চট্টগ্রাম শহরে অবৈধ ভবন নির্মাণ থামছেই না। আর এসব ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিচ্ছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যাদের বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূত ভবন নির্মাণ অনুমোদনের বিনিময়ে কোটি কোটি টাকা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।
এর মধ্যে নগরীর আগ্রাবাদ বাদামতলী এলাকায় নিয়মবহির্ভূত ভবন নির্মাণ অনুমোদনে সিডিএর চার কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য মিলেছে। কর্মকর্তারা হলেন-সিডিএর সাবেক অথরাইজড অফিসার। এন কাজে সহযোগী ছিলেন ইমারত পরিদর্শক, আবু জাফর ইকবাল, আব্দুর রশিদ ও বিমান বড়ুয়া।
সূত্র জানায়, নগরীর আগ্রাবাদ বাদামতলী এলাকায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের মালিকানাধীন জমিকে ব্যক্তিমালিকানাধীন দেখিয়ে ২০ তলা বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ উঠে সিডিএর সাবেক অথরাইজড অফিসারের বিরুদ্ধে। দাল্লা মেডিকেলের পেছনে অবস্থিত “মুনতাসির বিল্ডিং লিমিটেড” এর নামে ভবনটির অনুমোদন দেওয়া হয় ২০২৩ সালে। অনুমোদনের স্মারক নম্বর—২৫.৪৭.১৫০০.০৭৩.৪৩.১৯১.২৩।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ভবনটির জন্য প্রয়োজনীয় বৈধ প্রবেশপথ (অ্যাকসেস রোড) না থাকা সত্ত্বেও অলৌকিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। এছাড়া গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো অনাপত্তি বা অনুমতি ছাড়াই নকশা অনুমোদন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর ছোট পুল এলাকায় একটি নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদনকে ঘিরে কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পারফে অ্যাসোসিয়েট লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ফাইল নং ১৩৪/২৪ অনুযায়ী নুরুল্লাহ গং-এর মালিকানাধীন ওই প্লটের জন্য সিডিএ ১০ তলা ভবনের অনুমোদন দেয়। তবে প্রকল্প মালিকের প্রয়োজন ছিল ১৩ তলার অনুমোদন। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঘুষ বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ে প্রতিষ্ঠান ও সিডিএ-র কিছু কর্মকর্তা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পারফে অ্যাসোসিয়েট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী ইউসুফ শাহ সাজু (৪৫) নিজেকে সিডিএ’র প্রকৌশলী পরিচয় দিয়ে প্রথম দফায় প্রায় ৭১ লাখ টাকা নেন। পরে ওই অর্থের ভাগ পান তৎকালীন সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) মো. হোসেন, প্রকৌশলী নোবেল মিত্র, কর্মচারী নইম উদ্দিনসহ আরো কয়েকজন কর্মকর্তা। ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথনের কল রেকর্ড সংরক্ষিত আছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ইউসুফ শাহ সাজু বলেন, “এই ঘটনায় প্রকৌশলী নোবেল মিত্র, কর্মচারী নইম উদ্দিন ও প্রধান প্রকৌশলীর পিএ হোসেন জড়িত। নইম উদ্দিন ও হোসেন বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ১৩ তলা অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে।
কর্মচারী নইম উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি ২০২৪ সালের। কে কত টাকা নিয়েছে তা আমি জানি না। তবে ইউসুফ শাহ সাজু ও পিএ হোসেন বিষয়টি পরিচালনা করেছে।
অন্যদিকে পিএ হোসেন দায় এড়িয়ে বলেন, টাকা নেওয়ার ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। শুধু ইমারত নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে সুপারিশ করেছিলাম যাতে ১৩ তলার অনুমোদন দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, নকশা পরিবর্তন, সরু রাস্তা প্রশস্ত দেখানো, সরকারি জমিকে ব্যক্তিমালিকানাধীন হিসেবে উপস্থাপন, এমনকি ভুয়া খতিয়ান তৈরি করেও ভবনের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।
অথচ ভবন অনুমোদন থেকে নির্মাণকাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত আইনগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ইমারত পরিদর্শকদের একটি অংশই এসব অনিয়মের মূল সহায়ক হিসেবে অভিযুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেইনি সিডিএ কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিডিএ-র সদ্য নিযুক্ত চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, বিষয়গুলোর খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।