চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একটি আবাসিক ভবনের চার তলার বেলকনি থেকে পড়ে মোহাম্মদ আবির (৪) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত ৯টার দিকে উপজেলার বারশত ইউনিয়নের পশ্চিমচাল এলাকায় হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটে।নিহত আবির রায়পুর ইউনিয়নের গহিরা বার আউলিয়া ইসমাইল মিয়াজী বাড়ির মোহাম্মদ দেলোয়ার ও মোছাম্মৎ নিলা আক্তার দম্পতির একমাত্র সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটি পশ্চিমচাল এলাকার গুলবাহার আবাসিক ভবনের চতুর্থ তলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছে।স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে শিশুটির মা ঘরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় সবার অজান্তে চঞ্চল স্বভাবের আবির বেলকনিতে চলে যায়। রেলিংবিহীন বেলকনিতে খেলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়। বিকট শব্দ শুনে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাবউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ভবন থেকে পড়ে যাওয়া শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
২ মাস ৫ দিন আগে
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সরকারি খাসজমি দখল নিয়ে দু‘পক্ষের গোলাগুলিতে জিল্লুর রহমান (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুজন। তারা বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে এ তথ্য জানান চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আল আমিন। তিনি জানান, শুক্রবার ভোর রাত চারটার দিকে বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নের পশ্চিম সরল গ্রাম থেকে শটগানের রাবার বুলেটবিদ্ধ অবস্থায় জিল্লুর রহমানকে হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।।নিহত জিল্লুর রহমান (৩২) উপজেলার পশ্চিম সরল গ্রামের বাসিন্দা। পরে একই গ্রামের কাউসার ও বেলাল নামে গুরুতর আহত দু‘জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। তারাও গুলিবিদ্ধ।বাঁশখালী থানার ওসি মোহাম্মদ রবিউল হক বলেন, সরকারি খাসজমিতে একপক্ষ লবণের মাঠ করেছে। আরেক পক্ষ মাছের চাষ করছে। সেই খাসজমি দখলে নেওয়ার জন্য দু‘পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। সুনির্দিষ্টভাবে কারা ঘটনায় জড়িত সেটা আমরা তদন্ত করে দেখছি। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, বঙ্গোপসাগরের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন সরকারি খাস জমিতে গড়ে তোলা লবণের মাঠ ও মাছের ঘের দখলকে কেন্দ্র করে রাত ২টার দিকে দু‘পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী পাল্টাপাল্টি গুলিবিনিময়ের পর পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়।
২ মাস ৫ দিন আগে
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল মোড় এলাকায় বেপরোয়া গতির একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দোকানের সামনে ছয় গাড়িকে ধাক্কা দিলে সেগুলো দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ ঘটনায় দুই নারী নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিনগত রাত ৮টার দিকে আনোয়ারা উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজারসংলগ্ন টানেল মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুই নারী হলেন- উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের ঝিওরি এলাকার বাসিন্দা পলি দত্ত (৪০) ও ইফা শীল (৪০)। আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।দুর্ঘটনায় আহত সিএনজি চালক সিদ্দিক জানান, পশ্চিম দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস প্রথমে একটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এরপর পূর্ব দিকে গিয়ে আরও পাঁচটি সিএনজিকে সজোরে আঘাত করে। এতে তার সিএনজিটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি লাফিয়ে পড়ে প্রাণে রক্ষা পান।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে টানেল মোড় এলাকায় যাত্রীর অপেক্ষায় কয়েকটি সিএনজি ও অটোরিকশা দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় একটি বেপরোয়া গতির বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা সড়কের পাশের দোকানে উঠে যায়। বাসটির ধাক্কায় সেখানে থাকা অন্তত ছয়টি অটোরিকশা ও রিকশা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন যাত্রী ও পথচারী চাপা পড়ে আহত হন।খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান বলে জানান আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত তাদের কাছে ১০ জন আহত হওয়ার তথ্য রয়েছে। হাসপাতালে নেওয়ার পর দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে।আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অনিন্দিতা জানান, দুর্ঘটনায় দুই নারী নিহত হয়েছেন। আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।আনোয়ারা থানার ওসি জুনায়েত চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ক্ষতিগ্রস্ত অটোরিকশাগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর বাসের চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছেন। তাদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
২ মাস ৬ দিন আগে

মাদকাসক্ত ছেলের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে মরতে হলো মা ও বাবাকে। ঘটনার পর অভিযুক্ত একমাত্র ছেলেকে নিজ ঘর থেকে আটক করেছে পুলিশ।শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গুজরা এলাকার চৈতন্য মহাজন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন— স্থানীয় মৃত রেবতি দাশ গুপ্তের ছেলে স্বপন দাশ গুপ্ত (৬৫) এবং তার স্ত্রী কল্পনা দাশ (৫৫)। হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম রোমিও দাশ গুপ্ত (৪২)। তিনি নিহত দম্পতির একমাত্র ছেলে।প্রত্যক্ষদর্শী নিহত কল্পনা দাশের ছোট জা তিথি দাশ বলেন, ‘রিমন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিল। কয়েকবার তাকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রেও রাখা হয়েছিল। সকালে তারা মা, বাবা ও ছেলে বাইরে গিয়েছিল। সাড়ে ১১টার দিকে তারা বাড়িতে ফিরে আসে। এর কিছুক্ষণ পরই রিমন ছুরি জাতীয় একটি ধারালো বস্তু দিয়ে তার মাকে আঘাত করতে শুরু করে।‘মাকে বাঁচাতে স্বপন দাশ এগিয়ে গেলে রিমন তাকেও আঘাত করে। এ সময় আমরা দ্রুত আশপাশের লোকজনকে ডাকতে ছুটে যাই। পরে ফিরে এসে দেখি, কল্পনা দাশ ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। আর গুরুতর আহত অবস্থায় স্বপন দাশকে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।’আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘গুরুতর আহত অবস্থায় স্বপন দাশ গুপ্তকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতির সময় তার মৃত্যু হয়।’আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত রিমন দাশ গুপ্তকে আটক করেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং হাসপাতালে আরেকটি মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
২ মাস ১১ দিন আগে
