ভারী বর্ষণের মধ্যে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে রেনু আক্তার (৫৬) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। একইভাবে দেয়াল ধসে শফিকুর রহমান নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এক শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ রহমান নগর আবাসিক বি ব্লকের পাহাড়ে দেয়াল ধসের ঘটনা ঘটে। এর আগে বিকেল ৩টার দিকে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ইছাখালী গুচ্ছগ্রাম এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ভারী বৃষ্টির কারণে গুচ্ছগ্রাম এলাকার একটি পাহাড়ের অংশ ধসে বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা রেনু আক্তার ঘটনাস্থলেই মারা যান। একই ঘটনায় আরও দুজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। পাহাড় ধসের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
টানা বর্ষণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।
এদিকে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ রহমান নগর আবাসিক বি ব্লকের পাহাড়ে একটি বসতঘরের দেয়াল ধসে শফিকুর রহমান এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থানা এলাকায়।
এই ঘটনায় দুই বছর বয়সি শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন- মর্জিনা বেগম (৫৫), সোহান (৪) ও ছাইফা (২)। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে বলে জানান হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. আলাউদ্দিন।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলাম বলেন, একজনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছি। আহত তিনজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এখনো উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।
ওসি বলেন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সোমবার থেকে বিভিন্ন পাহাড়ে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করছে। কিন্তু অনেক বাসিন্দা পাহাড়ের বাসা ছেড়ে যাননি।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মাহমুদুল আলম জানান, চট্টগ্রামে মঙ্গলবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। নিকট-অতীতে এত বৃষ্টির দেখা চট্টগ্রামে আর মেলেনি। অনেকে মেঘভাঙা বৃষ্টির সঙ্গে তুলনা করছেন এই বৃষ্টিকে।
তিনি বলেন, সাধারণত একটি ছোট (৩০ বর্গকিলোমিটার) নির্দিষ্ট এলাকায় এক ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে তাকে মেঘভাঙা বৃষ্টি বলা হয়।
মঙ্গলবার ভোর থেকে চট্টগ্রামে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টি ছিল নিরবচ্ছিন্ন। ক্রমান্বয়ে বেড়েছে এই বৃষ্টি। সকাল ৯টায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার, ১২টায় ছিল ৩৮৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার। পরে ৪০০ পার হয়। একই সঙ্গে পাহাড় ধসের সতর্কবার্তাও জারি করা হয়েছে।