অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত মত প্রকাশ করে থাকেন সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে। এবার তিনি মত প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হকের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবি নিয়ে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সামাজিক মাধ্যমে অভিনেত্রী লেখেন, ‘দেশের মানুষ বন্যার সাথে যুদ্ধ করছে এই মুহূর্তে পরীক্ষা নেওয়াটা কি আসলেই মানবিক? আমি বুঝি না , গদিতে বসলেই মানুষের বুদ্ধি, বিবেক, মানবিকতা কি লোপ পায়?’অভিনেত্রীর স্ট্যাটাসের মন্তব্যের ঘরে নেটিজেনদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই চমকের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। একজন লিখেছেন, ‘গোদিতে বসলে সবার মুড পরিবর্তন হয়ে যায়’। অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, ‘যেখানে মানুষের জীবন নিয়ে টানাটানি। সেখানে পরীক্ষা দিয়ে কি হবে?’মঙ্গলবার সকাল থেকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতসহ তিন দফা দাবিতে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। পরে সেখান থেকে তারা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে সেখানে শিক্ষার্থী-পুলিশ ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। পরে তারা আবার সায়েন্স ল্যাব মোড়ে ফিরে সড়ক অবরোধ করেন। এরপর শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন এবং বিক্ষোভ করেন। সেখানে থেকে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরবর্তীতে রাত ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আবারও সড়ক অবরোধ করেন তারা।
২ মাস ৩ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরীর ষোলশহর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। এসময় তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, পরীক্ষা পেছানোর দাবি উপেক্ষা করে সোমবার পরীক্ষা নেওয়ায় বহু শিক্ষার্থী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা ষোলশহর এলাকায় চট্টগ্রাম মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের সামনে সড়কে অবস্থান নেন। ফলে সড়কে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী সাধারণ। পরীক্ষার্থীদের দাবি-বৈরী আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চলমান এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখা, গত ১২ ও ১৩ জুলাই প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি, তাদের জন্য পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করা এবং বৃষ্টির কারণে যাদের এডমিট কার্ড বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নষ্ট হয়ে গেছে বা হারিয়ে গেছে, তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে বোর্ড থেকে পুনরায় কাগজপত্র সরবরাহ করা।পরীক্ষার্থীরা জানান, বৃষ্টির মধ্যে পরীক্ষা দিতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এবং তাদের ক্যালকুলেটর ও জরুরি কাগজপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় না নিয়ে তাদের প্রতি অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে। সারাদেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া এবং কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জন্য বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত না নেওয়ার দাবিও তাদের।বিক্ষোভে অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীরা দ্রুত বন্যাকবলিত এলাকার পরীক্ষাগুলো পুনর্নির্ধারণ এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান।পাঁচলাইশ থানার ওসি মো. জাহেদুল ইসলাম জানান, পরীক্ষার্থীদের অবরোধের ফলে ষোলশহর শিক্ষা বোর্ড সামনে সড়কের একপাশ ব্যবহার করে যানবাহন চলাচল করলেও অন্যপাশে তীব্র যানজট তৈরি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ পথচারী ও যাত্রীরা। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পরিস্থিতি স¤পর্কে সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) সোহেল পারভেজ জানান, পরীক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশ তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। একইসঙ্গে সড়কে যানবাহন চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক করতে পরীক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
২ মাস ৪ দিন আগে