ইরানে টানা বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে ইরাকের সীমান্তবর্তী শালামচেহ ক্রসিংয়ের কাছে অন্তত দু‘জন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। হামলার বদলা হিসেবে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিরা লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেল ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় শহর বুশেহরে মার্কিন হামলার পর বিস্ফোরণ ঘটেছে। দেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এ এলাকায় থাকায় এটি বেশ স্পর্শকাতর। প্রদেশটির গভর্নর জানিয়েছেন, শহরে থাকা সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।এছাড়া ইরানের বিভিন্ন প্রদেশে, বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুসারে, হরমুজগান প্রদেশে সিরিক এবং জাস্কেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এই শহরগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হরমুজের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্বের জন্য এখান থেকেই ইরান জলপথটিতে নজর রাখে।হরমোজগানের উপকূলে মার্কিন হামলায় নৌবাহিনীর দুটি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী জাহাজ আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বড় হামলাটি হয়েছে, ইরাক সীমান্তবর্তী এলাকা শালামচেহর একটি যাত্রীবাহী স্টেশনের কাছে। বিস্ফোরণের কারণে ফলে অন্তত দুইজন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। নতুন করে চালানো মার্কিন হামলায় গত কয়েক সপ্তাহে অন্তত ১০ জন ইরানি নিহত হয়েছেন।যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলীয় সময় বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন দফার হামলা শুরু হয়েছে। কয়েক ঘণ্টা পরের বিবৃতিতে সেন্টকম নতুন দফার হামলা শেষ করার কথা জানায়। এতে বলা হয়, বেসামরিক নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আরও কমানোর জন্য আরেক দফা হামলা সম্পন্ন করা হয়েছে।সেন্টকমের দাবি, সর্বশেষ দফায় তাদের বাহিনী সামুদ্রিক সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত কেন্দ্র, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জামসহ ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।এদিকে লোহিত সাগরে তেলবাহী জাহাজে হামলার বিষয়টি সৌদি আরব নিশ্চিত করেছে। সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, লোহিত সাগরে চলাচলের সময় সৌদি মালিকানাধীন জাহাজ ‘এনসিলিয়া’ হামলার শিকার হয়েছে। জেনারেল ট্রান্সপোর্ট অথরিটির এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এই হামলায় জাহাজটির সামনের অংশে আগুন লেগে যায়।সূত্রটি জানিয়েছে, জাহাজের সকল নাবিক নিরাপদ আছেন এবং কর্তৃপক্ষ জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এর আগে লোহিত সাগরে এনসেলিয়াসহ দুটি জাহাজে হামলার দায় স্বীকার করেছে। অন্য জাহাজটির নাম ‘লায়লা।’আজ ভোরে আইআরজিসি দাবি করেছে, ওমানের উপকূল দিয়ে দক্ষিণে যাওয়ার চেষ্টার পর হরমুজ প্রণালিতে একটি ট্যাংকারে বিস্ফোরণের পর আগুন লেগে গেছে। ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, বিস্ফোরণের পর আরও দুটি জাহাজ দ্রুত ফিরে গেছে।আইআরজিসির ভাষ্য, জাহাজ তিনটি মার্কিন নির্দেশে কাজ করছিল এবং হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে মাইন পেতে রাখা পথ দিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সংস্থাটির নৌবাহিনী জোর দিয়ে বলছে, হরমুজ প্রণালি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যতদিন এই অঞ্চলে আমেরিকার ‘অপকর্ম’ অব্যাহত থাকবে, ততদিন এটি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এতে কোনো তেলবাহী ট্যাঙ্কার প্রবেশ বা প্রস্থান করতে পারবে না।ইরান-মার্কিন সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বেড়েছে। দিনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্স ১.৯৩ ডলার বা ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা ৮ জুনের পর সর্বোচ্চ। মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১.৪৪ ডলার বা ১.৭ শতাংশ বেড়ে ৮৮.২৭ ডলারে লেনদেন শুরু হয়েছে।
২ মাস ১৩ দিন আগে
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংঘটিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া অনেক আগে শেষ হলেও এর নেপথ্যের পরিকল্পনা, সহায়তাকারী ব্যক্তি কিংবা সম্ভাব্য বৃহত্তর ষড়যন্ত্র নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে আজও।সম্প্রতি মামলার পলাতক আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে গ্রেফতারের পর তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। সূত্রগুলোর দাবি, তার জিজ্ঞাসাবাদে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসছে, যা শুধু তার ব্যক্তিগত ভূমিকা নয়, বরং হত্যাকাণ্ডের আগে-পরে সংঘটিত নানা ঘটনার নতুন ব্যাখ্যা এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে পেতে সহায়ক হতে পারে।সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. সারোয়ার হোসেনের মতে, একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি কীভাবে এত দীর্ঘ সময় পরিচয় গোপন রেখে বিদেশে অবস্থান করতে সক্ষম হন এবং পরবর্তী সময়ে কীভাবে বাংলাদেশে ফিরে প্রায় তিন দশক আত্মগোপনে থাকতে পেরেছিলেন। এই পুরো সময়ে তার যোগাযোগ, আশ্রয়, অর্থায়ন এবং সহযোগীদের পরিচয় উদঘাটন করাই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের ভাষ্য, বর্তমানে সেনা হেফাজতে থাকা মোজাফফরের কাছ থেকে তার দীর্ঘ পলাতক জীবন, বিদেশে অবস্থান, সহযোগী নেটওয়ার্ক এবং ঘটনার সময়কার সামরিক যোগাযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এসব তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের পেছনের ঘটনাপ্রবাহ আরও স্পষ্ট হতে পারে।জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, জিয়া হত্যাকাণ্ডের পর মোজাফফর সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। সেখানে দীর্ঘ সময় ভিন্ন পরিচয়ে অবস্থান করার পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে ভারতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশেও ভ্রমণ করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর দাবি করেছেন, ১৯৯৮ সালে তিনি গোপনে বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে ছদ্মপরিচয়ে বসবাস করেন। পরে রাজধানীর একটি আবাসিক এলাকায় পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলেও নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন রাখেন। তদন্তকারীরা এখন অনুসন্ধান করছেন, এত বছর তিনি কীভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলেছেন এবং এই সময়ে তাকে কারা সহযোগিতা করেছে। মোজাফফরের বিরুদ্ধে নতুন করে সামারি অব এভিডেন্স, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং পরবর্তী কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তার ভাষায়, বিচার চলাকালে অনেক অমীমাংসিত বিষয় সামনে আসতে পারে। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, পলাতক থাকার পেছনের সহযোগিতা, তৎকালীন সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন বিতর্কিত প্রশ্ন আদালতের আলোচনায় উঠে আসার সুযোগ রয়েছে।জানা গেছে, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে সুচতুর মোজাফফর কৌশলে ভারতে পালিয়ে যান। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ দীর্ঘদিন ধরে তাকে প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা ও নিরাপদ আশ্রয় দিয়ে আসছিল। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতায় আত্মগোপনে ছিলেন। সে সময় ‘বিপ্লব সরকার’ এবং ‘জয় ব্যানার্জি’ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। ১৯৯৬ সালে তিনি অত্যন্ত গোপনে দেশে ফিরে আসেন এবং বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমল থেকে নির্বিঘ্নে জীবন কাটিয়ে যাচ্ছিলেন। কললিস্টের সূত্র ধরেই দীর্ঘ ৪৫ বছর পর গত বুধবার রাতে ঢাকার বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে পরদিন বৃহস্পতিবার। ওই দিন সন্ধ্যায় তাকে সেনা হেফাজতে দেওয়া হয়।এরপর গত শুক্রবার মোজাফফরকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে চট্টগ্রাম ক্যান্টমেন্টের সামরিক আদালতের হেফাজতে নেওয়া হয়। যেহেতু চট্টগ্রাম ক্যান্টমেন্টের কয়েকজন বিপথগামী অফিসারের নেতৃত্বে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল এবং সেখানেই ওই ঘটনার বিচার হয়েছিল তৎকালীন সময়ে, তাই নিয়মানুযায়ী তাকে সেখানে পাঠানো হয়।রোববার (১৯ জুলাই) রাতে মিলিটারি পুলিশ (এমপি) এবং আর্মি সিকিউরিটি ইউনিটের (এএসইউ) তত্ত্বাবধানে সামরিক বাহিনীর বিমানে তাকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে আনা হয়েছে। সেখানে তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাপারে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে গ্রিন সিগন্যাল পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। তবে এক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এককভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, নাকি সামরিক বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি, ডিজিএফআই, এনএসআই, ডিবি পুলিশ কিংবা এসবি এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক ব্যক্তিত্বদের সমন্বয়ে কোন টাস্কফোর্সের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।