়েও হামলার ঘটনা ঘটে। শুধু তাই নয়, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জিএম থেকে প্রধান প্রকৌশল কার্যালয়সহ সবকটি প্রকৌশল কার্যালয়ের টেন্ডার কর্মসুচিতেও বাঁধা-হেনস্থা ও হামলার হুমকি চলছে প্রতিনিয়ত। পাহাড়তলী সরঞ্জাম ক্রয় দপ্তরের অবস্থা আরও শোচনীয়। এতে হুমকির মুখে পড়েছে নিরাপদ কর্মপরিবেশ। ফলে সরঞ্জাম ক্রয় দপ্তরসহ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সবকটি দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হেনস্তা ও হামলার ভয়ে নিয়মিত অফিস করতেও ভয় পাচ্ছেন। এসব ঘটনায় চট্টগ্রামের পাহাড়তলী বিভাগীয় কার্যালয়ে এর আগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) তৌষিয়া আহমেদের নেতৃত্বে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। কিন্তু এরপরও সন্ত্রাসীদের স্বভাবের কোন পরিবর্তন হয়নি। কারণ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবে সন্ত্রাসীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। যা এর আগে কোন সময় ঘটেনি। মানববন্ধনে অংশ গ্রহণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি বিনা টিকেটে রেল ভ্রমণ, টেন্ডার কার্যক্রমসহ সরকারি বিভিন্ন কাজে বাঁধা ও হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে সরকারি দায়িত্ব পালনে নিরাপত্তা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারী দেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মানববন্ধন পরিচালনায় মূখ্য ভুমিকা রাখেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চীফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মো. সফিকুর রহমান, প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক সুজিত কুমার বিশ্বাস, প্রধান প্রকৌশলী মো. তানভিরুল ইসলাম, প্রধান বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক শওকত জামিল মোহসী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান, যন্ত্র প্রকৌশলী আমীর উদ্দিন, ডেপুটি সিওপিএস তারেক মুহাম্মদ ইমরান, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মুরসালীন রহমান, টিএসও আহসান উদ্দিন, ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ার রিয়াসাদ ইসলাম, ডেপুটি সিসিএম মো. হারুনুর রশিদ প্রমুখ। ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দলীয় নেতা-কর্মী পরিচয়ে সংঘবদ্ধ কিছু সন্ত্রাসী বিনা টিকিটে রেল ভ্রমণ, টেন্ডার কার্যক্রমসহ সরকারি নানা কাজে রেল কর্মকর্তাদের হেনস্থা ও হামলার ঘটনায় লিপ্ত হয়েছেন। তাদের সাথে কিছু ঠিকাদারও জড়িত। যারা নানাভাবে উস্কানি দিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের এসব অপরাধমূলক কর্মকান্ড ঘটাতে উৎসাহ যোগাচ্ছে। রেলওয়েকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
১ মাস ৮ দিন আগে
চট্টগ্রাম সফরে প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বরণে ব্যাপক প্রস্ততি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন ও দলের নেতাকর্মীরা। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। আগামী ৯ আগস্ট রবিবার সফর শেষে সন্ধ্যার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর হোটেল র্যাডিসন ব্লু-তে তৃণমুল নেতাকর্মীদের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার তিন সাংগঠনিক ইউনিটের (চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা) পূর্ণাঙ্গ কমিটির সকল সদস্য অংশ নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরের সুপার ফাইভ খ্যাত– সভাপতি, সিনিয়র সহ–সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের নিয়েই অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই সাংগঠনিক সভা। সভায় তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতারা সরাসরি দলীয় প্রধানের সামনে নিজেদের মতামত, পরামর্শ ও স্থানীয় রাজনীতির বস্তুনিষ্ঠ চিত্র তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। আর ব্যাতিক্রমি এই উদ্যোগে এখন সরব হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের তৃণমুল বিএনপির নেতাকর্মীরা।শুক্রবার (৭ আগস্ট) এমনটাই জানিয়েছেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব তৃণমূলের নেতৃত্বে সবসময় আস্থা রেখেছেন। উনি তৃণমূলের মুকুটহীন সম্রাট। তৃণমূলের রাজনীতি দিয়েই পুরো বাংলাদেশে উনার যে জনপ্রিয়তা, উনার যে রাজনৈতিক দর্শন–এটা ছড়িয়েছেন। এই জন্যই উনি সবসময় তৃণমূলকে মূল্যায়ন করে আসছেন। মীর হেলাল বলেন, তিনি যখন দেশের বাইরে ছিলেন, তখনও তৃণমূলের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। এখন যেহেতু উনি সশরীরে আছেন এবং চট্টগ্রাম উনাকে সর্বোচ্চ ভালো নির্বাচনের একটা ফিডব্যাক দিয়েছে তাই চট্টগ্রামের তিন জেলা (মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ) বিএনপি, ১১টা অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীর সাথে সরাসরি কথা বলবেন। সাংগঠনিক সভায় নেতাকর্মীরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাথে কথা বলতে পারবেন। আমি মনে করি এটা পজিটিভ। এটাই আসলে তারেক রহমান সাহেবের চিরাচরিত রাজনৈতিক চর্চা এবং এটাই উনার তৃণমূলকে শক্তিশালী করার রাজনৈতিক দর্শন। এটা উনি আগেও করেছেন, এখনো এটা কন্টিনিউ করছেন।তৃণমূলের কর্মীরা দলের প্রধানের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন, এতে উচ্ছ্বাস কেমন দেখা যাচ্ছে জানতে চাইলে ব্যারিষ্টার মীর হেলাল বলেন, রবিবার চট্টগ্রামে দলীয় চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে এই প্রথম কোনো পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপির। যেটি আবার দলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চট্টগ্রামে তারেক রহমানের প্রথম সাংগঠনিক সভা। তাই দলের নেতাকর্মীদের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ এই সফর ও সভাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা গেছে উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ। আমার মনে হয় দুইদিন ধরে তারা ঘুমোচ্ছে না। একটা সাজ সাজ রব পড়ে গেছে পুরা চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ, মহানগর সব জায়গায়। তৃণমূলের সংগঠকদের মূল্যায়ন করার এই উদ্যোগ পুরো দলকে পুনরুজ্জীবিত ও নতুন গতিতে চাঙ্গা করে তুলবে বলে মনে করছেন স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতারাও। তাদের মতে, সাংগঠনিক সভায় তিন সাংগঠনিক ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটির পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী ১১টি সংগঠনের শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন। অবশ্য উত্তর জেলায় সাংগঠনিক কমিটি নেই। উত্তরের আওতাধীন উপজেলা ও পৌরসভার নেতৃবৃন্দ অংশ নেবেন।দলীয় সূত্র জানায়, গত ৯ জানুয়ারি তারেক রহমান দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ২৪ জানুয়ারি তিনি চট্টগ্রাম আসেন। পরদিন পলোগ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তব্য রাখেন। এর আগে ২০০৫ সালে দুইবার চট্টগ্রাম এসেছেন তারেক রহমান। ওই বছরের ৬ মে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের জন্য ভোট চেয়ে আয়োজিত সভায় উপস্থিত ছিলেন। এর প্রায় তিন মাস পর একই বছরের ২৪ জুলাই চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির বিশেষ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি। তবে তখন তিনি ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর গত জানুয়ারিতে পলোগ্রাউন্ড মাঠে প্রথম জনসভায় বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। আগামী রবিবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম চট্টগ্রাম আসবেন তিনি। গতবার সাংগঠনিক সভা করেননি, এবার করবেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনুষ্ঠেয় সাংগঠনিক সভাটি দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম সভা হবে, যেখানে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দেবেন। সাধারণত চেয়ারপার্সন ঢাকায় সেসব সাংগঠনিক সভা করেন সেখানে সভাপতি–সাধারণ সম্পাদকসহ সুপার ফাইভ অংশ নেয়ার সুযোগ পান। তিনি আরও বলেন, সাধারণত বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বড় ধরনের সাংগঠনিক সভাগুলোর ভেন্যু থাকে রাজধানী ঢাকা। এসব সভায় জেলা বা মহানগরের ‘সুপার ফাইভ’– সভাপতি, সিনিয়র সহ–সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকেন। তবে এবার সেই চর্চায় ব্যতিক্রম ঘটিয়ে দেশের রাজনীতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হচ্ছে। এই সাংগঠনিক সভা দলকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে।সফরে যা করবেন প্রধানমন্ত্রী : আগামী ৯ আগস্ট রোববার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর হেলিপ্টার যোগে ফটিকছড়ি যাবেন। সেখানে বাবুনগর মাদ্রাসায় উপস্থিত হয়ে হেফাজতে আমীর আল্লামা শাহ্ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এরপর সড়কপথে হাটহাজারী মাদ্রাসায় পৌঁছে তিনি মরহুম আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী ও আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীর কবর জিয়ারত করবেন। বিকেলে হাটহাজারী কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এরপর আসবেন চট্টগ্রাম মহানগরীর স্টেডিয়াম পাড়ায় হোটেল র্যাডিসন ব্লু-তে।র্যাডিসন ব্লু-তে অনুষ্ঠেয় সাংগঠনিক সভা প্রসঙ্গে বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, বিভিন্ন বিভাগে প্রধানমন্ত্রী যে সফর করেন সেখানে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও বসেন, সাংগঠনিক সভা করেন। ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম সফরকালেও তিনি সাংগঠনিক সভা করবেন। হোটেল র্যাডিসন ব্লু-তে অনুষ্ঠেয় এ সভায় বিএনপির ৬ শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেবেন। যার মধ্যে মহানগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি থাকবে। মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটির নেতৃবৃন্দও থাকবেন। উত্তর জেলায় কমিটি নেই, তাই উত্তরের উপজেলা পর্যায়ে যে কমিটি আছে তার সিনিয়র নেতৃবৃন্দ থাকবে। এছাড়া মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি–সম্পাদক অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত চট্টগ্রাম : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের জেলা ও উপজেলার স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক প্রস্তুতি ও উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে প্রশাসন ও দলের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আয়োজিত অনুুষ্ঠানে যোগ দেবেন, সেখানে কোনো জনসভা হবে না। এরপরও প্রধানমন্ত্রীকে দেখার জন্য প্রচুর লোক জমায়েত হবে। দলের নেতাকর্মীর বাইরেও সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘরে উজ্জ্বীবিত। দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে ব্যাপক প্রস্ততি নিয়েছে। লায়ন হেলাল বলেন, বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী হোটেল র্যাডিসন ব্লু-তে অনুষ্ঠেয় সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন। তিনি দলের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক নির্দেশনা দেবেন। দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর এই প্রথম চট্টগ্রামের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুব কাছে বসে তার নির্দেশনা শুনার সুযোগ পাবেন। এজন্য নেতাকর্মীরা খুব উচ্ছ্বসিত। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে চট্টগ্রামে বরণ করতে প্রস্তুত। নিরাপত্তার চাদরে চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা : চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন জানিয়েছেন, সফরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বাঁশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করবেন। রোববার সকালে ঢাকা থেকে বিমানে চট্টগ্রামে পৌঁছে হেলিকপ্টারযোগে বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সে হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর অবতরণের জন্য হেলিপ্যাড নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে সড়কপথে পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ মাঠে গিয়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। সেখানে নেওয়া হয়েছে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও। একই ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে ফটিকছড়ি উপজেলায়ও। সেখানে পাইন্দং সিএনবি মাঠে হেলিপ্যাড নির্মাণ শেষ হয়েছে বলে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে। একইভাবে হাটহাজারীতেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একইভাবে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে হোটেল রেডিসন ব্লুও। এক কথায় চট্টগ্রাম মহানগর থেকে তিন উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নিরাপত্তার আওতায় থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল ফোর্স এসএসএফ, ডিজিএফআই, সেনা, র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত রয়েছেন বলে জানান চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন।
১ মাস ১২ দিন আগে
ছিলেন ছাত্র, হলেন শহীদ। মহান এই আত্নদানে বলীয়ান চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ওয়াসিম আকরাম। মরেও তিনি প্রমাণ করলেন শোষণ বিরোধী আত্নদান কখনো বৃথা যায় না। বরং অনেক সম্মানের। বীরোচিত এই ছাত্রের আত্নবলীদান মুহুর্তে মুহুর্তে স্মরণ করছেন বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষ।২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেলা ৩ টার দিকে চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের ছোড়া গুলিতে নিহত হন মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরাম। বৈষম্যবিরোধী জুলাই অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ তিনিই। যার প্রতিচ্ছবি চট্টগ্রাম মহানগরীর পরতে পরতে সাইনবোর্ড-ব্যানারে ঝুলছে সেই থেকে।সেই শোকাবহ ঘটনার দু‘বছর পূর্ণ হল। কিন্তু চট্টগ্রামবাসী ভুলেনি শহীদ ওয়াসিম আকরামকে। দলীয় নেতাকর্মী ও চট্টগ্রামবাসীর পাশাপাশি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের ভোটে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর গত ১২ জুন সশরীরে কক্সবাজার জেলার পেকুয়া সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ মেহেরনামা বাজার এলাকার গিয়ে শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জেয়ারত করেন।স্থানীয়দের তথ্যমতে, কক্সবাজার জেলার পেকুয়া সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ মেহেরনামা বাজার এলাকার প্রবাসী শফিউল আলমের মেঝ ছেলে ওয়াসিম আকরাম। সর্বশেষ ছাত্র ছিলেন চট্টগ্রাম কলেজের। পড়তেন সমাজবিজ্ঞান অনুষদে স্নাতক তৃতীয় বর্ষে। সেই সুবাধে চকবাজার এলাকার একটি মেসে থাকতেন ওয়াসিম। জড়িত ছিলেন বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলের রাজনীতিতে।ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার যখন বিরোধী দল দমনপীড়নে খড়গহস্ত, ঠিক এই অসময়ে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন ওয়াসিম আকরাম। আর ক্ষণে ক্ষণে প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ-যুবলীগের মারধর, হামলা-মামলা ও গুলির মুখে পড়েছেন ওয়াসিম আকরাম।এর মধ্যে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের শুরু থেকে দেশে চাঙা হয়ে উঠে কোটা সংস্কারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন। ঢাকার ছাত্র জনতার সাথে চট্টগ্রামেও এই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে উঠেন ছাত্ররা। তাদের সর্বাগ্রে থেকে নেতৃত্ব দেন শহীদ ওয়াসিম আকরাম।মধ্য জুলাইয়ে আন্দোলন ধীরে ধীরে সহিংস হয়ে উঠে। তখন পুলিশ-ছাত্রলীগ-যুবলীগ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মাঠে নামে ছাত্র আন্দোলন প্রতিহত করতে। এতে দমে যাননি স্বৈরাচারবিরোধী অকুতোভয় বীর সেনানী ওয়াসিম আকরাম। বরং অন্য সহযোদ্ধাদের মতোই আরো বেশি সংগ্রামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠেন।ওয়াসিমের সহপাঠি ইমরান হোসেন ও তৌহিদুল ইসলামের মতে, ১৬ জুলাই দুপুর থেকে নগরীর বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। দুই নম্বর গেট এলাকায় একটি বাস ভাংচুর করে তারা। বিকেল ৩টা থেকে নগরীর মুরাদপুর, ২নং গেট ও ষোলশহরের আশপাশের এলাকায় কোটা আন্দোলনকারীদের সাথে ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।সংঘর্ষের শুরুতে লাঠিপেটা করা হলেও, পরে গুলিবর্ষণ করে পুলিশ। এ সময় পুলিশের সাথে সাদা পোষাকে হেলমেট পড়ে কয়েকজন অস্ত্রধারীকে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। বেশ কিছু ককটেলও বিস্ফোরিত হয়। আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে এদিক-সেদিক ছুটোছুটি শুরু করে। পরে তারা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।এভাবে অনেক্ষণ চলতে থাকে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া। পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের অনেকে অলিগলিতে ঢুকে পড়লে সেখানেও খুঁজে বের করে হামলা করা হয়। সেদিন গুলিবিদ্ধ হন শহীদ ওয়াসিম আকরাম। বাচানোর আশায় সহপাঠিরা যে তাকে হাসপাতালে নিবে সে সুযোগও সেদিন অবরুদ্ধ করে পুলিশ ও অস্ত্রধারী ছাত্রীগ-য়ুবলীগ নেতাকর্মীরা। রাত প্রায় ৮টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ নিয়ে ওয়াসিম আকরামকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিসৎকরা।সেদিনের কথা বলতে গিয়ে চোখে একরাশ ক্ষোভ আর হতাশার কান্না নিয়ে সহপাঠী ইমরান হোসেন ও তৌহিদুল ইসলাম বলেন, মৃত্যুর আগের দিন ওয়াসিম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দেয়। পোস্টটিতে সে লিখেছিল, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে আছে আমার প্রাণের সংগঠন। আমি এই পরিচয়েই শহীদ হবো। আর এর ঠিক ১৬ ঘণ্টা পরই শহীদ হলেন ওয়াসিম আকরাম। চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ এটি।১৭ জুলাই সকাল ১১টার দিকে কক্সবাজার জেলার পেকুয়া সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ মেহেরনামা বাজার এলাকার ওয়াসিমের জানাজা হয়। এরপরই পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।আক্ষেপ কাটেনি প্রবাসী বাবা ও গৃহীনি মায়েরশহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা শফিউল আলম মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার প্রবাসী। সেখানে তিনি একটি কোম্পানীতে চাকুরি করেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছেলের আত্ন বলীদানের কথা শুনলেও দেশের অরাজক পরিস্থিতির কারণে তিনি দেশে ফিরতে পারেনি। ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে ফিরেন তিনি।সেই থেকে ছেলের আত্নবলীদান নিয়ে আক্ষেপ বাড়ছে প্রবাসী শফিউল আলমের। অন্যদিকে দেশে থেকেও মনকে কোনভাবে সাত্ননা দিতে পারছেন না মা জ্যোস্না বেগম। কারণ তাদের অনেক আশা ও স্বপ্ন ছিল শহীদ ওয়াসিম আকরামকে নিয়ে।মুঠোফোনে এসব কথা বলেন ওয়াসিম আকরামের চাচা মাওলানা জয়নাল আবেদীন। তিনি বলেন, দেশে ফেরার পর থেকে বাবা শফিউল আলম প্রতিদিন ছেলের কবরের পাশে গিয়ে বসে থাকেন। দিনের বেশির ভাগ সময় সেখানেই কাটান।মা জ্যোস্না বেগম এখনো বিশ্বাস করতে পারেন না যে তাঁর সন্তান নেই। প্রতিটি মুহূর্তে স্মৃতি হাতড়ে বেড়ান, চোখের সামনে ভাসে ওয়াসিমের হাসি, তার কণ্ঠস্বর, তার চলাফেরা। আকস্মিক সন্তান হারানোর আঘাত সইতে না পেরে শোকস্তব্ধ ওয়াসিমের মা হারিয়েছেন শ্রবণশক্তি, একবছর ধরে তিনি বিছানায় শয্যাশায়ী।চাচা মাওলানা জয়নাল জানান, পিতামাতার ৫ সন্তানের মাঝে ওয়াসিম ছিলেন দ্বিতীয়। সবাই গ্রামের বাড়িতে থাকেন। বড় ভাই মহিউদ্দিন চাকুরি করে। ছোট আরো এক ভাই ও দুই বোন পড়াশোনা করে। তাদের সবার স্বপ্ন ছিল ওয়াসিম আকরামও পড়ালেখা শেষ করে সরকারি বড় কোন পদে চাকরি করবে। পরিবারের হাল ধরবে।আবেগাপ্লুত চাচা জয়নাল জানান, ওয়াসিম কোটা সংস্কার আন্দোলনে গিয়ে এভাবে হারিয়ে যাবে কেউ কল্পনাও করেনি। তাকে হারিয়ে যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে আমাদের পরিবারের ওপর। তাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল আমাদের। সে স্বপ্ন ভেঙে খান খান হয়ে যায় ১৬ জুলাই বিকেলের একটি বুলেটে। ওয়াসিমের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে সরকারের কাছে দাবি জানান চাচা জয়নাল।ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেন, বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ যে কত ভারী, সেটা যে সন্তান হারিয়েছে শুধু সে-ই বুঝবে। মা হারিয়েছি, দুই মাস পর ছেলেকেও হারিয়েছি। আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। বিছানা ছেড়ে উঠতে পারে না। ভাই হারানোর যন্ত্রণা আমার অন্য সন্তানদের মধ্যে। কেউ আমাকে ছাড়তে চায় না। বাকি জীবনটা তাদের বুকে আগলে রেখেই কাটিয়ে দিতে চাই।সহপাঠি ও এলাকাবাসীর ভাষ্যওয়াসিম আকরাম কেবল রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন না, বরং ছিলেন বিনয়ী ও সবার প্রিয়। গ্রামের মানুষরা জানান, তিনি পড়াশোনার ফাঁকে মাঝেমধ্যে গ্রামে যেতেন এবং সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশতেন। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ওয়াসিমের পরিবার এখনো শোকসাগরে ভাসছে ওয়াসিমের পরিবার।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওয়াসিম কোটা সংস্কার আন্দোলনে গিয়ে এভাবে হারিয়ে যাবে এ কথা কেউ কল্পনাও করেনি। তার মৃত্যুতে পরিবারে যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। তবে সান্তনার বিষয়, সরকার শহীদ ওয়াসিম আকরামের পরিবারের পাশে আছে।দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১৩ জুন কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ মেহেরনামা বাজার এলাকার এসে শহীদ ওয়াাসিম আকরামের কবর জেয়ারত করেছেন। পরে প্রধানমন্ত্রী ওয়াসিম আকরামের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাদের খোঁজ-খবর নেন। এসময় শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র তুলে দেন সরকারপ্রধান। এতে পেকুয়া উপজেলাবাসী গর্বিত। এতে মনে হচ্ছে শহীদ ওয়াসিম আকরামের আত্নদান বৃথা যায়নি।চট্টগ্রামে সেদিন আরও আত্ন বলীদান ছিল যাদেরজুলাই অভ্যূত্থানে শহীদ ওয়াসিম আকরাম ছাড়াও চট্টগ্রামের রণাঙ্গনে সেদিন জীবন বিলিয়ে দেন ছাত্র শিবির নেতা ফয়সাল হোসেন শান্ত ও দোকান কর্মচারী ফারুক। এই তিন প্রাণের বিনিময়ে সেদিন থেকে চট্টগ্রামে আন্দোলন চুড়ান্ত রুপ পায় বলে জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রামের তৎকালী সমন্বয়কদের অন্যতম মশিউর রহমান।তিনি বলেন, ১৫ জুলাই প্রথম প্রতিরোধের পর ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আজিম রনিসহ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ফেসবুকে মেরে ফেলব, কেটে ফেলব-এ ধরনের পোস্ট দিতে শুরু করে। ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের অস্ত্রের ছবি তুলে আমাদের ইনবক্সে পাঠাতে থাকে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, আমরা যাতে ভয় পেয়ে ষোলশহরে আর না যাই। কিন্তু আমরা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, ছাত্রলীগ হামলা করতে এলে জোরালোভাবে প্রতিরোধ করা হবে।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক রাসেল আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীরা সেদিন শান্তিপুর্ণ ভাবেই মুরাদপুর মোড় ও রেলগেট এলাকায় অবস্থান করছিলো। বিনা উস্কানিতেই ছাত্রলীগ আমাদের উপর অস্ত্রসহ হামলা চালায়। জবাবে শিক্ষার্থীরাও প্রতিরোধ গড়ে তোলে।প্রথম হামলাতে শিক্ষার্থীরা কিছুটা বিক্ষিপ্ত হয়ে পরেন। কিন্তু খুব দ্রুতই তাঁরা গুছিয়ে উঠে পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেন। কিন্তু সেই সময়গুলি গুলি ছুড়তে ছুড়তে ঘটনা স্থালে হাজির হয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডাররা। এ সময় তাদের গুলিতে নিহত হন শিক্ষার্থী ওয়াসিম, শান্ত ও দোকান কর্মচারী ফারুক। রক্তে লেখা হয় নতুন ইতিহাস।সমন্বয়ক রাসেল আহমেদ বলেন, ওয়াসিমের মতো সেদিন শহীদ হওয়ার আগে শিবির নেতা ফয়সাল আহমেদ শান্ত তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলে রিখেছিল- যে হৃদয় শাহাদাতের উচ্চাকাক্সক্ষা লালন করে, সে হৃদয় কখনো হতাশ হয় না। শান্ত নেই, কিন্তু সেই লেখা এখনো রয়ে গেছে।শহীদ শান্তর মা কোহিনূর বেগম কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন, আমার ছেলে আমার বুকের ধন। আমার ছেলের কষ্ট হবে, এজন্য আমি শত ব্যস্ততার মধ্যেও তাকে কোনো কাজে হাত দিতে দিতাম না। আমার ছেলেটাকে ছেড়ে আমাকে দু‘টা বছর কাটাতে হল, সারাজীবন কাটাতে হবে, এ দুঃখ আমি কীভাবে সইব!শান্তকে নিয়ে বৈষম্যমূলক আচরণের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হয়েছেন, তিনি সবসময় ওয়াসিমের কথা বলেন শুধু, বাকি দুজনের কথা বলেনই না। এখন দেখছি সরকারের সবাই একই পথে হাঁটছেন। আমি মনে করি, এটা একটা বৈষম্য!সেদিন আওয়ামী লীগ ক্যাডারদের হামলায় শহীদ হন দোকান কর্মচারী ফারুক (৩২)। মুরাদপুরে কর্মস্থলে ফেরার পথে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তাঁর স্ত্রী সীমা আক্তার স্বামীর মৃত্যুতে আজও শোকে স্তব্ধ। তিনি বলেন, আমার স্বামী তো নেই। আমি আমার স্বামীর হত্যা কারীদের ফাঁসি চাই।
১ মাস ১৫ দিন আগে
আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে দেওয়া বক্তব্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক শিক্ষা, সমাজে বিদআত পরিহার এবং নৈতিক জাতি গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে দেওয়া তার বক্তব্যকে সামাজিক মাধ্যমে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নেটিজেনরা। এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনার পতনের পর তাকে সেফ এক্সিট দেওয়া নিয়ে বিতর্কে পড়েন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। এ ঘটনার পর তাকে সেনা প্রধানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে গ্রেফতারের দাবিও উঠেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী শিক্ষা ও মূল্যবোধের পক্ষে কথা বলায় সেই বিতর্ক কাটিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন সেনাপ্রধান। সেনাপ্রধান গত সোমবার রাজধানীর জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট (এআইআইআই) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এতে সেনাপ্রধান বলেন, সমাজে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুশীলনের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত সংযোজন বেড়েছে। এসব থেকে বেরিয়ে এসে কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক সঠিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই লক্ষ্যেই আধুনিক ও ইসলামী শিক্ষার সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, বিদআত ছেয়ে গেছে এদেশে। দোয়ার মধ্যে বিদআত, নামাজের মধ্যে বিদআত। সবখানে বিদআতে ছেয়ে গেছে। এগুলো থেকে বের হয়ে আসতে হবে। একটি সুস্থ সমাজ ইসলামিক সমাজ আমরা চাচ্ছি, এই এডুকেশন সিস্টেমের মাধ্যমে। আমি মনে করি এভাবে যদি আমরা এডুকেশন ইন্সটিটিউশগুলোকে গড়ে তুলি, তাহলে আমরা একটা এডুকেশন সিস্টেম পাব, যেভাবে ইসলামিক ভেল্যুসগুলো থাকবে। মর্ডান এডুকেশন থাকবে। যাতে সোসাইটি লাভবান হয়।আধুনিক ও ইসলামী শিক্ষার সমন্বয় ছাড়া ভবিষ্যতে নৈতিক, দক্ষ ও মানবিক জাতি গঠন সম্ভব নয় মন্তব্য করে সেনাপ্রধান বলেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় একদিকে আধুনিক শিক্ষায় ইসলামী মূল্যবোধের ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে ইসলামী শিক্ষায় আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতার অভাব দেখা যায়। এর ফলে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত অনেকের সমাজে কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। তাই সময়ের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক ও ইসলামী শিক্ষার সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। আজ যদি আমরা শিক্ষাব্যবস্থাকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারি, তাহলে আগামী ৩০ বছর পর একটি সুস্থ, আদর্শ ও নৈতিক জাতি উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, নবপ্রতিষ্ঠিত আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষার্থীরা আধুনিক জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও ইসলামী নৈতিক মূল্যবোধ সবকিছু একসঙ্গে অর্জনের সুযোগ পাবে।সেনাপ্রধানের এমন বক্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমে তাকে নিয়ে প্রশংসা করছেন নেটিজেনরা। সুলতান মাহমুদ রুপশ নামে ফেসবুক ব্যবহারকারী একজন লিখেছেন, ধন্যবাদ মাননীয় সেনাপ্রধান! আপনাকে যত দেখছি মুগ্ধ হচ্ছি।জাকিরুল আলম মিলন নামে একজন লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! দেশের জন্য এরকম দ্বীনদার সেনাপ্রধান একান্ত কাম্য! আমি তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ নেক হায়াত কামনা করি! শ্রদ্ধেয় সেনাপ্রধানের জ্ঞানগর্ভ, বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমাদের গর্বিত সেনাবাহিনী আরো উদ্যমে, সুসংগঠিত এবং নিবেদিত প্রাণ হয়ে দেশের জন্য কাজ করবেন! মহান আল্লাহ প্রতিটি সেনা সদস্যকে তার খাস বান্দা হিসেবে কবুল করুন!’ইসমাইল টোলিন নামে একজন লিখেছেন, ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও মানবিকতার কথা একজন দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মুখে শুনতে সবসময়ই ভালো লাগে। সেনাপ্রধানের বক্তব্যে ইসলামের রীতি-নীতি ও নৈতিক শিক্ষা তুলে ধরার প্রচেষ্টা আমার কাছে ইতিবাচক মনে হয়েছে। এতে তার প্রতি আলাদা একটি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। দেশের কল্যাণ, শৃঙ্খলা ও মানুষের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার এমন উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। মহান আল্লাহ তাকে ন্যায়, সততা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে দেশের সেবা করার তাওফিক দান করুন।
১ মাস ১৫ দিন আগে
বন্যাদুর্গতদের খোঁজ নিতে চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও বাঁশখালী উপজেলা সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ৯ আগস্ট তাঁর এই সফর চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি বন্যায় গৃহহারা পরিবারগুলোর জন্য নির্মাণ করা নতুন বাড়ি হস্তান্তর করবেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তাঁর প্রথম চট্টগ্রাম সফর বলে উল্লেখ করেন প্রেস সচিব। সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও বাঁশখালী উপজেলায় বন্যায় গৃহহারা পরিবারগুলোর জন্য নতুন করে বাড়ি নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে এসব বাড়ি হস্তান্তর করবেন। একই সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করবেন।তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের প্রশাসন প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর অবতরণের জন্য উপযুক্ত স্থানে হেলিপ্যাড প্রস্তুত করা হচ্ছে। সেখান থেকে তিনি পশ্চিম বাঁশখালীতে সমাবেশ ও ত্রাণ বিতরণ করবেন। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে দলীয়ভাবেও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর গুলশান কার্যালয়ে আমাকে ও সদস্যসচিবকে ডাকা হয়েছে। আমরা সেখানে যাচ্ছি। দলীয়ভাবে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে আমরা ইতিমধ্যে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি। এখনো দাপ্তরিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে সফরসূচি চূড়ান্তভাবে জানানো হলে সে অনুযায়ীও আমাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে।
১ মাস ১৬ দিন আগে
দুবাইয়ে গ্রেফতারের দুই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদ। দেশে দুর্নীতিসহ বেশ কিছু মামলা চলমান থাকায় গ্রেফতারের পর থেকেই তাকে দেশে ফেরানোর চেষ্টা করছে সরকার। জামিনে মুক্তি পেয়ে যাওয়ায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এই অবস্থায় তার জামিন বাতিলে দুবাইয়ে বাংলাদেশ সরকার ল’ ফার্ম নিয়োগে কাজ করছে। রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে রাজশাহীর সারদায় পুলিশ একাডেমির এক অনুষ্ঠানের পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।বেনজীর আহমেদ জামিনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি এখন শুনলাম স্টেজে বসে। সাথে সাথেই আমি হোম সেক্রেটারির সাথে কথা বলেছি। হোম সেক্রেটারি দুবাইয়ে আমাদের যে ইউএই অ্যাম্বাসেডার তার সাথে কথা বলেছেন। আমরা কয়েক দিন আগেই ল’ ফার্ম নিয়োগ করেছি, এই বিষয়টার জন্য শুধুমাত্র। তাকে ইন্সট্রাকশন দেওয়া হয়েছে যেন বেইল ক্যানসেলেশনের জন্য সে পারসু করবে।বেনজীরের জামিন বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি খবর পেয়েছি তাকে অন কন্ডিশনে এখানে তার ইউএই লিভ না করার শর্তে বেইল দিয়েছে। কী কী শর্ত সেটা আমি সার্টিফাইড কপিটা জোগাড় করতে বলেছি এবং আমাদের যে ল ফার্ম রয়েছে তাদেরকে আমরা ইন্সট্রাকশন দিয়েছি যেন এই বেইল ক্যানসেলেশনের জন্য তারা পারসু করে।বাংলাদেশ সরকার এখন কোন আইনি প্রক্রিয়া অবলম্বন করবে এমন প্রশ্নে মন্ত্রী তার জামিন বাতিল করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তারা আইনানুগভাবে গিয়েছে আমরা ল ফার্ম নিয়োগ করেছি। আমাদের চেষ্টা আমরা করছি এবং আমরা আশা করছি এগুলা আমরা বেইল ক্যানসেল করতে পারবো এবং দ্রুততম সময়ে তাকে ফেরত নিতে পারবো।এদিকে ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদও বেনজীর আহমেদের জামিনের বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আরব আমিরাত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত আছে। বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার সব চেষ্টাই করা হচ্ছে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আমিরাত কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য ও নথিপত্র জানতে চেয়েছিল। দেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেই কাঙ্ক্ষিত তথ্যগুলো ইতিমধ্যে তাদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে।প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে শামা ওবায়েদ বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিজস্ব আইন অনুযায়ী তারা এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা ও পদক্ষেপ নিচ্ছে। একই সঙ্গে আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তথ্য আদান-প্রদান ও আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।আইজিপি হিসেবে বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপৃল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তখনই তিনি দেশ ছেড়েছিলেন। এরপর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে।
১ মাস ১৭ দিন আগে
কমিশন ছাড়া ফাইল ছাড়েন না রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষার। চাহিদা মতো কমিশন না পেলে ঠিকাদারদের করেন তুলোধুনো হয়রানি। এমন অভিযোগ নিয়ে বক্তব্য চাইতে গেলে তারেক মো, সামছ তুষারের সাফ জবাব, জিএম সব জানে, ওনার সাথে কথা বলুন।এমন কথায় বিস্মিত হয়ে ফের প্রশ্ন করা হয়, আপনার অনিয়ম ও দূর্নীতির দায় কি জিএম সাহেব নিবেন? তিনিও ফের উত্তর দেন, হ্যাঁ যা বলবেন জিএমকে বলুন, তিনিই এর জবাব দিবেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, কে কি বলল না বলল, আর আপনি তা লিখে দিবেন? এগুলোর কী প্রমাণ আছে?ঠিকাদারদের অভিযোগ ও একাধিক রেকর্ড থাকার কথা জানালে-এক পর্যায়ে তিনি বলেন, এখন ইজিপিতে টেন্ডার হয়, কমিশন নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। কোন ঠিকাদার কমিশনের কথা বলেছে তাকে এখানে নিয়ে আসুন। সেরকম কোন নিয়ম না থাকার কথা জানালে তিনি বলেন, ঠিক আছে যান।ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, ইজিপি টেন্ডার রেলওয়ের জন্য আইওয়াশ। ইজিপি ছাড়া যেমন কমিশন, ঘুষ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মও দূর্নীতি হয়েছে। ইজিপিতে তার চেয়ে বেশি অনিয়ম ও দূর্নীতি হচ্ছে। বরং এ নিয়ে কোন সাংবাদিক প্রশ্ন করলে তাদের ইজিপির দোহাই দিয়ে বাচার চেষ্টা করছেন রেলওয়ের দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা।ঠিকাদাররা জানান, রেলওয়ের কতিপয় দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের মতো প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ দপ্তরের প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষারও অবকাঠামো ও মালামাল ক্রয়ের যে কোন ইজিপি টেন্ডার নানা কলা-কৌশলে পছন্দের ঠিকাদারকে পাইয়ে দেন। সেই সুত্রে তিনি ৫% থেকে ১০% পর্যন্ত (টেন্ডার ভেদে) কমিশন হাতিয়ে নেন।টেন্ডার পাওয়া ঠিকাদারও কাজ পেয়ে কমিশন দেন। অন্যথায় টেন্ডারের ব্যপ্তি ও মূল্য নির্ধারণে গড়ি মসি করেন প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষার। চাহিদা মতো কমিশনের বিনিময়ে প্রয়োজনের তুলনায় টেন্ডারের ব্যস্তি ও মালামাল ক্রয়ে বাজার মুল্য অতিরিক্ত ধরে ঠিকাদারদের সুবিধা দেন।শুধু তাই নয়, টেন্ডার বাস্তবায়ন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের স্তরে স্তরে ঘুষ দিতে হয়। তা না হলে টেন্ডারের ওয়ার্ক অর্ডার পেতে ঘাম ঝড়াতে হয় ঠিকাদারদের। আবার কাজ শেষে টেন্ডারের বিল তৈরী থেকে নিয়ে হিসাব শাখা থেকে বিলের চেক নিতে ঘাটে ঘাটে দিতে হয় কমিশন ও ঘুষ।আর কমিশন ও ঘুষ আদায়ে সব দপ্তরের কর্মকর্তারা একাট্টা। এক্ষেত্রে কমিশন ও ঘুষ বাণিজ্যে বড় ভুমিকা রাখে বাজার দর কমিটি। যে কমিটিতে রেলের সব কর্মকর্তারা কোন না কোনভাবে জড়িত। কর্মকর্তাদের এমন সিন্ডিকেটে বন্দি রেলওয়ের কাজে সম্পৃক্ত ঠিকাদাররা। এরপরও নানা কারসাজির মাধ্যমে লাভ বের করে আনেন ঠিকাদাররা।ঠিকাদাররা জানান, শুধু ইজিপি নয় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষারের বিভিন্ন ভুয়া নামে একাধিক ঠিকাদারী লাইসেন্স আছে। যেগুলোর কোন আস্তিত্ব নেই। এসব লাইসেন্সের নামে কৌশলে চলে যায় বেশিরভাগ ইজিপি টেন্ডার। তবে এসব কাজে প্রধান সহযোগী হলেন এ দপ্তরের একজন কর্মচারী। যা দুদক বা নিরপেক্ষ কোন সংস্থা দিয়ে তদন্ত করলে মিলবে বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল।ঠিকাদারদের মতে, প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশল শাখার অধীনে প্রতি অর্থবছরে শত শত কোটি টাকার মালামাল ক্রয়, সংকেত ও টেলিযোগাযোগের অবকাঠামো সংক্রান্ত উন্নয়ন কাজ হয়। যেখান থেকে তিনি ইজিপি টেন্ডারের নামে ঠিকাদারদের মাধ্যমে ৩ থেকে ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। আবার কিছু কিছু টেন্ডার নিজের কাছে থাকা লাইসেন্সে নিয়ে পুরো টাকা হাতিয়ে নেন। যা জানা কষ্ঠসাধ্য।দূর্নীতির এসব টাকায় তিনি নিজ জেলাসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় স্থায়ী-অস্থায়ী অনেক সম্পদের মালিক হয়ে উঠেছেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে উপযুক্ত তথ্য প্রমাণসহ এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।সম্প্রতি এ নিয়ে কথা বলতে প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুয়ারের দপ্তরে গেলে বড় বাবু খ্যাত মোস্তাফিজুর রহমান নির্বিঘ্নে বলে দেন, স্যার তো কথা বলে না। কিছু জানার থাকলে জিএমের সাথে যোগাযোগ করেন।কেন? পরিচয় হতেও আপত্তি আছে নাকি- এমন প্রশ্ন করা হলে জানতে তিনি প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুয়ারের কাছে নিয়ে যান। তার উপস্থিতিতে তারেক মো. সামছ তুষার বলেন, আমি কিছুই বলতে পারব না, কিছু জাসতে চাইলে আপনারা জিএমের কাছে যান, ওনার সাথে কথা বলুন।আপনার অনিয়ম ও দূর্নীতির দায় কি জিএম সাহেব নিয়ে নিবেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, হ্যাঁ-যা বলবেন জিএমকে বলুন। তিনিই এর জবাব দিবেন। এমনভাবে রূঢ় আচরণ করেন প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষার।এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো, সুবক্তগীন বলেন, প্রকৌশলী সামছ তুষার যদি অনিয়ম করে থাকে, তাহলে তাকে নিয়ে লিখেন। সেখানে আমাকে পেছাচ্ছেন কেন? আমি কি সামছ তুষারের খাই, না সামছ তুষার আমার খাই। আপনার অভিরুচির মধ্যে পড়লে আমাকে টানেন।প্রকৌশলী তারেক মো. সামছ তুষার আপনাকে টেনে আনছেন, আমি আনছি না-এমন কথায় তিনি বলেন, ঠিক আছে আপনি কাল (৩ আগস্ট, সোমবার) সকাল ১১টার দিকে আসেন। আমি তাকে ডেকে প্রশ্ন করব, সে আমার কথা বলবে কেন? এ কথা বলেই সংযোগ কেটে দেন তিনি।
১ মাস ১৭ দিন আগে