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫-এর ফল প্রকাশিত হয়েছে। এবার সারা দেশে মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন এবং সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৪৬ হাজার ২৮১ জন। এবারের ফলাফলে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে। বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্র ৩৫ হাজার ৮৯২ জন (৪৫.২৯ শতাংশ) এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন (৫৪.৭১ শতাংশ)।রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের মেধা অন্বেষণ, স্বীকৃতি প্রদান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করে জ্ঞানভিত্তিক প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে গত এপৃল মাসে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এই বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬ অনুযায়ী, দেশব্যাপী মোট ৮২ হাজার ৫০০টি বৃত্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও যোগ্যতা অর্জনের ভিত্তিতে ৭৯ হাজার ২৪৬ জন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছে।নীতিমালা অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুল বৃত্তির ক্ষেত্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৮০ শতাংশ এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য ২০ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুলে সরকারি বিদ্যালয় থেকে ২৬ হাজার ৩৭৫ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ৬ হাজার ৫৯০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে।অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তির আওতায় মোট বৃত্তি পেয়েছে ৪৬ হাজার ২৮১ জন। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের ৩৬ হাজার ৪২০ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৯ হাজার ৮৬১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সাধারণ বৃত্তির বরাদ্দকৃত আসনের মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের জন্য ৩৯ হাজার ৬০০টি বৃত্তি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক পাঁচটি করে (দুজন ছাত্র, দুজন ছাত্রী এবং একটি মেধার ভিত্তিতে) এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য উপজেলাভিত্তিক ২০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করা হয়েছিল।এবারের বৃত্তি পরীক্ষায় মোট ৭৮ হাজার ৮১০টি বিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৬০৫টি এবং বেসরকারি বিদ্যালয় ১৩ হাজার ২০৫টি। মোট নিবন্ধিত ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৪১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৮২ জন, যা মোট নিবন্ধনের ৬৫.১১ শতাংশ। উপস্থিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের ৩ লাখ ৪৪ Profit ১২৭ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৭৫ হাজার ৮৫৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মিরপুরে অবস্থিত অধিদপ্তর কার্যালয়ে এরই মধ্যে ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীরা ফলাফল দেখতে পারবে।
২ মাস ৬ দিন আগে
ট্যাক্স দেয় না সরকার। খোদ ২৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাছে আটকে আছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ১৯৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স। এর মধ্যে রেলওয়ে, গণপূর্ত, শিক্ষা ও সওজে আটকে আছে প্রায় ১৫৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা গৃহকর। পরিমাণটা আরও ডাবল হত যদি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এ রিপোর্ট লেখার আগের দিন ২৯ জুন সোমবার বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ ১৯৮ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫১ টাকা পরিশোধ না করত। তাহলে কি শুধু খেটে খাওয়া মানুষের পকেট কাটতেই সরকারি ট্যাক্স? যার উত্তর ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দিতে গিয়ে চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, টাকার অভাবে চসিকও নিয়মিত নাগরিক সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনাা করতে হিমশিম খাচ্ছে। বর্জ্য অপসারণ, মশক নিধন কার্যক্রম ও কর্মচারীদের বেতন ঠিকমত দিতে পারছে না। তবে ১৯৭ কোটি টাকা বকেয়া গৃহকর আদায়ে ২৫ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর চিঠি দিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। যার একটি সূরাহা শীঘ্রই মিলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। চসিকের রাজস্ব বিভাগের নথির তথ্যমতে, মোট ১৯৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা পাওনার সিংহ ভাগই আটকে আছে মাত্র চারটি বড় মন্ত্রণালয়ের কাছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দেনাদার হলো রেলপথ মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের কাছে মোট পাওনা ১১৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হোল্ডিং ট্যাক্স আটকে আছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে। পাওনা প্রায় ৩০ কোটি টাকা। তৃতীয় সর্বোচ্চ বকেয়া ট্যাক্স আটকে আছে শিখা খাতে, যা প্রায় ১৫ কোটি টাকা। চতুর্থ বড় ট্যাক্সদাতা হচ্ছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর। তাদের কাছে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত বকেয়া ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এই বকেয়া পরিশোধের জন্য বিশেষ বাজেট বরাদ্দ মঞ্জুরির অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একইভাবে বাকি ২১টি মন্ত্রণালয়েও চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, চসিকের আয়ের মূল উৎস পৌরকর। এই টাকা থেকেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, আবর্জনা অপসারণ, সড়ক আলোকায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের মতো বহুমুখী উন্নয়ন কর্মকান্ডের সিংহভাগ ব্যয় নির্বাহ করা হয়। তবে পৌরকর আটকে থাকা দপ্তরগুলোর কর্মকর্তাদের দাবি, মন্ত্রণালয়গুলো থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় এর অধীন সরকারি দপ্তরগুলো চসিকের এই বিশাল অঙ্কের কর পরিশোধ করতে যাচ্ছে না। বিষয়টি স্বীকার করেছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীনও। তিনি বলেন, চসিক ও রেলওয়ে দুটোই সরকারি প্রতিষ্ঠান। মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পেলে গৃহকর অবশ্যই পরিশোধ করা হবে। এদিকে চসিকের সবেচেয়ে বড় অঙ্কের গৃহকর বকেয়ার তালিকায় ছিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। যার পরিমাণ ছিল ১৯৮ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫১ টাকা। যা ২৯ জুন সোমবার চেকের মাধ্যমে এই ট্যাক্স পরিশোধ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। চেক গ্রহণ করর পর চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চসিকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একক কোনো খাত থেকে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের নজির স্থাপিত হয়েছে। এটি শুধু একটি রাজস্ব আদায় নয়, বরং চট্টগ্রামবাসীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। মেয়র বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত মূল্যায়নের তুলনায় চট্টগ্রাম বন্দর অত্যন্ত কম হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন এবং আইন অনুযায়ী ন্যায্য কর আদায়ের উদ্যোগ নেন।তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন বন্দরের কাছ থেকে কোনো ধরনের কম্পেনসেশন চার্জ গ্রহণ করে না। অথচ বন্দরের ৪০ থেকে ৫০ টন ধারণক্ষমতার ভারী যানবাহন প্রতিনিয়ত চসিকের নির্মিত সড়ক ব্যবহার করছে। ফলে প্রতিবছর শুধু সড়ক সংস্কারেই অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। তাই বন্দরের কাছে কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নয়, বরং আইনি ভিত্তিতে নির্ধারিত ন্যায্য হোল্ডিং ট্যাক্সই দাবি করা হয়েছে। ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপৃল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুরোধে উভয় প্রতিষ্ঠানের তিনজন করে মোট ছয়জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সমন্বয়ে যৌথ মূল্যায়ন (জয়েন্ট অ্যাসেসমেন্ট) পরিচালিত হয়। এতে প্রায় এক কোটি ৯৭ লাখ বর্গফুট স্থাপনার মূল্যায়ন স¤পন্ন হয়। যৌথ মূল্যায়নে উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা স্বাক্ষর করায় এটি আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। তিনি বলেন, বন্দরের পক্ষ থেকে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল করা হলেও সিটি করপোরেশন আইনের বিধান অনুযায়ী আপিল গ্রহণের পূর্বশর্ত হিসেবে নির্ধারিত করের ৭৫ শতাংশ জমা দিতে হয়। সেই বিধান অনুসারেই ১৯৮ কোটি ২৬ লাখ টাকার চেক সিটি কর্পোরেশনকে প্রদান করা হয়েছে। বাকি ২৫ শতাংশ অর্থও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সিটি কর্পোরেশন পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।মেয়র জানান, চট্টগ্রাম বন্দর ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কাছে চসিকের মোট প্রায় ১৯৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকার হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে পূর্ববর্তী বছরের বকেয়া প্রায় ১৫৪ কোটি ৬৮ লাখ এবং চলতি অর্থবছরের দাবি প্রায় ৪২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে ইতোমধ্যে ডিও লেটার পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুত বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানানো হয়েছে।তিনি আরও বলেন, সরকারের জাতীয় বাজেট ঘোষণার আগেই আমরা এই চিঠিগুলো পাঠিয়েছি, যাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো তাদের বার্ষিক বাজেটে চসিকের এই পৌরকর পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখতে পারে। যেভাবে আমরা চট্টগ্রাম বন্দরের পেছনে লেগে থেকে ন্যায্য পাওনা আদায় করেছি। একইভাবে এই ২৫টি মন্ত্রণালয়ের বকেয়া টাকা আদায়েও আমি শতভাগ চেষ্টা চালিয়ে যাব। চসিকের রাজস্ব শাখার মতে, হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া থাকায় আর্থিক সংকটে পড়ে সিটি করপোরেশন তার নাগরিকসেবা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও স্বাভাবিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে পারছে না। এতে মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে চট্টগ্রাম নগরবাসী।এ বিষয়ে কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম। কিন্তু চট্টগ্রাম থেকে সরকার শুধু নেয়, দেয় না তেমন কিছুই। হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ না করা তারই প্রম্যাণ বহন করে। তিনি বলেন, দেশের অন্য সিটি করপোরেশনেও হয়তো সরকারের ট্যাক্স আটকে আছে। এতে বুঝা যায়, সরকার শুধু খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের পকেট কাটার জন্যই ট্যাক্স আরোপ করেছে। খোদ সরকারই ট্যাক্স পরিশোধ করে না। যা অত্যন্ত দূ:খজনক।