সংশ্লিষ্ট অনেকে জানিয়েছেন, পলাতক মেজর মোজাফফরকে গ্রেফতারের মাধ্যমে ইতিহাসের দায়মোচনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিদেশি নেপথ্য কুশলী যারা রয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের অপ্রকাশিত মাস্টারমাইন্ড কারা? টাস্কফোর্স কিংবা কমিশন গঠনের মাধ্যমে মুজাফফরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তা বেরিয়ে আসবে। ফলে দেশের মানুষ জানতে পারবে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়ককে কীভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জিয়া হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসের এমন একটি অধ্যায়, যার অনেক প্রশ্নের এখনও সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি। ফলে মোজাফফরের গ্রেফতার এবং জিজ্ঞাসাবাদ তদন্তের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া প্রতিটি তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই, প্রমাণ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা। কারণ একটি ঐতিহাসিক ও সংবেদনশীল হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য উদঘাটন কেবল রাজনৈতিক নয়, রাষ্ট্রীয় ইতিহাসের স্বার্থেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, জিয়া হত্যাকাণ্ড ঘিরে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহলের সম্পৃক্ততা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা দাবি ও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সম্ভাব্য ভূমিকা, তৎকালীন সামরিক নেতৃত্বের ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিভিন্ন লেখক, গবেষক ও বিশ্লেষক ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মোজাফফরের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করা হয় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। পরে ওই ঘটনায় সামরিক আদালতে বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করা হয়। মোজাফফর হোসেন ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম।অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই সেনা কর্মকর্তা স্বাধীনতার পর জাতীয় রক্ষীবাহিনীতে (জেআরবি) কমিশন পান। পরে বিতর্কিত রক্ষীবাহিনী বিলুপ্ত হয়ে সেনাবাহিনীতে একীভূত হলে তিনি সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হন। ১৯৮১ সালে তিনি ২৪ পদাতিক ডিভিশনে কর্মরত ছিলেন।
২ মাস ১৬ দিন আগে
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুন্ড উপজেলার কুমিরা ইলিয়াস ফিলিং স্টেশনের সামনে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়ে আরো ৬ জন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রবিবার (১৯ জুলাই) বিকেলের দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক। তিনি জানান, রবিবার সকালে সীতাকুন্ড উপজেলার ছোট কুমিরা এলাকায় জোনাকী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে উল্টে গিয়ে গুরুতর আহত ৭ জন যাত্রীকে চমেক হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। নিহত ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়নি। তার বয়স আনুমানিক ৩০ বছর।অপরদিকে একইদিন সকাল ৯ টার দিকে সীতাকুন্ডের ইলিয়াস ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন রয়েল গেট এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় অজ্ঞাত একটি বাস চাপায় মো. ইমন (২০) নামের এক তরুণ নিহত হন। তিনি ফিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার পশ্চিম পাতাকাটা গ্রামের মো. সালামের ছেলে। বার আউলিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশের এসআই মো. শামীম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। নিহত মো. ইমনসহ দু‘জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ইমন সীতাকুন্ডে পুরাতন একটি জাহাজ ভাঙা কারখানায় কাজ করতো। আরেকজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। আর আহতরা হলেন- মো. মান্নান (৩০), তার স্ত্রী সোনিয়া আক্তার (২৫), অর্পিতা সাহা (২০) ও আরিফ মো. ইউসুফ (৫১), রওশন আক্তার (৩৮) ও তার ভাই মো. মহিউদ্দিন (৩৩)। এসব ঘটনায় আইণগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান এসআই মো. শামীম।
২ মাস ১৭ দিন আগে
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় অবস্থিত কনফিডেন্স লবণ কারখানায় বিকল যন্ত্র মেরামত করার সময় এসির বিস্ফোরণে দগ্ধ ২ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দ্বগ্ধ আরও ৭ শ্রমিক গুরুতর জখম নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউ ও বার্ন ইউনিটে কাতরাচ্ছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) এ তথ্য নিশ্চিত করেন চমেক পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন মজুমদার। তিনি জানান, আইসিইউ ও বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শ্রমিক মারা গেছেন। তারা হলেন, পটিয়ার হুলাইন এলাকার ইয়াসিন আউলিয়ার মাজার বাড়ির মোহাম্মদ আলম ও বোয়ালখালীর বদন আলীর বাড়ির দিদারুল আলম। তিনি আরও জানান, বৃহ¯পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বেয়ালখালী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম গোমদন্ডীতে অবস্থিত কনফিডেন্স লবণ কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ ৫ জনকে আইসিইউতে এবং চার জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনির্টে ভর্তি করা হয়। এছাড়া দগ্ধ দু‘জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন।দগ্ধরা হলেন বোয়ালখালীর দিদারুল আলম (৩২), মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন (৩৮) ও নূর নবী (২৫), রাঙ্গুনিয়া উপজেলার উজ্জ্বল দাশ (৫৩), নগরীর সদরঘাটের মোহাম্মদ লিটন (২৮), লোহাগাড়ার সিরাজুল ইসলাম (৩৪), রাউজানের জাহিদুল আলম (৪২), পটিয়ার মোহাম্মদ আলম (৪৫), মাহামুদুল হক (৪৫) এবং চন্দনাইশের সেলিম উদ্দিন (৩০) ও আহসানুল হক (৪৫)। এদের মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দিদারুল আলম ও নুরুল আলম।চমেক হাসপাতালের আইসিইউ এবং বার্ন ইউনিটে চিকিৎসকরা জানান, দগ্ধদের মধ্যে দিদারুল আলমের শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। নুরুল আলমের শরীরের ৬৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। এছ্ড়াাও মাহমুদুল হকের ৬০, উজ্জ্বলের ৫০, নূর নবীর ৪৫, লিটনের ৪০, জাহিদুলের ৩৫, সেলিমের ২০ শতাংশ এবং জাহিদ ও সিরাজুলের ১০ শতাংশ করে পুড়েছে। অগ্নিকান্ডের ঘটনার বিষয়ে বোয়ালখালী থানার ওসি মোজাফফর হোসেন বলেন, কারখানায় তাদের বড় জেনারেটরটি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেটি ছাড়াও কয়েকটি মেশিন নষ্ট ছিল। সেগুলো মেরামত করতে ৫টি ওয়েল্ডিং মেশিন আনা হয়। ওয়েল্ডিং মেশিন প্রচুর বিদ্যুৎ টানে। এ কারণে ভোল্টেজ আপ-ডাউনের একপর্যায়ে সেখানে আগুন লেগে যায়। এ সময় সেখানে থাকা দুটি এসির বিস্ফোরণ ঘটে। আর এসি মানে তো গ্যাস বোমা। ফলে সেখানে যারা ছিল, তারা মারাত্নকভাবে দগ্ধ হয়েছেন।ওসি মোজাফফর হোসেন আরও বলেন, কারখানার দগ্ধ শ্রমিকদের কয়েকজনের বাড়িতে আমরা গিয়েছিলাম। সেখানে পরিবারের সদস্যদের কাউকে পাইনি। তারা সবাই হাসপাতালে বলে জেনেছি। পরবর্তীতে কেউ মামলা করলে বা অভিযোগ দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বোয়ালখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন লিডার মোহাম্মদ আজাহার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই আগুন নিভিয়ে ফেলার এবং দ্বগ্ধদের চমেক হাসপাতালে পাঠানোর তথ্য দেওয়ায় আমরা ফিরে এসেছি। এরপর তেমন কিছুই আমরা জানি না। এ বিষয়ে জানতে কনফিডেন্স সল্ট ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেডের এজিএম বোরহান উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তার মোবাইলে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলে কোন সাড়া মেলেনি।
২ মাস ১৯ দিন আগে
