মাগুরা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের বাড়িতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে মাগুরা শহরের কেশবমোড়ের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয়রা জানান, বাড়ির দক্ষিণ পাশের লোহার প্রধান গেটের উপরের অংশ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। খবর পেয়ে রাত ৯টা ১৫ মিনিটে মাগুরা সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে স্থানীয় কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। এছাড়া এটি সত্যিই পেট্রোল বোমা ছিল, নাকি অন্য কোনো বস্তু নিক্ষেপ করা হয়েছে, সে বিষয়েও এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি বলে জানিয়েছেন মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
২ মাস ৪ দিন আগে
আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে দেওয়া বক্তব্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক শিক্ষা, সমাজে বিদআত পরিহার এবং নৈতিক জাতি গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে দেওয়া তার বক্তব্যকে সামাজিক মাধ্যমে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নেটিজেনরা। এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনার পতনের পর তাকে সেফ এক্সিট দেওয়া নিয়ে বিতর্কে পড়েন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। এ ঘটনার পর তাকে সেনা প্রধানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে গ্রেফতারের দাবিও উঠেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী শিক্ষা ও মূল্যবোধের পক্ষে কথা বলায় সেই বিতর্ক কাটিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন সেনাপ্রধান। সেনাপ্রধান গত সোমবার রাজধানীর জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট (এআইআইআই) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এতে সেনাপ্রধান বলেন, সমাজে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুশীলনের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত সংযোজন বেড়েছে। এসব থেকে বেরিয়ে এসে কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক সঠিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই লক্ষ্যেই আধুনিক ও ইসলামী শিক্ষার সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, বিদআত ছেয়ে গেছে এদেশে। দোয়ার মধ্যে বিদআত, নামাজের মধ্যে বিদআত। সবখানে বিদআতে ছেয়ে গেছে। এগুলো থেকে বের হয়ে আসতে হবে। একটি সুস্থ সমাজ ইসলামিক সমাজ আমরা চাচ্ছি, এই এডুকেশন সিস্টেমের মাধ্যমে। আমি মনে করি এভাবে যদি আমরা এডুকেশন ইন্সটিটিউশগুলোকে গড়ে তুলি, তাহলে আমরা একটা এডুকেশন সিস্টেম পাব, যেভাবে ইসলামিক ভেল্যুসগুলো থাকবে। মর্ডান এডুকেশন থাকবে। যাতে সোসাইটি লাভবান হয়।আধুনিক ও ইসলামী শিক্ষার সমন্বয় ছাড়া ভবিষ্যতে নৈতিক, দক্ষ ও মানবিক জাতি গঠন সম্ভব নয় মন্তব্য করে সেনাপ্রধান বলেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় একদিকে আধুনিক শিক্ষায় ইসলামী মূল্যবোধের ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে ইসলামী শিক্ষায় আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতার অভাব দেখা যায়। এর ফলে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত অনেকের সমাজে কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। তাই সময়ের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক ও ইসলামী শিক্ষার সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। আজ যদি আমরা শিক্ষাব্যবস্থাকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারি, তাহলে আগামী ৩০ বছর পর একটি সুস্থ, আদর্শ ও নৈতিক জাতি উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, নবপ্রতিষ্ঠিত আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষার্থীরা আধুনিক জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও ইসলামী নৈতিক মূল্যবোধ সবকিছু একসঙ্গে অর্জনের সুযোগ পাবে।সেনাপ্রধানের এমন বক্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমে তাকে নিয়ে প্রশংসা করছেন নেটিজেনরা। সুলতান মাহমুদ রুপশ নামে ফেসবুক ব্যবহারকারী একজন লিখেছেন, ধন্যবাদ মাননীয় সেনাপ্রধান! আপনাকে যত দেখছি মুগ্ধ হচ্ছি।জাকিরুল আলম মিলন নামে একজন লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! দেশের জন্য এরকম দ্বীনদার সেনাপ্রধান একান্ত কাম্য! আমি তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ নেক হায়াত কামনা করি! শ্রদ্ধেয় সেনাপ্রধানের জ্ঞানগর্ভ, বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমাদের গর্বিত সেনাবাহিনী আরো উদ্যমে, সুসংগঠিত এবং নিবেদিত প্রাণ হয়ে দেশের জন্য কাজ করবেন! মহান আল্লাহ প্রতিটি সেনা সদস্যকে তার খাস বান্দা হিসেবে কবুল করুন!’