কলকাতায় নিউমার্কেট এলাকায় ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে আগুনে পৃুড়ে মারা গেলো বাংলাদেশি এক সাংবাদিক পরিবারের চার সদস্য। এছাড়া ঢাকার অধিবাসী আরও এক শিশু মারা গেছে। মৃত অপর তিনজনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিনগত মধ্যরাতের ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আরও ছয়জন দ্বগ্ধ হয়েছেন। তাদের কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস।শনাক্ত হওয়া মৃত ব্যক্তিরা হলেন— কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আরুয়াপাড়ার বাসিন্দা ও আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি দেবাশিস দত্ত (৩৭), তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), তাদের তার শিশুসন্তান শর্ণশিষ দত্ত (২) এবং দেবাশিসের শশুর মো. আকরাম আলী (৬৪)। এছাড়া ঢাকার সাভারের বেগুনবাড়ি এলাকার শিশু আহমেদ বাবু (২)ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, মৃত বাংলাদেশি নাগরিকরা চিকিৎসা নিতে কলকাতায় এসেছিলেন। বিষাক্ত ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুন লাগার সময় হোটেলের বেশিরভাগ লোক ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুনের সঙ্গে ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় অনেকে ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। স্থানীয়দের দাবি, আগুনের সময় অনেকে ধোঁয়া থেকে বাঁচতে বাথরুমে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ল্যাডার ব্যবহার করে ভবনের বিভিন্ন অংশ থেকে আটকে পড়াদের উদ্ধার করেন।খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। তাদের সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরাও উদ্ধারকাজে অংশ নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আটকে পড়াদের উদ্ধার করে। আগুন লাগার সঠিক কারণ এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তবে এসি বিস্ফোরণের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মৃত বাংলাদেশিরাও কলকাতায় কেন এসেছিলেন তার অনুসন্ধান চলছে। সার্বিক বিষয়টি তদন্ত করে দেখার কথা জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
১ মাস ১৪ দিন আগে
ভারতের উত্তরপ্রদেশে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি লিটার ১০ রুপি দরে গোমূত্র কেনা শুরু করেছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের বুলন্দশহর জেলার ১৫টি গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে, যা সফল হলে পরবর্তীতে রাজ্যজুড়ে বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতি লিটারের দাম সর্বোচ্চ ২০ রুপি পর্যন্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুলন্দশহরের সিয়ানা তহসিলের নারসেনা গ্রামের একটি ‘ফার্মার প্রডিউসার অর্গানাইজেশন’ (এফপিও)-এর মাধ্যমে এই পুরো কার্যক্রমটি পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্তমানে ১৫টি গ্রামের পশুপালকদের এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে এবং প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০০ লিটার গোমূত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর জন্য প্রতিটি গ্রামে গোমূত্র সংরক্ষণের জন্য ২০০ লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষ ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে।কট্টর হিন্দুত্ববাদী মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকারের দাবি, এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য হলো- দুধ দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া বা বয়োস্ক গরুগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করা। কারণ দুধ দেওয়া বন্ধ করা গাভীদের আর্থিক বোঝা মনে করে কৃষকরা সেগুলোকে রাস্তাঘাটে বা মাঠে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছেড়ে দেন, যা ওই গরু ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। একই সঙ্গে গ্রামীণ নারীদের গোমূত্র সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে তাদের জন্য নিয়মিত কর্মসংস্থান ও আয়ের পথ তৈরি করা। ইতোমধ্যেই প্রায় ৩০০ গ্রামীণ নারীকে এই প্রকল্পের সরাসরি শেয়ারহোল্ডার বা অংশীদার করা হয়েছে। তারা নিজেদের গ্রামে থেকেই গোমূত্র সংগ্রহে সহায়তা করছেন এবং প্রতি লিটার সংগ্রহের বিপরীতে ২ রুপি করে কমিশন পাচ্ছেন, যা তাদের বাড়তি আয়ের একটি বড় উৎস হয়ে উঠেছে।এদিকে সংগৃহীত গোমূত্র বিভিন্ন ভেষজ উপাদানের সঙ্গে মিশ্রিত করে সম্পূর্ণ রাসায়নিক মুক্ত ও প্রাকৃতিক উপায়ে তরল জৈব সার এবং কীটনাশক তৈরি করা হচ্ছে। এগুলো পরবর্তীতে স্থানীয় কৃষি কমিটির মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে, যা মাটির উর্বরতা বাড়াতে এবং রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে বলে দাবি করেছে রাজ্য সরকার। তবে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি এই প্রকল্পকে একটি ‘কেলেঙ্কারি’ বলে কঠোর সমালোচনা করেছে। দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ আজম খান অভিযোগ করেছেন, আসন্ন নির্বাচনের তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এই ধরণের প্রকল্প সাজানো হয়েছে। আর ক্ষমতাসীন দল বিজেপি এই সমালোচনার জবাবে বলেছে, বিরোধীরা সবসময় সরকারের উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমুখী কাজের মধ্যে খুঁত খোঁজার চেষ্টা করে।বিজেপির মুখপাত্র হিরো বাজপাই দাবি করেছেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ খামারিরাই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছেন, যা সমাজবাদী পার্টির সহ্য হচ্ছে না। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর উত্তরপ্রদেশে গো-হত্যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে এবং কঠোর আইন পাস করে। এর ফলে বয়স্ক, অসুস্থ বা দুধ দেওয়া বন্ধ করা গরু কেনাবেচার বাজার পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। পশুপালকরা অর্থনৈতিক বোঝা টানতে না পেরে লাখ লাখ গরুকে রাস্তাঘাটে বা বনে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। এতে এই ক্ষুধার্ত পরিত্যক্ত গরুগুলো কৃষকদের ক্ষেতের ফসল ব্যাপকভাবে নষ্ট করছে। এছাড়া, লোকালয়ে মানুষের ওপর গরুর আক্রমণের ঘটনা নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যাতে বহু মানুষের প্রাণহানিও ঘটেছে।
১ মাস ২১ দিন আগে
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৩৭ ভরি (৪২৭ গ্রাম) ওজনের ৯টি অবৈধ স্বর্ণেরবারসহ তামিম আনসারী নামে এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়েছে। স্বর্ণেরবারগুলো তার অন্তর্বাসের ভেতর পেস্ট আকারে লুকানো ছিল।শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শারজাহ থেকে এয়ার আরাবিয়ার জি-৯-৫২৬ ফ্লাইটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে আসে ওই ভারতীয় ওই নাগরিক। তিনি ভারতের তামিলনাডু রাজ্যের চেন্নাইয়ের বাসিন্দা।শনিবার বিকেলে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস হলের গ্রিন চ্যানেলে তল্লাশির সময় ওই যাত্রীর আন্ডারওয়্যারের ভেতরে বিশেষ পেস্ট আকারে লুকিয়ে রাখা ৯টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।উদ্ধার করা স্বর্ণের পরিমাণ ৪২৭ গ্রাম, যা বাংলাদেশি হিসাবে প্রায় ৩৭ ভরি। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ৮১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৭৫ টাকা। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের চালান বিমানবন্দর কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্বর্ণ পরিবহনের সঙ্গে জড়িত আটক ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা রয়েছে।মামলা শেষে তাকে পতেঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা পাচার রোধ এবং স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে বিমানবন্দর গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ, কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স, বিমানবন্দর কাস্টমস এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত রাখছে বলে জানান বিমান বন্দরের এই কর্মকর্তা।
২ মাস ২ দিন আগে
চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন ভারতীয় নাগরিকও। তার কাছে ভারতের নাগরিক পরিচয়পত্র আধার কার্ড। নাম আজহার খান। সেখানে তার জন্মতারিখ লেখা রয়েছে ১৯৯৮ সালের ১২ মে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এমন তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল। তবে কার্ডটি আসল নাকি জাল, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।পুলিশ জানায়, আধার কার্ড হলো ভারতের বাসিন্দাদের জন্য ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অব ইন্ডিয়া (ইউআইডিএআই) কর্তৃক ইস্যুকৃত ১২ সংখ্যার একটি বায়োমেট্রিকভিত্তিক পরিচয়পত্র। এটি দেশটিতে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবায় পরিচয় যাচাইয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়।চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। পরে গত ২২ জুলাই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার করে আদালতের অনুমতি নিয়ে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ধামা ইলিয়াছ সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের মজুত এবং সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তদন্তে জানা যায়, তিনি কুখ্যাত সন্ত্রাসী রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২১টি মামলা রয়েছে।এসপি মাসুদ আলম বলেন, ধামা ইলিয়াছের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৯ জুলাই যশোর জেলার কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন (২৫), আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫), মো. শামীম (২৮) ও মো. সাফায়েত হোসেনকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার ভোর রাতে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের পাইট্রাল টিলাপাড়ার একটি পরিত্যক্ত বসতবাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে সিএমপি ও চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার তথ্যও তদন্তে উঠে আসে। ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মো. মুসা।
২ মাস ৩ দিন আগে
পুলিশের অভিযানের মুখে ভারতে পালানোর সময় একটি কালো প্রাইভেট কার থেকে আলোচিত ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন এবং তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে নোয়াখালীর অভিযানে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় আরেক সন্ত্রাসী মো. রায়হান।বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর দুই নম্বর গেটস্থ চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম। তিনি জানান, ডেভিড ইমন ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে এমন তথ্য ছিল পুলিশের কাছে।সেই তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম যশোর-নড়াইল মহাসড়কের ঝুমঝুমপুর এলাকায় অবস্থান নেন। এ সময় সন্দেহ হলে সড়ক দিয়ে কালো রঙের একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে ডেভিড ইমনকে শনাক্ত করে পুলিশ।ইমনের আলোচিত গোফ কেটে ফেলায় পুলিশের চিনতে বেগ পেতে হয়েছে। পরে এক পর্যায়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন সে চট্টগ্রাম মহানগরের আলোচিত ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন। এ সময় গাড়ির ভেতরে থাকা তার তিন সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার অপর তিনজন হলেন, মো. শামীম, আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল এবং মো. সাফায়েত হোসেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ বৃহস্পতিবার সকালে তাদের আদালতে প্রেরণ করে।ধামা ইলিয়াছের তথ্যেই মিলল ডেভিড ইমনের খোঁজচট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে যুবলীগের নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে একে একে বেরিয়ে আসে শীর্ষ সন্ত্রাসী চক্রের সদস্যদের তথ্য। মামলায় গ্রেপ্তার মো. মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছকে দু‘দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যশোরে অভিযান চালায় চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা (ডিবি)।ওই অভিযানেই আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফটিকছড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজিসহ বেশ কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম জানান, গত ১৩ জুন চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যাকান্ডের পর ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে জেলা পুলিশ। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যাকান্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়।এরপর গত ২২ জুলাই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে দু‘দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে ধামা ইলিয়াছ সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের মজুত এবং সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন বলে জানান তিনি।তিনি বলেন, ওই তথ্যের সূত্র ধরেই পরবর্তী অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়। পুলিশ জানতে পারে, চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালানো ডেভিড ইমনসহ কয়েকজন চট্টগ্রামের বাইরে যশোরে অবস্থান করছেন। তারা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, রিমান্ডে পাওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে গত ২৯ জুলাই যশোর জেলার কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় পরিচালিত ওই অভিযানে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারের পর পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের ব্যবহৃত অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পায় পুলিশ। ওই তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ফটিকছড়ি থানার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের পাইট্রাল টিলাপাড়ায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে মৃত আবুল হোসেনের একটি পরিত্যক্ত বসতবাড়ি থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে এই সন্ত্রাসী চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।পালিয়ে গেলেও দোজখ দেখে ফেলেছে সন্ত্রাসী রায়হানএদিকে ধামা ইলিয়াছের তথ্যে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সেকেন্ড ইন কমান্ড মো. রায়হানকে ধরতে নোয়াখালীর কো¤পানীগঞ্জে অভিযান চালায় পুলিশ। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রায়হান একটি বাড়ির ছাদ থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যায়।তবে পালিয়ে গেলেও দোজখ দেখে ফেলেছে সন্ত্রাসী রায়হান-সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম। এসপি মাসুদ আলম বলেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের অবস্থানের খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। প্রথমে দাউদকান্দিতে কুমিল্লা জেলা পুলিশের সহযোগিতায় এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকার চেকপোস্টে কড়াকড়ি আরোপের পরও সে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।পুলিশ সুপার উল্লেখ করেন, এ ধরনের অপারেশনগুলোর তথ্য অনেক সময় গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার কারণে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও অপরাধ দমনে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।এসপি বলেন, এ চক্রের সদস্যরা অত্যন্ত ধূর্ত প্রকৃতির। তারা প্রচলিত কোনো নেটওয়ার্ক বা সিম ব্যবহার না করে বিদেশি নম্বর এবং বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করত। দেশে আটকা পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে ডেভিড ইমন বড় সাজ্জাদের পরামর্শে ভারতে পালানোর পরিকল্পনা করে। এ তথ্য জানার পর পুলিশ তার ওপর কঠোর নজরদারি শুরু করে।তিনি আরও বলেন, অপরাধীদের ধরা পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে বা বিষয়টি আলোচিত হয়ে পড়লে তারা বিদেশে থাকা গ্যাং লিডারদের শরণাপন্ন হয়। বিদেশে অবস্থানরত বড় সাজ্জাদের পরামর্শে অপরাধীরা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে এবং কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ব্যবহার করে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে এলাকায় অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করে। এসব ঘটনার সূত্র ধরে পুলিশ নিবিড় তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও দীর্ঘ শ্রমের মাধ্যমে জেলা পুলিশের কয়েকটি টিম গঠন করে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টন করে।প্রসঙ্গত, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ ১৩টি মামলা রয়েছে। রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও চট্টগ্রাম মহানগরের কয়েকটি হত্যাকান্ডেও তাঁর স¤পৃক্ততার তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে।অন্যদিকে ধামা ইলিয়াছের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় ২১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি হত্যা মামলাসহ অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।
