বিশ্বকাপ ফুটবল এখন গ্লোবাল সংস্কৃতির এক উৎসব। সেই উৎসবে এবার নতুন থিম সং ‘দাই দাই’। কণ্ঠেও সেই পরিচিত নাম কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা। তার সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছেন নাইজেরিয়ার জনপ্রিয় শিল্পী বার্না বয়। দুই মহাদেশের দুই ভিন্ন ঘরানার কণ্ঠ মিলে তৈরি হয়েছে এবারের বিশ্বকাপের থিম সং। সপ্তাহখানেক আগে এক মিনিট ৭ সেকেন্ডের টিজার প্রকাশের পর থেকে গানটি নিয়ে ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয় ব্যাপক আগ্রহ। এরপর ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিক পরিবেশনার পর শুক্রবার (১৫ মে) গানটি বড় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা হয়।ফিফা জানিয়েছে, ‘দাই দাই’ থেকে প্রাপ্ত রয়্যালটি তাদের গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ডে জমা হবে। টুর্নামেন্ট শেষে এই তহবিলে ১০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অর্থ ব্যয় করা হবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শিশুদের শিক্ষা ও ফুটবলে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে।যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের বিশ্বকাপকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর হিসেবে দেখছে ফিফা। আগামী ১১ জুন শুরু হয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে এই মহাযজ্ঞ।বিশ্বকাপের মঞ্চে শাকিরার উপস্থিতি নতুন কিছু নয়। ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ‘ওয়াকা ওয়াকা’ দিয়ে তিনি পুরো ফুটবল বিশ্বকে নাচিয়েছিলেন। এর আগে ২০০৬ ও ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালেও পারফর্ম করেছেন তিনি।এবারও তাই প্রত্যাশা—‘দাই দাই’ শুধু একটি গান নয়, বিশ্বকাপের আবহে যোগ হওয়া নতুন এক আবেগ।
১৮ দিন আগে
টার্গেট বড় হওয়ায় কিছুটা শঙ্কা ছিল; রান তাড়ায় মাঝপথে ছন্দপতনও হয়েছিল। কিন্তু তাওহীদ হৃদয়, পারভেজ ইমন আর শামীম পাটোয়ারীদের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের সামনে সব উড়ে গেল শঙ্কা। বড় রান তাড়া করেও চট্টগ্রামে কিউইদের ৬ উইকেটে গুঁড়িয়ে দিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে শুভ সূচনা করল লিটন দাসের দল। এটা ঘরের মাঠে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রান তাড়া করার রেকর্ড।রান তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা ছিল বেশ ভালো। ৫.৩ ওভারে সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম মিলে ৪১ রানের ওপেনিং জুটি উপহার দেন। ১৬ বলে ১৭ রান করে সাইফ আউট হতেই বিপর্যয়ের শুরু। অধিনায়ক লিটন দাস তিনে নেমে দারুণ শুরু করেছিলেন। কিন্তু ১৫ বলে ২ চার ১ ছক্কায় ২১ রান করেই তিনি ইশ সোধির বলে পুল করতে গিয়ে সোজা বোল্ড হয়ে যান। ওয়ানডে মেজাজে খেলতে থাকা তানজিদ আর রানের গতি বাড়াতে পারেননি। তিনি ২৫ বলে ২০ রান করে আউট হয়ে যান।