চট্টগ্রাম মহানগরীর কয়েকটি সড়কের মধ্যে ব্যস্ততম একটি সড়ক বহদ্দারহাট-আরাকান সড়কটি। এটি ওয়াপদা কলোনি সড়ক নামেও পরিচিত। কিন্তু সড়কের দু‘পাশজুড়ে প্রতিনিয়ত দাড়িয়ে থাকে সারি সারি মাইক্রোবাস আর কার। দেখে বোঝার উপায় নেই-এটি সড়ক, নাকি কার-মাইক্রো স্টেশন। বছরের পর বছর ধরে চলা কার-মাইক্রোর অবৈধ দখলে সংকুচিত হয়ে পড়েছে পুরো সড়কটি। স্কুলগামী শিক্ষার্থী থেকে অফিস ফেরত মানুষ-প্রতিদিনই দুর্ভোগ আর ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন এই সড়কে। চান্দগাঁও থানার ফরিদেরপাড়া, শমসের পাড়া, খতিবের হাট ও খতিবপাড়া এলাকার অন্তত ৫০ হাজার মানুষের যাতায়াত এই সড়ক দিয়ে। বহদ্দারহাট মোড় থেকে সড়ক ধরে এগোলেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়। বিপরীত পাশে ন্যাশনাল পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আর বোর্ড কার্যালয় লাগোয়া ওয়াপদা কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই দুটি প্রতিষ্ঠানে কয়েকশ শিক্ষার্থী এই সড়ক ব্যবহার করে। সেই সড়কটিতে গত ২০ বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে কার-মাইক্রোর স্টেশন হিসেবে। বহদ্দারহাট কার-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন’ এই স্টেশন গড়ে তোলেন। সংগঠনটির নামে এখান থেকে প্রতিদিন তোলা হয় মোটা অঙ্কের চাঁদা। চাঁদার ভাগ যায় চান্দগাঁও থানা ও ট্রাফিক পুলিশের কাছে। যার বিনিময়ে নির্বিঘ্নে এই সড়ক দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে কার-মাইক্রো স্টেশন।শনিবার (১৬ মে) বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের প্রবেশমুখেই ২০-২৫ জনের জটলা। কেউ আড্ডা দিচ্ছেন, কেউ ভাড়ার জন্য হাঁকডাক করছেন, কেউবা যাত্রী নিয়ে তর্কে ব্যস্ত। প্রায় ২০ ফুট প্রশস্ত সড়কের পশ্চিমপাশজুড়ে সারি করে দাঁড়িয়ে আছে কার ও মাইক্রো। প্রবেশমুখ থেকে ওয়াপদা কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শেষ সীমানা পর্যন্ত তখন দাঁড়িয়ে ছিল ৩৬টি কার-মাইক্রো।দুপুর ২টা পর্যন্ত ওই এলাকায় অবস্থান করে দেখা যায়, একের পর এক গাড়ি ঢুকছে, আবার যাত্রী নিয়ে বেরিয়েও যাচ্ছে। একদিকে সড়কের অর্ধেক অংশ স্থায়ীভাবে দখল করে রাখা হয়েছে, অন্যদিকে বাকি অংশে অব্যাহত রয়েছে মাইক্রোবাস ও কার চলাচল। ফলে সাধারণ যাত্রীবাহী যান চলাচলের জায়গা প্রায় থাকছেই না। সড়কটিতে কোনো ফুটপাতও নেই। তাই শিক্ষার্থী ও পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে সড়কের একপাশ ঘেঁষে চলতে হচ্ছে। এর মধ্যে সড়কের একপাশ ভাঙাচোরা। কিন্তু ভালো অংশজুড়ে কার-মাইক্রো রাখায় বাধ্য হয়ে যানবাহন ও মানুষকে চলতে হচ্ছে ভাঙা অংশ দিয়ে।ন্যাশনাল পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ওয়াপদা কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয়। শিশুরা জানায়, ‘রাস্তার একপাশে সবসময় গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে। ছোট রাস্তায় সারাক্ষণ গাড়ি চলাচল করায় সবসময় ভয়ে থাকতে হয় তাদের।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কে কার-মাইক্রো স্টেশন গত ১৮-২০ বছর ধরে। ফলে বহদ্দারহাট থেকে পুরো সড়কে যানজট লেগে থাকে সবসময়। বর্তমানে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজের কারণে বহদ্দারহাট মসজিদ সংলগ্ন ব্রিজ, খতিবের হাটের কালারপুলসহ তিনটি পুল ভেঙে সংস্কার করা হচ্ছে। এতে বিকল্প হিসেবে এই সড়কের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। ফলে এই সড়কে দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ।স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে বলেন,‘বহু বছর ধরে সড়কের অর্ধেক অংশ দখল করে স্টেশন বসানো হয়েছে। এতে প্রতিদিন ভয়াবহ যানজট তৈরি হচ্ছে, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চলাচল। আবার স্টেশনে থাকা কিছু চালক ও সহকারী রাস্তার ওপর আড্ডা দেন। শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসা যাওয়ার সময় মা ও পোশাক শ্রমিকদের যাতায়াতে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। এতে শিক্ষার্থী ও নারীরা চরম অস্বস্তি ও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।’ এ বিষয়ে বহুবার প্রশাসন ও থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো সমাধান হয়নি। কারণ পুলিশ তাদের কাছ থেকে চাঁদার ভাগ খায়। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সীমানা দেয়াল ঘেঁষে রাখা হয় কার-মাইক্রোগুলো। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেয়ালগুলোর ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করতে হচ্ছে। এতে সরকারি অর্থ অপচয় হচ্ছে। চালকেরা বিশ্রাম ও আড্ডার জন্য প্রায়ই কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। তখন সিগারেট, এমনকি গাঁজাও সেবন করে। এতে কার্যালয়ের কাজে যাতায়াতে বড় ধরণের সমস্যা তৈরী হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড, পওর বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ বলেন, এটা আমাদের ওপর একপ্রকার অত্যাচার। কিন্তু সড়কটি তো আমাদের অধীনে নয়, তাই আমরা চাইলেও কোনো ব্যবস্থা নিতে পারি না। আগে স্থানীয় কাউন্সিলরকে জানিয়েছিলাম, কিন্তু কোনো সমাধান পাইনি।তবে নিজেদের বহুবছরের পুরনো নিবন্ধনভুক্ত সংগঠন উল্লেখ করে বহদ্দারহাট কার-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. আলমগীর বলেন,‘আমাদের সমিতির প্রায় ৫০০ সদস্যের বেশিরভাগই স্থানীয় বাসিন্দা। এলাকার কেউ কেউ হয়তো অভিযোগ করেন, কিন্তু বেশিরভাগই আমাদের পক্ষে। কারণ আমাদের কারণে সড়কটি রাতে সবসময় আলোকিত থাকছে, আমরা না থাকলে তো চুরি-ছিনতাই বেড়ে যাবে। এ বিষয়ে কথা বলতে চান্দগাঁও থানার ওসির মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও কোন সাড়া মেলেনি। কথা বলতে বহদ্দারহাট পুলিশ বক্সে গিয়ে ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টরকেও পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে স্টেশনটি উচ্ছেদ করা হবে।
