আসন্ন ঈদুল আজহায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরশেন(চসিক) এলাকায় কোরবানির পশুর হাট বসবে ৯টি। তম্মধ্যে তিনটি পশুরহাটের টেন্ডার আহ্বান করা হলেও বাকি ছয়টি বসছে টেন্ডার ছাড়াই। এমনকি স্থায়ী তিনটি পশুর হাটেরও ইজারা হয়নি। সেখানে আদায় করা হচ্ছে খাস কালেকশন। ফলে সরকারের কোটি টাকার রাজস্ব নয়ছয় হচ্ছে বরে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের। ঠিকাদাররা জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরশেন (চসিক)এলাকায় স্থায়ী পশুরহাট রয়েছে তিনটি। আর কোরবানির সময় আরও ৬টি অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট বসানোর অনুমতি দেয় জেলা প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপৃল) জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এ অনুমোদন দেন।অনুমোদিত পশুরহাট গুলো হলো— নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কর্ণফুলী গরুর বাজার (নুর নগর হাউজিং এস্টেট), ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হোসেন আহম্মদ পাড়া টিএসপি মাঠ, একই ওয়ার্ডের মুসলিমাবাদ রোডে সিআইপি জসিমের খালি মাঠ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজেদিয়া মোড়, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আউটার রিং রোডের সিডিএ বালুর মাঠ এবং ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম হালিশহরের মুনির নগর আনন্দবাজারসংলগ্ন খালি জায়গা।জেলা প্রশাসনের এক আদেশে বলা হয়েছে, স্থানীয় জনসাধারণের চাহিদা ও পুলিশ কমিশনারের মতামতের ভিত্তিতে হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী চলতি মাসের ১৯ তারিখ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে ১০ দিনের জন্য এসব হাট বসবে। জেলা প্রশাসনের শর্ত অনুযায়ী, প্রধান সড়ক থেকে অন্তত ১০০ গজ দূরে হাট বসাতে হবে। কোনোভাবেই যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না। হাটের বাইরে বা সড়কে পশু রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, সিসিটিভি ক্যামেরা ও জাল নোট শনাক্তকরণ যন্ত্র স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভেটেরিনারি চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত ও বাজার এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার শর্তও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চসিকের তিনটি স্থায়ী পশুরহাট রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে-সাগরিকা পশুর হাট, মুনাদপপুর বিবিরহাট ও পোস্তারপাড় ছাগলের হাট। এসব হাট থেকে প্রতিবছর চসিকের প্রায় ১০ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আয় হয়। তবে গত কয়েক বছরের মতো এবারও হাটগুলো ইজারার জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়, কিন্তু কাঙ্খিত দর না পাওয়ার অজুহাতে কারসাজি করে শেষ পর্যন্ত ইজারা ছাড়াই পছন্দের ঠিকাদারের মাধ্যমে খাস কালেকশনের চুক্তি করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরশেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জানতে চাইলে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (উপসচিব) এস এম সরওয়ার কামাল বলেন, স্থায়ী পশুর হাট গুলো থেকে খাস কালেকশনের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে। অস্থায়ী পশুরহাটগুলোর মধ্যে কর্ণফুলী পশু বাজার, মুসলিমাবাদ রোডের সিআইপি জসিমের খালি মাঠ এবং ওয়াজেদিয়া মোড় এই তিনটি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দিতে সিলমোহরযুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। তিনি জানান, হাটগুলোর জন্য আগামী ১১ মে পর্যন্ত দরপত্রের ফরম সংগ্রহ করা যাবে। ১২ মে দুপুর ১টার মধ্যে দরপত্র জমা দিতে হবে। একই দিন বেলা দেড়টায় দরপত্র খোলা হবে। প্রস্তাবিত দামের ৩০ শতাংশ জামানত পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। অনুমোদনের পর বাকি ৭০ শতাংশ অর্থের সঙ্গে প্রযোজ্য কর ও ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে।তিনি বলেন, এখন তিনটি হাটের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পরে আরও করা হতে পারে। বিষয়টি মেয়রের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করছে। নিজস্ব জায়গা হলেও সিটি কর্পোরেনের অনুমোদন ছাড়া নগরীর কোথাও পশুর হাট বসাতে পারবে না। বসালে অভিযান পরিচালনা করা হবে।উল্লেখ্য, চসিকের রাজস্ব আহরণের অন্যতম বড় খাত স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা। এর আগে সাগরিকা ও বিবিরহাটে ইজারাদার না পাওয়ায় খাস কালেকশন করছেন চসিক। তবে যদিও খাস কালেকশনে রাজস্ব আহরণ তুলনামূলক কম হয়। এর মুলে হাসিল চুরি, কর্মীদের মজুরি, বাজার ব্যবস্থাপনা খরচ, অপচয়সহ নানা কারসাজি করা হয় বলে অভিযোগ উঠে।
১১ দিন আগে
