শিশুশিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু, এরপর ছোটপর্দায় নিয়মিত অভিনয়। ‘এটা আমাদেরই গল্প’ ধারাবাহিকে ‘ফারহানা’ চরিত্রে অভিনয় করে পেয়েছেন ব্যাপক পরিচিতিও। এবার অভিনয়ের ব্যস্ততার মধ্যেই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি ধাপ পেরিয়েছেন ইসরাত অতিথি। এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে পেয়েছেন জিপিএ ৪।
অভিনয় ও পড়াশোনা একসঙ্গে সামলানো যে সহজ ছিল না, তা ইসরাতের কথাতেই স্পষ্ট। ইসরাত জানান, এসএসসি পরীক্ষার আগে তার শুটিংয়ের ব্যস্ততাও ছিল তুঙ্গে। এমনও দিন গেছে রাত ১২টার দিকে শুটিং শেষ করে বাড়ি ফিরেছেন। এরপর আবার পড়াশোনায় বসতে হয়েছে।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের যেখানে মূল চাপ ছিল পড়াশোনা ও পরীক্ষা, সেখানে ইসরাতকে একই সঙ্গে সামলাতে হয়েছে অভিনয়ের ব্যস্ততাও। তবু কোনো কিছু বাদ দেননি তিনি। ফল প্রকাশের আগে তাই অন্য শিক্ষার্থীদের মতো তাঁর মনেও ছিল দুশ্চিন্তা। ভালো ফল হবে, এমনটা কল্পনাও করেননি।
বরং মনে হচ্ছিল, ‘যদি ফেল করে যাই!’ শেষ পর্যন্ত অবশ্য সেই ভয় কেটে গেছে। জিপিএ ৪ পেয়ে এসএসসির ফল নিয়ে সন্তুষ্ট তরুণ এই অভিনেত্রী। ইসরাত আরও জানান, পরীক্ষার সময় মানসিক চাপ সামলাতে ইসরাতের বড় ভরসা ছিল নামাজ। জীবনে কোনো কঠিন পরিস্থিতি এলে জায়নামাজে দাঁড়ালে তার কাছে সবকিছু অনেক সহজ মনে হয়। এসএসসির ফল প্রকাশের আগেও সময় পেলেই নামাজ পড়েছেন তিনি। ভালো ফল পাওয়ার পর এ নিয়ে কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন।
তবে নিজের সাফল্যের পেছনে পরিবারের সহযোগিতাকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন ইসরাত। বাবা-মা, দুই বোন এবং শুটিং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। তার বড় দুই বোনও ভালো ফল করা শিক্ষার্থী। ফলে নিজের ওপরও একধরনের প্রত্যাশা ছিল। তবে অভিনয় ও পড়াশোনার চাপের সময় পরিবার তাঁকে বাড়তি চাপ না দিয়ে বরং মানসিকভাবে পাশে থেকেছে। নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজসহ শুটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত অন্যরাও তাঁকে সহযোগিতা করেছেন।
পড়াশোনা ও অভিনয়ের চাপ সামলাতে গিয়ে শেষ সময়ে বিভাগও পরিবর্তন করতে হয়েছে ইসরাতকে। নবম শ্রেণি পর্যন্ত বিজ্ঞান বিভাগে পড়লেও এসএসসি পরীক্ষার মাত্র চার মাস আগে মানবিক বিভাগে চলে আসেন তিনি। ইসরাতের ভাষ্য, বিজ্ঞান বিভাগের পড়াশোনার সঙ্গে নিয়মিত শুটিং চালিয়ে যাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ছিল। এর মধ্যে রাত পর্যন্ত শুটিং চলত। সব মিলিয়ে চাপ কমাতেই বিভাগ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
ইসরাত অতিথির অভিনয় জীবনের শুরু মাত্র সাত বছর বয়সে। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল তার। একসময় তার ছবি দিয়ে অডিশনের জন্য যোগাযোগ করা হয়। আট বছর বয়সে অমিতাভ রেজা চৌধুরীর পরিচালনায় ‘ভিমবার’-এর একটি টিভিসিতে অভিনয়ের মাধ্যমে ক্যামেরার সামনে প্রথম কাজ করেন তিনি। ওই বিজ্ঞাপনচিত্রে তার সঙ্গে ছিলেন অভিনেত্রী জয়া আহসান।
টিভিসিতে কাজ করার পর নাটকে অভিনয়ের আগ্রহ তৈরি হয় ইসরাতের। তার ইচ্ছা ছিল বড় পরিসরে কাজ করার—থাকবে স্ক্রিপ্ট, সংলাপ এবং একটি চরিত্রকে দীর্ঘ সময় ধরে তুলে ধরার সুযোগ। টিভিসিতে কাজ করার পরই নাটকে অভিনয়ের প্রস্তাব পান তিনি।
ইসরাত অতিথির অভিনয় জীবনে বড় পরিবর্তন আসে ‘এটা আমাদেরই গল্প’ ধারাবাহিকের ‘ফারহানা’ চরিত্রের মাধ্যমে। ধারাবাহিকটি জনপ্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর অভিনীত চরিত্রটিও দর্শকের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে। এমনকি অনেক দর্শক তাকে ইসরাত অতিথি নামে নয়, ‘ফারহানা’ নামেই বেশি চেনেন।
এই চরিত্রের জন্য আলাদা কোনো অডিশন দিতে হয়নি তাকে। নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ আগে থেকেই চরিত্রটির জন্য ইসরাতকে ভেবেছিলেন। এরপর নিয়মিত নাটকে দেখা যেতে থাকে এই তরুণ অভিনেত্রীকে।
সম্প্রতি ‘ভালোবাসার গল্প’ নাটকেও অভিনয় করেছেন ইসরাত অতিথি। এতে তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান ও তটিনী। সামনে আরও কিছু কাজ রয়েছে তার। তবে আপাতত কাজের সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে নিজেকে আরও প্রস্তুত করতে চান ইসরাত। নতুন ও ভিন্নধর্মী কিছু নিয়ে দর্শকের সামনে ফিরতে চান তিনি। পড়াশোনায়ও আপাতত মানবিক বিভাগেই এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা তার। আর ক্যারিয়ার নিয়ে সিদ্ধান্তটাও অনেকটা পরিষ্কার—অভিনয় নিয়েই এখন সিরিয়াস তিনি।