২ দিন আগে
হাম ও রুবেলার সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৯টি ওয়ার্ডকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করতে বিশেষ ‘মপ-আপ’ টিমও কাজ শুরু করেছে।মঙ্গলবার দুপুরে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন নিয়ে আয়োজিত সমন্বয় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। নগরীর টাইগারপাস এলাকায় সিটি করপোরেশন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। চিহ্নিত হটস্পটগুলো হলো : ২ নম্বর জালালাবাদ, ৪ নম্বর চান্দগাঁও, ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী, ১৪ নম্বর লালখানবাজার, ১৮ নম্বর পূর্ব বাকলিয়া, ৩১ নম্বর আলকরণ, ৩৮ নম্বর দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর, ৩৯ নম্বর দক্ষিণ হালিশহর ও ৪০ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ড। শিল্পাঞ্চল অধ্যুষিত এসব এলাকায় হাম-রুবেলার সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি বলে চিহ্নিত করা হয়। তাই বাড়তি নজরদারি ও টিকাদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে সভায়।স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, চলতি বছরের ১১ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরীতে সন্দেহভাজন ১ হাজার ২১৫ জন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। জেলা ও মহানগর মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৫ জনে। আক্রান্তদের বড় অংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এলাকায় ৩ লাখ ২৮৫ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৭৯ হাজার ৫২০ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৯৩ দশমিক ৮ শতাংশ।চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, উত্তর কাট্টলী এলাকায় টিকাদানের অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি হলেও দেওয়ানবাজার ও পাঁচলাইশ এলাকায় এখনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। এ কারণে নিয়মিত টিকাদান দলের পাশাপাশি ৪১টি বিশেষ ‘মপ-আপ’ টিম ও ১৪টি সান্ধ্যকালীন সেশন পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে চার দিন ধরে এসব টিম কাজ করবে।সভায় চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ক্যাম্পেইনের বাকি দিনগুলোর মধ্যে টিকার টার্গেট পূর্ণ হবে বলে আশা করছি। পাশাপাশি একটি শিশুও যেন টিকা থেকে বঞ্চিত না হয়। টার্গেট পূরণ হলেও টিকার বাইরে কোনো শিশু থাকলে তাকে টিকা দিতে হবে। এ ছাড়া চাকরিজীবী অভিভাবকদের সুবিধার্থে সান্ধ্যকালীন টিকাদান কার্যক্রমও চালু রাখতে হবে। বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তালিকা প্রস্তুত ও মাইকিং করতে হবে। চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আমিন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেখ ফজলে রাব্বি, সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম ও সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইমাম হোসেন রানা সভায় উপস্থিত ছিলেন।উল্লেখ্য, ২০ এপৃল মাসব্যাপী টিকাদান হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে সিটি করপোরেশন। চলবে ২০ মে পর্যন্ত।
৬ দিন আগে
চট্টগ্রামে এখন নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বিরল মশাবাহিত ভাইরাস। এ ভাইরাসের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটির (সিভাসু) শিক্ষক অধ্যাপক ড. জাকিয়া সুলতানা জুথি। ফলে এ ভাইরাস নিয়ে চরম উদ্ব্নিগ্ন চিকিৎসকরা। চিকিৎসকরা জানান, সিভাসুর শিক্ষক জুথি জাপানিজ এনসেফালাইটিস নামক এক মারাত্নক ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। জাপানিজ এনসেফালাইটিসের সকল উপসর্গ ছিল তাঁর। এর মধ্যে তাঁর মাল্টিপল স্ট্রোক হয়েছিল। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।অধ্যাপক ড. জাকিয়া সুলতানা জুথির আকস্মিক মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান। শুক্রবার (৮ মে) প্রেরিত শোকবার্তায় তিনি বলেন, বিশ^বিদ্যালয় একজন নিবেদিতপ্রাণ গবেষক ও বিজ্ঞানীকে হারালো। তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি।পারিবারিক ও বিশ্ববিদ্যালয় এবং চিকিৎসক সূত্র জানায়, গত ৪ মে সামান্য জ্বর অনুভব করেন ড. জুথি। সেই সঙ্গে ছিল প্রচন্ড মাথাব্যথা ও বমি। প্রাথমিক অবস্থায় সাধারণ ফ্লু মনে হলেও দ্রুত তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। চিকিৎসকের পরামর্শে ৫ মে তাঁকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে তাঁকে প্রথমে এইচডিইউতে রাখা হয় পরবর্তীতে আইসিইউতে নেওয়া হয়। এরমধ্যেই মেডিকেল বোর্ড বসে তাঁর বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা স¤পন্ন করেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৬ মে তাঁকে দ্রুত চট্টগ্রাম এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু ততক্ষণে এই ভাইরাস তাঁর মস্তিষ্কে মারাÍত্নক প্রভাব ফেলে। হাসপাতালে পৌঁছানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।মেট্রোপলিটন হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের চিকিৎসক ডা. কাউসারুল আলম জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েক ঘণ্টারমধ্যেই ওই শিক্ষকের মাল্টিপল স্ট্রোক হয়। সময়ও পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকরা আন্তরিকতা দিয়ে চেষ্টা করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান।এদিকে এভারকেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীকে যখন মেট্রোপলিটন হাসপাতাল থেকে স্থানান্তর করা হয়, তখন তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। পথিমধ্যে তাঁর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় এবং তাঁকে প্রায় ৫-৬ সাইকেল সিপিআর দিতে হয়েছিল।হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জানান, রোগী যখন আমাদের ইউনিটে পৌঁছান, তখন তিনি ক্লিনিক্যালি ব্রেইন ডেড ছিলেন। আইসিইউ সাপোর্টে রাখার পরও তাঁকে আর ফেরানো সম্ভব হয়নি। প্রাথমিক উপসর্গ ও ক্লিনিক্যাল কন্ডিশন দেখে আমাদের সন্দেহ এটি জাপানিজ এনসেফালাইটিস।বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, জাপানিজ এনসেফালাইটিস মূলত কিউলেক্স মশার মাধ্যমে ছড়ায়। এটি সরাসরি মানুষের স্নায়ুতন্ত্র বা মস্তিষ্কে আঘাত করে। ড. জুথির ক্ষেত্রেও এই ভাইরাসের আক্রমণে ব্রেন স্ট্রোক হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই রোগে মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি এবং যারা বেঁচে থাকেন, তাদের অনেকেরই স্থায়ী স্নায়বিক সমস্যা দেখা দেয়। জুথির মৃত্যুর খবরে সিভাসুসহ চট্টগ্রাামের সচেতন মহলের মাঝে এখন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। সিভাসুর শিক্ষার্থী আরমান হোসেন বলেন, জুথি ম্যাডাম কি চট্টগ্রামেই জাপানিজ এনসেফালাইটিস ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, নাকি দেশের বাইরে থেকে, সেটা এখনো কেউ নিশ্চিত নই। এ কারণে চট্টগ্রামে মশা দেখলে এখন ভয় জাগছে মনে। অথচ চট্টগ্রামে মশা এখন কিলবিল করছে। রাত-দিন সমানতালে মশার বামড়ে অতিষ্ঠ চট্টগ্রামের মানুষ। সূত্র জানায়, ড. জুথি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৭-০৮ সেশনের অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। সম্প্রতি তিনি জাপানের হিরোশিমা ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি এবং কিউশু ইউনিভার্সিটি থেকে পোস্ট-ডক শেষ করে দেশে ফেরেন। এ বছরের শুরুতেই তিনি সিভাসুর প্রফেসর হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছিলেন। তিনি সিভাসুর ফুড সায়েন্স ও টেকনোলজি অনুষদের অধ্যাপক ছিলেন। তাঁর স্বামী বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. শাহরিয়ার হাসেম অর্নব। তাদের ৫ বছরের একটি শিশু সন্তান রয়েছে।
১০ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরীতে কোরবানির পশুর হাট ইজারা নিয়ে চলছে নানা তামাশা। হাটগুলো ইজারা দেওয়ার চেয়ে খাস কালেকশনে আগ্রহী বেশি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। ইতোমধ্যে নির্ধারিত মূল্যে ইজারাদার না পাওয়ার অজুহাতে নগরীর সবচেয়ে বড় দৃুটি স্থায়ী পশুর হাট সাগরিকা ও বিবিরহাট ইজারা না দিয়ে খাস কালেকশন শুরু করেছে চসিক। এছাড়া আসন্ন ঈদুল আজহায় আরও ৬টি অস্থায়ী পশুর হাট বসছে চট্টগ্রামে। যার তিনটি ইজারার জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হলেও বাকি তিনটি চাপা পড়েছে চসিকের নানা কারসাজিতে। টেন্ডার আহ্বান করা পশুর হাট তিনটিও শেষ পর্যন্ত ইজারা না দিয়ে খাস কালেকশনের ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ নগরীর হাট-বাজার সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের। ইজারাদাররা অভিযোগ করছেন, চসিকের রাজস্ব বিভাগসহ এস্টেট শাখার কর্মকর্তারা পশুর হাট ইজারা নিয়ে নানা কারসাজির সাথে জড়িত। যার মাধ্যমে তারা পশুর হাটগুলো থেকে হাসিল আদায়ের টাকা লোপাটসহ স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব হরণের সুযোগ পাচ্ছে।আগে নগরীর এই তিনটি স্থায়ী পশুর হাট ইজারা থেকে চসিক প্রতি বছর অন্তত ১০-১২ কোটি টাকা রাজস্ব পেত। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে ক্রমেই ইজারার চেয়ে খাস কালেকশনে নেমেছে চসিক। যদিও খাস কালেকশনে রাজস্ব আহরণ তুলনামূলক কম। এর পেছনে লুকিয়ে আছে হাসিল চুরি, কর্মীদের মজুরি, বাজার ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেশি দেখিয়ে লুটপাট। সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম মহানগরীর মুরাদপুর বিবির হাট বাজার ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা ও পোস্তার পাড় ছাগলের বাজার ১ কোটি ১৪ লাখ টাকায় ইজারা হয়েছিল। আর সাগরিকা পশুর হাট ইজারা না দিয়ে খাস কালেকশন করেছিল চসিক। এর আগে সর্বশেষ ২০২০ সালে সাগরিকা পশুর হাট ৮ কোটি ৮ লাখ ৫ হাজার ৭৮৬ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়। কিন্তু খাস কালেকশনে এই পশুরহাট থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬ কোটি টাকারও কম। এরপরও সাগরিকা পশুর হাটের সাথে এবার বিবিরহাট ও পোস্তার পাড় পশুর হাট থেকেও খাস কালেকশনে শুরু করেছে চসিক। সূত্র আরও জানায়, ইজারা না দিলেও খাস কালেকশনে পছন্দের ইজারাদার নিয়োগ দেয় চসিক। এই ইজারাদার মিলেমিশে পশুর হাট থেকে আদায় করা রাজস্ব নানা কারসাজি করে লুটপাট করে। ফলে সরকার প্রকৃত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে ইজারাদার, চসিকের রাজস্ব বিভাগ ও এস্টেট শাখার কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (উপসচিব) এস এম সরওয়ার কামাল বলেন, নির্ধারিত মূল্যে ইজারাদার না পাওয়ায় নগরীর স্থায়ী পশুর হাটগুলো থেকে খাস কালেকশনের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করছে চসিক। তবে আসন্ন ঈদুল আজহার অস্থায়ী পশুরহাটগুলোর মধ্যে কর্ণফুলী পশু বাজার, মুসলিমাবাদ রোডের সিআইপি জসিমের খালি মাঠ এবং ওয়াজেদিয়া মোড় পশুর হাট ইজারা দিতে সিলমোহরযুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।তিনি জানান, হাটগুলোর জন্য আগামী ১১ মে পর্যন্ত দরপত্রের ফরম সংগ্রহ করা যাবে। ১২ মে দুপুর ১টার মধ্যে দরপত্র জমা দিতে হবে। একই দিন বেলা দেড়টায় দরপত্র খোলা হবে। প্রস্তাবিত দামের ৩০ শতাংশ জামানত পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। অনুমোদনের পর বাকি ৭০ শতাংশ অর্থের সঙ্গে প্রযোজ্য কর ও ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে।তিনি বলেন, এখন তিনটি হাটের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পরে আরও করা হতে পারে। বিষয়টি মেয়রের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করছে। নিজস্ব জায়গা হলেও সিটি কর্পোরেনের অনুমোদন ছাড়া নগরীর কোথাও পশুর হাট বসাতে পারবে না। সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরশেন(চসিক) এলাকায় স্থায়ী তিনটি ছাড়া এবার অনুমোদিত কোরবানির পশুর হাট বসবে ৯টি। তম্মধ্যে তিনটি পশুরহাটের টেন্ডার আহ্বান করা হলেও বাকি ছয়টি বসছে টেন্ডার ছাড়াই। এক্ষেত্রে টেন্ডারগুলো কোথায় বা কোন পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছে তারও কোন হদিস মিলছে না। এ সুবাধে তিনটি পশুর হাটও ইজারা না দিয়ে খাস কালেকশনের দিকে চুক্তিতে যাচ্ছে এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এদিকে চট্টগ্রাম মহানগরীতে অনুমোদনের বাইরেও আরও ১৪টি স্থানে কোরবানির পশুর হাট বসে। সেখান থেকে কোটি কোাটি টাকা হাসিল আদায় করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু এই অর্থ সরকারি রাজস্ব কোষাগারে জমা হয় কিনা তার কোন ইয়ত্তা নেই। অননুমোদিত অবৈধ পশুর হাটগুলো হচ্ছে- বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার, কাজীর হাট, কর্নেল হাট, ফইল্যাতলি বাজার, ফিরিঙ্গিবাজার, হাজি আব্দুল আলী আর্কেট (বেইজমেন্ট), দেওয়ান হাট (বেইজমেন্ট), বকশির হাট, পাহাড়তলী কাঁচাবাজার, আনন্দবাজার, বিবিরহাট কাঁচাবাজার, কমল মহাজন হাট, নয়াহাট এবং বেপারীপাড়া কাঁচাবাজার। অনুমোদিত পশুর হাটগুলো হলো নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কর্ণফুলী গরুর বাজার (নুর নগর হাউজিং এস্টেট), ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হোসেন আহম্মদ পাড়া টিএসপি মাঠ, একই ওয়ার্ডের মুসলিমাবাদ রোডে সিআইপি জসিমের খালি মাঠ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজেদিয়া মোড়, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আউটার রিং রোডের সিডিএ বালুর মাঠ এবং ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম হালিশহরের মুনির নগর আনন্দবাজারসংলগ্ন খালি জায়গা। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এসব পশুর হাটের অনুমোদন দেয়। আসন্ন ঈদুল আজহার জন্য গত বৃহ¯পতিবার (৩০ এপৃল) বিশেষ শর্তে এই ছয়টি পশুরহাট বসানোর অনুমোদন দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। জেলা প্রশাসনের আদেশে বলা হয়েছে, স্থানীয় জনসাধারণের চাহিদা ও পুলিশ কমিশনারের মতামতের ভিত্তিতে হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী চলতি মাসের ১৯ তারিখ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত স¤পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে ১০ দিনের জন্য এসব হাট বসবে।আর শর্তগুলো হচ্ছে- প্রধান সড়ক থেকে অন্তত ১০০ গজ দূরে হাট বসাতে হবে। কোনোভাবেই যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না। হাটের বাইরে বা সড়কে পশু রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, সিসিটিভি ক্যামেরা ও জাল নোট শনাক্তকরণ যন্ত্র স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভেটেরিনারি চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত ও বাজার এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার শর্তও দেওয়া হয়েছে।ইজারাদারদের শঙ্কার বিষয়ে জানতে চাইলে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন বলেন, চসিকের স্থায়ী ও অনুমোদিত অস্থায়ী পশুর হাটের বাইরে কোরবানি উপলক্ষে যত্রতত্র পশুর হাট বসানোর সুযোগ নেই। প্রতিবছর আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে এ ধরনের অবৈধ পশুর হাট উচ্ছেদ করি। এবারও অভিযান চালানো হবে। তিনি বলেন, অবৈধ পশুর হাটের কারণে শুধু যে চসিকের রাজস্ব বা ইজারাদার হাসিল আদায় থেকে বঞ্চিত হয় তা নয় একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, পেশি শক্তির প্রয়োগ, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, যানজট সৃষ্টি, পশুর গোবর পরিষ্কার না করা, ক্রেতা-বিক্রেতার নিরাপত্তাহীনতাসহ অনেক সমস্যা দেখা দেয়। বৈধ কোরবানির পশুর হাটে জাল বুথ শনাক্তকরণ মেশিন, সিসিটিভি ক্যামেরা, পশু চিকিৎসাসেবা, পর্যাপ্ত আলোকায়ন, গোখাদ্য সরবরাহ, গরু বাঁধার ছাউনি, পশুর গোবর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যা¤প ও টহল নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সংস্থা দায়িত্ব পালন করে। অবৈধ হাটগুলোতে এসব থাকে না। প্রসঙ্গত, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চসিক পৌরকর, ট্রেড লাইসেন্স ফি, ভূমি হস্তান্তর কর, বিজ্ঞাপন কর, সপসাইন ফি, প্রমোদ কর, যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক যানবাহন ফি, এস্টেটসহ বিবিধ খাতে মোট রাজস্ব আহরণ করেছিল ৩৯৭ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার ২৬০ টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (৩০ এপৃল পর্যন্ত) চসিকের রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৮৪ কোটি ৮২ লাখ ১৫ হাজার ৬৭৮ টাকা।
১০ দিন আগে
আসন্ন ঈদুল আজহায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরশেন(চসিক) এলাকায় কোরবানির পশুর হাট বসবে ৯টি। তম্মধ্যে তিনটি পশুরহাটের টেন্ডার আহ্বান করা হলেও বাকি ছয়টি বসছে টেন্ডার ছাড়াই। এমনকি স্থায়ী তিনটি পশুর হাটেরও ইজারা হয়নি। সেখানে আদায় করা হচ্ছে খাস কালেকশন। ফলে সরকারের কোটি টাকার রাজস্ব নয়ছয় হচ্ছে বরে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের। ঠিকাদাররা জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরশেন (চসিক)এলাকায় স্থায়ী পশুরহাট রয়েছে তিনটি। আর কোরবানির সময় আরও ৬টি অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট বসানোর অনুমতি দেয় জেলা প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপৃল) জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এ অনুমোদন দেন।অনুমোদিত পশুরহাট গুলো হলো— নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কর্ণফুলী গরুর বাজার (নুর নগর হাউজিং এস্টেট), ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হোসেন আহম্মদ পাড়া টিএসপি মাঠ, একই ওয়ার্ডের মুসলিমাবাদ রোডে সিআইপি জসিমের খালি মাঠ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজেদিয়া মোড়, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আউটার রিং রোডের সিডিএ বালুর মাঠ এবং ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম হালিশহরের মুনির নগর আনন্দবাজারসংলগ্ন খালি জায়গা।