৭৭ রানে ৩ উইকেটের পতনের পর ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন তাওহীদ হৃদয় ও পারভেজ ইমন। এই দুজন চতুর্থ উইকেটে গড়েন ২৮ বলে ৫৭ রানের জুটি। ১৪ বলে ২৮ রান করা ইমন ক্লার্কসনের অফ কাটারে ছক্কা মারতে গিয়ে ধরা পড়েন লং অফে। বিস্ফোরক মেজাজে থাকা হৃদয়ের সঙ্গে যোগ দেন শামীম পাটোয়ারী। শেষ তিন ওভারে প্রয়োজন হয় ১৮ রানের। ১৭তম ওভারে শামীমের তিন চার আর এক ছক্কায় জয় চলে আসে হাতের নাগালে। ১২ বল হাতে রেখেই জিতে যায় বাংলাদেশ।তাওহীদ হৃদয় ২৭ বলে ২ চার ৩ ছক্কায় ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন। আর শামীম হোসেন খেলেন ১৩ বলে ৩ চার ২ ছক্কায় ৩১ রানের অপরাজিত ইনিংস। দুজনের অবিচ্ছিন্ন পঞ্চম উইকেট জুটিতে আসে ২১ বলে ৪৯ রান। ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে তাওহীদ হৃদয়ের হাতে। কিউইদের হয়ে ২ উইকেট নেওয়া ইশ সোধি ৪ ওভারে দিয়েছেন ৪০ রান। ম্যাথু ফিশার তো ৪ ওভারে ৫৩ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য।এর আগে আজ সোমবার চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ উইকেটে ১৮২ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। দলীয় ১১ রানেই রান আউট হয়ে যান টিম রবিনসন (০)। আরেক ওপেনার কাটেনে ক্লার্ক অবশ্য ৩৭ বলে ৭ চার ১ ছক্কায় ৫১ রানের ইনিংস উপহার দেন। তিনে নেমে উইকেটকিপার ড্যান ক্লেভারও খেলেন ২৮ বলে ৫১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস। এ দুজনকেই শিকার করেছেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন।১০ ওভারে ১০০ রান তুলে ফেলা নিউজিল্যান্ড পরের পাঁচ ওভারে তোলে মাত্র ৩০ রান। বাংলাদেশি স্পিনাররা রানের লাগাম টানেন। ১৬.৩ ওভারে ৫ উইকেটে ১৫১ রান করার পর আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ হয়ে যায়। খেলা শুরু হলে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নিক কেলি ২৭ বলে ৩৯ রান করে আউট হয়ে যান। শিকারি শরিফুল ইসলাম। শেষ ওভারে উইকেট পেতে পারতেন রিপন মণ্ডল; তবে ১৪ বলে অপরাজিত ২৭ রান করা ক্লার্কসনের ক্যাচ ফেলেন রিশাদ হোসেন।বল হাতে তিন পেসারই উদার হস্তে রান বিলিয়েছেন। শরিফুল ৪ ওভারে ৩৬ রানে ১ উইকেট, তানজিম সাকিব ৪ ওভারে ৪০ রানে ১টি এবং রিপন ৩৯ রান দিয়ে উইকেটশূন্য। দুই স্পিনারের মধ্যে শেখ মাহেদী ৩১ রানে একটি আর রিশাদ হোসেন ৩২ রানে ২ উইকেট নেন।
৩৬ দিন আগে
বৈশাখের ভর দুপুর। মাথার ওপর সূর্য যেন অগ্নিবর্ষণ করছে। কিন্তু চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানের উত্তাপ ছাপিয়ে গেছে সেই অগ্নিবর্ষণ। মানুষের উন্মাদনার কাছে হার মেনেছে বৈশাখের সেই তপ্ত দুপুর।শনিবার (২৫ এপৃল) বেলা শেষে এল শান্তির বার্তা। এবারের ১১৭ তম বলীখেলায় চ্যাম্পিয়ন মো. শরীফ। যিনি সবার কাছে ‘বাঘা’ শরীফ নামে পরিচিত। আর তাতে তার হয়ে যায় হ্যাটট্রিক। খেলায় রানারআপ মো. রাশেদ।