গত ২৭ এপৃল জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল দৈনিক ঈশানের অনলাইন ভার্সনে প্রকাশিত চট্টগ্রাম এলএ শাখার আলী আযম কি আরেক জাবেদ আলী?" শীর্ষক সংবাদের প্রতিবাদ লিপি পাঠিয়েছেন সুপ্রীম কোর্ট অব বাংলাদেশ এর এডভোকেট মোহাম্মদ সাইফুল আজিম. এলএল.বি.(অনার্স), এলএল,এম,(হাইকোর্ট ডিভিশন) ও জজ কোর্ট, চট্টগ্রাম। এনেক্স ভবন-১, রুম নং-৪২৬ (চতুর্থ তলা)।৫ মে পাঠানো প্রতিবাদ লিপিতে তিনি মক্কেল আলী আযমের পক্ষে সংবাদে প্রকাশিত সব তথ্য স¤পূর্ণরূপে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর উদ্দেশ্যপ্রনোদিত ও একতরফা বলে দাবি করে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন। প্রকাশিত প্রতিবাদ লিপিতে দাবি করা হয়েছে, সংবাদ প্রকাশের পূর্বে মক্কেল আলী আযমের নিকট হতে কোন বক্তব্য গ্রহণ করা হয়নি, কিংবা সত্যতা যাচাইয়েরও কোন যথাযথ চেষ্টা করা হয়নি। যা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী। প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করায় মক্কেল আলী আযমের সামাজিক মর্যাদা, সুনাম ও ভাবমুর্তি মারাত্নকভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতে এরূপ মিথ্যা প্রতিবেদন প্রচার হইতে বিরত থাকাসহ উক্ত প্রতিবেদন অতিঃস্বত্বর ফেসবুক হইতে চিরতরে অপসারণ করিবার জন্য আমার মক্কেলের পক্ষ হইতে অনুরোধ করা হইলো। একইসাথে প্রকৃত তথ্য সম্বলিত প্রতিবাদলিপিটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল "দৈনিক ঈশান’ নামীয় ফেসবুক পেইজে যথাযথ গুরুত্ব সহকারে প্রকাশের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেন তিনি। অন্যথায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ সহ দেশের প্রচলিত আইনানুসারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দেন বিজ্ঞ আইনজীবী।প্রতিবেদকের বক্তব্য : প্রতিবাদ লিপি পড়ে মনে হয়েছে, বিজ্ঞ আইনজীবী সংবাদটি গুরুত্বসহকারে অনুধাবন না করে আলী আযমের প্রতি বিশেষ ইমোশন হয়ে ব্যক্তিগত ক্ষোভ ঝেরেছেন। বিজ্ঞ আইনজীবী দাবি করেছেন, সংবাদটি প্রকাশের পূর্বে মক্কেল আলী আযমের নিকট হতে কোন বক্তব্য গ্রহণ করা হয়নি কিংবা সত্যতা যাচাইয়েরও কোন যথাযথ চেষ্টা করা হয়নি, যা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নীতিমালার পরিপন্থী। এক্ষেত্রে বিজ্ঞ আইনজীবী বুঝতে পারেননি, সংবাদে আলী আযমের বক্তব্য প্রচার আছে। বক্তব্যের রেকর্ড প্রতিবেদকের নিকট সংরক্ষিত আছে। আর সংবাদের তথ্য মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য সামির আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ক্রমান্বয়ে বিষোদগার করে গেছেন বিজ্ঞ আইনজীবী। কিন্তু তিনি অনুধাবন করেননি, সংবাদের মূল বিষয়বস্তু সামির আলীর বিষয় নিয়ে নয়, আলী আযমের দূর্নীতির খতিয়ানের অংশ মাত্র। যা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও দুদক বরাবরে প্রতিবেশী সামির আলীর দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এখানে সামির আলী একজন ভুক্তভোগী মাত্র। আর আলী আযম বিগত সময়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর ছিলেন। তার তথ্যচিত্রও সংরক্ষিত রয়েছে। অভিযোগের অনুসন্ধানে প্রাপ্ত, আলী আযম চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এলএ শাখায় উচ্চমান সহকারী হিসেবে কর্মরত অবস্থায় নানা অনিয়ম ও দূর্নীতি করে অর্জন করেছেন অঢেল সম্পদ। যা স্ত্রী, ভাইসহ পরিবারের স্বজনদের নামে কিনে আড়াল করেছেন। এর মধ্যে স্ত্রীর নামে ড্যাফোডিল ভবনের মালিকানা ও জমি কেনার তথ্য প্রমাণ সংবাদে উল্লেখ আছে। রাঙামাটিতেও ভাইয়ের নামে কেনা বিপুল সম্পদের তথ্য মিলেছে ইতোমধ্যে। যা এখনো অপ্রকাশিত। আলী আযম সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের সাধারণ শাখায় উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে পদায়ন হয়েছেন। কিন্তু বিজ্ঞ আইনজীবী বিষয়টি অনুধাবন না করে প্রলোভনের বশবর্তী হয়ে প্রতিবাদ লিপিতে দূর্বৃত্তের ভাষায় তীব্র প্রতিবাদ, নিন্দা ও সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলার হমকি দিয়েছেন। যা স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার জন্য মারাত্নক হুমকি। সিনিয়র আইনজীবীরাও বিষয়টিকে হয়রানি হিসেবে দেখছেন। সর্বশেষ মেসেজ, আলী আযমের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে নেমেছে দুদকের একটি টিম। এতে থলের বেড়াল বের হবে নিশ্চয়ই। দৈনিক ঈশানের পক্ষ থেকে ঘোষণা, আলী আযমের উল্লেখিত সম্পদের প্রতিবেদনটি অভিযোগ ও তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে করা হয়েছে। আলী আযমের প্রতি কোন রকম হিংসাত্নক মনোভাব ও লোভের বশবর্তী হয়ে প্রতিবেদনটি তৈরী করা হয়নি। আলী আযমের সাথে প্রতিবেদকের কোন বিরোধও নেই। দায়িত্বশীল সংবাদিকতার অংশ হিসেবে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