জেলা প্রশাসনের এক আদেশে বলা হয়েছে, স্থানীয় জনসাধারণের চাহিদা ও পুলিশ কমিশনারের মতামতের ভিত্তিতে হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী চলতি মাসের ১৯ তারিখ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে ১০ দিনের জন্য এসব হাট বসবে। জেলা প্রশাসনের শর্ত অনুযায়ী, প্রধান সড়ক থেকে অন্তত ১০০ গজ দূরে হাট বসাতে হবে। কোনোভাবেই যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না। হাটের বাইরে বা সড়কে পশু রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, সিসিটিভি ক্যামেরা ও জাল নোট শনাক্তকরণ যন্ত্র স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভেটেরিনারি চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত ও বাজার এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার শর্তও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চসিকের তিনটি স্থায়ী পশুরহাট রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে-সাগরিকা পশুর হাট, মুনাদপপুর বিবিরহাট ও পোস্তারপাড় ছাগলের হাট। এসব হাট থেকে প্রতিবছর চসিকের প্রায় ১০ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আয় হয়। তবে গত কয়েক বছরের মতো এবারও হাটগুলো ইজারার জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়, কিন্তু কাঙ্খিত দর না পাওয়ার অজুহাতে কারসাজি করে শেষ পর্যন্ত ইজারা ছাড়াই পছন্দের ঠিকাদারের মাধ্যমে খাস কালেকশনের চুক্তি করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরশেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জানতে চাইলে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (উপসচিব) এস এম সরওয়ার কামাল বলেন, স্থায়ী পশুর হাট গুলো থেকে খাস কালেকশনের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে। অস্থায়ী পশুরহাটগুলোর মধ্যে কর্ণফুলী পশু বাজার, মুসলিমাবাদ রোডের সিআইপি জসিমের খালি মাঠ এবং ওয়াজেদিয়া মোড় এই তিনটি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দিতে সিলমোহরযুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। তিনি জানান, হাটগুলোর জন্য আগামী ১১ মে পর্যন্ত দরপত্রের ফরম সংগ্রহ করা যাবে। ১২ মে দুপুর ১টার মধ্যে দরপত্র জমা দিতে হবে। একই দিন বেলা দেড়টায় দরপত্র খোলা হবে। প্রস্তাবিত দামের ৩০ শতাংশ জামানত পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। অনুমোদনের পর বাকি ৭০ শতাংশ অর্থের সঙ্গে প্রযোজ্য কর ও ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে।তিনি বলেন, এখন তিনটি হাটের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পরে আরও করা হতে পারে। বিষয়টি মেয়রের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করছে। নিজস্ব জায়গা হলেও সিটি কর্পোরেনের অনুমোদন ছাড়া নগরীর কোথাও পশুর হাট বসাতে পারবে না। বসালে অভিযান পরিচালনা করা হবে।উল্লেখ্য, চসিকের রাজস্ব আহরণের অন্যতম বড় খাত স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা। এর আগে সাগরিকা ও বিবিরহাটে ইজারাদার না পাওয়ায় খাস কালেকশন করছেন চসিক। তবে যদিও খাস কালেকশনে রাজস্ব আহরণ তুলনামূলক কম হয়। এর মুলে হাসিল চুরি, কর্মীদের মজুরি, বাজার ব্যবস্থাপনা খরচ, অপচয়সহ নানা কারসাজি করা হয় বলে অভিযোগ উঠে।
১১ দিন আগে

চার ঘন্টার বজ্র বৃষ্টিতে বুকসমান পানিতে ডুবে গেছে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকার সড়ক। ফলে যানবাহন ঠাঁই নিয়েছে ফ্লাওভারে। এতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ে নগরবাসী। দুর্ভোগে পড়ে এসএসসি পরীক্ষায় থাকা পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।মঙ্গলবার (২৮ এপৃল) বেলা ১১টা থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে পানি জমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ১১টার দিকে বৃষ্টি কম থাকলেও সাড়ে ১২টার দিকে আবার ভারী বৃষ্টি হয়; যা দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। নগরীর আমবাগান আবহাওয়া অফিসের অফিসার ইনচার্জ বিজন রায় বলেন, সকাল নয়টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তিন ঘণ্টা পরপর বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হিসাব করা হয়। পরবর্তী অবজারভেশনে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ জানা যাবে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৃষ্টিতে ডুবে যাওয়া এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রবর্তক মোড়, মুরাদপুর, কাতালগঞ্জ, রহমতগঞ্জ, চকবাজার, আগ্রাবাদ, রাহাত্তারপুলসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো। অনেক এলাকায় ড্রেন উপচে পানি সড়ক ও বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়েছে।নিচু এলাকাগুলোতে পানি বুকসমান হওয়ায় নগরীর যানবাহনগুলো ঠাঁই নেয় শহরজুড়ে বিস্তৃত সবকটি ফ্লাইওভারে। ডুবে গিয়ে অনেক যানবাহন মাঝপথে বিকল হয়ে পড়ে। দুর্ভোগে পড়েছে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষেরা।নগরবাসী জানান, বেলা আড়াইটায় নগরীর প্রবর্তক ও মুরাদপুর এলাকার সড়কগুলোতে গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেখানে কোমর থেকে বুক পর্যন্ত পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে নগরীর রহমতগঞ্জ, কাতালগঞ্জ, রাহাত্তারপুল, আগ্রাবাদ এলাকার সড়কে হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব সড়কে যানচলাচল একেবারেই কম। ফলে ভোগান্তি পড়েছে নগরবাসী।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই পানি জমে দ্রুত পরিস্থিতি খারাপ হয়ে পড়ে। পানি নামতে দেরি হওয়ায় ভোগান্তি বাড়ছে। সাদিয়া জাহান নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী বলেন, আজ ইংরেজি ২য় পত্রের পরীক্ষা ছিল। হল থেকে বের হয়ে গাড়ি না পেয়ে হেঁটে হেঁটে মুরাদপুর আসলাম। এখানে তো হেঁটে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নাই। কোমর পর্যন্ত ময়লা পানি।