২ মাস ৩ দিন আগে
ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষার (নিট) প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে টানা ৩৬ দিন ধরে রাজপথে চলা আন্দোলনের মুখে নতি স্বীকার করেছে উগ্রবাদি নরেন্দ্র মোদি সরকার। শনিবার (২৫ জুলাই) ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। ভারতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব এই আন্দোলনে বড় সাফল্য নবগঠিত ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি)। গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক মামলার শুনানিতে বেকার ও প্রতিবাদী যুবসমাজকে ‘আরশোলা’ ও ‘সমাজের পরজীবী’ বলে মন্তব্য করেন। বিচারপতির এই মন্তব্যের প্রতিবাদে ও ব্যঙ্গাত্মক বার্তা ছড়াতে সোশ্যাল মিডিয়ায় আত্মপ্রকাশ করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মটি দ্রুত তরুণদের প্রিয় হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও একের পর এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনার প্রতিবাদে নেটদুনিয়া ছেড়ে সরাসরি রাজপথে নেমে আসেন এই ‘জেন-জি’ ও তরুণ আন্দোলনকারীরা।চলমান এই আন্দোলনে সিজেপির ওপর দফায় দফায় দমন-পীড়ন চালায় পুলিশ। জুনের শেষ দিকে দিল্লিতে যন্তর মন্তরে টানা অবস্থান কর্মসূচি শুরু হলে সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করা হয়। এতে যুক্ত হন বিখ্যাত শিক্ষাকর্মী সোনম ওয়াংচুক, যিনি একটানা ২৬ দিন অনশনে ছিলেন। চরম প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা পিছু হটেননি। এমনকি আন্দোলনকারীদের 'সন্ত্রাসীদের বি-টিম' বলে কটাক্ষ করলেও শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয় প্রশাসন।অবশেষে নরেন্দ্র মোদির আশ্বাসের পর ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলে প্রথম বড় জয় নিশ্চিত করে আন্দোলনকারীরা। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ বলেন, আমাদের আরশোলা বলে কটাক্ষ করার জন্যই আজ এই তরুণসমাজ জাগ্রত হয়েছে। যদি অন্যায় দেখে আমরা ভয় না পাই, তবে যে-কারও পদত্যাগ আদায় করা সম্ভব।শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ কেন্দ্র করে প্রথম দাবি পূরণ হলেও মৃত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করা এবং পুলিশের বলপ্রয়োগের জন্য ক্ষমা চাওয়ার মতো অন্য দাবিগুলোর বিষয়েও সরকারের নজর দাবি করেছে সংগঠনটি। মাত্র ৭১ দিনের ব্যবধানে নিছক একটি সোশ্যাল মিডিয়া পেজ থেকে শুরু হওয়া এই রাজনৈতিক রূপান্তর ভারতের যুব আন্দোলনের ইতিহাসে এক নতুন ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২ মাস ৮ দিন আগে

মেডিকেল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীসহ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে নয়াদিল্লি। এ সময় পার্লামেন্ট অভিমুখে যাওয়া ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকসহ অসংখ্য বিক্ষোভকারীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। পুলিশ এ সময় লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সোমবার (২০ জুলাই) সংসদ অভিযান কর্মসূচি ঘিরে হাজারো আন্দোলনকারী সংসদ ভবনের দিকে পদযাত্রার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে সমাজবাদী পার্টির এমপি এবং অখিলেশ যাদবের স্ত্রী ডিম্পল যাদবকেও পুলিশ আটক করেছে। নয়াদিল্লিতে পার্লামেন্ট থেকে যন্তর মন্তর পর্যন্ত একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করার সময় তাকে ও আরও বেশ কয়েকজন সমাজবাদী পার্টির এমপিকে আটক করা হয়। এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তবে বৈঠকে কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সেই বিষয়ে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিয়ে জল্পনার মধ্যেই এই বৈঠক রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।ককরোচ জনতা পার্টি অভিযোগ, তাদের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আন্দোলনকারীদের দাবি, তাদের নেতৃত্বকে দমন করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে আন্দোলনের দুই নেতা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডার সঙ্গে প্রায় ১০ মিনিট বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে আন্দোলনের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, তারা একটি লিখিত স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। নাড্ডা বিষয়টি অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগও দাবি করছেন। একই সঙ্গে পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক সোমবার তার অনশন শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
২ মাস ১৩ দিন আগে
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংঘটিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া অনেক আগে শেষ হলেও এর নেপথ্যের পরিকল্পনা, সহায়তাকারী ব্যক্তি কিংবা সম্ভাব্য বৃহত্তর ষড়যন্ত্র নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে আজও।সম্প্রতি মামলার পলাতক আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে গ্রেফতারের পর তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। সূত্রগুলোর দাবি, তার জিজ্ঞাসাবাদে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসছে, যা শুধু তার ব্যক্তিগত ভূমিকা নয়, বরং হত্যাকাণ্ডের আগে-পরে সংঘটিত নানা ঘটনার নতুন ব্যাখ্যা এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে পেতে সহায়ক হতে পারে।সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. সারোয়ার হোসেনের মতে, একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি কীভাবে এত দীর্ঘ সময় পরিচয় গোপন রেখে বিদেশে অবস্থান করতে সক্ষম হন এবং পরবর্তী সময়ে কীভাবে বাংলাদেশে ফিরে প্রায় তিন দশক আত্মগোপনে থাকতে পেরেছিলেন। এই পুরো সময়ে তার যোগাযোগ, আশ্রয়, অর্থায়ন এবং সহযোগীদের পরিচয় উদঘাটন করাই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের ভাষ্য, বর্তমানে সেনা হেফাজতে থাকা মোজাফফরের কাছ থেকে তার দীর্ঘ পলাতক জীবন, বিদেশে অবস্থান, সহযোগী নেটওয়ার্ক এবং ঘটনার সময়কার সামরিক যোগাযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এসব তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের পেছনের ঘটনাপ্রবাহ আরও স্পষ্ট হতে পারে।জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, জিয়া হত্যাকাণ্ডের পর মোজাফফর সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। সেখানে দীর্ঘ সময় ভিন্ন পরিচয়ে অবস্থান করার পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে ভারতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশেও ভ্রমণ করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর দাবি করেছেন, ১৯৯৮ সালে তিনি গোপনে বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে ছদ্মপরিচয়ে বসবাস করেন। পরে রাজধানীর একটি আবাসিক এলাকায় পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলেও নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন রাখেন। তদন্তকারীরা এখন অনুসন্ধান করছেন, এত বছর তিনি কীভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলেছেন এবং এই সময়ে তাকে কারা সহযোগিতা করেছে। মোজাফফরের বিরুদ্ধে নতুন করে সামারি অব এভিডেন্স, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং পরবর্তী কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তার ভাষায়, বিচার চলাকালে অনেক অমীমাংসিত বিষয় সামনে আসতে পারে। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, পলাতক থাকার পেছনের সহযোগিতা, তৎকালীন সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন বিতর্কিত প্রশ্ন আদালতের আলোচনায় উঠে আসার সুযোগ রয়েছে।জানা গেছে, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে সুচতুর মোজাফফর কৌশলে ভারতে পালিয়ে যান। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ দীর্ঘদিন ধরে তাকে প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা ও নিরাপদ আশ্রয় দিয়ে আসছিল। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতায় আত্মগোপনে ছিলেন। সে সময় ‘বিপ্লব সরকার’ এবং ‘জয় ব্যানার্জি’ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। ১৯৯৬ সালে তিনি অত্যন্ত গোপনে দেশে ফিরে আসেন এবং বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমল থেকে নির্বিঘ্নে জীবন কাটিয়ে যাচ্ছিলেন। কললিস্টের সূত্র ধরেই দীর্ঘ ৪৫ বছর পর গত বুধবার রাতে ঢাকার বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে পরদিন বৃহস্পতিবার। ওই দিন সন্ধ্যায় তাকে সেনা হেফাজতে দেওয়া হয়।এরপর গত শুক্রবার মোজাফফরকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে চট্টগ্রাম ক্যান্টমেন্টের সামরিক আদালতের হেফাজতে নেওয়া হয়। যেহেতু চট্টগ্রাম ক্যান্টমেন্টের কয়েকজন বিপথগামী অফিসারের নেতৃত্বে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল এবং সেখানেই ওই ঘটনার বিচার হয়েছিল তৎকালীন সময়ে, তাই নিয়মানুযায়ী তাকে সেখানে পাঠানো হয়।রোববার (১৯ জুলাই) রাতে মিলিটারি পুলিশ (এমপি) এবং আর্মি সিকিউরিটি ইউনিটের (এএসইউ) তত্ত্বাবধানে সামরিক বাহিনীর বিমানে তাকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে আনা হয়েছে। সেখানে তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাপারে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে গ্রিন সিগন্যাল পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। তবে এক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এককভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, নাকি সামরিক বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি, ডিজিএফআই, এনএসআই, ডিবি পুলিশ কিংবা এসবি এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক ব্যক্তিত্বদের সমন্বয়ে কোন টাস্কফোর্সের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।সংশ্লিষ্ট অনেকে জানিয়েছেন, পলাতক মেজর মোজাফফরকে গ্রেফতারের মাধ্যমে ইতিহাসের দায়মোচনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিদেশি নেপথ্য কুশলী যারা রয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের অপ্রকাশিত মাস্টারমাইন্ড কারা? টাস্কফোর্স কিংবা কমিশন গঠনের মাধ্যমে মুজাফফরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তা বেরিয়ে আসবে। ফলে দেশের মানুষ জানতে পারবে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়ককে কীভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জিয়া হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসের এমন একটি অধ্যায়, যার অনেক প্রশ্নের এখনও সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি। ফলে মোজাফফরের গ্রেফতার এবং জিজ্ঞাসাবাদ তদন্তের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া প্রতিটি তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই, প্রমাণ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা। কারণ একটি ঐতিহাসিক ও সংবেদনশীল হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য উদঘাটন কেবল রাজনৈতিক নয়, রাষ্ট্রীয় ইতিহাসের স্বার্থেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, জিয়া হত্যাকাণ্ড ঘিরে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহলের সম্পৃক্ততা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা দাবি ও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সম্ভাব্য ভূমিকা, তৎকালীন সামরিক নেতৃত্বের ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিভিন্ন লেখক, গবেষক ও বিশ্লেষক ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মোজাফফরের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করা হয় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। পরে ওই ঘটনায় সামরিক আদালতে বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করা হয়। মোজাফফর হোসেন ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম।অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই সেনা কর্মকর্তা স্বাধীনতার পর জাতীয় রক্ষীবাহিনীতে (জেআরবি) কমিশন পান। পরে বিতর্কিত রক্ষীবাহিনী বিলুপ্ত হয়ে সেনাবাহিনীতে একীভূত হলে তিনি সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হন। ১৯৮১ সালে তিনি ২৪ পদাতিক ডিভিশনে কর্মরত ছিলেন।
২ মাস ১৩ দিন আগে

বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা আবার চালুর সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় এনেছে। ঢাকায় নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর এ ঘোষণাটি এমন এক সময় এলো, যার ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগেই বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষ করে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ক্ষমতাগ্রহণের পর এটিই ছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রথম কোনো দ্বিপাক্ষিক বিদেশ সফর, যেখানে ঢাকাকে একটি 'নতুন যুগের কৌশলগত অংশীদারত্ব' উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছে বেইজিং। দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা একটি নাগরিক অধিকারের বিষয়কে ঠিক বেইজিং সফরের পরদিনই তড়িঘড়ি করে কার্যকর করা এবং ভারতের ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে একজন সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে ক্যাবিনেট পদমর্যাদা দিয়ে ঢাকায় দূত হিসেবে পাঠানো—এই দুটি ঘটনাকে নিছক 'রুটিন কূটনৈতিক প্রক্রিয়া' বলে মানতে নারাজ আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের ব্যবচ্ছেদ করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, এর পেছনে মূলত ভারতের নিজস্ব সুদূরপ্রসারি রাজনৈতিক, কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ কাজ করছে। মূলত বেইজিংয়ের প্রভাব ঠেকানো ও দিল্লির মনস্তাত্ত্বিক 'চীনভীতি' থেকেই এ ভিসা চালুর ঘোষণা দেয়া হয়। কারণ ভারতের এই আচমকা ভিসা চালুর পেছনে সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হলো বেইজিংকে ঘিরে তৈরি হওয়া দিল্লির মনস্তাত্ত্বিক চাপ বা 'চীনভীতি'। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২২-২৬ জুনের চীন সফর এবং সেখানে তিস্তা নদী চুক্তি ও বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডরে ঢাকার আগ্রহ প্রকাশ, ব্রহ্মপুত্র নদের জলতাত্ত্বিক তথ্য আদান-প্রদান এবং ২৪টি ফাইটার জেট ক্রয়ের গুঞ্জনসহ ২১টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর সাউথ ব্লককে এক প্রকার নাড়িয়ে দিয়েছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারতের নীতিনির্ধারকরা খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তারা যদি ঢাকাকে একঘরে করে রাখার বা ভিসা ব্লকেডের মাধ্যমে মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করার কৌশল অব্যাহত রাখে, তবে বাংলাদেশ দ্রুত বেইজিং ব্লকের দিকে ঝুঁকে পড়বে। গত ৩ জুলাই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালও স্বীকার করেছেন, তারা বাংলাদেশের এই চীন সফরের গতিপ্রকৃতি খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।