ইসমাইল টোলিন নামে একজন লিখেছেন, ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও মানবিকতার কথা একজন দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মুখে শুনতে সবসময়ই ভালো লাগে। সেনাপ্রধানের বক্তব্যে ইসলামের রীতি-নীতি ও নৈতিক শিক্ষা তুলে ধরার প্রচেষ্টা আমার কাছে ইতিবাচক মনে হয়েছে। এতে তার প্রতি আলাদা একটি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। দেশের কল্যাণ, শৃঙ্খলা ও মানুষের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার এমন উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। মহান আল্লাহ তাকে ন্যায়, সততা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে দেশের সেবা করার তাওফিক দান করুন।
২ মাস ৫ দিন আগে
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ৯৮তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে অফিসার ক্যাডেট পদে নিয়োগের জন্য আবেদন শুরু হয়েছে। প্রার্থীকে অবশ্যই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অথবা সমমানের ডিগ্রিধারী হতে হবে। তবে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদেরও আবেদনের সুযোগ রয়েছে। আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।শিক্ষাগত যোগ্যতা: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট/সমমান উত্তর পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ-৪.৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। ও লেভেলে ৬টি বিষয়ের মধ্যে ন্যূনতম ২টি এ গ্রেড, ৩টি বি গ্রেড ও ১টি সি গ্রেড এবং এ লেভেলে ২টি বিষয়েই ন্যূনতম বি গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। ২০২৬ সালের এইচএসসি/এ লেভেল পরীক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন।অন্যান্য যোগ্যতা :-উচ্চতা- পুরুষ: ১.৬৩ মিটার (৫ ফুট ৪ ইঞ্চি). নারী: ১.৫৫ মিটার (৫ ফুট ১ ইঞ্চি)ওজন- পুরুষ: ৫৪.০০ কিলোগ্রাম (১২০ পাউন্ড), নারী: ৪৭.০০ কিলোগ্রাম (১০৪ পাউন্ড)বুকের মাপ- পুরুষ: স্বাভাবিক-০.৭৬ মিটার (৩০ ইঞ্চি) ও প্রসারিত-০.৮১ মিটার (৩২ ইঞ্চি)নারী: স্বাভাবিক-০.৭১ মিটার (২৮ ইঞ্চি) ও প্রসারিত-০.৭৬ মিটার (৩০ ইঞ্চি)বৈবাহিক অবস্থা: অবিবাহিত/অবিবাহিতা (বিপত্নীক/বিধবা/বিবাহ বিচ্ছেদকারী/তালাকপ্রাপ্ত নয়)জাতীয়তা: জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিক পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়. চাকরির ধরন: সরকারি, ফুল টাইমদায়িত্বসমূহ :-বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে ৩ বছরের প্রশিক্ষণ গ্রহণ।বিএমএ-তে সফল প্রশিক্ষণ শেষে 'লেফটেন্যান্ট' পদে কমিশন লাভ।দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং নির্ধারিত দায়িত্বে নিয়োজিত থাকা।সেনাবাহিনীর নিয়ম ও শৃঙ্খলা মেনে দায়িত্ব পালন করা।প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষবয়সসীমা: ১ জুলাই ২০২৭ তারিখে প্রার্থীর বয়স সাড়ে ১৬ থেকে ২১ বছর হতে হবে। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে অ্যাফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয়। তবে সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই সীমা ১৮-২৩ বছর।বেতন: সশস্ত্র বাহিনীর বেতনক্রম অনুযায়ীঅন্যান্য সুবিধা: বিদেশে প্রশিক্ষণ, চিকিৎসাসেবা, উচ্চশিক্ষা সুবিধা এবং সন্তানদের পড়াশোনার সুব্যবস্থা।কর্মস্থল: বাংলাদেশ ও বিদেশে (প্রয়োজন অনুযায়ী)আবেদন যেভাবে: অনলাইন, আবেদন ফি: ১,০০০ টাকাআবেদন শুরু: ২৬ জুলাই ২০২৬, আবেদনের সময়সীমা: ১৭ অক্টোবর ২০২৬নির্দেশনা :- প্রাথমিক নির্বাচনী (স্বাস্থ্য ও মৌখিক) পরীক্ষা আগামী ২৫ অক্টোবর ২০২৬ হতে ১২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত হবে।লিখিত পরীক্ষা আগামী ২৭ নভেম্বর ২০২৬ (শুক্রবার) সকাল ৮ টায় অনুষ্ঠিত হবে। ফলাফল প্রকাশ করা হবে ডিসেম্বর ২০২৬ মাসের ২য় সপ্তাহে।আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এই লিংকে ক্লিক করুন।
২ মাস ৯ দিন আগে
চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডের নতুন আতঙ্ক আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর একাধিক মামলার আসামি মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে খুঁজছে পুলিশ। তাকে গ্রেফতার করতে ডেভিড ইমনের জন্মস্থান ফটিকছড়িতে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন। মঙ্গলবার রাত থেকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা শুরু করা হলেও পুলিশ এখনো নাগাল পায়নি ডেভিট ইমন বা তার সহযোগী কারও। এ নিয়ে হাসি তামাশা করছেন নগর ও ফটিকছড়ির মানুষ। তাদের অনেকেরই ভাষ্য, ডেভিড ইমন তাকে চট্টগ্রাম শহরে। আর পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে ফটিকছিড়িতে। যেন বগলের তলে রেখে ডেভিড ইমনকে