নগরীর রাহাত্তারপুল এলাকার বাসিন্দা মমিনুল হক বলেন, চট্টগ্রামে সাধারণত এমন পানি দেখা যেত টানা তিন-চারদিন বৃষ্টি হলে। এখন দেখছি ১ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা হচ্ছে। মুরাদপুরে জলাবদ্ধতায় আটকে পড়া উন্নয়নকর্মী তোফায়েলুর রহমান বলেন, যারা বৃষ্টি এবং সমুদ্রকে ভালোবাসেন, তারা চট্টগ্রামের মুরাদপুর চলে আসেন। এত পানি সমুদ্র না সড়ক বুঝার উপায় নেই।স্থানীয় বাসিন্দা আলাউদ্দিন দুলালের ভাষ্য, প্রবর্তক মোড়ের অদূরে বদনা শাহ মাজারের সামনের সড়কে জমে থাকা পানিতে আটকা পড়ে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। বেশ কয়েকটি গাড়ি বিকল হয়ে সড়কের ওপরই পড়ে থাকতে দেখা গেছে। অনেককে কোমরসমান, কোথাও কোথাও গলাসমান পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। পানির কারণে অনেকে বাধ্য হয়ে রোড ডিভাইডারের ওপর দিয়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।এ সড়কের পাশেই রয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ফলে রোগী, স্বজন এবং জরুরি সেবাগ্রহীতাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। প্রবর্তক মোড়ের হিজড়া খালের কালভার্ট এলাকায় মাটি ফেলে সংস্কারকাজ চলছে। যন্ত্রপাতিও রাখা হয়েছে সড়কের পাশে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চলমান উন্নয়নকাজের কারণে পানি চলাচল ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতা আরও তীব্র হয়েছে। নগরবাসীর মতে, আসন্ন বর্ষা সামনে রেখে গত সপ্তাহ থেকে মাসব্যাপী নালা-খাল পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। এর অংশ হিসেবে নগরের বিভিন্ন খাল ও নালা পরিষ্কারে তদারকি করছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।মঙ্গলবার বিকেলে পরিদর্শনকালে মেয়র ডা. শাহদাত হোসেন বলেন, নগরের নালা-নর্দমা ময়লার স্তুপে পরিণত হওয়াই জলাবদ্ধতার অন্যতম প্রধান কারণ। তিনি বলেন, কিছু অসচেতন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দার কারণে নালাগুলো বর্জ্য ফেলার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। জনগণ সচেতন না হলে কোনো উদ্যোগই দীর্ঘমেয়াদে সফল হবে না।নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান মেগা প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খাল সংস্কারের কাজ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। তবে হিজড়া খাল ও জামালখান খালের সংস্কারকাজ এখনো চলমান রয়েছে।চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী জানান, প্রবর্তক এলাকার পাশে সিডিএর উন্নয়নকাজের কারণে সাময়িকভাবে পানি চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
২০ দিন আগে
“গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ওয়েল ফুডের উৎপাদিত কেক, মিষ্টি, পেস্ট্রিসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্যে রেডম্যান লেমন ইয়েলো কালার পেস্ট (ফুড গ্রেড কালার) ব্যবহার করা হচ্ছে। যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এসব ক্ষতিকর উপাদানের কারণে নানা রোগ হতে পারে। সংস্থাটি অভিযানে গিয়ে ভেজাল অপতৎপরতার প্রমাণ পাচ্ছে” -জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডল।
২১ দিন আগে
বৈশাখের ভর দুপুর। মাথার ওপর সূর্য যেন অগ্নিবর্ষণ করছে। কিন্তু চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানের উত্তাপ ছাপিয়ে গেছে সেই অগ্নিবর্ষণ। মানুষের উন্মাদনার কাছে হার মেনেছে বৈশাখের সেই তপ্ত দুপুর।শনিবার (২৫ এপৃল) বেলা শেষে এল শান্তির বার্তা। এবারের ১১৭ তম বলীখেলায় চ্যাম্পিয়ন মো. শরীফ। যিনি সবার কাছে ‘বাঘা’ শরীফ নামে পরিচিত। আর তাতে তার হয়ে যায় হ্যাটট্রিক। খেলায় রানারআপ মো. রাশেদ।সূত্রমতে, এবারের বলীখেলায় অংশ নিয়েছিলেন ১০৮ জন বলী। নবীন থেকে প্রবীণ সবার লক্ষ্য ছিল একটাই, লালদীঘির শ্রেষ্ঠত্ব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লড়াইটি গিয়ে ঠেকে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী গতবারের চ্যাম্পিয়ন মো. শরীফ ও মো. রাশেদের মধ্যে।ফাইনালে রিংয়ের চারপাশ তখন কানায় কানায় পূর্ণ। ঢোলের বাদ্য আর দর্শকদের গগনবিদারী চিৎকারে মেতে উঠেছে পুরো এলাকা। লড়াই শুরু হতেই দেখা গেল কৌশল আর শক্তির অপূর্ব সমন্বয়। কখনো রাশেদ আক্রমণ করছেন, তো কখনো শরীফ তা দুর্দান্ত দক্ষতায় সামলে নিচ্ছেন। এভাবে চলল টানা ২৫ মিনিট। শেষ মুহূর্তে হুট করেই নিজের কৌশল বদলে ফেললেন শরীফ। রাশেদকে ভারসাম্যহীন করে এক নিপুণ প্যাঁচে মাটিতে ফেলে দিতেই রেফারির বাঁশি বেজে উঠল। বাঘা শরীফ টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়ে নিজের আধিপত্য আরও সুদৃঢ় করলেন। অরণ্য তৌফিকএর আগে খেলায় বাজিমাত করেছেন ঢাকা হরাইজন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী অরণ্য তৌফিক। ১৬ বছর বয়সী এই কিশোর হারিয়ে দিয়েছেন তার চেয়ে ১২ বছর বেশি বয়সের মোহাম্মদ মানিককে।শনিবার ঢাকা থেকে লালদীঘির মাঠে এসে পৌঁছান তৌফিক। সঙ্গে এসেছেন তার কোচ সামির। তৌফিক কুস্তি ও রেসলিং পছন্দ করেন ছোটবেলা থেকেই। ঢাকায় মাঝেমধ্যে খেলেন। এবার শখের বশে জব্বারের বলীখেলায় আসলেন প্রথমবার।তৌফিক ও হালিশহরের মানিকের দ্বৈরথটি এক মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়। রিং থেকে নামার মুখেই তিনি জড়িয়ে ধরেন কোচ সামিরকে।তৌফিক বলছিলেন, ‘আমার চেয়ে অনেক স্থুলকার বড় একজনের সঙ্গে খেলেছি। সাহস করে নেমেছি। প্রথমে একটু ঘাবড়ে গেলেও সাহস হারাইনি। শেষপর্যন্ত জিতে গেছি। ভালো লাগছে।’ঢাকার মগবাজার এলাকার বাসিন্দা তৌফিক। বাবা তৌফিকুল আলম বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বড় কর্মকর্তা। মা রোকসানা চিকিৎসক। এক ভাই এক বোনের মধ্যে তৌফিক বড়।তৌফিক জানান, তার বাবা মা তাকে খেলার বিষয়ে উৎসাহ দেন। টিভিতে নিয়মিত রেসলিং দেখেন তিনি। ভবিষ্যতে একজন বড় কুস্তিগির হওয়ার স্বপ্ন দেখেন।