চট্টগ্রামের পাহাড়গুলো নরম মাটিতে গড়া। আর সেই পাহাড়ে লাখো মানুষ ঘরবাড়ি বানিয়ে বসবাস করছেন মৃত্যু ঝুঁিক নিয়ে। সেটা জানেন বসতিরাও। কারণ তাদের চোখের সামনেই বছর-বছর পাহাড় ধসে প্রাণহানি হয়েছে শত শত আপনজনের। তারপরও কমছে না বসতি, বাড়ছে আরও বছরে-বছরে। রবিবার (৩ মে) আলাপকালে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রামের স্থানীয় লোকজন। তাদের মতে, পাহাড় কাটা ও বসতি স্থাপন প্রতিরোধ করার কথা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাাসন ও বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের। কিন্তু এ বিষয়ে কোন মাথা ব্যাথা নেই তাদের। এ নিয়ে কথা বললে উল্টো মুচকি হাসেন তারা। তবে মুখে বলেন, করছি তো, কেউ তো শুনতেছে না। পাহাড়ে বাড়ি বানানোর সময় কেউ তো আর আমাদের বলে করে না। আবার উচ্ছেদের পর ফিরেও আসে তারা। এছাড়া বর্ষা আসলে তাদের সরে যেতে মাইকিংও করা হয়। অতি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। এসব কথার বিপরীতে যখন বলা হয়, এটা তো শাসন বা নিয়ন্ত্রণ নয়, সেবা করছেন আরও। এতো জামাই আদর পাওয়ায়ই তো পাহাড় আর পাহাড় থাকছে না। এমন মন্তব্যে মুখ ভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। চট্টগ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চট্টগ্রামের পাহাড়ে যারা বসতি গেড়েছেন তাদের একজনও চট্টগ্রামের লোক না। কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বরিশালসহ উত্তরবঙ্গ থেকে আসা লোকজন ওরা। আর চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলসহ সকল সরকারি সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তারাও চট্টগ্রামের বাইরের লোক। ব্যস, শুধু পাহাড়ে বসতি কেন, চট্টগ্রামে কোন রকম অন্যায়-অপরাধে সঠিক কোন ব্যবস্থা নেই এসব বহিরাগতদের বিরুদ্ধে। সবাই মিলে ইসরাইলের মতো চট্টগ্রামকেও ফিলিস্তিন বানাতে ব্যস্ত। সরকারি দায়িত্বে চট্টগ্রামের লোক থাকলে হয়তো এমন পরিস্থিতি হতো না। ৬৬৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার : চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম মহানগরীর মোট ঝুঁকিপূর্ণ বসতিস¤পন্ন পাহাড় ২৬টি। এসব পাহাড়ে গত বছর অবৈধ বসতির সংখ্যা ৬ হাজার ৫৫৮। এ বছর নতুন করে আর জরিপ হয়নি। তবে বসতি আরও বেড়েছে বলে মনে করছে প্রশাসনও। অথচ ২০১৪ সালে নগরীর ১১টি পাহাড়ে বসবাস করত ৬৬৬টি পরিবার।এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করেন চট্টগ্রামের আকবর শাহ থানার ফয়স লেক এলাকার ১, ২ ও ৩ নম্বর ঝিল সংলগ্ন পাহাড়ে। সেখানে থাকেন প্রায় ৪ হাজার ৬৪৭ পরিবার। এছাড়া নগরীর মতিঝর্ণা ও বাটালীহিল পাহাড়ে বসবাস ৪৩১ পরিবারের। এছাড়া কৈবল্যাধাম হাউজিং এস্টেট সংলগ্ন পাহাড়ে ১৪৬ পরিবার, পলিটেকনিক হল্ট স্টেশন সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশ ১২ পরিবার, ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ফৌজি ফ্লাওয়ার মিল সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশে পাঁচ পরিবার, ষোলশহর স্টেশন সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশে ৭৪ পরিবার, পরিবেশ অধিদপ্তর সংলগ্ন পাহাড়ে ৪৬ পরিবার, লেকসিটি আবাসিক এলাকা সংলগ্ন বিজয় নগর পাহাড়ে ২৮৮ পরিবার, আমিন জুট মিলস কলোনি সংলগ্ন ট্যাঙ্কির পাহাড়ে ৬৫ পরিবার, উত্তর পাহাড়তলী মৌজার ১৫০ দাগের খাস খতিয়ানভুক্ত পাহাড়ে (জয়ন্তিকা আবাসিক সংলগ্ন) ২৮ পরিবার, বিএস ২১২ ও ২১৩ দাগের পাহাড়ে (মুরগি ফার্ম হয়ে গার্ডেন ভিউ সোসাইটি সংলগ্ন) ১২ পরিবার, আকবর শাহ বেলতলী পাহাড়ে ৮৯ পরিবার, পলিটেকনিক কলেজ সংলগ্ন পাহাড়ে ৪৩ পরিবার বসবাস করছে। এছাড়া লালখানবাজার জামেয়াতুল উলুম মাদ্রাসা সংলগ্ন পাহাড়ে ৩২৩ পরিবার, হারুন খান সাহেবের পাহাড়ে ১৪৪ পরিবার, নাছিয়াঘোনা এলাকায় ১২ পরিবার, চিড়িয়াখানার পেছনের পাহাড়ে ২৮ পরিবার, মধুশাহ পাহাড়ে ২৯ পরিবার, জালালাবাদ সংলগ্ন পাহাড়ে পাঁচ পরিবার, নাগিন পাহাড়ে ২৫ পরিবার, ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট সংলগ্ন মীর মোহাম্মদ হাসানের পাহাড়ে ৩৮ পরিবার, এমআর সিদ্দিকীর পাহাড়ে ৪২ পরিবার, মিয়ার পাহাড়ে ৪৯ পরিবার, ভেড়া ফকিরের পাহাড়ে (রৌফাবাদ, অক্সিজেন) ১১ পরিবার ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে।রেলের সাত পাহাড়ে ৫ হাজার ৩৩২ পরিবার: জেলা প্রশাসনের হিসাবের বাইরে চট্টগ্রামে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মালিকানাধীন সাতটি পাহাড়ে পাঁচ হাজার ৩৩২ পরিবার রয়েছে। সেখানে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে প্রায় অর্ধলাখ মানুষ। তিন দশকের বেশি সময় ধরে এসব পাহাড়ে বসবাস করে আসছেন অনেক মানুষ। দিন দিন এই অবৈধ বসতির সংখ্যা বাড়ছে। রেলওয়ে ভু-সম্পত্তি বিভাগের তথ্যমতে, রেলওয়ের মালিকানাধীন সাতটি পাহাড়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবৈধ পরিবারের বসবাস নগরীর ফয়স লেক এলাকার ১, ২ ও ৩ নং ঝিল পাহাড়ে। এখানে ৫ হাজার ৩৩২টি পরিবার থাকে। এছাড়া মতি ঝরনা ও বাটালি হিল এলাকায় বসবাস ৪৩১টি পরিবারের।