খুঁজছে পুলিশ। তার সত্যতা মেলে ইমনের একটি অডিও কল রেকর্ডেও। ডেভিড ইমন পরিচয় দিয়ে ফোন করা এক ইন্টারনেট ব্যবসায়ীকে বলতে শোনা যায়, আমাকে না চিনলে পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেন, বড় সাজ্জাদ বাহিনীর ডেভিড ইমন ফোন করেছে বলেন, আমার ফোন নম্বর দেখান, তিনিই বলে দেবেন আমি কে। এই রেকর্ডে জন্ম দেয় নানা প্রশ্নের। গত ১৩ জুলাই সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোডে ডিডিএন নামের একটি ইন্টারনেট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে ৩০-৩৫ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। ওই ঘটনার পর ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকের সঙ্গে ডেভিড ইমনের একটি ফোনালাপের রেকর্ড ফাঁস হয়।অভিযানের সফলতা নিয়েও প্রশ্নচট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মঙ্গলবার রাতে সবশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকায় অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। অভিযানের শুরুতে ইমনের পরিবারের কয়েকজনের মোবাইল ফোন হেফাজতে নেয় পুলিশ। তারপর তথ্য সংগ্রহ করে অভিযান শুরু করে। তবে ইমনের নাগাল এখনও পায়নি পুলিশ।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ডেভিড ইমন ইন্টারপোলের তালিকাভুক্ত বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর (বড় সাজ্জাদ) অন্যতম প্রধান বিশ্বস্ত সহযোগী। দীর্ঘদিন ধরে সে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও শিল্প গ্রুপ থেকে বড় অঙ্কের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের বাকলিয়ার জোড়া খুন ও পতেঙ্গায় ঢাকাইয়া আকবর হত্যাকান্ডসহ ৭টি হত্যা মামলা রয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম মহানগরীর চকবাজার এলাকার ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) নামক একটি ইন্টারনেট গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে ডেভিড ইমন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সোমবার (১৩ জুলাই) ২০-২৫ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল প্রকাশ্য দিবালোকে ওই অফিসে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনের নগদ ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এই ঘটনার ফোনের একটি অডিও কল রেকর্ড ও সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডেভিড ইমনের নিজ এলাকা ফটিকছড়ির কাঞ্চন নগরে তার খোঁজে মাঠে নামে জেলা পুলিশের বিশেষ টিম। কে এই ডেভিড ইমনপুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডে ডেভিড ইমনের নাম আলোচিত হয় ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে। শুরুতে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের কয়েক সহযোগীর একজন হিসেবে নাম উঠে এলেও ধীরে ধীরে একক অস্তিত্বও জানান দেন তিনি। যদিও বড় সাজ্জাদের সহযোগী হিসেবেই এখনো পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন ডেভিড ইমন। তার বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগরে। তার বাবার নাম মো. মুসা। সাধারণ কৃষকের ঘরে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। লেখাপড়াও তেমন করেননি। অল্প বয়সে কিশোর গ্যাং-এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। সাজ্জাদের গ্রুপে যোগ দিয়ে একাধিক হত্যাকান্ড ঘটিয়ে সহজেই তার (সাজ্জাদ) নজরে আসেন। বর্তমানে ইমন চট্টগ্রামে সাজ্জাদ আলী খানের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসাবে কাজ করছেন। সাজ্জাদ আলীর গ্রুপে অর্ধশতাধিক তরুণ সন্ত্রাসী রয়েছে। অপরাধের নেটওয়ার্ক চট্টগ্রামজুড়েস্থানীয়দের মতে, চট্টগ্রামজুড়েই এই অপরাধি চক্রের নেটওয়ার্ক। তবে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, পতেঙ্গা, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, আনোয়ারা ও হাটহাজারী উপজেলায় এই চক্রের প্রভাব বেশি। মূলত এসব এলাকায় বিচরণ ডেভিড ইমনের। যেখানে তারা প্রতিনিয়ত নানা অপরাধ কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছেন। ডেভিড ইমনের আগে ছোট সাজ্জাদ ওরফে সাজ্জাদ হোসেন এই গ্রুপের নেতৃত্ব দিতেন। ছোট সাজ্জাদ বর্তমানে কারাগারে থাকায় ডেভিড ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান আলম নগরী ও জেলাকে ভাগ করে পৃথকভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তারা কতিপয় পুলিশ সদস্যের সাথে সমন্বয় করে অপরাধ কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। সে হিসেবে বলা যায় পুলিশের বগলের তলেই ডেভিড ইমন। পুলিশের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে রাতে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর খুনে সরাসরি জড়িত ছিলেন ডেভিড ইমন। এর আগে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট আনিস ও মোহাম্মদ হাসান নামে দু‘জনকে ব্রাশফায়ারে হত্যার ঘটনা ঘটে। ওই হত্যাকান্ডে ডেভিড ইমন জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।