জানতে চাইলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ভারত বাংলাদেশকে নিজের প্রভাব বলয়ে রাখার জন্য এতদিন যে নেতিবাচক বা ব্লকেড কূটনীতি ব্যবহার করছিল, তা বেইজিংয়ের 'নিউ ইরা’ বা ‘নতুন যুগ’ ঘোষণার পর অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। দিল্লি বুঝতে পেরেছে, ঢাকাকে সম্পূর্ণ অবহেলা করলে কৌশলগতভাবে ভারত নিজেই উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একাকী ও অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে। এই আকস্মিক ভিসা চালু মূলত বেইজিংয়ের প্রভাব ঠেকানোর একটি ড্যামেজ কন্ট্রোল পলিসি বা প্রতিরক্ষামূলক কৌশল।পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত দুই বছরে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৮% বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বিশাল অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উত্থানকে রুখে দিয়ে ঢাকাকে তার নিয়ন্ত্রণে রাখার শেষ অস্ত্র হিসেবে ভারত এখন 'পিপল-টু-পিপল কন্টাক্ট' বা জনগণের যাতায়াতের কার্ডটি খেলছে। দীনেশ ত্রিবেদীর মতো একজন ঝানু ও প্রবীণ রাজনীতিবিদকে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর পদমর্যাদা দিয়ে পাঠানোর উদ্দেশ্যই হলো ঢাকার নতুন সরকারের সঙ্গে দিল্লির আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতার দৌরাত্ম্য ছাড়াই সরাসরি রাজনৈতিক বোঝাপড়া করা এবং ভারতের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা।তবে এ ছাড়া কলকাতার ব্যবসায়ীদের মরণদশা ও ভারতের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক স্বার্থ বিষয়টিও ভিসা চালুর অন্যতম কারণ বলে ধরা হচ্ছে। কারণ, এই ভূ-রাজনৈতিক চালের পাশাপাশি ভারতের একটি বড় স্বার্থ লুকিয়ে ছিল তার নিজস্ব অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট মোচনের মধ্যে। বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা বন্ধ থাকায় গত দুই বছর ধরে ভারতের অঙ্গরাজ্যগুলোর, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার অর্থনীতিতে এক নজিরবিহীন ধস নেমেছিল, যা মোদি সরকারের ওপর বড় রাজনৈতিক চাপ তৈরি করে।কলকাতার ফেডারেশন অব ট্রেডার্স অর্গানাইজেশনসের এক সাম্প্রতিক তথ্যমতে, কলকাতার নিউমার্কেট, মারকুইস স্ট্রিট, সুডার স্ট্রিট এবং ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের প্রায় ৭০% ব্যবসা বাংলাদেশি ক্রেতাদের ওপর নির্ভরশীল। গত দুই বছরে এ অঞ্চলের খুচরা ব্যবসা এবং মাঝারি ও বাজেট হোটেলগুলোর ব্যবসা প্রায় ৬০-৬৫% হ্রাস পেয়েছিল। একই অবস্থা তৈরি হয়েছিল ভারতের মেডিকেল ট্যুরিজম খাতেও। ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পূর্ববর্তী তথ্য অনুযায়ী, ভারতে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে প্রায় ৫৪% ছিলেন বাংলাদেশি। চেন্নাই, কলকাতা ও মুম্বাইয়ের বড় হাসপাতালগুলোর সিংহভাগ আয় গত দুই বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যায়, যা ভারতের করপোরেট মেডিকেল খাতের জন্য ছিল বড় ধাক্কা।কলকাতার নিউ মার্কেটের একজন প্রবীণ ব্যবসায়ী আনন্দ পোদ্দার মুঠোফোনে জানান, বাংলাদেশি ক্রেতারা না আসায় কলকাতার ব্যবসায়ীরা দেউলিয়া হওয়ার পথে বসেছিলেন। বহু হোটেল এবং রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যবসায়িক সংগঠনগুলো রাজ্য সরকার ও দিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বারবার স্মারকলিপি দিয়ে চাপ সৃষ্টি করছিল। ফলে নিজের দেশের ভেতরের এই তীব্র অর্থনৈতিক ক্ষোভ ও ক্ষতি প্রশমন করাও ছিল ভারতের ভিসা চালুর অন্যতম প্রধান স্বার্থ।তবে ভিসা চালু হলেও বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ‘ভিসা পেলেও বাংলাদেশিরা আমরা কি ভারতে নিরাপদ?’। বিগত দিনে ভারতের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে, বিশেষ করে সোসাল মিডিয়ায় ছড়ানো প্রোপাগান্ডার জেরে বাংলাদেশি পর্যটক, শিক্ষার্থী ও রোগীদের ওপর নানা ধরনের মানসিক ও শারীরিক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। কলকাতার একাধিক ঘটনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও স্থান পেয়েছিল, যেখানে বাংলাদেশিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর হেনস্তা করা হয়।নিরাপত্তার এই মনস্তাত্ত্বিক সংকট নিয়ে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলেন, ভারতের মূলধারার গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দীর্ঘসময় ধরে বাংলাদেশ-বিরোধী যে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হয়েছে, তার ফলে সাধারণ ভারতীয়দের একটি অংশের মধ্যে উগ্রতা তৈরি হয়েছে। ভিসা চালু করা এক বিষয়, আর বাংলাদেশি নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অন্য বিষয়। ভারত সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে, তারা বর্ণবাদ বা জাতীয়তাবাদী উগ্রতা বরদাশত করবে না।যদিও দিল্লি অবশ্য দাবি করছে, তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে যাতে কোনো বিদেশি পর্যটক হেনস্তার শিকার না হন। নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় তাঁর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আশ্বস্ত করে বলেছেন, বাংলাদেশি নাগরিকরা ভারতের পরম বন্ধু এবং তাদের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষা করা ভারত সরকারের পরম দায়িত্ব। তবে বাংলাদেশের সচেতন মহল মনে করছে, ভারতের মাটিতে যতদিন না পর্যন্ত দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ ও হয়রানি বন্ধের নজির তৈরি হচ্ছে, ততদিন বাংলাদেশিদের মধ্যে এই ভীতি পুরোপুরি কাটবে না। এবারের ঘটনাটি একটি বিষয় পরিষ্কার করে দেয় আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে 'স্থায়ী কোনো বন্ধু বা শত্রু নেই, স্থায়ী কেবল নিজের দেশের স্বার্থ'।ভারত যে আজ আচমকা উদারতা দেখিয়ে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করল, তা কোনো নিঃস্বার্থ প্রতিবেশী সুলভ আচরণ নয়; বরং এটি তাদের আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে চীনের কাছে হেরে যাওয়া ঠেকাতে এবং ঢাকাকে চীনের বলয়ে সম্পূর্ণরূপে চলে যাওয়া থেকে আটকানোর একটি বাধ্যবাধকতার কৌশল। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের একটি বড় কূটনৈতিক বিজয়ও বটে, কারণ বেইজিং কার্ডটি সফলভাবে খেলতে পারায় দিল্লি বাধ্য হয়েছে তার নীতি পরিবর্তন করতে। -সংগৃহীত
২ মাস ২৭ দিন আগে
দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশিদের জন্য আবারও ট্যুরিস্ট (পর্যটন) ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ভারত। আর এর পরই দেশের বিভিন্ন ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে প্রতিদিন উপচে পড়া ভিড় জমছে আবেদনকারীদের।বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়ার পর ভিসা আবেদনকারীদের ধৈর্য ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন।শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে দেওয়া এক বার্তায় হাইকমিশন জানায়, গত ২৮ জুন ট্যুরিস্ট ভিসা সেবা পুনরায় চালু হওয়ার পর মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রগুলোতে ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে। বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ভারত ভ্রমণে আগ্রহী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে পাওয়া ব্যাপক সাড়ায় তারা উৎসাহিত।বার্তায় বলা হয়, ভিসা পরিষেবা আরও সম্প্রসারণ এবং আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, সাবলীল ও আবেদনকারীবান্ধব করতে কাজ করছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে আবেদনকারীদের ধৈর্য ও সহযোগিতার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।ভারতীয় হাইকমিশন আরও জানায়, ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ আরও জোরদার করা এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
২ মাস ২৯ দিন আগে