জুলাই অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ ও গুরুতর আহতদের চিকিৎসায় চট্টগ্রামে বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে এই বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা প্রতিদিন আহতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং উন্নত চিকিৎসা পরামর্শ দিচ্ছেন।শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় এ থথ্য নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দু‘বছর পেরিয়ে গেলেও চট্টগ্রামের বহু আহত জুলাই যোদ্ধা এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। শরীরে বাসা বাঁধা গুলির স্পিøন্টার, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা কিংবা অঙ্গহানির কারণে প্রতিনিয়ত শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন তারা।তিনি বলেন, আন্দোলনে আহত অনেকের চিকিৎসায় দীর্ঘমেয়াদি তদারকি প্রয়োজন হচ্ছে। সে কারণেই বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এখানে প্রতিদিন আসা রোগীদের অবস্থা দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হচ্ছে। যাদের উন্নত বা জটিল অস্ত্রোপচার দরকার, তাদের দ্রুত বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে ৯ জন শহীদ এবং ৫৪৪ জন আহত হিসেবে নিবন্ধিত রয়েছেন। আঘাতের তীব্রতা অনুযায়ী আহতদের তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে সরকার। এর মধ্যে অঙ্গহানি বা পঙ্গুত্বের ঝুঁকিতে থাকা অতি-গুরুতর এ ক্যাটাগরিতে আছেন ৬ জন। গুরুতর বি ক্যাটাগরিতে ৩৩ জন। কম গুরুতর সি ক্যাটাগরিতে আছেন ৫০৫ জন।দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও জটিলতা নিরসনে গঠিত এই বোর্ডের মাধ্যমে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জন আহতকে নিয়মিত সেবা দেওয়া হচ্ছে। সার্জারি, অর্থোপেডিক্স, চক্ষু, নাক-কান-গলা ও মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞরা রোগীদের শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করে পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করছেন। বোর্ডে চিকিৎসাধীনদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নির্দেশনা, ওষুধ দেওয়া ছাড়াও অর্থোপেডিক প্লেট অপসারণ এবং জটিল চোখের রোগীদের বিশেষায়িত চক্ষু হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
১ মাস ১৯ দিন আগে
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। সেই বিবেচনায় বিএনপির উচিত হবে এমন লোককে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা, যিনি সর্বজনীন গ্রহণযোগ্য এবং আনুগত্যশীল ও প্রাজ্ঞ। এমন ব্যক্তিকে বাছাই করতে হবে, যিনি জিয়া পরিবারের প্রতি তো বটেই, দলের প্রতি অবশ্যই আনুগত্যশীল থাকতে হবে। এটা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেই বাছাই করতে হবে।
১ মাস ১৯ দিন আগে
হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে আয়োজিত কর্মসূচিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটেছে।বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর জামালখান এলাকায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানান সিএমপির কোতোয়ালি থানার এসআই মাসুম বিল্লাহ।তিনি বলেন, বুধবার সন্ধ্যার দিকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করছিল এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগর শাখা। সমাবেশ শেষের দিকে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে এনসিপি কর্মীদের টানা-হেঁচড়া ও হাতাহাতি শুরু হয়।এতে কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করে বক্তব্য দিয়েছে। এতে উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে গিয়ে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, আমাদের কর্মসূচি শেষের দিকে বিএনপি নেতা শাহেদ বক্সের নেতৃত্বে একদল কর্মী এসে আমাদের ঘিরে ধরে। তারা আমাদের নেতাকর্মীদের জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আমরা বাধা দিলে হাতাহাতি শুরু হয়।একপর্যায়ে বিএনপি নেতা শাহেদ বক্স আমাদের ওপর চড়াও হন এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কথা বললে লাশ ফেলার হুমকি দেন। আমরা পরিষ্কার বলেছি, কর্মসূচি পালন করা ও সমালোচনা করা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার।অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম স¤পাদক শাহেদ বক্স জানান, আমি জিমে যাওয়ার পথে প্রেস ক্লাবের কাছে ছাত্রদলের কিছু সদস্যকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে গাড়ি থেকে নামি।তারা জানায়, এনসিপি নেতারা তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করছেন। আমি তাদের নিবৃত্ত করি এবং জানাই যে প্রতিবাদ জানাতে হলে পরদিন আলাদাভাবে কর্মসূচি করা হবে। আমি নিজেই উদ্যোগ নিয়ে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দিয়েছি। তা না হলে সেখানে বড় ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটতে পারত।
১ মাস ২১ দিন আগে
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিস্থল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও জাতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্ন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক স¤পাদক মাহবুবের রহমান শামীম।তিনি বলেন, দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকা এই ঐতিহাসিক স্থানটি সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা হয়নি। চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রথম সমাধিস্থলকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করে আধুনিকায়ন করা হবে।বুধবার (২৯ জুলাই) বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক স¤পাদক মাহবুবের রহমান শামীম চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাঙ্গুনিয়া উপজেলাস্থ জিয়ানগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিস্থলে নেতাকর্মী এবং জেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের নিয়ে পু®পস্তবক অর্পণ শেষে তিনি একথা বলেন।শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে এবং বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের উদ্যোগে সমাধিস্থলটি সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে এটিকে একটি মর্যাদাপূর্ণ ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানে পরিণত করা হবে। এতে নতুন প্রজন্ম শহীদ জিয়া ও দেশের ইতিহাস স¤পর্কে জানার সুযোগ পাবে।১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে নির্মম হত্যাকান্ডের পর প্রথমে জিয়াউর রহমানকে রাঙ্গুনিয়ার এই স্থানে দাফন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁর মরদেহ ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের উত্তর পাশে স্থানান্তর করা হলেও এই প্রথম সমাধিস্থল ইতিহাসের অংশ হিসেবেই রয়ে গেছে।দীর্ঘদিন নানা কারণে এই ঐতিহাসিক স্থানটি অবহেলিত ছিল উল্লেখ করে শামীম বলেন, এমনকি বহু বছর সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের জন্যও এখানে অবাধে আসার সুযোগ ছিল না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষ আবারও এখানে এসে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন, যা প্রমাণ করে এই স্থানটির প্রতি জনগণের আবেগ ও গুরুত্ব আজও অটুট রয়েছে।মাহবুবের রহমান শামীম আরও বলেন, ইতিহাস কোনো ব্যক্তি, দল বা সরকারের স¤পত্তি নয়; ইতিহাস একটি জাতির স¤পদ। তাই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিস্থলকে যথাযথ মর্যাদায় সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এই স্থানকে পরিকল্পিতভাবে সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে একটি নান্দনিক ও দর্শনীয় ঐতিহাসিক স্মৃতিসৌধে পরিণত করা হবে।এখানে গবেষক, শিক্ষার্থী এবং ইতিহাস-অনুসন্ধানীদের জন্য তথ্যসমৃদ্ধ পরিবেশ গড়ে তোলা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস স¤পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করবে।দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আলী আব্বাস, নাজমুল মোস্তফা আমিন, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিএনপির সাবেক সভাপতি শওকত আলী নূর, দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান, সাবেক সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, মেজবাহ উদ্দীন জাহেদ, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক স¤পাদক রফিকুল ইসলাম, সদস্য প্রকৌশলী মেজবাহ উদ্দীন রাজু, উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি হাসান মোহাম্মদ জসীম, সাধারণ স¤পাদক এস এ মুরাদ চৌধুরী, সিনিয়র সহসভাপতি ইউসুফ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ স¤পাদক খোরশেদ আলম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ স¤পাদক মোজাম্মেল হক, সহ স¤পাদক আলম খান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ স¤পাদক মোহাম্মদ মহসিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব কামরুদ্দিন সবুজ ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ফিরোজ প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
১ মাস ২১ দিন আগে
নির্বাচনের আগে বিএনপির স্লোগান ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’, কিন্তু নির্বাচনের পরে কর্মকাণ্ডে ‘সবার আগে বিএনপি’—এমন চিত্রই দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার।মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেছেন তিনি। সম্প্রতি ছাত্রদলের তিন নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ গ্রেডে উপপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাকে সামনে এনে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে দলীয়করণের অভিযোগ করেছে জামায়াত।দলটির দাবি, সম্প্রতি ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহসভাপতি আব্দুল্লাহ আল নোমানকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (বিডা) এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সহসভাপতি মেহেদী হাসান আবিরকে মহেশখালী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে ষষ্ঠ গ্রেডের উপপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক রাকিবুল হাসান রাকিবকেও ষষ্ঠ গ্রেডের উপপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপির ৩১ দফার নবম দফায় ‘সংকীর্ণ রাজনৈতিক দলীয়করণের ঊর্ধ্বে’ উঠে রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করা হয়েছিল। কিন্তু সরকার গঠনের পাঁচ মাসের মধ্যেই বিএনপি বিভিন্ন সাংবিধানিক, সংবিধিবদ্ধ, স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেওয়া শুরু করেছে।স্থানীয় সরকার নির্বাচন না দিয়ে বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সামসুল আলমের নিয়োগের বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে বিশেষভাবে তুলে ধরেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।তার দাবি, সামসুল আলম অতীতে বিএনপির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে গঠিত সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ-সংক্রান্ত একটি কমিটির সদস্য ছিলেন।গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, যার নিরপেক্ষতা ও জনআস্থা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একজনকে নিয়োগ দেওয়া হলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।‘বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ৬৭ বছর বয়সী একজন ব্যক্তিকে পুনরায় এত স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে আনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না’,-বলে মন্তব্য করেন তিনি।সামসুল আলমের নিয়োগ অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেছেন, এই নিয়োগ বহাল থাকলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। এ অবস্থায় নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি বিরোধী দলগুলোকে পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে।সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের রাষ্ট্রীয় সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার একটি তালিকাও তুলে ধরে জামায়াত।দলটির দাবি, বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক রাশেদুল হককে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক করা হয়েছে। বিএনপির ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক এটিএম আব্দুল বারী ড্যানিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের চেয়ারম্যান এবং রংপুর বিভাগীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেককে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে।এ ছাড়া বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সহসম্পাদক কাজী রওনকুল ইসলাম টিপুকে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে।বিএনপির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এবং রাজশাহীর সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মোহাম্মদ কামরুজ্জামানকে জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির কার্যকরী সভাপতি সালাউদ্দিন সরকারকে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক করা হয়েছে।এ ছাড়া বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুজ্জামান সুরুজকে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান, যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি জাকির হোসেন সিদ্দিকীকে বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মামুন হাসানকে বাংলাদেশ পাট করপোরেশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।গোলাম পরওয়ার বলেছেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় নেতাদের বসানোর মাধ্যমে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যা অতীতে আওয়ামী লীগের আমলে দেখা দলীয়করণের পুনরাবৃত্তি। নাম পরিবর্তন হলেও, চরিত্রের পরিবর্তন হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় পরিচয় নিয়োগের প্রধান যোগ্যতা হয়ে উঠছে।
১ মাস ২২ দিন আগে
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংঘটিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া অনেক আগে শেষ হলেও এর নেপথ্যের পরিকল্পনা, সহায়তাকারী ব্যক্তি কিংবা সম্ভাব্য বৃহত্তর ষড়যন্ত্র নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে আজও।সম্প্রতি মামলার পলাতক আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে গ্রেফতারের পর তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। সূত্রগুলোর দাবি, তার জিজ্ঞাসাবাদে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসছে, যা শুধু তার ব্যক্তিগত ভূমিকা নয়, বরং হত্যাকাণ্ডের আগে-পরে সংঘটিত নানা ঘটনার নতুন ব্যাখ্যা এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে পেতে সহায়ক হতে পারে।সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. সারোয়ার হোসেনের মতে, একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি কীভাবে এত দীর্ঘ সময় পরিচয় গোপন রেখে বিদেশে অবস্থান করতে সক্ষম হন এবং পরবর্তী সময়ে কীভাবে বাংলাদেশে ফিরে প্রায় তিন দশক আত্মগোপনে থাকতে পেরেছিলেন। এই পুরো সময়ে তার যোগাযোগ, আশ্রয়, অর্থায়ন এবং সহযোগীদের পরিচয় উদঘাটন করাই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের ভাষ্য, বর্তমানে সেনা হেফাজতে থাকা মোজাফফরের কাছ থেকে তার দীর্ঘ পলাতক জীবন, বিদেশে অবস্থান, সহযোগী নেটওয়ার্ক এবং ঘটনার সময়কার সামরিক যোগাযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এসব তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের পেছনের ঘটনাপ্রবাহ আরও স্পষ্ট হতে পারে।জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, জিয়া হত্যাকাণ্ডের পর মোজাফফর সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। সেখানে দীর্ঘ সময় ভিন্ন পরিচয়ে অবস্থান করার পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে ভারতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশেও ভ্রমণ করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর দাবি করেছেন, ১৯৯৮ সালে তিনি গোপনে বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে ছদ্মপরিচয়ে বসবাস করেন। পরে রাজধানীর একটি আবাসিক এলাকায় পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলেও নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন রাখেন। তদন্তকারীরা এখন অনুসন্ধান করছেন, এত বছর তিনি কীভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলেছেন এবং এই সময়ে তাকে কারা সহযোগিতা করেছে। মোজাফফরের বিরুদ্ধে নতুন করে সামারি অব এভিডেন্স, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং পরবর্তী কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তার ভাষায়, বিচার চলাকালে অনেক অমীমাংসিত বিষয় সামনে আসতে পারে। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, পলাতক থাকার পেছনের সহযোগিতা, তৎকালীন সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন বিতর্কিত প্রশ্ন আদালতের আলোচনায় উঠে আসার সুযোগ রয়েছে।জানা গেছে, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে সুচতুর মোজাফফর কৌশলে ভারতে পালিয়ে যান। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ দীর্ঘদিন ধরে তাকে প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা ও নিরাপদ আশ্রয় দিয়ে আসছিল। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতায় আত্মগোপনে ছিলেন। সে সময় ‘বিপ্লব সরকার’ এবং ‘জয় ব্যানার্জি’ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। ১৯৯৬ সালে তিনি অত্যন্ত গোপনে দেশে ফিরে আসেন এবং বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমল থেকে নির্বিঘ্নে জীবন কাটিয়ে যাচ্ছিলেন। কললিস্টের সূত্র ধরেই দীর্ঘ ৪৫ বছর পর গত বুধবার রাতে ঢাকার বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে পরদিন বৃহস্পতিবার। ওই দিন সন্ধ্যায় তাকে সেনা হেফাজতে দেওয়া হয়।এরপর গত শুক্রবার মোজাফফরকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে চট্টগ্রাম ক্যান্টমেন্টের সামরিক আদালতের হেফাজতে নেওয়া হয়। যেহেতু চট্টগ্রাম ক্যান্টমেন্টের কয়েকজন বিপথগামী অফিসারের নেতৃত্বে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল এবং সেখানেই ওই ঘটনার বিচার হয়েছিল তৎকালীন সময়ে, তাই নিয়মানুযায়ী তাকে সেখানে পাঠানো হয়।রোববার (১৯ জুলাই) রাতে মিলিটারি পুলিশ (এমপি) এবং আর্মি সিকিউরিটি ইউনিটের (এএসইউ) তত্ত্বাবধানে সামরিক বাহিনীর বিমানে তাকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে আনা হয়েছে। সেখানে তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাপারে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে গ্রিন সিগন্যাল পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। তবে এক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এককভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, নাকি সামরিক বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি, ডিজিএফআই, এনএসআই, ডিবি পুলিশ কিংবা এসবি এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক ব্যক্তিত্বদের সমন্বয়ে কোন টাস্কফোর্সের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।সংশ্লিষ্ট অনেকে জানিয়েছেন, পলাতক মেজর মোজাফফরকে গ্রেফতারের মাধ্যমে ইতিহাসের দায়মোচনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিদেশি নেপথ্য কুশলী যারা রয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের অপ্রকাশিত মাস্টারমাইন্ড কারা? টাস্কফোর্স কিংবা কমিশন গঠনের মাধ্যমে মুজাফফরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তা বেরিয়ে আসবে। ফলে দেশের মানুষ জানতে পারবে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়ককে কীভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জিয়া হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসের এমন একটি অধ্যায়, যার অনেক প্রশ্নের এখনও সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি। ফলে মোজাফফরের গ্রেফতার এবং জিজ্ঞাসাবাদ তদন্তের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া প্রতিটি তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই, প্রমাণ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা। কারণ একটি ঐতিহাসিক ও সংবেদনশীল হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য উদঘাটন কেবল রাজনৈতিক নয়, রাষ্ট্রীয় ইতিহাসের স্বার্থেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, জিয়া হত্যাকাণ্ড ঘিরে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহলের সম্পৃক্ততা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা দাবি ও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সম্ভাব্য ভূমিকা, তৎকালীন সামরিক নেতৃত্বের ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিভিন্ন লেখক, গবেষক ও বিশ্লেষক ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মোজাফফরের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করা হয় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। পরে ওই ঘটনায় সামরিক আদালতে বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করা হয়। মোজাফফর হোসেন ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম।অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই সেনা কর্মকর্তা স্বাধীনতার পর জাতীয় রক্ষীবাহিনীতে (জেআরবি) কমিশন পান। পরে বিতর্কিত রক্ষীবাহিনী বিলুপ্ত হয়ে সেনাবাহিনীতে একীভূত হলে তিনি সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হন। ১৯৮১ সালে তিনি ২৪ পদাতিক ডিভিশনে কর্মরত ছিলেন।
