বৈদেশিক প্রস্তুতকারকদের তালিকাভুক্তির যাচাই-বাছাইয়ে ধীরগতির কারণে বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক, পাহাড়তলী কর্তৃক ডিজেল লোকোমোটিভ-এর খুচরা যন্ত্রাংশ কার্যক্রমে চরম জটিলতা দেখা দিয়েছে। এতে বিদেশী খুচরা যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারকেরা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে।
রবিবার (২৮ জুন) এ তথ্য জানান বাংলাদেশ রেলওয়ে স্পেয়ার্স এন্ড এক্সেসরিজ সাপ্লাইয়ার্স এসোসিয়েশনের সাথে যুক্ত (বারেসাএসাএ) ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, বিগত স্বৈরাচার সরকারের মধ্যবর্তী সময় থেকে এই তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া কাজ শুরু হলেও ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মেয়াদে ৭ দফা দরপত্র খোলার তারিখ পিছানো হয়।
স্বৈরাচার সরকারের সংসদীয় কমিটির প্রধান ও তাদের কতিপয় ঘনিষ্ট সহযোগীদের অবৈধ হস্তক্ষেপের কারনে দরপত্রটি সেই সময়ে থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়নি। ইতোমধ্যে পূনরায় দরপত্র আহ্বানের পর এর যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অত্যন্ত ধীরগতিতে প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় আছে বিধায় উক্ত দরপত্রের অংশগ্রহণকারীরা খুবই হতাশগ্রন্থ
তালিকাভুক্তির কার্যক্রম বিলম্বিত হওয়ায় বিদেশী প্রস্তুতকারকেরাও ব্যাবসায়িক কার্যক্রমে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে। ফলে বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিজেল লোকোমোটিভ যন্ত্রাংশ ক্রয়সংগ্রহ কার্যক্রমে অনাকাঙ্খিত জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।
সূত্রমতে, প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক, পাহাড়তলী দপ্তরে ফ্রি কোয়ালিফিকেশন এন্ড এনলিস্টমেন্ট ফর গুডস: স্পেয়ার পার্টস ফর ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভস এর জন্য ইনভাইটেশন ফর এনলিস্টমেন্ট (আএফই) নং-৫৪.০১.১৫৪৩.৪৫৫.০৭.০৩৭.২৪, ওপেনড অন ১৯.০৮.২০২৪ইং এবং ৩০.১১.২০২৫ইং দুপুর ১২ ঘটিকায় দরপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল।
এই তালিকাভুক্তির জন্য মোট ৯৭টি প্রতিষ্ঠান আবেদন ফরম সংগ্রহ করে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৫৪টি প্রতিষ্ঠান আবেদন ফরম দাখিল করে। যা যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে তালিকাভুক্তকরণ অদ্যাবধি সম্পন্ন হয়নি। এই ধীরগতির কারনে উক্ত দরপত্রে অংশগ্রহণকারীরা খুবই হতাশগ্রন্থ এবং তালিকাভুক্তির কার্যক্রম বিলম্বিত হওয়ায় বিদেশী প্রস্তুতকারকেরা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে। এছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিজেল লোকোমোটিভ যন্ত্রাংশ ক্রয়সংগ্রহ কার্যক্রমে অনাকাঙ্খিত জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।
এমতাবস্থায় রেলওয়ের যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের পরিপ্রেক্ষিতে সমুদয় ডিজেল লোকোমোটিভ যন্ত্রাংশের তালিকাভুক্তিকরনের দরপত্রটি অতিদ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য রেলপথ মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে স্পেয়ার্স এন্ড এক্সেসরিজ সাপ্লাইয়ার্স এসোসিয়েশনের সাথে যুক্ত ব্যবসায়ীরা।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ রেলওয়ে স্পেয়ার্স এন্ড এক্সেসরিজ সাপ্লাইয়ার্স এসোসিয়েশন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক টিও লাইসেন্স প্রাপ্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের একমাত্র ব্যবসায়িক সংগঠন। যাহা বাংলাদেশের ব্যবসায়িদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই জিআই এ ক্লাস এসোসিয়েশন।
এই সংগঠননে সমগ্র বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্ব ও পশ্চিম জোনের নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত প্রায় ১৫০০ সরবরাহকারীর প্রতিনিধিত্ব করে। এই সংগঠনের সদস্যরা বাংলাদেশ রেলওয়েকে সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সর্বপ্রকার দেশীয়, বৈদেশিক যন্ত্রাংশ (ডিজেল ইঞ্জিন, কোচ ও ওয়াগণের অন্যান্য) চাহিদা মোতাবেক সরবরাহ করে থাকে।
একই সাথে বাংলাদেশ রেলওয়ে স্পেয়ার্স এন্ড এক্সেসরিজ সাপ্লাইয়ার্স এসোসিয়েশন এর মাধ্যমে রেলওয়ের সরবরাহকারীদের বিভিন্ন যৌক্তিক সমস্যা সমাধানে ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার্থে কাজ করে বলে জানান সংগঠনটির সভাপতি ফেরদৌস হুদা চৌধুরী।
তিনি বলেন, বারেসাএসাএ সদস্যদের স্বার্থ রক্ষায় এ বিষয়ে খুব শীগ্রই রেলপথ মন্ত্রীর বরাবরে স্বারকলিপি প্রদান করা হবে। যার অনুলিপি রেল প্রতিমন্ত্রী, রেল সচিব, মহাপরিচালক বাংলাদেশ রেলওয়ে, অতি: মহাপরিচালক-আরএস, বাংলাদেশ রেলওয়ে, প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক, বাংলাদেশ রেলওয়ে, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম বরাবরে প্রেরণ করা হবে।