বলিউড অভিনেতা আমির খানের তৃতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফুসছেন ভারতের কট্টরপন্থী হিন্দু ধর্মগুরুরা। এর মধ্যে ভারতের অযোধ্যার এক কট্টরপন্থী ধর্মগুরু আমির খানকে হত্যার জন্য ৫ কোটি রুপির পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। এর আগে গত কয়েকদিন আগে তাঁর বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’-এর অভিযোগ তুলে ভারত থেকে বিতাড়িত করার হুমকিও দেওয়া হয়। সম্প্রতি মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজের বাসভবনে দীর্ঘদিনের প্রেমিকা গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে আইনি বিয়ে সম্পন্ন করেন আমির। বারবার হিন্দু নারীকে বিয়ে বিষয়টি নিয়ে প্রথমে রাজনৈতিক অঙ্গনে জলঘোলা করেন মহারাষ্ট্রের বিজেপি নেতা ও মন্ত্রী নীতেশ রানে। তিনি আমির খানকে সরাসরি ‘লাভ জিহাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ বলে কটাক্ষ করেন। রাজনৈতিক নেতার আক্রমণাত্মক মন্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আমিরকে হত্যার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছেন অযোধ্যার তপস্বী জগৎগুরু পরমহংস আচার্য। বিজেপি নেতার বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমির খানকে হত্যা করতে পারবে তার পরিবারকে নগদ ৫ কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।’ শুধু তাই নয়, ওই ব্যক্তির আইনি লড়াইয়ের সমস্ত খরচও তিনি নিজে বহন করবেন বলে জানান। আমির খানের ওপর ক্ষোভের কারণ হিসেবে বলেন, তাঁর তিন স্ত্রীই হিন্দু পরিবারের সন্তান। এটি কোনো সাধারণ বিয়ে নয়। বরং এর পেছনে গভীর চক্রান্ত রয়েছে। হিন্দু মেয়েদের ফাঁদে ফেলে ‘লাভ জিহাদ’কে উৎসাহিত করতেই আমির বারবার এমনটা করছেন। সমাজ ও দেশের সংস্কৃতি বাঁচাতে এ ধরনের মানসিকতার মানুষদের কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি।এদিকে ওই সাক্ষাৎকার চলাকালীন অযোধ্যার রাম মন্দিরের আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, ধর্মগুরু পরমহংস কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সাফাই গান। তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ট্রাস্ট তৈরি হয়েছে। বর্তমানে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট) বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে। শুধু উগ্রবাদি হিন্দু নয়, আমির খানের পিছু নিয়েছে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরাও। তার বিয়েকে পাপ বলে ঘোষণা করেন মুসলিম পার্সোনাল দারুল ইফতার শাহী প্রধান মুফতি মৌলানা ইব্রাহিম হোসেন। এরইমধ্যে ফতোয়াও জারি করেছেন তিনি। এবার বিষয়টি মুখ খুললেন মিস্টার পারফেকশনিস্ট। নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে আমির বলেন, আমাদের পরিবার আন্তঃধর্মীয় সম্পর্কে বিশ্বাসী। আমার দুই বোন হিন্দু পাত্রকে বিয়ে করেছে। আমার মেয়ে ইরার স্বামী অর্থাৎ জামাইও হিন্দু। তুতো ভাইয়ের স্ত্রী খ্রিস্টান।বিয়ের পর স্ত্রীদের ধর্মান্তরিত করেননি উল্লেখ করে এ তারকা বলেন, সবচেয়ে বড় বিষয় রীনা, কিরণ বা গৌরী কেউই বিয়ের পর ধর্মান্তরিত হয়নি। কারণ প্রত্যেকটি বিয়ে স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টের নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে। তাই ধর্ম পরিবর্তনের প্রশ্নই নেই। আর গৌরী তো হিন্দু নন, খ্রিস্টান। সময় যত এগোচ্ছে জীবন যেন ততই বেশি হাস্যকর হয়ে উঠছে।গেল ৫ জুলাই চার হাত এক হয় আমির খান ও গৌরী স্প্র্যাটের। মুম্বাইয়ের সমুদ্রের ধারের বাড়িতে বসে সে বিয়ের আসর। সাজসজ্জার ছিটেফোঁটা ছিল না। সাদামাটা আয়োজনেই ফের নতুন অধ্যায় শুরু করেন গৌরীর সঙ্গে। বছর পঁচিশ আগে এক পরিচিতের মাধ্যমে গৌরীর সঙ্গে আলাপ আমিরের। বন্ধুত্ব হলেও জল বেশি দূর গড়ায়নি। কাজের ব্যস্ততা, চাপসহ নানা কারণে কেউ কারও কাছে গুরুত্ব পাননি। একসময় নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তারা।কে জানত দুজনে ভুলে গেলেও নিয়তি মনে রেখেছিল তাদের। দ্বিতীয়বার শুরুটা হয় দ্বিতীয় স্ত্রী কিরণ রাওয়ের সঙ্গে আমিরের বিচ্ছেদের পর। ফের পুরনো বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়তে থাকে। এবার আর বন্ধুত্বের মোড়কে নিজেদের মুড়িয়ে রাখেননি তারা। সম্পর্ক রূপ নেয় প্রণয়ে।গৌরীকে নতুনভাবে আবিষ্কারের খবর গোপন রাখেননি আমির। গুঞ্জন উঠতেই সামনে আনেন প্রেমিকাকে। সেজন্য বেছে নেন নিজের জন্মদিন। গেল বছরের বিশেষ দিনে গৌরীকে পরিচয় করিয়ে দেন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে।বেঙ্গালুরুর অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান পরিবারে জন্ম গৌরীর। তাঁর মা রিটা পঞ্জাবি হলেও আইরিশ বংশোদ্ভূত। অন্যদিকে, গৌরীর বাবা রবার্ট স্প্র্যাট তামিল-ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত। তার দাদা পেশায় একজন ব্রিটিশ লেখক ছিলেন। গৌরীর বামপন্থী দাদা ১৯২০ সালে ভারতে আসেন। উটিতে বড় হয়েছেন গৌরী। ফ্যাশন ডিজ়াইনিং নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। পরে আমিরের সংস্থার কাজেও সহযোগিতা করেছেন। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কখনও প্রকাশ্যে আলোচনা করতে দেখা যায়নি তাঁকে। নিজেকে প্রচারের আলো থেকে দূরে রাখতে ভালোবাসেন আমিরের জীবন আলোকিত করা এ নারী। আজ সাদাসিধেভাবেই আমিরের সঙ্গে কাগজ-কলমে বাঁধা পড়েন তিনি।
২ মাস ২১ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে দুর্বৃত্তদের গুলিতে মো. মাহফুজুল হক (৪৩) নামে এক বাংলাদেশি অভিবাসী নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে একটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোক ও তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় কিংসেসিং এলাকার সাউথ ইথান স্ট্রিটের ১০০০ ব্লকে মাথার পেছনে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাহফুজুল হককে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।নিহত মাহফুজুল হক ফিলাডেলফিয়ার নর্থইস্ট এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি আল-শাম উইলো গ্রোভ নামের একটি খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তার পরিবারে স্ত্রী ও ১৪ বছর বয়সী এক সন্তান রয়েছে। তার মৃত্যুর খবরে পরিবার ও প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।স্থানীয় পুলিশ জানায়, ডোরড্যাশের মাধ্যমে খাবার সরবরাহের দায়িত্ব পালনকালে মাহফুজুল হক গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাস্থল থেকে তার চালু অবস্থায় থাকা গাড়ি, ডোরড্যাশের ডেলিভারি ব্যাগ এবং রাইফেলের ব্যবহৃত দুটি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।পুলিশের জানায়, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। এ ঘটনায় মুখোশধারী তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলাডেলফিয়া পুলিশ।
২ মাস ২৭ দিন আগে
চট্টগ্রামের রাউজানে একের পর এক মিলছে মানুষের মরদেহ। এবার ধানক্ষেতে মিলল স্বপন বড়ুয়া (৫২) নামে এক নৈশপ্রহরীর রক্তাক্ত লাশ। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। বুধবার (১৭ জুন) দুপুর ১২টায় কদলপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের পশ্চিম বড়ুয়াপাড়া এলাকায় একটি ধানক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত স্বপন বড়ুয়া উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নেরই বাসিন্দা। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় গৌরচন্দ্র যতীন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ যে জায়গা থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে সেখান থেকে তার বাড়ি প্রায় ৩০০ মিটার দূরে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিষের বোতলও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ স¤পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা রাউজান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুহাম্মদ খোরশেদ বলেন, শরীরে জখমের চিহ্ন পাওয়ার বিষয়টি সত্য। তবে শরীরের রক্তাক্ত জখম অন্য কারও আঘাত থেকে কিনা তা ¯পষ্ট নয়। ঘটনাস্থলের পাশে একটি বিষের বোতল পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বিষপানের পর ধানক্ষেতে ছটফট করতে গিয়েও তিনি রক্তাক্ত হতে পারেন। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে একটি টিউবওয়েল রয়েছে। সেখানে লেগেও হয়তো আঘাত পেয়েছেন তিনি। ঘর থেকে ডেকে নেওয়ার বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে স্বপন বড়ুয়ার মুঠোফোনে একটি কল আসে। এরপর তিনি পরিবারের সদস্যদের জানান, বাড়ির পাশের একটি দোকানে একজন তাকে ডাকছেন। এ কথা বলে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে যান। কিন্তু রাতে আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা ধানক্ষেতে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, স্বপন বড়ুয়ার কপাল, নাক, হাত ও পিঠে রক্তাক্ত জখম রয়েছে।গৌরচন্দ্র যতীন্দ্র উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য শাসন রক্ষিত বলেন, স্বপন বড়ুয়া আমাদের বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী ছিলেন। তাকে সন্ধ্যায় ঘর থেকে ডেকে নেওয়া হয়েছে। এরপর তার লাশ পাওয়া গেছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানাই।এর আগে গত সোমবার দিনগত রাত ৩টায় রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের উরকিরচর জনকল্যাণ ছাত্র সংঘের পশ্চিম পাশের একটি বাড়ির উঠান থেকে ফটিকছড়ি উপজেলার যুবক রাশেদ (৪০) এর রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে পিঠিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। এর আগে গত শনিবার দুপুরে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলি ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী (৪৫) মাসুদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন। তার বাড়ি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নে।