তৌফিক এবার জব্বারের বলীখেলার সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রতিযোগী। জেতার পর দারুণ উচ্ছ্বসিত। ‘আগে অনেক শুনেছি এ বলীখেলার কথা। এখন সামনাসামনি দেখলাম।’শতবর্ষী আবদুল জব্বার বলীখেলা এবার ১১৭ বছরে পা দিল। এবার শতাধিক বলী অংশ নেন। ১৯০৯ সালে বদরপাতির বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর এই বলীখেলার প্রচলন করেন। তখন উদ্দেশ্য ছিল নিছক বিনোদন নয়, বরং ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামের তরুণদের শারীরিকভাবে শক্তিশালী ও সাহসী করে গড়ে তোলা। ১১৪ বছর ধরে প্রতিবছর ১২ বৈশাখ এই আয়োজন চট্টগ্রামের মানুষের আবেগের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লালদীঘি ঘিরে আয়োজিত কয়েক কিলোমিটারের এই বৈশাখী মেলায় কেউ গামছা বেঁধে, কেউ ছাতা হাতে, আবার কেউ গাছের ছায়ায় ঠাঁই নিয়ে চাতক পাখির মতো বেলা দেখেছেন।
২৩ দিন আগে
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সাবেক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর অনিয়ম তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২-এর সহকারী পরিচালক সম্প্রতি মো. রাজু আহমেদ এ বিষয়ে চিঠি দেন বর্তমান মেয়র শাহাদাত হোসেনকে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সাবেক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর আমলে শ্রমিক, কর আদায়কারী, অফিস সহায়ক, সড়ক তদারককারী, সুপারভাইজার ও সড়ক পরিদর্শকসহ বিভিন্ন পদে বিপুল জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়। বিশেষ করে তার মেয়াদের শেষ দুই বছরে অন্তত ১৮৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যা এখন আলোচনার কেন্দ্রে। এ পরিপ্রেক্ষিতে দুদক এসব নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি, আবেদনপত্র, নিয়োগ পরীক্ষার রেকর্ড এবং নিয়োগপত্রসহ সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নথি চেয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, রেজাউল করিম চৌধুরীর আমলে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের জন্য পরীক্ষা ছাড়াই চাকরির ব্যবস্থা করেছেন এবং পরে তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পদায়ন করা হয়। শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দিয়েই একলাফে উচ্চ গ্রেডের পদে পদায়ন করা হয়েছে অন্তত ৬৪ জনকে, যা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। চসিকের জনবল কাঠামো অনুযায়ী, শ্রমিক পদ ২০তম গ্রেডের হলেও, সেখান থেকে সরাসরি ১০ম গ্রেডের উপসহকারী প্রকৌশলী, ১৬তম গ্রেডের কর আদায়কারী বা অনুমতিপত্র পরিদর্শক পদে পদায়ন করা হয়েছে।এছাড়া রেজাউল করিম চৌধুরীর আমলে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালককে মারধরের ঘটনাও ঘটে, যা তখন বেশ আলোচিত হয়। কাজের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২৩ সালের ২৯ জানুয়ারি প্রকৌশলী মো. গোলাম ইয়াজদানী ঠিকাদারদের হামলার শিকার হন।সাবেক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর মেয়াদকালে নগরের চারটি ওয়ার্ডে বাসাবাড়ি ও দোকান-অফিস থেকে সরাসরি বর্জ্য সংগ্রহ (ডোর-টু-ডোর) কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করে সিটি করপোরেশন। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—মেসার্স পাওয়ার সোর্স, ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রাইভেট সার্ভিস ও চান্দগাঁও ক্লিনার্স সার্ভিস। এসব প্রতিষ্ঠান তৎকালীন মেয়র ও এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠদের মালিকানাধীন ছিল বলেও বিতর্ক তৈরি হয়। এ ঘটনায় সাবেক মেয়রের ব্যক্তিগত নথি, তার দায়িত্বকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র, ২৫টি উন্নয়ন প্রকল্পে কার্যাদেশ প্রদানের দলিল এবং বর্জ্য সংগ্রহের চুক্তিপত্রসহ সব প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ তলব করেছে দুদক। সাত কর্মদিবসের মধ্যে এসব নথি জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সিটি কর্পোরেশনকে।চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বর্তমান মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও আইন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
২৪ দিন আগে
চট্টগ্রাম ওয়াসার পাইপলাইন স্থাপনের কাজ করার সময় মাটি ধসে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২ শ্রমিক। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার (২২ এপৃল) দিনগত রাত তিনটার সময় চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর এক্সেস রোড এলাকায় ভয়াবহ এ দূর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, রাকিব (২৫) ও তুষার (২২)। তাদের বাড়ি দিনাজপুর জেলায়। আহতদের মধ্যে এরশাদের (২২) বাড়ি চট্টগ্রাম ও সাগরের (২৬) বাড়ি অজ্ঞাত। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে নিশ্চিত না করায় হতাহতের এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে।বৃহস্পতিবার (২৩ এপৃল) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চমেক হাসপাতাল পুলিশ পাড়ির এস আই আলাউদ্দিন তালুকদার। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টার দিকে চার শ্রমিককে হাসপাতালে আনা হলে দু‘জনকে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুই শ্রমিককে হাসপাতালের ক্যাজুয়াল্টি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের চিকিৎসা চলছে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।ওয়াসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হালিশহর এলাকায় পাইপলাইন স্থাপনের কাজ করছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না হাইড্রো কোম্পানি। এ কাজে হঠাৎ করেই মাটি ধসে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলে কাজ করা চারজন শ্রমিক মাটির নিচে চাপা পড়ে। আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস ও সহকর্মীরা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে আহতদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় চারজনকেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি দুইজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