সর্বশেষ সোমবার বাকলিয়া এক্সেস রোডে ডিডিএন নামে ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে হামলায় অন্তত ৩০ জন সন্ত্রাসী অংশ নেন। তাদের সবার বয়স ২০ থেকে ৩০ বছর। সবাই সাজ্জাদ আলী খান গ্রুপের সদস্য। মুখোশ পরে থাকায় অনেকের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশও তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। ওই ঘটনার পর ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকের সঙ্গে ডেভিড ইমনের একটি ফোলালাপ ফাঁস হয়। এতে ডেভিড ইমন পরিচয় দিয়ে ফোন করা ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, আমাকে না চিনলে পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেন, বড় সাজ্জাদ বাহিনীর ডেভিড ইমন ফোন করেছে বলেন, আমার ফোন নম্বর দেখান, তিনিই বলে দেবেন আমি কে। আরেকটু সময় থাকলে বাঁশখালীর সাবেক এমপি স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের বাড়ির সামনে কী হয়েছে জানা নেই আপনার? আপনি কি মুজিবুর রহমানের থেকে বড় হয়ে গেছেন? ব্যবসা করতে চাইলে একবারে দুই কোটি টাকা ও প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে দেবেন। না হলে দুদিনের মধ্যে ব্যবসা গুটিয়ে নেবেন, আমার পোলাপান ব্যবসা করবে। সূত্রমতে, গত ২ জানুয়ারি সকালে নগরীর চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক পূর্বদেশের প্রকাশক, সাবেক এমপি মুজিবুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। এরপর ওই বাসার নিরাপত্তায় পুলিশের পাঁচ সদস্যকে নিয়োগ করা হয়। দুই মাসের মাথায় পুলিশ পাহারা থাকাবস্থায় ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৫টার দিকে ফের ওই বাসা লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে বড় সাজ্জাদের বাহিনী ওই হামলা চালায় বলে দাবি করে পুলিশ। পরে ৩০ লাখ টাকা দিয়ে মুজিবুর রহমান রেহাই পান বলে এলাকায় প্রচার হয়। তবে এ ব্যাপারে পুলিশ কিংবা মুজিবুর রহমান কেউ পরে আর কথা বলেনি। ডেভিড ইমনের বিচরণ বিলাসবহুল ভবনের ছাদে হাঁটতে হাঁটতে ফোনে কথা বলছেন, ব্যাকগ্রাউন্ডে হিন্দি গানের মিউজিক বাজছে। কখনো পাঁচ তারকা হোটেলের লবিতে বৈঠক করছেন অন্যদের সঙ্গে কিংবা বিলাসি বারে বসে বিয়ার খাচ্ছেন। এমন হাজারো ছবি ও ভিডিও শেয়ার করা আছে ডেভিড ইমনের নিজের ফেসবুক ওয়ালে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ফলোয়ারও কয়েক লাখ। নির্দিষ্ট পরিমাণ ফলোয়ার সংখ্যা পার হলে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফটোকার্ডও শেয়ার করেন ডেভিড ইমন। ফেসবুক ঘাঁটলে প্রথম দেখায় মনে হবে হিন্দি ছবির সেলিব্রেটি কোনো নায়ক। বাংলাদেশের গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশ হলে নিজেই শেয়ার করেন। অতিরঞ্জিত কিছু লেখা হলে প্রতিক্রিয়া জানান। সুদর্শন এই যুবকই এখন চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডের নতুন আতঙ্ক। নগর পুলিশের ঘুমও কেড়ে নিয়েছেন তিনি। সবশেষ আলোচনায় এসেছেন গত সোমবার দুপুরে বাকুলিয়া এক্সেস রোডে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে।হোয়াটসঅ্যাপ কল আতঙ্কে ব্যবসায়ীরাচন্দনপুরা এলাকায় গত সোমবার দুপুরে ডিজিটাল ডট নেটে (ডিডিএন) হামলা এবং ৩৫ লাখ টাকার লুটের ঘটনার পর একই দিন সন্ধ্যায় জিইসির মোড়ে অবস্থিত আরেকটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে চাঁদা দাবি করেন ডেভিড ইমন। রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে ডেভেলপার কো¤পানি, ইন্টারনেট, ডিশ ব্যবসা, গার্মেন্ট কিংবা খাতুনগঞ্জের আড়তদার সবার কাছে যেন এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম ডেবিড ইমন। বিদেশি নম্বর থেকে ফোনে দাবি করা হয় চাঁদা, না দিলে বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি, পরিবারের সদস্যদের হেনস্তা, এমনকি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটাতেও পিছপা হচ্ছে না ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের সহযোগী সন্ত্রাসীরা। নগরজুড়ে সন্ত্রাসের এই আধিপত্য গড়ে তুলতে কম কাঠখড় পোড়াতে হয়নি তাকে। নেট প্লাস ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার নেওয়াজ মোরশেদ বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় ডেভিড ইমন পরিচয় দিয়ে আমাকে ফোনে কল দিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়। আমাকে ফোনে কল করে বলে, দেখছেন তো ডিডিএনকে কী অবস্থা করেছি। টাকা না দিলে আপনারও এমন পরিস্থিতি হবে। সন্ত্রাসীদের এমন আচরণে এখন আতঙ্কে রয়েছি।