৩ মাস ১৯ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরের বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি মনির হোসেনকে (৩০) যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল (মহানগর) চট্টগ্রামের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এ রায় ঘোষণা করেন। মামলাটি দায়েরের মাত্র ২৬ দিনের মাথায় এবং বিচার শুরু হওয়ার আট কার্যদিবসের মধ্যে এ রায় দেওয়া হলো।শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি মাহমুদুল আলম চৌধুরী রায় শেষে বলেন, বিচার শুরু হওয়ার মাত্র আট কার্যদিবসের মধ্যে আদালত রায় দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে বাকলিয়া এলাকার চেয়ারম্যানঘাটা থেকে ধর্ষণের অভিযোগে মনির হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের সময় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তকে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরে রাতের অন্ধকারে কৌশলে অভিযুক্তকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে থানায় নেওয়া হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।পরদিন ২২ মে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মনির হোসেনকে একমাত্র আসামি করে বাকলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। একইদিন বিকেলে আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।তদন্ত শেষে পুলিশ চিকিৎসা প্রতিবেদন, ডিএনএ পরীক্ষার ফল, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্টদের জবানবন্দির ভিত্তিতে মনির হোসেনের বিরুদ্ধে মাত্র ৫ কর্মদিবসে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ৯ জুন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত বুধবার রায় ঘোষণা করেন। বেলা ২টা ২০ মিনিটে রায় পাঠ শুরু হয়ে বিকেল ৩টায় শেষ হয় বলে আদালত সূত্র জানায়। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, শিশুধর্ষণ মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্যতম অপরাধগুলোর একটি। এ ধরনের অপরাধ শুধু শিশুর শারীরিক ক্ষতিই করে না, বরং তার মানসিক বিকাশ, আত্নবিশ্বাস ও স্বাভাবিক জীবনযাপনকে মারাত্নকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। একটি শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন সমাজের নৈতিক ভিত্তির ওপরও আঘাত হানে বলে মন্তব্য করেন আদালত।রায় ঘোষণার পর শিশুটির মা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন। তবে আসামির মৃত্যুদন্ড হলে আরও বেশি খুশি হতেন। রায়ের পর তিনি বাকলিয়া এলাকার প্রতিবাদী মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, বুধবার একই দিনে চট্টগ্রামের আলোচিত আরেক শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলারও রায় হয়েছে। পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণ, ধর্সণ ও হত্যার ঘটনায় আসামি মো. আবিরকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত।
৩ মাস ১৯ দিন আগে
চট্টগ্রামের সন্ত্রাস প্রবণ এলাকা রাউজান থেকে এবার ফটিকছড়ির উপজেলার এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই যুবকে নাম রাশেদ (৪০) বলে জানা গেছ্।ে মঙ্গলবার সকালে রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের উরকিরচর জনকল্যাণ ছাত্র সংঘের পশ্চিম পাশের একটি বাড়ির উঠান থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে।পুলিশ বলছে, ওই যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত রাশেদ ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা লাল মিয়া সাহেব বাড়ীর প্রয়াত বদরুদ্দোজার ছেলে। রাশেদ দুই সন্তানের জনক। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে এ তথ্য জানান রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ফটিকছড়ির একজন লোক সোমবার উরকিরচরস্থ খালাতো বোনের শ্বশুর বাড়িতে গিয়েছিলেন। ওই বাড়িতে তার খালাতো বোন ও তার জা ছিল। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তারা দরজা খুলে দেয়নি। রাত তিনটার দিকে মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ তার মহদেহ উদ্ধার করে। তার মুখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, রক্তও বের হয়েছিল। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ স¤পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।নিহতের চাচা আবদুল মাবুদের ভাষ্য, রাশেদ রাউজানে তার খালাতো বোনের শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। গত ৫ বছর আগে তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সে মাঝেমধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ করত। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তার খালাতো বোন দরজা খুলে দেয়নি, সেখানে যাওয়ার খবর তার পরিবারকে জানিয়েছিল। পরে মঙ্গলবার সকালে তার লাশ পাওয়া গেছে বলে খবর দেওয়া হয়। রাতে সে বাইরে ছিল। তাই আমরা ধারণা করছি ডাকাত সন্দেহে স্থানীয়রা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।মোরশেদ আলম নামে ফটিকছড়ি উপজেলার স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। মাঝেমধ্যে উল্টাপাল্টা কথা বলতেন। যে কখনো রং মিস্ত্রির হেলপার আবার কখনো রাজমিস্ত্রির হেলপার হিসেবে কাজ করতো। তাকে রাউজানে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন আছে।এর আগে গত শনিবার দুপুরে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী (৪৫) মাসুদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন। তার বাড়ি রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়নে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী বাদি হয়ে রাউজান থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
৩ মাস ২০ দিন আগে

চট্টগ্রামের রাউজানে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অন্তত পাঁচজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে দেখা গেছে ভিডিও ফুটেজে। পুলিশ তাদের সবার পরিচয় শনাক্ত করেছে। পুলিশের ভাষ্য, দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারী ‘রায়হান বাহিনীর ক্যাডাররা মাসুদকে খুন করেছে। বড় সাজ্জাদ দুবাইয়ে পলাতক থাকলেও সেখানে বসে হত্যার হুমকি দেয়। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর চট্টগ্রাম মহানগর থেকে রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় যে ২৬টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে, সবকটি হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত বড় সাজ্জাদের ক্যাডার বাহিনী। কর্ণফুলী নদীর বালুর ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দুর্ধর্ষ এই সন্ত্রাসী একের পর এক হত্যাকান্ড ঘটিয়ে যাচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্টরা জানান, যেসব হত্যাকান্ড হয়েছে তার বাইরে আরও হত্যাকান্ডের ঘটনা অপেক্ষমান রয়েছে। সন্ত্রাসীরা গোপনে নয়, প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটাচ্ছে। চট্টগ্রাম মহানগর ও রাউজান-রাঙ্গুনিয়া উপজেলার আরও কয়েকজনকে হত্যার হুমকি দিয়ে রেখেছে বড় সাজ্জাদ বাহিনী। শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে (৪৫) গুলি করে খুন করা হয়। এর আরও এক মাস আগে তাকে খুন করার হুমকি দেওয়া হয়। যা প্রকাশ্যে গুলি করে হুমকির বাস্তবায়ন করেন সন্ত্রাসীরা। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কর্ণফুলী নদী থেকে অবৈধ বালু তোলা নিয়ে বিবাধে জড়িয়ে পড়ে রাউজানের আরেক সন্ত্রাসী ফজল হক গ্রুপ ও বড় সাজ্জাদ গ্রুপ। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ গত ৫ আগষ্ট সরকার পরিবর্তনের পর ফজল হক গ্রুপের পক্ষে কর্ণফুলী নদী থেকে বালু তোলার সাথে জড়িয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে বেতাগি এলাকায় মজুত করা বালুর অর্ধেক ভাগ চাই বড় সাজ্জাদ। কিন্তু বিপরীতে হুঙ্কার ছাড়ায় প্রাণ দিতে হয়েছে মাসুদকে। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান স্বপনের ভাই। রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন স্থানীয় রাজনীতিতে।হত্যাকান্ডের পর পাহাড়তলি বাজারের সিসি ক্যামেরায় সংরক্ষিত হত্যাকান্ডের দৃশ্য যাচাই-বাছাই করে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, অস্ত্র হাতে পাঁচজনকে দেখা গেছে। এর বেশি থাকতে পারে। তবে যে পাঁচজনকে দেখা গেছে, তাদের সবার পরিচয় আমরা নিশ্চিত হয়েছি। তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় প্রকাশ সম্ভব নয়। তবে তারা বড় সাজ্জাদ গ্রুপের রায়হান বাহিনীর দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী এটা নিশ্চিত। যদিও তাদের মধ্যে রায়হানকে দেখা যায়নি।তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বড় সাজ্জাদ গ্রুপের রায়হান বাহিনীতে রাউজানের স্থানীয় সন্ত্রাসী ছাড়াও যোগ দিয়েছে ফটিকছড়ি আওয়ামী লীগের দুর্ধর্ষ তৈয়ব বাহিনীর সন্ত্রাসীরা। যারা মিলেমিশে রাউজান-রাঙ্গুনিয়াসহ চট্টগ্রাম মহানগরকে আতঙ্কের জনপদ বানিয়ে ফেলেছে। সূত্র জানায়, হত্যার ঘটনাস্থল পাহাড়তলি চৌমুহনী বাজারের আধা কিলোমিটারের মধ্যেই পুলিশের রাঙ্গুনিয়া সার্কেল কার্যালয়। ভিডিও দৃশ্যে দেখা গেছে, হত্যাকান্ডে অংশ নেওয়া পাঁচজনই ছিলেন সশস্ত্র। কালো মুখোশ পরা একজনের হাতে শটগান দেখা গেছে। তিনজনের হাতে পিস্তল এবং আরও একজনের হাতে শটগান ছিল।ফেসবুকে রবিবার সকাল থেকে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওতে দেখা গেছে, গুলিবর্ষণের মুখে মাসুদ দৌড়ে একটি দোকানের সামনে এসে গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন। তিন অস্ত্রধারী পেছন থেকে এসে লুটিয়ে পড়া মাসুদকে আবারও গুলি করে। এর ২০ সেকেন্ড পর মুখোশ পরা এক অস্ত্রধারী এসে আবার মাসুদকে গুলি করে। মৃত্যু নিশ্চিত করে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে অস্ত্রধারীরা একটি অটোরিকশায় উঠে দ্রুত চলে যায়।প্রকাশ্য অস্ত্রধারীদের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম। তারা হলেন-দিদার, ধামা ইলিয়াছ, আবছার ও ইউছুফ। জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, হত্যাকারীদের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের একটি ব্যাকআপ টিমও ছিল বলে তাদের সন্দেহ। তারা দূরে অবস্থান করায় ভিডিওতে ধরা পড়েনি।মাসুদ টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হয়েছেন বলে জানালেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন, নিহত ব্যক্তি বালু উত্তোলনের ব্যবসা করতেন। রাজনীতিও করতেন। আমরা প্রাথমিক তদন্তে বালু ব্যবসার বিরোধে হত্যাকান্ড বলে জানতে পেরেছি। তবে রাজনৈতিক কোনো বিরোধের তথ্য পাইনি। আরও তদন্ত চলছে। লোকজন খুবই আতঙ্কগ্রস্ত। কেউই মুখ খুলছে না।নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানালেন, মাসুদ রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তার বড় ভাই মুহাম্মদ পিয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। তাদের অভিযোগ, এলাকায় জনপ্রিয় হওয়ায় মাসুদকে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরিয়ে দিতে খুন করা হয়েছে।মাসুদকে যে স্টাইলে খুন করা হয়েছে একইভাবে রাউজানে আরও হত্যাকান্ড ঘটেছে। ২০২৫ সালের ৭ জুলাই উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ঈশান ভট্টেরহাট বাজারে খুন হন উপজেলা যুবদল নেতা মুহাম্মদ সেলিম। বোরকা পরা দুই যুবকসহ চার-পাঁচজন অটোরিকশায় এসে সেলিমকে প্রকাশ্যে লোকজনের সামনে গুলি করে খুন করেন। এরপর অটোরিকশায় করে দ্রুত চলে যান।গত ২৬ এপৃল কদলপুর ইউনিয়নের শমসেরপাড়ায় যুবদল কর্মী মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন তালুকদারকে রাতের আঁধারে গুলি করে হত্যা করা হয়। রাউজানে নাসির হত্যার জেরে গত ৭ মে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ এলাকায় ২৪ বছরের যুবক মোহাম্মদ হাসান রাজুকে গুলি করে একই কায়দায় খুন করা হয়।একই স্টাইলে প্রত্যেকটি হত্যাকান্ডের সঙ্গে সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী রায়হান বাহিনীর ক্যাডারদের স¤পৃক্ততা আছে বলে পুলিশের ভাষ্য।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই অশান্ত হয়ে ওঠে রাউজান। সর্বশেষ যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদসহ ২৬টি হত্যাকান্ড ঘটেছে। এর মধ্যে ২১টিই রাজনৈতিক হত্যাকান্ড। নিহতদের মধ্যে ১৯ জন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী।স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের আগে এই বালু তোলার কাজ চালিয়েছে আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক ও রাঙ্গুনিয়া আসনের এমপি ড. হাসান মাহমুদ। হাসান মাহমুদের ছোট ভাই এরশাদ মাহমুদ ও খালেদ মাহমুদ এই বালু তেলা নিয়ন্ত্রণ করতেন। এ সময় এ ধরণের খুনোখুনি বা সংঘর্ষের কোন ঘটনা ঘটেনি।
৩ মাস ২২ দিন আগে
চট্টগ্রামের রাউজানে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অন্তত পাঁচজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী অংশ নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের একজনের হাতে দেখা গেছে দুটি পিস্তল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ।শনিবার দুপুর ১টা ২২ মিনিটের দিকে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে গুলি করে মাসুদকে হত্যা করা হয়। মাসুদ (৪৫) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ স্বপনের ছোট ভাই। ঘটনাস্থলের ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, হামলাকারীদের তিনজনের হাতে মোট চারটি পিস্তল ছিল। একজনের কাছে ছিল জোড়া পিস্তল। অপর দুজনের একজনের হাতে ছোট বন্দুক এবং অন্যজনের হাতে ছিল একনলা বন্দুক। পুলিশ জানিয়েছে, পাঁচজনই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অংশ নেয় এ হত্যাকাণ্ডে । এরপর তারা পাহাড়তলী বাজারে দাড়িয়ে থাকা একটি সিএনজি অটোরিকশায় করে দ্রুত পালিয়ে যায়। রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়াত হোসেন বলেন, ‘ভিডিওচিত্র যেটা ছড়িয়ে পড়েছে সেটা এই হত্যাকাণ্ডেরই। আমরা বিশ্লেষণ করে দেখেছি। ওই ভিডিওচিত্রে আপাতত পাঁচজনকে অস্ত্র হাতে দেখা গেছে। তার মধ্যে একজনের হাতে দুটি পিস্তল ছিল। একটি একনলা বন্দুকও দেখা গেছে। ঘটনার পর সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে পালিয়ে যায় তারা। ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে কাউকে আটক করা যায়নি।প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, মাসুদুল হককে খুব কাছ থেকে মাথায় গুলি করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ঘটনাস্থলে আসে হামলাকারীরা আগে থেকেই ঘটনাস্থলে ওঁৎ পেতে থাকে।ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল দুই অস্ত্রধারী। তাদের একজনের পরনে ছিল কালো এবং অন্যজনের পরনে ধূসর রঙের টি-শার্ট। জলপাই রঙের টি-শার্ট পরা একজনকে একটি দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশার দিকে যেতে দেখা যায়। কালো টি-শার্ট পরা ব্যক্তি ক্যামেরার দৃশ্যসীমার বাইরে যেতেই শোনা যায় প্রথম গুলির শব্দ। এরপর গোলাপি রঙের টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে ছোট বন্দুক হাতে বের হয়ে পরপর তিনটি ফাঁকা গুলি ছোড়েন। গুলি করতে করতে অটোরিকশার পেছনের দিকে এগিয়ে যান তিনি। পরে জলপাই রঙের টি-শার্ট ও মাথায় টুপি পরা আরেকজনকে ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে অটোরিকশার দিকে যেতে দেখা যায়। তার হাতে ছিল দুটি পিস্তল। একই সময়ে অটোরিকশার সামনের আসন থেকে এক ব্যক্তি একনলা বন্দুক হাতে বের হয়ে আসে।