১ মাস ৩০ দিন আগে
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক স¤পাদক মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম।রবিবার (১৯ জুলাই) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ (জেলা পরিষদ শাখা) থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনে যুগ্ম সচিব খন্দকার ফরহাদ আহমদ সই করেন।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী নতুন জেলা পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করবেন। জেলা পরিষদ আইন, ২০০০-এর ধারা ৮২ক(৩) অনুযায়ী তিনি সব ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। একই সঙ্গে প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী তিনি ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।মাহবুবের রহমান শামীম বর্তমানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক স¤পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে বিএনপির মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মাহবুবের রহমান শামীম। তবে ওই আসনে বিজয়ী হন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ।
২ মাস আগে
৪০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা শিল্পপতি বা ব্যবসায়ীকে ইন্সপেক্টর লেভেলের একজন এনবিআর কর্মকর্তা এসে অকারণে যন্ত্রণা দেয়, ঘুষ নিয়ে তারপর শান্ত হন। ওই শিল্পপতি তো মনোবল হারাবেন। চট্টগ্রামের শিল্পপতি বা ব্যবসায়ীদের মনোবল বাড়ানোর মতো ইন্সপেক্টর দরকার। এতে সরকারের রাজস্ব আরো বাড়বে।
২ মাস ২ দিন আগে
চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) প্রতিষ্ঠান এক্সাবাইট লিমিটেড এবং ইন্টারনেট সেবাদাতা (আইএসপি) প্রতিষ্ঠান ডিডিএন (ডিজিটাল ডট নেট)-এর কার্যালয়ে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের দাবি, দুই কোটি টাকা চাঁদা না দেওয়ায় বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারীরা এ হামলা চালায়। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে এটি একটি সাজানো ঘটনা।সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা এক্সেস রোড এলাকায় ডিজিটাল ডটনেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে এই হামলা হয়। ভুক্তভোগী সূত্র জানায়, ১৫-২০ জনের একটি সশস্ত্র দল সোমবার দুপুরে হঠাৎ অফিসে ঢুকে ক¤িপউটার, আসবাবপত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। এ সময় কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য অফিসে রাখা ৩৫ লাখ টাকা, কয়েকটি মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ নিয়ে যায়।ডিডিএনের পরিচালক রিদোয়ানুল কবির বলেন, দুই দিন আগে মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন নামে একজন ফোন করে তাদের কাছে দুই কোটি টাকা এবং মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করার পর সোমবার দুপুরে ১৫-২০ জন অস্ত্রধারী অফিসে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। প্রতিষ্ঠানের হেড অব সেলস মো. রবিউল হোসাইন রাকিব জানান, হামলার সময় অস্ত্রধারীরা কর্মচারীদের বেতনের জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা, মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ নিয়ে গেলেও আমাদের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর ওপর শারীরিক হামলা চালায়নি। সব মিলিয়ে আমাদের প্রায় ৮০-৯০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।তবে অভিযুক্ত ডেভিড ইমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, এক্সাবাইট ও ডিডিএনের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক স¤পর্ক রয়েছে। প্রাপ্য অর্থ ফেরত চাইতেই তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। আমি বা আমার কোনো লোকজন ওই হামলা, ভাঙচুর কিংবা লুটপাটের সঙ্গে জড়িত নই। আমার ন্যায্য পাওনা পরিশোধ না করতেই পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনার দায় আমার ওপর চাপানো হচ্ছে।এদিকে মুঠোফোনে চাঁদা দাবির কথোপকথনের বিষয়ে জানতে চাইলে ডেভিড ইমন বলেন, আমার সঙ্গে হওয়া কথোপকথনের কল রেকর্ডটি কেটে-ছেঁটে প্রকাশ করা হয়েছে। ব্যবসায়িক আলোচনার অংশ বাদ দিয়ে সেটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।এদিকে খবর পেয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাবিবুর রহমান এবং চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ওসি নুর হোসেন মামুন জানান, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।পুলিশ জানায়, এর আগে গত ৯ মে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে বিপ্লব দে পার্থ নামের এক সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে।এছাড়া গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং ২ জানুয়ারি ডিডিএন কার্যালয়ের পাশেই স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক মজিবুর রহমানের বাসায় চাঁদার দাবিতে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। মোবারক হোসেন ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে।এছাড়া ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকায় জোড়া খুন এবং ২৩ মে পতেঙ্গায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ মোট সাতটি মামলার আসামি ইমন। বড় সাজ্জাদের দলের নেতৃত্ব দেওয়া সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ বর্তমানে কারাগারে থাকায় মোবারক হোসেন ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান এখন চাঁদাবাজির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মোহাম্মদ রায়হানের বিরুদ্ধেও অন্তত আটটি মামলা রয়েছে এবং এই বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার সক্রিয় রয়েছে বলে পুলিশের দাবি।
২ মাস ৬ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় মৃত্যুর কয়েক মাস পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা আয়োজন করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত খামেনির জানাজাকে ঘিরে বড় আয়োজনের পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ।কর্মকর্তারা তেহরান, কোম ও মাশহাদ এবং ইরাকের নাজাফ ও কারবালা জুড়ে কয়েক দিনের কর্মসূচি চূড়ান্ত করেছেন। ইরান সরকার জানাজায় উপস্থিতির সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। জানাজাকে একটি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনুষ্ঠানে পরিণত করার চেষ্টা করছে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটি।ইরাক নিশ্চিত করেছে, রাজধানী বাগদাদের দক্ষিণে অবস্থিত শিয়াদের দুটি পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। ইরাকের পপুলার মবিলাইজেশন ইউনিটস এই অনুষ্ঠানগুলো কভার করার জন্য স্থানীয় ও বিদেশি গণমাধ্যমকে স্বীকৃতিপত্রের জন্য নিবন্ধন করতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।ইরানের আধা সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানাজা ও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের একটি সময়সূচি প্রকাশ করেছে। সূচি অনুসারে, ৩ জুলাই তেহরানে বিদেশি নেতা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য একটি সম্মাননা অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং ৪ ও ৫ জুলাই রাজধানীর ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় প্রকাশ্য বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।৬ জুলাই রাজধানীতে একটি জানাজা মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ৭ই জুলাই কোমে, ৮ই জুলাই নাজাফ ও কারবালায় এবং ৯ই জুলাই মাশহাদে আরও অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেটিকে ইরানের শিয়াদের আধ্যাত্মিক রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এই শহরটি খামেনির নিজ শহর এবং তাকে সেখানেই ইমাম রেজার মাজারে দাফন করা হবে, যা শিয়া ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থান এবং একটি প্রধান তীর্থস্থান।খামেনির জানাজায় অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে ইরান যাচ্ছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন। বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে এ জানাজার নামাজে অংশ নেবেন এবং এ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আগামী ২ জুলাই তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের আমন্ত্রণে খামেনির জানাজায় অংশ নেবেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তেহরান যাচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বুধবার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এনসিপির একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তিনিই তেহরান যাচ্ছেন।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ইতোমধ্যে ইরান দূতাবাসে ভিসার জন্য আবেদন করেছেন। তবে এখনো ভিসা না পাওয়ায় বিমানের টিকিট কাটতে পারেননি। ফলে তিনি কবে এবং কোন ফ্লাইটে ঢাকা ছাড়বেন, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।এছাড়া আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দলও যাচ্ছে তেহরানে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে আছেন জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। প্রতিনিধিদলে রয়েছেন মো. নুরুল আমীন, ড. মো. কেরামত আলী ও ডা. এসএম খালিদুজ্জামান। আগামী ৩ জুলাই ঢাকা ত্যাগ করবে এ দলটি। প্রতিনিধিদলটি ৯ জুলাই পর্যন্ত ইরান সফর করবে।
২ মাস ১৮ দিন আগে
চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুন্ড আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থীতা বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ। ফলে শপথ নেওয়া আর হলো না নির্যাতীত এ নেতার। মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন। এর আগে গত ১৫ জুন শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৩০ জুন দিন ধার্য করেছিলেন। আসলাম চৌধুরীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী রোকন উদ্দিন মো. ফারুক। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল শুনানিতে অংশ নেন। ব্যাংক এশিয়া পিএলসির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামাল উল আলম শুনানি করেন।রায় শেষে সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, প্রার্থীতা বাতিল হওয়ায় চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুন্ড আসনে নতুন করে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা আছে। ফলে এ আসনে নতুন করে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন ভোটাররা। রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপির অপেক্ষায় ইসিবিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থীতা বাতিলের পর চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুন্ড আসনে নতুন করে সংকট দেখা দিয়েছে। এই আসনে নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী করণীয় কী হবে তা নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। আসনটিতে নতুন করে নির্বাচন হবে নাকি, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী করা হবে তা নিয়ে চলছে আলোচনা। এসব নিয়ে কমিশনও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।নির্বাচন কমিশন (ইসি) আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। এরপর আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে কমিশন সূত্র জানায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বশির আহমেদ বলেন, আদালতের আদেশ দেখেছি। কিন্তু এখন পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হবে তা পূর্ণাঙ্গ রায় আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আমাদের আইন অনুবিভাগ বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে। একইভাবে ঋণখেলাপির কারণে প্রার্থীতা বাতিল হওয়া আসলাম চৌধুরীও পূর্ণাঙ্গ রায়ের জন্য অপেক্ষা করছেন। পূর্ণাঙ্গ রায় দেখে তিনি রিভিউ করবেন বলে জানিয়েছেন। আসলাম চৌধুরী জানান, আদালতের রায়ের ওপর মন্তব্য করা যায় না। তবে জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটেনি। পূর্ণাঙ্গ রায়ে কী আছে দেখে রিভিউ করব। আমি রিটার্নিং কর্মকর্তা, নির্বাচন কমিশন সব জায়গায় বৈধ ছিলাম। রিভিউতে কী আসে দেখি। এর পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কারাগারেই জীবন কাটে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর। উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরী জয়লাভ করেন। কিন্তু ঋণখেলাপি সংক্রান্ত লিভ টু আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় আদালতের নির্দেশে সরকারিভাবে তার ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখা হয়। এর আগে গত ২০ জুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থীতা নিয়ে আপিল শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরি (আদালত বন্ধু) হিসেবে মতামত দিতে দু‘জন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীকে মনোনয়ন দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। তারা হলেন এম কামরুল হক সিদ্দিকী ও প্রবীর নিয়োগী। একই সঙ্গে আসলাম চৌধুরীর আপিল আবেদন শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ঠিক করেছিলেন আপিল বিভাগ। এরও আগে গত ৯ জুন আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার বিরুদ্ধে ব্যাংকটির করা আপিল আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়।এর আগে গত ৩ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করেন। তবে তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক।শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন ওই আপিল খারিজ করে দিলে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থীতা বহাল থাকে। ইসির এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক রিট আবেদন করে অভিযোগকারী পক্ষ। পরে ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট শুনানি শেষে রিট আবেদন দুটি খারিজ করে দেন।টেনশনে ফটিকছড়ি আসনের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরওআসলাম চৌধুরীর মতো চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বেসরকারিভাবে জয়ী বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের ফলাফলও ঋণ খেলাপিজনিত মামলার কারণে ঘোষণা করা হয়নি। ওই লিভ টু আপিলটিও শুনানি পর্যায়ে রয়েছে। আসলাম চৌধুরীর রায়ের পর সরোয়ার আলমগীরের অবস্থা কী দাঁড়ায় তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। এ নিয়ে মহা টেনশনে আছেন বলে জানান সরোয়ার আলমগীরও। তবে এর বাইরে কোনোরকম মন্তব্য করতে রাজী হননি তিনি।
২ মাস ২০ দিন আগে
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আবার রাজনীতির মাঠে ফিরতে চায় জামিনে থাকা পাঁচ নেতার কাঁধে ভর করে। এরই মধ্যে তাদের নেতৃত্বে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে সাংগঠনিক তৎপরতা শুরুর আভাসও দেখা যাচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গত ৭ জুন ‘ছয় দফা দিবস’ এবং ১১ জুন শেখ হাসিনার ‘কারামুক্তি দিবস’কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তৎপরতা, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির বিস্তারিত মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে।জামিনে মুক্ত থাকা কয়েকজন শীর্ষ নেতার নির্দেশনায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড জোরদারের পাশাপাশি সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ফিরে আসা পলাতক নেতাকর্মীদের মাধ্যমেও সাংগঠনিক যোগাযোগ সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং বিভিন্ন ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য, নির্দেশনা ও প্রচার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হতে পারে। এর মাধ্যমে দলটির নেতাকর্মীদের ফের সক্রিয় করার প্রচেষ্টা লক্ষ করা যাচ্ছে।গোয়েন্দা প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণ অংশ এবং একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিদেশে অবস্থানরত পলাতক নেতাদের কেউ কেউ সীমান্ত দিয়ে দেশে এসে দলকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছে বলে অনেকের ধারণা রয়েছে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা এবং ক্রমাগত পুশইন চেষ্টার বিষয়টি প্রচার হওয়ায় পলাতক নেতাকর্মীরা দেশে ফিরে আসছেন।নিজেদের এলাকায় না থেকে পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থান নিয়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা, থানা, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে। এ কারণে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোয় নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।পাঁচ নেতার কর্মকাণ্ডে নজরদারিপুলিশ সদর দপ্তরের সেই প্রতিবেদনের সুপারিশ অংশে জামিনে মুক্ত থাকা কয়েকজন উচ্চপর্যায়ের নেতার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন সাবের হোসেন চৌধুরী, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, মেজর জেনারেল (অব.) সালাহ উদ্দিন মিয়াজী, ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। বলা হয়েছে, এসব নেতার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, এফ এম রহমত উল্লাহ এবং তোফায়েল আহমেদের জানাজা ঘিরেও বেশ সমাগম দেখা গেছে। নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের যোগাযোগ তৈরির সুযোগও সৃষ্টি হয়।এর বাইরে ‘দায়মুক্তি’ শিরোনামে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে পর্বভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় করার জন্য তাদের উজ্জীবিত করছেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অপতথ্য ছড়ানো সংক্রান্ত সাইবার প্যাট্রলিং ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোসহ বিটিআরসির মাধ্যমে অপতথ্য দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে গোপনীয় প্রতিবেদনে।গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাজধানীর গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ী, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, ধানমন্ডি, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের অনেকেই সাংগঠনিক যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছেন। দেশের আরও অনেক এলাকায় একই ধরনের তৎপরতার তথ্য পাওয়া গেছে।চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি থেকে ১৫ মে পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের অন্তত ৬৭৮টি কর্মসূচির তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ১৭ মে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল, বিক্ষোভ, লিফলেট বিতরণ, পোস্টারিং ও মানববন্ধনের মতো কর্মসূচির তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন স্থানে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা, মিছিল, পোস্টারিং, লিফলেট বিতরণ বা অনলাইন প্রচারণার তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, সামনের দিনগুলোয় নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের তৎপরতা, সীমান্ত দিয়ে প্রবেশকারী পলাতক নেতাকর্মী এবং জামিনে থাকা শীর্ষ নেতাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি জোরদার করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।৬ জেলায় সেনা মোতায়েনএদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেন্দ্র করে তিন মহানগর এলাকা ও তিন জেলায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সোমবার থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে। এলাকাগুলো হলো— ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগর এবং নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলা।পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে পুলিশের সব ইউনিটে। তারা এপিবিএন, র্যাব সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবেন। বিজিবির সহায়তাও চাওয়া হয়েছে। পোশাকে এবং সাদা পোশাকে আমাদের ফোর্স দায়িত্ব পালন করবে।যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের কিছু অপতৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় আমরা দেখেছি, তারা মিছিল-মিটিং করার মতো কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, দু-এক জায়গায় দেখেছি। তাতে আমাদের মনে হয়েছে, তারা হয়তো একটি অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করলেও করতে পারে। এ বিবেচনায় আমরা আমাদের সব বাহিনীকে সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি, যা সবসময় থাকে।পুলিশ কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারছে না— এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘গত ১৫ জুন সারা দেশ থেকে সেনাসদস্যদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। তারা দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর মাঠে ছিল, ইনটেরিম গভর্নমেন্টের সময় থেকে। আমরা নির্বাচিত সরকার আসার পর যত দ্রুত সম্ভব তাদের মাঠ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু এখন আমরা কয়েকটা জায়গায় ডেপ্লয় করতে যাচ্ছি, সেটার সঙ্গে ওই পরিস্থিতির কোনো মিল নেই। এটা ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার।’