লেক সিটি আবাসিক এলাকা সংলগ্ন বিজয় নগর পাহাড়ে বসবাস ২৮৮টি পরিবারের। রেলওয়ের মালিকানাধীন ষোলশহর স্টেশন সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশে ৭৪টি, নগরীর জাকির হোসেন সড়কে পরিবেশ অধিদপ্তর সংলগ্ন পাহাড়ে ৪৬টি পরিবার বসবাস করছে। পাহাড় ধসে প্রাণহানির ইতিহাস: চট্টগ্রামে বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসে প্রতিবছরই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পাহাড়ধসে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল ২০০৭ সালের ১১ জুন। ওই বছর ২৪ ঘণ্টায় ৪২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। ওই বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের সেনানিবাস এলাকা, লেডিস ক্লাব, শহরের কুসুমবাগ, কাছিয়াঘোনা, ওয়ার্কশপঘোনা, মতিঝরনা, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ প্রায় সাতটি এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। ওই দিন ভোরে অল্প সময়ের ব্যবধানে এসব পাহাড় ধসে নারী-শিশুসহ ১২৭ জনের মৃত্যু হয়। ২০০৮ সালের ১৮ আগস্ট চট্টগ্রামের লালখানবাজার মতিঝরনা এলাকায় পাহাড় ধসে চার পরিবারের ১২ জনের মৃত্যু হয়। ২০১১ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রামের টাইগারপাস এলাকার বাটালি হিল পাহাড় ও প্রতিরক্ষা দেয়াল ধসে ১৭ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।২০১২ সালের ২৬ ও ২৭ জুন পাহাড়ধসে চট্টগ্রামে ২৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। ২০১৩ সালে মতিঝরনায় দেয়াল ধসে দুই জন মারা যান। ২০১৫ সালের ১৮ জুলাই বায়েজিদ এলাকার আমিন কলোনিতে পাহাড় ধসে মারা যান তিন জন, একই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর বায়েজিদ থানার মাঝিরঘোনা এলাকায় মারা যান মা-মেয়ে।২০১৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে ১৬৮ জনের মৃত্যু হয়। ২০১৮ সালের ১৪ অক্টোবর নগরীর আকবরশাহ থানাধীন ফিরোজশাহ কলোনিতে পাহাড়ধসে মারা যান চার জন। ২০১৯ সালে কুসুমবাগ আবাসিক এলাকা পাহাড়ধসে এক শিশু প্রাণ হারায়।২০২২ সালে ১৭ জুন পাহাড়ধসে নিহত হয় আরও চার জন। ওই দিন রাত ২টায় এবং ১৮ জুন ভোর ৪টায় নগরীর আকবর শাহ থানাধীন ১ নম্বর ঝিল ও ফয়স লেক সিটি আবাসিক এলাকায় এ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও পাঁচ জন আহত হন। এত হতাহতের পরও বন্ধ হচ্ছে না চট্টগ্রামে পাহাড় কেটে অবৈধভাবে বসতি স্থাপন ও বসবাস। উল্টো পাহাড় কাটা ও অবৈধ দখলদারদের সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। তিন জেলায় ঝুঁকিপূর্ণ বসতির তালিকাই নেই:২০১৭ সালে পাহাড়ধসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাঙামাটি। তখন এই জেলায় পাহাড়ধসে মারা যায় ১২০ জন। কিন্তু এ ঘটনার পর তদন্ত কমিটির যে সুপারিশ ছিল, তার কোনো বাস্তবায়ন নেই। এমনকি পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দা নিয়ে কোনো জরিপও নেই। তখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় রূপনগর, নতুনপাড়া, শিমুলতলী, পশ্চিম মুসলিমপাড়া ও ভেদভেদী। তিন বছর আগে এই পাঁচ এলাকার ৩১ স্থানকে অতিঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন সাইনবোর্ড দেয় জেলা প্রশাসন। তবে বিভিন্ন দপ্তরের হিসাবে এসব এলাকায় ২০১৭ সালের চেয়ে অন্তত ৫০০ ঝুঁকিপূর্ণ বসতি বেড়েছে।বান্দরবানে ২০১৭ সালে পাহাড়ধসে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। গত বছর জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় পাহাড়ধসে একজন মারা যায়। কিন্তু জেলাটিতে নতুন করে ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দার কোনো তথ্য বা জরিপকাজ হয়নি। ২০১৭ সালে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি ছিল ১ হাজার ৪৪৪টি পরিবার। এর মধ্যে পৌরসভাসহ লামা উপজেলায় ৪৫০ পরিবার, নাইক্ষ্যংছড়িতে ৩২৩, পৌরসভাসহ বান্দরবান সদর উপজেলায় ২৩২ পরিবার, রোয়াংছড়িতে ৫৯, আলীকদমে ২১৩, রুমায় ৮৩ ও থানচিতে ১০৮টি পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাস করে। কিন্তু এই সাত বছরে ঝুঁকিপূর্ণ বসতির সংখ্যা বেড়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।খাগড়াছড়ি জেলাও পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দার সংখ্যা নিয়ে কোনো জরিপ নেই। জেলা প্রশাসনের ধারণা অনুযায়ী ৯টি উপজেলায় এক হাজারের বেশি বসতি রয়েছে। ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা দিলে তাদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, সহস্রাধিক বসতি পাহাড়ের ঝুঁকিতে রয়েছে। দুর্যোগের সময়ে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়।