অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে বাংলাদেশের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হারিয়েছে মান। যোগ্যতা ছাড়া কাউকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানো যাবে না।
শনিবার (১৬ মে) সকালে চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিক্যাল কলেজ (চমাশিহামেক) হাসপাতালে নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, মেডিক্যাল শিক্ষার মান রক্ষায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, পর্যাপ্ত ফ্যাকাল্টি ও অবকাঠামো নিশ্চিত না করে আসন সংখ্যা না বাড়ানোর আহ্বান জানাই। শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, মাল্টিমিডিয়া সুবিধা, ডিজিটাল লাইব্রেরি, খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব পুরোপুরি মাল্টিমিডিয়াভিত্তিক হয়ে গেছে। তাই মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকতে হবে। দেশে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের ঘাটতি রয়েছে। কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি দক্ষ জনবলের অভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তাই মেডিক্যাল টেকনোলজি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিতে হবে।
দেশের স্বাস্থ্যখাতে এবার বাজেটে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে স্বাস্থ্য খাতের বিপুল অর্থ দুর্নীতির মাধ্যমে অপচয় হয়েছে। সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা ব্যয় সরকার বহন করবে এবং এ জন্য বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া মৌলিক অধিকার। কিন্তু দীর্ঘদিন মানুষ এ অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। বর্তমান সরকার ‘ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার’, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে। সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার কারণে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা করা হবে। রোগীরা সেখানে চিকিৎসা নিলে বিল সরকার পরিশোধ করবে।
নতুন ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা বাংলাদেশের বড় সমস্যা। তাই দ্রুত কাজ শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণের গুণগত মানও নিশ্চিত করতে হবে। ভবনের নকশায় পার্কিং সুবিধার ঘাটতির বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রস্তাবিত ৭২টি গাড়ি পার্কিংকে অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে তিনি কমপক্ষে ২০০ থেকে ২৫০টি পার্কিং সুবিধা রাখার পরামর্শ দেন। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত বেজমেন্ট নির্মাণ করার কথাও বলেন তিনি।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাস খাতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বকেয়াও পরিশোধ করতে হচ্ছে। আমরা একটি ঋণাত্মক অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছি। অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে।
হাসপাতালের জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি মো. জাহিদুল হাসানের সঞ্চালনায় প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবকাঠামো স্বাস্থ্য সেবাসহ নানাবিধ চিত্র তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন হাসপাতালের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুল মান্নান রানা, জেনারেল সেক্রেটারি রেজাউল করিম আজাদ ও মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. অসীম কুমার বড়ুয়া
হাসপাতালের ট্রেজারর অধ্যক্ষ ডক্টর লায়ন মোহাম্মদ সানাউল্লাহ,অর্গানাইজিং সেক্রেটারি মোহাম্মদ সাগির, সদস্য ইঞ্জিনিয়ার জাবেদ আবছার চৌধুরী, ডা. সরওয়ার আলম, তারিকুল ইসলাম তানভির, সাইফুল ইসলাম, হারুন ইউচুপ,ডাক্তার বেলায়েত হোসেন ঢালী, পরিচালক ডা. নুরুল হক, পরিচালক মেডিকেল এফেয়ার্স ডাক্তার এ কে আসরাফুল করিম, উপরিচালক মো. মোশাররফ হোসাইন ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক এম এ আজিজ প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।