২ মাস ২৮ দিন আগে
চট্টগ্রামের রাউজানে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অন্তত পাঁচজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে দেখা গেছে ভিডিও ফুটেজে। পুলিশ তাদের সবার পরিচয় শনাক্ত করেছে। পুলিশের ভাষ্য, দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারী ‘রায়হান বাহিনীর ক্যাডাররা মাসুদকে খুন করেছে। বড় সাজ্জাদ দুবাইয়ে পলাতক থাকলেও সেখানে বসে হত্যার হুমকি দেয়। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর চট্টগ্রাম মহানগর থেকে রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় যে ২৬টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে, সবকটি হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত বড় সাজ্জাদের ক্যাডার বাহিনী। কর্ণফুলী নদীর বালুর ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দুর্ধর্ষ এই সন্ত্রাসী একের পর এক হত্যাকান্ড ঘটিয়ে যাচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্টরা জানান, যেসব হত্যাকান্ড হয়েছে তার বাইরে আরও হত্যাকান্ডের ঘটনা অপেক্ষমান রয়েছে। সন্ত্রাসীরা গোপনে নয়, প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটাচ্ছে। চট্টগ্রাম মহানগর ও রাউজান-রাঙ্গুনিয়া উপজেলার আরও কয়েকজনকে হত্যার হুমকি দিয়ে রেখেছে বড় সাজ্জাদ বাহিনী। শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে (৪৫) গুলি করে খুন করা হয়। এর আরও এক মাস আগে তাকে খুন করার হুমকি দেওয়া হয়। যা প্রকাশ্যে গুলি করে হুমকির বাস্তবায়ন করেন সন্ত্রাসীরা। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কর্ণফুলী নদী থেকে অবৈধ বালু তোলা নিয়ে বিবাধে জড়িয়ে পড়ে রাউজানের আরেক সন্ত্রাসী ফজল হক গ্রুপ ও বড় সাজ্জাদ গ্রুপ। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ গত ৫ আগষ্ট সরকার পরিবর্তনের পর ফজল হক গ্রুপের পক্ষে কর্ণফুলী নদী থেকে বালু তোলার সাথে জড়িয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে বেতাগি এলাকায় মজুত করা বালুর অর্ধেক ভাগ চাই বড় সাজ্জাদ। কিন্তু বিপরীতে হুঙ্কার ছাড়ায় প্রাণ দিতে হয়েছে মাসুদকে। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান স্বপনের ভাই। রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন স্থানীয় রাজনীতিতে।হত্যাকান্ডের পর পাহাড়তলি বাজারের সিসি ক্যামেরায় সংরক্ষিত হত্যাকান্ডের দৃশ্য যাচাই-বাছাই করে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, অস্ত্র হাতে পাঁচজনকে দেখা গেছে। এর বেশি থাকতে পারে। তবে যে পাঁচজনকে দেখা গেছে, তাদের সবার পরিচয় আমরা নিশ্চিত হয়েছি। তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় প্রকাশ সম্ভব নয়। তবে তারা বড় সাজ্জাদ গ্রুপের রায়হান বাহিনীর দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী এটা নিশ্চিত। যদিও তাদের মধ্যে রায়হানকে দেখা যায়নি।তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বড় সাজ্জাদ গ্রুপের রায়হান বাহিনীতে রাউজানের স্থানীয় সন্ত্রাসী ছাড়াও যোগ দিয়েছে ফটিকছড়ি আওয়ামী লীগের দুর্ধর্ষ তৈয়ব বাহিনীর সন্ত্রাসীরা। যারা মিলেমিশে রাউজান-রাঙ্গুনিয়াসহ চট্টগ্রাম মহানগরকে আতঙ্কের জনপদ বানিয়ে ফেলেছে। সূত্র জানায়, হত্যার ঘটনাস্থল পাহাড়তলি চৌমুহনী বাজারের আধা কিলোমিটারের মধ্যেই পুলিশের রাঙ্গুনিয়া সার্কেল কার্যালয়। ভিডিও দৃশ্যে দেখা গেছে, হত্যাকান্ডে অংশ নেওয়া পাঁচজনই ছিলেন সশস্ত্র। কালো মুখোশ পরা একজনের হাতে শটগান দেখা গেছে। তিনজনের হাতে পিস্তল এবং আরও একজনের হাতে শটগান ছিল।ফেসবুকে রবিবার সকাল থেকে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওতে দেখা গেছে, গুলিবর্ষণের মুখে মাসুদ দৌড়ে একটি দোকানের সামনে এসে গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন। তিন অস্ত্রধারী পেছন থেকে এসে লুটিয়ে পড়া মাসুদকে আবারও গুলি করে। এর ২০ সেকেন্ড পর মুখোশ পরা এক অস্ত্রধারী এসে আবার মাসুদকে গুলি করে। মৃত্যু নিশ্চিত করে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে অস্ত্রধারীরা একটি অটোরিকশায় উঠে দ্রুত চলে যায়।প্রকাশ্য অস্ত্রধারীদের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম। তারা হলেন-দিদার, ধামা ইলিয়াছ, আবছার ও ইউছুফ। জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, হত্যাকারীদের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের একটি ব্যাকআপ টিমও ছিল বলে তাদের সন্দেহ। তারা দূরে অবস্থান করায় ভিডিওতে ধরা পড়েনি।মাসুদ টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হয়েছেন বলে জানালেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন, নিহত ব্যক্তি বালু উত্তোলনের ব্যবসা করতেন। রাজনীতিও করতেন। আমরা প্রাথমিক তদন্তে বালু ব্যবসার বিরোধে হত্যাকান্ড বলে জানতে পেরেছি। তবে রাজনৈতিক কোনো বিরোধের তথ্য পাইনি। আরও তদন্ত চলছে। লোকজন খুবই আতঙ্কগ্রস্ত। কেউই মুখ খুলছে না।নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানালেন, মাসুদ রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তার বড় ভাই মুহাম্মদ পিয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। তাদের অভিযোগ, এলাকায় জনপ্রিয় হওয়ায় মাসুদকে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরিয়ে দিতে খুন করা হয়েছে।মাসুদকে যে স্টাইলে খুন করা হয়েছে একইভাবে রাউজানে আরও হত্যাকান্ড ঘটেছে। ২০২৫ সালের ৭ জুলাই উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ঈশান ভট্টেরহাট বাজারে খুন হন উপজেলা যুবদল নেতা মুহাম্মদ সেলিম। বোরকা পরা দুই যুবকসহ চার-পাঁচজন অটোরিকশায় এসে সেলিমকে প্রকাশ্যে লোকজনের সামনে গুলি করে খুন করেন। এরপর অটোরিকশায় করে দ্রুত চলে যান।গত ২৬ এপৃল কদলপুর ইউনিয়নের শমসেরপাড়ায় যুবদল কর্মী মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন তালুকদারকে রাতের আঁধারে গুলি করে হত্যা করা হয়। রাউজানে নাসির হত্যার জেরে গত ৭ মে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ এলাকায় ২৪ বছরের যুবক মোহাম্মদ হাসান রাজুকে গুলি করে একই কায়দায় খুন করা হয়।একই স্টাইলে প্রত্যেকটি হত্যাকান্ডের সঙ্গে সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী রায়হান বাহিনীর ক্যাডারদের স¤পৃক্ততা আছে বলে পুলিশের ভাষ্য।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই অশান্ত হয়ে ওঠে রাউজান। সর্বশেষ যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদসহ ২৬টি হত্যাকান্ড ঘটেছে। এর মধ্যে ২১টিই রাজনৈতিক হত্যাকান্ড। নিহতদের মধ্যে ১৯ জন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী।স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের আগে এই বালু তোলার কাজ চালিয়েছে আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক ও রাঙ্গুনিয়া আসনের এমপি ড. হাসান মাহমুদ। হাসান মাহমুদের ছোট ভাই এরশাদ মাহমুদ ও খালেদ মাহমুদ এই বালু তেলা নিয়ন্ত্রণ করতেন। এ সময় এ ধরণের খুনোখুনি বা সংঘর্ষের কোন ঘটনা ঘটেনি।
৩ মাস ৫ দিন আগে
চট্টগ্রামের রাউজানে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অন্তত পাঁচজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী অংশ নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের একজনের হাতে দেখা গেছে দুটি পিস্তল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ।শনিবার দুপুর ১টা ২২ মিনিটের দিকে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে গুলি করে মাসুদকে হত্যা করা হয়। মাসুদ (৪৫) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ স্বপনের ছোট ভাই। ঘটনাস্থলের ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, হামলাকারীদের তিনজনের হাতে মোট চারটি পিস্তল ছিল। একজনের কাছে ছিল জোড়া পিস্তল। অপর দুজনের একজনের হাতে ছোট বন্দুক এবং অন্যজনের হাতে ছিল একনলা বন্দুক। পুলিশ জানিয়েছে, পাঁচজনই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অংশ নেয় এ হত্যাকাণ্ডে । এরপর তারা পাহাড়তলী বাজারে দাড়িয়ে থাকা একটি সিএনজি অটোরিকশায় করে দ্রুত পালিয়ে যায়। রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়াত হোসেন বলেন, ‘ভিডিওচিত্র যেটা ছড়িয়ে পড়েছে সেটা এই হত্যাকাণ্ডেরই। আমরা বিশ্লেষণ করে দেখেছি। ওই ভিডিওচিত্রে আপাতত পাঁচজনকে অস্ত্র হাতে দেখা গেছে। তার মধ্যে একজনের হাতে দুটি পিস্তল ছিল। একটি একনলা বন্দুকও দেখা গেছে। ঘটনার পর সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে পালিয়ে যায় তারা। ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে কাউকে আটক করা যায়নি।প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, মাসুদুল হককে খুব কাছ থেকে মাথায় গুলি করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ঘটনাস্থলে আসে হামলাকারীরা আগে থেকেই ঘটনাস্থলে ওঁৎ পেতে থাকে।ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল দুই অস্ত্রধারী। তাদের একজনের পরনে ছিল কালো এবং অন্যজনের পরনে ধূসর রঙের টি-শার্ট। জলপাই রঙের টি-শার্ট পরা একজনকে একটি দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশার দিকে যেতে দেখা যায়। কালো টি-শার্ট পরা ব্যক্তি ক্যামেরার দৃশ্যসীমার বাইরে যেতেই শোনা যায় প্রথম গুলির শব্দ। এরপর গোলাপি রঙের টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে ছোট বন্দুক হাতে বের হয়ে পরপর তিনটি ফাঁকা গুলি ছোড়েন। গুলি করতে করতে অটোরিকশার পেছনের দিকে এগিয়ে যান তিনি। পরে জলপাই রঙের টি-শার্ট ও মাথায় টুপি পরা আরেকজনকে ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে অটোরিকশার দিকে যেতে দেখা যায়। তার হাতে ছিল দুটি পিস্তল। একই সময়ে অটোরিকশার সামনের আসন থেকে এক ব্যক্তি একনলা বন্দুক হাতে বের হয়ে আসে।ভিডিওচিত্রে আরও দেখা যায়, কালো, ধূসর ও গোলাপি রঙের টি-শার্ট পরিহিত তিন ব্যক্তি কয়েক সেকেন্ড পর আবার অটোরিকশার দিক থেকে পেছনের দিকে ফিরে আসে। তখন আরও চারটি গুলির শব্দ শোনা যায়, যদিও সেগুলো ক্যামেরায় ধরা পড়েনি। দুপুর ১টা ২২ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড থেকে ১টা ২৪ মিনিট ৪২ সেকেন্ড পর্যন্ত প্রায় এক মিনিট ৫৪ সেকেন্ডের মধ্যে থেমে থেমে এক ডজনেরও বেশি গুলির শব্দ শোনা যায়। তবে গুলি করার সময় মাসুদুল হককে ভিডিওচিত্রে দেখা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ক্যামেরার দৃশ্যসীমার বাইরে একটি ওষুধের দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, ধূসর রঙের টি-শার্ট পরা দুজন তাকে গুলি করে। কারণ ভিডিওচিত্রে তাদের পিস্তল হাতে অটোরিকশার দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। তাদের একজনকে ফাঁকা গুলি ছুড়তেও দেখা গেছে।স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে রাউজানে ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ পর্যন্ত প্রায় ২৩ জন রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।হত্যাকাণ্ডের পর বিক্ষুব্ধ বিএনপির নেতাকর্মীরা টায়ার জ্বালিয়ে কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করেন। পরে বিকেল ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।
৩ মাস ৬ দিন আগে
বাজেট উপস্থাপনের পর এই প্রথমবারের মতো বাজারে কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে সকালে যখন আমি ঢাকা থেকে প্লেনে উঠলাম, তখন প্লেনে পত্রিকা থাকে, আমি পত্রিকাগুলো দেখলাম কী কী নিউজ আছে। পত্রিকাগুলোর মধ্যে দেখলাম সবগুলো পত্রিকা কমবেশি একটি নিউজ করেছে যে, প্রতিবছর বাজেট উপস্থাপনের পরদিন বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যেত। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে গত পরশুদিন বাজেট উপস্থাপনের পর এই প্রথমবারের মতো কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি। তিনি বলেন, যেই বাজেট উপস্থাপন করলে জিনিসের দাম বাড়ে না, সেই বাজেট জনগণের পক্ষের বাজেট। এই বাজেটে আমরা বিভিন্ন ওষুধপত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন চিকিৎসার যে বিষয়গুলো ছিল, সেগুলোর ওপর থেকে আমরা ট্যাক্স কমিয়ে এনেছি। এর আগে শনিবার (১৩ জুন) দুপুরের দিকে কক্সবাজারের ডুলাহাজারার মালুম ঘাট সংরক্ষিত বনে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আমরা যদি এই বৃক্ষরোপণ অভিযানকে সফল করতে পারি, তাহলে আগামী দিনে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ঠিকভাবে পরিষ্কার শ্বাস নিতে পারবে। তিনি আরও বলেন, আসুন আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি দূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের গ্যারান্টি দেই, যেখানে তারা পরিষ্কার পরিবেশে বাস করবে।নির্বাচনের আগে দেশের মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের একটি ওয়াদা ছিল যে আমরা সরকার গঠন করতে পারলে দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করব। আমাদের লক্ষ্য থাকবে বছরে অন্তত পাঁচ কোটি গাছ লাগানো এবং সেই অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে। সারাদেশের জেলা প্রশাসকদের প্রতি অনুরোধ রেখে তিনি বলেন, নিজ নিজ জেলাকে সুন্দর সবুজ অভয়ারণ্য করার জন্য আপনারা উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। তিনি আরও বলেন, আমি আনুষ্ঠানিকভাবে আজকে এই বৃক্ষরোপণ অভিযানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি। আমাদের প্রত্যাশা এই যে, আগামী দিনে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে বুক ভরে মুক্ত শ্বাস গ্রহণ করতে পারে, সেরকম একটি পরিবেশ আমরা গড়ে তুলতে পারব।এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী আকাশপথে স্বস্ত্রীক কক্সবাজারে পৌঁছান। সেখানে তিনি প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে তার বাবা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খনন করা পাতলীখাল পুনঃখননকাজ উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি পাশেই একটি পথসভায় যোগ দেন। পথসভায় দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, ৬০টি পণ্যের কর বাতিল করায় অন্যবারের মতো এবার বাজেটের পর নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি। দেশকে অস্থিতিশীল করে যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, তারাই মূলত এই গণমুখী বাজেটের সমালোচনা করছে। তিনি আরও বলেন, এই দেশই বিএনপির শেষ ঠিকানা, তাই আমরা দেশের মানুষের ভাগ্যন্নোয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যেতে চাই।
৩ মাস ৬ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভুল-ভাল কথা বলেন দাবি করে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন- প্রধানমন্ত্রীর পদটা রাষ্ট্রীয় পদ। তিনি রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী। তার দিকে তাকিয়ে বিশ্বের লোকজন বাংলাদেশকে হিসাব করবে। তার মুখ দিয়ে যদি অনবরত ভুল-বাল কথা বের হতে থাকে, তাহলে বাংলাদেশ লজ্জিত হবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জামায়াতের আমির আরও বলেছেন, চট্টগ্রামবাসী সর্ববিষয়ে বিশারদ একজন সর্বমন্ত্রী পেয়েছেন। সত্যি আপনারা এতই ভাগ্যবান যে, এক মন্ত্রী সব মন্ত্রণালয় চালায়-এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কথাও তাকে বলতে হয়।শনিবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে নেতাকর্মীরা এ সময় ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিলে জামায়াত আমির বলেন, নিজেদের সন্তানকে ভুয়া বলতে নেই। নিজের সন্তান কানা হলেও পদ্মলোচন। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াত ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জন্য সত্যিই আমার কষ্ট হয়। ওনি কুমিল্লায় এসে ইপিজেড দেন। ফরিদপুরে গিয়ে সয়াবিন তেল দেন। দিনাজপুরে গিয়ে আম উপহার দেন। সিলেটে গিয়ে সাড়ে নয় ঘণ্টা উপহার দেন। জাতীয় সংসদে গিয়ে প্রাথমিক বিশ্ববিদ্যালয় উপহার দেন। আর কক্সবাজারে এসে বলেন, বিরোধী দল বাজেটে মাদক ও ধূমপান জাতীয় দ্রব্যমূল্যের টেক্স বাড়ানো হয়েছে বলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল করেছে। এগুলো সব মিথ্যা ও ভুয়া। বিরোধী দলের কেউ এটা করেনি। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ওদেরকে চিহ্নিত করুন যারা আপনাকে ভুল বুঝাচ্ছে। তারা আপনার সম্মান আর বাংলাদেশের সম্মান ধ্বংস করছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। নইলে ক্ষতিগ্রস্ত শুধু আপনি হবেন না, গোটা জাতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবেন।বাজেটে বিরোধী দল প্রতিক্রিয়া জানাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এতে রাগ করার কি আছে? অল্পতে ধৈর্য হারালে ১৮ কোটি মানুষের দায়িত্ব পালন করবেন কীভাবে? তবে হা জনগণ যখন দেখবেন, জনআকাঙ্খা বাস্তবায়নে আপনি এবং আপনার সরকার আন্তরিক, তখন আপনাদের প্রশংসা করবে। কিন্তু যখন জনগণ দেখবে আপনারা ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অপমান অগ্রাহ্য করছেন, তখন জনগণ বসে বসে আঙুল চুষবে না।সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম)। তিনি বলেন, দেশের জনগণ বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। চোর, ছিনতাইকারী, নারী-শিশু ধর্ষণকারী ও অন্যান্য অপরাধীদের দমনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই।অলি আহমেদ বলেন, মানুষের মধ্যে সত্য, ন্যায়, পার¯পরিক সহযোগিতা ও দেশপ্রেমের চেতনা জাগ্রত করতে হবে। অন্যের সমালোচনার আগে নিজেদের সংশোধন এবং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সঠিক পথে পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হবে।দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা উল্লেখ করে অলি আহমেদ বলেন, সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে না। গ্রামাঞ্চলে সন্ধ্যার পর মানুষের মধ্যে ভীতি কাজ করছে। নারীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতেও নিরাপত্তাহীনতা রয়েছে এবং ব্যবসায়ীরাও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।তিনি বলেন, ডাকাতদের অনেককে গ্রেপ্তার করা হলেও চোর ও ছিনতাইকারীরা এখনও সক্রিয় রয়েছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। আওয়ামী ডাকাতরা কলকাতায় পালিয়ে গেছে। চোররা এখানে রয় গেছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।সরকার প্রধানের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বা অন্য যেকোনো দায়িত্বেই থাকুন না কেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আপনাকেই নিতে হবে। নিজেকে একজন রাষ্ট্রনায়কের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বানও জানান তিনি।অলি আহমেদ বলেন, দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেকোনো অপচেষ্টা ও বিদেশি আধিপত্যের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান ¯পষ্ট। একই সঙ্গে তিনি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সংলাপ ও সমঝোতার আহ্বান জানান এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানান। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া এদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা হবে বলে মনে করি না। এ সময় ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভীত রচিত হয়েছিল ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে। শাপলার শহীদদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও স্বীকৃতি দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। যদি আপনারা সেটি করতে ব্যর্থ হন, তাহলে প্রমাণ হবে ইসলাম, মুসলমান ও মদিনার ইসলামের কথা বলা কেবল ধোঁকাবাজি ছাড়া আর কিছু নয়।তিনি দেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও সমালোচনা করে বলেন, দুর্বল পররাষ্ট্রনীতির কারণে স্বাধীনতার সূর্য বাংলার আকাশ থেকে অস্তমিত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সীমান্ত বন্ধ হচ্ছে। সীমান্তে হত্যাকানন্ডকে ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। আমরা এ ধরনের বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি। সীমান্তে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা দেখতে চাই।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে মামুনুল হক বলেন, আপনাকে ব্যক্তি হিসেবে সম্মান জানাই। বিশেষ করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে আপনার প্রতি বিশেষ সম্মান রয়েছে। তবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার শেখ হাসিনার রাজনীতি করবেন না।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলা হলেও বাস্তবে সেই নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।তিনি বলেন, পার্লামেন্ট থেকে সচিবালয় সব জায়গায় হুতুমপেঁচা বসেছে। তারা সেখানে দুর্নীতি ও অনিয়মসহ নানা ধরনের অপকর্মে জড়িত। কিন্তু আমাদের দল চাঁদাবাজি বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নয় এবং তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ধৈর্য ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে।ভারত সীমান্তে উত্তেজনা প্রসঙ্গে পাটওয়ারী বলেন, আমরা বাংলাদেশের সীমান্তে কোনো হত্যাকান্ড সমর্থন করি না। যেদিন সীমান্তে হত্যা বন্ধ হবে এবং বাংলাদেশের কোনো নাগরিককে অবৈধভাবে হত্যা করা হবে না, সেদিনই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রকৃত অর্থে ন্যায্য ও স্বাভাবিক স¤পর্ক প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এটি কোনো বাজেট নয়, বরং দলীয় লোকজনের জন্য তৈরি একটি গেজেট। এর মাধ্যমে দেশে চাঁদাবাজিকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। এই বাজেটে শহীদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম কিংবা মুগ্ধের আত্নত্যাগের প্রতিফলন নেই। তাই এই বাজেটের প্রতি ধিক্কার জানাই।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ স¤পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, গত ১৭ বছরে দিল্লির গোলামি আপনারা কম করেননি। আপনাদের মন্ত্রী-নেতারা অমিত শাহের পায়ে অর্ঘ্য দিয়ে এসেছেন, মাথানত করে সেজদা করে এসেছেন। তারপরও দিল্লি আপনাদের বিশ্বাস করেনি। অতীত থেকে যদি শিক্ষা না নেন, তাহলে বুঝতে হবে আপনারা বদলাননি। ২০ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার পর আমাদের ধারণা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির মন্ত্রীদের নিয়ে যে সরকার গঠিত হয়েছে, তারা তাদের অতীত ভোগান্তি থেকে শিক্ষা নেবেন বা নিয়েছেন। কেন তারা এত দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় আসতে পারেননি, কী কী কারণে গত ২০ বছর স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হারিয়ে দেশ প্রায় একটি ভ্যাসাল স্টেটে পরিণত হয়েছিল, এবং কী কারণে বাংলাদেশের জনগণ গত ১৭ বছর আপনাদের নেতৃত্বে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেনি এসব বিষয় তারা উপলব্ধি করেছেন বলে আমাদের ধারণা ছিল।আমরা ধারণা করেছিলাম, আপনাদের ফোনের অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনের আইওএস যেমন আপডেট হয়েছে, তেমনি আপনাদের চিন্তাভাবনাও আপডেট হয়েছে। কিন্তু আপনাদের মন্ত্রীদের বক্তব্য ও কর্মকান্ড দেখে মনে হচ্ছে, ২০০৬ সালে ক¤িপউটার বন্ধ করে গ্যারেজে রেখে গিয়েছিলেন; সেই ক¤িপউটারে এত বেশি ধুলাবালি জমেছে যে, এখন আর মুছেও সেটিকে সংশোধন করা যাচ্ছে না, বলেন ফুয়াদ।তিনি বলেন, বাংলাদেশ বদলে গেছে, কিন্তু আপনাদের স্বভাব বদলায়নি। আওয়ামী লীগেরও ১৭ বছরে লেজ সোজা হয়নি। আমরা জানি কীভাবে সেই লেজ সোজা করতে হয়। বাংলাদেশের মানুষকে গণতান্ত্রিক ও সংসদীয় রাজনীতির বাইরে যেতে বাধ্য করবেন না। এটি সরকারের জন্যও ভালো হবে না, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্যও কল্যাণকর হবে না।
৩ মাস ৬ দিন আগে
সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ গেল রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদের। শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি উপজেলার বেতাগী এলাকার মৃত খালেদ চৌধুরীর ছেলে।পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী বাজারে একটি ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে যান মাসুদ। এসময় মোটরসাইকেলে করে এসে কয়েকজন অস্ত্রধারী তাকে কয়েক রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়।গুরুতর আহত মাসুদকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরী বিএনপির সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত।স্থানীয়দের ধারণা, বালুর ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকান্ড সংঘটিত হতে পারে। এছাড়া তিনি আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবেও আলোচনায় ছিলেন।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরীকে গুলি করে হত্যার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।এদিকে হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে দলীয় নেতাকর্মীরা ইছাখালী এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করেছেন। অবরোধের কারণে কাপ্তাই সড়কে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা এ সময় হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
৩ মাস ৬ দিন আগে
চট্টগ্রামসহ দেশের আটটি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে সরকার। যাদের সবাই ক্ষমতাসীন সরকার দলীয় বিএনপির অনুসারি নেতাকর্মী। এদের মধ্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) চেয়ারম্যান পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনকে, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নতুন চেয়ারম্যান হয়েছেন মো. আবুল কালাম আজাদ।খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (খুউক) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন এস এম শফিকুর আলম। সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে রেজাউল হাসান লোদী, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে মো. সামসুজ্জামান সামু, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে মোতাহার হোসেন তালুকদার, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে উদবাতুল বারী আবু এবং নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে মাশুকুল ইসলাম রাজিবকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত আলাদা আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সবকটি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে আগামী ১ বছরের জন্য নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে উল্রেখ করা হয়। যাদের সবাই বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত এবং নগর-মহানগর পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত রয়েছে। তবে নতুন নিয়োগ পাওয়া এই ৮ চেয়ারম্যানের ক্ষেত্রে শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সাথে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তাদের এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগের অন্যান্য শর্তাবলী চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে।এদিকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউকে) বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সালাউদ্দীনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে সরকার।
৩ মাস ৭ দিন আগে
`গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা' শিরোনামে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট ঘোষণা করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উপস্থাপিত এ বাজেট বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ এবং নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম। বিগত সরকারের আমলের অর্থনৈতিক বিপর্যয়, দুর্নীতি লাগামহীন লুটপাটের ধ্বংসস্তূপ থেকে সামষ্টিক অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের বাজারব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। নতুন অর্থবছরে আয়-ব্যয়ের ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ঋণ, বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ খাতই ভরসা অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর। উত্তরাধিকার হিসেবে পাওয়া চেনা সংকটের সঙ্গে অস্থির বিশ্ব বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার দায়িত্ব নেওয়া বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির ঝুঁকি মাথায় রেখে অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থবছরে দেশের মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে আনতে চান। এ ছাড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরেছেন ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। একই সঙ্গে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি ১ ট্রিলিয়ন ডলার করতে তুলে ধরেছেন সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ। সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে নতুন অর্থনৈতিক নীতির সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজেট পেশের পর এটিকে সরকারের অর্থনৈতিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকদের মতে, ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট ঘাটতি, উচ্চ রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য, ঋণনির্ভর অর্থায়ন এবং দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠাই হবে এ বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। স্বস্তির বার্তা সাধারণ মানুষের জন্যনতুন বাজেটের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর কমানো। ধান, চাল, গম, আলু, মাছ, মাংস, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, রসুন, চিনি ও বীজসহ ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে কর কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।এছাড়া খেজুর, জিরা, দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গসহ বিভিন্ন মসলার ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। শিশুখাদ্য উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানো হয়েছে। কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করায় প্রতিবার ডায়ালাইসিসে প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় কমতে পারে বলে সরকারের দাবি।তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে উৎসাহিত করতে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, সার্ভার, মনিটর ও প্রিন্টার আমদানিতে প্রায় সব ধরনের শুল্ক ও কর তুলে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর কর কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার প্রসারে বড় ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।এসব উদ্যোগের ফলে বাজারে কিছু পণ্যের দাম কমার সুযোগ তৈরি হলেও সেই সুবিধা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার কাছে পৌঁছাবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।কিছু খাতে বাড়বে ব্যয়স্বস্তির পাশাপাশি কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে বাড়তি ব্যয়ের আশঙ্কাও রয়েছে। সিগারেটের সব স্তরে ন্যূনতম মূল্য বৃদ্ধি করায় এর দাম বাড়বে। নিকোটিন পাউচ ও নিকোটিন গ্র্যানুলসের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনচালিত মধ্যম সারির গাড়ির করভার বাড়ানো হয়েছে। ফলে এসব গাড়ির দাম বাড়তে পারে। বিদেশি কাজুবাদাম, মধু, সুপারি, পাঙাশ মাছের ফিলে, কম্পোজিট গ্যাস সিলিন্ডার এবং বিভিন্ন আমদানিকৃত খাদ্যপণ্যের ওপরও বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। রড, টাইলস, স্যানিটারিওয়্যার ও কিছু ইলেকট্রনিক পণ্যের দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতিবাজেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়গুলোর একটি হলো এর ঘাটতি। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরে বাজেট ঘাটতির পরিমাণ হবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।এই ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংকিং খাত থেকেই নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা।অর্থমন্ত্রীর ভাষায়, অতীত সরকারের সময় ব্যাপক ঋণ গ্রহণের ফলে বর্তমানে সুদ ও ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়েছে। তাই ঋণ ব্যবস্থাপনায় সংস্কার, উচ্চ রিটার্নসমৃদ্ধ প্রকল্পে বিনিয়োগ এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কাঠামো আধুনিকায়নের মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তবে অর্থনীতিবিদদের প্রশ্ন, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে এই ঘাটতি আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।ব্যবসায়ীদের ইতিবাচক মূল্যায়নঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) বাজেটকে সামগ্রিকভাবে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, শিল্পের কাঁচামালে উৎসে কর হ্রাস, পাঁচ বছরের কর কাঠামো আগাম ঘোষণা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক যানবাহনে কর সুবিধা এবং অনলাইন ভ্যাট ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।তবে তিনি করমুক্ত আয়সীমা অপরিবর্তিত রাখার সমালোচনা করে বলেন, মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় এটি অন্তত ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করা প্রয়োজন ছিল।ডিসিসিআইর মতে, ঘোষিত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতি নতুন গতি পাবে। তবে বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তাবিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বাজেটের নীতিগত দিককে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও অর্থায়ন কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, মানবিক অর্থনীতি, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি এবং যুব উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। কিন্তু এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক কাঠামো এখনো দুর্বল। বিশেষ করে বৈদেশিক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং বড় অঙ্কের থোক বরাদ্দ আর্থিক শৃঙ্খলার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনও বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তার মতে, বাস্তবায়ন সক্ষমতার তুলনায় বড় বাজেট ঘোষণার প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। ফলে ঘোষিত বাজেটের পুরোটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে।অন্যদিকে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, করের বোঝা না বাড়িয়ে কিছু ক্ষেত্রে কমানোর উদ্যোগ ইতিবাচক। এতে ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আরও সমন্বিত ও কৌশলগত পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল।তার মতে, মূল্যস্ফীতি এখন শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক ও ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জেও পরিণত হয়েছে। তাই রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় জরুরি।রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও মিশ্রপ্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও ভিন্নমত দেখা গেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, বাজেটটি অতিমাত্রায় ঋণনির্ভর এবং এতে দরিদ্র মানুষের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে। তার অভিযোগ, এই বাজেটে ধনীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবে, অথচ মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের করের চাপ কমেনি।অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদ বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবতাবিবর্জিত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার দাবি, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব না হলে প্রকৃত ঘাটতি সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি হবে।বাস্তবায়নের পথে সাত বড় বাধাবিশ্লেষকদের মতে, বাজেট বাস্তবায়নের সামনে অন্তত সাতটি বড় প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজস্ব আদায়ের দুর্বলতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণ ও সুদের বাড়তি চাপ, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি, দক্ষ জনবলের ঘাটতি, বৈদেশিক ঋণপ্রাপ্তির অনিশ্চয়তা এবং নীতি বাস্তবায়নে সমন্বয়হীনতা।পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল মাত্র ৬৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ, যা কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এ হার আরও কমে ৪১ দশমিক ৪১ শতাংশে নেমে এসেছে।অর্থনীতিবিদদের মতে, এবারের বাজেটে ঘোষিত লক্ষ্য ও অগ্রাধিকার জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।তবে বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাস বলছে, বড় বাজেট ঘোষণা করাই সাফল্যের মাপকাঠি নয়। প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হলো সেই অর্থ দক্ষতার সঙ্গে ব্যয় করা, রাজস্ব সংগ্রহ নিশ্চিত করা এবং পরিকল্পনাগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়া।সেই অর্থে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে একদিকে স্বস্তির প্রতিশ্রুতির বাজেট বলা যায়, অন্যদিকে এটি নতুন সরকারের সক্ষমতা যাচাইয়েরও একটি বড় পরীক্ষা। আগামী এক বছরে বাজেটের ঘোষণাগুলো কতটা বাস্তবে রূপ পায়, সেটিই নির্ধারণ করবে এই বাজেট জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছে কি না।
