চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার সন্তান শিশু রায়হান। বয়স সবে মাত্র ১২। সাত মাস আগে চুল কাটাতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় রায়হান। সেই ূেথকে ছেলেকে খুঁজেছেন বাবা-মা, স্বজনেরা।তবে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজ উপজেলার চুনতীতে ১৯ দিনব্যাপী সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল এলাকায় ভিক্ষা করার সময় হঠাৎ ছেলের দেখা পান স্বজনেরা। তবে যে রায়হানকে খুঁজছিলেন, তাকে দেখে আনন্দে নয়, কান্নায় ভেঙে পড়লেন বাবা। কারণ, রায়হানের একটি পা নেই।পরে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। রায়হান চুনতি ইউনিয়নের দক্ষিণ সাতগড় নোয়াপাড়া এলাকার নাজিম উদ্দিনের ছেলে। সে স্থানীয় একটি হেফজখানার শিক্ষার্থী ছিল বলে জানান লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক।ওসি বলেন, রায়হানের ভাষ্যমতে, সালমা নামেরেএক নারী তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসেন। পরে লোহাগাড়ার চুনতীগামী একটি গাড়িতে তুলে দেন। তাকে বলা হয়, মাহফিল শেষ করে বাড়িতে গিয়ে আবার ঢাকায় ফিরে যেতে।ওসি আরো বলেন, রায়হানকে উদ্ধারের পর তার বাবা থানায় এসে ছেলে পা হারানোর ঘটনায় বিচার দাবি করেছেন। যেহেতু শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী ঘটনাটি ঢাকায় ঘটেছে, তাই সেখানে গিয়ে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।ওসির ভাষ্য, শিশু রায়হান ফিরে আসায় পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হয়েছে ঠিকই, কিন্তু শুরু হয়েছে আরও বড় এক অপেক্ষা—রায়হানের সঙ্গে আসলে কী ঘটেছিল, কারা তাকে নিয়ে গিয়েছিল এবং কীভাবে হারাল তার একটি পা?এছাড়া কীভাবে শিশুটিকে চুনতীতে আনা হলো, কারা তাকে নিয়ে এল এবং ঢাকায় তাকে আটকে রাখার অভিযোগের সঙ্গে কারা জড়িত—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের অপেক্ষায়।এদিকে সাত মাস ধরে নিখোঁজ ছেলেকে ফিরে পাওয়ার পর স্বস্তি পাওয়ার কথা ছিল নাজিম উদ্দিনের। কিন্তু সন্তানের শরীরের দিকে তাকিয়ে সেই স্বস্তি যেন প্রতিমুহূর্ত বিষাদে পরিণত হচ্ছে।নাজিম উদ্দিন বলেন, সাত মাস ধরে ছেলেকে কোথায় খুঁজিনি। অনেক জায়গায় খোঁজ করেছি। অবশেষে ছেলেকে পেলেও সুস্থ অবস্থায় পাইনি। যারা আমার ছেলের এ অবস্থা করেছে, তাদের খুঁজে বের করে বিচার চাই।’রায়হানের বাবা আরও অভিযোগ করেন, শিশুটিকে আটকে রাখার সময় তার একটি কিডনি নিয়ে নেওয়া হয়েছে। শিশুটির পেটে ও পিঠে অস্ত্রোপচারের মতো চিহ্ন রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।তবে চিকিৎসা পরীক্ষা ছাড়া কিডনি অপসারণের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। একইভাবে শিশুটির পা কীভাবে বিচ্ছিন্ন হয়েছে, সেটিও চিকিৎসা নথি ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।রায়হানকে উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একটি শিশু সাত মাস নিখোঁজ থাকার পর এক পা হারানো অবস্থায় ভিক্ষা করতে ফিরে আসার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ নুরুচ্ছফা বলেন, ছেলেটির এমন অবস্থা দেখে আমরা মর্মাহত। সে কোথায় ছিল, কারা তাকে নিয়ে গিয়েছিল এবং কীভাবে তার পা হারাল—সবকিছু তদন্ত করে বের করা দরকার।পরিবারের ভাষ্যমতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় চুল কাটানোর জন্য বাবার কাছ থেকে ১০০ টাকা নিয়ে স্থানীয় একটি সেলুনে গিয়েছিল রায়হান। পথে একটি মিছিলের গাড়িতে ওঠে সে। গাড়িটি কক্সবাজারে চলে যায়। এরপর আর বাড়িতে ফিরতে পারেনি রায়হান।রায়হানের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বডি ম্যাসাজ করে জীবিকা নির্বাহ করত সে। সেখানেই এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয় তার। রায়হানের দাবি, ওই ব্যক্তি খাবার ও টাকা দেওয়ার কথা বলে তাকে ঢাকায় নিয়ে যান। পরে কমলাপুর রেলস্টেশনের কাছাকাছি একটি টিনের ঘেরা কক্ষে ‘সালমা’ নামের এক নারীর কাছে তাকে দেওয়া হয়।রায়হানের অভিযোগ, ওই নারী ও তার সহযোগীরা তাকে সেখানে আটকে রেখে ভিক্ষা করতে বাধ্য করতেন। ওই কক্ষে আরও ১৫ থেকে ২০ জন ছেলে-মেয়ে ছিল। তাদের কারও হাত, কারও পা কাটা ছিল বলেও সে জানায়। রায়হানসহ অন্য শিশুরা ওই নারীকে ‘নানী’ বলে ডাকত।সেখানে বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্রও দেখেছে বলে দাবি রায়হানের। তার ভাষ্য, ভিক্ষা করে আয় কম হওয়ায় দুই থেকে তিন মাস পর এক রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় তার একটি পা কেটে দেওয়া হয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের একটি পা না থাকার বিষয়টি দেখতে পায় রায়হান। পরে তাকে বলা হয়, ট্রেন দুর্ঘটনায় তার পা কাটা গেছে। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হলে তাকে আবার কমলাপুর রেলস্টেশনে ভিক্ষা করতে নামিয়ে দেওয়া হয় বলে জানায় সে।চট্টগ্রামের আইনজীবী নওশাদ আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, শিশুটির বক্তব্যের পাশাপাশি তার নিখোঁজ হওয়ার তথ্য, পরিবারের করা জিডি বা মামলা, চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি এবং তাকে কোথা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে—সবকিছু তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। কিডনি অপসারণের অভিযোগ সত্য কি না, চিকিৎসা পরীক্ষার মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা দরকার।
২৫ দিন আগে
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় মাদকাসক্ত একমাত্র ছেলের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বৃদ্ধ বাবা স্বপন দাশ গুপ্ত (৬৫) ও মা কল্পনা দাশের (৫৫)। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে রিমন দাশ গুপ্ত (৪২)কেও আটক করেছে পুলিশ।গত ২৫ জুলাই দুপুরে উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের পূর্ব গুজরা এলাকার চৈতন্য মহাজন বাড়িতে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে। এর আগে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় গভীর রাতে ঘরে ঢুকতে না দেয়ায় ৭০ বছরের বৃদ্ধ পিতা মোহন ধরকে কুপিয়ে হত্যা করে মাদকাসক্ত পুত্র রিটন ধর।নগরীর নন্দনকাননেও মাত্র একশ টাকার জন্য শিশুর গলায় ব্লেড দিয়ে পোচ মেরে হত্যার চেষ্টা করে মো. হেলাল নামে এক মাদকাসক্ত কিশোর। কাজির দেউড়িতে রঞ্জন বড়ুয়ার প্রাণ যায় পুত্র রবিন বড়ুয়ার ছুরিকাঘাতে। কাট্টলীতে প্রতিবেশী সন্ধ্যা রাণীকে কুপিয়ে হত্যা করে মাদকাসক্ত সত্যজিৎ ঘোষ।চান্দগাঁও এলাকায় বড় ভাই সাজুর কাছে ১০টি ইয়াবা রেখে তা ফেরত না পেয়ে কুপিয়ে খুন করেন ছোট ভাই মুন্না। সর্বনাশা নেশার ছোবলে ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে রিটন ধর, মো. হেলাল, রবিন বড়ুয়া, সত্যজিৎ ঘোষ, মুন্নারা। তারা প্রিয়জনদের খুন করছে।সর্বনাশা মাদক এভাবে মা-বাবা-ভাই-স্ত্রীসহ পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন করছে। নেশার ঘোরে বেঘোরে মানুষ মারছে মাদকাসক্তরা। পুড়িয়ে দিচ্ছে নিজের ঘরবাড়ি। পরিবার-সমাজে বাড়ছে অস্থিরতা। ছাড়খার হচ্ছে সংসার ও পরিবার।বাড়ছে চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি, খুন-ধর্ষণসহ নানা অপরাধসিএমপির তথ্যমতে, চট্টগ্রামে চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি, খুন-ধর্ষণের মতো যেসব অপরাধ প্রতিনিয়ত সংঘটিত হচ্ছে তাদের অধিকাংশই মাদকাসক্তের কারণে। মাদক কেনার জন্য কিশোর-যুবক থেকে পথশিশুরা পর্যন্ত চুরি-ছিনতাইয়ে লিপ্ত হচ্ছে।সিএমপির সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে চট্টগ্রাম বিভাগে চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি, খুন-ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের সংখ্যা ছিল ৩৮৬টি। তবে মে ২০২৬-এ কিছুটা হ্রাস পেয়ে ৩৮০টি-তে নেমে আসে। বিগত ১৭ মাসে সিএমপিতে মাদক সংক্রানমশ মামলা দায়েরের হার প্রায় ৩৭.৪৮ শতাংশ কমেছে। কঠোর প্রশাসনিক নজরদারির কারণে এই প্রবণতা কমতির দিকে। সাম্প্রতিক অপরাধ পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক বৈঠকে সিএমপি এই তথ্য প্রকাশ করেছে।চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, মহানগরী এবং জেলায় প্রতিনিয়তই মাদকাসক্তের হাতে স্বজন খুনের ঘটনা ঘটছে। ছিনতাই, ডাকাতি, দস্যুতার ঘটনায় জড়িতদের বিরাট অংশ মাদকাসক্ত। নেশার সাথে অপরাধের গভীর স¤পর্ক রয়েছে। নেশাগ্রস্তরা নেশার টাকা জোগাতে খুন, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারেও চলছে খুনোখুনি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা। নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযান চলছে। মাদক বহনকারীদের পাশাপাশি এর পেছনে যারা তাদেরও চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। তবে মাদকের ভয়াল আগ্রাসন প্রতিরোধ পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়।সূত্র মতে, দেশে মাদকের শীর্ষে রয়েছে ইয়াবা ও ফেনসিডিল। ইয়াবার ট্রানজিট রুট এখন চট্টগ্রাম। বাংলাদেশকে টার্গেট করে মিয়ানমার সীমান্তে গড়ে উঠেছে ছোট বড় অসংখ্য কারখানা। সেখানে উৎপাদিত ইয়াবা ঠেলে দেয়া হচ্ছে এদেশে। সাগর, সড়ক আর পাহাড়ি পথে ইয়াবার চালান আসছে। সরকারি তরফে ভারতীয় ফেনসিডিল কারখানা বন্ধ করা হয়েছে দাবি করা হলেও পরিস্থিতি তার উল্টো। কুমিল্লা ও ফেনী সীমান্ত হয়ে প্রতিদিনই ফেনসিডিলের চালান ঢুকছে চট্টগ্রামে।র্যাব-পুলিশের অভিযানে প্রতিদিনই ধরা পড়ছে ইয়াবা, ফেনসিডিলের চালান। তবে উদ্ধার মাদকের অন্তত ১০ গুণ নিরাপদে চলে যাচ্ছে গন্তব্যে। নিত্যনতুন কৌশলে হচ্ছে মাদক পাচার। বিক্রি হচ্ছে চট্টগ্রাম মহানগরী এবং জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। হাত বাড়ালেই মিলছে নেশা। আর তাতে বেড়েই চলেছে আসক্তের সংখ্যা। মাদকাসক্তির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অপরাধ। নিকট অতীতেও মহানগরীর বস্তি এলাকায় মাদকাসক্তদের উৎপাত দেখা যেত। এখন পল্লীগাঁয়েও মাদকাসক্তদের দাপট।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয় সহকারী পরিচালক রামেশ্বর দাস বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদকের হাট বসছে। মাদকাসক্তের সংখ্যা কয়েক লাখ। ইয়াবা ফেনসিডিল দুটোই সীমান্ত হয়ে আসছে। মাদকের উৎস বন্ধ করা না গেলে সর্বনাশ বন্ধ করা যাবে না। আর এজন্য সব সংস্থাকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং র্যাব-পুলিশ মাঝে মধ্যে ওইসব এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কিছু মাদকসেবীকে জরিমানা করা হলেও সবকিছু চলে আগের মত। মাদকাসক্তদের সুপথে ফিরিয়ে আনারও তেমন উদ্যোগ নেই। মাদকাসক্তদের নিরাময়ে সরকারি একটি এবং বেসরকারি ১৬টি নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে।ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্বারোপবিশিষ্ট সমাজ বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. গাজী সালেহ উদ্দিন বলেন, হতদরিদ্রের বস্তি থেকে শুরু করে উচ্চবিত্তের সংসারে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সর্বনাশা ইয়াবা, ফেনসিডিল-ফেয়ারডিলসহ নানা ধরণের মাদক। মাদকের আগ্রাসন রোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলছে। কথিত বন্দুকযুদ্ধ, ক্রসফায়ারে মারা গেছে অসংখ্য মাদকের কারবারি। তবুও ঠেকানো যাচ্ছে না মাদকের ভয়াল আগ্রাসন। বাড়ছে মাদকাসক্তের সংখ্যা।তিনি বলেন, পারিবারিক বন্ধন শিথিল, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অভাবে শিশু-কিশোরেরা বিপথে যাচ্ছে। দুর্নীতি এখন প্রকাশ্যে হচ্ছে। চাকরি পেতেও ঘুষ দিতে হচ্ছে। এতে যুবসমাজের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। এ হতাশা থেকে অনেকে মাদকাসক্ত হচ্ছে। কিশোর গ্যাং কালচারের সাথে মাদক যুক্ত হওয়ায় কম বয়সে অনেকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। আগামী প্রজন্মকে নেশার নীল ছোবল থেকে বাঁচাতে হলে পারিবারিক বন্ধন, নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা এবং সামাজিক প্রতিরোধ আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ইন্দ্রজিৎ কুন্ডুু মাদকের বিস্তার স¤পর্কে বলেন, মাদকের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় রাজনীতি ও অর্থনীতির গভীর স¤পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশে উন্নয়ন হলেও কর্মসংস্থান কম। এ কারণে বেকার যুবকেরা হতাশা ও বিচ্ছিন্নতা থেকে মাদকের প্রতি ঝুঁকছেন। ফলে বাংলাদেশ এখন মাদকের রমরমা বাজার। তাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে মাদকের লাগাম টেনে ধরতে হবে।
২৭ দিন আগে
চট্টগ্রামে মাদক কারবারির অন্যতম গডফাদার হচ্ছেন রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতাকর্মীরা। যারা তাদের রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহার করছে কিশোর গ্যাঙকে। মাদক বেচাকেনার ¯পটগুলোতে প্রকাশ্যে ক্ষমতা প্রদর্শন করে তারা।মাদক বিক্রির ¯পট নিয়ন্ত্রণ, প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপকে দমন, স্থানীয়দের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বাধা দেওয়াসহ নানা অপরাধে সব সময় সক্রিয় থাকে বিশোর গ্যাঙ। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে অনেক এলাকায় পুলিশি অভিযানের তথ্য আগেভাগেই পৌছে যায় কিশোর গ্যাঙয়ের কাছে। এতে নিয়মিত অভিযানের বদলে আলোচিত ঘটনার পরই অভিযান জোরদার হতে দেখা যায়।জানা গেছে, নগরীর বেশিরভাগ মাদক ¯পট বস্তিকেন্দ্রিক। বহিরাগত কেউ এসব এলাকায় ঢুকলে কিশোর গ্যাঙয়ের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়। মোবাইল ফোনে অর্ডার দিলেও নাকি কারবারিরা যথাস্থানে মাদক পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।চান্দগাঁও থানার ৮ নম্বর রেললাইন সংলগ্ন বস্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদকের হট¯পট হিসেবে পরিচিত। সেখানে সাজু ও সেলিম নামে দু‘জন মাদক কারবারে জড়িত বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। একই এলাকায় সাজুর পরিবারের বিরুদ্ধে পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করার বহু প্রমাণ আছে। এদিকে কাপ্তাই রাস্তার মাথায় বিদ্যুৎ অফিস-সংলগ্ন এলাকায় ঝর্ণা নামে এক নারী ইয়াবা কারবার চালিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। কাজীর হাটের কুমারপাড়ায় আলোচনায় রয়েছে ফারুক মেম্বারের নামও।অনুসন্ধানে জানা যায়, টাইগারপাস আমবাগান এলাকায় আলমগীর নামে এক ব্যক্তি মাদক কারবারে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, তার নিয়ন্ত্রিত কিশোর গ্যাঙয়ের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। এ ছাড়া কোতোয়ালি থানার বটতলী রেলস্টেশন সংলগ্ন কুমিরা বাস এলাকায় হোসেন ও সাহিদা, আগ্রাবাদ এলাকায় মনা বেগম, শাহ আলম ও রুবির বিরুদ্ধেও মাদক কারবারের প্রমাণ আছে। এসব এলাকায় কিশোর গ্যাঙকে ব্যবহার করে মাদক ¯পট নিয়ন্ত্রণ করা হয়।জানা গেছে, মাদকবিরোধী অভিযানে গেলে কিশোর গ্যাঙয়ের সদস্যরা হামলা, ইট-পাথর নিক্ষেপ, পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ এবং গ্রেপ্তার আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। সম্প্রতি নগরীর খুলশী ও টাইগারপাসের আমবাগান এলাকায় এমন ঘটনা ঘটে।ডবলমুরিং থানার এসআই মবিনুল ইসলাম সুমন ও এসআই মহসিন উদ্দিন রুবেলের নেতৃত্বে চিহ্নিত মাদক কারবারি আলমগীরকে গ্রেপ্তারের সময় কিশোর গ্যাং পুলিশের ওপর হামলা চালায়। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন এসআই মবিনুল ইসলাম সুমন। পাথর নিক্ষেপে আহত হন আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য। হামলার সময় পুলিশের ওয়াকিটকি ও অন্যান্য সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।ডবলমুরিং থানার এএসআই বাবলু বলেন, আলমগীরকে গ্রেপ্তারের পর কিশোর গ্যাং সদস্যরা তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে এসআই মবিনুল ইসলাম সুমন গুরুতর আহত হন।চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস) জনাব মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানান, অভিযানে আলমগীরকে দুই হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলার পর রাতভর অভিযান চালিয়ে পুলিশের ওয়াকিটকিসহ কয়েকটি সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মাদক বিক্রেতা, সেবনকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের আজকের মধ্যে মাদক ব্যবসা ছাড়তে হবে। নইলে কাল তাদের জন্য বড় বিপদ অপেক্ষা করছে। তারা যত বড় প্রভাবশালীই হোক, আর কোনো ছাড় নয়।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ইন্দ্রজিৎ কুন্ডুু বলেন, পারিবারিক বন্ধন শিথিল হয়ে যাওয়ায় শিশু-কিশোরেরা বিপথগামী হচ্ছে। সাম্প্রতিককালে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা কিশোর গ্যাঙয়ের মাধ্যমে নেশায় জড়িয়ে পড়ছে অনেকে। মাদকের উৎস বন্ধ, মাদকাসক্তের চিকিৎসা এবং সর্বোপরি মাদক বিরোধী ব্যাপক সামাজিক আন্দোলনের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
২৮ দিন আগে
দুর্নীতির লাগাম টানতে দুই দশক আগে গঠিত হয়েছিল স্বায়ত্তশাসিত দূর্নীতি দমন কমিশন-দূদক। সেই থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত পেলে অভিযোগ নিচ্ছে সংস্থাটি। প্রাথমিক তদন্তে আর্থিক অনিয়মের প্রমাণসহ দেওয়া হয় চার্জশিট বা অভিযোগপত্র। অভিযোগের সত্যতা পেলে করা হচ্ছে মামলাও। এমন আটঘাট বেঁধেই শুরু হয় বিচার। কিন্তু দিন শেষে টিকছে না অর্ধেক মামলা। নির্দোষ প্রমাণে খালাস পাচ্ছেন আসামিরা। না হয় দায় মুক্তি। কালের গর্ভে এভাবে হারিয়ে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ। গত ৫ বছরে নিষ্পত্তি হওয়া এমন মামলাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে ফুটে উঠেছে এ চিত্র। এখন প্রশ্ন— অনিয়মের অভিযোগগুলোই কি মিথ্যা ছিল? আবার মিথ্যা হলে দফায় দাফায় তদন্তে প্রমাণ মিলল কীভাবে? এর উত্তর দুদকের প্রসিকিউটরদের মুখে। তাদের একজন প্রশ্নের শুরুতেই বললেন গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি নেই। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই প্রসিকিউটর বলেন, বেশির ভাগ মামলা রাজনীতির মারপ্যাঁচে পড়ে গতি হারাচ্ছে। রাজনৈতিক কারণে অনেক মামলা খারিজ হয়ে যাচ্ছে। একই কারণে অনেক ক্ষেত্রে মামলা হওয়ার আগেই দুদক থেকে পাচ্ছে দায় মুক্তি। এসবের পেছনে কাজ করছে রাজনৈতিক প্রভাব। এছাড়া পদ্ধতিগত কারণেও অনেক সময় মামলার বিচারে এসে অভিযোগ প্রমাণ করা যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে বিচারের সদিচ্ছার অভাব থাকে। পক্ষান্তরে সরকার দলীয় না হওয়ায় অনেক মামলায় হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।প্রসিকিউটর আরও বলেন, দুদকের প্রসিকিউটর নিয়োগেও মেধার চেয়ে রাজনৈতিক বিবেচনাই প্রধান্য পাচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের আইনজীবীদের নিয়োগ দেওয়ার কারণে মামলার প্রতি তাদের পেশাগত দায়বদ্ধতার চেয়ে দলীয় আনুগত্য বেশি কাজ করে। এছাড়া সরকার বদলের সঙ্গে মামলার গতিও বদলে যায়। আবার প্রক্রিয়াগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কারণেও মামলায় সাজা না হওয়ার ঘটনা ঘটছে। দুদক প্রাথমিক অনুসন্ধানে সত্যতা পেয়ে মামলা করে। কিন্তু ফৌজদারি আদালতে অপরাধ প্রমাণে সাক্ষী একমাত্র মানদণ্ড। যদি সাক্ষী ঠিকভাবে উপস্থাপন করা না হয়, সেক্ষেত্রে অভিযোগ প্রমাণ করা যায় না। দুর্নীতির অনেক মামলা নিষ্পত্তি থেকে ১০ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত লেগে যাচ্ছে। এত দীর্ঘ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি হারিয়ে যায়। কেউ চাকরি থেকে অবসরে চলে যান। আবার কোনো বিচার চলাকালে মারা যান অথবা মামলার বিষয়বস্তু ভুলে যান। সেক্ষেত্রে যথাযথ সাক্ষী বা ডকুমেন্টস উপস্থাপন করা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে তদন্তের দুর্বলতায় আসামিরা পার পেয়ে যান। তবে দায়িত্বরত প্রসিকিউটররা মামলার অভিযোগ প্রমাণে কোনো গাফিলতি রাখেন না।দুদকের প্রসিকিউশনের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধান বা মামলার পর তদন্তে তাদের কোনো গাফিলতি থাকে না। তারা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে মামলার তদন্ত করে থাকেন। সেক্ষেত্রে মামলার সাজা বা খালাসের বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার।দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বলেন, বিচারে আমাদের কোনো ত্রুটি থাকে না। অনেক মামলা উচ্চ আদালতে স্থগিত হয়ে যায়। প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর পর এসব মামলার কার্যক্রম ফের চালু হলে অনেক ডকুমেন্টস পাওয়া যায় না। যার কাছে ডকুমেন্টস জিম্মা ছিল, তার হদিস মেলে না। মূলত ডকুমেন্টসের অভাবে মামলার অভিযোগ প্রমাণ করা যায় না।সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম বলেন, মামলার তদন্তে ও কাগজপত্রে ত্রুটি থাকলে বিচারের পর্যায়ে এসে অভিযোগ প্রমাণ করা যায় না। সাক্ষীকে জেরা করলে তখন সত্য বিষয়টি উঠে আসে। মামলায় যারা দোষী না, তাদের আসামি করা হয়। অথচ যারা প্রকৃত দোষী, তারা বাইরে থেকে যান। যে কারণে বিচার শেষে আসামিরা খালাস পেয়ে যান।সাজার হার নিম্নমুখীসূত্র জানায়, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ৫৫ মাসে নিষ্পত্তি হয়েছে ১ হাজার ৪৭৫টি মামলা। এর মধ্যে চার্জশিট পর্যায়েই বাতিল হয়েছে ১৩৫টি। আর রায়ে নিষ্পত্তি হওয়া ৫৪৮ মামলার সব বিবাদী খালাস। আর ৭৯২টিতে সাজা হয়েছে আসামিদের। ২০২২ সালে সবচেয়ে বেশি ৬১ শতাংশ সাজার হার ছিল। ২০২৩ সালে এই সাজা কমে ৫৭ শতাংশ হয়েছিল। আর ২০২৪ সালে সবচেয়ে কম ৪৭ শতাংশ মামলায় সাজা হয়েছিল। তবে ২০২৫ সাল ও চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে সাজার হার ৫০ শতাংশে নেমেছে। সাজার হার কমার সঙ্গে মামলার নিষ্পত্তির হারও নিম্নমুখী। ২০২২ সালে সর্বোচ্চ ৩৪৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছিল। পরে ২০২৩ সালে ৩৪১টি এবং ২০২৪ সালে ২৯৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়। তবে ২০২৫ সালে বিচার শেষ হয়েছে সবচেয়ে কম ২৬৭ মামলার।কমিশনের মামলার পরিসংখ্যান অনুসারে, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত চলমান রয়েছে দুর্নীতির ২৭৯৩টি মামলা। তবে ২৯২টির কার্যক্রম স্থগিত। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ২২৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে চার্জশিট পর্যায়ে শেষ হয়েছে ১০টি। সাজার রায়ে নিষ্পত্তি ১১৪ এবং খালাস ১০২টিতে। এক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ মামলায় আসামির সাজা হয়েছে।অন্যদিকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৬৭টি মামলায় নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৪টি মামলায় সাজা এবং ১১৮টি মামলায় খালাস দেওয়া হয়েছে। তবে ১৪টি মামলা চার্জশিটেই বাতিল হয়েছে। এক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ মামলায় আসামির সাজা হয়েছে। একইভাবে ২০২২ সালে ৬১ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৫৭ ও ২০২৪ সালে ৪৭ শতাংশ মামলায় সাজা হয়েছে বিবাদীদের।কেস স্টাডিতে যে বার্তা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৭ সালে দুদকের করা মামলায় ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর খালাস পান সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী। ১৭ বছর পর জানা যায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি।অবৈধ সম্পদ অর্জনে অভিযোগে ২০১৪ সালে দুদকের করা মামলায় ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে খালাস দেন আদালত। ১০ বছর পর তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়। আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৭ সালে দুদকের করা মামলায় গত বছরের ২৫ মার্চ খালাস পান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু। ১৮ বছর পর তার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়।কর ফাঁকি ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালে দুদকের করা মামলায় গত বছরের ২২ জুন খালাস পান বিএনপির সাবেক ভূমি উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। ১৮ বছর পর রায়ে তারা নির্দোষ প্রমাণিত হন। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০১৪ সালে দুদকের করা মামলায় গত বছরের ২৩ জুলাই খালাস পান বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। ১১ বছর পর তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৯ সালে করা মামলায় গত বছরের ৫ অক্টোবর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে খালাস দেন আদালত। ১৬ বছর পর তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে খালাস পান।আবার আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির ১০টি মামলা হয়েছিল। ২০০১ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে এসব মামলায় শেখ হাসিনাকে আসামি করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে কয়েকটি মামলায় তাকে অভিযুক্তও করা হয়। তবে কোনো মামলায় তার বিচার হয়নি। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। এতে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হয়ে এসব মামলায় দায়মুক্ত হন শেখ হাসিনা। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তার বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির মামলা হচ্ছে।২০০৭ সালের ১৩ জুন সূত্রাপুর থানায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এতে সম্পদের তথ্য গোপন ও অবৈধভাবে ২৯ লাখ টাকার সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ আনা হয়। পরের বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত দুই ধারায় তাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেন। সেই সঙ্গে তাকে জরিমানাও করা হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন মায়া। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালের ২৭ অক্টোবর তাকে খালাস দেন হাইকোর্ট বেঞ্চ। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে আবার দুর্নীতির অভিযোগে দুটি মামলা হয়েছে।চারটি কারণে আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করা যায় না উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক বলেছেন, মামলা করার মতো জ্ঞানের অভাব, তদন্তে পারদর্শিতার ঘাটতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও হয়রানিমূলক মামলা হওয়ার কারণে খালাস পেয়ে যান আসামিরা। আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আইনজ্ঞদের অভিমতআদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন এবং কর ফাঁকি ও দুর্নীতির বহু মামলায় অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে দুদক। এসব মামলার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, দুদকে যারা প্রাথমিক অনুসন্ধান ও তদন্ত করেন, এসব ব্যাপারে তাদের আইনি জ্ঞান খুবই অল্প। তাদের যথেষ্ট প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না। কিন্তু আইনজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, দুদকের তদন্তে কোন ফাঁফোকর নেই। সংস্থাটি আঁটঘাট বেধেই মামলা দায়ের করে। বরং উল্টো দুদককে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়। রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ না হলে দেশে কোনভাবেই সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। দুর্নীতি করলে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতিরদুর্নীতিবাজ যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।বৃহস্পতিবার ( ১০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন কমিশনার (তদন্ত) ড. জাহাঙ্গীর আলম খান, কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মোঃ সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া এবং সচিব মোঃ সাইদুর রহমান খান।সাক্ষাৎকালে দুদক চেয়ারম্যান কমিশনের সার্বিক কার্যক্রম, চলমান বিভিন্ন উদ্যোগ এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। তিনি দুর্নীতি দমনে কমিশনের কার্যক্রম আরো কার্যকর করতে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।রাষ্ট্রপতি বলেন, দীর্ঘদিনের অপশাসন, অনিয়ম ও জবাবদিহিতার অভাবে দুর্নীতি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্নীতি দমন ও নিয়ন্ত্রণের ওপর জাতির অগ্রগতি ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। দুদককে সততা ও সাহসের সঙ্গে দুর্নীতি দমনে কাজ করে যেতে হবে।রাষ্ট্রপতি দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন বিপুলসংখ্যক মামলা আইনগতভাবে দ্রুত নিষ্পত্তি এবং দীর্ঘসূত্রিতা কমানোর জন্য দুদকের প্রতি আহ্বান জানান। গুরুতর ও বৃহৎ দুর্নীতির বিষয়ে দ্রুত অনুসন্ধান ও কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্যও তিনি বলেন।দুর্নীতিবিরোধী মূল্যবোধ গড়ে তুলতে জনসচেতনতা ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম আরো জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি দুর্নীতি দমন কমিশনকে তার সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