ভিডিওচিত্রে আরও দেখা যায়, কালো, ধূসর ও গোলাপি রঙের টি-শার্ট পরিহিত তিন ব্যক্তি কয়েক সেকেন্ড পর আবার অটোরিকশার দিক থেকে পেছনের দিকে ফিরে আসে। তখন আরও চারটি গুলির শব্দ শোনা যায়, যদিও সেগুলো ক্যামেরায় ধরা পড়েনি। দুপুর ১টা ২২ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড থেকে ১টা ২৪ মিনিট ৪২ সেকেন্ড পর্যন্ত প্রায় এক মিনিট ৫৪ সেকেন্ডের মধ্যে থেমে থেমে এক ডজনেরও বেশি গুলির শব্দ শোনা যায়। তবে গুলি করার সময় মাসুদুল হককে ভিডিওচিত্রে দেখা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ক্যামেরার দৃশ্যসীমার বাইরে একটি ওষুধের দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, ধূসর রঙের টি-শার্ট পরা দুজন তাকে গুলি করে। কারণ ভিডিওচিত্রে তাদের পিস্তল হাতে অটোরিকশার দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। তাদের একজনকে ফাঁকা গুলি ছুড়তেও দেখা গেছে।স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে রাউজানে ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ পর্যন্ত প্রায় ২৩ জন রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।হত্যাকাণ্ডের পর বিক্ষুব্ধ বিএনপির নেতাকর্মীরা টায়ার জ্বালিয়ে কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করেন। পরে বিকেল ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।
৩ মাস ২৩ দিন আগে
সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ গেল রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদের। শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি উপজেলার বেতাগী এলাকার মৃত খালেদ চৌধুরীর ছেলে।পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী বাজারে একটি ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে যান মাসুদ। এসময় মোটরসাইকেলে করে এসে কয়েকজন অস্ত্রধারী তাকে কয়েক রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়।গুরুতর আহত মাসুদকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরী বিএনপির সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত।স্থানীয়দের ধারণা, বালুর ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকান্ড সংঘটিত হতে পারে। এছাড়া তিনি আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবেও আলোচনায় ছিলেন।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরীকে গুলি করে হত্যার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।এদিকে হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে দলীয় নেতাকর্মীরা ইছাখালী এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করেছেন। অবরোধের কারণে কাপ্তাই সড়কে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা এ সময় হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
৩ মাস ২৩ দিন আগে
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অপরদিকে আসামি স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকার পাবে। ক্ষতিপূরণ না দিলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ভিকটিম মৃত রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়। এরপর ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে আনা হয় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে। এসময় তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। রায় ঘোষণার আগে দুজনকেই এজলাসে তোলা হয়। বেলা ১১টার পর রায় পড়া শুরু করেন বিচারক। এদিকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও তৎপর থাকতে দেখা গেছে।উল্লেখ্য, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীতে আলোচিত এই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। পরদিন ২০ মে (১৯ মে দিবাগত রাত) ১২টা ৫ মিনিটে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে ভিকটিমকে ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানো ও লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। এরপর তদন্তে মাঠে নামে পুলিশ। ঘটনার ৪ দিনের মাথায় ২৪ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন। চার্জশিটে মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়।গত ১ জুন সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ২ জুন শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। ওই দিন ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের জবানবন্দি ও জেরার মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করেন আদালত। পরে ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন আসামিরা।গত ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে নৃশংস এ ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় নজিরবিহীন গতিতে বিচার শেষ পর্যায়ে পৌঁছাল।মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। এ সময় তাকে কৌশলে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন স্বপ্না। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে সোহেলের দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সোহেলের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বড় বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পান। পরে জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
৩ মাস ২৯ দিন আগে
চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর ধর্ষক মনির স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেছেন-আমাকে শয়তানে পেয়েছিল। আদালতেও দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন মনির। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু বকর সিদ্দিকের আদালতে গ্রেপ্তার মনির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান। তিনি বলেন, আক্রান্ত শিশুটির বাবা থানায় মামলা করেছেন। মামলায় মনিরকে দুপুরে আদালতে হাজির করি। আসামি স্বেচ্ছায় আদালতে জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন। এরপর আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত এবং পূর্ণাঙ্গ তথ্য পেতে মেডিকেল প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়ার ভাষ্য, প্রচলিত অর্থে ধর্ষণ হিসেবে যা বোঝানো হয়, ধর্ষণের সংজ্ঞা কিন্তু দেশে প্রচলিত নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে আরও ব্যাপক। আসামি মনির শিশুটির সঙ্গে যা করেছে বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে সেটাই আইন অনুযায়ী ধর্ষণ। সুতরাং সেটাকে ধর্ষণের অভিযোগ থেকে হালকা ভাবার সুযোগ নেই। পুলিশ জানায়, বৃহ¯পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানার নুর হোসেন চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মনিরকে আটক করে স্থানীয় জনতা। মনিরের বয়স ৪০ বর্ছ। পুলিশ প্রথমে মনিরকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা গ্যারেজের কর্মচারী বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। পরে জানতে পারে মনির সেখানকার একটি ডেকোরেশনের দোকানের কর্মচারী।পুলিশের ভাষ্য, শিশুটির বাসার পাশেই ডেকোরেশনের দোকানটির গুদাম। সেখানে মনির আসা-যাওয়ার কারণে শিশুটিকে চিনতেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে শিশুটিকে ফুঁসলিয়ে ডেকোরেশনের দোকানে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ অভিযোগ পান তারা।এ ঘটনায় শিশুটির বাবা তার মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে শুক্রবার সকালে মনিরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আক্রান্ত শিশুটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছে।শিশুটির স্বজনরা জানান, দুপুরে তাকে ফুসলিয়ে ওই ব্যক্তি বাসার পাশের একটি ডেকোরেশনের দোকানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। পরে শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে এসে তার নানাকে ঘটনা জানায়। নানাসহ আরও লোকজন ডেকোরেশনের দোকানে গিয়ে ওই ব্যক্তিকে আটক করেন।মনিরকে গ্রেপ্তার করা নিয়ে বৃহ¯পতিবার রাতে প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে বাকলিয়া চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় তুলকালাম কান্ড ঘটে। পুলিশ-জনতার সংঘর্ষে মধ্যরাত পর্যন্ত রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বাকলিয়া এলাকা। পুলিশের একাধিক গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশসহ আহত হন ২০ জনেরও বেশি। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার নিজেরাই করবে জানিয়ে মনিরকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখা নিয়ে এ সংঘাতের সূত্রপাত হয় বলে জানান বাকলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কিশোর মজুমদার। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের হাতে আটক মনির শিশুটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। তাকে শয়তানে পেয়েছিল এমন কথাও বলেন তিনি। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে চরচাক্তাই এলাকায় শত শত লোক রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন।
