অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে চীন সফরের আগে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসের ফেসবুক পেজ থেকে ঘোষণা দেয়া হয় চট্টগ্রাম থেকে চীনের কুনমিং রুটে যাত্রিবাহী চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনস সরাসরি চালুর। কিন্তু সেটি আর এগোয়নি।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যবহারকারীরা। তাদের মতে, চট্টগ্রাম-কুনমিং রুটে ফ্লাইট চালানো নিয়ে গত সরকারের আমলে বেশ আলোচনা হয়। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এমন কোন আবেদেই জমা পড়েনি। যে এয়ারলাইনসের কথা বলা হচ্ছে, তারাও বিষয়টি জানে না।
অথচ বিষয়টি নিয়ে বিমানবন্দর ব্যবহারকারীদের নিয়ে দু‘বার বৈঠকও হয়। বৈঠকে জানানো হয়-এ রুটে সপ্তাহে দুটি কার্গো ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতি চলছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পরিচালক (এয়ার ট্রান্সপোর্টেশন) মোহাম্মদ সফিউল আজম নিশ্চিত করেছেন, চট্টগ্রাম-চীন রুটে যাত্রীবাহী কিংবা কার্গো কোন ফ্লাইট চালানোর আবেদন দপ্তরে জমা পড়েনি। অনুমতি দুরের কথা।
তিনি বলেন, সত্যি কথা বলতে কি, এ সময় আমরা দেশি এয়ারলাইনসকে উদ্বুদ্ধ করেছি এই রুটে ফ্লাইট চালানোর। কারণ চট্টগ্রাম থেকে এই ফ্লাইট যেতে সময় লাগে দুই ঘণ্টা। আর ঢাকা থেকে লাগে আড়াই ঘণ্টা।
চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনসের বাংলাদেশের জেনারেল সেলস এজেন্ট স্কাই ব্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন মোহাম্মদ জানান, ঢাকা থেকে কুনমিং রুটে দৈনিক ফ্লাইট চলছে। চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাইট চালুর কোন আবেদন করেনি কেউ। কেন্দ্রীয়ভাবেও এমন নির্দেশনা ছিল না।
ঢাকা-কুনমিং রুটে বর্তমানে দিনে একটি যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালাচ্ছে চীনের আরেকটি রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইনস চায়না সাউদার্ন। প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশের জিএসএ অ্যামনেস্টার সলিউশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান হাবিব উল্লাহ ডন বলছেন, এখন পর্যন্ত আমরাও চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাইট চালুর আবেদন করিনি।
তিনি বলেন, ২০২৭ সালে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালু হলে চট্টগ্রাম থেকেও কুনমিং কিংবা গোয়াংজু রুটে ফ্লাইট চালুর সুযোগ আসবে। আমরা এই রুটে যাত্রী-কার্গো দুটোর মার্কেট যাচাই করে দেখছি।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম-কুনমিং রুটে ফ্লাইট চালু নিয়ে এত ঢোল পিটিয়ে প্রচারণা কেন। উত্তর মিলেছে, বেসরকারি শীর্ষ এক এয়ারলাইনস কর্মকর্তার বয়ানে। তার ভাষ্য, ড. ইউনুসের আমলে ভারতের বদলে বাংলাদেশ চীনমুখি হচ্ছে সেই প্রচারণার অংশই ছিল। কিন্তু বাস্তবতা তো ভিন্ন।
ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, ২০২৫ সালের ৯ এপৃলে ভারত সরকার বাংলাদেশ থেকে স্থল, নৌ, বিমানপথে ট্রান্সশিপমেন্ট পণ্য পরিবহন সুবিধা স্থগিত করলে ইউনুস সরকার বিপাকে পড়ে। তৎপরতা শুরু হয় চট্টগ্রাম থেকে চীনে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট চালুর। দিল্লী বিমানবন্দরের বদলে কুনমিং হয়ে ইউরোপ-আমেরিকায় উড়োজাহাজে পণ্য পাঠানোর বিকল্প উদ্যোগ নেয়া হয়।
বাস্তবতার নিরিখে চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট চালুর দাবি জানিয়েছেন প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ তানভীর। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সাথে দেখা করে তিনি যুক্তি দেখিয়ে বলেছেন, বিপুল গার্মেন্ট পণ্যের স্যাম্পল উড়োজাহাজে আসে-যায়। রপ্তানি পণ্যের এয়ারশিপমেন্টে হয় প্রচুর। সবই ঢাকামুখি। এখন চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিদেশি বিমান সংস্থার ট্যারিফ মওকুফ, অ্যারোনটিক্যাল চার্জ কমিয়ে উদ্বুদ্ধ করা গেলে সুফল মিলবে।
চীনে পর্যটন এবং বিজনেস ভিসা প্রাপ্তি সহজ হওয়ায় বিপুল বাংলাদেশি চীন যাচ্ছেন। ট্রেফেল ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলসের ম্যানেজার মোহাম্মদ মামুন বলছেন, চীনে যাওয়া ব্যবসায়ীদের বড় অংশই চট্টগ্রামের। তারা যাচ্ছেন ঢাকা হয়ে। আবার চীনের সাথে ই-কমার্স বিজনেস দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে চট্টগ্রাম থেকে চীনে সরাসরি ফ্লাইটের চাহিদা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঢাকা থেকে পাঁচটি দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনস চীনে সরাসরি যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালাচ্ছে বর্তমানে। সবগুলো ফ্লাইট সক্ষমতার ৭০% বেশি যাত্রী নিয়মিত পরিবহন করছে।