২৮ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকার কাপড়ভর্তি একটি বড় কনটেইনার গায়েব হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি সংঘটিত এ ঘটনায় তোলপাড় চলছে বন্দরজুড়ে। আমদানি-রপ্তানিমুখি কনটেইনার চুরির এমন ঘটনা একের পর এক চলছে। ঘটনায় তদন্ত কমিটি করেই দায় সারছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।কনটেইনার চুরির বিষয়ে বন্দর সংশ্লিষ্ট অনেকের মাঝে ধারণা থাকলেও তাদের কারও কিছুই বলার সুযোগ নেই। সামগ্রিক ব্যবসায় ক্ষতির ভয়ে মুখ বন্ধ ব্যবসায়ীদের। তাদের মুখে এখন শুধুই প্রশ্ন। যেখান থেকে মিলছে উত্তরও। কিন্তু এ নিয়ে কারো কোন মাথা-ব্যাথা নেই। এ অবস্থায় আমদানি-রপ্তানি নিয়ে চরম আতঙ্কে ভূগছেন ব্যবসায়ীরা।ব্যবসায়ীদের ধারণা, কনটেইনার চুরির নেপথ্যে জড়িত খোদ বন্দরের শক্তিশালী সিন্ডিকেট ও প্রশাসনিক লোকজন। তাদের মুখে প্রশ্ন, বন্দর চত্বরের মতো সুরক্ষিত ও সিসিটিভি ক্যামেরার ভেতর থেকে বিশাল আকৃতির কনটেইনার চুরি করা একার পক্ষে কীভাবে সম্ভব? এর পেছনে টার্মিনাল অপারেটর, বন্দর ও কাস্টমসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সরাসরি যোগসাজশ রয়েছে।কিন্তু তারা কারা তা বলার সুযোগ নেই। বন্দর কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও সিসিটিভি ব্যবস্থার কারসাজিকে দায়ী করে ব্যবসায়ীরা বলছেন. এর আগেও বন্দর থেকে এ ধরনের বেশ কয়েকটি কনটেইনার রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ বা গায়েব হয়েছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এ ধরণের প্রায় ২৫০টি কনটেইনারের হিসাব মেলাতে পারছে না। যা বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরনের ঘাটতি ফুটিয়ে তোলে।সূত্র মতে, গত ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরে এনসিটি-২ বার্থে কনটেইনার খালাস করে এমভি এমসিসি ডানাং। ওই জাহাজে ৪০ ফুট এফসিএল কনটেইনারে (কনটেইনার নং- এমআরএসইউ-৮৬৯২৮২৭) আসে সাভারের কালিয়াকৈরের রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গোল্ড স্টার গার্মেন্টস লিমিটেডের ৬৬৮ বেল ফেব্রিক্স (কাপড়ের রোল)।আমদানিকারকের পক্ষে সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান এস আর এস সিন্ডিকেট পণ্য খালাসের জন্য কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সার্ভারে গত ২২ আগস্ট বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। পরে কাস্টমস ও বন্দরের সব ধরনের রাজস্ব পরিশোধ করে ৩০ আগস্ট বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ড থেকে কনটেইনারটি খালাসের জন্য গেলে বন্দর কর্তৃপক্ষ তা ডেলিভারি দিতে ব্যর্থ হয়।এ বিষয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর বন্দর চেয়ারম্যান বরাবরে অভিযোগ দেন সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান এস আর এস সিন্ডিকেটের স্বত্ত্বাধীকারী মো. হাফিজুর রহমান। অভিযোগ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ৩০ আগস্ট কনটেইনার ডেলিভারির জন্য গেলে বন্দর কর্তৃপক্ষ গোল্ড স্টার গার্মেন্টেসের আমদানিকৃত কাপড়ের রোলভর্তি কনটেইনারটি কিপডাউন দিতে পারেননি। এরপর কয়েকদিন খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে বন্দর চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানটি। এরপর গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ফাঁস হয় কনটেইনারটি গায়েব হওয়ার ঘটনা। এ নিয়ে বন্দরজুড়ে তোলপাড় চলছে।সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান এস আর এস সিন্ডিকেটের স্বত্ত্বাধীকারী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, আমরা কাস্টমস ও বন্দরের যাবতীয় চার্জ পরিশোধ করে কনটেইনার ডেলিভারির জন্য গেলে তা পাওয়া যায়নি। কনটেইনারটিতে আসা কাপড়ের রোলগুলো শতভাগ রপ্তানিমুখী। এতে প্রায় তিন কোটি টাকার কাপড় ছিল। এখন নির্ধারিত সময়ে কাপড়গুলো না পেয়ে আমাদের গ্রাহক গোল্ড স্টার গার্মেন্টসও বিপাকে পড়েছে। তারা নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি পণ্য বায়ারের কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ হবে।তিনি বলেন, আমাদের অভিযোগের পর শুনেছি বন্দর কর্তৃপক্ষের ছয় সদস্যের কমিটি বিষয়টি তদন্ত করছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত কনটেইনারটির কোন হদিস দিতে পারছে না। বারবার কনটেইনার চুরির ঘটনা ঘটলেও বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, ঘটনাটির তদন্ত চলছে পরে বিস্তারিত জানানো হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগের ঘটনাগুলোর তদন্তও চলমান রয়েছে। একটি ঘটনায় দু‘জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।কনটেইনার চুরির ঘটনা একের পর এককনটেইনার চুরির ঘটনা এটিই প্রথম নয়, চলতি বছরে অন্তত চারটি কনটেইনার চুরির ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বন্দরে। এর মধ্যে গত ১১ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢ-৮১-০০০৩ নম্বরের একটি ট্রেইলার ব্যবহার করে মেসার্স প্যারামাউন্ট ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের সাবেক জেটি সরকার সাইফুল ইসলাম মজুমদারের যোগসাজশে বন্দর থেকে বের করে নেয়া হয় তিন কোটি টাকা মূল্যমানের এক পণ্যের কনটেইনার।তার সহযোগী হিসেবে কাজটি করেন একই সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানের আরও দুই জেটি সরকার মোরশেদ আলম ও সাইদুর রহমান। এতে বিপদে পড়েন আমদানিকারক ও লোকাল সিএন্ডএফ এজেন্ট। মূলত রাতের এই সময়টিতে বন্দরের নিরাপত্তা তদারকি তুলনামূলক শিথিল থাকার সুযোগেই এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। এ ঘটনায় বন্দর থানায় দায়ের করা একটি মামলার নথিপত্র থেকে মিলেছে এ তথ্য।বন্দর থানা সূত্র জানায়, ঘটনার পর মোরশেদ আলম ও সাইদুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মূল অভিযোগের তীর যার দিকে, সেই সাইফুল ইসলাম মজুমদারকে ঘিরে রয়েছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০১৭ সালেই তার জেটি সরকার লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছিল। লাইসেন্সবিহীন অবস্থায় কীভাবে বন্দরে প্রবেশ করছেন তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এছাড়া তার নাম মামলার কপিতে না থাকা নিয়েও তৈরি হয়েছে রহস্য।এ বিষয়ে জানতে সাইফুল ইসলামকে মোবাইল ফোনে কল দিলেও সাড়া মেলেনি।তদন্তের নামে ভাওতাবাজিচট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন ওঠানামা করে হাজার হাজার কনটেইনার। এগুলো হ্যান্ডলিং নিয়ন্ত্রণ করেন জেটি সরকার। যাদের দায়িত্ব বন্দর থেকে পণ্য খালাসের সময় সিএন্ডএফ এজেন্টের পক্ষে সমন্বয় করা। কিন্তু এই দায়িত্বই এখন পরিণত হচ্ছে অনিয়মের হাতিয়ারে। ঘটছে অহরহ চুরির ঘটনা।যা নিয়ে একাধিক তদন্ত কমিটি হলেও ফলাফল শূন্য। যা পুরো ভাওতাবাজি বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। বরং ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, কাস্টমসের ডিউটি ও বন্দরের সব চার্জ পরিশোধের পরও কনটেইনার গায়েব হয়, এটা কীভাবে সম্ভব? ভুয়া ও জাল নথিপত্র ব্যবহার করে বা ডিজিটাল কার্গো ট্র্যাকিং সিস্টেমে কারসাজি করছে কারা?জেটি সরকারের কার্যক্রম তদারকির সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা, প্রবেশ-বাহিরের বায়োমেট্রিক নজরদারি এবং লাইসেন্স বাতিলের পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রবেশাধিকার তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করার মতো ব্যবস্থা কার্যকরেও পরামর্শ রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য জাফর আলম বলেন, বন্দরকর্মী ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের স¤পৃক্ততা ছাড়া একটি কনটেইনার ছাড়ার সুযোগ নেই। শুধু শ্রমিকদের আটক করে তদন্ত ভিন্ন খাতে নেয়ার কোনো যুক্তি নেই বলেও জানান তিনি।চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার ও মুখপাত্র শরীফ আল আমিন বলেন, সাধারণত একটি কনটেইনার বন্দর থেকে বের হওয়ার আগে একাধিক ধাপে যাচাই করা হয়। কাস্টমসের পরিদর্শনসংক্রান্ত তথ্য সিস্টেমে এন্ট্রি করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট কাস্টমস গ্রুপ ঘোষিত পণ্যের মূল্য, এইচ এস কোড এবং প্রযোজ্য আইন যাচাই করে শুল্ক ও কর নির্ধারণ করে।শুল্ক-কর পরিশোধের পর শিপিং এজেন্ট ডেলিভারি অর্ডার দেয় এবং পণ্যের কাস্টডিয়ান হিসেবে বন্দর কর্তৃপক্ষ ডেলিভারি প্রক্রিয়া স¤পন্ন করতে সহায়তা করে। একটি কনটেইনার ছাড়পত্র পাওয়ার আগে বিভিন্ন ধাপে এবং একাধিক চেকপয়েন্টে কাগজপত্র যাচাই করা হয় বলে জানান তিনি।তিনি আরও জানান, বন্দর থেকে পণ্য বের হওয়ার আগে কাস্টমস চূড়ান্ত যাচাই করে। তবে এই ঘটনায় ঠিক কোন পর্যায়ে কথিত অনিয়ম ঘটেছে, তা তদন্ত করে বের করতে হবে বলে জানান তিনি। কোনো সিএন্ডএফ এজেন্ট বা শিপিং এজেন্টের স¤পৃক্ততা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।জালিয়াতি হচ্ছে যেভাবেএমভি এমসিসি ডানাং জাহাজে করে বন্দরে আসার পর কনটেইনারটি এনসিটি-২ জেটিতে খালাস করা হয়। পরে এটি সাইফ পাওয়ার টেক এলটিডি পরিচালিত সিসিটি ইয়ার্ডে রাখা হয়। কাস্টমসের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে আমদানিকারকের সিএন্ডএফ এজেন্ট সেটি সংগ্রহ না করা পর্যন্ত কনটেইনারটির সেখানেই থাকার কথা।কিন্তু মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১১ আগস্ট এন-৪ সিস্টেমে কনটেইনারটির অন-ডেট, অন-চ্যাসিস ডেলিভারি দেখানো হয়। সিস্টেমে দেখা যায়, বন্দরের ম্যানিফেস্ট শাখার ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারের হাই এক্সটার্নাল অ্যাসিস্ট্যান্ট নেয়ামুল হক সরকার ১৪৫৩২ নম্বর কর্মী আইডি ব্যবহার করে সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটের দিকে এন্ট্রিটি করেন।তবে এজাহারে নেয়ামুল হক নিজে কনটেইনার সরানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন এমন কোনো অভিযোগ নেই। শুধু বলা হয়েছে, তার কর্মী আইডি ব্যবহার করে ডিজিটাল এন্ট্রি করা হয়েছে। কে প্রকৃতপক্ষে এন্ট্রিটি করেছেন এবং কার নির্দেশে করেছেন, এখন সেটিই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে কনটেইনার সরানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রে আরও একটি বড় অসঙ্গতি পাওয়া যায়।বন্দর কর্মকর্তারা অন-ডেট, অন-চ্যাসিস অ্যাসাইনমেন্টের একটি কপিতে ৪০ নম্বর সিরিয়ালের বিপরীতে থাকা স্বাক্ষর পরীক্ষা করে দেখেন। সেটি সিসিটি-এনসিটি ইয়ার্ডের পরিবহন পরিদর্শক মো. ইস্কান্দার ফারুকের স্বাক্ষরের সঙ্গে মিলেনি। অভিযোগ অনুযায়ী, স্বাক্ষরটি জাল করা হয়েছিল।এজাহারে আরও বলা হয়েছে, কাগজপত্র আসল বলে দেখাতে ভুয়া সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়। এতে তদন্তকারীদের সামনে মূল প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে: স্বাক্ষর যদি জাল হয়, তাহলে সেই কাগজের ভিত্তিতে বন্দরের ডিজিটাল সিস্টেমে কীভাবে মুভমেন্ট এন্ট্রি তৈরি হলো এবং সেই এন্ট্রির ভিত্তিতে কনটেইনারটি কীভাবে বাস্তবে বন্দর থেকে বেরিয়ে গেল? তদন্ত কর্মকর্তারা অবশ্য তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।আতঙ্কে ব্যবসায়ীরাচট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ড থেকে একের পর এক কনটেইনার চুরির ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, এ পর্যন্ত সংঘটিত স কয়টি চুরি সিসিটি ও এনসিটি টার্মিনাল থেকে হয়েছে। যা পরিচালনা করছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর সাইফ পাওয়ারটেক।ভ্যবসায়ীদের ভাষ্য,কনটেইনার চুরির ঘটনা শ্রমিকদের রক্তঝরা ঘাম আর দেশের ব্যাংকিং লোনে পরিচালিত ব্যবসায় কোটি টাকার বড় ধাক্কা। এতে শুধু ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দেশের লাখ লাখ মজুর ও অর্থনীতি। যা সামলাতে মাশুল গুণতে হবে সংশ্লিষ্ট সকলকে।এমন কথা বলেছেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিমাসে কনেটইনার গায়েবের ঘটনা ঘটছে, যা সত্যিই উদ্বেগ ও আতঙ্কের।সম্প্রতি গায়েব হওয়া কনটেইনারের সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান এস আর এস সিন্ডিকেটের স্বত্ত্বাধীকারী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, একের পর এক কনটেইনার গায়েবের ঘটনায় ব্যবসায়ীরা সত্যিই আতঙ্কিত। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এখনও এ ধরণের প্রায় ২৫০টি কন্টেইনারের হিসাব মেলাতে পারছে না বলে জানান তিনি।বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, কনটেইনারগুলো কীভাবে বন্দর থেকে বের হচ্ছে এবং বন্দর বা টার্মিনালের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এসব ঘটনার সাথে জড়িত আছে কি না, তা নজরে রাখছে পুলিশ।
১ মাস আগে
নানা অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হয়ে উঠলেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে ছিলেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) থেকে এলপিআরে যাওয়া সাবেক মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মনি লাল দাস। তবে অবসরে গিয়েও শেষ রক্ষা হচ্ছে না তার ও স্ত্রী সেপিকা দাসের।দুদকের জালে ধরাশায়ী হচ্ছেন বিপিসির দুরন্ধর এই কর্মকর্তা। অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধান শেষে এ সক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক রাজু আহমেদ। প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখসহ স্বামী-স্ত্রী দু‘জনের সম্পদ বিবরণী যাচাইয়ের সুপারিশ করা হয়।দুদকের এই কর্মকর্তা জানান, বিপিসির কর্মকর্তা মনি লাল দাস ও তার স্ত্রীর নামে পাওয়া জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের তালিকাসহ একটি অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। যেখানে আলোচ্য সম্পদগুলোর জন্য পৃথকভাবে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের নামে সম্পদ বিবরণী দাখিলের সুপারিশ করা হয়। প্রক্রিয়া শেষে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বিপিসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, চাকরির নিয়োগে জালিয়াতিসহ মনি লাল দাসের সব ধরণের অনিয়মের বিষয়টি অনেক দিন ধরে আলোচিত হলেও ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিপিসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিপিসি সংশ্লিষ্টরা। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। হয়েছে অভিযোগও। যার পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধানে নামে দুদক।ইতোমধ্যে বিপিসির চাকরি থেকে এলপিআরে যাওয়ার পর তার নানা অনিয়ম ও জালিয়াতির তথ্য মুছে ফেলতে ফাইলগুলোও গায়েব করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে তোলপাড় চলছে বিপিসি জুড়ে। যার সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত বলে মনে করছেন বিপিসি সংশ্লিষ্টরা।দুদক সূত্র জানায়, ২০২৩ সালে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে বিপিসির মহাব্যবস্থাপক মনি লাল দাস বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়ার পর অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। দীর্ঘ অনুসন্ধানে মনি লাল দাস ও তার স্ত্রী সেপিকা দাসের নামে আড়াই কোটি টাকারও বেশি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক প্রমাণ পায় সংস্থাটি।দুদকের অনুসন্ধানে ওঠে আসে, মনি লাল দাসের দায় বাদে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায় ৩ কোটি ২৩ লাখ ১৩ হাজার ৮০৪ টাকা। পাশাপাশি তার পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হয় ৯৪ লাখ ১০ হাজার ৪০৩ টাকা। সবমিলিয়ে তাঁর ৪ কোটি ১৭ লাখ ২৭ হাজার ২০৭ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়।এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ৩ কোটি ৪০ লাখ ৯২ হাজার ১৯৩ টাকা। বাকি ৭৬ লাখ ৩৫ হাজার ১৪ টাকার সম্পদ তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে অর্জন বলে দুদকের অনুসন্ধানে ওঠে আসে।অন্যদিকে মনি লাল দাসের স্ত্রী সেপিকা দাসের পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ পাওয়ায় যায় ২ কোটি ৪৪ লাখ ৬১ হাজার ৯২৭ টাকার। এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় মাত্র ৫৭ লাখ ৪৪ হাজার ৬৭২ টাকা। বাকি ১ কোটি ৮৭ লাখ ১৭ হাজার ২৫৫ টাকা আয়ের উৎস কম পাওয়া যায়। যা তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে অর্জন পূর্বক ভোগ দখলে রেখেছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে ওঠে আসে।বিপিসি সূত্র আরও জানায়, ২০২৩ সাল থেকে ১৩ আগষ্ট ২০২৬ সালের অবসরে যাওয়ার আগে তিনি আরও রমরমা অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন, তার হিসাব মিলালে শত কোটি টাকা তিনি সরকারের ক্ষতি করেছেন। এসব করে তিনি ভারতে টাকা পাচার করেছেন।অবৈধ আয় বৈধ করতে স্ত্রীকে বানানো হয় মাছ ব্যবসায়ীমনি লাল দাস সরকারি চাকুরিজীবী হলেও তার স্ত্রী সেপিকা দাস একজন গৃহিণী। কিন্তু তিনি ২০১০ ও ২০১১ করবর্ষ হতে সরকারের একজন নিবন্ধিত করদাতা। সকল সম্পদের হিসেবে তার আয়কর নথিতেও উল্লেখ রয়েছে। তাতে নিজেকে কমিশন ব্যবসা হতে আয়, সঞ্চয়পত্রের সুদ, এফডিআরের সুদ, শেয়ার ব্যবসা ও মাছ চাষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।তবে দুদকের অনুসন্ধানে বলা হয়, সেপিকা দাস নিজেকে কমিশন ব্যবসায়ী কিংবা মৎস্য চাষী হিসেবে উল্লেখ করলেও বান্তবে তিনি কখনোই কোন প্রকার কমিশন ব্যবসায়ে যুক্ত ছিলেন না। এছাড়া মৎস্য চাষী হিসেবে দাবি করলেও দুদকের কাছে মৎস্য চাষের স্বপক্ষে কোন প্রকার তথ্য প্রমাণ উপস্থাপনও করতে পারেননি। কিংবা এ সংক্রান্ত কোন কাগজপত্রও তিনি দাখিল করতে পারেননি। বরং স্বামীর অবৈধ অর্থ তার নামে আয়কর নথি খুলে বৈধ করার চেষ্টা করেছিলেন।চাকরির নিয়োগেও মনি লাল দাসের জালিয়াতিবিপিসি সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের ২৪ অক্টোবর দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে সহকারি ম্যানেজার পদের জন্য অভিজ্ঞতাসহ ন্যুনতম দ্বিতীয় শ্রেণিতে স্নাতক পাশ চাওয়া হয়। কিন্তু মনি লাল দাশের স্নাতকের রেজাল্ট তৃতীয় শ্রেণি। এ কারণে বিপিসির ওই বিজ্ঞপ্তি অনুসারে তার আবেদন করার যোগ্যতাই ছিল না। কিন্তু নিয়োড় পেয়েছেন সেই মনি লাল দাস।আবার সময়ে অসময়ে প্রমোশন পেয়ে মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) পদে ছড়ি ঘুরিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ভারতে টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। তিনি এমন কোন বছর নেই ভারত সফর করেননি। কখনও একাধিক দফায় সফরের রেকর্ড রয়েছে। তদন্ত করা হলের পিকে হালদারের মতো থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।জানা যায়, পরিকল্পনা বিভাগে নিয়োগ পাওয়া মো. মনিরুল ইসলাম চাকরি ছেড়ে দিলে কপাল খুলে যায় মনি লাল দাসের। অভিযোগ উঠে, তিনি বিপিসির পেছনের দরজা দিয়ে আসীন হয়ে সামনের দরজা দিয়ে অবসরে চলে গেছেন।এ বিষয়ে জানতে মনি লাল দাসের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেঞ্জোরে এসএমএসে খুদে বার্তা পাঠিয়ে প্রশ্ন করা হলেও তিনি কোনরকম সদুত্তর পাঠাননি।উল্লেখ্য, মনি লাল দাস বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন, যিনি সম্প্রতি পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন শেষে পিআরএল (অবসরোত্তর ছুটি) বা অবসর প্রক্রিয়ায় আছেন।তিনি বিপিসিতে ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এবং পূর্বে মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৯ সালে সহকারী ব্যবস্থাপক (এমআইএস) হিসেবে বিপিসিতে কর্মজীবন শুরু করেন, বিপিসির তথ্য অনুযায়ী ১৩ আগস্ট ২০২৬ সালে তার অবসর সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি হয়।
