চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একটি আবাসিক ভবনের চার তলার বেলকনি থেকে পড়ে মোহাম্মদ আবির (৪) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত ৯টার দিকে উপজেলার বারশত ইউনিয়নের পশ্চিমচাল এলাকায় হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটে।নিহত আবির রায়পুর ইউনিয়নের গহিরা বার আউলিয়া ইসমাইল মিয়াজী বাড়ির মোহাম্মদ দেলোয়ার ও মোছাম্মৎ নিলা আক্তার দম্পতির একমাত্র সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটি পশ্চিমচাল এলাকার গুলবাহার আবাসিক ভবনের চতুর্থ তলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছে।স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে শিশুটির মা ঘরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় সবার অজান্তে চঞ্চল স্বভাবের আবির বেলকনিতে চলে যায়। রেলিংবিহীন বেলকনিতে খেলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়। বিকট শব্দ শুনে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাবউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ভবন থেকে পড়ে যাওয়া শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
২ মাস ৫ দিন আগে
তরুণীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর এমপি গাজী নজরুল ইসলাম। এমন একাধিক ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর অবশেষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালো দলটি। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটির সার্বিক খোঁজখবর নিয়ে ও প্রকৃত তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে দলীয় সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত খবরের দিকে জামায়াতে ইসলামী গভীরভাবে নজর রাখছে।বিবৃতিতে জামায়াত নেতা বলেন, ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে জনাব গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বক্তব্য এবং তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীসহ দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার ভিডিও বক্তব্য মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে আরও খোঁজখবর নিয়ে এবং ঘটনার প্রকৃত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।প্রসঙ্গত, এক তরুণীর সঙ্গে জামায়াত এমপি নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একাধিক ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে, যেগুলো সিসিটিভি ফুটেজ থেকে সংগৃহীত। সেখানে ওই তরুণীর সঙ্গে জামায়াত এমপিকে একটি কক্ষে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা গেছে। ভিডিওগুলো ভাইরাল হওয়ার পর রাজনৈতিক মহলসহ বিভিন্ন অঙ্গণে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এ ঘটনায় নিজের মতো ব্যাখ্যা দিয়েছেন জামায়াত এমপি এবং ওই তরুণী। দুজনেরই দাবি, তারা বিয়ে করেছেন। কিন্তু তাতে থেমে নেই আলোচনা-সমালোচনা। তাদের দাবিকৃত দ্বিতীয় বিয়ে নিয়েও নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিয়ের তারিখের সঙ্গে একটি বায়োডাটায় উল্লিখিত বৈবাহিক অবস্থার অসঙ্গতি নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে ওই এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জামায়াতকে আহ্বান জানানো হয়েছে। ভিডিওতে একটি কক্ষে গাজী নজরুল ইসলাম ও এক তরুণীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে একটি টেবিলের ওপর রাখা পরিচয়পত্রে ‘বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ এবং ‘১৩তম পার্লামেন্ট’ লেখা দেখা যায়। পরিচয়পত্রে গাজী নজরুল ইসলামের ছবি, নাম এবং সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচয়ও দৃশ্যমান।ভিডিওতে হট্টগোলের মধ্যে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘দেখেন, সাতক্ষীরার জামায়াতের লোক মেয়েসহ এখানে ধরা খাইছে। এই যে, এই মুরুব্বি।’ তবে ভিডিওটি কবে, কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে ধারণ করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।এর আগে সোমবার রাত থেকে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি প্রকাশের পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।প্রথম দিকে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের নেতারা ভিডিওটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেন। পরে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘বেঙ্গল লেন্স’ ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে এটিকে এআই-নির্মিত নয় বলে দাবি করে।পরবর্তী সময়ে গাজী নজরুল ইসলাম নিজেই ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণী মরিয়ম খাতুন তার দ্বিতীয় স্ত্রী। একই দাবি করেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের নেতারাও।