ওমান সাগরে ভারতের আরও একটি বানিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। লিয়াকি ফ্রিডম নামে জাহাজে মার্কিন বাহিনী শনিবার হামলা চালায় বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়।
এর আগে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন বাহিনীর হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। হামলার ঘটনায় ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যু ঘিরে আমেরিকার বন্ধুদেশ ভারতের মধ্যে টানাপড়েন চলছে।
ওমান উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ফরোয়ার্ড সিমেন’স ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া (এফএসইউআই)-র তরফে জানানো হয়েছিল, লিয়াকি ফ্রিডম নামে জাহাজে শনিবার হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
জাহাজটির সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা যায়নি। কারণ জাহাজের ‘ভেরি হাই ফ্রিকোয়েন্সি’ (ভিএইচএফ) রেডিও কাজ করছে না। তবে জাহাজটি কোথায় রয়েছে, সেই অবস্থান জানা গিয়েছে।
হামলার পর জাহাজের অবস্থা কী, নাবিকরা কী পরিস্থিতিতে রয়েছেন, কোনও প্রাণহানি হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
প্রসঙ্গত, গত চার-পাঁচ দিনে ওমান উপকূলের কাছে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। সেই হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। মার্কিন বাহিনীর এই ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ভারত।
মার্কিন হানার তীব্র নিন্দা করেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শুক্রবার এই ঘটনা নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলেন তিনি। উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি হামলার তীব্র নিন্দাও করেছেন জয়শঙ্কর।
গত বুধবার নয়াদিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসের শীর্ষ কূটনীতিককে তলবও করা হয়। কিন্তু তার পরেও বৃহস্পতিবার আরও একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে। গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী জাহাজ ‘জলবীর’-এ এই হামলা হয়।
তার আগে ১০ জুন এমটি সেটেবেলো নামে জাহাজে হামলা চালানো হয়েছিল। সেই হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তরফে এই হামলার কথা স্বীকারও করা হয়। ওই দিন ম্যারিভেক্স নামে আরও একটি জাহাজে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। সেই জাহাজে ২৪ জন ভারতীয় নাবিক নাবিক ছিলেন। যদিও সবাইকেই উদ্ধার করেছিল ওমান প্রশাসন।