ওমান সাগরে ভারতের আরও একটি বানিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। লিয়াকি ফ্রিডম নামে জাহাজে মার্কিন বাহিনী শনিবার হামলা চালায় বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়।এর আগে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন বাহিনীর হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। হামলার ঘটনায় ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যু ঘিরে আমেরিকার বন্ধুদেশ ভারতের মধ্যে টানাপড়েন চলছে। ওমান উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ফরোয়ার্ড সিমেন’স ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া (এফএসইউআই)-র তরফে জানানো হয়েছিল, লিয়াকি ফ্রিডম নামে জাহাজে শনিবার হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। জাহাজটির সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা যায়নি। কারণ জাহাজের ‘ভেরি হাই ফ্রিকোয়েন্সি’ (ভিএইচএফ) রেডিও কাজ করছে না। তবে জাহাজটি কোথায় রয়েছে, সেই অবস্থান জানা গিয়েছে। হামলার পর জাহাজের অবস্থা কী, নাবিকরা কী পরিস্থিতিতে রয়েছেন, কোনও প্রাণহানি হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রসঙ্গত, গত চার-পাঁচ দিনে ওমান উপকূলের কাছে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। সেই হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। মার্কিন বাহিনীর এই ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ভারত। মার্কিন হানার তীব্র নিন্দা করেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শুক্রবার এই ঘটনা নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলেন তিনি। উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি হামলার তীব্র নিন্দাও করেছেন জয়শঙ্কর। গত বুধবার নয়াদিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসের শীর্ষ কূটনীতিককে তলবও করা হয়। কিন্তু তার পরেও বৃহস্পতিবার আরও একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে। গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী জাহাজ ‘জলবীর’-এ এই হামলা হয়। তার আগে ১০ জুন এমটি সেটেবেলো নামে জাহাজে হামলা চালানো হয়েছিল। সেই হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তরফে এই হামলার কথা স্বীকারও করা হয়। ওই দিন ম্যারিভেক্স নামে আরও একটি জাহাজে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। সেই জাহাজে ২৪ জন ভারতীয় নাবিক নাবিক ছিলেন। যদিও সবাইকেই উদ্ধার করেছিল ওমান প্রশাসন।
৩ মাস ২০ দিন আগে
বিশ্ব ফুটবলের মহাযজ্ঞ ‘ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬’ শুরু হতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। মাঠের লড়াইয়ের আগেই এবার উন্মাদনার পারদ আকাশ ছুঁয়েছে ফুটবলের বিনোদন মঞ্চে। আর সেখানেই দক্ষিণ এশিয়ার সিনেমাপ্রেমীদের জন্য এলো এক অবিশ্বাস্য ও গর্বের খবর! আবারও বিশ্ব ফুটবলের অফিশিয়াল মঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছেন বলিউডের ‘ড্যান্সিং কুইন’ নোরা ফাতেহি। আগামী ১২ জুন বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে স্বাগতিক কানাডার উদ্বোধনী ম্যাচটি ঘিরে টরন্টোর মাঠে ফুটবলাররা পায়ের জাদুতে যখন বিশ্ব কাঁপানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখন মাঠের বাইরে নোরা ফাতেহি তৈরি হচ্ছেন তার কোমর দোলানো নাচের ছন্দে পুরো বিশ্বকে নাচাতে!নোরা ফাতেহি ইতোমধ্যে ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল মিউজিক অ্যালবামের একটি ধামাকা ট্র্যাকে বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক পপ তারকাদের সাথে কাঁধ মিলিয়ে পারফর্ম করেছেন। ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিশিয়াল মিউজিক প্রজেক্টের অংশ হিসেবে নোরার এই নতুন গানটির শিরোনাম রাখা হয়েছে ‘সির সির’। বিখ্যাত মিউজিক প্রডিউসার সঞ্জয় এবং ফরাসি গায়ক ভেজেড্রিমের সাথে যৌথভাবে এই গানটিতে পারফর্ম করেছেন নোরা। নেটদুনিয়ায় গানটির একটি ছোট টিজার বা ঝলক প্রকাশ পেয়েছিল, যা মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। গত ৫ জুন পুরো অ্যালবামটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বব্যাপী মুক্তি পেয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নোরার ক্যারিয়ারকে এক ধাক্কায় অনেক দূর এগিয়ে দেবে।বিশ্বকাপের এই মিউজিক লাইনআপ দেখে চোখ কপালে উঠেছে বিনোদন বিশ্লেষকদের। ফিফা ঘোষিত অফিশিয়াল তালিকায় নোরা ফাতেহির নাম জ্বলজ্বল করছে অ্যালানিস মরিসেট, অ্যালেসিয়া কারা এবং মাইকেল বুবলের মতো বিশ্বসংগীতের কিংবদন্তিদের পাশে! বিভিন্ন দেশের কালচার ও মিউজিক স্টাইলকে এক সুতোয় বাঁধতেই ফিফা মোট ১৮টি গানের এই বিশেষ ফিউশন অ্যালবামের পরিকল্পনা করেছে, যা টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অফিশিয়াল ইভেন্টে বাজানো হবে।মিউজিক ধামাকার পাশাপাশি মাঠের ভেতরের প্রস্তুতিও এখন তুঙ্গে। উত্তর আমেরিকার অন্যতম ভেন্যু কানাডার টরন্টো শহর একাই বিশ্বকাপের ছয়টি হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ আয়োজন করতে যাচ্ছে। টুর্নামেন্ট চলাকালীন কেবল টরন্টো শহরেই প্রায় ৩ লাখের বেশি বিদেশী ফুটবল ভক্তের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নোরা ফাতেহি এর আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও অফিশিয়াল গান ও সমাপনী অনুষ্ঠানে নেচে বিশ্ব জয় করেছিলেন।
৩ মাস ২৭ দিন আগে
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে জড়িয়ে বক্তব্য দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্য মন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি বলেছেন, হাদির দুই হত্যাকারীকে পশ্চিমবঙ্গের নিরাপত্তা বাহিনী গ্রেফতারের পর তাকে ফোন করেন অমিত শাহ। এ সময় এই গ্রেফতারের বিষয়টি চেপে যেতে বলেছিলেন তিনি।ভারতীয় মিডিয়া 'দি টেলিগ্রাফ ইনডিয়া' বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এক রিপোর্টে বলেছে, মমতার এ মন্তব্য বাংলাদেশের অন্যতম স্পর্শকাতর একটি বিষয়কে আবারো সামনে নিয়ে এসেছে। আর এমন সময় বিষয়টি সামনে এসেছে, যখন বাংলাদেশ-ভারত আবারো নিজেদের মধ্যে আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে।গত ২ জুন কলকাতার এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মমতার করা মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে সবার নজরে চলে আসে। কারণ মমতার বক্তব্য বোঝাচ্ছে, হাদির হত্যাকারীদের ব্যাপারে ভারত তথ্য জানত। কিন্তু তারা সবকিছু লুকিয়ে রেখেছে।হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মমতা যে অভিযোগ করেছেন, তারপর বেশ কিছু প্রশ্ন এখন উঠেছে। টেলিগ্রাফ ইনডিয়া বলেছে, মমতার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওঠা প্রশ্নগুলো এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। যদি তার অভিযোগটি সত্যি হয়, তাহলে প্রমাণ হবে ইনডিয়া হাদি হত্যাকারীদের সম্পর্কে জানত। কিন্তু যদি তার তার অভিযোগটি অসত্য হয়, তাহলে হাদি হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি আরো বেশি রাজনীতিকরণ হবে, যা এরই মধ্যে বাংলাদেশের অন্যতম স্পর্শকাতর ইসুতে পরিণত হয়েছে। মমতার বিস্ফোরক মন্তব্যের পর অমিত শাহ এবং ভারত সরকার এখন পর্যন্ত পাল্টা মন্তব্য করেনি।টেলিগ্রাফ ইনডিয়া বলেছে, এমন সময় এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলো যখন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ও ভারত সম্পর্ক নাজুক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশই বলেছে তারা নিজেদের মধ্যে আস্থা অর্জন করতে চায়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করতে চায় এবং নিরাপত্তা সম্পর্ক রাখতে চায়।এ সবের মধ্যে মমতার মন্তব্য যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে তা দুই দেশের কেউই চাইবেনা। ভারতের রাজনীতিবিদরা হাদির হত্যাকারীদের সম্পর্কে জানেন, এমন যে কোনো কথা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে সন্দেহ আরো তীব্র করবে। কারণ অনেকেই মনে করেন বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে হস্তক্ষেপ করে ভারত।মিডিয়াটি বলেছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে মমতার বক্তব্যে যেন উত্তেজনা আর না বাড়ে। এ কারণে পররাষ্ট্র প্রতি মন্ত্রী শামা ওবায়েদ মমতার বক্তব্যকে সাবেক মুখ্য মন্ত্রীর বক্তব্য হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন।হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জেরে মমতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগওসমান হাদি হত্যা প্রসঙ্গে মন্তব্যের জেরে এবার রাষ্ট্রদ্রোহিতাসহ জামিন অযোগ্য ধারায় একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হলো পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্য মন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে। শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন কলকাতা হাই কোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের আইনজীবী রিংকু চ্যাটার্জি সিং।