চট্টগ্রামের রাউজানে একের পর এক মিলছে মানুষের মরদেহ। এবার ধানক্ষেতে মিলল স্বপন বড়ুয়া (৫২) নামে এক নৈশপ্রহরীর রক্তাক্ত লাশ। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুর ১২টায় কদলপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের পশ্চিম বড়ুয়াপাড়া এলাকায় একটি ধানক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত স্বপন বড়ুয়া উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নেরই বাসিন্দা। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় গৌরচন্দ্র যতীন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী ছিলেন।
খবর পেয়ে পুলিশ যে জায়গা থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে সেখান থেকে তার বাড়ি প্রায় ৩০০ মিটার দূরে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিষের বোতলও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ স¤পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা রাউজান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুহাম্মদ খোরশেদ বলেন, শরীরে জখমের চিহ্ন পাওয়ার বিষয়টি সত্য। তবে শরীরের রক্তাক্ত জখম অন্য কারও আঘাত থেকে কিনা তা ¯পষ্ট নয়। ঘটনাস্থলের পাশে একটি বিষের বোতল পাওয়া গেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, বিষপানের পর ধানক্ষেতে ছটফট করতে গিয়েও তিনি রক্তাক্ত হতে পারেন। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে একটি টিউবওয়েল রয়েছে। সেখানে লেগেও হয়তো আঘাত পেয়েছেন তিনি। ঘর থেকে ডেকে নেওয়ার বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে স্বপন বড়ুয়ার মুঠোফোনে একটি কল আসে। এরপর তিনি পরিবারের সদস্যদের জানান, বাড়ির পাশের একটি দোকানে একজন তাকে ডাকছেন। এ কথা বলে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে যান। কিন্তু রাতে আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা ধানক্ষেতে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, স্বপন বড়ুয়ার কপাল, নাক, হাত ও পিঠে রক্তাক্ত জখম রয়েছে।
গৌরচন্দ্র যতীন্দ্র উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য শাসন রক্ষিত বলেন, স্বপন বড়ুয়া আমাদের বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী ছিলেন। তাকে সন্ধ্যায় ঘর থেকে ডেকে নেওয়া হয়েছে। এরপর তার লাশ পাওয়া গেছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানাই।
এর আগে গত সোমবার দিনগত রাত ৩টায় রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের উরকিরচর জনকল্যাণ ছাত্র সংঘের পশ্চিম পাশের একটি বাড়ির উঠান থেকে ফটিকছড়ি উপজেলার যুবক রাশেদ (৪০) এর রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে পিঠিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
এর আগে গত শনিবার দুপুরে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলি ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী (৪৫) মাসুদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন। তার বাড়ি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নে।