২ মাস ১৯ দিন আগে
বাতিল হচ্ছে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের আওতাধীন চট্টগ্রামের ৬৪ কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় এই উদ্যোগ নিয়েছে কারিগরি শিক্ষাবোর্ড। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর অধ্যক্ষ, সুপারিনটেনডেন্ট, প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালককে কারণ দর্শানো নোটিশও দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ জুন এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠান প্রধানকে শোকজও করা হয়েছে।শনিবার (২৮ জুন) সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের পরিদর্শক মো. আল মাসুদ করিম। তিনি জানান, বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও স্বীকৃতি প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা–২০২৪’ এর উপবিধি–এ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের ভর্তি, ফলাফল, অবকাঠামো, শিক্ষক–কর্মচারী নিয়োগ, ব্যবস্থাপনা কমিটি, আসবাব, যন্ত্রপাতি, লাইব্রেরি এবং পাঠদানের অনুমতি প্রদানকালে আরোপিত অন্যান্য শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে সরকারের অনুমোদনক্রমে বোর্ড যেকোনো প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি বাতিল বা প্রত্যাহার করতে পারবে। তারই আলোকে চট্টগ্রামের ৬৮ কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পাঠদান বাতিলের তালিকায় নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় রয়েছে ১৪ কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এসএসসি (ভোকেশনাল), দাখিল (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং। স্কুলগুলো হচ্ছে– নগরীর বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে স্টেশন কলোনি উচ্চ বিদ্যালয়, গোলমুন্ডা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, গুলতাজ মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, হাটহাজারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ধর্মপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, পশ্চিম কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়, পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয়, মোস্তফা বেগম বালিকা কারিগরি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা কলেজ, পশ্চিম বিনাজুরী উচ্চ বিদ্যালয়। দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমে যুক্ত মাদ্রাসাগুলো হচ্ছে– পন্থিছিলা ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসা, মজিদিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও জামেয়া আহমদীয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা। তালিকায় রাঙামাটি ও কক্সবাজারের ৩টি করে ৬টি মাদ্রাসাও রয়েছে। এছাড়া ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং–এ যুক্ত চট্টগ্রামের দুই কলেজ হচ্ছে– মেমেক্স পলিটেকনিক অ্যান্ড বিএম কলেজ ও নিউকেসল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ। এ তালিকায় রাঙামাটির একটি কলেজও রয়েছে।একইসঙ্গে জাতীয় দক্ষতামান বেসিক (৩৬০ ঘণ্টা মেয়াদী) কোর্স পরিচালিত হয় এমন ৫৪ প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদনও বাতিল হচ্ছে। এ তালিকায় কক্সবাজার, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির ৪৪ প্রতিষ্ঠান আছে।প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে– চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ন্যাশনাল পলিটেকনিক কলেজ, বেসিক টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, মেমেক্স পলিটেকনিক অ্যান্ড বিএম কলেজ, ইউনিয়ন কৃষি উচ্চ বিদ্যালয়, শাহী কমার্শিয়াল কলেজ, মিপস ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি, ইসলামী ব্যাংক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি।এবিসি কম্পিউটার স্কুল, দ্য কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, রেনেসা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মাম্যাক্স কম্পিউটার, মাহমুদুন্নবী চৌধুরী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আর কে টেকনিক্যাল ওভারসিজ ট্রেনিং সেন্টার, ভিলেজ স্কুল অব ইনফরমেশন টেকনোলজি, ইনফরমেশন অ্যান্ড টেকনিক্যাল টেকনোলজি, ওয়েস্টার্ন মেরিন ইনস্টিটিউট, মুসাপুর বদিউজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়, মাইক্রো মিডিয়া কম্পিউটার।