২৪ দিন আগে
চট্টগ্রাম মহানগরীতে কোরবানির পশুর হাট ইজারা নিয়ে চলছে নানা তামাশা। হাটগুলো ইজারা দেওয়ার চেয়ে খাস কালেকশনে আগ্রহী বেশি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। ইতোমধ্যে নির্ধারিত মূল্যে ইজারাদার না পাওয়ার অজুহাতে নগরীর সবচেয়ে বড় দৃুটি স্থায়ী পশুর হাট সাগরিকা ও বিবিরহাট ইজারা না দিয়ে খাস কালেকশন শুরু করেছে চসিক। এছাড়া আসন্ন ঈদুল আজহায় আরও ৬টি অস্থায়ী পশুর হাট বসছে চট্টগ্রামে। যার তিনটি ইজারার জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হলেও বাকি তিনটি চাপা পড়েছে চসিকের নানা কারসাজিতে। টেন্ডার আহ্বান করা পশুর হাট তিনটিও শেষ পর্যন্ত ইজারা না দিয়ে খাস কালেকশনের ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ নগরীর হাট-বাজার সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের। ইজারাদাররা অভিযোগ করছেন, চসিকের রাজস্ব বিভাগসহ এস্টেট শাখার কর্মকর্তারা পশুর হাট ইজারা নিয়ে নানা কারসাজির সাথে জড়িত। যার মাধ্যমে তারা পশুর হাটগুলো থেকে হাসিল আদায়ের টাকা লোপাটসহ স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব হরণের সুযোগ পাচ্ছে।আগে নগরীর এই তিনটি স্থায়ী পশুর হাট ইজারা থেকে চসিক প্রতি বছর অন্তত ১০-১২ কোটি টাকা রাজস্ব পেত। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে ক্রমেই ইজারার চেয়ে খাস কালেকশনে নেমেছে চসিক। যদিও খাস কালেকশনে রাজস্ব আহরণ তুলনামূলক কম। এর পেছনে লুকিয়ে আছে হাসিল চুরি, কর্মীদের মজুরি, বাজার ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেশি দেখিয়ে লুটপাট। সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম মহানগরীর মুরাদপুর বিবির হাট বাজার ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা ও পোস্তার পাড় ছাগলের বাজার ১ কোটি ১৪ লাখ টাকায় ইজারা হয়েছিল। আর সাগরিকা পশুর হাট ইজারা না দিয়ে খাস কালেকশন করেছিল চসিক। এর আগে সর্বশেষ ২০২০ সালে সাগরিকা পশুর হাট ৮ কোটি ৮ লাখ ৫ হাজার ৭৮৬ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়। কিন্তু খাস কালেকশনে এই পশুরহাট থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬ কোটি টাকারও কম। এরপরও সাগরিকা পশুর হাটের সাথে এবার বিবিরহাট ও পোস্তার পাড় পশুর হাট থেকেও খাস কালেকশনে শুরু করেছে চসিক। সূত্র আরও জানায়, ইজারা না দিলেও খাস কালেকশনে পছন্দের ইজারাদার নিয়োগ দেয় চসিক। এই ইজারাদার মিলেমিশে পশুর হাট থেকে আদায় করা রাজস্ব নানা কারসাজি করে লুটপাট করে। ফলে সরকার প্রকৃত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে ইজারাদার, চসিকের রাজস্ব বিভাগ ও এস্টেট শাখার কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (উপসচিব) এস এম সরওয়ার কামাল বলেন, নির্ধারিত মূল্যে ইজারাদার না পাওয়ায় নগরীর স্থায়ী পশুর হাটগুলো থেকে খাস কালেকশনের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করছে চসিক। তবে আসন্ন ঈদুল আজহার অস্থায়ী পশুরহাটগুলোর মধ্যে কর্ণফুলী পশু বাজার, মুসলিমাবাদ রোডের সিআইপি জসিমের খালি মাঠ এবং ওয়াজেদিয়া মোড় পশুর হাট ইজারা দিতে সিলমোহরযুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।তিনি জানান, হাটগুলোর জন্য আগামী ১১ মে পর্যন্ত দরপত্রের ফরম সংগ্রহ করা যাবে। ১২ মে দুপুর ১টার মধ্যে দরপত্র জমা দিতে হবে। একই দিন বেলা দেড়টায় দরপত্র খোলা হবে। প্রস্তাবিত দামের ৩০ শতাংশ জামানত পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। অনুমোদনের পর বাকি ৭০ শতাংশ অর্থের সঙ্গে প্রযোজ্য কর ও ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে।তিনি বলেন, এখন তিনটি হাটের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পরে আরও করা হতে পারে। বিষয়টি মেয়রের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করছে। নিজস্ব জায়গা হলেও সিটি কর্পোরেনের অনুমোদন ছাড়া নগরীর কোথাও পশুর হাট বসাতে পারবে না। সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরশেন(চসিক) এলাকায় স্থায়ী তিনটি ছাড়া এবার অনুমোদিত কোরবানির পশুর হাট বসবে ৯টি। তম্মধ্যে তিনটি পশুরহাটের টেন্ডার আহ্বান করা হলেও বাকি ছয়টি বসছে টেন্ডার ছাড়াই। এক্ষেত্রে টেন্ডারগুলো কোথায় বা কোন পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছে তারও কোন হদিস