১ মাস ১ দিন আগে
‘চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত শব্দের কারণে শ্রবণশক্তি হ্রাস পায়, রোগীদের রক্তচাপ বৃদ্ধি, হৃদরোগের জটিলতা ও মানসিক অস্থিরতা বাড়ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাসরুম পর্যন্ত তীব্র হর্নের শব্দ পৌঁছানোয় শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে’
১ মাস ৩ দিন আগে
স্ক্র্যাপ হিসেবে কিনে আনা কোনো জাহাজ কাটা শুরুর আগে বিস্ফোরক পরিদপ্তর থেকে নিতে হয় গ্যাসমুক্ত সনদ। যেটি পেয়েছিল চট্টগ্রামের ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডও। কিন্তু সেখানে এমটি রাসি নামক জাহাজটি কাটতে গিয়ে ট্যাংক থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ যায় ১০ জন শ্রমিকের। শুধু ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ড নয়, বিগত কয়েক বছরে চট্টগ্রামের সাগর উপকুল সীতাকুন্ডে স্থাপিত শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোতে একের পর এক বিষাক্ত গ্যাস নির্গমন বা বিস্ফোরণে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। যার দায় পুরোপুরি বিস্ফোরক পরিদপ্তরের হলেও এ নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা নেই কারও। এ নিয়ে আসল তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে না কোনো গণমাধ্যমেওএমন অভিযোগ শিপব্রেকিং শ্রমিক-কর্মচারীদের। একই অভিযোগ মালিকদেরও। তাদের মতে, শিপিব্রেকিং ইয়ার্ডে কোন দূর্ঘটনা হলে যেন সব দায় মালিকের। সব দোষ শ্রমিকের। কিন্তু এ জন্য বিস্ফোরক পরিদপ্তর যে শতভাগ দায়ী তা কারও নজরে আসছে না। এমনকি প্রকৃত সত্য কোনো মাধ্যমেও প্রকাশ পাচ্ছে না। শ্রমিক-কর্মচারূী ও মালিকরা জানান, স্ক্র্যাপ হিসেবে কিনে আনা কোনো জাহাজ কাটা শুরুর আগে বিস্ফোরক পরিদপ্তর থেকে নিতে হয় গ্যাসমুক্ত সনদ। যা নিয়মানুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দিতে হয়। কিন্তু কোনো রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই গ্যাসমুক্ত সনদ দিয়ে দেয় বিস্ফোরক পরিদপ্তর। এ জন্য নানা হয়রানির ভয় দেখিয়ে আদায় করা হয় মোটা অঙ্কের ঘুষও। আর পরিশেষে পরিণতি গ্যাসের বিস্ফোরণ অথবা নির্গমনে শ্রমিকদের মৃত্যু। এ যেন গ্যাসমুক্ত সনদ নয়, শ্রমিকদের মৃত্যু পরোয়ানা। ঠিক এমন ঘটনা ঘটেছে ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডেও। গত ১৪ আগস্ট সকালে এমটি রাসি জাহাজটির তিন নম্বর ব্যালাস্ট ট্যাংক কাটার সময় বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড (H₂S) গ্যাসে প্রাণ যায় ১০ জন শ্রমিকের। আর ওই জাহাজের গ্যাসমুক্ত সনদ দিয়েছিল বিস্ফোরক পরিদপ্তর। এরপরও বিষাক্ত গ্যাস ছড়াল কীভাবে? এমন প্রশ্ন এখন সচেতন মহলের মাঝে। তবে এই প্রশ্নের উত্তর উঠে এসেছে এ দূর্ঘটনার কারণ খুঁজতে গঠন করা বিশেষজ্ঞ কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে। তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গত ৩১ আগস্ট সোমবার তাদের প্রতিবেদন শিল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। ২০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের গ্যাসমুক্ত সনদ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। যার উত্তরে কোনো রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই এই গ্যাসমুক্ত সনদ প্রদানের তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে। এমনকি এই সনদ পেতে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের ঘুষ দেওয়ার বিষয়টিও উপস্থাপিত হয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কেও সুপারিশ করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। যেখানে উঠে এসেছে, ইয়ার্ডের নিরাপত্তা ঘাটতি এবং উদ্ধারকাজের অদক্ষতার প্রসঙ্গও। একই দিন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম মেনজামিন রিয়াজীর নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যের আরেক কমিটিও জমা দিয়েছে প্রতিবেদন। ফেরদৌস স্টিল ইয়ার্ডে গ্যাস লিকেজের উৎস, প্রকৃতি নিরূপণ ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরসনে ১৬ আগস্ট গঠন করা হয়েছিল বিশেষজ্ঞ কমিটি। যার প্রধান ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. ইয়াসির আরাফাত খান। সদস্য ছিলেন বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির পরিচালক মো. শোয়েব আহমেদ ও বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সহকারী পরিদর্শক মুহাম্মদ মেহেদী ইসলাম খান।বিশেষজ্ঞ টিমের সদস্যরা জানান, গত ১৭ ও ১৮ আগস্ট জাহাজ এবং সংলগ্ন এলাকা একাধিকবার পরিদর্শন করেন তারা। কথা বলেন প্রত্যক্ষদর্শী, শ্রমিক ও ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে। জাহাজের বিভিন্ন ব্যালাস্ট ট্যাংক, ডিপ ট্যাংক, কফারডাম, দুর্ঘটনাস্থলের বাতাস, পানি ইত্যাদি পরীক্ষা করে গ্যাসের উৎস ও প্রকৃতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। দেখা যায়, বিস্ফোরক পরিদপ্তর থেকে গ্রীন সনদধারী প্রতিষ্ঠান ফেরদৌস স্টিল শিপিব্রেকিং ইয়ার্ড এক বছর আগে স্ক্র্যাপ জাহাজ রাসির গ্যাস ফ্রি সনদ পান। সনদ দেওয়ার আগে জাহাজটির কম্পার্টমেন্টসহ অন্যান্য জায়গা পরীক্ষা করেছিল। কিন্তু তখন ব্যালাস্ট ট্যাংক পরীক্ষা হয়নি। এরপর থেকে এক বছর ধরে জাহাজটি কাটতে শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এমটি রাসির ব্যালাস্ট ট্যাংকের জন্য গ্যাসমুক্ত সনদ চাওয়া হয়নি বলে দাবি কমিটির সদস্য বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সহকারী পরিদর্শক মুহাম্মদ মেহেদী ইসলাম খানের। তিনি বলেন, যে জায়গায় গ্যাসের উৎস সেই ব্যালাস্ট ট্যাংকের গ্যাসমুক্ত সনদ এক বছর আগে চাওয়া হয়নি। জাহাজের অন্যান্য অংশ দেখে গ্যাস ফ্রি সনদ দেওয়া হয়েছিল। যতটুকু সনদ চাওয়া হয়, ততটুকুই দেওয়া হয়েছিল।যদিও গোটা জাহাজ পরীক্ষা করেই গ্যাসমুক্ত সনদ দেওয়ার কথা বিস্ফোরক পরিদপ্তরের। কোনো বিশেষ অংশের জন্য আলাদা করে এই সনদ চাওয়ার বা দেওয়ার নিয়ম নেই।প্রতিবেদনে ১০ শ্রমিকের মৃত্যু হাইড্রোজেন সালফাইডের কারণে ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে গ্যাসের উৎস এবং মৃত্যুর কারণ বর্ণনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ব্যালাস্ট ট্যাংকের নিচে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা স্থির পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস ছিল। ট্যাংকের নিচের প্লেটে ছিদ্র করে পানি নিষ্কাশনের সময় আশপাশের বায়ুতে তা ছড়িয়ে পড়ে। ফলে পানি নিষ্কাশন এলাকায় উচ্চমাত্রার গ্যাসটির কারণে বিষাক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সেখানে অবস্থানরত শ্রমিকরা স্বল্প সময়ে মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্রহণ করে গুরুতর বিষক্রিয়ার শিকার হন। দ্রুত অচেতন হয়ে পড়েন, যা পরে তাদের মৃত্যুর কারণ হয়।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ব্যালাস্ট ট্যাংকের তলদেশে দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রের পানি স্থির অবস্থায় থাকলে সেখানে কাদা, জৈবপদার্থ এবং বিভিন্ন অণুজীব জমা হয়। ব্যালাস্ট ট্যাংকের স্থির পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়ে অক্সিজেন স্বল্পতা সৃষ্টি হয়। নমুনা পরীক্ষায় এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। অক্সিজেন স্বল্প পরিবেশে ট্যাংকের তলানিতে উপস্থিত অণুজীব সামুদ্রিক পানিতে বিদ্যমান সালফেটকে বিয়োজিত করার মধ্য দিয়ে সালফাইডে রূপান্তর হতে পারে। নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, ব্যালাস্ট ট্যাংকের স্থির পানিতে যেখানে অক্সিজেনের পরিমাণ অনেক কম, সেখানে পানি কিছুটা অম্লীয় এবং সালফাইডের উপস্থিতি অনেক বেশি। উপস্থিত এ সালফাইডের একটি অংশ দ্রবীভূত বা আবদ্ধ অবস্থায় পানি ও সেডিমেন্টে জমা থাকতে পারে, যা পানি থেকে সহজে বের হয়ে নিষ্কাশন পয়েন্টের বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।এছাড়া ফেরদৌস স্টিলে ট্যাংক কাটার সময় পর্যাপ্ত সরঞ্জামের ব্যবহার করা হয়নি বলেও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। গ্যাস পরিমাপের মনিটর থাকলেও তা ব্যবহার করা হয়নি। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জামও ছিল না শ্রমিকদের। পাশাপাশি দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে অদক্ষতার পরিচয় দেওয়া হয়। পেশাদার উদ্ধারকারী দলকেও সঠিক সময়ে ডাকা হয়নি।সূত্র মতে, এমটি রাসি জাহাজটিতে মোট চারটি ব্যালাস্ট ট্যাংক ছিল। এর মধ্যে ৪ নম্বরটি আগে কাটা হয়। ৩ নম্বরটি কাটার সময় হাইড্রোজেন সালফাইড বিষক্রিয়া হয়। ১ ও ২ নম্বর ট্যাংকের মধ্যেও একই বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই দুটি কাটার সময় বিশেষ সতর্কতা বা ডি-ব্যালাস্টিং পদ্ধতি অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে তদন্ত কমিটি।প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যালাস্ট ট্যাংকের পানি নিষ্কাশন কাজ ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে ডি-ব্যালাস্টিং পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। ডি-ব্যালাস্টিংয়ের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যালাস্ট ট্যাংকের ইতিহাস, ধারণক্ষমতা, পানির পরিমাণ ও স্থায়িত্বকাল এবং সম্ভাব্য হাইড্রোজেন সালফাইডসহ অন্যান্য গ্যাসের উপস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে। ট্যাংকের ওপর, মধ্য ও নিচের অংশের বাতাসে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন সালফাইড, কার্বন মনো-অক্সাইড এবং পানির বিভিন্ন স্তরে পিএইচ, দ্রবীভূত অক্সিজেন ইত্যাদি পরীক্ষা করতে হবে।তদন্ত কমিটির ৯ দফা সুপারিশের মধ্যে শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোতে এ ধরনের গ্যাসযুক্ত ট্যাংক কাটার সময় কী করা দরকার, তার প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে করে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবিলা সম্ভব হবে বলে মনে করছে তদন্ত কমিটি। কমিটির প্রধান অধ্যাপক ইয়াসির আরাফাত খান বলেন, ইয়ার্ডটিতে গ্যাস মনিটর ছিল। কিন্তু ট্যাংকের পানি নিষ্কাশনের সময় তা ব্যবহার করা হয়নি। পানি নিষ্কাশনের সময় যদি গ্যাসের উপস্থিতি মনিটরের মাধ্যমে ধরতে পারত, তাহলে এত বড় ক্ষয়ক্ষতি না-ও হতে পারত। এ ছাড়া জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থারও ঘাটতি ছিল।অধ্যাপক ইয়াসির আরাফাত খান আরও বলেন, ট্যাংক থেকে পানি নিষ্কাশন পদ্ধতি সাবধানতার সঙ্গে ডি-ব্যালাস্টিং পদ্ধতিতে করতে হবে। পোস্ট ভেন্টিলেশন অর্থাৎ ছোট ছিদ্র করে বাতাসে তা ধীরে ছাড়তে হবে। বাতাস ও ট্যাংকে গ্যাসের উপস্থিতি সার্বক্ষণিক পরিমাপ করার জন্য মনিটর লাগবে। জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থা থাকতে হবে। ঝুঁকি মনে হলে ওই স্থান দ্রুত ত্যাগ করতে হবে।এ ছাড়া পানি নিষ্কাশনের সময় শ্রমিকদের নিরাপদ দূরত্বে থাকতে হবে। তলার প্লেটে ছোট ছিদ্র করে ডি-ব্যালাস্টিং করতে হবে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে যাতে তা করা না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে সুপারিশে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ব্যবহার নিশ্চিত করা, কাটার আগে এবং পানি নিষ্কাশনের সময় গ্যাস পরিমাপ করার জন্য মনিটর ব্যবহার করতে হবে। গ্যাস অ্যালার্ম ব্যবহারের সুপারিশও এসেছে। সেই সঙ্গে পরিবেশে কী পরিমাণ গ্যাস যুক্ত হয়েছে, তা দেখতে এবং জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপরও জোর দেওয়া হয়।উল্লেখ্য, সীতাকুন্ডে গত ১২ বছরে বিষাক্ত গ্যাস বিস্ফোরণ ও নির্গমনে ১৪৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক আমজাদ হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, আমাদের শ্রমিক পক্ষ, মালিক পক্ষ উভয়েরই দায় থাকে অনেক সময়। শ্রমিকরা অনেক সময় সাবধানতা অবলম্বন না করে কাজ করে, সেজন্য দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আবার কোনো কোনো মালিক পক্ষ থেকেও ল্যাপস থাকতে পারে। তবে সরকারি সংস্থাগুলোর যেন কোন দায় নেই।
১ মাস ৬ দিন আগে
কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলের বারে কথা-কাটাকাটির জেরে সংঘর্ষে নাজিবুল হক রাশেদ (২৯) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আটক হয়ে পুলিশ হেফাজতে থাকা অভিযুক্ত মোহাম্মদ সোলাইমান (২৮) শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ৬টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের ঝাউতলা এলাকার রেনেসাঁ হোটেলের বারে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর হোটেলের বারটি বন্ধ রাখা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, নিহত রাশেদের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর মধ্যম নুনিয়ারছড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সোলাইমানকে আটক করা হয়। পরে আহত অবস্থায় চট্টগ্রামে প্রেরণ করা হলে সকালে তার মৃত্যু হয়।পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, রাশেদসহ কয়েকজন যুবক হোটেলের দোতলার বারে বসেছিলেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া শুরু হয়। পরে এক পক্ষ বাইরে থেকে আরও কয়েকজন যুবককে ডেকে আনে এবং ওই যুবকরা বারে ঢুকে রাশেদকে ছুরিকাঘাত করেন। এতে তার পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।নিহত রাশেদ ফিশারিঘাট এলাকায় ব্যবসা করতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার বিস্তারিত পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১২টার দিকে ফিশারিঘাট এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয় এবং সোলাইমানকে স্থানীয় লোকজন মারধরের পর আহত অবস্থায় পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান বলেন, হোটেলের বারের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।তিনি আরও বলেন, কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত এবং এতে কারা জড়িত ছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। আলামত সংগ্রহ ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত রেনেসাঁ হোটেলের বারটি বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘটনার সময় বারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