লিখিত বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। তিনি দাবি করেন, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী, দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মাছুম বিল্লাহকে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে শ্বশুরের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে অবস্থানকালে তার গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করেন।তার অভিযোগ, তাদের জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায় করা হয় এবং পরে আরও কয়েক লাখ টাকা চাওয়া হয়। টাকা না দেওয়ায় ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পুরো ঘটনাকে তিনি পরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইল, চাঁদাবাজি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চরিত্রহননের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন।এরই মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি বায়োডাটা, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, ১৭ জুন মরিয়ম খাতুনকে তিনি বিয়ে করেন। কিন্তু গণমাধ্যমের হাতে আসা একটি বায়োডাটায় দেখা যায়, ২২ জুন তারিখে—অর্থাৎ দাবিকৃত বিয়ের পাঁচ দিন পরও—মরিয়ম খাতুনের বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ রয়েছে।ওই বায়োডাটায় গাজী নজরুল ইসলামের স্বাক্ষরও রয়েছে। স্বাক্ষরের ওপরে সবুজ কালিতে হাতে লেখা রয়েছে- ‘জোর সুপারিশ করছি’। এ কারণে বিয়ের সময়কাল ও নথিপত্রের তথ্য নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।এদিকে গণমাধ্যমের হাতে আসা একটি কাবিননামার কপিতে দেখা যায়, তিন লাখ টাকা দেনমোহরে গাজী নজরুল ইসলাম ও মরিয়ম খাতুনের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে মো. আবুল হোসেন এবং বেগম মাকসুদা ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।ভিডিও প্রকাশের পর গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এক ভিডিও বার্তায় বলেন, মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে তার স্বামীর পারিবারিকভাবেই বিয়ে হয়েছে এবং তিনি নিজেও বিষয়টি জানতেন। এ নিয়ে অপপ্রচার চালানো হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।অন্যদিকে মরিয়ম খাতুনও পৃথক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, গাজী নজরুল ইসলাম তার বৈধ স্বামী। সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে তিনি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন।মরিয়মের বাবা মাছুম বিল্লাহও দাবি করেন, গত ১৭ জুন দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং অনুষ্ঠানে গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।
২ মাস ১৫ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরের বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি মনির হোসেনকে (৩০) যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল (মহানগর) চট্টগ্রামের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এ রায় ঘোষণা করেন। মামলাটি দায়েরের মাত্র ২৬ দিনের মাথায় এবং বিচার শুরু হওয়ার আট কার্যদিবসের মধ্যে এ রায় দেওয়া হলো।শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি মাহমুদুল আলম চৌধুরী রায় শেষে বলেন, বিচার শুরু হওয়ার মাত্র আট কার্যদিবসের মধ্যে আদালত রায় দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে বাকলিয়া এলাকার চেয়ারম্যানঘাটা থেকে ধর্ষণের অভিযোগে মনির হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের সময় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তকে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরে রাতের অন্ধকারে কৌশলে অভিযুক্তকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে থানায় নেওয়া হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।পরদিন ২২ মে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মনির হোসেনকে একমাত্র আসামি করে বাকলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। একইদিন বিকেলে আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।তদন্ত শেষে পুলিশ চিকিৎসা প্রতিবেদন, ডিএনএ পরীক্ষার ফল, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্টদের জবানবন্দির ভিত্তিতে মনির হোসেনের বিরুদ্ধে মাত্র ৫ কর্মদিবসে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ৯ জুন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত বুধবার রায় ঘোষণা করেন। বেলা ২টা ২০ মিনিটে রায় পাঠ শুরু হয়ে বিকেল ৩টায় শেষ হয় বলে আদালত সূত্র জানায়। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, শিশুধর্ষণ মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্যতম অপরাধগুলোর একটি। এ ধরনের অপরাধ শুধু শিশুর শারীরিক ক্ষতিই করে না, বরং তার মানসিক বিকাশ, আত্নবিশ্বাস ও স্বাভাবিক জীবনযাপনকে মারাত্নকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। একটি শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন সমাজের নৈতিক ভিত্তির ওপরও আঘাত হানে বলে মন্তব্য করেন আদালত।রায় ঘোষণার পর শিশুটির মা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন। তবে আসামির মৃত্যুদন্ড হলে আরও বেশি খুশি হতেন। রায়ের পর তিনি বাকলিয়া এলাকার প্রতিবাদী মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, বুধবার একই দিনে চট্টগ্রামের আলোচিত আরেক শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলারও রায় হয়েছে। পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণ, ধর্সণ ও হত্যার ঘটনায় আসামি মো. আবিরকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত।
৩ মাস ১৯ দিন আগে

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অপরদিকে আসামি স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকার পাবে। ক্ষতিপূরণ না দিলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ভিকটিম মৃত রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়। এরপর ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে আনা হয় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে। এসময় তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। রায় ঘোষণার আগে দুজনকেই এজলাসে তোলা হয়। বেলা ১১টার পর রায় পড়া শুরু করেন বিচারক। এদিকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও তৎপর থাকতে দেখা গেছে।উল্লেখ্য, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীতে আলোচিত এই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। পরদিন ২০ মে (১৯ মে দিবাগত রাত) ১২টা ৫ মিনিটে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে ভিকটিমকে ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানো ও লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। এরপর তদন্তে মাঠে নামে পুলিশ। ঘটনার ৪ দিনের মাথায় ২৪ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন। চার্জশিটে মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়।গত ১ জুন সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ২ জুন শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। ওই দিন ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের জবানবন্দি ও জেরার মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করেন আদালত। পরে ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন আসামিরা।গত ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে নৃশংস এ ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় নজিরবিহীন গতিতে বিচার শেষ পর্যায়ে পৌঁছাল।মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। এ সময় তাকে কৌশলে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন স্বপ্না। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে সোহেলের দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সোহেলের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বড় বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পান। পরে জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
৩ মাস ২৯ দিন আগে
চট্টগ্রামের বাকলিয়ার চার বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে এই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এত দ্রুত কোনো মামলার তদন্ত শেষ করার রেকর্ড চট্টগ্রামে আর নেই। শুক্রবার (৫ জুন) সকালে বিষয়টি স্বীকার করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপকমিশনার মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী। তিনি বলেন, চার বছরের সেই শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মনির হোসেনকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এটি এখন ডকেট শাখা থেকে ষষ্ঠ আমলি আদালতে পাঠানো হবে। জনদাবির মুখে ¯পর্শকাতর ঘটনাটির তদন্ত দ্রুত শেষ করতে হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, এ মামলার আসামি মনিরকে আটকের ঘটনায় ২১ মে গভীর রাত পর্যন্ত পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে বাকলিয়া রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। নিজেরাই বিচার করার দাবি তুলে জনতা আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে জনতার সংঘাত শুরু হয়। মামলার একমাত্র আসামি ২২ মে আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। মনির এখন কারাগারে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। সঙ্গে ছিলেন থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান।একজনকে আসামি ও ১৩ জনকে সাক্ষী করে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন ওসি সোলাইমান। তিনি বলেন, আসামির ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তি, ভিকটিমের ২২ ধারার জবানবন্দি, মেডিকেল ও ডিএনএ প্রতিবেদন এবং সাক্ষীদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে ধর্ষণের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে আসামি মনির ছাড়া আর কারও স¤পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।ওসি বলেন, সাত কার্যদিবসের মধ্যে এ অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এ ঘটনায় গত ২২ মে বাকলিয়া থানায় মামলা করা হয়েছিল। ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি বন্ধ ছিল। আজ বৃহ¯পতিবার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য, মনির শিশুটিকে ফুসলিয়ে ডেকোরেশনের গুদামের ভেতর নিয়ে পাশবিক নির্যাতন করে। এতে শিশুটির রক্তক্ষরণ হয়। সর্বশেষ সংশোধিত নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৯(১) ধারা অনুযায়ী ধর্ষণের অপরাধ হিসেবে গণ্য করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। আগামী রবিবার অভিযোগপত্র নির্ধারিত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলে প্রসিকিউশন শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।অভিযুক্ত আসামি মনির হোসেনের (৩০) বাড়ি কুমিল্লায়। চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার নুর হোসেন চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় ভাই ভাই ডেকোরেশনের কর্মচারী ছিলেন তিনি। বসবাস ওই এলাকাতেই।সূত্রমতে, শিশুকন্যা ধর্ষণের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ২১ মে বিকাল ৫টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যান ঘাটা আবু জাফর রোড এলাকা। শত শত লোক অভিযুক্ত যুবককে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে সড়কে অবস্থান নেয়, পুলিশের গাড়ি আটকে দেয় এবং পরে একটি পুলিশ ভ্যানে আগুন দেয়। টানা ছয় ঘণ্টা একটি ভবনে অবরুদ্ধ রাখার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে কৌশলে বাকলিয়া থানায় নেওয়া হয়। অভিযুক্তকে থানায় নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে স্থানীয়রা। তারা পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত এপিবিএন সদস্য মোতায়েন করা হয়। রাত ১২টার দিকে ক্ষুব্ধ জনতার একটি দল থানা ঘেরাও করতে মূল সড়কে পৌঁছে যায়। এ সময় কয়েকটি স্থানে আগুন জ্বালানোর ঘটনাও ঘটে। পরে অভিযুক্ত মনির হোসেনের বিরুদ্ধে পরদিন শুক্রবার শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলাটি করেন। ওই দিন বিকালে আদালতে হাজির করা হলে আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।ভুক্তভোগী শিশুটি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন ছিল ছয় দিন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সুস্থ হওয়ার পর বাড়ি ফিরে গেছে শিশুটি।
৪ মাস ১ দিন আগে
৫ হাজার কোটির স্কুল ফিডিং নিয়ে কঠোর সরকার; নিষিদ্ধ হচ্ছে ‘গোপন সাবকন্ট্রাক্ট’ এবং লাইভ ড্যাশবোর্ড চালু
৪ মাস ৯ দিন আগে
চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর ধর্ষক মনির স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেছেন-আমাকে শয়তানে পেয়েছিল। আদালতেও দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন মনির। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু বকর সিদ্দিকের আদালতে গ্রেপ্তার মনির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান। তিনি বলেন, আক্রান্ত শিশুটির বাবা থানায় মামলা করেছেন। মামলায় মনিরকে দুপুরে আদালতে হাজির করি। আসামি স্বেচ্ছায় আদালতে জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন। এরপর আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত এবং পূর্ণাঙ্গ তথ্য পেতে মেডিকেল প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়ার ভাষ্য, প্রচলিত অর্থে ধর্ষণ হিসেবে যা বোঝানো হয়, ধর্ষণের সংজ্ঞা কিন্তু দেশে প্রচলিত নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে আরও ব্যাপক। আসামি মনির শিশুটির সঙ্গে যা করেছে বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে সেটাই আইন অনুযায়ী ধর্ষণ। সুতরাং সেটাকে ধর্ষণের অভিযোগ থেকে হালকা ভাবার সুযোগ নেই। পুলিশ জানায়, বৃহ¯পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানার নুর হোসেন চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মনিরকে আটক করে স্থানীয় জনতা। মনিরের বয়স ৪০ বর্ছ। পুলিশ প্রথমে মনিরকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা গ্যারেজের কর্মচারী বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। পরে জানতে পারে মনির সেখানকার একটি ডেকোরেশনের দোকানের কর্মচারী।