৩ মাস ৮ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় ও ব্যস্ততম নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় আরব-আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ঠেকাতে দেশীয় প্রতিষ্ঠান এমজিএইচ গ্রুপের পর এবার কোমড় বেঁধে নেমেছে লুটপাটের কারিগর খ্যাত সাইফ পাওয়ারটেক। তিন কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত নতুন দেশীয় প্রতিষ্ঠান কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে এনসিটি পরিচালনায় দেওয়া হয়েছে লোভনীয় প্রস্তাব। এই প্রতিষ্ঠানের অন্য দুটি কোম্পানি হচ্ছে কসমস ও এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস। আর নতুন প্রতিষ্ঠানের নাম সাইফ-কসমস-এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস কনসোর্টিয়াম। এনসিটি যাতে কোনোমতেই হাতছাড়া না হয় এবং বন্দরের বিশাল রাজস্ব যাতে লুটপাট করতে পারে তার জন্য এমন কৌশল নিয়েছে সাইফ পাওয়ারটেক। তবে তিনটি প্রস্তাবের মধ্যে কেবল ডিপি ওয়ার্ল্ড এর প্রস্তাব বিবেচনায় রেখেছে সরকার। যা রাষ্ট্রের জন্য মঙ্গলজনক বলে মন্তব্য করেছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা। বন্দর সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর সাইফ পাওয়ারটেক গত ২০০৬ সাল থেকে এনসিটি পরিচালনা হাতিয়ে রাষ্ট্রের বিশাল অঙ্কের রাজস্ব চুরি ও পাচার করেছে। অর্ন্তবর্তী সরকার আসার পর এনসিটি পরিচালনা আরব-আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দিতে চাইলে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করে সাইফ পাওয়ারটেক। প্রতিষ্ঠানটি বন্দরের কতিপয় দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের অর্থের বিনিময়ে মাঠে নামিয়ে কর্মবিরতিসহ নানা কর্মর্সূচি দিয়ে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাঘাত ঘটায়। যা এখনো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এর মধ্যে নৌবাহিনীর প্রতিষ্টান ড্রাইডক লিমিেিটড এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব ভার গ্রহণ করে। এরপর থেকে বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ছে। এতে একরকম কোণঠাসা হয়ে পড়ে সাইফ পাওয়ারটেক। ফলে নতুন গঠিত দেশীয় প্রতিষ্ঠান সাইফ-কসমস-এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে এনসিটি পরিচালনায় লোভনীয় অফার দিচ্ছে। গত ২৮ এপৃল নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ে টার্মিনাল পরিচালনার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দেয় সাইফ-কসমস-এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস কনসোর্টিয়াম। যা সম্প্রতি প্রকাশ পায়।এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, নতুন প্রস্তাব এখনই সিদ্ধান্তের পর্যায়ে যাচ্ছে না। কারণ এনসিটি পরিচালনা নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাবের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার আগে নতুন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার সুযোগ খুব বেশি নেই।তবে বন্দর সূত্র জানায়, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চলমান আলোচনা সফল না হলে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে দেশি ও বিদেশি অন্যান্য আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নতুন এই কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবও বিবেচনায় আসতে পারে।এনসিটি পেতে একের পর এক প্রস্তাবচট্টগ্রাম বন্দরের বার্ষিক রাজস্ব আয় ৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে দেড় হাজার কোটি টাকা একাই জোগান দেয় এনসিটি। বন্দরের হৃৎপিন্ড হিসেবে পরিচিত এনসিটিতে মোট কন্টেইনার ওঠা-নামা করে ৪৫ শতাংশ। সবচেয়ে বড় জাহাজও ভিড়ে এই টার্মিনালে। সবচেয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকায় ৪৮ ঘণ্টায় জাহাজ থেকে দ্রুত পণ্য খালাস শেষ হয়।সেই রেডিমেড টার্মিনাল পরিচালনা করতে একের পর এক প্রস্তাব দিচ্ছে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান। তার সূত্রপাত হয় ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাব থেকেই। আওয়ামী লীগ আমলেই প্রথম প্রস্তাব আসে এই ডিপি ওয়ার্ল্ড থেকে। সেই প্রস্তাবে বাস্তবায়নে নীতিগত সিদ্ধান্তও নেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসলে সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে চূড়ান্ত চুক্তির পর্যায়ে উন্নীত হয়। আর এ নিয়ে শুরু হয় বন্দরে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মচারীদের আন্দোলন। কর্মবিরতিসহ নানা কর্মসূচির মুখে বন্দর অচল হলে ৯ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকার সেই চুক্তির প্রক্রিয়া স্থগিত করতে বাধ্য হয়। বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে সেই প্রক্রিয়া নীরবে এগোয়। ৪ জুন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত দেয় ডিপি ওয়ার্ডের প্রস্তাব নিয়ে নেগোসিয়েশন এগিয়ে নিতে। সেই প্রক্রিয়া এখন চলমান রয়েছে।যা আছে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাবে পিপিপি ও সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) কাঠামোর আওতায় ১৫ বছরের জন্য এনসিটি ইজারা দেওয়ার প্রস্তাব দেয় ডিপি ওয়ার্ল্ড। এতে টার্মিনাল পরিচালনা, মাশুল আদায় ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের দায়িত্ব থাকবে এই অপারেটরের হাতে। এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ড ২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। বিনিময়ে বন্দর নির্ধারিত রাজস্ব পাবে। সেই রাজস্ব কত হবে সেটি নির্ধারণ হবে আলোচনা সাপেক্ষে। তবে ডিপি ওয়ার্ল্ড নিয়ম অনুযায়ী তাদের লভ্যাংশের পুরো টাকাই বিদেশে নিয়ে যাবে।এ নিয়ে বন্দরের কতিপয় কর্মকর্তার ভাষ্য, ডিপি ওয়ার্ল্ড বিশ্বমানের অপারেটর। বিশ্বজুড়ে শিপিং কানেকটিভিটি আছে তাদের। সে হিসেবে বন্দরের রাজস্ব বাড়বে। সেই রাজস্ব নির্ধারণের এখন আলোচনা চলছে। বেশি আয় এমজিএইচ গ্রুপের প্রস্তাবে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাবের পর গত ২৮ এপৃল দেশীয় বহুজাতিক কোম্পানি এমজিএইচ গ্রুপও এনসিটি পরিচালনার জন্য পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কাঠামোর ভিত্তিতে প্রস্তাব দেয়। এতে প্রতি কন্টেইনারে ডিপি ওয়ার্ল্ডের তুলনায় পাঁচ ডলার বেশি রাজস্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তারা। একইভাবে ডিপি ওয়ার্ল্ডের ২০ মিলিয়ন ডলারের বিপরীতে এমজিএইচ গ্রুপ ২৫ মিলিয়ন ডলার অগ্রিম ফি দেওয়ারও প্রস্তাব করেছে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের ১.৫৪ বিলিয়ন ডলারের বিপরীতে এমজিএইচ-এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের আয় হবে প্রায় ১.৬৮ বিলিয়ন ডলার।এমজিএইচ-এর গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর আনিস আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, প্রত্যেক স্তরেই আমরা বন্দরকে বেশি রেভিনিউ দেওয়ার প্রস্তাব করেছি। এতে দেশ ও বন্দর লাভবান হবে। আমরাও ব্যবসা পাব। টাকাও দেশে থাকবে। পতেঙ্গা কন্টেনার টার্মিনাল বিদেশি দিয়ে চালিত, আজ পর্যন্ত তারা চট্টগ্রাম পোর্টের সাথে অঙ্গীকার করা ৫০ শতাংশ প্রডাক্টিভিটি ডেলিভার করতে পারেনি। তারপরও আরেক বিদেশি অপারেটরের সাথে আলাপ, আমাদেরকে বাদ দিয়ে? সূত্রমতে, এমজিএইচ-এর নিজস্ব আইসিডি রয়েছে এবং ৭টি বিদেশি শিপিং লাইনের সাথে চুক্তি থাকায় প্রথম দিন থেকেই টার্মিনালে কন্টেইনার প্রবাহ নিশ্চিত থাকবে। স¤পূর্ণ দেশি মালিকানাধীন হওয়ায় এর লভ্যাংশ দেশেই পুনর্বিনিয়োগ হবে এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে না। তবে বন্দর সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এমজিএইচ গ্রুপের প্রস্তাবের পেছনেও সাইফ পাওয়ারটেকের হাত রয়েছে। আর অর্থ পাচারে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশ্বাস রাখা হবে আত্নঘাতি। কনোসোর্টিয়ামের প্রস্তাবে শুভঙ্করের ফাঁকি নতুন কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবে টার্মিনালের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছেই রাখার কথা বলা হয়েছে। তারা কেবল পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, জনবল ব্যবস্থাপনা এবং জ্বালানি ব্যয়ের দায়িত্ব নিতে চায়। জাহাজ ও কন্টেইনার সংশ্লিষ্ট সব ধরনের মাশুল আদায় করবে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বিনিময়ে প্রতি কন্টেইনার পরিচালনার জন্য নির্ধারিত ফি পাবে কনসোর্টিয়াম। তাদের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বন্দরের রাজস্ব আয় অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি পরিচালন ব্যয়ের বড় অংশ বেসরকারি খাত বহন করবে। এতে বন্দরের আর্থিক চাপ কমবে এবং অতিরিক্ত বিনিয়োগ ছাড়াই সেবার মানোন্নয়ন সম্ভব হবে।কনসোর্টিয়ামের পক্ষ থেকে ১৫ বছরের জন্য এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চাওয়া প্রস্তাবে প্রতিটি ২০ ফুটি কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ৬৯ ডলার পরিচালন মাশুল চাওয়া হয়েছে। পক্ষান্তরে অতিরিক্ত কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই বন্দর প্রতিটি ২০ ফুটি কন্টেইনারে ৯২ ডলার মুনাফা করতে পারবে। এ ছাড়া জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও জনবল খাতেও কোনো ব্যয় করতে হবে না। যা এক ধরণের ফাঁদ বলে মনে করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে জানতে সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমিনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও কল রিসিভ করেননি তিনি। তবে তাঁর প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের প্রস্তাবে টার্মিনালের মালিকানা নিয়ন্ত্রণ চট্টগ্রাম বন্দরের হাতেই থাকবে। ১৫ বছর ধরে জনবল, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ এবং কন্টেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনা আমরাই করবো। কোনো ধরনের বিনিয়োগ না করেই বন্দর প্রতি কন্টেইনার ৯২ ডলার আয় করবে।কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষের নিরীক্ষা প্রতিবেদন বলছে, প্রতি একক কন্টেইনার পরিচালন থেকে বন্দর আয় করে ১৬১ দশমিক ৮২ ডলার, বিপরীতে ব্যয় ৫৬ দশমিক ১৫ ডলার। খরচ বাদ দিয়ে নিট আয় কন্টেইনার প্রতি ১০৫ দশমিক ৬৭ ডলার।তাহলে ১০৫ ডলার নিট আয় ছেড়ে কনসোর্টয়িামের প্রস্তাব কেন বন্দর বিবেচনা করবে-এমন প্রশ্নের উত্তরে সাইফ পাওয়ারটেকের ওই কর্মকর্তা বলেন, আগামী ১৫ বছরে যন্ত্রপাতি সংযোজন, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালন করতে বন্দরের অন্তত ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। এই বিনিয়োগ থেকে বন্দর মুক্ত। আমরাই বন্দরের হয়ে সেটি বিনিয়োগ করবো।বন্দর ব্যবহারকারীদের মতামতবন্দর ব্যবহারকারীদের মতে, চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি কন্টেনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর চট্টগ্রাম বন্দরে হ্যান্ডলিং হওয়া মোট কন্টেনারের প্রায় ৪৫ শতাংশ এই টার্মিনালেই হয়েছে। ফলে টার্মিনালটির ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।সূত্র মতে, এনসিটির ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে সরকারের সামনে এখন একাধিক বিকল্প রয়েছে। বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা, দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পিপিপি মডেল অথবা পরিচালন সেবাভিত্তিক দেশি কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাব থেকে যে মডেলই চূড়ান্ত হোক না কেন, তা দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের দক্ষতা, সক্ষমতা ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।
৩ মাস ১০ দিন আগে
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং রাজপথের সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য (সহ সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) মনোনীত হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক মেধাবী ছাত্রনেতা ও দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার সিওও অ্যাডভোকেট রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু।বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ নির্বাহী কমিটি অনুমোদনের তথ্য জানানো হয়। কমিটিতে আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। একই কমিটিতে অ্যাডভোকেট রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পুকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সহ সাধারণ সম্পাদকের পদমর্যাদাসম্পন্ন।পাপ্পু চৌধুরী বর্তমানে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় জাতীয় দৈনিক যায়যায়দিন-এর চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এই নেতা কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন।দলীয় সূত্রে জানায়, বিগত সরকারের সময় বিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয় ও সাহসী মুখ। সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা হিসেবে রাজপথে ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের কারণে তাঁকে নানা প্রতিকূলতা ও চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তাঁর অনুসারীদের দাবি, রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর দীর্ঘ শিক্ষাজীবনও ব্যাহত হয়েছিল।২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার দিন ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাব ও জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু। তার নিজ এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরেও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে প্রথম বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয় তার নেতৃত্বে।পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশে নিজ এলাকার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে অংশগ্রহণ করেন তিনি। সরকারের পতনের একদফা দাবিতে চলমান আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পাশাপাশি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানেও তিনি সম্মুখসারির একজন সংগঠক হিসেবে ভূমিকা রাখেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা উল্লেখ করেন।নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় অ্যাডভোকেট রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু বলেন, তোষামুদির রাজনীতি নয়, আদর্শিক রাজনীতির পথ ধরে এগিয়ে আসা অত্যন্ত কঠিন। দীর্ঘ সময় রাজপথে সক্রিয় থেকে বহুবার প্রত্যাশিত মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছি। কিন্তু কখনো হতাশ হইনি। মানুষের ভালোবাসা ও মহান আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জুগিয়েছে।তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদায় সদস্য হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান, যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নবীনগরবাসী এবং দেশ-বিদেশে অবস্থানরত শুভাকাঙ্ক্ষীদের অকৃত্রিম ভালোবাসা আমাকে গভীরভাবে ঋণী করেছে।নিজ এলাকার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, পদ-পদবি বড় বিষয় নয়, মানুষের ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় অর্জন। আমি বিশ্বাস করি, জনগণের এই ভালোবাসা ও আস্থা ধারণ করেই মা মাটি মানুষের দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করতে হবে। আমৃত্যু মানুষের পাশে থেকে তাদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যেতে চাই।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা নেতৃত্বগুণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতার কারণে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে অ্যাডভোকেট রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পুর অন্তর্ভুক্তি সংগঠনের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। -তথ্যসূত্র : যায়যায়দিন
৩ মাস ১৪ দিন আগে

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেছেন।সোমবার (১ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তিনি তার পদত্যাগপত্র জমা দেন।প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।প্রেস সচিব বলেন, দীপেন দেওয়ান শারীরিক অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান লেখেন, আমি দীপেন দেওয়ান, এমপি। পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আমি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছি। আমার শারীরিক অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কাজের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নানাবিধ সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধির স্বার্থে আমার বর্তমান পদ থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করা আবশ্যক বলে মনে করছি।৬৩ বছর বয়সী দীপেন দেওয়ান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে সর্বাধিক ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন তিনি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে তার ভোটের ব্যবধান ছিল ১ লাখ ৭০ হাজার ৩২২টি।প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই মন্ত্রিসভায় জায়গা পান দীপেন দেওয়ান। তার বাবা সুবিমল দেওয়ান রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপজাতিবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।
৩ মাস ১৮ দিন আগে
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ৪০ গরু কোরবানি দিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। বিলালেন বিএনপির অস্বচ্ছল নেতাকর্মীদের। মীর হেলাল হাটহাজারী আসনের সংসদ সদস্য।দূরত্ব নয়, সংযোগ—এমন বার্তা দিয়ে মানবিক সহায়তার এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন মামলা ও কারাবাসে থাকা এবং আর্থিক অনটনে থাকা অনেক বিএনপি নেতাকর্মী কোরবানি দিতে পারেননি। তাই বলে তাদের পরিবারের সদস্যরা, সন্তানরা কী কোরবানির আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবেন!বিষয়টি মাথায় রেখে ৪০টি গরু কোরবানি দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি কয়েকটি সহযোগী সংগঠনের সহায়তায় এ আয়োজন করেন। হাটহাজারীতে নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয় ঈদ উপহার হিসেবে গরুর মাংস। স্ত্রী নওশীন আরজান হেলাল ও সন্তানরাও এ আয়োজনে শামিল হন বলে জানান তিনি।প্রতিমন্ত্রী বলেন,“মানবতার সেবাই আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। সাধারণ মেহনতি মানুষের পাশে আমার পরিবার সবসময় আছে। আমরা সমাজে এমন এক পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে শান্তি, সাম্য ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে প্রতিটি মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঈদসহ সকল উৎসব উদযাপন করতে পারে। কোনো বৈষম্য বা অভাব যেন সাধারণ মানুষের ঈদের আনন্দকে ম্লান করতে না পারে। মানবিক কাজে এলাকার বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান প্রতিমন্ত্রী।
৩ মাস ২০ দিন আগে
এমন মানুষ বছরে বছরে গন্ডায় গন্ডায় জন্মায় না। শতাব্দীর পর শতাব্দী অপেক্ষা করতে হয় জাতির এমন একজন মহানায়কের জন্য। সমকালের গড়পড়তা সাধারণ মানুষের মতো নন; এরা সময়ের সেরা সন্তান; শতাব্দীর বিস্ময়। ইতিহাস তাদেরকে কুর্নিশ করে; কৃতজ্ঞতায় নত হয় দেশ, বিশ্ব জানায় অভিবাদন। ক্ষুদ্র ও কৃতঘ্ন নরাধমেরা তাদের নামে যত বেশি কুৎসা রটায়, মানুষের হৃদয়ে ততই উজ্জ্বল, ভাস্বর ও দেদীপ্যমান হয়ে ওঠে তাদের অম্লান স্মৃতি।আমাদের জাতির তেমন একজন দিশারীর কথাই বলছি। এটা কোনো বীরপূজা বা ব্যক্তিবন্দনা নয়। জন্মভূমির যোগ্য সন্তানের, দুঃসময়ের এক দুঃসাহসী ত্রাতার সত্যিকারের মূল্যায়ন। তিনি আমেরিকায় জন্মালে হতেন জর্জ ওয়াশিংটন, গ্রেট ব্রিটেনে জন্মালে চার্চিল, ফ্রান্সে জন্মালে দ্য গল, রাশিয়ায় জন্মালে মার্শাল জুকভ, চীনে জন্ম নিলে মার্শাল চু তে। কুর্দি হলে তিনি হতেন গাজী সালাহ্উদ্দীন, তুরস্কে জন্মালে মোস্তফা কামাল, প্রাচীন পারস্যে জন্মালে সাইরাস দ্য গ্রেট, আলজিরিয়ান হলে হতেন তারেক ইবনে জিয়াদ, মহিসুরে জন্মালে হতেন হায়দার আলী, মিসরে জন্মালে জামাল নাসের, মুঘল হলে তিনি হতেন বাবর আর আফগান হলে শের শাহ্ সুরি।বিংশ শতাব্দীতে বাংলাদেশে তিনি হয়েছেন জিয়াউর রহমান। তিনি আমাদের জাতীয় পরিচয় ও আদর্শের পতাকা। আমাদের রাষ্ট্রীয় জীবনের পথপ্রদর্শক। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া। ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের এই গাঙ্গেয় ব-দ্বীপে কর্মচঞ্চল জনস্রোতে মিশে জনপদ থেকে জনপদে ক্ষিপ্রগতি চারণের বেশে ছুটে চলা সেই কর্মী রাষ্ট্রনায়কের ছবি বাংলাদেশের স্মৃতিপটে হয়ে আছে অক্ষয়। নদীমেখলা শস্যশ্যামলা এই বাংলাদেশকে তিনি ধ্যানে-জ্ঞানে তার প্রথম ও শেষ তীর্থভূমি বলে নির্ধারণ করেছিলেন। জীবনে এবং মরণেও বাংলাদেশকেই তিনি বেছে নিয়েছিলেন একমাত্র আশ্রয়স্থল হিসেবে। এই মৃত্তিকা পবিত্রতর হয়েছে তারই শহীদি রক্তে। অবিনাশী আপন কীর্ত্তিরাজি পশ্চাতে ফেলে তার জীবনের রথ দিগন্তে পৌঁছে গেলে এখানেই রচিত হয়েছে তার অন্তিম শয়ান। সামান্য সমাধিতলে নশ্বর দেহ রেখে সেই অসামান্য মহাপ্রাণ জাতিকে এখনও দেন পথের নির্দেশ।বিস্ময়কর ঐন্দ্রজালিক এক সহজাত ক্ষমতা নিয়ে ক্ষণজন্মা জিয়া জাতির প্রয়োজনের মুহূর্তে বারবার দৃশ্যপটে আবির্ভূত হয়েছেন। জীবন বাজি রেখে ইতিহাস-নির্ধারিত দুঃসাহসী ভূমিকা পালন করে আবার তিনি নিজেই সরে গেছেন যবনিকার অন্তরালে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে ইতিহাসের পৈশাচিক গণহত্যার ভয়াবহতায় দেশবাসী যখন কিংকর্তব্যবিমূঢ়, সেই সময় ইথার কম্পনে ভেসে এলো একটি নাম, একটি কণ্ঠস্বর। কালুরঘাটের বেতার-তরঙ্গ মারফত ছড়িয়ে পড়ল সেই বরাভয় : ‘আমি মেজর জিয়া বলছি’। বঙ্গশার্দুল জিয়া ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের এই দুর্জেয় ভূখণ্ডে পাকিস্তানি শাসন-কর্তৃত্বের অবসান ঘটিয়ে ঘোষণা করলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। প্রিয় স্বদেশভূমি যখন আক্রান্ত, দেশবাসী বিপন্ন; সেই ঘোর দুঃসময়ে দেশরক্ষার সৈনিককে কোনো পিছুটান ফিরিয়ে রাখতে পারেনি সুকঠিন কর্তব্য পালন থেকে। প্রিয়তম পত্নীর সকাতর চাহনি, প্রাণপ্রতিম সন্তানদের মায়াডোর উপেক্ষা করে জীবন বাজি রেখে সদর্পে, স্বকণ্ঠে তিনি স্বাধীনতার যুগান্তকারী দুঃসাহসী ঘোষণা দেন।