বাতিল হচ্ছে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের আওতাধীন চট্টগ্রামের ৬৪ কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় এই উদ্যোগ নিয়েছে কারিগরি শিক্ষাবোর্ড।
ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর অধ্যক্ষ, সুপারিনটেনডেন্ট, প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালককে কারণ দর্শানো নোটিশও দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ জুন এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠান প্রধানকে শোকজও করা হয়েছে।
শনিবার (২৮ জুন) সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের পরিদর্শক মো. আল মাসুদ করিম। তিনি জানান, বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও স্বীকৃতি প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা–২০২৪’ এর উপবিধি–এ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের ভর্তি, ফলাফল, অবকাঠামো, শিক্ষক–কর্মচারী নিয়োগ, ব্যবস্থাপনা কমিটি, আসবাব, যন্ত্রপাতি, লাইব্রেরি এবং পাঠদানের অনুমতি প্রদানকালে আরোপিত অন্যান্য শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে সরকারের অনুমোদনক্রমে বোর্ড যেকোনো প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি বাতিল বা প্রত্যাহার করতে পারবে।
তারই আলোকে চট্টগ্রামের ৬৮ কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পাঠদান বাতিলের তালিকায় নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় রয়েছে ১৪ কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এসএসসি (ভোকেশনাল), দাখিল (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং।
স্কুলগুলো হচ্ছে– নগরীর বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে স্টেশন কলোনি উচ্চ বিদ্যালয়, গোলমুন্ডা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, গুলতাজ মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, হাটহাজারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ধর্মপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, পশ্চিম কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়, পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয়, মোস্তফা বেগম বালিকা কারিগরি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা কলেজ, পশ্চিম বিনাজুরী উচ্চ বিদ্যালয়।
দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমে যুক্ত মাদ্রাসাগুলো হচ্ছে– পন্থিছিলা ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসা, মজিদিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও জামেয়া আহমদীয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা। তালিকায় রাঙামাটি ও কক্সবাজারের ৩টি করে ৬টি মাদ্রাসাও রয়েছে।
এছাড়া ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং–এ যুক্ত চট্টগ্রামের দুই কলেজ হচ্ছে– মেমেক্স পলিটেকনিক অ্যান্ড বিএম কলেজ ও নিউকেসল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ। এ তালিকায় রাঙামাটির একটি কলেজও রয়েছে।
একইসঙ্গে জাতীয় দক্ষতামান বেসিক (৩৬০ ঘণ্টা মেয়াদী) কোর্স পরিচালিত হয় এমন ৫৪ প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদনও বাতিল হচ্ছে। এ তালিকায় কক্সবাজার, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির ৪৪ প্রতিষ্ঠান আছে।
প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে– চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ন্যাশনাল পলিটেকনিক কলেজ, বেসিক টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, মেমেক্স পলিটেকনিক অ্যান্ড বিএম কলেজ, ইউনিয়ন কৃষি উচ্চ বিদ্যালয়, শাহী কমার্শিয়াল কলেজ, মিপস ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি, ইসলামী ব্যাংক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি।
এবিসি কম্পিউটার স্কুল, দ্য কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, রেনেসা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মাম্যাক্স কম্পিউটার, মাহমুদুন্নবী চৌধুরী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আর কে টেকনিক্যাল ওভারসিজ ট্রেনিং সেন্টার, ভিলেজ স্কুল অব ইনফরমেশন টেকনোলজি, ইনফরমেশন অ্যান্ড টেকনিক্যাল টেকনোলজি, ওয়েস্টার্ন মেরিন ইনস্টিটিউট, মুসাপুর বদিউজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়, মাইক্রো মিডিয়া কম্পিউটার।
চট্টগ্রাম লার্নিং একাডেমি, গ্রামীণফোন কমিউনিটি ইনফরমেশন সেন্টার, কম্পিউটার ইউটিলাইজিং সেন্টার, রোটারি ইস্কান্দার টেকনিক্যাল সেন্টার, গ্রামীণফোন কমিউনিটি ইনফরমেশন সেন্টার (জিপিসি আইসি), নিউ জেনারেশন কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার, আহলা এ এস চৌধুরী বহুমুখী টেকনিক্যাল স্কুল, এবিসি কম্পিউটার ইনস্টিটিউট, আরাবিয়া খাইরিয়া কম্পিউটার ইনস্টিটিউট।
চট্টগ্রাম ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, স্কুল অব ট্যুরিজম অ্যান্ড হোটেল ম্যানেজমেন্ট, বিডি টেকনোলজি, মুসলিম এইড ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, মোস্তফা বেগম গার্লস টেকনোলজি অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ, এটিএল একাডেমি, ট্রাস্ট টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন ইনফরমেশন সার্ভিস সেন্টার।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, ইউনিসন স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, শ্যামলী আইডিয়াল টেকনিক্যাল কলেজ (চট্টগ্রাম), প্রোগ্রেসিভ টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, এসকেপ মেকানিক্যাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, ৬ নম্বর ইছাখালী ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র, প্যাসিফিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, উদ্দীপন টিভিইটি সেন্টার, আইডিয়া ইঞ্জিনিয়ারিং।
চট্টগ্রাম টেকনিক্যাল কলেজ (সিটিসি), চট্টগ্রাম সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট, ১৮ নম্বর হারামিয়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, অ্যাকটিভ ইনস্টিটিউট, শামসুন্নাহার হারুন টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, দারুল হিকমা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, কর্ণফুলী–রাঙ্গুনিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও আস্থা হোম কেয়ার অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার।
কারিগরি শিক্ষাবোর্ড সূত্র জানায়, চূড়ান্তভাবে পাঠদান অনুমোদন বাতিলের আগে চলতি ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এ বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর অধ্যক্ষ, সুপারিনটেনডেন্ট, প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালককে কারণ দর্শানো নোটিশও দেয়া হয়। এর মধ্যে গত ২৪ জুন এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠান প্রধানকে শোকজ করা হয়।
এছাড়া ৪ ও ১৮ জুন ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠান প্রধানকে এবং জাতীয় দক্ষতামান বেসিক (৩৬০ ঘণ্টা মেয়াদী) কোর্স পরিচালিত হওয়া প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ৮ জুন পৃথক শোকজ করা হয়। তবে শোকজের ভাষা একই।
প্রতিষ্ঠান প্রধানকে শোকজ করে দেয়া কারিগরি শিক্ষাবোর্ড–এর দেয়া চিঠিতে যেসব কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ যাবত কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে না, সেসব প্রতিষ্ঠানে আগামী ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব ধরনের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিতসহ প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন কেন বাতিল করা হবে না, তার যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।
এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠানকে এ ব্যাখ্যা আগামী ২২ জুলাইয়ের মধ্যে ও ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ৩০ জুনের মধ্যে বোর্ডে ব্যাখ্যা জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়।
কারিগরি শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শুধু চট্টগ্রাম নয়, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি না করায় সারা দেশের ভোকেশনাল, ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ও ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার ও জাতীয় দক্ষতামান বেসিক কোর্স সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে শোকজ করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১ হাজার ৮৫৩।
এর মধ্যে এসএসসি (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমের ৪৪৩টি ও দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমের ১৭৮টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া ১২০টি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১২টি ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল, ১৫টি ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার ও ১ হাজার ৮৫টি জাতীয় দক্ষতামান বেসিক কোর্স সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ও ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার তালিকায় চট্টগ্রামের কোনো প্রতিষ্ঠান নেই।