চট্টগ্রাম লার্নিং একাডেমি, গ্রামীণফোন কমিউনিটি ইনফরমেশন সেন্টার, কম্পিউটার ইউটিলাইজিং সেন্টার, রোটারি ইস্কান্দার টেকনিক্যাল সেন্টার, গ্রামীণফোন কমিউনিটি ইনফরমেশন সেন্টার (জিপিসি আইসি), নিউ জেনারেশন কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার, আহলা এ এস চৌধুরী বহুমুখী টেকনিক্যাল স্কুল, এবিসি কম্পিউটার ইনস্টিটিউট, আরাবিয়া খাইরিয়া কম্পিউটার ইনস্টিটিউট।চট্টগ্রাম ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, স্কুল অব ট্যুরিজম অ্যান্ড হোটেল ম্যানেজমেন্ট, বিডি টেকনোলজি, মুসলিম এইড ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, মোস্তফা বেগম গার্লস টেকনোলজি অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ, এটিএল একাডেমি, ট্রাস্ট টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন ইনফরমেশন সার্ভিস সেন্টার।চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, ইউনিসন স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, শ্যামলী আইডিয়াল টেকনিক্যাল কলেজ (চট্টগ্রাম), প্রোগ্রেসিভ টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, এসকেপ মেকানিক্যাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, ৬ নম্বর ইছাখালী ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র, প্যাসিফিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, উদ্দীপন টিভিইটি সেন্টার, আইডিয়া ইঞ্জিনিয়ারিং।চট্টগ্রাম টেকনিক্যাল কলেজ (সিটিসি), চট্টগ্রাম সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট, ১৮ নম্বর হারামিয়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, অ্যাকটিভ ইনস্টিটিউট, শামসুন্নাহার হারুন টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, দারুল হিকমা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, কর্ণফুলী–রাঙ্গুনিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও আস্থা হোম কেয়ার অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার।কারিগরি শিক্ষাবোর্ড সূত্র জানায়, চূড়ান্তভাবে পাঠদান অনুমোদন বাতিলের আগে চলতি ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর অধ্যক্ষ, সুপারিনটেনডেন্ট, প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালককে কারণ দর্শানো নোটিশও দেয়া হয়। এর মধ্যে গত ২৪ জুন এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠান প্রধানকে শোকজ করা হয়। এছাড়া ৪ ও ১৮ জুন ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠান প্রধানকে এবং জাতীয় দক্ষতামান বেসিক (৩৬০ ঘণ্টা মেয়াদী) কোর্স পরিচালিত হওয়া প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ৮ জুন পৃথক শোকজ করা হয়। তবে শোকজের ভাষা একই।প্রতিষ্ঠান প্রধানকে শোকজ করে দেয়া কারিগরি শিক্ষাবোর্ড–এর দেয়া চিঠিতে যেসব কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ যাবত কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে না, সেসব প্রতিষ্ঠানে আগামী ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব ধরনের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিতসহ প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন কেন বাতিল করা হবে না, তার যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠানকে এ ব্যাখ্যা আগামী ২২ জুলাইয়ের মধ্যে ও ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ৩০ জুনের মধ্যে বোর্ডে ব্যাখ্যা জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়।কারিগরি শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শুধু চট্টগ্রাম নয়, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি না করায় সারা দেশের ভোকেশনাল, ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ও ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার ও জাতীয় দক্ষতামান বেসিক কোর্স সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে শোকজ করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১ হাজার ৮৫৩। এর মধ্যে এসএসসি (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমের ৪৪৩টি ও দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমের ১৭৮টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া ১২০টি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১২টি ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল, ১৫টি ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার ও ১ হাজার ৮৫টি জাতীয় দক্ষতামান বেসিক কোর্স সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ও ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার তালিকায় চট্টগ্রামের কোনো প্রতিষ্ঠান নেই।
২ মাস ২১ দিন আগে
৫ হাজার কোটির স্কুল ফিডিং নিয়ে কঠোর সরকার; নিষিদ্ধ হচ্ছে ‘গোপন সাবকন্ট্রাক্ট’ এবং লাইভ ড্যাশবোর্ড চালু
৩ মাস ২২ দিন আগে