কিন্তু কেবল বেতার সম্প্রচার কেন্দ্রের ঘোষণার মধ্যেই জিয়া তার দায়িত্ব ও কর্তব্যকে সীমিত করে রাখেননি। প্রতিরোধের লড়াইকে স্বাধীনতার যুদ্ধে উন্নীত করা এবং সেই যুদ্ধে প্রথমে সেক্টর ও পরে ব্রিগেড অধিনায়ক হিসেবে তিনি রণাঙ্গনে বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধ পরিচালনার মাধ্যমে স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করেছিলেন। ১৯৭৫ সালের নভেম্বরে আবার দেশবাসী শুনল সেই একই কণ্ঠস্বর। সেও আরেক অনিশ্চিত সময়। একদল অভ্যুত্থানকারী সেনাপ্রধান জিয়াকে বন্দি রেখে তাকে পদচ্যুত বলে ঘোষণা দিয়েছিল। তবে এ অভ্যুত্থান শেষ অব্দি শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়।৭ নভেম্বরের প্রথম প্রহর থেকেই সারা দেশের সেনা ছাউনিগুলোর চেহারা বদলে যায়। সাধারণ সৈনিকরা অস্ত্র হাতে গুলি ছুড়তে ছুড়তে বেরিয়ে আসে ব্যারাক থেকে। বন্দি সেনাপ্রধান জিয়াকে মুক্ত করে কাঁধে তুলে তারা নেমে আসে রাজপথে। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, কুচক্রীরা নিপাত যাক, জিয়াউর রহমান জিন্দাবাদ ধ্বনি দিয়ে সৈনিকরা ৭ নভেম্বর সুবেহ্ সাদেকের সময় রাস্তায় নামলে তাদের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন জানাতে সারা দেশের সাধারণ মানুষও বেরিয়ে আসে ঘর থেকে। শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে আবালবৃদ্ধবনিতা দেশরক্ষায় সৈনিকদের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে স্লোগান তোলে। সেনাদলগুলোকে বিপুল করতালি দিয়ে অভিনন্দিত করতে থাকে রাজপথের দুই পাশে অপেক্ষমাণ লাখো জনতা। জনসমুদ্র থেকে বর্ষিত পুষ্পবৃষ্টিতে ছেয়ে যায় ট্যাংক, সাঁজোয়া যান। কামানের নলে মালা পরায় সাধারণ মানুষ। সে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য!১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয়ের পর আর কখনও এমন দৃশ্যের অবতারণা হয়নি। ৭ নভেম্বরের সৈনিক-জনতার জাগৃতি ছিল ইতিহাসের এক মাইলফলক। এই বিপ্লবী অভ্যুত্থানের নায়ক কোনো জাঁদরেল সেনাপতি নন, সাধারণ সিপাহিরা। আর তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল সর্বস্তরের দেশপ্রেমিক জনতা। তারাই সেদিন বন্দি জিয়াকে মুক্ত করে এনে এক অরাজক ও নেতৃত্বশূন্য পরিস্থিতিতে তার হাতে তুলে দিয়েছিল দেশ পরিচলনার দায়িত্ব। প্রকাশ্য রাজপথে সৈনিক-জনতার মহাসমুদ্রে অবিরত পুষ্পবর্ষণের মাধ্যমে অভিষেক ঘটে তার রাষ্ট্রক্ষমতার।৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসে রাজনীতি, গঠিত হয় রাজনৈতিক দল, পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় জনগণের নির্বাসিত মৌলিক অধিকার, নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারা। এই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে চক্রান্ত মুক্ত হয়ে সশস্ত্র বাহিনীতে শৃঙ্খলা ও ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ নামের জাতিরাষ্ট্র বা নেশনস্টেটটি অর্জন করে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব। এই রাষ্ট্রের নাগরিকরা রাষ্ট্রভিত্তিক, আধুনিক ও বাস্তবসম্মত এক জাতীয় পরিচয় অর্জন করে। আর আত্মপরিচয় লাভের মাধ্যমে নবোদ্দীপ্ত এবং আত্মোপলব্ধির মাধ্যমে নবোত্থিত এই বাংলাদেশি জাতিসত্তাকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, স্বকীয়তা, মর্যাদা, নিজস্ব সংস্কৃতি, স্বাধীন অর্থনীতি ও গৌরব নিয়ে সম্মুখপানে এগিয়ে চলার প্রশস্ত নতুন মহাসড়ক গড়ে দেন জিয়াউর রহমান।১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর থেকে ১৯৮১ সালের ৩০ মে। মাত্র সাড়ে পাঁচ বছর রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। এই সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশকে বদলে ফেলেছিলেন জিয়াউর রহমান। পশ্চাদমুখী ও সংকীর্ণ সামন্তচিন্তার অর্গল ভেঙে তিনি বাংলাদেশকে স্থাপন করেছেন সম্মুখপ্রসারী, উদার ও আধুনিক ধারায়। আজ এদেশের যেখানেই উৎপাদন, উন্নয়ন ও নির্মাণের স্বাক্ষর রয়েছে, সেখানেই মিলবে তার গণমুখী ও কল্যাণকর পরিকল্পনার ছোঁয়া। কেবল তার সমকালেই নয়, জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দর্শন কালোত্তীর্ণ হয়ে আজ এদেশের জাতীয় আদর্শে পরিণত হয়েছে। স্বল্পতম সময়ের মধ্যে ইতিহাস নির্ধারিত যুগান্তকারী দায়িত্ব পালন শেষে তিনি আবার ফিরে গেছেন যবনিকার অন্তরালে। তবে তার এবারকার যাত্রা অন্তিম এবং আর কখনোও তিনি সশরীরে আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন না। কেবল তার কালজয়ী আদর্শ এ জাতিকে পথ দেখাবে।লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও লেখকবিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক প্রেস সচিব
৩ মাস ২০ দিন আগে
আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক মর্মান্তিক চক্রান্তে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে শাহাদাতবরণ করেন তিনি। দিনটি স্মরণে দেশজুড়ে আট দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি পালন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ২৫ মে থেকে শুরু হওয়া বিএনপির বিশেষ কর্মসূচি চলবে আগামী ১ জুন পর্যন্ত। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশে বিশেষ পোস্টার প্রকাশ ও কালো ব্যাজ ধারণ করছেন নেতাকর্মীরা। আজ ৩০ মে (শনিবার) ভোরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের সব দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ১১টায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ জিয়ার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারত করবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। জিয়ারত শেষে মাজার প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণসহ দেশের প্রতিটি জেলা ও ইউনিটে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া আগামীকাল ৩১ মে (রোববার) দুপুর ২টায় রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।ইতিহাসের অমর নায়কশহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কেবল একজন সফল রাষ্ট্রনায়কই ছিলেন না, তিনি ছিলেন রণাঙ্গনের অকুতোভয় বীর। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও ‘জেড ফোর্স’-এর অধিনায়ক হিসেবে অনন্য ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৮ সালে তাঁর হাত ধরেই প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), যা বর্তমানে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন ও সমৃদ্ধ অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে তোলায় তাঁকে ‘বহুদলীয় গণতন্ত্রের জনক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। এছাড়া দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার সেতুবন্ধন ‘সার্ক’ (SAARC)-এর স্বপ্নদ্রষ্টাও ছিলেন তিনি।রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান সরকারশহীদ জিয়ার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে। তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান বর্তমানে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে এ পর্যন্ত মোট পাঁচবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেল তাঁর উত্তরসূরিদের নেতৃত্বাধীন এই রাজনৈতিক দল।আজ সারা দেশে তাঁর শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে এই মহান নেতাকে।
৩ মাস ২০ দিন আগে
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের বাসভবনের বিপরীতে অবস্থিত পৌর কালেক্টর জামে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর এ হামলার ঘটনা ঘটে।হামলার শিকার হওয়ার পর বেলা ৩টার দিকে এনসিপির এই নেতা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানিয়েছেন।ফেসবুক পোস্টে এনসিপির এই নেতা লিখেছেন, ‘ঝিনাইদহে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের বাসভবনের ঠিক বিপরীতে পৌর কালেক্টর জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে বের হওয়ার পরপরই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলা শুরু করে।’হামলার বিবরণ দিয়ে তিনি আরও লিখেছেন, ‘প্রথমে ডিম ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। কিলঘুষিও মারা হয়। এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। এতে আমাদের তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। এ সময় হামলাকারীরা আমাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।’আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয় উল্লেখ করে নাসীরুদ্দীন পোস্টে বলেছেন, ঘটনার পর আমরা বর্তমানে থানায় অবস্থান করছি। আমরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপি আবার থানার সামনে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন নামাজ পড়ে বের হওয়ার সময় ডিম নিক্ষেপ করার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কয়েকজন আহত হন, তবে গুরুতর নয়। আহতদের পক্ষে থেকে এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসীরুদ্দীন। সেসময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ নাসীরুদ্দীনের সঙ্গে কথা বলতে যান। এক পর্যায়ে পেছন দিক থেকে কিছু যুবক ডিম নিক্ষেপ করে এবং হামলা চালায়। এতে আহত হন এনসিপির কয়েকজন স্থানীয় নেতাকর্মী। এ ঘটনার পর বিক্ষোভ করেন দলটির নেতারা। তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। পাশাপাশি হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ এ বিষয়ে জানান, নামাজ পড়ে বের হয়ে দেখা করি এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীনের সঙ্গে। সেসময় তাকে অনুরোধ করি বিএনপির কোনো সিনিয়র নেতাদের চরিত্রহনন যেন না করা হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা নাসীরুদ্দীনসহ তার কর্মীদের ওপর ডিম নিক্ষেপ করে। এ ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই।হামলার ঘটনায় এনসিপির নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, ‘ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, তারেক রেজাসহ এনসিপি নেতাদের ওপর বিএনপির সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে।’অন্যদিকে এনসিপির আরেক নেতা সারজিস আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, ‘ঝিনাইদহে জুমার নামাজ শেষে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।’ তিনি জানান, হামলায় কয়েকজন রক্তাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
৩ মাস ২৮ দিন আগে
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে চট্টগ্রামের রাউজানে এ পর্যন্ত ২৩টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৯ জনই বিএনপি নেতাকর্মী। অবস্থাভেদে মনে হচ্ছে বিএনপি নিধনে পরিকল্পিত মিশন চলছে রাউজানে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কারা চালাচ্ছে হত্যাযঞ্জের এই মিশন। পুলিশের অভিযানে এসব হত্যা মামলার অর্ধশতাধিক আসামিও আটক হয়েছে। হয়েছে বিপুল অস্ত্র উদ্ধারও। এরপরও এত অস্ত্র কোথা থেকে আসছে। কোথা থেকে উৎপন্ন হচ্ছে এত খুনি। নাকি পুলিশের আইনি ব্যবস্থায় কোন গাফিলতি রয়েছে। কেন থামছে না হত্যকান্ডের ঘটনা। নাকি আশির দশকে বর্বর সেসব হত্যাকান্ডের যুগে ফিরে গেছে রাউজান। এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের মুখে উঠে আসে রোমহর্ষক সব তথ্য। আর বিষয়টি মোকাবেলা করতে গিয়ে হিমমিশ খাচ্ছে খোদ পুলিশ প্রশাসনও। এমন স্বীকারোক্তি মিললেও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কোন কর্তাই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে নারাজ। নাম প্রকাশ না করার শর্ত মানলে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, রাউজানে যেসব হত্যাকান্ড ঘটছে তা মোটেও রাজনৈতিক হত্যাকান্ড নয়। এর পেছনে রয়েছে বালুমহাল দখল, পাহাড় কাটা, মাটি কাটা, চাদাবাজি, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের নিয়ন্ত্রণ। যা করতে রাজনীতিকে ব্যবহার করছে শুধু। তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ নেতারা একক নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য সৃষ্টি করে নীরবে এসব অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়েছে। এসময় এদের কোন প্রতিদ্বন্ধি ছিল না। বিএনপিসহ অন্য যে কোন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা তাদের ভয়ে এলাকাছাড়া ছিল।কিন্তু ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গ্রেপ্তারের ভয়ে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এমপি ফজলে করিম চৌধুরীসহ নেতাকর্মীরা গাÑঢাকা দেয়। এরপর এসব অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা। তাদের সহযোগীতা করছে আওয়ামী লীগের সুবিধাবাদী কিছু কর্মী। যাদের মধ্যে দখলদারিত্ব নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ফলে দু‘পক্ষের মধ্যে লেগেই আছে খুনোখৃুনি। ৫ আগষ্টের পর রাউজানে এ পর্যন্ত ২৩টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। আর এই হত্যাকান্ড শুধু রাউজানে ঘটেছে তা নয়, পার্শ্ববর্তি রাঙ্গুনিয়াও তিনটি, চট্টগ্রাম শহরেও ৭টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। সবগুলোর সাথে রাউজান কানেকশন। বালুই মূল বিরোধচট্টগ্রামে বালুর উৎস হচ্ছে কর্ণফুলী ও হালদা নদী। আছে আরও কয়েকটি ছোট-বড় খাল। যেখান থেকে প্রতিনিয়ত তোলা হচ্ছে বালু। শুধুমাত্র কর্ণফুলী নদি থেকে প্রতিরাতে কোটি টাকার বালু তুলছে দূর্বৃত্তরা। পাহাড় কাটছে। চাঁদাবাজি করছে। করছে মাদক ও অস্ত্রের ব্যবসা। তাদের হাতে এতো অস্ত্র উৎস হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদি সন্ত্রাসীরা। যার কারণে পুলিশ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করেও কোন কিনারা পাচ্ছে না। আর খুনিদের আটক করলেও কমছে না খুনি। কারণ খুনি উৎপাদনের কারখানা হচ্ছে রাজনীতি। এখানে মূল সমস্যা হলো অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িত নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক পরিচয় দিলেও শীর্ষ নেতারা তাদের কোন নিয়ন্ত্রণ করেন না, যেভাবে আগে নিয়ন্ত্রণ করতেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরী। তিনি নিজ হাতে ভাগবাটোয়ার করতেন সব। কিন্তু রাউজানের বর্তমান সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এসব নিয়ন্ত্রণ তো দুরের কথা তিনি উল্টো সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ প্রশাসনকে বারবার তাগাদা দিয়ে আসছেন। একইভাবে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকারও হাঁটছেন একই পথে। তিনিও সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধে কঠিন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশকে তাগাদা দিচ্ছেন। যার কারণে আধিপত্য বিস্তারে একের পর এক খুন হচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। এসব হত্যাকান্ড বিএনপি নিধনের কোন মিশন নয়। বরং বিএনপি নেতাকর্মীরাই বিএনপি নেতাকর্মীদের খুন করছে। বিএনপির শীর্ষ নেতারা এসব থেকে দূরে থাকলেও কলকাঠি নাড়ছে তাদের পিএ‘রা। যাদের প্রশ্রয়ে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও চট্টগ্রাম শহরে খুনোখুনির ঘটনা ঘটছে। যাদের কারণে গিয়াস কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খোন্দকারের মধ্যে অবিশ্বাস গেড়ে বসেছে। এই বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষরা হামলা করে গোলাম আকবর খোন্দকারকেও রক্তাক্ত করেছে। পুলিশের তথ্য মতে, গত ২৪ এপৃল শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জঙ্গল রাউজান এলাকায় খুন হন কাউসারুজ্জামান বাবলু (৩৬) নামে এক বিএনপি কর্মী। বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার একদিন পর রবিবার (২৬ এপৃল) দিবাগত রাতে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের লেংগা বাইল্যার ঘাটা এলাকায় নাছির উদ্দীন (৫৫) নামে আরেক বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। সর্বশেষ এই দুটি খুনের ঘটনায় ইতোমধ্যে প্রধান সন্দেহভাজনসহ পাঁচজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান।তাঁর ভাষ্যমতে, গত দু‘দিনে রাউজানে দুটি মার্ডার হয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ যে ঘটনা, সেটা হয়েছে সন্ত্রাসী রায়হান গ্রুপ ও তার প্রতিপক্ষের বিরোধের কারণে। যে মারা গেছে, সে রায়হান গ্রুপের লোক। তার বিরুদ্ধেও পাঁচ ছয়টা মামলা আছে। এরকম বেশ কয়েকটা মার্ডার হয়েছে সন্ত্রাসীদের মধ্যে আধিপত্যের দ্বন্দ্বের জেরে। এখন আমাদের কাজ হচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব এই সন্ত্রাসীগুলোকে গ্রেপ্তার করা। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খান বলেন, রাউজান, রাঙ্গুনিয়াসহ কোন হত্যাকান্ডের ঘটনা মোকাবেলায় পুলিশের কোন গাফিলতি নেই। খৃুনিদের গ্রেপ্তারে তৎপর পুলিশ। রাউজানে ইতোমধ্যেই অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকাগুলোতে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। অপরাধ যে কারণেই ঘটুক, যারা অপরাধ করবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।ফিরে দেখা আশির দশক এরশাদ আমলের কথা। চট্টগ্রামের রাউজানে লাশ পড়ত নিয়মিত। রাজনৈতিক কর্মীদের রক্তে ভিজত রাউজানের মাটি। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর লাশ পড়া কিছুটা বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষ করে ২০০৪ সালে র্যাব গঠনের পর বেশ কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী কথিত ক্রসফায়ারে মারা পড়ে। অনেকে পালিয়ে যায় দেশ ছেড়ে। এরপর রাউজানের সন্ত্রাসী জনপদের তকমা খানিকটা ঘুচে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিলেন ফজলে করিম এমপি। যদিও তিনি বিএনপি সরকারের মতো নয়, নিজের মতো করেই ভয়ের রাজত্ব কায়েম করে এ কাজটি করেছিলেন। এ সময়ে যত বড় প্রভাবশালী বা দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হোক তাঁর রাজ্যে কারও টুঁ শব্দ করার সুযোগ ছিল না।এরপর অন্তবর্তি সরকারের সময় থেকে এ পর্যন্ত যেভাবে একের পর এক হত্যাকান্ড শুরু হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে রাউজানে আবারও ফিরে এসেছে সেই আশির দশক। মুছে যাওয়া সন্ত্রাসের জনপদ তকমা আবার ফিরে এলো রাউজানে। সেই সময়ের ছাত্রনেতা ও রাউজান পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান দেবাশীষ পালিত তুলে ধরলেন ইতিহাসের খানিকটা। ১৯৮৯ সালের ৫ এপৃল। রাউজান কলেজের সাবেক-বর্তমান দুই ভিপি ফখরুদ্দিন বাবর ও মুজিবুর রহমানকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। উভয়ে ছিলেন ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) সেই সময়ের জনপ্রিয় নেতা। তাদের খুনের প্রতিবাদে হরতাল, সভা-সমাবেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে চট্টগ্রামে।দেবাশীষ পালিতের ভাষ্য, তখন রাউজানে কোনো হত্যাকান্ড হলে তার জেরে আতঙ্কের শহরে পরিণত হত চট্টগ্রাম। নগরীর আন্দরকিল্লায় জেনারেল হাসপাতালের পাহাড়ে ছিল মর্গ। রাউজানে নিয়মিত খুনখারাবি হত আর লাশ নেওয়া হত সেখানে। মর্গের লাশের ওপর উড়ত শহুরে কাক। উপজেলার কদলপুর গ্রামের বয়োজেষ্ঠ্য সুলতান আহমেদ জানান, আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে অন্তত এক দশক পর্যন্ত রাউজানের পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। মানুষ রাউজানের নাম শুনলেই ভয়ে কেঁপে উঠত। সে সময় একনাগাড়ে ২৭টি হত্যাকান্ডের ঘটনাও ঘটেছিল রাউজানে। নিহতদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা, ছাত্রনেতা, রাজনৈতিক কর্মী ছিল। নীহার রঞ্জন বিশ্বাস নামে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছিল রাউজান থানার পাশেই।চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদে কাজ করা সাবেক এক কর্মকর্তার ভাষ্য, সে সময় রাউজান অশান্ত হয়েছিল মূলত রাজনৈতিক কারণে। এ সময় একদিকে ছিল প্রভাবশালী চৌধুরী পরিবারের রাজনৈতিক আধিপত্য বজায় রাখার লড়াই। অন্যদিকে আওয়ামী লীগেরও পাল্টা আধিপত্য টিকিয়ে রাখার জোর-জবরদস্তি। সেই লড়াইয়ে হারায় অনেক অকাল প্রাণ।অথচ অগ্নিযুগের বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্যসেনের স্মৃতিধন্য রাউজান উপমহাদেশের রাজনীতির সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত। ব্রিটিশ থেকে পাকিস্তান, আবার পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ। রাজনীতির অনেক প্রবাদপ্রতিম নেতা, এমপি, মন্ত্রী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিক, মনীষী জন্ম দিয়েছে এই রাউজান।রাউজান আবার কেন অশান্ত, প্রশ্ন ছিল বিএনপির প্রয়াত চেয়ারম্যান বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম আকবর খোন্দকারের কাছে। বললেন, সেই সময়ে (আশির দশক) যাদের পৃষ্ঠপোষকতায় রাউজানে হত্যাকান্ড হয়েছিল, এখনো তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় হত্যাকান্ড হচ্ছে। আমি এর বেশি কিছু বলব না।একই প্রশ্নের জবাবে, ব্যস্ত থাকার কথা বলে এড়িয়ে যান বিএনপিদলীয় বর্তমান সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী।
৪ মাস ২০ দিন আগে