চট্টগ্রামের পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি-২, ছবি-দৈনিক ঈশানবছর বছর বাড়ছে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি:চট্টগ্রাম মহানগর পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি সূত্র জানায়, নগরীর মোট ঝুঁকিপূর্ণ বসতিস¤পন্ন পাহাড়ে গত বছর অবৈধ বসতির সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৫৫৮। এ বছর নতুন করে আর জরিপ হয়নি। তবে বসতি আরও বেড়েছে বলে মনে করছে প্রশাসনও। কমিটির তথ্যমতে, চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতির সংখ্যা গত ১০ বছরে বেড়েছে ১০ গুণ। আর তিন পার্বত্য জেলায়ও পাহাড়ে বসতি গত সাত বছরে দ্বিগুণ হয়েছে বলে মনে করছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন।তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড় কেটে অবৈধ বসতি গড়ে তোলা একরকম নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এসব বিষয়ে সঠিক কোন তথ্য নেই। তবে বিগত বছরের হিসাবের তথ্যের গড় হিসেব করলে বুঝা যায় কী পরিমাণে বসতি বাড়ছে পাহাড়ে। পাহাড়ে বসতি বাড়ার কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নগরে যেখানে এক খন্ড জমির মূল্য কোটি টাকা, সেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা এসব হতদরিদ্র পরিবার বিনামুল্যে পাহাড়ে মাথা গোজার ঠাঁই করে নিচ্ছে। গড়ছে বসতি। এতে তাদের প্রাণহানিরও ভয় নেই। পুরো বছর নিরব বর্ষা আসলেই তোড়জোড়:বছরের পর বছর পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি বাড়লেও পুরো বছর নিরব থাকেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল কর্তৃপক্ষ। বর্ষা আসলেই নামেন সেবার ঢালা নিয়ে। তখন পাহাড় থেকে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়। যা পুরোপুরি মানবিক কাজ। এ সময় জামাই আদরে সরকারি গাড়িতে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়, বিনামুল্যে দেওয়া হয় খাবার, করা হয় সরকারি কোন ভবনে রাতযাপনের ব্যবস্থা। যা সারা বছরের চেয়ে কয়েকদিন হলেও ভাল সময় কাটান অবৈধ বসতিরা। আর এর মাধ্যমেই তারা পাহাড়ে নিশ্চিন্তে বসবাসের সুযোগ পান। এ সুবাধে আত্নীয়-স্বজনদেরও ডেকে নিয়ে আসেন তারা। করে দেন পাহাড়ে বসতির সুযোগ। এবারও ঠিক একই কাজে নেমেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসের সতর্কবার্তা পেয়ে শুরু করেছে মাইকিং। অনুরোধ করা হচ্ছে পাহাড় থেকে সরে গিয়ে সরকারি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে। আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রামসহ দেশের ৪ বিভাগে সোমবার (৪ মে) দুপুরের মধ্যে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে। একইসঙ্গে সংস্থাটি আশঙ্কা করছে- অতি ভারি বর্ষণের ফলে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস হতে পারে।গুমড়ে মরছে ৩৬ দফা সুপারিশ:পাহাড়ধসের বিভিন্ন ঘটনার পর গঠিত বিভিন্ন তদন্ত কমিটি ৩৬ দফা সুপারিশের প্রস্তাব করা হয়। প্রস্তাবের মধ্যে পাহাড় কাটায় জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সংস্থার দুর্বৃত্তায়ন কঠোর হাতে আইনানুগভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। ন্যাড়া পাহাড় বনায়ন, পাহাড় কাটায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের, পাহাড়ি এলাকায় শহর সম্প্রসারণ নিরুৎসাহিত করাও ছিল। সুপারিশের ভিত্তিতে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সাতটি সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। যার মধ্যে ছিল, পাহাড়ে অবৈধ বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা; পাহাড় কাটা বন্ধ করা; যাদের উচ্ছেদ করা হবে তাদের আশ্রয়ণে পুনর্বাসন বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করা; পাহাড় কাটা বা পাহাড়ে বসবাসের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও ৩৬ দফা সুপারিশমালা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা। পাহাড় কাটা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থার পাশাপাশি সবুজায়নের কথাও ছিল। কিন্তু উদ্যোগের অভাবে গুমড়ে মরছে এসব সুপারিশ। ফলে সবকিছুকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বছরের পর বছর বাড়ছে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি। এখন ভারী বর্ষণ হলে সাময়িকভাবে মাইকিং, বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব শেষ করছে প্রশাসন ও পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি।গত মঙ্গলবার থেকে টানা বৃষ্টি হচ্ছে চট্টগ্রাম ও তিন পার্বত্য জেলায়। এতে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় অবৈধ বসবাসকারীদের প্রাণহানি ঠেকাতে ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে সরে যেতে মাইকিং করছে প্রশাসন। কিন্তু একজন বাসিন্দাও সরেননি। প্রশাসনের সতর্কবার্তা কানেই তুলছেন বাসিন্দারা।