রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন কিশোরগঞ্জের যুবক মো. রিয়াদ রশিদ (২৮)। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোনা গ্রামের মো. আব্দুর রশিদের ছেলে। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক।
শনিবার (৯ মে) নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের সাথে কথা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন করিমগঞ্জ থানার ওসি মো. এমরানুল কবির। তিনি বলেন, পুলিশ রিয়াদ রশিদের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।। ঘটনার এক সপ্তাহ পর শুক্রবার (৮ মে) রাতে রিয়াদের মৃত্যুর খবর জানতে পারে পরিবারের সদস্যরা।
পারিবারিক সূত্র জানায়, রিয়াদ রুশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। ৪ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। গত বছরের অক্টোবর মাসে একটি কোম্পানির কাজের উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় যান তিনি। এরপর ৭ এপৃল রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তবে সেনাবাহিনীতে যোগদানের বিষয়টি পরিবারকে জানাননি তিনি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রিয়াদের বন্ধু লিমন দত্ত মেসেঞ্জারের মাধ্যমে পরিবারের কাছে মৃত্যুর সংবাদ পাঠান। লিমন নিজেও রাশিয়ায় একই ক্যাম্পে কর্মরত আছেন। তিনি ড্রোন হামলায় একটি পা হারিয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
লিমনের বরাতে জানা যায়, ২ মে রুশ সীমান্তে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় রিয়াদসহ দুই বাংলাদেশি ও একজন নাইজেরীয় নিহত হন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হন। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে ভেঙে পড়েছেন বাবা আব্দুর রশিদ।
তিনি বলেন, রিয়াদ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছে, তা আমাদের জানায়নি। জানলে কখনোই তাকে সেখানে যেতে দিতাম না। এখন শুনছি ড্রোন হামলায় সব শেষ হয়ে গেছে। আমি আমার ছেলের লাশেরও খোঁজ পাচ্ছি না। বাবা হিসেবে এই কষ্ট কীভাবে সহ্য করব?
করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে মুসলিমা বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি নিহতের পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন। নিহতের বাড়িতে গিয়ে বিস্তারিত জেনে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।