তার দাবি, ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে গত এক মাসে দেড় কোটি চাঁদা আদায় করেছে ডেভিড ইমন বাহিনী। বিশেষ করে অক্সিজেন, মুরাদপুর, জিইসির মোড়, বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা ও পাঁচলাইশ এলাকা থেকে প্রতিটি কো¤পানির মালিককে ফোনে কল করে হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায় করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরা জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে কোনো ধরনের প্রতিবাদ ছাড়াই সন্ত্রাসীদের হাতে চাঁদা দিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তার হোয়াটসঅ্যাপ কলের আতঙ্কে থাকেন ব্যবসায়ীরা।সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনাইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী (আইএসপি) প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ চট্টগ্রাম বিভাগের নেতারা। আইএসপিএবি চট্টগ্রাম বিভাগের আহ্বায়ক রাজিব শাহরিয়ার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ডিডিএন কার্যালয়ে চাঁদার দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়; বরং সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আইএসপি মালিক ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি, টেলিফোনে হুমকি, চাপ সৃষ্টি এবং দাবি পূরণ না হলে হামলা বা হয়রানির মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। এ পরিস্থিতি আইএসপি শিল্পের জন্য গভীর নিরাপত্তা সংকটের ইঙ্গিত বহন করছে। ডেভিড ইমনসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনীকে গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি।সিএমপি কমিশনারের বক্তব্য সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন, নগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোড়ে ইন্টারনেট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় ডেভিড ইমনসহ জড়িত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে একাধিক টিম কাজ করছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতার করা হবে। তিনি বলেন, আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের মালিক আগে থেকে চাঁদা দাবির বিষয়টি প্রশাসনকে জানাননি। এ কারণে আগে থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। সিএমপি কমিশনার আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডেভিড ইমন দাবি করেন, তিনি দুবাই আছেন। কিন্তু পুলিশের কাছে এমন কোনো রেকর্ড নেই। এমনও হতে পারে, তিনি দেশে থেকেই বিদেশে অবস্থানের কথা প্রচার করছেন সবাইকে বিভ্রান্ত করতে। এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কাজ করছে।
২ মাস ২৪ দিন আগে
ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ি ঢল ও সাগরের উত্তাল জোয়ারের কারণে সৃষ্ট চট্টগ্রামের বন্যা কবলিত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে সেনাবাহিনী। জেলার সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা কবলিত এলাকা সাতকানিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় শনিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে সেনাবাহিনী। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দুর্গম এলাকায় দ্রুত উদ্ধারকাজ চালাতে জেলা প্রশাসনের অনুরোধে শনিবার থেকেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ¯িপডবোট ও নৌকা নিয়ে উদ্ধার অভিযানে নেমেছে। কোন উপজেলায় কতটি ¯িপডবোট প্রয়োজন এবং কোন এলাকাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সেনাবাহিনীকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।তিনি বলেন, টানা প্রায় চার দিনের ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে পাহাড়ি ঢল ও সাগরের উত্তাল জোয়ারে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িসহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতকানিয়া উপজেলা। উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের সবকটিই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শুধু এ উপজেলাতেই চার লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ১৬টি উপজেলা ও মহানগরের ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়েছে। বর্তমানে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার পানিবন্দি এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০। পাহাড়ধস, দেয়ালধস ও পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন পাঁচজন।জেলা প্রশাসক বলেন, অনেক এলাকায় সাধারণ নৌকাও পৌঁছাতে পারছে না। তাই দুর্গম এলাকায় ¯িপডবোট ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে। উদ্ধার হওয়া মানুষের জন্য জেলার ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ২৩ হাজার ৮৫০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবারের পাশাপাশি রান্না করা খাবারেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।