১ মাস ১১ দিন আগে
ফেনসিডিলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়েছে ফেয়ারডিলের। দেশের সীমান্তঘেঁষা ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢুকছে মানবশরীরের জন্য ক্ষতিকর এ সিরাপ। এখনো ফেয়ারডিলের বিস্তার রমরমা হয়ে না উঠলেও দ্রুত সহজলভ্য হচ্ছে এটি।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক হুমায়ুন কবীর খোন্দকার এ তিথ্য জানান। তিনি বলেন, দেশে মাদক হিসেবে নিষিদ্ধ ফেনসিডিলের মতোই কাশির সিরাপ ‘ফেয়ারডিল’। দুটিই কোডিন ফসফেট মিশ্রিত। দেখতেও একই। শুধু মোড়ক আলাদা। গত এক বছর ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাওয়া যাচ্ছে এ সিরাপ। কিন্তু গত শনিবার রাতে মিরসরাই থানায় প্রথমবার জব্দ হয়েছে ১০০ বোতল। এটি চট্টগ্রামে জব্দ হওয়া ফেয়ারডিলের প্রথম চালান। যা মাদকের দ্রব্যের অর্ন্তভুক্ত। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তার ভাষ্য, ফেনসিডিল, ফেয়ারডিলসহ আরও কয়েক ধরনের কফ সিরাপ আছে। এগুলো সব একই। ফেয়ারডিল নামটা বাজারে নতুন। ফেনসিডিল ব্র্যান্ড হয়ে গেছে। সেজন্য এ নামটা বেশি শোনা যায়। সবগুলো সিরাপই ক্ষতিকর কোডিন ফসফেট দিয়ে তৈরি। সাধারণত ১০০ মিলিগ্রাম সিরাপে ১০ মিলিগ্রাম কোডিন ফসফেট থাকে।কর্মকর্তাদের ধারণা, ফেনসিডিল বেশি পরিচিত হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি আছে এ মাদকের প্রতি। এ ছাড়া উচ্চমূল্যের কারণেও নিষিদ্ধ ফেনসিডিলের বিকল্প বাজার তৈরি হয়েছে দেশে। র্যাব-পুলিশের দৃষ্টি এড়িয়ে সেই বিকল্প বাজার ধরতে একই সিরাপের বোতলে ফেয়ারডিল মোড়ক লাগিয়ে ছড়িয়ে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে মাদক কারবারিরা।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে এ পর্যন্ত দেশে ২৪ ধরনের মাদক জব্দ হয়েছে। এর মধ্যে ইয়াবা-হেরোইনের মতো মরণনেশা যেমন আছে, কোডিন ফসফেট মিশ্রিত কাশির সিরাপও আছে। গত এক দশকে এস্কাফ, এমকে, ফেনসিগ্রিপ, চকো প্লাস, উইন কোরেক্স, ব্রনোকফ সিসহ আরও কিছু কাশির সিরাপ জব্দ হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। যেগুলো মূলত ফেনসিডিলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এ তালিকায় নতুন যুক্ত হয়েছে ফেয়ারডিল।২০২৫ সালের জুনে নওগাঁয় বিজিবির হাতে ৭৪ বোতল ফেয়ারডিলের একটি চালান ধরা পড়ে। এর পর থেকে গত এক বছরে কুষ্টিয়া, লালমনিরহাট, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিলেট ও কুমিল্লার ভারতীয় সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে জব্দ হয়েছে ফেয়ারডিলের অর্ধশতাধিক চালান।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগরের উপপরিচালক মোহাম্মদ মানজুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশের মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে কোডিন বেজড সিরাপ নিষিদ্ধ মাদক হিসেবে গণ্য। সুতরাং দেশে ফেয়ারডিলের মতো সিরাপ উৎপাদনের সুযোগ নেই। আমরা যতটুকু তথ্য পেয়েছি, আমাদের দেশের সীমান্তসংলগ্ন ভারতের এলাকায় কিছু কিচেন ল্যাব বা ছোট ছোট মাদক কারখানা আছে। সেখানে কোডিন ফসফেট মিশ্রিত সিরাপ তৈরি হয়। বর্ডারে বিক্রির পর চোরাচালানিরা সেগুলো আমাদের দেশে নিয়ে আসছে।’ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের রয়েছে ৪ হাজার ১৫৬ কিলোমিটার সীমান্তপথ। মিয়াননমারের সঙ্গে আছে ২৭১ কিলোমিটার। উভয় দেশ থেকেই বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ ঘটে মাদকের। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে দেশের সীমান্তসংলগ্ন ৩২ জেলাকে মাদক পাচারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের বিভিন্ন সীমান্তপথ দিয়ে সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী ও নওগাঁয় ফেনসিডিল প্রবেশের কথাও বলা হয়। তবে ভারত সীমান্তের ৫০ কিলোমিটার এলাকায় ফেনসিডিল এবং এটি তৈরির উপকরণ সরবরাহ, বহন ও উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করে।মানজারুল ইসলামের ভাষ্য, ফেনসিডিল নিয়ে কড়াকড়ি আরোপ হলেও ভারতে কোডিন ফসফেট মিশ্রিত সিরাপ লিগ্যাল আইটেম (আইনিভাবে বৈধ)। আমাদের দেশে ফেয়ারডিল কিংবা অন্য যেসব কাশির সিরাপ পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো শুধু ভারত থেকেই আসছে। মিয়ানমার থেকে আসে ইয়াবা, হেরোইন আর ক্রিস্টাল মেথ। ফেয়ারডিল সিরাপ ভারতের বৈধ কোনো কারখানায় উৎপাদন হয় কি না, সেটি আমরা এখনো নিশ্চিত নই। কিচেন ল্যাবের সিরাপগুলো বিভিন্ন নামে লেবেল লাগিয়ে পাচার করা হয়।ফেয়ারডিল কীভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার কথা জানালেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। তিনি বলেন, মিরসরাইয়ে ১০০ বোতল ফেয়ারডিল উদ্ধার হয়েছে। আমাদের জানামতে চট্টগ্রামে আগে ফেয়ারডিল উদ্ধার হয়নি। নতুন এ মাদক কোথা থেকে কীভাবে, কাদের মাধ্যমে আসছে এবং চট্টগ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা আমরা তদন্ত করে দেখছি।জনস্বাস্থ্য গবেষক ডা. এ কে এম আরিফ উদ্দিন আহমেদ জানান, অনিয়ন্ত্রিত কফ সিরাপ সেবনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়া, লিভার-কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত এবং মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়।
১ মাস ২০ দিন আগে
রাজধানীতে বাসা ভাড়া নিয়ে পর্ন ভিডিও তৈরি, প্রচার ও বিক্রয় চক্রের এক নারী ও তার প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম।বুধবার (১৯ আগস্ট) ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. তরিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান। গ্রেপ্তারকৃত ওই নারী হলেন, সুমাইয়া সাঈদ ও তার প্রেমিক খাজা সাকলাইন ফারুক।ডিবি পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও জব্দ করা মুঠোফোনের তথ্য বিশ্লেষণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্নগ্রাফি কনটেন্টের বিজ্ঞাপন, বিক্রি ও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এ কার্যক্রমের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা হয়েছে। জব্দকৃত মুঠোফোনগুলো ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগতভাবে পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাব, আর্থিক লেনদেন এবং অন্য সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।ডিসি তরিকুল ইসলাম জানান, একটি চক্র পর্নগ্রাফি ভিডিও ও ছবি তৈরি করে ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দিত। পরে নির্দিষ্ট টেলিগ্রাম গ্রুপ ও চ্যানেলের মাধ্যমে এসব কনটেন্ট অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করতো। গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার জন্য বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব ব্যবহার করা হতো।তিনি জানান, এমন তথ্যের ভিক্তিতে ও প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করি আমরা। এরপর গত ১১ আগস্ট বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি আইফোন ও একটি ওয়ানপ্লাস ব্রান্ডের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এরপর ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে পর্নগ্রাফি ভিডিও ও ছবি তৈরির সঙ্গে জড়িত তার এক সহযোগীর তথ্য পাওয়া যায়। পরে একই দিন বাড্ডা লিংক রোড এলাকা থেকে ওই নারীর কথিত প্রেমিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
১ মাস ২০ দিন আগে
রেলওয়ের অনবোর্ড কর্মচারীদের প্রাপ্ত বেতনের টাকা মেরে খাচ্ছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশনের স্বত্তাধিকারী রেলের মাফিয়া ও রক্তচোষা খ্যাত শাহ আলম। অনবোর্ডে নিয়োগপ্রাপ্তদের অনুকুলে রেলওয়ে থেকে প্রতিমাসে বেতন প্রদান করা হলেও সেই টাকা জুটে না কোন কর্মচারীর। উল্টো শাহ আলমকে টাকা দিয়ে রেলের ডিউটি নিতে হয় তাদের।ফলশ্রুতিতে রেলের মাধ্যমে ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ পাচার, গেস্ট পরিচয়ে বিনা টিকিটে তোলা শত শত যাত্রীর ভাড়া হাতিয়ে সরকারের রাজস্ব গিলে খাওয়াসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত নিরুপায় অনবোর্ড কর্মচারীরা। এমন তথ্য মিলেছে রেলে কর্মরতদের সাথে কথা বলে।সম্প্রতি এ বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রী উঠানামার ফাঁকে কথা হয় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের সঙ্গে। তারা জানান, রেলওয়েতে জনবল সংকটের অজুহাতে অনবোর্ডে ঠিকাদারের মাধ্যমে কয়েকটি পদে জনবল নিয়োগ দেয়া হয়। পদগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ম্যানেজার, স্টুয়ার্ড, পিএ অপারেটর ও ক্লিনার।মজুরী কাঠামোর আওতায় এসব কর্মচারীর মধ্যে সর্বনিম্ন বেতন ১৭ হাজার ৫০০ টাকা ধরা হয় ক্লিনার পদের জন্য। আর সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা বেতন ধরা হয় ম্যানেজারে পদের জন্য। বাকি পদগুলোর অনুকুলে প্রদত্ত বেতনের মধ্যে ২-১ হাজার টাকা তারতম্য রয়েছে।সুনির্দিষ্ট জনবলের অনুকুলে প্রতিটি রেলের জন্য প্রতিমাসে ৬-৭ লাখ টাকা বেতন প্রদান করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এভাবে ৫টি ট্রেনের অনবোর্ড থেকে পাওয়া ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা বেতন প্রদান করা হয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশনকে।ট্রেনগুলো হচ্ছে-সুবর্ণ এক্সপ্রেস, গোধুলী এক্সপ্রেস, মহানগর এক্সপ্রেস, কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস। আর এসব ট্রেনে কর্মরত অনবোর্ড কর্মচারীদের একজনও সেই বেতনের এক টাকাও পাই না। উল্টো টাকা দিয়ে ট্রেনে ডিউটি নিতে হয় অনবোর্ড কর্মচারীদের। ফলে বেতন জোগাড় করতে রাষ্ট্রবিরোধী নানা অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে কর্মচারীরা।এর মধ্যে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ, গাঁজা ও ফেনসিডিল পাচার অন্যতম। গত ৪ আগস্ট ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে ৪ হাজার ৮৫০ পিস ইয়াবাসহ স্টুয়ার্ড মাহবুর রহমানকে (২০) গ্রেপ্তার করে র্যাব। এর আগে গত বছর ২৯ মার্চ এই কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩৩ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে ঢাকা রেলওয়ে পুলিশ।এছাড়া বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা, ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও যশোর রেলওয়ে স্টেশনেও ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ, গাঁজা ও ফেনসিডিল উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। যা একই সুত্রে গাথা বলে জানিয়েছেন র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফফর হোসেন।র্যাবের এই কর্মকর্তার মতে, স্টুয়ার্ড মাহবুর রহমান যেহেতু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশনের নিয়োজিত কর্মী, সে হিসেবে এই ইয়াবা বা মাদক পাচারের ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ দায় এড়াতে পারে না। এ ঘটনায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ বা ট্রেনের চালক থেকে নিয়ে কর্মকর্তাদের আর কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি র্যাবের নজরদারিতে রয়েছে।শুধু ইয়াবা বা মাদক পাচার নয়, চলন্ত ট্রেনে বান্দরবানের ১৯ বছরের এক তরুণীকে ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনাও ঘটিয়েছে শাহ আলমের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশনের তিন কর্মী। এরা হলেন মো. জামাল (২৭), মো. শরীফ (২৮) ও মো. রাশেদ (২৭)। সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেসে এই জঘন্য কাজে লিপ্ত হয় তারা।এছাড়া শাহ আলমের গেস্ট পরিচয়ে শত শত যাত্রী বিনা টিকিটে প্রতিটি ট্রেনে তোলা হয়। এসব যাত্রীর টিকেটের অর্থ হাতিয়ে নেয় শাহ আলমের অনবোর্ড কর্মচারীরা। এভাবে প্রতিদিন অনবোর্ডের ৫টি ট্রেন ও ক্যাটারিংয়ের ২টি ট্রেন থেকে গেস্ট যাত্রীর ভাড়া বাবদ ৫-৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে শাহ আলম। যা মাসে দেড় কোটি টাকারও বেশি। ক্যাটারিংয়ের ট্রেনগুলো হলো পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস।আর সরকারি রাজস্বের এসব টাকার একটি অংশ দিতে হয় শাহ আলমকে। বাকি অংশ ভাগাভাগি হয় অনবোর্ড কর্মকর্তা-কর্মচারী লোকোমাষ্টার, টিটি, স্টেশন ম্যানেজার, রেলওয়ের কমার্শিয়াল চীফ, আরএনবি ও জিআরপির মধ্যে। ভাগবাটোয়ারা সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছে এস এ কর্পোরেশনের স্বত্তাধিকারী শাহ আলমের শ্যালক (বউয়ের ভাই) সম্রাট ও ওরফে কালোবাজারী সম্রাট।কর্মচারী নিয়োগেও কোটি টাকার বানিজ্যচাকরি যখন সোনার হরিণ, সেখানে রেলওয়ের চাকরির কথা শুনে হুমড়ি খেয়ে পড়ে লাখো বেকার তরুণ-তরুণী। যাদের কাছ থেকে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা করে আদায় করেছে শাহ আলম। নিয়োগের সময় বেতনের লোভ এবং দৈনিক ৫-১০ হাজার থেকে লাখ টাকা আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বেকার তরুণ-তরুণীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা।ভুক্তভোগীরা অভিযোগ তুলেন, লাখো তরুণ-তরুণী থেকে লাখ টাকা হিসেবে কোটি কোাটি টাকা আদায় করলেও সবার ভাগ্যে জুটেনি চাকরি। যাদের অনেকেই এখনো কেঁদে ফিরছে। এর মদ্যে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার আনিছুর রহমান, নজরুল ইসলাম, আনোয়ারা উপজেলার বারশত ইউনিয়নের আবদুর রাজ্জাক এবং চট্টগ্রামে বসবাসকারী কুমিল্লা জেলার নুসরাত জাহান অন্যতম।আনিছুর রহমান জানান, ২০২২ সালে রেলে স্টুয়ার্ড পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা আদায় করে এস এ কর্পোরেশন। বাবার শেষ সম্বল জমি বিক্রি করে এই টাকা দিয়েছি আমি। কিন্তু আমার চাকরি হয়নি। যোগাযোগ করলে বলে, রেলে এখন নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ, নিয়োগ শুরু হলে চাকরি হবে।ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমার সাথে অনেকের চাকরি হয়েছে, আমার হলো না কেন? পরে বুঝতে পারলাম, আমার সাথে প্রতারণা করেছে এস এ কর্পোরেশন। টাকা ফেরত দিতে বললেও তারা টাকা ফেরত দিচ্ছে না। টাকা নেওয়ার কোন প্রমাণ না রাখায় রেল কর্তৃপক্ষ কোন অভিযোগও নিচ্ছেন না। আইনগত কোন ব্যবস্থাও আমি নিতে পারছি না।প্রায় একই কথা বলেছেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারশত ইউনিয়নের আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমার থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছে এস এ কর্পোরেশন। কিন্তু আমার চাকরি হয়নি। টাকা নেওয়ার কোন ডকুমেন্টস দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। টাকা ফেরত চাইলে বলছে, নিয়োগ শুরু হলে চাকরি হবে। অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু অপেক্ষা করতে গিয়ে আমার সার্টিফিকেটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এখন ভবিষ্যত অন্ধকার। তাদের মতো শত শত তরুণ-তরুণী এস এ কর্পোরেশনের প্রতারণার ফাঁদে সর্বস্ব হারিয়ে সর্বশান্ত হয়েছে বলে জানান তারা।এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কমার্শিয়াল বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিয়োগ বানিজ্য তো হয়েছে, লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরও যারা নিয়োগ বঞ্চিত তাদের কান্না দেখলে আপনিও সইতে পারবেন না। আর যারা নিয়োগ পেয়েছে তাদের কাউকে নিয়োগপত্র দেয়নি এস এ কর্পোরেশন। তাদের কেউ বেতনও পায় না। তারা আকাম-কুকাম করে চলে।তিনি বলেন, আকাম-কুকাম থেকে উল্টো টাকা দিতে হয় শাহ আলমকে। অন্যথায় ট্রেনে উিউটি পায় না তারা। এ জন্য অনবোর্ড টেন্ডারে নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বেশি লোক নিয়োজিত করে রেখেছে শ্রমিকের রক্তচোষা শাহ আলম। যা অনবোর্ড টেন্ডারের শর্তের পুরোপুরি লঙ্ঘন। শাহ আলমের এসব কাজে রেলের ভাবমুর্তি নষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।অনবোর্ডে কর্মচারী নিয়োগের বিষয়ে তথ্য চাইতে গেলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কমার্শিয়াল বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এডমিন) মোছাম্মৎ কামরুন্নেছা বলেন, আমার কাছে কোন তথ্য নেই। আমি এসব বলে বিপদে পড়তে চাই না। আপনি কমার্শিয়াল চিফের সাথে যোগাযোগ করুন।তবুও কালো নয়, রেল কর্মকর্তাদের চোখে সেরা লাইসেন্স এস এ কর্পোরেশনঅনবোর্ড, ক্যাটারিং ছাড়াও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে টেন্ডারবাজি, জমি দখলবাজি, ঠিকাদার সমিতির নামে চাঁদাবাজি, রেলওয়ের স্ক্র্যাপ পাচারের মতো নানা কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশন।এসব অপরাধে যেখানে এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স কালো তালিকাভূক্ত হওয়ার কথা, সেখানে ভাগবাটোয়ারার প্রভাবে রেলওয়ে কর্মকর্তাদের চোখে সেরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশন। ফলে অনবোর্ড-ক্যাটারিংসহ রেলওয়ের অধিকাংশ টেন্ডার এস এ কর্পোরেশন ছাড়া আর কারও ভাগ্যে জুটে না বলে মন্তব্য করেন ঠিকাদাররা।ঠিকাদাররা জানান, গত ৩০-৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রেলওয়ের সব বিভাগের অধিকাংশ টেন্ডার এস এ কর্পোরেশনের কব্জায়। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আপত্তি উঠলেও রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহায়তায় আদালতের স্ট্রে-অর্ডার নিয়ে টেন্ডার হাতছাড়া করেনি শাহ আলম।নাছির উদ্দিন মোহন নামে এক ঠিকাদার ক্ষোভ প্রকাম করে বলেন, শাহ আলম আর আমি রেলওয়েতে একই সময়ে ঠিকাদারি কাজ শুরু করি। কিন্তু আজ শাহ আলম কোথায় আর আমি কোথায়। শাহ আলম কোটি টাকার প্রাডো গাড়ি দৌড়ায়। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, রাজশাহী থেকে খুলনায় শাহ আলমের বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম-রাজশাহীতে ফ্লাইটে যাতায়াত করে। শাহ আলম এখন রেলের রাজা খ্যাত। কিন্তু সে যা করে তা মাফিয়া ডনকেও হার মানায়। রেলের বুকে এমন কোন অপরাধ নেই সে জড়িত নেই। নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির সাথে সে জড়িত। দুদকে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও রয়েছে। এরপরও থেমে নেই শাহ আলম।যা বললেন শাহ আলমএ বিষয়ে জানতে এস এ কর্পোরেশনের স্বত্তাধিকারী শাহ আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও কল রিসিভ করেননি তিনি। পরে হোয়াট্স অ্যাপ মেসেঞ্জারে খুদে বার্তা লিখে পাঠালে প্রতি উত্তরে তিনি লিখেন, অপরাধের সাথে যারা জড়িত তারা তো ব্যক্তি। তাদের দায়ভার প্রতিষ্ঠান নিভে কেন? নিয়োগ তো প্রতিষ্ঠানের দায়ভার কেন নয়-এমন প্রশ্নের জবাবে শাহ আলম বলেন, অপরাধে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা তিনি না বলে এড়িয়ে যান।অনবোর্ড-ক্যাটারিং কর্মচারীরা বেতন পায় না, উল্টো টাকা দিয়ে ডিউটি নিতে হয়-এমন অভিযোগের জবাবে শাহ আলম লিখেন, আমি এখন ঢাকায় যাচ্ছি, ফ্লাইটে উঠতেছি। নেটওয়ার্ক নাই। ২-৩ দিনের মধ্যে ঢাকা থেকে আসবো। আপনার সাথে বসব। এ কথা বলে তিনি ফোনের সংযোগ কেটে দেন।রেলওয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতএস এ কর্পোরেশনের স্বত্তাধিকারী শাহ আলমের নানা অভিযোগের বিষয়ে মতামত চাইতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বানিজ্যিক ব্যবস্থাপক সঞ্জিত কুমার বিশ্বাসের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে গত ১৬ আগস্ট রবিবার ও ১৭ আগস্ট সোমবার দু‘দিন অফিসে সাক্ষাৎ করার জন্য গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। একইভাবে অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক মো. শওকত জামিল মোহসীও অফিসে ছিলেন না। দু‘দিনেই তারা ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানান অফিস সহকারীরা।পরে এ বিষয়ে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমান (অবকাঠামো) মুঠোফোনে বলেন, ইয়াবা পাচার, তরুণী ধর্ষণসহ যেসব ঘটনা ঘটছে তা রেলের নিরাপত্তা ও ভাবমূতি প্রশ্নবিদ্ধ,-এটা নিসন্দেহে স্বীকার করতে হয়। তবে এসব ঘটনায় জড়িতরা কিন্তু রেলওয়ের স্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত নয়। এসব অপরাধী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নিয়ুক্ত লোক। এক্ষেত্রেও ব্যক্তির দায় প্রতিষ্ঠান নিবে কেন-এমন প্রশ্ন আসতে পারে।এসব অপরাধের সাথে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক যে জড়িত নয়, এটা বলা যায় কীভাবে-এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, থাকতেও পারে, না থাকতেও পারে। এটা খতিয়ে দেখার বিষয়। এস এ কর্পোরেশনের মালিক শাহ আলম নিজেই দখলবাজি-টেন্ডারবাজিসহ নানা অপরাধের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে আনা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি দেখাশুনা করেন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মো. নাজমুল ইসলাম। আপনি উনার সাথে কথা বলুন। কিন্তু অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাজমুল ইসলামের (অপারেশন) মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।(বিশেষ দ্রষ্টব্য : রেলের মাফিয়া খ্যাত ঠিকাদার শাহ আলমের অনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন-৩ প্রকাশ হলো। চতুর্থ প্রতিবেদন শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে। প্রিয় পাঠক চোখ রাখুন দৈনিক ঈশানের অনলাইন ও প্রিন্ট ভার্সনে)এ সংক্রান্ত আরও :ধারাবাহিক প্রতিবেদন-১ । ট্রেনে ইয়াবা পাচারে এস এ কর্পোরেশন, অধরা মূলহোতা শাহ আলম!ধারাবাহিক প্রতিবেদন-২, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ঠিকাদার এসোসিয়েশনের কোটি টাকার চাঁদাবাজি
১ মাস ২২ দিন আগে
চট্টগ্রাম লালদীঘির পাড়ে জেলা পরিষদ ভবনে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার ক্যাশ ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার উধাও হয়ে গেছে। এ ঘটনায় ব্যাংকের এক কর্মকর্তাসহ দু‘জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান সিএমপির কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন। তিনি জানান, গ্রাহকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্নসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ব্যাংকটির সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১) এবং জাফরুল্লাহ তানভীরকে (২৫) গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ ও তথ্যের রেকর্ড এবং ৬৪ জিবির একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রাহকের টাকা আত্নসাতের ঘটনায় গত ১০ আগস্ট কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ। মামলায় কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরের নামসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। পরে দু‘জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম ও লেনদেন শেষে নগদ অর্থের হিসাব এবং ভল্টে সংরক্ষিত অর্থের হিসাব মেলানোর সময় বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়ে। পরবর্তী সময়ে ভল্টের হিসাব, সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও বিভিন্ন নথি যাচাই করে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঘাটতি পাওয়া যায়। ব্যাংকের ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্বে ছিলেন সিনিয়র অফিসার কামরুল হোসেন।ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ঘাটতির বিষয়ে কামরুল হোসেন সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। পরে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাংকের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, জাফরুল্লাহ তানভীরসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের সহায়তায় ভল্ট থেকে টাকা সরিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে।এজাহারে কামরুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে আরও বলা হয়, ভল্টে টাকা সংরক্ষণের সময় ১ হাজার টাকার নোটের বড় বান্ডিলের ভেতরে ১০০ টাকা বা তার কম মূল্যমানের নোট ঢুকিয়ে বান্ডিল সাজানো হতো। ফলে বাইরে থেকে বান্ডিল দেখে ভল্টে নির্ধারিত পরিমাণ টাকা রয়েছে বলে মনে হলেও প্রকৃত অর্থের পরিমাণ কম থাকত।মামলার এজাহারে বলা হয়, সরিয়ে নেওয়া অর্থ জাফরুল্লাহ তানভীরের দেখাশোনার শর্তে বিনিয়োগ করে হাটহাজারীর উত্তর বুড়িশ্চর এলাকায় ইশরাত এগ্রো নামে একটি গরুর খামার গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে ওই খামারে বিভিন্ন জাতের ৫০ থেকে ৬০টি গরু রয়েছে।তবে জাফরুল্লাহ তানভীরের পরিবারের পক্ষ থেকে ব্যাংকের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তার বাবা আজিম উল্লাহ বলেন, তার ছেলে কোনো ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী নন এবং অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি শাখার গ্রাহকও নন। তিনি আগে থেকেই গরুর খামারের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার ছেলের কাছে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল-এমন কোনো ব্যাংক রেকর্ড বা প্রমাণ তাদের দেখানো হয়নি।আজিম উল্লাহর দাবি, ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেন বিভিন্ন সময়ে তার ছেলেকে লাভের ভিত্তিতে টাকা দিতেন এবং পরে লাভসহ সেই টাকা নিয়ে নিতেন। গত ৯ আগস্ট দিনগত রাত ১টার দিকে তার স্ত্রীর মোবাইল ফোনে ব্যাংক থেকে কল করে জানানো হয়, তার ছেলে লালদীঘি শাখায় আটক আছেন। পরে ১০ আগস্ট ভোরে পুলিশ তাদের আটক করে নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। আজিম উল্লার দাবি, কামরুল হোসেন আগে থেকেই তার ছেলেকে লাভে ব্যবসার জন্য টাকা দিত এবং নিত। এই সুযোগে তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাকে কৌশলে ব্যাংকে ডেকে নিয়ে স্ট্যা¤েপ স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলেও তারা জানতে পেরেছেন।চট্টগ্রাম জজ কোর্টের আইনজীবী আনোয়ার হোসেন বলেন, ভল্টে এত বড় অঙ্কের অর্থের ঘাটতি পাওয়া গেলে শুধু ক্যাশ ইনচার্জের দায়ের বিষয়টি দেখলেই তদন্ত শেষ করা উচিত নয়। শাখা ব্যবস্থাপনার তদারকি, ভল্ট পরিচালনার নিয়মকানুন এবং ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর ছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. মোতাহের হোসেন বলেন, ঘটনাটি নিয়ে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অডিট চলছে। অডিট শেষ হলে অর্থের ঘাটতি ও ঘটনায় কারও স¤পৃক্ততার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
১ মাস ২৬ দিন আগে

চট্টগ্রাম মহানগরের চোরের খনি খ্যাত রিয়াজউদ্দিন বাজারে অভিযান চালিয়ে অরিসসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিপুল পরিমাণ অবৈধ বিদেশি সিগারেট জব্দ করেছে র্যাব-৭। জব্দ করা এসব সিগারেটের বাজারমূল্য প্রায় প্রায় দেড় কোটি টাকা বলে জানায় র্যাব। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এ তথ্য জানান র্যাব-৭-এর মেজর জালিস মাহমুদ খান। তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (১০ আগস্ট) দিবাগত রাতে রিয়াজউদ্দিন বাজারের ফলের গলির একটি ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ভবনের কয়েকটি কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে অরিসসহ বিভিন্ন র্ব্যান্ডের বিপুল পরিমাণ অবৈধ বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়। জব্দ করা সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এসব সিগারেটের অবৈধ আমদানি, মজুত ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা।র্যাবের এই কর্মকর্তার তথ্যমতে, চট্টগ্রাম মহানগরের সবচেয়ে বড় চোরের খনি খ্যাত এই রিয়াজউদ্দিন বাজারের সংঘবদ্ধ একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বিদেশি সিগারেট আমদানি, মজুত ও বিক্রি করে আসছিল। এখানে শুধু সিগারেট নয়, চোরাই মোবাইল থেকে স্বর্ণ পাচারের মুখ খনি এই রিয়াজ উদ্দিন বাজার। র্যাব সবসময় এই রিয়াজ উদ্দিন বাজারে নজরদারি চালায় এবং সেটা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
১ মাস ২৮ দিন আগে
শুধু ইয়াবা পাচার নয়, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে টেন্ডারবাজি, রেলের জমি দখলবাজি, ঠিকাদার সমিতির নামে চাঁদাবাজি, ট্রেনে নারী ধর্ষণ ও রেলওয়ের স্ক্র্যাপ পাচারের মতো নানা কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস এ কর্পোরেশন। দৈনিক ইশানের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এসব তথ্য। দৈনিক ঈশান প্রতিটি তথ্যের বিষয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। ধারাবাহিক প্রতিবেদনের প্রথম পর্বে প্রকাশ করা হয়েছে ‘ট্রেনে ইয়াবা পাচার’ নিয়ে।
২ মাস ৪ দিন আগে
কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ট্রেনের এক স্টুয়ার্ডের কাছ থেকে ৪ হাজার ৮৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব -৭)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ট্রেনের ওই কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ মাহাবুর রহমান (২০)। তিনি জামালপুরের মেলান্দহ থানার নলছিয়া এলাকার আজব বাদশার ছেলে। মাহাবুর ট্রেনটির দায়িত্বে থাকা এস এ কর্পোরেশনের কর্মী।চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে তাকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় র্যাবের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন।সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে, কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের এক স্টুয়ার্ড ট্রেনের ভেতর বিপুল ইয়াবা বহন করে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের দিকে আসছেন। খবর পেয়ে র্যাবের একটি দল বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে স্টেশন এলাকায় অবস্থান নেয়।ট্রেনটি ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এসে পৌঁছালে ট্রেনের ‘জ’ বগি থেকে নেমে এক যুবক পালানোর চেষ্টা করলে সন্দেহভাজন হিসেবে মাহাবুরকে আটক করে র্যাব সদস্যরা। পরে ট্রেনের টয়লেটে তল্লাশি চালিয়ে কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ৪ হাজার ৮৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। তাকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এই ইয়াবা পাচারের সাথে এস এ করপোরেশনের আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান র্যাব এর কর্মকর্তা এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন।
২ মাস ৫ দিন আগে
তরুণীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর এমপি গাজী নজরুল ইসলাম। এমন একাধিক ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর অবশেষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালো দলটি। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটির সার্বিক খোঁজখবর নিয়ে ও প্রকৃত তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে দলীয় সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত খবরের দিকে জামায়াতে ইসলামী গভীরভাবে নজর রাখছে।বিবৃতিতে জামায়াত নেতা বলেন, ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে জনাব গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বক্তব্য এবং তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীসহ দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার ভিডিও বক্তব্য মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে আরও খোঁজখবর নিয়ে এবং ঘটনার প্রকৃত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।প্রসঙ্গত, এক তরুণীর সঙ্গে জামায়াত এমপি নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একাধিক ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে, যেগুলো সিসিটিভি ফুটেজ থেকে সংগৃহীত। সেখানে ওই তরুণীর সঙ্গে জামায়াত এমপিকে একটি কক্ষে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা গেছে। ভিডিওগুলো ভাইরাল হওয়ার পর রাজনৈতিক মহলসহ বিভিন্ন অঙ্গণে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এ ঘটনায় নিজের মতো ব্যাখ্যা দিয়েছেন জামায়াত এমপি এবং ওই তরুণী। দুজনেরই দাবি, তারা বিয়ে করেছেন। কিন্তু তাতে থেমে নেই আলোচনা-সমালোচনা। তাদের দাবিকৃত দ্বিতীয় বিয়ে নিয়েও নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিয়ের তারিখের সঙ্গে একটি বায়োডাটায় উল্লিখিত বৈবাহিক অবস্থার অসঙ্গতি নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে ওই এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জামায়াতকে আহ্বান জানানো হয়েছে। ভিডিওতে একটি কক্ষে গাজী নজরুল ইসলাম ও এক তরুণীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে একটি টেবিলের ওপর রাখা পরিচয়পত্রে ‘বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ এবং ‘১৩তম পার্লামেন্ট’ লেখা দেখা যায়। পরিচয়পত্রে গাজী নজরুল ইসলামের ছবি, নাম এবং সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচয়ও দৃশ্যমান।ভিডিওতে হট্টগোলের মধ্যে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘দেখেন, সাতক্ষীরার জামায়াতের লোক মেয়েসহ এখানে ধরা খাইছে। এই যে, এই মুরুব্বি।’ তবে ভিডিওটি কবে, কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে ধারণ করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।এর আগে সোমবার রাত থেকে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি প্রকাশের পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।প্রথম দিকে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের নেতারা ভিডিওটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেন। পরে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘বেঙ্গল লেন্স’ ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে এটিকে এআই-নির্মিত নয় বলে দাবি করে।পরবর্তী সময়ে গাজী নজরুল ইসলাম নিজেই ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণী মরিয়ম খাতুন তার দ্বিতীয় স্ত্রী। একই দাবি করেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের নেতারাও।লিখিত বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। তিনি দাবি করেন, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী, দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মাছুম বিল্লাহকে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে শ্বশুরের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে অবস্থানকালে তার গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করেন।তার অভিযোগ, তাদের জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায় করা হয় এবং পরে আরও কয়েক লাখ টাকা চাওয়া হয়। টাকা না দেওয়ায় ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পুরো ঘটনাকে তিনি পরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইল, চাঁদাবাজি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চরিত্রহননের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন।এরই মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি বায়োডাটা, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, ১৭ জুন মরিয়ম খাতুনকে তিনি বিয়ে করেন। কিন্তু গণমাধ্যমের হাতে আসা একটি বায়োডাটায় দেখা যায়, ২২ জুন তারিখে—অর্থাৎ দাবিকৃত বিয়ের পাঁচ দিন পরও—মরিয়ম খাতুনের বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ রয়েছে।ওই বায়োডাটায় গাজী নজরুল ইসলামের স্বাক্ষরও রয়েছে। স্বাক্ষরের ওপরে সবুজ কালিতে হাতে লেখা রয়েছে- ‘জোর সুপারিশ করছি’। এ কারণে বিয়ের সময়কাল ও নথিপত্রের তথ্য নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।এদিকে গণমাধ্যমের হাতে আসা একটি কাবিননামার কপিতে দেখা যায়, তিন লাখ টাকা দেনমোহরে গাজী নজরুল ইসলাম ও মরিয়ম খাতুনের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে মো. আবুল হোসেন এবং বেগম মাকসুদা ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।ভিডিও প্রকাশের পর গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এক ভিডিও বার্তায় বলেন, মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে তার স্বামীর পারিবারিকভাবেই বিয়ে হয়েছে এবং তিনি নিজেও বিষয়টি জানতেন। এ নিয়ে অপপ্রচার চালানো হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।অন্যদিকে মরিয়ম খাতুনও পৃথক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, গাজী নজরুল ইসলাম তার বৈধ স্বামী। সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে তিনি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন।মরিয়মের বাবা মাছুম বিল্লাহও দাবি করেন, গত ১৭ জুন দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং অনুষ্ঠানে গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।
২ মাস ১৮ দিন আগে
চট্টগ্রামে দুই কোটি টাকা এককালীন ও মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিডিএন কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং ৩৫ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে হামলায় ব্যবহৃত ৪টি দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়।রবিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে এ তথ্য জানান পতেঙ্গায় র্যাব-৭ এর সদর দপ্তরের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ঘটনার মাস্টারমাইন্ড মাইকেল রোহেন মিয়া প্রকাশ মাইক্যাল (৩১), মো. তুহিন (২২), আকবর হোসেন (৩৮), মো. আব্দুল মুমিন (৩০), মো. মাসাদ মিয়া (২৭), মো. দিদার মিয়া (২২), মো. সানজাত হাসান (১৮), সৈকত হোসেন (১৮) ও মো. সাইফুদ্দিন (৩২)।র্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায় হেলমেট ও মাস্ক পরে সন্ত্রাসীরা ইন্টারনেট অফিসের ভেতরে ও সিঁড়িতে অবস্থান নিয়ে অস্ত্রহাতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ছবিতে চিহ্নিত চার প্রধান হামলাকারী হলেন- সরাসরি হামলার মূল সংগঠক ও সমন্বয়কারী রোহেন প্রকাশ মাইকেল, সিসিটিভি ফুটেজে বাইরে মোটরসাইকেল নিয়ে ব্যাকআপে থাকা সন্ত্রাসী মো. তুহিন, অফিসের ভেতরে প্রথম প্রবেশকারী ও মূল ভাঙচুরকারী সাইফুদ্দিন ও অফিসের লবিতে ভাঙচুরকারী মো. আকবর।এর আগে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চকবাজার থানা ও ডিবি পুলিশ ৮ জনকে গ্রেফতার করে। এ নিয়ে ঘটনায় জড়িত ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় ৩০-৪০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী জড়িত বলে জানান ডিডিএন মালিকপক্ষ। মালিকপক্ষের মতে, গত ১১ জুলাই চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় অবস্থিত ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন)-এর স্বত্বাধিকারীকে ডেবিড ইমন পরিচয়ে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা এককালীন ২ কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ১৩ জুলাই দুপুর সোয়া ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে চকবাজার থানাধীন চন্দনপুরা বাকলিয়া অ্যাক্সেস রোডের মরিয়ম হাইটস ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ডিডিএন-এর অফিসে ৩০-৪০ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল অতর্কিত হামলা চালায়।অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিম্মি করে ক¤িপউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার ও আসবাবপত্র ব্যাপক ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। এছাড়া অফিসের ড্রয়ারে থাকা নগদ ৪৭ হাজার টাকা, ৩টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আরিফুল ইসলামের কাঁধে থাকা ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয়। ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন প্রদানের জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা ছিল। এ ঘটনায় চকবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।এর পর গত ১৫ জুলাই নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহমেদ জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও টাকা লুটের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদক আইনে চার থেকে পাঁচটি করে মামলা রয়েছে। তবে হামলার মুল হোতা ডেভিড ইমন কোথায় আছে পুলিশ জানে না বলে জানান।
২ মাস ২০ দিন আগে
চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে বিয়েবহির্ভূত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই শাস্তির তথ্য জানানো হয় ১৮ জুন বৃহস্পতিবার। একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও এমন আচরণ করায় তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যা নতুন করে আবারও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাকলায়েনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে পরীমনির ক্ষুব্দ মন্তব্য-‘আমার শুধু মনে হয়, সাকলায়েন ব্যক্তিগত আক্রোশের মধ্যে পড়েছে।’ আমাদের মধ্যে প্রেম-ভালোবাসা যা-ই হোক না কেন, এটা শুধু একটা অদ্ভুত কারণ হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে এই মামলায়। কার ব্যক্তিগত আক্রোশ—এমন প্রশ্নের জবাবে পরীমনি বলেন, ‘আমি জানি না, তবে অবশ্যই ব্যক্তিগত আক্রোশ। প্রেম-ভালোবাসা ও সম্পর্কের কারণে চাকরি যাবে, তা আমি বিশ্বাস করি না।’ সব শেষে পরী জানান, সাকলায়েনের জন্য তার খুব খারাপ লাগছে।এর আগে ২০২৪ সালের ২৫ জুন দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাকলায়েনকে নিয়ে পরীমনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন বেশ সাহসের সঙ্গে। তখনই নায়িকা দাবি করেছিলেন, সাকলায়েন আসলে কোনো এক শক্তিশালী মহলের ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হয়েছেন। তাদের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা নানা আলোচনা ও অভিযোগ প্রসঙ্গে পরীমনি বলেছেন, সম্পর্কের বিষয় যদি আসে, এটা তো একজনের ব্যাপার না, দু‘জনের পক্ষ থেকেই আসে। এখন পর্যন্তও আমাদের সম্পর্কটা তো মানুষের কাছে পরিষ্কার নয় কোনোভাবেই। আমরা প্রেমে ছিলাম, নাকি কী করছি, কোনো কিছুই তো স্পষ্ট করা হয়নি। এটা না সাকলায়েনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, না আমার কাছে, বরং সবখানে মনগড়া জিনিস লেখা হয়েছে ভিউ পাওয়ার আশায়।সম্পর্ক নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে তিনি আক্ষেপ করে জানান, ‘যেখানে সম্পর্কটা ডিফাইন করার আগে এত অপবাদ নিয়ে ফেলছি, সেখানে এই সম্পর্কটা কী, তা নিয়ে কথা বলার জায়গাও তো জনগণ রাখেনি। আমার মনে হয় না এটার আর কোনো দরকার আছে এখন।’
৩ মাস ২০ দিন আগে
সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ গেল রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদের। শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি উপজেলার বেতাগী এলাকার মৃত খালেদ চৌধুরীর ছেলে।পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী বাজারে একটি ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে যান মাসুদ। এসময় মোটরসাইকেলে করে এসে কয়েকজন অস্ত্রধারী তাকে কয়েক রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়।গুরুতর আহত মাসুদকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরী বিএনপির সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত।স্থানীয়দের ধারণা, বালুর ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকান্ড সংঘটিত হতে পারে। এছাড়া তিনি আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবেও আলোচনায় ছিলেন।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরীকে গুলি করে হত্যার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।এদিকে হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে দলীয় নেতাকর্মীরা ইছাখালী এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করেছেন। অবরোধের কারণে কাপ্তাই সড়কে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা এ সময় হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
৩ মাস ২৬ দিন আগে
নিরাপত্তা জোরদার করতে জঙ্গল সলিমপুরে বসানো হচ্ছে সর্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা। ড্রোন দিয়ে মনিটর করা হবে সবসময়। সেই সঙ্গে জঙ্গল সলিমপুরের আশপাশের পুরো এলাকা জুড়ে বসছে বাড়তি চেক পোস্ট। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। সবমিলিয়ে জঙ্গল সলিমপুরকে নিরাপত্তার কঠিন ঘেরাটোপে রাখার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে।আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালানোর সময় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন র্যাব-৭-এর উপ-সহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। এই ঘটনা সরকারকে নাড়িয়ে যায়। এর আগেও সেখানে সাংবাদিক থেকে শুরু করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন। ফলে সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে জঙ্গল সলিমপুর।সূত্র বলছে, র্যাব কর্মকর্তাকে হত্যার পর চলতি বছরের ৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুরে সেনা বাহিনী, পুলিশ ও র্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় চার হাজার সদস্য অভিযান চালায়। অভিযানে ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহৃত হয়। গ্রেফতার হয় ১৫ জন। উদ্ধার হয় অস্ত্র-গোলাবারুদ। এমন ঘটনার পর গত ২৪ মে দিবাগত রাতে জঙ্গল সলিমপুরের আলিনগরে র্যাবও পুলিশের যৌথ বাহিনীর ক্যা¤েপ হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। হামলায় ভারী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহৃত হয়। হামলায় অংশ নেয় প্রায় ৩০০ সন্ত্রাসী। হামলাকারীরা বুলডজার দিয়ে জঙ্গল সলিমপুরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নির্মাণাধীন ভবন গুড়িয়ে দেয়। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর যাতায়াত ঠেকাতে রাস্তা কেটে দেয়। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ভারী আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে ক্যা¤প ছাড়তে বাধ্য করে। পরে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর গোলাগুলি হয়।জঙ্গল সলিমপুরের বর্তমান পরিস্থিতি স¤পর্কে জানতে চাইলে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক নাজিমুল হক বলেন, বিষয়টি সরকারের তরফ থেকে অত্যন্ত গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে কড়া নির্দেশনা এসেছে। সরকার এটিকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সন্ত্রাসীদের চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। এ জন্য জঙ্গলসলিমপুর সলিমপুরকে নিরাপদ করতে যা যা করণীয়, তার সবই করা হচ্ছে। চলছে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি। সেই সঙ্গে জঙ্গল সলিমপুরে প্রবেশসহ আশপাশের এলাকায় নিয়মিত বাড়তি চেকপোস্ট বসানো হচ্ছে। চেকপোস্টে ২৪ ঘণ্টা তল্লাশি কার্যক্রম চলছে। সেখানে কে বা কারা যাতায়াত করছে, নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের স¤পর্কেও বিস্তারিত তথ্য লিপিবদ্ধ করে রাখা হচ্ছে। পুরো এলাকা নিরাপত্তার চাদরে মুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বন্দি করে ফেলা হবে পুরো জঙ্গল সলিমপুর। আশপাশের এলাকায় অত্যন্ত শক্তিশালী সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। এসব সিসি ক্যামেরায় নাইট ভিশন মোড রয়েছে। যাতে করে রাতের অন্ধাকারেও কেউ যাতায়াত করলে সিসি ক্যামেরা তাদের ছবিও গতিবিধি ভিডিও করে রাখতে পারে।আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর এক জন শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জঙ্গল সলিমপুর ঘিরে বহু মানুষের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত। মিছিল মিটিংয়ে লোকের জোগান, অবৈধ মাদক চোরাচালান, অস্ত্র-গোলাবারুদের ব্যবসা, সরকারি জমি বেদখল করে লিজ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া, ঘর ভাড়া দিয়ে কাচা টাকা রোজগার থেকে এমন কোনো বেআইনি কাজ নেই, যা জঙ্গল সলিমপুর ঘিরে হয় না। সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবেও ব্যবহৃত হয় জঙ্গল সলিমপুর। এ ছাড়া সেখানকার কিশোর, তরুণ ও তরুণীদের নিয়ে গড়ে তোলা সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে অনেকেই নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে। এ ছাড়া আছে মানবপাচারের ব্যবসা। জঙ্গল সলিমপুরের বাসিন্দাদের মধ্যে অনেকেই মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত। যারা সেখানকার টার্গেটকৃত বাসিন্দাদের উন্নত জীবনের প্রলোভনে ফেলে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে অবৈধভাবে বিদেশ পাঠিয়ে দেয়। সেখানে দেশি-বিদেশি সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেয়ার বিষয়টিও প্রকাশ্যে চলে এসেছে।ওই কর্মকর্তা জানান, জঙ্গল সলিমপুরকে অনেক স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। যদিও সেটি সম্ভব হয়নি। তাই দলবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো জঙ্গল সলিমপুরকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। জঙ্গি-সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর কানেকশন রয়েছে জঙ্গল সলিমপুর ঘিরে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের পেছনে দেশি-বিদেশি সন্ত্রাসী, জঙ্গি বা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর মদত থাকার বিষয়টি দিবালোকের মতো ¯পষ্ট। পুরো ঘটনাটি একটি মেকিং গেম। এমন গেমের কারণ জানতে আরো সময় লাগবে।তবে প্রাথমিক তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, পুরো পাহাড়কে অশান্ত করার নীল নকশার অংশ হিসেবে জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীরা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এখন শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে ভবিষ্যতে আরো বড় বিপদ আসবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।এক সময় তিন হাজার ১০০ একর জায়গায় হাজার হাজার সন্ত্রাসীর অভয়ারণ্য ছিল। প্রায় ৩০ বছর জঙ্গল সলিমপুর ছিল সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে। পুরো বিষয়টির সঙ্গে বিদেশি যোগসূত্র থাকার সম্ভাবনাই বেশি। বিদেশিদের বাংলাদেশে থাকা এজেন্টদের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। এসব ভারী আগ্নেয়াস্ত্র বিভিন্ন সীমান্ত পথে বা সমুদ্র পথে জাহাজে করে চট্টগ্রামে আনার পর সেগুলো সন্ত্রাসীদের হাতে পৌছে যায়। জঙ্গল সলিমপুরসহ সম্প্রতি চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে ভারি অস্ত্রের মজুত গড়ে তুলছে সন্ত্রাসীরা। পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের কারো কারো নাম আসছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, জঙ্গল সলিমপুরকে পুরোপুরি নিরাপত্তার চাদরে মুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। যদিও সেখানকার বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে না। জঙ্গল সলিমপুরে দায়িত্ব পালন করা পুলিশ, র্যাব, সেনা বাহিনী, বিজিবি সদস্যদের সুযোগ সুবিধা আরো বাড়ানো হবে। তাদের হাতে দেয়া হচ্ছে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও উন্নত প্রযুক্তি। যাতে করে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে তারা সক্ষম হয়। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনে সব ধরনের উদ্যোগ নিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
৪ মাস ২ দিন আগে
একে-৪৭ ও অত্যাধুনিক পিস্তল নিয়ে হামলা চালিয়ে জঙ্গল সলিমপুরে সদ্য স্থাপিত যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প গুড়িয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এস্কেভেটর দিয়ে এই ক্যাম্প গুড়িয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা। ক্যাম্পটি আগামি ৩১ মে উদ্বোধন করার কথা ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের। এতেই ক্ষোভ তৈরী হয় আওয়ামী লীগ মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের। ফলে এই হামলাকে সরকারের প্রতি এক ধরণের চ্যালেঞ্জ মনে করছেন সংশ্লিস্টরা। তেমনটাই মনে করছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলমও। সোমবার দুপুরে জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শনের সময় তিনি বলেন, এই হামলায় জড়িত ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান ইয়াসিন এর পেছনে রাজনৈতিক কোন বেকআপ আছে বলে মনে হচ্ছে। আমরা সেটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। আশা করছি আমরা সফল হবো।তিনি বলেন, ইয়াসিন বাহিনীর ৩০০ সদস্য একে-৪৭ ও অত্যাধুনিক পিস্তল নিয়ে যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালায়। যা ক্যাম্পে থাকা যৌথবাহিনীর ১৫০ সদস্যের কাছেও ছিল না। তারা রাইফেল, টিয়ারশেল ও শটগানের গুলি ছুড়ে সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করেছে। সন্ত্রাসীরা এসব অস্ত্র কিভাবে এবং কোথা থেকে পেল তা বের করা হবে। সূত্র জানায়, হামলার সময় সন্ত্রাসীরা যৌথবাহিনীর উপর একদিকে গুলি ছুড়ছিল, অন্যদিকে এস্কেভেটর দিয়ে নির্মাণাধীন ক্যাম্পের অবকাটামো ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। এ সময় কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিকও সেখানে ছিল। আগামি ৩১ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদায় এই ক্যাম্প উদ্বোধনের কথা রয়েছে। এ অবস্থায় ৩১ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের যৌথবাহিনীর ক্যা¤প উদ্বোধন কর্মসূচি বহাল থাকছে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। তবে র্যাব-৭ অধিনায়ক ও এসপি উভয়ে জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কর্মসূচি পালন করা যাবে। নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি হতে তারা দেবেন না। প্রত্যক্ষদর্শী নির্মাণ শ্রমিক হৃদয় ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসীরাা প্রথমে পাহাড়ের ওপর থেকে গুলি শুরু করে। তারপর দুইদিক থেকে গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়েতে সন্ত্রাসীরা আসতে থাকে। মোটর সাইকেলেও কয়েকজন আসে। অনেকের হাতে পিস্তল আর কিরিচ দেখছি। ট্রাক আর এস্কেভেটরও নিয়ে আসে। আমরা দোকানের ভেতর ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। সাতজন ছিলাম। তিনজন ড্রেনের ভেতরে ঢুকে পড়ে আর চারজন দোকানের ভেতরে বসে থাকি। কয়েকজন সন্ত্রাসী দোকানের ভেতরে ঢুকে আমাদের মারধর করে ৪০ হাজারের মতো টাকা আর সবার মোবাইলগুলো নিয়ে চলে যায়।আরেক নির্মাণ শ্রমিক বললেন, এস্কেভেটর দিয়ে আমাদের তৈরি করা ক্যা¤পটা একেবারে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। তবে আল্লাহ আমাদের বাঁচিয়েছে। আমরা মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি।পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরাও সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে পাল্টা গুলিবর্ষণ করে বলে জানালেন এক নির্মাণ শ্রমিক, সন্ত্রাসীরা দুটি মোটর সাইকেল ফেলে যায়। উত্তেজিত পুলিশ সদস্যরা একটি মোটর সাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আরেকটি ভাঙচুর করে।নীরব নামে একজন নির্মাণ শ্রমিক আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন, ইয়াসিন বাহিনীর সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে। এলাকার লোকজন জড়িত ছিল। কারণ এখানে প্রতিদিন দোকানপাট বন্ধ হয় রাত ১২টা-১টার দিকে। কিন্তু রোববার রাতে ১০টার মধ্যে সব বন্ধ হয়ে যায়। আমরা কয়েকজন পুলিশ ভাইসহ রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিগারেট কিনতে সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডে যাই। সেখানে ৫-৬ জন লোক দেখি। তাদের কাছে যে অস্ত্র আছে সেটা আমরা বুঝতে পারি। আগেরদিন এলাকার কয়েকজন লোক এসে আমাদের ভিডিও করে। তারা হুমকি দেয় প্রত্যেকজনকে দেখে নেবে বলে।নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এপিবিএনের এক সদস্য বলেন, রাত ১টার পর হবে। আমরা ১৭ জন ডিউটি করছিলাম। হঠাৎ দক্ষিণ দিকে পাহাড়ের ওপর থেকে গুলিবর্ষণ শুরু হয়। আমরাও গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে দক্ষিণ দিকে এগোতে থাকি। কিন্তু উত্তর ও পূর্বদিক থেকে শত, শত সন্ত্রাসী তখন গুলিবর্ষণ করতে করতে আমাদের দিকে আসতে থাকে। আমরা অস্ত্রধারীদের ঘেরাওয়ের মধ্যে পড়ে যাই। তখন প্রাণভয়ে আমরা যে যেদিকে পেরেছি, সেদিকে চলে যাই।এপিবিএনের আরেক সদস্য বলেন, ক্যাম্পের সামনে থাকা এক দোকানের মালিকের ছেলেকে আমরা চিনি। সবসময় এখানে দেখি। রবিবার হামলার সময় তাকেও দেখলাম অস্ত্র হাতে। এখানে ইয়াসিন বাহিনী বলতে আলাদা কোনো বাহিনী নেই। এলাকার সব লোকজনই ইয়াসিন বাহিনী। ইয়াসিনের কথাই এখানে আইন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জঙ্গল সলিমপুরের মেইন সড়কের ৩-৪ জায়গায় সন্ত্রাসীরা রাস্তা কেটে ব্যারিকেড তৈরি করে হামলা শুরু করে। সীতাকুন্ড থানা থেকে পুলিশ দ্রুত মুভ করে। কিন্তু ততক্ষণে হামলাকারীরা আলীনগরে নতুন নির্মিত ক্যা¤েপর দিকে চলে যায়। সেখানে আক্রমণ করে। যৌথ বাহিনীর তথ্যমতে, আলীনগর স্কুলে আরেকটি ক্যা¤েপ আমাদের ১৫০ সদস্য ছিল। তারা শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তাদের ১০৫ রাউন্ড গুলি ছুঁড়তে হয়েছে। পুলিশের শক্ত প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা টিকতে না পেরে দ্রুত পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়।দেড় ঘন্টা ধরে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চলে বলে জানালেন র্যাবের চট্টগ্রাম জোনের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, এস্কেভেটরগুলো সন্ত্রাসীরা পাহাড়ি সরু পথ দিয়ে নিয়ে আসে। সেজন্য এই তথ্য আমরা আগেভাগে পাইনি। তারা চর্তুদিক থেকে গুলি, ককটেল ছুঁড়ে হঠাৎ আক্রমণ শুরু করে। তারা একে-৪৭ রাইফেল ব্যবহার করেছে। আমাদের পক্ষ থেকে টিয়ারশেল ও শটগানের বুলেট এবং অল্প কিছু রাইফেল দিয়ে ফায়ার করা হয়েছে। পাল্টাপাল্টি আক্রমণে যৌথবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে তেমন কেউ আহত হননি বলে জানালেন এ র্যাব কর্মকর্তা।স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৩ হাজার ২০০ একর আয়তনের পাহাড় ঘেরা চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকা যেন রাষ্ট্রের ভেতর আরেক রাষ্ট্র’। ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী, দাগী অপরাধীদের আস্তানা খ্যাত এই জঙ্গল সলিমপুরে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য র্যাব-পুলিশের সমন্বয়ে যৌথবাহিনীর একটি ক্যা¤প ৩১ মে উদ্বোধন করার কথা ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের।আর রাতের অন্ধকারে তিনশতাধিক সন্ত্রাসী গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে আক্রমণ করে সেই ক্যা¤েপ। এস্কেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় ক্যা¤পটি। এর আগে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যৌথবাহিনীর সদস্যদের গুলিবিনিময় হয়। কিন্তু চারদিক ঘিরে হঠাৎ আক্রমণের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন ক্যা¤েপর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।র্যাব এ ঘটনার জন্য রাষ্ট্রের ভেতরে আরেক রাষ্ট্রের প্রধান নিয়ন্ত্রক মো. ইয়াসিনের নেতৃত্বাধীন ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যদের দায়ী করছে। এলাকাবাসীর ভাষ্যও তাই। প্রশ্ন উঠেছে, এর মধ্য দিয়ে সন্ত্রাসী ইয়াসিন বাহিনী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করলো কী না। র্যাব কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সন্ত্রাসীরা অবশ্যই সরকারকে বিব্রত করার জন্য এ ঘটনা ঘটিয়েছে। হামলার পর যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে কমপক্ষে ২৫ জনকে আটক করেছে। সন্ত্রাসীদের ফেলে যাওয়া ২টি মোটর সাইকেল, ২টি এস্কেভেটর ও ১টি ট্রাক জব্দ করেছে।স্থানীয়রা আরও জানান, একসময় ইয়াসিন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল শুধুমাত্র আলীনগর এলাকা। এখন পুরো জঙ্গল সলিমপুরই ইয়াসিনের নিয়ন্ত্রণে বলে জানালেন এলাকাবাসী। গত ১৯ জানুয়ারি ইয়াসিনকে গ্রেফতার অভিযানে গিয়ে বেধড়ক পিটুনিতে প্রাণ হারান র্যাব-৭ এর গোয়েন্দা টিমের প্রধান নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। আহত হন আরও তিন র্যাব সদস্য। এরপর ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশ মিলে ২০০ সদস্যের বিশাল যৌথবাহিনী সেখানে সাঁড়াশি অভিযান চালায়। ইয়াসিনকে গ্রেফতার করতে না পারলেও জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে বলে ঘোষণা দেয়। যৌথবাহিনীর দুটি অস্থায়ী ক্যা¤প প্রতিষ্ঠা করা হয়। এছাড়া পুলিশ একাডেমি, কারাগারসহ আরও বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়।অস্থায়ী ক্যা¤পগুলোর মধ্যে একটি আলীনগর প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন এক ভবনে স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে জেলা পুলিশ, এপিবিএন, আরআরএফ ও র্যাব মিলে ১৫০ সদস্য নিয়মিত অবস্থান করে। রোববার রাতে হামলার সময় এস্কেভেটর দিয়ে সেই অবকাঠামো ভেঙে গুড়িয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা। সোমবার (২৫ মে) সকালে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বায়েজিদ লিংক রোডে জঙ্গল সলিমপুরের প্রবেশমুখ থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে খেজুরতলা এলাকায় দুই স্থানে, এর আধা কিলোমিটার দূরে পাথরিঘোনা এলাকা এবং আরও এক কিলোমিটার পরে আলীনগর চৌরাস্তার মোড়ে রাস্তা কেটে ফেলা হয়েছে। সেখানে পথচারীদের হেঁটে পারাপারেও যথেষ্ঠ বেগ পেতে হচ্ছে।আলীনগর প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্যা¤প থেকে পূর্বে ৫০ গজের মতো গেলে যৌথবাহিনীর নতুন সার্বক্ষণিক ক্যা¤পটি গড়ে তোলা হয়েছিল। পাকা পিলারের সঙ্গে চারদিকে টিনের ঘেরা দিয়ে ক্যা¤পটি নির্মাণ করা হয়। পুলিশ ও নির্মাণ শ্রমিকরা জানান, গত ১ মে থেকে ক্যা¤পটি নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। পুরো কাজ শেষ করে আগামী মঙ্গলবার শ্রমিকদের বিদায় নেওয়ার কথা ছিল।
৪ মাস ১৪ দিন আগে
‘ইয়াসিন বাহিনী’ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সীতাকুন্ড আসনের সাবেক এমপি দিদারুল আলম দিদার ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতার মদদপুষ্ট ছিল। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতীতে একাধিকবার অভিযান চালালেও পুরো এলাকায় নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি
৪ মাস ১৪ দিন আগে