পুলিশের ভাষ্য, শিশুটির বাসার পাশেই ডেকোরেশনের দোকানটির গুদাম। সেখানে মনির আসা-যাওয়ার কারণে শিশুটিকে চিনতেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে শিশুটিকে ফুঁসলিয়ে ডেকোরেশনের দোকানে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ অভিযোগ পান তারা।এ ঘটনায় শিশুটির বাবা তার মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে শুক্রবার সকালে মনিরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আক্রান্ত শিশুটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছে।শিশুটির স্বজনরা জানান, দুপুরে তাকে ফুসলিয়ে ওই ব্যক্তি বাসার পাশের একটি ডেকোরেশনের দোকানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। পরে শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে এসে তার নানাকে ঘটনা জানায়। নানাসহ আরও লোকজন ডেকোরেশনের দোকানে গিয়ে ওই ব্যক্তিকে আটক করেন।মনিরকে গ্রেপ্তার করা নিয়ে বৃহ¯পতিবার রাতে প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে বাকলিয়া চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় তুলকালাম কান্ড ঘটে। পুলিশ-জনতার সংঘর্ষে মধ্যরাত পর্যন্ত রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বাকলিয়া এলাকা। পুলিশের একাধিক গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশসহ আহত হন ২০ জনেরও বেশি। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার নিজেরাই করবে জানিয়ে মনিরকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখা নিয়ে এ সংঘাতের সূত্রপাত হয় বলে জানান বাকলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কিশোর মজুমদার। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের হাতে আটক মনির শিশুটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। তাকে শয়তানে পেয়েছিল এমন কথাও বলেন তিনি। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে চরচাক্তাই এলাকায় শত শত লোক রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন।
৪ মাস ১৪ দিন আগে
মাত্র এক সপ্তাহে হারাল চারটি নিষ্পাপ ছোট্ট প্রাণ। পল্লবী থেকে সিলেট পর্যন্ত সব ঘটনায় উঠে এসেছে সমাজের অন্ধকার চিত্র, ধর্ষণ। এরপর হত্যা। এমন ঘটনায় বিচার ও নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। শঙ্কিত অভিভাবকরাও। রামিসারাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে হত্যা করা হয়েছে ধর্ষণের পর। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন আদালতে। ২০ মে বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তার জবানবন্দি রেকর্ড করে পাঠানোর নির্দেশ দেন কারাগারে। একই মামলায় অভিযুক্ত সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও পাঠানো হয়েছে কারাগারে।মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১৯ মে মঙ্গলবার সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় রামিসাকে কৌশলে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজ করতে গিয়ে সোহেল ও স্বপ্নার ঘরে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করেন। পাশেই একটি বালতিতে পাওয়া যায় শিশুটির মাথা। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে দেশ জুড়ে।ফাহিমাসিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকেও যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিবেশী ও সম্পর্কে চাচা জাকির হোসেনকে গত ১৮ মে সোমবার গ্রেপ্তার করে পুলিশ।স্থানীয়দের অভিযোগ, ফাহিমাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে নির্যাতনের পর হত্যা করে মরদেহ ব্যাগে ভরে পাশের ডোবায় ফেলে দেয় জাকির। গত শুক্রবার শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী থানা ঘেরাও করে। পরে অভিযুক্তের বাড়িতেও চালানো হয় হামলা।লামিয়াঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে চার বছরের শিশু লামিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নবম শ্রেণির ছাত্র মুরসালিনকে আটক করেছে পুলিশ।পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার বিকালে শিশুটিকে নিয়ে ঘুরতে দেখা যায় মুরসালিনকে। সন্ধ্যার পর লামিয়া নিখোঁজ হলে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। পরদিন সকালে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে মুরসালিন হত্যার কথা স্বীকার করলে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ভুট্টাক্ষেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, ‘ধর্ষণের পর ধরা পড়ে যাওয়ার ভয় থেকেই শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে।আছিয়ামুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ১০ বছরের শিশু আছিয়াকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সৎ মামা রাজা মিয়ার বিরুদ্ধে। শনিবার বিকালে নিজ ঘরের খাটের ওপর শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়।পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই রাজা মিয়া ওই পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে শিশুটিকে। উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কে অভিভাবকরাসাম্প্রতিক এসব ধর্ষণ ও শিশু হত্যার ঘটনা নিয়ে উৎকণ্ঠা ও আতঙ্ক বেড়েছে অভিভাবকদের মধ্যে। সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি চিন্তিত। একা স্কুলে যাওয়া, খেলাধুলা করা কিংবা প্রতিবেশীর বাসায় যাওয়ার মতো সাধারণ বিষয়গুলোও এখন অনেক অভিভাবকের কাছে উদ্বেগের কারণ। প্রতিদিন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার খবর দেখে আরও বাড়ছে তাদের আশঙ্কা।অনেকেই বলছেন, অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে এই ভয় ও অনিশ্চয়তা কাটবে না। ফলে সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবারগুলোর মধ্যে বাড়তি সতর্কতা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।ঢাকা উত্তরার বাসিন্দা ও দুই সন্তানের মা ফাওজিয়া খানম বলেন, ‘সন্তানদের এখন একা বাইরে পাঠাতে ভয় লাগে। স্কুলে যাওয়া, খেলতে যাওয়া, এমনকি পাশের বাসায় যাওয়ার ক্ষেত্রেও দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। প্রতিদিন খবর খুললেই শিশু নির্যাতন বা হত্যার ঘটনা দেখি। একজন মা হিসেবে এটা খুবই আতঙ্কের। আমরা চাই, অপরাধীদের এমন শাস্তি হোক যাতে ভবিষ্যতে কেউ শিশুদের দিকে কুনজর দেওয়ার সাহস না পায়।’ঢাকার পল্লবীর বাসিন্দা ও এক শিশুর বাবা সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সন্তান ঘর থেকে বের হলে এখন আর নিশ্চিন্ত থাকতে পারি না। আগে ভয় ছিল দুর্ঘটনার, এখন ভয় মানুষ নিয়েই। যারা শিশুদের ওপর এমন পাশবিক নির্যাতন চালায়, তাদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। না হলে কমবে না অভিভাবকদের এই আতঙ্ক।’বিশেষজ্ঞদের অভিমতশিশু অধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার চেয়ারম্যান মাহবুবা রহমান কাকলির ভাষ্য, ‘সাম্প্রতিক শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাগুলোর পেছনে সামাজিক অবক্ষয় ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি বড় কারণ। অধিকাংশ ভুক্তভোগী নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের হওয়ায় অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ দেখছে।’‘গত দেড় বছরে বহু শিশু ধর্ষণের ঘটনার বিচার না হওয়ায় অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু রাষ্ট্র নয়, পরিবার, সমাজ, স্কুল ও প্রতিবেশীকেও সমানভাবে দায়িত্ব নিতে হবে’, যোগ করেন তিনি।মাহবুবা রহমান কাকলি বলছেন, ‘শিশুদের ছোটবেলা থেকেই নৈতিক, সামাজিক ও মানবিক শিক্ষা জরুরি। একই সঙ্গে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় বিশেষ আদালতের মাধ্যমে দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি কার্যকর করা গেলে এ ধরনের অপরাধ কমে আসবে অনেকাংশে।’বিচারব্যবস্থার দুর্বলতার কারণেই অপরাধীরা ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ করার সাহস পাচ্ছে বলে মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। এই আইনজীবী বলেন, ‘বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণেই অপরাধীরা ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ করার সাহস পাচ্ছে। সংবিধান অনুযায়ী বিচার পাওয়া সব নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশে অনেক মানুষই সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয় না। তদন্ত ও ডিএনএ রিপোর্ট পেতে দীর্ঘ সময় লাগে। পর্যাপ্ত ডিএনএ ল্যাব ও বিশেষায়িত তদন্ত সংস্থার অভাবে বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। যা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে তৈরি করছে হতাশা’, যোগ করেন ইশরাত হাসান।তার ভাষ্য, ‘নিজের মেয়েকে হারানোর পরও যখন একজন বাবা বললেন, ‘আমি বিচার চাই না’, তখন তা রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক। কিছু মামলা দ্রুত বিচার হলেও উচ্চ আদালতে মামলা জটের কারণে বছরের পর বছর লেগে যায়, ফলে বিচার বিলম্বিত হয়।’বিচারটা সঠিকভাবে করা গেলে অপরাধের মাত্রা অনেকাংশই কমবে বলে মনে করেন ইশরাত হাসান। তার মতে, দৃষ্টান্তমূলক বিচার হলে ভয় পাবে অন্য অপরাধীরাও। কিন্তু বিচার পাচ্ছে না মানুষ।‘দেশে পর্যাপ্ত বিচারক ও আদালত নেই। প্রতিটি জেলায় ডিএনএ ল্যাব থাকা দরকার। তদন্তের জন্য বিশেষ এজেন্সি দরকার, যারা শুধু ধর্ষণ মামলাগুলো তদন্ত করবে’— অভিযোগের সুরে বললেন আইনজীবী ইশরাত।
৪ মাস ১৫ দিন আগে