পর্যটননগরী কক্সবাজারের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার রেল যোগাযোগ আরও জোরদার করতে চলতি মাসেই ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আরও এক জোড়া নতুন মহানগর ট্রেন চালুর ঘোষণা দিয়েছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
একই সঙ্গে দেশের অন্যতম আধুনিক কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু ও উন্নত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে এর পরিচালনার দায়িত্ব একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে কক্সবাজার আইকনিক স্টেশন ও রামু জংশন পরিদর্শন শেষে চকরিয়া উপজেলার হারবাং রেল স্টেশন এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে চলতি মাসেই ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আরও এক জোড়া নতুন ট্রেন চালু করা হবে। এতে এ রুটে যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ, আরামদায়ক ও সময়োপযোগী হবে।
কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনবান্ধব রেল হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্টেশনের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে এর পরিচালনার দায়িত্ব একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, দেশের রেল যোগাযোগব্যবস্থাকে আধুনিক ও সম্প্রসারিত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার এবং ঢাকা থেকে সিলেট পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পর্যটন শিল্পের বিকাশও ত্বরান্বিত হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দোহাজারী-কক্সবাজার ১০২ কিলোমিটারের দীর্ঘ রেলপথ নির্মাণের সময় প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার গাছ কাটতে হয়েছিল। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ইতোমধ্যে রোপণ করা গাছগুলোর বর্তমান অবস্থান পরিদর্শন করেছি। পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য একটি দেশের মোট ভূখণ্ডের অন্তত ২৫ শতাংশ বনাঞ্চল থাকা জরুরি। রেলপথের দুই পাশে নতুন করে সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণের জায়গা চিহ্নিত করে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, চকরিয়া, ডুলাহাজারা ও হারবাংসহ এই লাইনের সকল স্টেশনে আধুনিক আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা হবে। যাত্রীদের নিশ্চিন্তে যাতায়াতের জন্য রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো, যাত্রীসেবা কেন্দ্র, অপেক্ষমাণ কক্ষ, নিরাপত্তাব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা, টিকিটিং কার্যক্রম ও চলমান উন্নয়নকাজ ঘুরে দেখেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় যাত্রীবান্ধব সেবা নিশ্চিত, স্টেশনের অবকাঠামোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী।
পরিদর্শন ও মতবিনিময়কালে কক্সবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সবুক্তগীন মাহমুদ, কক্সবাজার রেল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) এরশাদুল হক, তমা কনস্ট্রাকশনের প্রকল্প পরিচালক বিমল সাহা, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার ও চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।