তিনি জানান, বন্যার্তদের জন্য এ পর্যন্ত ৭০০ মেট্রিক টন চাল ও ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ মেট্রিক টন চাল, ৪৩ লাখ টাকা, ২২ হাজার ২৫০টি শুকনো খাবারের প্যাকেট এবং ৯ হাজার ৮০০টি রান্না করা খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কাছে বর্তমানে আরও ৪০০ মেট্রিক টন চাল ও ১৭ লাখ টাকা জরুরি ত্রাণ হিসেবে মজুত রয়েছে।সাতকানিয়ার জন্য এরইমধ্যে ৯ লাখ টাকা ও ২৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নগুলোতে ওই চাল দিয়ে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। জেলার অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাতেও একই কার্যক্রম চলছে। সাতকানিয়ার পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনের পর চট্টগ্রামের জন্য অতিরিক্ত বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার আশ্বাসও পাওয়া গেছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।বন্যাকবলিত সাতকানিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছে। সন্দ্বীপে সহায়তা করছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। পাশাপাশি পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবকেরা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সরকারি ছুটির দিনেও সবাইকে মাঠে থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।জলাবদ্ধতার কারণ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, শুধু খাল দখল নয়, খালে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলার কারণেও পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। খাল পরিষ্কার করতে গিয়ে ফ্রিজ, জাজিমসহ নানা ধরনের বর্জ্য পাওয়া যাচ্ছে। খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।তিনি বলেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত আরও কমলে পাহাড়ি ঢলের পানিও নেমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে শনিবার সাংগু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে স্লুইস গেট ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা সচল রাখতে কাজ চলছে।বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় মেডিকেল টিম, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক। সরকার ও জেলা প্রশাসন বন্যার্ত মানুষের পাশে রয়েছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত আছে। উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সব বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পরিস্থিতির স¤পূর্ণ উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।এর আগে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার-এর আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন ও ২৪ পদাতিক ডিভিশন বন্যাদুর্গত বিভিন্ন উপজেলায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।আইএসপিআর জানায়, টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী এই ৪টি উপজেলা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে এসব এলাকার প্রায় ৪ লক্ষ মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উদ্ভূত এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন কর্তৃক দুর্গত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকারী দল ও প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি মোতায়েন করা হয়েছে।এছাড়া ভারী মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ফলে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলাতেও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উক্ত উপজেলাগুলোতে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই অঞ্চলগুলোতে আটকে পড়া মানুষদের জন্য নিরলসভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ কার্যক্রম দ্রুত এবং সুশৃঙ্খলভাবে স¤পন্ন করার লক্ষে ২৪ পদাতিক ডিভিশন ইতোমধ্যে বন্যাদুর্গত এলাকায় ৩টি ক্যা¤প স্থাপন করেছে।বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বরাবরের মতোই দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বেসামরিক প্রশাসনের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় বদ্ধপরিকর। দুর্গত এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীর এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।