যা বললেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা: এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, পাহাড় কাটা এবং পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদের বিষয়ে সারা বছরই অভিযান চালানো হয়। এরপরও পাহাড় কাটা থেকে জড়িতদের সরানো যায়নি। তিনি বলেন, পাহাড়ে বসতি গড়ে তোলা এতগুলো লোকের স্থায়ী পুনর্বাসন কঠিন। তারপরও সরকারি বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পে কিছু কিছু পুনর্বাসন করা হয়েছে। বৃষ্টি হলে আমরা পাহাড় থেকে লোকজনকে সরিয়ে নিচ্ছি। লোকজনের মধ্যে ভয়টাও কাজ করে না। এছাড়া প্রতি বছর বর্ষা শুরুর আগে রেলওয়ে এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়। তারপরও তারা আবার এই অবৈধ স্থাপনায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসের জন্য চলে আসে।রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ জিসান দত্ত বলেন, রেলওয়ের পাহাড়গুলোতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যারা বসবাস করছেন তাদেরকে নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য শনিবার সকাল থেকে মাইকিং করা হয়েছে। পাহাড়তলী, ফয়স লেক, আকবরশাহ, সিআরবিসহ রেলওয়ের অনেক পাহাড়ের ঢালুতে ঝুঁকি নিয়ে অনেকে বসবাস করছেন। ভারী বর্ষা শুরু হওয়ার আগে তাদেরকে সরে যাওয়ার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সতর্ক করে মাইকিং করেছি।চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদফতরের চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের উপ পরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান বলেন, পাহাড় কাটার অভিযোগ পাওয়া গেলেই অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হচ্ছে অথবা মামলা দায়ের করা হচ্ছে। ২০২২ সালে পাহাড় কাটার অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ২০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ২০২১ সালেও ছয়টি মামলা করা হয়েছে।বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আদালতের বিভিন্ন আদেশে চট্টগ্রামসহ সারা দেশের পাহাড় কাটায় নিষেধ রয়েছে। তারপরও এই নির্দেশনাগুলোর সঠিক প্রতিপালন হচ্ছে না। যদি পাহাড়ে বসতি স্থাপন করতে না দেয় তাহলে এ রকম বর্ষার সময় প্রাণহানির ঝুঁকি নিয়ে চিন্তাও করতে হবে না। এ জন্য শুধু বৃষ্টি হলে তোড়জোড় করলে হবে না। সারা বছর এ বিষয়ে প্রশাসনকে সজাগ থাকতে হবে।
১৫ দিন আগে

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র হালদা নদীতে নমুনা ডিম ছেড়েছে কার্পজাতীয় মাছ। বৃহ¯পতিবার রাত ও শুক্রবার সকাল থেকে নদীর পশ্চিম গুজরা, নাপিতের ঘাট ও নয়াহাটসহ কয়েকটি স্থানে এই ডিম পাওয়া যায়। শুক্রবার (১ মে) দুপুরে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, রাতের জোয়ারে মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়বে। এ অবস্থায় ডিম সংগ্রহে প্রস্তুত রয়েছেন প্রায় ৩৫০ সংগ্রহকারী। তারা বালতি, গামলা, ডিঙি নৌকাসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে অপেক্ষায় আছেন। এ বছর ডিমের পরিমাণ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জেলেরাও বড় আহরণের আশায় আছেন বলে জানান মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম।হালদা গবেষক ও বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মনজুরুল কিবরীয়া উল্লেখ করেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে স্বল্প পরিমাণে ডিম ছাড়ে মা-মাছ। যাকে নমুনা ডিম বলা হয়। সাধারণত বজ্রবৃষ্টি এবং জোয়ার-ভাটার অনুকূল সময়ে মা মাছ বেশি ডিম ছাড়ে। তিনি আশা করেন, রাতের মধ্যে ডিম ছাড়ার পরিমাণ বাড়বে।ডিম সংগ্রহকারী মো. ইলিয়াস শফিউল আলম ও মো. হোসেনসহ একাধিক ডিম সংগ্রহকারী নমুনা ডিম ছাড়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হালদা নদীর আজিমেরঘাট, কুমার স্কুল এলাকাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে নমুনা ডিম পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তারা।