মিলছে না। এ সুবাধে তিনটি পশুর হাটও ইজারা না দিয়ে খাস কালেকশনের দিকে চুক্তিতে যাচ্ছে এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এদিকে চট্টগ্রাম মহানগরীতে অনুমোদনের বাইরেও আরও ১৪টি স্থানে কোরবানির পশুর হাট বসে। সেখান থেকে কোটি কোাটি টাকা হাসিল আদায় করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু এই অর্থ সরকারি রাজস্ব কোষাগারে জমা হয় কিনা তার কোন ইয়ত্তা নেই। অননুমোদিত অবৈধ পশুর হাটগুলো হচ্ছে- বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার, কাজীর হাট, কর্নেল হাট, ফইল্যাতলি বাজার, ফিরিঙ্গিবাজার, হাজি আব্দুল আলী আর্কেট (বেইজমেন্ট), দেওয়ান হাট (বেইজমেন্ট), বকশির হাট, পাহাড়তলী কাঁচাবাজার, আনন্দবাজার, বিবিরহাট কাঁচাবাজার, কমল মহাজন হাট, নয়াহাট এবং বেপারীপাড়া কাঁচাবাজার। অনুমোদিত পশুর হাটগুলো হলো নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কর্ণফুলী গরুর বাজার (নুর নগর হাউজিং এস্টেট), ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হোসেন আহম্মদ পাড়া টিএসপি মাঠ, একই ওয়ার্ডের মুসলিমাবাদ রোডে সিআইপি জসিমের খালি মাঠ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজেদিয়া মোড়, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আউটার রিং রোডের সিডিএ বালুর মাঠ এবং ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম হালিশহরের মুনির নগর আনন্দবাজারসংলগ্ন খালি জায়গা। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এসব পশুর হাটের অনুমোদন দেয়। আসন্ন ঈদুল আজহার জন্য গত বৃহ¯পতিবার (৩০ এপৃল) বিশেষ শর্তে এই ছয়টি পশুরহাট বসানোর অনুমোদন দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। জেলা প্রশাসনের আদেশে বলা হয়েছে, স্থানীয় জনসাধারণের চাহিদা ও পুলিশ কমিশনারের মতামতের ভিত্তিতে হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী চলতি মাসের ১৯ তারিখ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত স¤পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে ১০ দিনের জন্য এসব হাট বসবে।আর শর্তগুলো হচ্ছে- প্রধান সড়ক থেকে অন্তত ১০০ গজ দূরে হাট বসাতে হবে। কোনোভাবেই যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না। হাটের বাইরে বা সড়কে পশু রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, সিসিটিভি ক্যামেরা ও জাল নোট শনাক্তকরণ যন্ত্র স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভেটেরিনারি চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত ও বাজার এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার শর্তও দেওয়া হয়েছে।ইজারাদারদের শঙ্কার বিষয়ে জানতে চাইলে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন বলেন, চসিকের স্থায়ী ও অনুমোদিত অস্থায়ী পশুর হাটের বাইরে কোরবানি উপলক্ষে যত্রতত্র পশুর হাট বসানোর সুযোগ নেই। প্রতিবছর আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে এ ধরনের অবৈধ পশুর হাট উচ্ছেদ করি। এবারও অভিযান চালানো হবে। তিনি বলেন, অবৈধ পশুর হাটের কারণে শুধু যে চসিকের রাজস্ব বা ইজারাদার হাসিল আদায় থেকে বঞ্চিত হয় তা নয় একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, পেশি শক্তির প্রয়োগ, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, যানজট সৃষ্টি, পশুর গোবর পরিষ্কার না করা, ক্রেতা-বিক্রেতার নিরাপত্তাহীনতাসহ অনেক সমস্যা দেখা দেয়। বৈধ কোরবানির পশুর হাটে জাল বুথ শনাক্তকরণ মেশিন, সিসিটিভি ক্যামেরা, পশু চিকিৎসাসেবা, পর্যাপ্ত আলোকায়ন, গোখাদ্য সরবরাহ, গরু বাঁধার ছাউনি, পশুর গোবর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যা¤প ও টহল নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সংস্থা দায়িত্ব পালন করে। অবৈধ হাটগুলোতে এসব থাকে না। প্রসঙ্গত, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চসিক পৌরকর, ট্রেড লাইসেন্স ফি, ভূমি হস্তান্তর কর, বিজ্ঞাপন কর, সপসাইন ফি, প্রমোদ কর, যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক যানবাহন ফি, এস্টেটসহ বিবিধ খাতে মোট রাজস্ব আহরণ করেছিল ৩৯৭ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার ২৬০ টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (৩০ এপৃল পর্যন্ত) চসিকের রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৮৪ কোটি ৮২ লাখ ১৫ হাজার ৬৭৮ টাকা।
২৫ দিন আগে
রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) পরিকল্পনা উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের প্রকল্প পরিচালক (ভা.) জনাব আবদুল গফুরের বিরুদ্ধে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ উঠছে। প্রকল্প পরিচালনায় অজ্ঞতা, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ঘুষ লেনদেন, বিল-ভাউচারে ডাবল ক্লেইম দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্নসাৎসহ কি নেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ। এসব অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পরও দৌরাত্ন্য থামছে না আবদুল গফুরের। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে দলবল নিয়ে ভিসি কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন তিনি। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে মিলেছে পাহাড়সম দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য। এরমধ্যে চাকরিতে নিয়োগের জালিয়াতির তথ্য ‘চোখ কপালে উঠার মতো’। সূত্র জানায়, অনিয়ম-দূর্নীতির দায়ে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি পিডি আবদুল গফুরকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ জারি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ চলমান রাখতে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল আলমকে প্রকল্প পরিচালক ও দুই সহযোগী অধ্যাপককে অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আদেশ দেওয়া হয়। রাবিপ্রবির ভারপ্রাপ্ত রেজিষ্টার মো. জুনাইদ কবির গত ৪ মে সোমবার এই আদেশপত্রে স্বাক্ষর করেন। আদেশপত্র অনুযায়ী দায়িত্বগ্রহণের চেষ্টা করা হলে আবদুল গফুর ছাত্রদল পরিচয়ে কতিপয় বিপথগামী ছাত্র ও বহিরাগত লোকজন নিয়ে ৫ মে মঙ্গলবার সকালে ভিসি কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানের কাজে ঢাকায় ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. আতিয়ার রহমান। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ভিসি আতিয়ার রহমান মঙ্গলবার দিনগত রাত সাড়ে ৮টায় দৈনিক ঈশানকে বলেন, আবদুল গফুর ছাত্রদল পরিচয়ে বহিরাগত কিছু লোক নিয়ে কার্যালয়ে তালা দেওয়ার কথা শুনেছি। এই সময় আমি ছিলাম না, দাপ্তরিক কাজে আমি ঢাকায় ছিলাম। এখনো আছি। আবদুল গফুরের এসব কাজ সম্পূর্ণ অনাকাঙ্খিত। কারণ তিনি বহিস্কৃত। এ অবস্থায় তিনি এ কাজ করতে পারেন না। আবদুল গফুর এসব কেন করছেন জানতে চাইলে ভিসি ড. আতিয়ার রহমান বলেন, আবদুল গফুর আপাদমস্তক একজন করাফটেড লোক। ভারপ্রাপ্ত পিডি থাকা অবস্থায় তিনি সীমাহীন দূর্নীতি করেছেন। ইন্টেরিম সরকারের সময় তিনি নিয়োগে অনিয়ম করে ভারপ্রাপ্ত পিডি হয়েছিলেন। অনিয়ম ঠেকাতে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ কারণে আবদুল গফুর আমার বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে এক কেটি ব্যয়ের ঘোষণা দিয়েছে। যার লোভের বশবর্তী হয়ে ছাত্রদলের নেতা পরিচয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন-চারজন শিক্ষার্থী বহিরাগত ১০-১২ জন লোক নিয়ে হুমকি ধমকি দিচ্ছে। তারা আবদুল গফুরের বহিষ্কার আদেশ তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। তাদের নিয়ে আবদুল গফুর মঙ্গলবার সকালে আমার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। চাকরিতে নিয়োগে অনিয়ম:বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্টারের তথ্যমতে, আবদুল গফুর শিক্ষা জীবনে দু'টি তৃতীয় বিভাগ থাকা এবং পূর্বে সরকারি,আধা সরকারি কিংবা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকুরির অভিজ্ঞতা না থাকা সত্বেও ২০১৭ সালের ১০ জুলাই সরাসরি ৭ম গ্রেডে সহকারী পরিচালক পদে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরে যোগদান করেন। যেখানে ২০তম গ্রেডে যোগদান করতে শিক্ষাজীবনে তৃতীয় বিভাগ গ্রহণযোগ্য নয়, সেখানে ৭ম গ্রেডে যোগদান বিস্ময়কর। এছাড়া বয়সসীমা ৩৫ অতিক্রম করলেও সব বাঁধা পার হয়ে যান তৎকালীন রেজিস্ট্রার জনাব অন্জন কুমার চাকমা'র সাথে ৭ লাখ টাকা লেনদেনের বিনিময়ে। একইসাথে নিয়োগ বিধান অনুযায়ী ১ জন প্রার্থী নিয়োগের জন্য কমপক্ষে ৩ জন প্রার্থী অংশগ্রহণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও ভাইবাতে শুধুমাত্র ২ জন প্রার্থীর অংশগ্রহণেই নিয়োগ হয় আবদুল গফুরের।