স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তন আসতে পারে— এমন আলোচনা চলছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে। আলোচনায় রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ে এবং পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
তবে এ বিষয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা বা প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত রাজনৈতিক মহলের আলোচনা ও সম্ভাব্য রদবদরের গুঞ্জন হিসেবেই রয়েছে। এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিএনপি থেকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ায় ওই মন্ত্রণালয়টি খালি হয়েছে। এ কারণেই দুই মন্ত্রীর দফতর পুনর্বণ্টনের বিষয়টি সামনে এসেছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন আলোচনা থাকলেও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পরিবর্তনের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার একমাত্র উপায় হলো প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন। তাই ‘সালাহউদ্দিন এলজিআরডি, এ্যানি স্বরাষ্ট্র’—এই সমীকরণটি আপাতত সম্ভাব্য রদবদরের আলোচনায় থাকলেও এটিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
সরকার শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ দুই দফতর—স্বরাষ্ট্র ও এলজিআরডিতে পরিবর্তনের এই আলোচনা সরকারের পরবর্তী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কৌশল নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।
দুই নেতার নাম মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাসের আলোচনায় আসার পেছনে শুধু প্রশাসনিক কারণ নয়, বিএনপির অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক সমীকরণও বিবেচনায় রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আছে। দলের জাতীয় কাউন্সিল ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনায় এর আগে সালাহউদ্দিন আহমদ ও শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি—দু’জনের নামই গুরুত্বপূর্ণ পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এসেছে।
তবে মন্ত্রিসভার দায়িত্ব পরিবর্তনকে দলের সাংগঠনিক পদ-পদবির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার মতো কোনো সরকারি বা দলীয় সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। সালাহউদ্দিন আহমদকে এলজিআরডি এবং এ্যানিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হলে সরকারের পক্ষ থেকে কয়েকটি রাজনৈতিক বার্তা যেতে পারে।
প্রথমত, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে রাজনৈতিকভাবে আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ হিসেবে এটি দেখা হতে পারে। দ্বিতীয়ত, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন নেতৃত্ব এনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নতুন গতি আনার চেষ্টা হিসেবে বিষয়টি ব্যাখ্যা হতে পারে।তবে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ব্যক্তির রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, প্রশাসনিক দক্ষতা, মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজন এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক কৌশল—সবকিছুই বিবেচনায় আসে।
এর মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর সালাহউদ্দিন আহমদকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুখ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক সহিংসতা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে নিয়মিতভাবে তাকে সামনে আসতে হয়েছে।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্যেও আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তার সক্রিয় অবস্থান দেখা গেছে। জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিয়েও তিনি সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তাকে এলজিআরডিতে দেওয়া হলে সরকারের তৃণমূলভিত্তিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর একটি নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমন আলোচনা রয়েছে।
অন্যদিকে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বর্তমানে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। সংসদে সরকারি বিভিন্ন আইন ও নীতিগত বিষয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি রাজনৈতিক বক্তব্যেও তাকে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি তিনি ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাকে আনা হলে সেটি হবে তার জন্য বড় ধরনের দায়িত্ব পরিবর্তন। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা, পুলিশ প্রশাসন ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয় সামলাতে রাজনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থান ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আমি যেখানে আছি ভালো আছি। এখানে বেশ কয়েকটি বড় কাজ রয়েছে। এগুলো দেশের উন্নয়নে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রণালয় বণ্টনে কোনো পরিবর্তন আনবেন কি না সেটি আমার জানা নেই।