তারা বলেন, ইতোমধ্যে অধিকাংশ ডিম সংগ্রহকারী যাবতীয় সরঞ্জাম নিয়ে নদীতে নেমে পড়েছেন। তারাও আশা করছেন এ জোয়ার কিংবা রাতে পুরোদমে ডিম ছেড়ে দিতে পারে কার্প জাতীয় মা মাছ। বড় সংগ্রহের আশায় রয়েছেন জেলেরা সবাই। এদিকে হালদা নদীর হাটহাজারী অংশে মদুনাঘাট হ্যাচারি, শাহ মাদারি এবং মাছুয়াঘোনা হ্যাচারি পুরোদমে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মাছুয়াঘোনা হ্যাচারিতে ৪৬টি কুয়া, শাহ মাদারিতে ৪৫টি এবং মদুনাঘাটে ১৮টি কুয়া রয়েছে। পাশাপাশি গড়দুয়ারা ও বারিয়াঘোনায় ৩০টি মাটির কুয়া প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শাহ মাদারিতে ২৫ গ্রুপ, মাছুয়াঘোনাতে ২৬টি এবং মদুনাঘাটে ২০টি গ্রুপ এবং মাটির কুয়াসহ রয়েছে। প্রত্যেক হ্যাচারিতে ডিম থেকে রেণু উৎপাদনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানান হালদা উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন। তিনি বলেন, সরকারিভাবে ইতোমধ্যে তিনটি হ্যাচারিতে তদারকির জন্য মৎস্য কর্মকর্তাদের জেলা থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এবার এ মৌসুমে যথাসময়ে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল আর উজানের পানি নেমে আসায় ডিম ছাড়ার পরিবেশ খুবই ভালো। যেহেতু সকাল থেকে কিছু কিছু জায়গায় ডিম সংগ্রহকারীরা নমুনা ডিম পেয়েছেন, আশা করা যাচ্ছে রাতের মধ্যে মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়তে পারে।সূত্র জানায়, খাগড়াছড়ির পাহাড় থেকে নেমে আসা হালদা নদীর ফটিকছড়ি এলাকায় একটি রাবার ড্যাম থাকায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া তামাক চাষ, শিল্পকারখানা ও গৃহস্থালির বর্জ্যে দূষণও বাড়ছে। নদী ব্যবস্থাপনায় যথাযথ উদ্যোগের অভাবের অভিযোগও রয়েছে। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও হালদার মা মাছ টিকে আছে এবং প্রতিবছর প্রজনন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।প্রসঙ্গত, গত মৌসুমে মে মাসের ২৯ তারিখ হালদায় মা মাছ ডিম ছাড়লেও এবার এপৃল ও মে মাসের তৃতীয় জোয়ারে পুরোদমে মা মাছ ডিম ছেড়ে দেবে। গত মৌসুমে ১৪ হাজার ৬৬৪ কেজি ডিম সংগ্রহ হয়। যা থেকে ২৯৮ কেজি রেনু উৎপন্ন হয়। এর আগের বছর ২০২৪ সালে রেনুর পরিমাণ ছিল মাত্র ৪৬ কেজি। হালদায় সংগৃহীত ডিমের প্রতিকেজি রেণুর দাম ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রী হয়।
১৭ দিন আগে
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা সার্কেল চিফ দেবাশীষ রায় ওয়াংজার স্ত্রী ও অধিকারকর্মী ইয়ান ইয়ানের বিরুদ্ধে চিঠি দিয়েছে সরকার। চিঠিতে তাকে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। গত ৬ এপৃল রাঙামাটির জেলা প্রশাসক (ডিসি) নাজমা আশরাফী রানি ইয়ান ইয়ানকে এই চিঠি প্রেরণ করেন। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, তার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তবে ২৫ এপৃল শনিবার ইয়ান ইয়ান তার আইনজীবী সারা হোসেনের মাধ্যমে এই চিঠির লিখিত জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তার বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য ছড়ানো এবং ওই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার যে অভিযোগ উঠেছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। চিঠির জবাবে তিনি এসব অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন এবং একই সঙ্গে চিঠিটি অবিলম্বে প্রত্যাহার বা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন।২৯ এপৃল বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাঙামাটির ডিসি নাজমা আশরাফী। তিনি জানান, বক্তব্য দেওয়া ও কার্যক্রম পরিচালনার সময় দেশের আইনকানুন সঠিকভাবে মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করতে চাকমা রানিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা-২-এর নির্দেশেই তিনি এই চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠির রেফারেন্সে যার উল্লেখ রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখাটি তদারকি করেন উপসচিব কে এম ইয়াসির আরাফাত। তিনি জানান, চিঠিতে যে কারণগুলো উল্লেখ করা হয়েছে, মূলত সেগুলোর ভিত্তিতেই রাঙামাটির ডিসিকে এই চিঠি পাঠাতে বলা হয়েছিল।চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে জানা গেছে ইয়ান ইয়ান পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিভিন্ন পাহাড়ি সংগঠনের সদস্যদের একত্র করে প্রোপাগান্ডা ছড়ানোয় জড়িত। এ ছাড়া তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ সরকার ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর সঙ্গেও জড়িত।চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, যেহেতু পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাই এই ধরনের কার্যকলাপ এ অঞ্চলের পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনও বক্তব্য দেওয়ার বা কার্যক্রম পরিচালনার সময় দেশের প্রচলিত আইনকানুন কঠোরভাবে অনুসরণ করে সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য আপনাদের অনুরোধ করা হচ্ছে।
১৯ দিন আগে
“গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ওয়েল ফুডের উৎপাদিত কেক, মিষ্টি, পেস্ট্রিসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্যে রেডম্যান লেমন ইয়েলো কালার পেস্ট (ফুড গ্রেড কালার) ব্যবহার করা হচ্ছে। যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এসব ক্ষতিকর উপাদানের কারণে নানা রোগ হতে পারে। সংস্থাটি অভিযানে গিয়ে ভেজাল অপতৎপরতার প্রমাণ পাচ্ছে” -জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডল।