এদিকে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগের মধ্যে কার্যালয়ে বসে নির্দেশনা দেওয়ার বদলে দুর্গত মানুষের দুয়ারে পৌঁছে গেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। শুক্রবার (১০ জুলাই) তিনি সাতকানিয়া উপজেলার বন্যাকবলিত ঢেমশা ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি ৮০০ পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণ বিতরণ করেন। প্রতিটি প্যাকেটে ছিল এক কেজি করে মুড়ি, চিড়া ও চিনি, দুটি বিস্কুটের প্যাকেট, দুই লিটার বিশুদ্ধ পানি, চারটি মোমবাতি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং প্রয়োজনীয় জরুরি ওষুধ।পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামানসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে এমপি সরোয়ার আলমগীরশপথ গ্রহণের পরদিনই নিজ নির্বাচনি এলাকা চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে গিয়ে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর।শুক্রবার (১০ জুলাই) উপজেলার হারুয়ালছড়ি ও সুন্দরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন তিনি।এ সময় দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নিয়ে তাদের দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করেন।সরোয়ার আলমগীর বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। ফটিকছড়ির কোনো মানুষ যেন অসহায় অবস্থায় না থাকে, সে লক্ষ্যে আমি সর্বাত্নক চেষ্টা চালিয়ে যাব। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।তিনি আরও বলেন, সবাই মিলে বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা-করব কাজ, গড়ব দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ-এই স্লোগানকে সামনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। আমাদের সবাইকে মিলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম, ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল আলম খান, ভূজপুর থানার ওসি বিপুল চন্দ্র দে, প্রবীণ বিএনপি নেতা আহমেদ হোসেন তালুকদার, মোবারক হোসেন কাঞ্চন, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জহির আজম চৌধুরী, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব নাজিম উদ্দীন শাহীনসহ দলীয় নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।মেয়রের ত্রাণ পেলেন হাজারো মানুষগত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের প্রভাবে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে শুক্রবার (১০ জুলাই) হাজারো মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।তিনি চট্টগ্রাম ৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এরশাদ উল্লাহ এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে পাঁচলাইশ ৩ নম্বর ওয়ার্ডের অক্সিজেন কুয়াইশ সংযোগ সড়কের ওয়াজেদিয়া, বোর্ড অফিস, চালিতাতলী বাজার, হাজীপাড়া, বেলতলা, শহীদনগরসহ ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।এ সময় তিনি পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নেন, তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং আশ্রয়কেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অবস্থানরত হাজারো মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। সিটি মেয়রের পক্ষ থেকে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রায় দশ হাজার পরিবারের মাঝে রান্না করা এবং শুকনো খাবার বিতরণ করা হয় বলে জানানো হয়।পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামে অস্বাভাবিক ও রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকেই আমরা বসে থাকিনি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, সিডিএ, চট্টগ্রাম ওয়াসা, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিয়ে সমন্বয় সভা করেছি এবং মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম তদারকি করেছি। কোথায় কী সমস্যা হচ্ছে, কোথায় পানি আটকে আছে, কীভাবে দ্রুত পানি নিষ্কাশন করা যায়, এসব বিষয়ে একযোগে কাজ চলছে।তিনি বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা, খাবার বিতরণ এবং জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।মেয়র সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পানি দ্রুত নিষ্কাশন, খাল ও নালা সচল রাখা এবং জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী রিফাতুল করিম, উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব শর্মাসহ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মেয়রের নির্দেশনা গ্রহণ করেন।এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জাফর আহমেদ, আশরাফুল ইসলাম, আবু ইউসুফ, মহানগর বিএনপির সাবেক সহ সাধারণ স¤পাদক জি এম আইয়ুব খান, সাবেক দফতর স¤পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী, বায়েজিদ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ স¤পাদক আব্দুল কাদের জসিম, বিএনপি নেতা আব্দুর রহিম, স্থানীয় নেতারা।
২ মাস ২৮ দিন আগে