সরকারি অর্থ ডাবল ক্লেইম করা:নথির তথ্যমতে, ট্রেনিং কিংবা মিটিং এর কাজে ঢাকায় যাওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম ভঙ্গ করে কর্মচারীদের নামে অগৃম উত্তোলন করে পরবর্তীতে প্রত্যার্পন নেওয়া ছাড়াও ডিএ নিতেন তিনি। একটি নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর একদিনের ট্রেনিং এর জন্য একজন কর্মচারীর নামে ২৫ হাজার টাকা অগৃম উত্তোলন করা হয়েছে। যদিও তিনি একই প্রশিক্ষণে যেতে নিয়েছেন ডিএ বিল। কর্মচারীর নামে অগৃম গ্রহণ, একই অর্থ ডাবল ক্লেইম করেন তিনি। যে কর্মচারীর নামে অগৃম এবং প্রত্যার্পন নেওয়া হয় উক্ত প্রশিক্ষণে তিনি যাননি এবং তাঁর অংশগ্রহণের সুযোগ ও ছিলো না। পরবর্তীতে ১১ নভেম্বর এই বিলের প্রত্যার্পন নেওয়া হয়। আরেকটি নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়,একজনের নামে অগৃম নেওয়া হয়েছে কিন্তু যার নামে নেওয়া হয়েছে নথিতে তাঁর স্বাক্ষর নেই এবং একই কাজে পিডি আবদুল গফুর নিজের নামেও বড় অংকের টাকা প্রত্যার্পণ তুলেছেন। সেই সাথে ট্রেনিং এ যাওয়ার ক্ষেত্রেও নিয়েছেন ডিএ। ভ্রমণ কিংবা ট্রেনিং এ যাওয়ার ক্ষেত্রে এমন অগৃম নেওয়ার বিধান নেই বলে জানা যায়। ঢাকায় যতবার মিটিং কিংবা গমন করেছেন ব্যাক্তিগত কাজে হলেও নিয়েছেন অগৃম এবং ডিএ। অগৃম নেওয়ার মাধ্যমে ভূয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। একইসাথে কর্মচারীদের নামে অগৃম নেওয়ার বিধান সরকারি চাকুরী নীতিমালায় না থাকলেও কর্মচারীকে দিয়ে জোরপূর্বক অগৃম নিয়ে নিজের পকেট ভারী করেছেন তিনি। মূলত আবদুল গফুর তাঁর অধীনস্থদের ভয় ভীতি প্রদর্শন করে এবং বাধ্যতামূলকভাবেই সবার নামেই অগৃম ও প্রত্যার্পন নিয়ে নিজের পকেট ভারী করতেন।ফটক নির্মাণে অনিয়ম :বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক ও নেম প্লেটের কাজ প্রীতি এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান করলেও মূলত প্রতিষ্ঠানটি আবদুল গফুর নিজের। যার দরুন কাজ শুরু করার পূর্বেই রানিং বিল দিয়ে ২০২৫ সালের ২৪ জুন ৩৯ লাখ টাকা প্রকৌশলীদের স্বাক্ষর ছাড়াই তুলে নেন। অথচ এখনো ৩৯ লাখ টাকার সমপরিমাণ কাজই হয়নি বলে জানা গেছে। এছাড়া ৮০ হাজার টাকা দামের টেবিলকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেখিয়ে ৪টি টেবিল ক্রয়সহ কোনো প্রকারের টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়া নিজের পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিয়ে নিজের পকেট ভারী করেন পিডি আবদুল গফুর।উপাচার্য পরিবর্তনে কোটি টাকা ব্যয়:দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শোকসভার পরে কোটি টাকা ব্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তনের জন্য জিসান নামে এক ছাত্রকে বলেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নিউজ করানো, অসাধু শিক্ষার্থীদের টাকা দেওয়ার মত অনৈতিক কাজে লিপ্ত রয়েছেন তিনি। প্রকল্প পরিচালক (ভা.) হন যেভাবে:নন-টেকনিক্যাল লেখাপড়া করে সাধারণ ডিগ্রি পাস করে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দ মামুনুল ইসলাম, যুগ্ম সচিব মীর্জা মোহাম্মদ আলী রেজার সাথে অর্থ ও লেকের মাছ,ফল উপহারের মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালক হয়ে যান আবদুল গফুর। তাঁর পূর্ণ প্রকল্প পরিচালক হওয়ার যোগ্যতা না থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালক করা হয়।প্রকল্প পরিচালনায় অজ্ঞতার দরুন প্রকল্পের কাজ শুরু করার পূর্বে এনভায়রনমেন্টাল ইমপেক্ট এ্যাসেসমেন্ট (EIA) রিপোর্ট এবং পরিবেশ অধিদপ্তর হতে পাহাড় কাঁটার অনুমোদন না নিয়ে ভবন তৈরীর কাজ শুরু করে এবং প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত পাহাড় কাঁটায় পরিবেশ অধিদপ্তর হতে মামলা হয় তাঁর বিরুদ্ধে।যুগ্ম সচিব মীর্জা মোহাম্মদ আলী রেজার গলা পর্যন্ত গফুরের দেওয়া লেকের মাছ বলেও দম্ভ করেন এই পিডি। একইসাথে মীর্জা মোহাম্মদ আলী রেজার পরিবারের পাহাড় ভ্রমণের দায়িত্বও নিতেন আবদুল গফুর।টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ঘুষ লেনদেন: ঠিকাদারদের মতে, বিশ্বিবিদ্যালয়ের ৪টি ভবন তৈরী করতে শিক্ষা প্রকৌশল তদারকিতে থাকলেও প্রকল্প পরিচালক হওয়ার সুবাদে শিক্ষা প্রকৌশলের মাধ্যমে ঠিকাদারদের সাথে লেনদেন এবং বিল দেওয়ার ক্ষেত্রেও লেনদেন করেছেন তিনি। কনসালট্যান্সি ফার্ম শেলটেক প্রাইভেট লি. এর সাথেও রয়েছে অবৈধ লেনদেন।সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প কাজে কনসালটেন্সি প্রাইভেট লিমিটেড শেলটেক কাজ পরিদর্শনে আসেন। যা দেখে মনে হয়েছে প্রকল্প পরিচালক (ভা.)