২১ দিন আগে
বউয়ের নামে কিনেছেন জমি। যেখানে নির্মাণ করেছেন বিলাস বহুল ৭ তলা বাড়ি। ব্যবহার করেন প্রিমিও গাড়ি। এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতা ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের নামে চট্টগ্রাম মহানগর ও নিজ জন্মস্থান আনোয়ারায় কিনেছেন সারি সারি জমি। বিভিন্ন ব্যাংকে জমা রেখেছেন কাড়ি কাড়ি টাকা। এসব কিছুই যেন মনে করিয়ে দেয় সেই স্বৈরাচারি শেখ হাসিনার আলোচিত দূর্নীতিবাজ ড্রাইভার জাবেদ আলীর অঢেল সম্পদের কথা। মনে করিয়ে দেয় এনবিআর কর্মকর্তা মতিউর রহমানের দূর্নীতির কথা। যাদের মতো অঢেল সম্পদের মালিক চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সাধারণ শাখার উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং ভুমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার প্রাক্তণ উচ্চমান সহকারি এইচ এম আলী আযম খান। তার কথায় এসব সম্পদের হিসাব-নিকাশ চললেও যেন নিজের কিছুই নেই। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের শোলকাটা গ্রামের মৃত মোজাম্মেল হক চৌধুরীর ছেলে এইচ এম আলী আযম খান এতটাই চতুর যে, নিজের নামে কেনা অঢেল সম্পদের অনেকটাই আড়াল করে রেখেছেন। ধন-সম্পদের শক্তিতে নিজ এলাকার মানুষকে মানুষ বলেও মনে করেননা তিনি। দখল করেছেন মানুষের জমি-পুকুরসহ নানা সম্পদ। পুলিশ দিয়ে হয়রানিসহ নানাভাবে করছেন জুলুম ও নির্যাতন। এমন একাধিক ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলে তার অঢেল সম্পদের কিছু তথ্য সামনে আনা সম্ভব হয়েছে। ভুক্তভোগীদের একজন হলেন আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের শোলকাটা গ্রামের মো. আবদুল্লাহর ছেলে সমির উদ্দিন। তার প্রায় ১২ গন্ডা জায়গা জোরপূর্বক অবৈধভাবে দখল করে দেয়াল ও পিলার নির্মাণ করেছেন এইচ এম আলী আযম খান। এ নিয়ে তাকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন তিনি। জেলা প্রশাসনের প্রভাব বিস্তার করায় তার সাথে কুলিয়ে উঠতে না পেরে সমির উদ্দিন অঢেল সম্পদের কিয়দাংশের বিবরণ দিয়ে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের বরাবরে পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন। ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর দায়ের করা পৃথক অভিযোগে সমির উদ্দিন উল্লেখ করেন, এইচ এম আলী আযম খান বায়েজীদ থানার পূর্ব নাছিরাবাদ পলিটেকনিক মোজাফফর নগর আবাসিক এলাকার হাজী মোজাফ্ফর আহমদ চৌধুরী সড়কে বিশাল জায়গায় ৭ তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। বাড়িটির নাম ড্যাফোডিল ভবন। বর্তমানে জমিসহ এই বাড়ির বাজার মূল্য ২০ কোটি টাকারও বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এছাড়া তার রয়েছে ৩৭ লাখ ২৩ হাজার টাকা মূল্যের প্রিমিও কার। নম্বর চট্ট-মেট্রো-গ-১২-০৯০৮। অভিযোগে দাবি করা হয়, কর্মস্থলে সাধারণ মানুষের ভুমি অধিগ্রহণ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া ঘুষের অবৈধ অর্থে পেশায় গৃহিনী স্ত্রী মোহছেনা আক্তারের নামে কেনা বিশাল এই জায়গায় ৭ তলা ড্যাফোডিল ভবন নির্মাণ করেন। এই ভবনের বিদ্যুতের মিটারও স্ত্রী মোহছেনার নামে। মিটারের নম্বর হচ্ছে ০১০৪১০০৯৫৯২০, ০১০৪১০০৯৪৮৪৮। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ভূমির ক্রয়কৃত মালিকানা ছাড়া বিদ্যুৎ মিটার প্রদান করেন না। এভাবে তিনি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা আপন ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের নামে জমি ও কোটি কোটি টাকার সম্পদ কিনেছেন। নগরীর বিভিন্ন ব্যাংকে স্বজনদের হিসাবে জমা রেখেছেন কাড়ি কাড়ি টাকা। দূর্নীতি আড়াল করতে তিনি এই উপায় অবলম্বন করেছেন। এর মধ্যেও তিনি নিজের নামে অনেক সম্পদ কিনেছেন। দূর্নীতি আড়াল করতে তিনি এসব গোপন রেখেছেন। এমন একটি জমি কেনার তথ্য মিলেছে আনোয়ারা সাব রেজিষ্ট্রার অফিসে। অফিসের দলিলমুলে দেখা যায়, এইচ এম আলী আযম খান গত ২০১৮ সালের ১২ এপৃল ৫,২৩,২০,০০০/-(পাঁচ কোটি তেইশ লক্ষ বিশ হাজার) টাকা মূল্যে ১০ একর জমি কিনেছেন। জমির দলিল নং ১৬৫৩। যেখানে তিনি নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অথচ বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সাধারণ শাখায় উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপি ও নেতাদের সাথে আলী আযম খান। ছবি : দৈনিক ঈশানএর আগে ২০২০ সালের ১ অক্টোবর চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকায় এইচ এম আলী আযম খানের দুর্নীতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যার শিরোনাম ছিল 'কমিশন' চেক উড়ে এলএ শাখায়। এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূমি অধিগ্রহণে ১০-১৫ শতাংশ পর্যন্ত 'কমিশন' নেওয়া হয়। আর অধিগ্রহণের চেক গ্রহণের আগেই কমিশনের চেক প্রদান করতে হয়।