আলোচিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম (আলিফ) হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আঝোড়ে কা^দলেন অ্যাডভোকেট শহিদুল আলম রাহাত। এ সময় আদালতকক্ষের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। আদালতে উপস্থিত অনেক আইনজীবীও আবেগাপ্লুত হন।
সোমবার (২০ জুলাই) চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারক ফজলে খোদা মোহাম্মদ নাজিরের আদালতে এ ঘটনা ঘটে। বিচারক সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীকে জেরা করেন।
শুনানিতে চার্জশিটভুক্ত আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ভার্চুয়ালি আদালতে হাজির করা হয়। অপর আসামিদের কারাগার থেকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে আনা হয়।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ও আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, নিহত আইনজীবী আলিফের পিতা এর আগে সাক্ষ্য দিলেও তাঁর জেরা স¤পন্ন করতে আসামিপক্ষ, বিশেষ করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে অন্তত ছয়বার সময়ের আবেদন করা হয়েছিল।
আজও রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষীর জেরা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে আইনজীবী আবারও সময়ের আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে জেরার পরবর্তী তারিখ আগামী ২০ আগস্ট নির্ধারণ করেন। একই শুনানিতে আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত।
মামলায় এ পর্যন্ত ২৭ জন আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন এবং ১২ জন আসামি এখনও পলাতক। চার্জশিটভুক্ত মোট আসামির সংখ্যা ৩৯ জন, যার মধ্যে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসও অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা পর্যায়ে বিচারাধীন রয়েছে।
মামলার নথির তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে নগরের কোতোয়ালী থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।
২০২৫ সালের ১ জুন আলিফ হত্যা মামলায় চট্টগ্রাম আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন সিএমপির কোতোয়ালী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান চার্জশিট দাখিল করেন। মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৮ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
গত ২৫ আগস্ট তৎকালীন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতার শুনানি শেষে সুকান্ত দত্তসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেছিলেন আদালত।
৩১ জনকে আসামি করে মামলার এজাহার দায়ের করা হলেও এজাহারনামীয় গগন দাশ, বিশাল দাশ ও রাজকাপুর মেথরের স¤পৃক্ততা না পাওয়ায় মামলার দায় থেকে তাদের অব্যাহতির আবেদন করেছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা। তবে নতুন করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ আরও ১০ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করে ২০২৫ বছরের ২৫ আগস্ট চিন্ময় কৃষ্ণসহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে বাদীর উপস্থিতিতে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদালত।