
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আলোচনা ছড়িয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচন আবারও স্থগিত। নতুন করে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ রিটের শুনানি শেষে দুপুর নাগাদ হাইকোর্ট থেকে রায় আসল ২৩ মে চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচন ৬ মাসের জন্য স্থগিত। খুশিতে আটখানা এস এম নুরুল হকের নেতৃত্বধীন সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ প্যানেল। কারণ সেই রিটের বাদি ছিলেন তিনি নিজে। রায়ে বিমর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ আমিরুল হকের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম প্যানেল সেই রায় ঠেকাতে গেলেন চেম্বার জজ আদালতে। দুপুরেই আদালত শুনলেন দু‘পক্ষের বক্তব্য। শুনানি শেষে বিকাল না গড়াতেই রায় আসল হাইকোর্টের দেয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার! তবে পরবর্তী শুনানির জন্য ৮ জুন সময় বরাদ্দ রেখেছেন আদালত।কিন্তু চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনের সর্বশেষ তারিখ ২৩ মে। মানে দাঁড়ালো যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে উচ্চ আদালতের কোন বাধা নেই। প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের প্রার্থীদের মধ্যে দিনভর উত্তেজনা শেষে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের ট্রেড অর্গানাইজেশন শাখা আদেশ দিল চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচন যথাসময়েই হচ্ছে। সুষ্টু নির্বাচনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার আদেশও দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।মন্ত্রণালয়ের আদেশ পেয়ে তড়িঘড়ি করে বিকাল ৪ টায় চেম্বারের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে নির্বাচনের প্রশিক্ষণসহ যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচন বোর্ড। যেখানে ১৫০ কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও জানানো হয়। গঠিত হয় পাঁচ সদস্যের নির্বাচন পর্ববেক্ষণ বোর্ড।চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনী বোর্ড চেয়ারম্যান মনোয়ারা বেগম বলেন, ২৩ মে চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। আদালতের রায় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা করছি। নির্বাচন হবে ১৮ পরিচালক পদে।গত ১৮ মে চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনী বোর্ড বিজ্ঞপ্তিতে বলেছিল, বর্তমান শিডিউলেই নির্বাচন হবে। আর ভোটাররা শুধু অর্ডিনারি ও এসোসিয়েটস গ্রুপের ১৮ পরিচালক পদেই ভোট দেবেন। বাকি ট্রেড ও টাউন অ্যাসোসিয়েশনের ৬ পরিচালক পদে ৬ জন প্রার্থী তাই সেই দুটি শ্রেণিতে নির্বাচনের প্রয়োজন নেই। এই ৬ পদে আমিরুল হকের নেতৃত্বধীন প্যানেলের ৬ চেম্বার পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার পথে আছেন।চেম্বার জজ আদালতের রায়ের পর শেষপর্যন্ত এস এম নুরুল হকের নেতৃত্বাধীন প্যানেল নির্বাচনে থাকবেন কিনা জানতে বেশ কবার ফোন দেয়া হয় চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম নুরুল হককে কিন্ত সাড়া মিলেনি।এফবিসিসিআই সাবেক পরিচালক আমিরুল হক জানালেন, আদালত যে রায় দিয়েছে তা আমরা সবসময়ই মেনে চলেছি। আমরা তৃণমুল ভোটারদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচিত চেম্বার নেতৃত্ব সবসময় চেয়েছি। এখনও সেই নীতিতেই আছি।
১২ দিন আগে
