বলিউড অভিনেতা আমির খানের তৃতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফুসছেন ভারতের কট্টরপন্থী হিন্দু ধর্মগুরুরা। এর মধ্যে ভারতের অযোধ্যার এক কট্টরপন্থী ধর্মগুরু আমির খানকে হত্যার জন্য ৫ কোটি রুপির পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। এর আগে গত কয়েকদিন আগে তাঁর বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’-এর অভিযোগ তুলে ভারত থেকে বিতাড়িত করার হুমকিও দেওয়া হয়।
সম্প্রতি মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজের বাসভবনে দীর্ঘদিনের প্রেমিকা গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে আইনি বিয়ে সম্পন্ন করেন আমির। বারবার হিন্দু নারীকে বিয়ে বিষয়টি নিয়ে প্রথমে রাজনৈতিক অঙ্গনে জলঘোলা করেন মহারাষ্ট্রের বিজেপি নেতা ও মন্ত্রী নীতেশ রানে। তিনি আমির খানকে সরাসরি ‘লাভ জিহাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ বলে কটাক্ষ করেন।
রাজনৈতিক নেতার আক্রমণাত্মক মন্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আমিরকে হত্যার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছেন অযোধ্যার তপস্বী জগৎগুরু পরমহংস আচার্য। বিজেপি নেতার বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমির খানকে হত্যা করতে পারবে তার পরিবারকে নগদ ৫ কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।’
শুধু তাই নয়, ওই ব্যক্তির আইনি লড়াইয়ের সমস্ত খরচও তিনি নিজে বহন করবেন বলে জানান। আমির খানের ওপর ক্ষোভের কারণ হিসেবে বলেন, তাঁর তিন স্ত্রীই হিন্দু পরিবারের সন্তান। এটি কোনো সাধারণ বিয়ে নয়। বরং এর পেছনে গভীর চক্রান্ত রয়েছে। হিন্দু মেয়েদের ফাঁদে ফেলে ‘লাভ জিহাদ’কে উৎসাহিত করতেই আমির বারবার এমনটা করছেন। সমাজ ও দেশের সংস্কৃতি বাঁচাতে এ ধরনের মানসিকতার মানুষদের কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি।
এদিকে ওই সাক্ষাৎকার চলাকালীন অযোধ্যার রাম মন্দিরের আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, ধর্মগুরু পরমহংস কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সাফাই গান। তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ট্রাস্ট তৈরি হয়েছে। বর্তমানে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট) বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে।
শুধু উগ্রবাদি হিন্দু নয়, আমির খানের পিছু নিয়েছে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরাও। তার বিয়েকে পাপ বলে ঘোষণা করেন মুসলিম পার্সোনাল দারুল ইফতার শাহী প্রধান মুফতি মৌলানা ইব্রাহিম হোসেন। এরইমধ্যে ফতোয়াও জারি করেছেন তিনি।
এবার বিষয়টি মুখ খুললেন মিস্টার পারফেকশনিস্ট। নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে আমির বলেন, আমাদের পরিবার আন্তঃধর্মীয় সম্পর্কে বিশ্বাসী। আমার দুই বোন হিন্দু পাত্রকে বিয়ে করেছে। আমার মেয়ে ইরার স্বামী অর্থাৎ জামাইও হিন্দু। তুতো ভাইয়ের স্ত্রী খ্রিস্টান।
বিয়ের পর স্ত্রীদের ধর্মান্তরিত করেননি উল্লেখ করে এ তারকা বলেন, সবচেয়ে বড় বিষয় রীনা, কিরণ বা গৌরী কেউই বিয়ের পর ধর্মান্তরিত হয়নি। কারণ প্রত্যেকটি বিয়ে স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টের নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে। তাই ধর্ম পরিবর্তনের প্রশ্নই নেই। আর গৌরী তো হিন্দু নন, খ্রিস্টান। সময় যত এগোচ্ছে জীবন যেন ততই বেশি হাস্যকর হয়ে উঠছে।
গেল ৫ জুলাই চার হাত এক হয় আমির খান ও গৌরী স্প্র্যাটের। মুম্বাইয়ের সমুদ্রের ধারের বাড়িতে বসে সে বিয়ের আসর। সাজসজ্জার ছিটেফোঁটা ছিল না। সাদামাটা আয়োজনেই ফের নতুন অধ্যায় শুরু করেন গৌরীর সঙ্গে। বছর পঁচিশ আগে এক পরিচিতের মাধ্যমে গৌরীর সঙ্গে আলাপ আমিরের। বন্ধুত্ব হলেও জল বেশি দূর গড়ায়নি। কাজের ব্যস্ততা, চাপসহ নানা কারণে কেউ কারও কাছে গুরুত্ব পাননি। একসময় নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তারা।
কে জানত দুজনে ভুলে গেলেও নিয়তি মনে রেখেছিল তাদের। দ্বিতীয়বার শুরুটা হয় দ্বিতীয় স্ত্রী কিরণ রাওয়ের সঙ্গে আমিরের বিচ্ছেদের পর। ফের পুরনো বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়তে থাকে। এবার আর বন্ধুত্বের মোড়কে নিজেদের মুড়িয়ে রাখেননি তারা। সম্পর্ক রূপ নেয় প্রণয়ে।
গৌরীকে নতুনভাবে আবিষ্কারের খবর গোপন রাখেননি আমির। গুঞ্জন উঠতেই সামনে আনেন প্রেমিকাকে। সেজন্য বেছে নেন নিজের জন্মদিন। গেল বছরের বিশেষ দিনে গৌরীকে পরিচয় করিয়ে দেন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে।
বেঙ্গালুরুর অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান পরিবারে জন্ম গৌরীর। তাঁর মা রিটা পঞ্জাবি হলেও আইরিশ বংশোদ্ভূত। অন্যদিকে, গৌরীর বাবা রবার্ট স্প্র্যাট তামিল-ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত। তার দাদা পেশায় একজন ব্রিটিশ লেখক ছিলেন। গৌরীর বামপন্থী দাদা ১৯২০ সালে ভারতে আসেন। উটিতে বড় হয়েছেন গৌরী। ফ্যাশন ডিজ়াইনিং নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। পরে আমিরের সংস্থার কাজেও সহযোগিতা করেছেন। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কখনও প্রকাশ্যে আলোচনা করতে দেখা যায়নি তাঁকে। নিজেকে প্রচারের আলো থেকে দূরে রাখতে ভালোবাসেন আমিরের জীবন আলোকিত করা এ নারী। আজ সাদাসিধেভাবেই আমিরের সঙ্গে কাগজ-কলমে বাঁধা পড়েন তিনি।