অনিয়মের এই চক্রে জড়িত সার্ভেয়ার কানুনগো, অফিস সহকারী, অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, ব্যাংক ও হিসাবরক্ষণ অফিসের কর্মকর্তা ছাড়াও ডজনখানেক সাংবাদিক রয়েছে। রয়েছে অর্ধশতাধিক দালালচক্র। যার মধ্যে নজরুল নামে এক চেইনম্যানকে গ্রেপ্তার করে দুদক। ওই সময় তার কাছ থেকে ৫৮ লাখ টাকাসহ কয়েকটি চেক উদ্ধার করে দুদক কর্মকর্তারা। আর এই দূর্নীতির মূল হোতা ছিলেন এইচ এম আলী আযম খান। তিনি তখন এলএ শাখার উচ্চমান সহকারী ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রামে অন্তত সরকারের ১৩১টি প্রকল্প থেকে ভুমি অধিগ্রহণে হাজার হাজার ভুমির মালিক থেকে ১০-১৫% কমিশনে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এইচ এম আলী আযম খান। যা এখনো চলমান। ভাগবোটায়ারায় তুষ্ট জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নেক নজরে ফ্যাসিবাদের দোসর এইচ এম আলী আযম খান পদোন্নতি পেয়ে বসে যান ১০ম গ্রেডে উপ-সহকারী প্রশাসনকি কর্মকর্তা হিসেবেও। এরপর তার দূর্নীতির গতি আরও বেড়ে যায়। শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে একাধিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি জেলা প্রশাসন। তবে বিষয়টি তদন্ত করতে দূর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি গত এপৃল আনোয়ারায় আলী আযম খানের গ্রামের বাড়ি পরিদর্শন করেন। চট্টগ্রাম মহানগরসহ তার সম্পদের খোঁজে সক্রিয় রয়েছে দুদক টিম। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এইচ এম আলী আযম খান জেলা প্রশাসনে শক্ত সিন্ডিকেট গড়ে তোলেছেন। তার মাথার ওপর আশীর্বাদের হাত রয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের দূর্নীতিবাজ সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ইউনুচের। যার মাধ্যমে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এলএ পর্যন্ত পৌছে যায় ভুমি অধিগ্রহণের ভাগ-বাটোয়ারার অর্থ। এর সত্যতা মিলেছে জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তার মুখে। এইচ এম আলী আযম খান সম্পর্কে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, এইচ এম আলী আযম খান তো আপাদমস্তক একজন দূর্নীতিবাজ। জেলা প্রশাসনের এলএ শাখা সম্পূর্ণ তার কথা মতো চলে। তার এখন যে সম্পদ রয়েছে তার কানাকড়িও জেলা প্রশাসনের অনেক এডিসি-ডিসিরও নেই। জেলা প্রশাসনের সংস্থাপন শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুদুর রহিম বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, তার এত সম্পদ কল্পনা করা যায় না। অবসরপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ইউনুচ তো এইচ এম আলী আযম খানের প্রিয় মানুষ। দু‘জনের বাড়িও এক এলাকায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এইচ এম আলী আযম খান মুঠোফোনে বলেন, আমার কোন জমি ও ভবন নেই। আরেকজনের ভবনের ছবি এনে আমার বললে তো হবে না। আর আমার নিজস্ব কোন গাড়িও নেই। আরেকজনের গাড়িতে চড়ি। গাড়িটি আমার আত্নীয়ের। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ভাই এসব বিষয়ে কথা বলতে আমার ভাল লাগছে না। অন্য বিষয়ে কথা বললে আপনার সাথে আমার বন্ধুত্ব হতে পারে। সমির নামে এক প্রতিবেশিকে এসব অভিযোগের জন্য দায়ী করে তিনি বলেন, তার সাথে জায়গা-জমি নিয়ে আমার ঝামেলা আছে। এ কারণে গত ৭-৮ বছর ধরে সে এসব করছে। এ কারণে তাকে আমি থানায়ও দিয়েছি। জেলও খেটেছে। এসব কাজ আর না করার জন্য মুচলেকাও দিয়েছে। এরপর কিছুদিন সে নিরব ছিল, এখন আবার শুরু করেছে। অন্য আরেক প্রশ্ন করা হলে এইচ এম আলী আযম খান বলেন, ভাই এখন আমি ব্যস্ত আছি, আপনার সাথে পরে কথা বলব বলে নিজেই ফোনের সংযোগ কেটে দেন তিনি। কিন্তু পরে তিনি আর কোন ফোনকল রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভুমি অধিগ্রহণ শাখার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কামরুজ্জামানের মুঠোফোনে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। ব্যস্ততা দেখিয়ে তিনি একটি টেক্সট মেসেজে জানান, তিনি নিজেই ফোন করে কথা বলবেন। কিন্তু তিনি ফোন আর করেননি। ফলে কথা বলতে রবিবার দুপুরে দপ্তরে গেলেও তিনি ছিলেন না। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত না। এমন কোন অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। আমি আসার পর কোন অভিযোগ থাকলে বলেন। বিষয়টির খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। (দ্বিতীয় পর্ব আসছে শীঘ্রই)
২২ দিন আগে
স্বদেশ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ। ফলোআপ পর্যায়ের এই প্রতিবেদনে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
৩৩ দিন আগে