সূত্রমতে, এবারের বলীখেলায় অংশ নিয়েছিলেন ১০৮ জন বলী। নবীন থেকে প্রবীণ সবার লক্ষ্য ছিল একটাই, লালদীঘির শ্রেষ্ঠত্ব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লড়াইটি গিয়ে ঠেকে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী গতবারের চ্যাম্পিয়ন মো. শরীফ ও মো. রাশেদের মধ্যে।ফাইনালে রিংয়ের চারপাশ তখন কানায় কানায় পূর্ণ। ঢোলের বাদ্য আর দর্শকদের গগনবিদারী চিৎকারে মেতে উঠেছে পুরো এলাকা। লড়াই শুরু হতেই দেখা গেল কৌশল আর শক্তির অপূর্ব সমন্বয়। কখনো রাশেদ আক্রমণ করছেন, তো কখনো শরীফ তা দুর্দান্ত দক্ষতায় সামলে নিচ্ছেন। এভাবে চলল টানা ২৫ মিনিট। শেষ মুহূর্তে হুট করেই নিজের কৌশল বদলে ফেললেন শরীফ। রাশেদকে ভারসাম্যহীন করে এক নিপুণ প্যাঁচে মাটিতে ফেলে দিতেই রেফারির বাঁশি বেজে উঠল। বাঘা শরীফ টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়ে নিজের আধিপত্য আরও সুদৃঢ় করলেন। অরণ্য তৌফিকএর আগে খেলায় বাজিমাত করেছেন ঢাকা হরাইজন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী অরণ্য তৌফিক। ১৬ বছর বয়সী এই কিশোর হারিয়ে দিয়েছেন তার চেয়ে ১২ বছর বেশি বয়সের মোহাম্মদ মানিককে।শনিবার ঢাকা থেকে লালদীঘির মাঠে এসে পৌঁছান তৌফিক। সঙ্গে এসেছেন তার কোচ সামির। তৌফিক কুস্তি ও রেসলিং পছন্দ করেন ছোটবেলা থেকেই। ঢাকায় মাঝেমধ্যে খেলেন। এবার শখের বশে জব্বারের বলীখেলায় আসলেন প্রথমবার।তৌফিক ও হালিশহরের মানিকের দ্বৈরথটি এক মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়। রিং থেকে নামার মুখেই তিনি জড়িয়ে ধরেন কোচ সামিরকে।তৌফিক বলছিলেন, ‘আমার চেয়ে অনেক স্থুলকার বড় একজনের সঙ্গে খেলেছি। সাহস করে নেমেছি। প্রথমে একটু ঘাবড়ে গেলেও সাহস হারাইনি। শেষপর্যন্ত জিতে গেছি। ভালো লাগছে।’ঢাকার মগবাজার এলাকার বাসিন্দা তৌফিক। বাবা তৌফিকুল আলম বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বড় কর্মকর্তা। মা রোকসানা চিকিৎসক। এক ভাই এক বোনের মধ্যে তৌফিক বড়।তৌফিক জানান, তার বাবা মা তাকে খেলার বিষয়ে উৎসাহ দেন। টিভিতে নিয়মিত রেসলিং দেখেন তিনি। ভবিষ্যতে একজন বড় কুস্তিগির হওয়ার স্বপ্ন দেখেন।তৌফিক এবার জব্বারের বলীখেলার সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রতিযোগী। জেতার পর দারুণ উচ্ছ্বসিত। ‘আগে অনেক শুনেছি এ বলীখেলার কথা। এখন সামনাসামনি দেখলাম।’শতবর্ষী আবদুল জব্বার বলীখেলা এবার ১১৭ বছরে পা দিল। এবার শতাধিক বলী অংশ নেন। ১৯০৯ সালে বদরপাতির বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর এই বলীখেলার প্রচলন করেন। তখন উদ্দেশ্য ছিল নিছক বিনোদন নয়, বরং ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামের তরুণদের শারীরিকভাবে শক্তিশালী ও সাহসী করে গড়ে তোলা। ১১৪ বছর ধরে প্রতিবছর ১২ বৈশাখ এই আয়োজন চট্টগ্রামের মানুষের আবেগের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লালদীঘি ঘিরে আয়োজিত কয়েক কিলোমিটারের এই বৈশাখী মেলায় কেউ গামছা বেঁধে, কেউ ছাতা হাতে, আবার কেউ গাছের ছায়ায় ঠাঁই নিয়ে চাতক পাখির মতো বেলা দেখেছেন।
৩৮ দিন আগে