মামলার পর মামলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞার মতো নানা টানাপোড়েন শেষে আগামী ২৩ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শতবর্ষী বাণিজ্য সংগঠন চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন। নগরীর আগ্রাবাদস্থ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে এই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান চেম্বারের যুগ্মসচিব নুরুল আবসার। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান চট্টগ্রামের স্থানীয় সরকার পরিচালক মনোয়ারা বেগম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। অর্ডিনারী ও এসোসিয়েট গ্রুপের ১৮ জন পরিচালক পদে ভোট গ্রহণ কার্যক্রম আগামী ২৩ মে শনিবার সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (সিসিসিআই) পুনরায় তফসিল ঘোষণার নির্দেশ দেয় এফবিসিসিআইর সালিশি ট্রাইব্যুনাল। একই আদেশে ২০২৫-২০২৬ এবং ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের নির্বাচনী তফসিল বাতিল ঘোষণা করা হয়।গত ২২ এপৃল এফবিসিসিআই সালিশি ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নাসরিন বেগম এবং সদস্য ছায়েদ আহম্মদ ও এ.এস.এম. কামাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, গত বছরের ১১ আগস্ট ঘোষিত তফসিলটি আইনগতভাবে সঠিক ছিল না এবং সময়সীমা পার হওয়ায় সেটি কার্যকারিতাও হারিয়েছে। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নাসরিন বেগমসহ সদস্যরা স্বাক্ষরিত এই আদেশে দ্রুত নতুন তফসিল ঘোষণার নির্দেশ দেওয়া হয়। নতুন তফসিল প্রণয়নে বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২ ও বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা, ২০২৫ অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্বাচন হয় স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং সকল পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য।এই রায়ের পেছনে ছিল আদালতের সময়সীমা। নির্বাচনসংক্রান্ত একটি সিভিল পিটিশন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন থাকায় আদালত নির্দেশ দিয়েছিল ২৬ এপৃলের মধ্যে বিরোধ নি®পত্তি করতে। সেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ট্রাইব্যুনাল তাদের সিদ্ধান্ত জানায়।জানা যায়, চেম্বার নির্বাচন নিয়ে শুরু থেকেই নানা বিতর্ক ছিল। বিশেষ করে ভোটার তালিকায় নতুন সংগঠন অন্তর্ভুক্তি এবং আগের তফসিলের বৈধতা নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে বিভক্তি তৈরি হয়। এ নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। যারা দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন পরিস্থিতিতে ঘোষিত তফসিল বর্তমান বাস্তবতায় গ্রহণযোগ্য নয়। এ নিয়ে আদালত থেকে এ পর্যন্ত পাঁচবার শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী এই বাণিজ্য সংগঠনের নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে।নির্বাচন স্থগিতের নেপথ্যে দীর্ঘ অচলাবস্থার নেপথ্যে যে নামটি বারবার সামনে এসেছে, তিনি হলেন গার্মেন্টসের পণ্য সরবরাহকারী মুহাম্মদ বেলাল হোসেন। সালিশী ট্রাইব্যুনালের রায়ে বেলালের এসব কর্মকান্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ অভিহিত করে খারিজ করে দেওয়া হয় আবেদনটি। এফবিসিসিআইয়ের নিজস্ব সালিশী ট্রাইব্যুনালে বেলালসহ তিনজনের আবেদন নি®পত্তি করে উচ্চ আদালতকে অবহিত করতে দেওয়া হয় নির্দেশ। তারপর সালিশী ট্রাইব্যুনাল শুনানি শেষে মামলাটির বিষয়ে দেওয়া হয় এই পর্যবেক্ষণ। ট্রাইব্যুনাল পর্যবেক্ষণে আরো যে বিষয়টি ওঠে আসে, এই আবেদন করার কোনো আইনগত অধিকার নেই বেলালের। আদালতের এরকম পর্যবেক্ষণের পরও মুহাম্মদ বেলালের মন খারাপ হয়নি। তার দাবি, আবেদন খারিজ করলেও আমার প্রকৃত চাওয়া উপলব্ধি করেছেন ট্রাইব্যুনাল। মামলা খারিজ হয় যেভাবে মামলার নথিপত্র ও ট্রাইব্যুনালের তথ্য অনুযায়ী, নিজেকে চট্টগ্রাম চেম্বারের একজন সাধারণ সদস্য এবং হার্বিস কনভার্টিং লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন মুহাম্মদ বেলাল। তবে মামলার শুনানিতে তার সাংগঠনিক পরিচয় নিয়ে পাওয়া গেছে স্ব-বিরোধী তথ্য। কখনও নিজেকে সাধারণ সদস্য, আবার কখনও একটি নির্দিষ্ট ট্রেড গ্রুপের (চট্টগ্রাম গার্মেন্ট এক্সেসরিজ গ্রুপ) সাধারণ স¤পাদক হিসেবে দাবি করেছেন তিনি। একই ব্যক্তি দুটি ভিন্ন শ্রেণির সদস্য হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন না এই যুক্তিতে তার আবেদনটি খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল।এফবিসিসিআই ট্রাইব্যুনাল বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্যারাগ্রাফে বেলালের আবেদন খারিজের কারণ উল্লেখ করেছে। ট্রাইব্যুনাল দেখেছে, টাউন অ্যাসোসিয়েশন বা ট্রেড গ্রুপের যে ভোটার তালিকা চ্যালেঞ্জ করেছেন বেলাল, নিজে সেই গ্রুপগুলোর সদস্য নন তিনি। ফলে সেখানে তার কোনো সরাসরি আইনি স্বার্থ নেই। এছাড়া বেলাল চট্টগ্রাম চেম্বারের বিরুদ্ধে প্রথম মামলায় নিজের পরিচয় দেন সাধারণ সদস্য হিসেবে। পরে আরেক মামলায় অবস্থান পরিবর্তন করে ট্রেড গ্রুপের প্রতিনিধি হিসেবে নিজের পরিচয় দেন। এভাবে বারবার পরিচয় পরিবর্তন করে সুবিধা নেয়ার প্রবণতাকে আদালত একই ব্যক্তির দুই শ্রেণীর প্রতিনিধিত্ব নিয়ে করেছেন সমালোচনা।আদালতেও বেলালের ডিগবাজিগত ২৩ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে তার অভিযোগটি প্রত্যাহারের জন্য প্রথম আবেদন করেন তিনি। কিন্তু নাটকীয়ভাবে মাত্র তিন দিন পর ২৬ অক্টোবর পুনরায় আবেদন করে জানান, ভুলবশত প্রত্যাহার করতে চেয়েছিলেন তিনি। এছাড়া একই বিষয় নিয়ে তিনি একদিকে এফবিসিসিআই ট্রাইব্যুনালে ১২/২০২৫ নং মামলা করেন, অন্যদিকে হাইকোর্ট বিভাগে ১৬৯৭৬/২০২৫ নং রিট এবং আপিল বিভাগে ৫৭/২০২৬ নং লিভ টু আপিল দায়ের করেন।বেলালের উদ্দেশ্য মূলত ট্রেড গ্রুপ থেকে নির্বাচনে লড়তে চেয়েছিলেন বেলাল। কিন্তু চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনী বোর্ড খারিজ করে দেয় তার আবেদনটি। এরপর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকেই উচ্চ আদালত ও ট্রাইব্যুনালে একের পর এক আইনি লড়াই শুরু করেছেন তিনি। তার অভিযোগ, চেম্বারের ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী তফসিল নিয়ে। দাবি, বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা অনুসরণ না করেই প্রণয়ন করা হয়েছে ভোটার তালিকা। এ অভিযোগের সূত্র ধরেই বারবার থমকে যায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া।এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বেলাল বলেন, আমি তো নির্বাচন করছি না। কাকে বাড়তি সুবিধা দিব? কিন্তু বেলালের বড় ভাই এস এম মোহাম্মদ আইয়ুব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছেন নুরুল হকের ব্যানারে।প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বেরাচারি আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে চট্টগ্রাম চেম্বারও দখলদারমুক্ত হয়। কিন্তু সেই দখলদাররা শুরু করে মামলা-মামলা খেলা। ফলে একাধিকবার উদ্যোগ নিয়ে হতে পারেনি চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন। সর্বশেষ ঘোষিত শিডিউল অনুযায়ী চট্টগ্রাম চেম্বারে চার ক্যাটাগরিতে ২৪ পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার কথা ছিল ৪ এপৃল। আর সেই পরিচালকদের ভোটে সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি, সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়। কিন্তু এফবিসিসিআই সালিশী ট্রাইব্যুনাল সর্বশেষ ২২ এপৃলের রায়ে সেই তফসিল বাতিল করে দিয়েছে নতুন তফসিলে সরাসরি নির্বাচনের নির্দেশনা। সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম চেম্বারে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছে দুটি প্যানেল। একটি এফবিসিসিআই সাবেক পরিচালক আমিরুল হকের নেতৃত্ব ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম। আরেকটি হচ্ছে, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম নুরুল হকের নেতৃত্বে সমমনা পরিষদ।
১৪ দিন আগে