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে বাংলাদেশের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হারিয়েছে মান। যোগ্যতা ছাড়া কাউকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানো যাবে না।শনিবার (১৬ মে) সকালে চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিক্যাল কলেজ (চমাশিহামেক) হাসপাতালে নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।তিনি বলেন, মেডিক্যাল শিক্ষার মান রক্ষায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, পর্যাপ্ত ফ্যাকাল্টি ও অবকাঠামো নিশ্চিত না করে আসন সংখ্যা না বাড়ানোর আহ্বান জানাই। শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, মাল্টিমিডিয়া সুবিধা, ডিজিটাল লাইব্রেরি, খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব পুরোপুরি মাল্টিমিডিয়াভিত্তিক হয়ে গেছে। তাই মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকতে হবে। দেশে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের ঘাটতি রয়েছে। কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি দক্ষ জনবলের অভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তাই মেডিক্যাল টেকনোলজি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিতে হবে।দেশের স্বাস্থ্যখাতে এবার বাজেটে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে স্বাস্থ্য খাতের বিপুল অর্থ দুর্নীতির মাধ্যমে অপচয় হয়েছে। সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা ব্যয় সরকার বহন করবে এবং এ জন্য বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া মৌলিক অধিকার। কিন্তু দীর্ঘদিন মানুষ এ অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। বর্তমান সরকার ‘ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার’, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে। সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার কারণে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা করা হবে। রোগীরা সেখানে চিকিৎসা নিলে বিল সরকার পরিশোধ করবে।নতুন ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা বাংলাদেশের বড় সমস্যা। তাই দ্রুত কাজ শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণের গুণগত মানও নিশ্চিত করতে হবে। ভবনের নকশায় পার্কিং সুবিধার ঘাটতির বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রস্তাবিত ৭২টি গাড়ি পার্কিংকে অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে তিনি কমপক্ষে ২০০ থেকে ২৫০টি পার্কিং সুবিধা রাখার পরামর্শ দেন। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত বেজমেন্ট নির্মাণ করার কথাও বলেন তিনি। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাস খাতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বকেয়াও পরিশোধ করতে হচ্ছে। আমরা একটি ঋণাত্মক অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছি। অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে।হাসপাতালের জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি মো. জাহিদুল হাসানের সঞ্চালনায় প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবকাঠামো স্বাস্থ্য সেবাসহ নানাবিধ চিত্র তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন হাসপাতালের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুল মান্নান রানা, জেনারেল সেক্রেটারি রেজাউল করিম আজাদ ও মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. অসীম কুমার বড়ুয়া হাসপাতালের ট্রেজারর অধ্যক্ষ ডক্টর লায়ন মোহাম্মদ সানাউল্লাহ,অর্গানাইজিং সেক্রেটারি মোহাম্মদ সাগির, সদস্য ইঞ্জিনিয়ার জাবেদ আবছার চৌধুরী, ডা. সরওয়ার আলম, তারিকুল ইসলাম তানভির, সাইফুল ইসলাম, হারুন ইউচুপ,ডাক্তার বেলায়েত হোসেন ঢালী, পরিচালক ডা. নুরুল হক, পরিচালক মেডিকেল এফেয়ার্স ডাক্তার এ কে আসরাফুল করিম, উপরিচালক মো. মোশাররফ হোসাইন ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক এম এ আজিজ প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
৪ মাস ২ দিন আগে

সরকার ১০ বছরে এসএসসি ও ১২ বছরে এইচএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন করার কথা ভাবছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সেভাবেই সিলেবাসসংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।বুধবার (১৩ মে) সকালে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে ওয়ান গ্রিড সোলার প্রজেক্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী একথা বলেন।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা আজকে পরীক্ষার বিষয় নিয়ে বসব। আলোচনা করব কীভাবে এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষাগুলোর সিলেবাস কাভার করে সময় নষ্ট না করে যেন ঠিক পথে এগিয়ে যেতে পারি। অর্থাৎ এসএসসি পাস করতে যেন দশ বছর স্কুলিং, বারো বছর স্কুলিং, কোনো সেশনজট যেন না হয়। শিক্ষার্থীরা যেন পিছিয়ে না পড়ো। শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে পরীক্ষা দেওয়ার তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা সুন্দরভাবে দিতে হবে। দেখেছ তোমরা? এখন পরীক্ষা সুন্দর হচ্ছে। কী কারণে? সকলেই চায় সুন্দর পরীক্ষা।এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তার প্রাধান্যের তালিকায় প্রথম বিষয় শিক্ষা, দ্বিতীয় বিষয় শিক্ষা এবং তৃতীয় বিষয়ও শিক্ষা। কারণ একটি দেশের উন্নয়নের মূল ভিত্তিই শিক্ষা। এছাড়া কোনো জাতি কখনও উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে না।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশে বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ থাকলেও তারা উন্নত হতে পারেনি। আবার কিছু দেশ সীমিত সম্পদ নিয়েও শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদের মাধ্যমে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাই বাংলাদেশের বিপুল জনশক্তিকে সঠিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে।তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি দেশপ্রেম, নৈতিকতা এবং ধর্মীয় ও পারিবারিক মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে। ‘ভ্যালুস ছাড়া কোনো জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। পরিবার থেকেই একজন মানুষের প্রকৃত শিক্ষা শুরু হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল খালেক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
৪ মাস ৫ দিন আগে
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি। সংগঠনটির চবি শাখার প্রথম কমিটিতে নেতৃত্বে আসছেন আব্দুল্লাহ আল মাহাতির ও মো. ইসমাইল।শনিবার (৯ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খান তালাত মাহমুদ রাফি। তিনি জানান, চবি শাখার প্রথম কমিটেতে সভাপতি পদে থাকছেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহাতির এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে থাকছেন ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইসমাইল। সভাপতি পদে আসতে যাওয়া আব্দুল্লাহ আল মাহাতির বলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্রশক্তির অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছে। আনুষ্ঠানিক কমিটি হওয়ায় সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গুছিয়ে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। এ সপ্তাহের মধ্যেই ৫ কিংবা ৭ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকানের সঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ নাহিদ ইসলামের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খান তালাত মাহমুদ রাফি প্রথমবারের মতো চবি শাখা ছাত্রশক্তির সম্ভাব্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন।এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক জোবাইরুল হাসান আরিফসহ সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতারা-এ সময় উপস্থিত ছিলেন।উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ’ বিলুপ্ত করে জাতীয় ছাত্রশক্তি গঠন করা হয়।
৪ মাস ৯ দিন আগে
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর পুরকৌশল বিভাগের বিএসসি প্রোগ্রামের অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। রবিবার (২৬ এপৃল) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট কক্ষে বোর্ড অব অ্যাক্রেডিটেশন ফর ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন (বিএইটিই)-এর এক্সটার্নাল রিভিউ টিমের সঙ্গে এ বিষয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষাক্রম, মান নিয়ন্ত্রণ এবং এক্রেডিটেশন মানদণ্ড পূরণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় চুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর (রুটিন দায়িত্ব) এবং মেকানিক্যাল অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী আফজালুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আরও উপস্থিত ছিলেন তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন, পুর ও পরিবেশ কৌশল অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. আসিফুল হক, স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান, রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, পুরকৌশল বিভাগ এর বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. রিয়াজ আকতার মল্লিক, আইকিউএসি এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রহমান ভুঁইয়া ও কম্পট্রোলার জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম। বিএইটিই-এর প্রতিনিধি দলে ছিলেন ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শাকিল মোহাম্মদ রিফাত, বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (বিএইউএসটি) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. মাহমুদুল হাসান এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন (পিইঞ্জি)।
৪ মাস ২৩ দিন আগে