৪ মাস ১৪ দিন আগে
মাত্র এক সপ্তাহে হারাল চারটি নিষ্পাপ ছোট্ট প্রাণ। পল্লবী থেকে সিলেট পর্যন্ত সব ঘটনায় উঠে এসেছে সমাজের অন্ধকার চিত্র, ধর্ষণ। এরপর হত্যা। এমন ঘটনায় বিচার ও নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। শঙ্কিত অভিভাবকরাও। রামিসারাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে হত্যা করা হয়েছে ধর্ষণের পর। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন আদালতে। ২০ মে বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তার জবানবন্দি রেকর্ড করে পাঠানোর নির্দেশ দেন কারাগারে। একই মামলায় অভিযুক্ত সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও পাঠানো হয়েছে কারাগারে।মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১৯ মে মঙ্গলবার সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় রামিসাকে কৌশলে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজ করতে গিয়ে সোহেল ও স্বপ্নার ঘরে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করেন। পাশেই একটি বালতিতে পাওয়া যায় শিশুটির মাথা। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে দেশ জুড়ে।ফাহিমাসিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকেও যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিবেশী ও সম্পর্কে চাচা জাকির হোসেনকে গত ১৮ মে সোমবার গ্রেপ্তার করে পুলিশ।স্থানীয়দের অভিযোগ, ফাহিমাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে নির্যাতনের পর হত্যা করে মরদেহ ব্যাগে ভরে পাশের ডোবায় ফেলে দেয় জাকির। গত শুক্রবার শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী থানা ঘেরাও করে। পরে অভিযুক্তের বাড়িতেও চালানো হয় হামলা।লামিয়াঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে চার বছরের শিশু লামিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নবম শ্রেণির ছাত্র মুরসালিনকে আটক করেছে পুলিশ।পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার বিকালে শিশুটিকে নিয়ে ঘুরতে দেখা যায় মুরসালিনকে। সন্ধ্যার পর লামিয়া নিখোঁজ হলে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। পরদিন সকালে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে মুরসালিন হত্যার কথা স্বীকার করলে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ভুট্টাক্ষেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, ‘ধর্ষণের পর ধরা পড়ে যাওয়ার ভয় থেকেই শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে।আছিয়ামুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ১০ বছরের শিশু আছিয়াকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সৎ মামা রাজা মিয়ার বিরুদ্ধে। শনিবার বিকালে নিজ ঘরের খাটের ওপর শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়।পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই রাজা মিয়া ওই পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে শিশুটিকে। উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কে অভিভাবকরাসাম্প্রতিক এসব ধর্ষণ ও শিশু হত্যার ঘটনা নিয়ে উৎকণ্ঠা ও আতঙ্ক বেড়েছে অভিভাবকদের মধ্যে। সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি চিন্তিত। একা স্কুলে যাওয়া, খেলাধুলা করা কিংবা প্রতিবেশীর বাসায় যাওয়ার মতো সাধারণ বিষয়গুলোও এখন অনেক অভিভাবকের কাছে উদ্বেগের কারণ। প্রতিদিন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার খবর দেখে আরও বাড়ছে তাদের আশঙ্কা।অনেকেই বলছেন, অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে এই ভয় ও অনিশ্চয়তা কাটবে না। ফলে সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবারগুলোর মধ্যে বাড়তি সতর্কতা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।ঢাকা উত্তরার বাসিন্দা ও দুই সন্তানের মা ফাওজিয়া খানম বলেন, ‘সন্তানদের এখন একা বাইরে পাঠাতে ভয় লাগে। স্কুলে যাওয়া, খেলতে যাওয়া, এমনকি পাশের বাসায় যাওয়ার ক্ষেত্রেও দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। প্রতিদিন খবর খুললেই শিশু নির্যাতন বা হত্যার ঘটনা দেখি। একজন মা হিসেবে এটা খুবই আতঙ্কের। আমরা চাই, অপরাধীদের এমন শাস্তি হোক যাতে ভবিষ্যতে কেউ শিশুদের দিকে কুনজর দেওয়ার সাহস না পায়।’ঢাকার পল্লবীর বাসিন্দা ও এক শিশুর বাবা সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সন্তান ঘর থেকে বের হলে এখন আর নিশ্চিন্ত থাকতে পারি না। আগে ভয় ছিল দুর্ঘটনার, এখন ভয় মানুষ নিয়েই। যারা শিশুদের ওপর এমন পাশবিক নির্যাতন চালায়, তাদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। না হলে কমবে না অভিভাবকদের এই আতঙ্ক।’বিশেষজ্ঞদের অভিমতশিশু অধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার চেয়ারম্যান মাহবুবা রহমান কাকলির ভাষ্য, ‘সাম্প্রতিক শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাগুলোর পেছনে সামাজিক অবক্ষয় ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি বড় কারণ। অধিকাংশ ভুক্তভোগী নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের হওয়ায় অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ দেখছে।’‘গত দেড় বছরে বহু শিশু ধর্ষণের ঘটনার বিচার না হওয়ায় অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু রাষ্ট্র নয়, পরিবার, সমাজ, স্কুল ও প্রতিবেশীকেও সমানভাবে দায়িত্ব নিতে হবে’, যোগ করেন তিনি।মাহবুবা রহমান কাকলি বলছেন, ‘শিশুদের ছোটবেলা থেকেই নৈতিক, সামাজিক ও মানবিক শিক্ষা জরুরি। একই সঙ্গে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় বিশেষ আদালতের মাধ্যমে দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি কার্যকর করা গেলে এ ধরনের অপরাধ কমে আসবে অনেকাংশে।’বিচারব্যবস্থার দুর্বলতার কারণেই অপরাধীরা ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ করার সাহস পাচ্ছে বলে মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। এই আইনজীবী বলেন, ‘বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণেই অপরাধীরা ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ করার সাহস পাচ্ছে। সংবিধান অনুযায়ী বিচার পাওয়া সব নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশে অনেক মানুষই সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয় না। তদন্ত ও ডিএনএ রিপোর্ট পেতে দীর্ঘ সময় লাগে। পর্যাপ্ত ডিএনএ ল্যাব ও বিশেষায়িত তদন্ত সংস্থার অভাবে বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। যা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে তৈরি করছে হতাশা’, যোগ করেন ইশরাত হাসান।তার ভাষ্য, ‘নিজের মেয়েকে হারানোর পরও যখন একজন বাবা বললেন, ‘আমি বিচার চাই না’, তখন তা রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক। কিছু মামলা দ্রুত বিচার হলেও উচ্চ আদালতে মামলা জটের কারণে বছরের পর বছর লেগে যায়, ফলে বিচার বিলম্বিত হয়।’বিচারটা সঠিকভাবে করা গেলে অপরাধের মাত্রা অনেকাংশই কমবে বলে মনে করেন ইশরাত হাসান। তার মতে, দৃষ্টান্তমূলক বিচার হলে ভয় পাবে অন্য অপরাধীরাও। কিন্তু বিচার পাচ্ছে না মানুষ।‘দেশে পর্যাপ্ত বিচারক ও আদালত নেই। প্রতিটি জেলায় ডিএনএ ল্যাব থাকা দরকার। তদন্তের জন্য বিশেষ এজেন্সি দরকার, যারা শুধু ধর্ষণ মামলাগুলো তদন্ত করবে’— অভিযোগের সুরে বললেন আইনজীবী ইশরাত।
৪ মাস ১৫ দিন আগে