অভিযোগকারীর দাবি, মমতা ব্যানার্জি ইলেকশন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জনমনে ঘৃণা তৈরির অপচেষ্টা করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশের একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভারত সরকার ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে জড়িয়ে তার মন্তব্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সম্মান ক্ষুণ্ণ করেছে এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের (বাংলাদেশ) সঙ্গে কূটনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে। এই মন্তব্য দুই দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।তাই মমতার বিরুদ্ধে 'ভারতীয় ন্যায় সংহিতা'র (বিএনএস) ১৫২, ১৫৩, ১৫৩(এ),১৯১, ১৯২, ১৯৬, ৩৫১, ৩৫২, ৩৫৩-সহ একাধিক ধারায় এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। 'ভারতীয় ন্যায় সংহিতা'র ১৫২ ধারা দেশের সার্বভৌমত্ব, একতা এবং অখণ্ডতাকে বিপন্নকারী বা ক্ষুন্নকারী কার্যকলাপকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে।১৫৩ ধারা অনুযায়ী, ভারত সরকারের সঙ্গে শান্তিতে থাকা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা, যুদ্ধ করার চেষ্টা করা বা যুদ্ধে সহায়তা করা একটি গুরুতর অপরাধ।আইনজীবী রিংক চ্যাটার্জি সিং জানান, অবিলম্বে মমতার এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। ৮ জুন হাই কোর্ট খুললেই সাবেক মুখ্য মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তিনি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির দাবিতে মামলা করবেন।প্রসঙ্গত, বিধান সভার নির্বাচনে পরাজয়ের প্রায় এক মাস পর গত মঙ্গলবার (০২ জুন) প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচিতেই ওসমান হাদি হত্যা প্রসঙ্গ টেনে এনে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন মমতা। তাঁর দাবি, হাদি হত্যাকারীদের রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেপ্তার করার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর ফোন পান তিনি। তাকে বলা হয়, এই বিষয়টি যেন বাইরে না জানানো হয়।মমতা বলেছিলেন, 'বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল। যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক আন্দোলন হয়েছিল। অন্য দেশের কথা আমি বলছি না। আমার অধিকারও নেই বলার। কিন্তু আমি যেটা বলতে চাইছি তা হলো, ওই হত্যাকারীরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে। বাংলায় আসার পর আমাদের এসটিএফ তাদের ধরে। এইটা তাদের কৃতিত্ব। কিন্তু তারপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ নিজে আমাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, আপনি রাজ্য পুলিশকে জানিয়ে দিন এটা যেন বাইরে না যায়। কারণ এটা দেশের ব্যাপার।'এরপরই অমিত শাহ-এর উদ্দেশে মমতার প্রশ্ন, কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল? আজকের সরকার পরিবর্তন হলেও আমি সবটাই জানি। আমার হৃদয়টাই একটা কথার ভাণ্ডার। তথ্য ভাণ্ডার।' মমতা বলেন, 'কিন্তু এতদিন আমি বলিনি। কিন্তু আজকে অত্যাচারে শেষ সীমায় গেছে বলে আমাকে মুখ খুলতে হয়েছে। আমি সেই নামটা বলতে চাইছি না বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে। আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি। দেশের স্বার্থে ওই নাম আমি বলবনা।'টানাপোড়েন শুরু হয় শেখ হাসিনার পতন থেকেবাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে সীমিত থাকছে না দুই প্রতিবেশী দেশ। প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করে একে অন্যের কূটনৈতিক মিশন ঘেরাও করছে। দুই দেশের নেতাদের মধ্যে আস্থার সংকট এবারই প্রথম নয়। তবে এবার অনেক বেশি উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, যা অনেকটা স্বাভাবিকতার মাত্রা ছাড়িয়েছে। ফলে নতুন এক পরীক্ষার মুখে পড়েছে ঢাকা ও দিল্লি। উভয় দেশের কূটনীতিকরা দ্রুত অবনতিশীল সম্পর্কে উদ্বিগ্ন।সম্প্রতি ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও চট্টগ্রামে ভারতীয় মিশন ঘেরাও করেছে একটি গ্রুপ। তার জবাবে উগ্র হিন্দুদের একটি গ্রুপ দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশন ঘেরাও করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তলব করে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার সময়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ভারতে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের ফেরত চেয়েছে। জবাবে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রণালয়ে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করে বাংলাদেশে ভারতীয় কূটনীতিক ও মিশনের নিরাপত্তায় উদ্বেগ জানানো হয়েছে। পরস্পরের বিরুদ্ধে কথার পাল্টাপাল্লি চলছেই। তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) হাসনাত আবদুল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্য তথা সেভেন সিস্টার্সের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, হাসনাত আবদুল্লাহ সরকারের কেউ নন। তার বক্তব্য মোটেও সরকারের বক্তব্য হতে পারে না। শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে ভারতীয় নেতাদের সম্পর্ক নিবিড় ছিল। এমন অভিযোগও উঠেছে যে, ভারতের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে ওই সময়ে বাংলাদেশে একতরফা নির্বাচন হয়েছে। শেখ হাসিনার আমলে প্রতিটি নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, অধিকাংশ আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যাওয়া, দিনের ভোট রাতে হওয়ার ঘটনায় ভারত টু শব্দটি পর্যন্ত করেনি। বরং তারা ওই সব খারাপ নির্বাচনকে বৈধতা দিয়েছে। এসব কারণে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে ভারতবিরোধী মনোভাব বিস্তৃত হয়। অভিযোগ ওঠে, বাংলাদেশের সঙ্গে নয়, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক করছে ভারত। ফলে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে অভ্যুত্থানের সময় নতুন সেøাগান ওঠে, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’। সেই ভারতবিরোধিতার ঢেউ এখনো চলছে। ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে দেখা দিয়েছে ছন্দঃপতন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চার হাজার কিলোমিটারের বেশি অভিন্ন স্থল সীমান্ত রয়েছে। সমুদ্র সীমান্ত আছে। অভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আছে। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত শরণার্থীদের আশ্রয় এবং মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যেক সময়ে সহায়তা করেছিল। ওই সময়ে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি ভারতের জনগণের সহায়তার কারণে এ দেশে একটি ভাবাবেগের সৃষ্টি হয়েছিল। গোটা বাংলাদেশের জনগণ ভারতের প্রতি অকুণ্ঠ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিল। দিনের পর দিন সেই আবেগে চির ধরে। অনেকে মনে করেন, দুই প্রতিবেশী দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান নিবিড় বন্ধনে ভারতের বড় ভাই সুলভ আচরণ যা ‘দাদাগিরি’ নামে অধিক পরিচিত, ক্ষতির কারণ হয়েছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শেখ হাসিনার অতিমাত্রায় ভারতপ্রীতি। অনেকে মনে করেন, বাংলাদেশের মানুষের ভারত বিরোধিতার সুযোগে ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে দিল্লিবিরোধী আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পক্ষগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মুক্তিযুদ্ধের পরপরই বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার ছিলেন জে এন দিক্ষিত। তিনি পরবর্তী সময়ে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হয়েছিলেন। তিনি তার এক বইয়ে লিখেছেন, শেখ মুজিবুর রহমান ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইতেন। কিন্তু তিনি এটাও চাইতেন যে, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সঙ্গেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ক গড়ে উঠুক। সেটা ভারতের পছন্দ ছিল না। শেখ মুজিব বাংলাদেশ থেকে দ্রুত ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহার এবং বাংলাদেশের প্রতি পাকিস্তানের স্বীকৃতি আদায়ের শর্তে সম্পর্ক স্থাপন এবং করাচিতে ওআইসির সম্মেলনে যোগ দেন।রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি ভারতের সঙ্গেও সুসম্পর্ক বজায় রাখেন। বিশেষ করে জিয়াউর রহমান দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) গড়ার উদ্যোগ নেন, যা বাংলাদেশের কূটনীতির শ্রেষ্ঠতম উদ্ভাবন। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির এই ধারাবাহিক প্রবণতা ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’ নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার প্রথম মেয়াদেও অনেকটা সেই ধারা বজায় ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সম্পর্ক বেশি ভারত নির্ভর হয়ে ওঠে। ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী নিজে এবং তার দলের বড় নেতারা ভারতে আশ্রয় নিলে চরম আস্থাহীনতা দেখা দেয়। এই অবস্থার সুযোগ নিয়ে ভারতবিরোধী আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পক্ষগুলো নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছাকাছি আসার চেষ্টায় লিপ্ত। অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের সঙ্গে ওয়ার্কিং সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে মতামত দেওয়ার পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত নেয়। পরিবর্তিত বাস্তবতার প্রভাব এবং নিরাপত্তা সংকটের দায়ে ভারত মেডিক্যাল ভিসা ছাড়া অন্য সব ধরনের ভিসা বন্ধ করে দেয়। দিল্লির এমন পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে জনগণের পর্যায়ে সম্পর্ক মারাত্মক বিঘ্নিত করছে। বাংলাদেশে যেসব দেশের দূতাবাস নেই; অনেকে উচ্চশিক্ষা কিংবা অভিবাসনের মতো কাজে তৃতীয় ওই সব দেশের ভিসা ভারতে অবস্থিত দেশগুলোর দূতাবাস থেকে সংগ্রহ করেন। ওই সব দেশের ভিসা প্রার্থীরা বিপাকে পড়েছেন। ভিসা না থাকায় দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী রেল চলাচল বন্ধ।
৩ মাস ২৮ দিন আগে
‘বাংলাদেশে ধর্মীয় বিশ্বাসের চেয়েও পারিবারিক মর্যাদা এবং অর্থনৈতিক একক আধিপত্য দেখাতে অনেকেই পশু কোরবানি দেয়। ধনী বা বুর্জোয়া শ্রেণির কাছে এটা একটা প্রতিযোগিতা। -অর্থনৈতিক বিশ্লেষক আবদুল বায়েস
৪ মাস ৯ দিন আগে
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম) বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এবার ভোট হয়েছে বাংলাদেশের কায়দায়। যা হাসিনার পরামর্শ মতে ভোটে ইঞ্জিনিয়ারিং করে মমতাকে হারিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে।রবিবার চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যের সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম)। তিনি বলেন, নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী জেতার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘু মুসলমানদের উপর নির্যাতন করা হচ্ছে। পত্র-পত্রিকায় দেখলাম সেখানে মুসলমানদের গাড়িতে বেঁধে টেনে টেনে নির্যাতন করা হচ্ছে। কর্ণেল অলি আহমদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বিএনপি দ্রুত নির্বাচন চেয়েছিল, আমরা বলেছি-আগে বিচার, সংস্কার ও নতুন সংবিধান। নির্বাচনে গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণ 'হ্যাঁ' ভোট দিয়ে জুলাই সনদকে বৈধতা দিয়েছে। কিন্তু সরকার গঠনের পর বিএনপি সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে, যার ফলে আজকে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী চাটুকারদের দ্বারা বেষ্টিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনি এসব বেষ্টনী থেকে বের হয়ে জনগণের ইচ্ছার প্রতি ফিরে আসেন। বেগম জিয়া ও জিয়াউর রহমানের মর্যাদা রক্ষা করুন। ইচ্ছা করলেই ক্ষমতায় থাকা যায় না। ক্ষমতায় থাকতে হলে নীতি-নৈতিকতা ও জনগণের সমর্থন প্রয়োজন হয়। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে আপনি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না।তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে। আমি বলবো প্রধানমন্ত্রীকে চিন্তা করতে হবে, তাঁর দলের যে যাই করুক, দায় তাঁকেই নিতে হবে। দ্রব্যমূল্যের কারণে মানুষের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি হলে সরকার সেটি সামাল দিতে পারবে না। বিরোধী দলও আঙুল চুষবে না।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় এতে প্রধান আলোচক ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট শিশির মনির।জামায়াতের ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিততে তাঁর পক্ষে সালাউদ্দিন সাহেব ঘোষণা দিয়েছেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন। প্রধানমন্ত্রীও বিভিন্ন জায়গায় এমন কথা বলেছেন। কিন্তু উনারা গণভোট অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে বলছেন না কেন? কারণ বিএনপি জুলাই সনদ জুলাইয়ের ¯িপরিট নয়, নিজেদের মতো করে বাস্তবায়ন করতে চান। তিনি বলেন, বিএনপি জুলাই সনদে যে ১০টি বিষয়ে নোট অফ ডিসেন্ট দিয়েছেন সেগুলোই স্বৈরাচার উৎপাদনের হাতিয়ার। এসব নোট অফ ডিসেন্ট ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে হ্যা ভোট দিয়ে খারিজ করে দিয়েছে।বল সরকারের কোর্টে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বল এখন জামায়াতের কোর্টে নেই। বল আপনাদের কোর্টে। আপনারা যদি ভুল করেন তাহলে আপনাদের বারেই ঢুকে যাবে। তিনি বলেন, জনগণের ভাষা বুঝতে চেষ্টা করুন, পাঁচ কোটি মানুষের গণভোটের রায়কে অস্বীকার করে দেশে নতুন সংকট তৈরি করবেন না। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিন, তা না হলে যারা অতীতে কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পথ বেছে নিয়েছিল, তাদের মতো পরিণতি ভোগ করতে হবে।অ্যাডেভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, গণভোট জনগণের প্রত্যক্ষ মতামত প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি দলের অবস্থান নেওয়া কোনভাবেই কাম্য নয়। এতে সাংবিধানিক, রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সংকট তৈরি হয়। তিনি আরও বলেন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭ অনুযায়ী গণভোট জনগণের সার্বভৌমত্বের বাস্তব প্রয়োগ। অতীতে ১৯৮৫, ১৯৯৬ ও ১/১১ এর সংকট এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান প্রমাণ করে জনগণের সরাসরি রায় অগ্রাহ্য করা ক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয় না। যুক্তরাজ্য, গ্রিস, কলম্বিয়ার নজিরও তাই বলে।
৪ মাস ২২ দিন আগে
এবার মানুষ নয়, কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে ফেনীর তিন গরুও ভারতের ত্রিপুরায় চলে গেছে। ফেনীর পরশুরামের মীর্জানগর ইউনিয়নের আশ্রাফপুর সীমান্ত দিয়ে গরুগুলো ত্রিপুরা চলে যায়। এতে গরুর মালিক নুরুন নেসা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। গরুগুলো ফিরিয়ে আনতে বিজিবি যোগাযোগ করছে বিএসএফের সঙ্গে।ভুক্তভোগী নুরুন নেসা (৫৫) ফেনীর পরশুরামের মীর্জানগর ইউনিয়নের আশ্রাফপুর গ্রামের বাসিন্দা। ২০ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারানোর পর গরু পালন ও দুধ বিক্রি করে সংসার চালান তিনি। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে দুইজন প্রতিবন্ধী।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২ মে) নুরুন নেসার ছেলে নজরুল ইসলাম গরুগুলোকে ঘাস খাওয়াতে নিয়ে যান আশ্রাফপুর বড় কবরস্থান এলাকায়। এক পর্যায়ে তিনটি গরু কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে চলে যায় ভারতের অভ্যন্তরে।গরুগুলো ত্রিপুরার রাজনগর থানার সামনে রাখা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাংবাদিক গরুগুলো সেখানে দেখতে পেয়েছেন বলে দাবি করেন। গরুর মধ্যে রয়েছে দুটি গর্ভবতী গাভী এবং একটি বড় বাছুর।নুরুন নেসা পরশুরাম মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। ফেনীস্থ ৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানালেন, গরুগুলো ফেরত আনতে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং সমাধানের চেষ্টা চলছে বিষয়টির।
৪ মাস ২৯ দিন আগে