২৫ দিন আগে
বৈশাখ শুরু। ফলে প্রতিবছরের মতো কোরবানির আগের চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) আওতাধিন গরুর বাজারগুলো টেন্ডার দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আর প্রতিবছরের মতোই এবছরও গরুবাজার নিয়ে চলছে টেন্ডার-টেন্ডার খেলা। অবশেষে শুরু হাট কালেকশনের নামে লুটপাটের প্ল্যান। এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিবারের মতো এবারও তিন দফা টেন্ডার আহ্বান করেও চট্টগ্রাম শহরের সবচেয়ে বড় পশুর বাজার সাগরিকা গরুর বাজারের ইজারা সম্পন্ন করা হয়নি। গত বছরের মতো হাট কালেকশনের পথে চলছে সাগরিকা গরুর বাজারটি। গতবারও এই পথে হেঁটে ২ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব কম আয় হয়েছে চসিকের। যা মূলত হয়েছে লুটপাট। ঠিক এবারও সাগরিকা গরুর বাজার নিয়ে টেন্ডার-টেন্ডার খেলায় হযবরল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, নিয়মানুযায়ী চসিকের নিয়ন্ত্রণাধীন চারটি হাট এবং ঘাট পহেলা বৈশাখ থেকে ৩০ চৈত্র সময়ের জন্য ইজারা দেয়া হয়। প্রতিবছর পহেলা বৈশাখ থেকে যাতে ঠিকাদার কার্যক্রম শুরু করতে পারেন সেভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। এবছরও সেভাবে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে গরুর বাজার ইজারা দেয়ার টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কিন্তু টেন্ডারে কেউ অংশগ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে মার্চ মাসে আহ্বান করা হয় দ্বিতীয় দফা টেন্ডার। তাতে মাত্র একটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। ফলে ওই টেন্ডার বাতিল করা হয়। গত ১ এপৃল পুনরায় তৃতীয়দফা টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এতে পাঁচটি দরপত্র বিক্রি হয়। এর মধ্যে টেন্ডার জমা পড়ে তিনটি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতা জনৈক ইরফান সরওয়ারী খাঁন সরকারের ভ্যাট ট্যাক্সসহ ৮ কোটি ৮৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দর উল্লেখ করে। দ্বিতীয় দরদাতা ফজলে আলিম চৌধুরী (মীরা মেরিন) ভ্যাট ট্যাক্সসহ ৮ কোটি ১৪ লাখ ৭২ হাজার ২৩৩ টাকা এবং তৃতীয় দরদাতা সাজ্জাদ হোসাইন ভ্যাট ট্যাক্সসহ ৭ কোটি ১৯ লাখ ৪৪ হাজার ৩৭৫ টাকা দর উল্লেখ করেন। কিন্তু প্রত্যাশীত দরের অজুহাতে এই টেন্ডারও বাতিল করা হয়। ইতোমধ্যে বছর শুরু হওয়ায় গত পহেলা বৈশাখ থেকে বিশাল এই গরু বাজারের ইজারা আবারো হাট কালেকশনে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে নতুন করে চতুর্থ দফা টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যা প্রহসন বলে মনে করছেন ইজারাদাররা। ইজারাদারদের ভাষ্য, হাট কালেকশনের নামে লাখ লাখ টাকা নয় ছয় করার সুযোগ তৈরির জন্যই ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে না। এতে সরকার দেড় কোটি টাকারও বেশি নিশ্চিত ভ্যাট ও ট্যাক্স থেকে বঞ্চিত হবে। সরকারের এই রাজস্ব লুটে খাবে হাট কালেকশনের দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তি ও চসিকের সংশ্লিষ্ট রাজস্ব কর্মকর্তারা। ইজারাদাররা গতবছরের বিষয়টিকে উদাহরণ হিসেবে সামনে এনে বলেন, গতবছর একাধিক টেন্ডারে পর সর্বোচ্চ সাগরিকা গরুর বাজারের দর উঠেছিল ৭ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সেই টেন্ডার সম্পন্ন না করে হাট কালেকশনের নামে প্রথম চার মাসের জন্য দেয়া হয় ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকায়। পরে দুই মাসের জন্য দেয়া হয় ২১ লাখ টাকায় এবং পরবর্তীতে আবার ৬ মাসের জন্য দেয়া হয় ৯৯ লাখ টাকায়।টেন্ডারে সাড়ে সাত কোটিরও বেশি টাকায় বাজার ইজারা দেয়া না হলেও হাট কালেকশনে পাওয়া যায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার কম। এর মধ্যে হাট কালেকশনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি ৫৫ লাখ টাকা আটকে রেখেছেন। পুনরায় উক্ত ব্যক্তিকে হাট কালেকশনের দায়িত্ব দেয়ায় সংশ্লিষ্টদের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে তৃতীয় দফা টেন্ডারের পর বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে সিদ্ধান্ত চাওয়ার নিয়ম থাকলেও এক্ষেত্রে অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করে বলা হয়েছে যে, ইতোমধ্যে চতুর্থ দফা টেন্ডার আহ্বানের প্রক্রিয়া চলমান রেখেছে চসিকের রাজস্ব বিভাগ। জানা গেছে, চসিকের রাজস্ব বিভাগে কর্মরত রতি-মহারতি কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাট কলেকশনের দায়িত্ব দেওয়ার ব্যক্তির দহরম-মহরম সম্পর্ক রয়েছে। ফলে নানা কুটকৌশলে অত্যন্ত গোপনীয়তার সহিত ভাগবাটোয়ারা চলে। এক্ষেত্রে কোটি টাকার হিসেব-নিকেশ হয়। টেন্ডারে অংশ নেয়া বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিষয়টিতে দৃষ্টিপাত করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা সিটি মেয়রের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে । বিষয়টি নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব বিভাগের একাধিক কর্মকর্তাকে ফোন করা হলেও তারা ফোন ধরেননি। একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিন দফা টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। কিন্তু প্রথম দফায় কেউ টেন্ডার নেননি, দ্বিতীয় দফায় মাত্র একজন এসেছিলেন। তৃতীয় দফায় তিনজন দরপত্র দাখিল করলেও প্রত্যাশিত দর পাওয়া যায়নি। তাই হাট কালেকশনের উদ্যোগ নিতে হয়েছে। হাট কালেকশন টেন্ডারে উল্লেখিত দরের চেয়ে বেশি না কম-এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি এ বিষয়ে কিছুই বলতে পারবেন না বলে জানান। এ বিষয়ে কথা বলতে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনিও কোনরকম সাড়া দেননি।
২৬ দিন আগে