আবদুল গফুরের সোনায় সোহাগা প্রকল্প। একদিনের কাজ পরিদর্শনে আবদুল গফুর ভ্যাট ট্যাক্স বাদেও নিজ নামে বিল করেন ৭৪ হাজার ৫৯৯ টাকা। যেখানে তিনি বোট ভাড়া,গাড়ি ভাড়া,স্টেশনারী,দুপুরের খাবারসহ নানাবিধ ভুয়া খরচ দেখিয়ে নিজের পকেট ভারী করেন। কনসালটেন্ট নিয়মিত কাজ তদারকি করার কথা থাকলেও প্রকল্প পরিচালকের সাথে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে মাসে দুই মাসে একবার আসেন তাঁরা। কনসালটেন্টের আগমন উপলক্ষে প্রতিবারই লক্ষ টাকার খরচ দেখিয়ে বিভিন্ন কর্মকর্তা, কর্মচারীর নামে নিয়ে পকেট ভারী করায় ছিলো আবদুল গফুরের সরকারি অর্থ আত্মসাৎের কৌশল। মাষ্টারপ্ল্যান ফাইলের ৩৮নং পৃষ্ঠায় দেখা যায় একজন কর্মচারী নিশান চাকমার নামে সিপিআরসি মিটিং নামে নেওয়া হয় ২ লাখ ৬৫ হাজার পাঁচ শত টাকা। আব্দুল হকের নামে ২ লক্ষ ৩৯ হাজার পাঁচ শত পঞ্চাশ টাকা। দপ্তরের মনজুরুল ইসলামের নামে অগৃম নেওয়া হয়েছে অনেক বেশি, তাঁর মধ্যে বেশ কিছু ফাইলে তাঁর স্বাক্ষরও নেই।রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রস্তাব বিস্তার:নিজের অযোগ্যতা ও দুর্নীতি ডাকতে ৫ই আগস্ট ২০২৪ এর পর আওয়ামী লীগ হতে সার্বিক সুবিধাভোগী পিডি আবদুল গফুর রাতারাতি বনে যান বিএনপি। আওয়ামী এমপি,মন্ত্রী কিংবা নেতাদের সাথে শত শত ছবি তোলা কিংবা আওয়ামী পন্থী উপাচার্যের সব সুবিধাভোগী গফুর এখন বিএনপির কথিত বড় নেতা। নিজেকে বিএনপি'র বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় দাবি করলেও ছাত্রজীবনে ছাত্রদল কিংবা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তাঁর বেড়ে উঠা খাগড়াছড়ির মহালছড়িতেও বিএনপির রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টতা ছিলোনা বলে জানা যায়। অথচ অর্থ লেনদেনে মাধ্যমে রাবিপ্রবি ছাত্রদলের আহবায়ক ও সদস্য সচিবকে ব্যবহার করে অনৈতিক প্রস্তাব ও প্রভাব বিস্তার করছেন আবদুল গফুর। যদিও এর সাথে ছাত্রদলের সম্পৃক্ততা নেই বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। অনিয়ম-দূর্নীতিসহ শৃঙ্খলা বিরোধী নানা কাজের সংশ্লিষ্ট থাকায় চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি সাময়িক বহিষ্কার হন পিডি আবদুল গফুর। এরপর থেকে অর্থ খরচের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাব বিস্তারসহ বিএনপি নেতাদের ব্যবহার করে আধিপত্য বিস্তার করে চলেছে পিডি আবদুল গফুর।এ বিষয়ে জানতে রাবিপ্রবির বরখাস্ত হওয়া পিডি আবদুল গফুরের মুঠোফেনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এমনকি হোয়াটস্ অ্যাপ অপশনে কথা বলার বিষয়ে মেসেজ লিখে পাঠালেও তিনি কোন সাড়া দেননি।
২৭ দিন আগে
চট্টগ্রাম নগরীর এবি ব্যাংক লিমিটেডের জুবিলি রোড শাখা থেকে ৪৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮৫ টাকা অর্থ আত্নসাতের মামলায় গিয়াস উদ্দিন ওরফে কুসুম নামে এক ব্যবসায়ীকে ১১ বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তাকে সমপরিমাণ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রবিবার (৩ মে) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এ আদেশ দেন। দন্ডপ্রাপ্ত গিয়াস উদ্দিন ওরফে কুসুম সীতাকুন্ড থানাধীন ছলিমপুর এলাকার মৃত মোহাম্মদ মিয়ার ছেলে। চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার ফৌজদারহাট এলাকার তানহা স্টিল নামে একটি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের মালিক। আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদুকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোকারম হোসেন। তিনি জানান, ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দন্ডবিধির ৪০৯ ধারায় গিয়াস উদ্দিন ওরফে কুসুমকে পাঁচ বছর এবং ৪২০ ধারায় এক বছর কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ ধারায় আরও পাঁচ বছর সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। সূত্র জানায়, র্স্ক্যাপ জাহাজ ও কাঁচামাল আমদানির নামে ঋণ নিয়ে আত্নাসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছিল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। মামলায় অপর আসামি মোহাম্মদ নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেয়া হয়েছে।মামলার নথির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৩১ মার্চ তানহা স্টিলের নামে গিয়াস উদ্দিন কুসুম ১৮ হাজার ৫৯৯ টন ওজনের একটি র্স্ক্যাপ জাহাজ আদমানির জন্য এবি ব্যাংকের জুবিলী রোড শাখায় ৬৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকার একটি বৈদেশিক ঋণপত্র খোলেন। বৈদেশিক ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ না করায় এবি ব্যাংককে ২৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা ফোর্সড লোন দিতে হয়। এরপর ২০১৩ সালের ১২ নভেম্বর ৫ হাজার ৪০২ মেট্রিকটন লোহার প্লেট আমদানির জন্য ১৭ কোটি ৯৮ লাখ ৮৬ হাজার ৬০০ টাকার আরও একটি স্থানীয় ঋণপত্র খোলেন। সেই ঋণও তিনি পরিশোধ থেকে বিরত থাকেন। এ অবস্থায় এবি ব্যাংকের কর্মকর্তারা ২০১৪ সালের ১২ মার্চ কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে জানতে পারেন, ব্যাংকের অজ্ঞাতে সব মালামাল গিয়াস উদ্দিন সরিয়ে নিয়েছেন। তিনি দেশ ছেড়ে গেছেন বলেও ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানতে পারেন। এ অবস্থায় উভয় ঋণের বিপরীতে সুদসহ তার কাছে ব্যাংকের পাওনা দাঁড়ায় ৪৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার ৮৮৫ টাকা।পরিদর্শনের পরদিন এবি ব্যাংকের জুবিলী রোড শাখার ব্যবস্থাপক হাসান মাহমুদ নগরীর কোতোয়ালী থানায় গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে দন্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এতে গিয়াসের সঙ্গে ওই ব্যাংকের তৎকালীন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুন্নবীকেও আসামি করা হয়। ২০২১ সালের ৭ নভেম্বর দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন।
৩০ দিন আগে
“গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ওয়েল ফুডের উৎপাদিত কেক, মিষ্টি, পেস্ট্রিসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্যে রেডম্যান লেমন ইয়েলো কালার পেস্ট (ফুড গ্রেড কালার) ব্যবহার করা হচ্ছে। যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এসব ক্ষতিকর উপাদানের কারণে নানা রোগ হতে পারে। সংস্থাটি অভিযানে গিয়ে ভেজাল অপতৎপরতার প্রমাণ পাচ্ছে” -জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডল।
৩৬ দিন আগে
বউয়ের নামে কিনেছেন জমি। যেখানে নির্মাণ করেছেন বিলাস বহুল ৭ তলা বাড়ি। ব্যবহার করেন প্রিমিও গাড়ি। এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতা ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের নামে চট্টগ্রাম মহানগর ও নিজ জন্মস্থান আনোয়ারায় কিনেছেন সারি সারি জমি। বিভিন্ন ব্যাংকে জমা রেখেছেন কাড়ি কাড়ি টাকা। এসব কিছুই যেন মনে করিয়ে দেয় সেই স্বৈরাচারি শেখ হাসিনার আলোচিত দূর্নীতিবাজ ড্রাইভার জাবেদ আলীর অঢেল সম্পদের কথা। মনে করিয়ে দেয় এনবিআর কর্মকর্তা মতিউর রহমানের দূর্নীতির কথা। যাদের মতো অঢেল সম্পদের মালিক চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সাধারণ শাখার উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং ভুমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার প্রাক্তণ উচ্চমান সহকারি এইচ এম আলী আযম খান। তার কথায় এসব সম্পদের হিসাব-নিকাশ চললেও যেন নিজের কিছুই নেই। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের শোলকাটা গ্রামের মৃত মোজাম্মেল হক চৌধুরীর ছেলে এইচ এম আলী আযম খান এতটাই চতুর যে, নিজের নামে কেনা অঢেল সম্পদের অনেকটাই আড়াল করে রেখেছেন। ধন-সম্পদের শক্তিতে নিজ এলাকার মানুষকে মানুষ বলেও মনে করেননা তিনি। দখল করেছেন মানুষের জমি-পুকুরসহ নানা সম্পদ। পুলিশ দিয়ে হয়রানিসহ নানাভাবে করছেন জুলুম ও নির্যাতন। এমন একাধিক ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলে তার অঢেল সম্পদের কিছু তথ্য সামনে আনা সম্ভব হয়েছে। ভুক্তভোগীদের একজন হলেন আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের শোলকাটা গ্রামের মো. আবদুল্লাহর ছেলে সমির উদ্দিন। তার প্রায় ১২ গন্ডা জায়গা জোরপূর্বক অবৈধভাবে দখল করে দেয়াল ও পিলার নির্মাণ করেছেন এইচ এম আলী আযম খান। এ নিয়ে তাকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন তিনি। জেলা প্রশাসনের প্রভাব বিস্তার করায় তার সাথে কুলিয়ে উঠতে না পেরে সমির উদ্দিন অঢেল সম্পদের কিয়দাংশের বিবরণ দিয়ে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের বরাবরে পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন। ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর দায়ের করা পৃথক অভিযোগে সমির উদ্দিন উল্লেখ করেন, এইচ এম আলী আযম খান বায়েজীদ থানার পূর্ব নাছিরাবাদ পলিটেকনিক মোজাফফর নগর আবাসিক এলাকার হাজী মোজাফ্ফর আহমদ চৌধুরী সড়কে বিশাল জায়গায় ৭ তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। বাড়িটির নাম ড্যাফোডিল ভবন। বর্তমানে জমিসহ এই বাড়ির বাজার মূল্য ২০ কোটি টাকারও বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এছাড়া তার রয়েছে ৩৭ লাখ ২৩ হাজার টাকা মূল্যের প্রিমিও কার। নম্বর চট্ট-মেট্রো-গ-১২-০৯০৮। অভিযোগে দাবি করা হয়, কর্মস্থলে সাধারণ মানুষের ভুমি অধিগ্রহণ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া ঘুষের অবৈধ অর্থে পেশায় গৃহিনী স্ত্রী মোহছেনা আক্তারের নামে কেনা বিশাল এই জায়গায় ৭ তলা ড্যাফোডিল ভবন নির্মাণ করেন। এই ভবনের বিদ্যুতের মিটারও স্ত্রী মোহছেনার নামে। মিটারের নম্বর হচ্ছে ০১০৪১০০৯৫৯২০, ০১০৪১০০৯৪৮৪৮। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ভূমির ক্রয়কৃত মালিকানা ছাড়া বিদ্যুৎ মিটার প্রদান করেন না। এভাবে তিনি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা আপন ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের নামে জমি ও কোটি কোটি টাকার সম্পদ কিনেছেন। নগরীর বিভিন্ন ব্যাংকে স্বজনদের হিসাবে জমা রেখেছেন কাড়ি কাড়ি টাকা। দূর্নীতি আড়াল করতে তিনি এই উপায় অবলম্বন করেছেন। এর মধ্যেও তিনি নিজের নামে অনেক সম্পদ কিনেছেন। দূর্নীতি আড়াল করতে তিনি এসব গোপন রেখেছেন। এমন একটি জমি কেনার তথ্য মিলেছে আনোয়ারা সাব রেজিষ্ট্রার অফিসে। অফিসের দলিলমুলে দেখা যায়, এইচ এম আলী আযম খান গত ২০১৮ সালের ১২ এপৃল ৫,২৩,২০,০০০/-(পাঁচ কোটি তেইশ লক্ষ বিশ হাজার) টাকা মূল্যে ১০ একর জমি কিনেছেন। জমির দলিল নং ১৬৫৩। যেখানে তিনি নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অথচ বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সাধারণ শাখায় উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপি ও নেতাদের সাথে আলী আযম খান। ছবি : দৈনিক ঈশানএর আগে ২০২০ সালের ১ অক্টোবর চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকায় এইচ এম আলী আযম খানের দুর্নীতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যার শিরোনাম ছিল 'কমিশন' চেক উড়ে এলএ শাখায়। এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূমি অধিগ্রহণে ১০-১৫ শতাংশ পর্যন্ত 'কমিশন' নেওয়া হয়। আর অধিগ্রহণের চেক গ্রহণের আগেই কমিশনের চেক প্রদান করতে হয়।অনিয়মের এই চক্রে জড়িত সার্ভেয়ার কানুনগো, অফিস সহকারী, অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, ব্যাংক ও হিসাবরক্ষণ অফিসের কর্মকর্তা ছাড়াও ডজনখানেক সাংবাদিক রয়েছে। রয়েছে অর্ধশতাধিক দালালচক্র। যার মধ্যে নজরুল নামে এক চেইনম্যানকে গ্রেপ্তার করে দুদক। ওই সময় তার কাছ থেকে ৫৮ লাখ টাকাসহ কয়েকটি চেক উদ্ধার করে দুদক কর্মকর্তারা। আর এই দূর্নীতির মূল হোতা ছিলেন এইচ এম আলী আযম খান। তিনি তখন এলএ শাখার উচ্চমান সহকারী ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রামে অন্তত সরকারের ১৩১টি প্রকল্প থেকে ভুমি অধিগ্রহণে হাজার হাজার ভুমির মালিক থেকে ১০-১৫% কমিশনে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এইচ এম আলী আযম খান। যা এখনো চলমান। ভাগবোটায়ারায় তুষ্ট জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নেক নজরে ফ্যাসিবাদের দোসর এইচ এম আলী আযম খান পদোন্নতি পেয়ে বসে যান ১০ম গ্রেডে উপ-সহকারী প্রশাসনকি কর্মকর্তা হিসেবেও। এরপর তার দূর্নীতির গতি আরও বেড়ে যায়। শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে একাধিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি জেলা প্রশাসন। তবে বিষয়টি তদন্ত করতে দূর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি গত এপৃল আনোয়ারায় আলী আযম খানের গ্রামের বাড়ি পরিদর্শন করেন। চট্টগ্রাম মহানগরসহ তার সম্পদের খোঁজে সক্রিয় রয়েছে দুদক টিম। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এইচ এম আলী আযম খান জেলা প্রশাসনে শক্ত সিন্ডিকেট গড়ে তোলেছেন। তার মাথার ওপর আশীর্বাদের হাত রয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের দূর্নীতিবাজ সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ইউনুচের। যার মাধ্যমে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এলএ পর্যন্ত পৌছে যায় ভুমি অধিগ্রহণের ভাগ-বাটোয়ারার অর্থ। এর সত্যতা মিলেছে জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তার মুখে। এইচ এম আলী আযম খান সম্পর্কে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, এইচ এম আলী আযম খান তো আপাদমস্তক একজন দূর্নীতিবাজ। জেলা প্রশাসনের এলএ শাখা সম্পূর্ণ তার কথা মতো চলে। তার এখন যে সম্পদ রয়েছে তার কানাকড়িও জেলা প্রশাসনের অনেক এডিসি-ডিসিরও নেই। জেলা প্রশাসনের সংস্থাপন শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুদুর রহিম বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, তার এত সম্পদ কল্পনা করা যায় না। অবসরপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ইউনুচ তো এইচ এম আলী আযম খানের প্রিয় মানুষ। দু‘জনের বাড়িও এক এলাকায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এইচ এম আলী আযম খান মুঠোফোনে বলেন, আমার কোন জমি ও ভবন নেই। আরেকজনের ভবনের ছবি এনে আমার বললে তো হবে না। আর আমার নিজস্ব কোন গাড়িও নেই। আরেকজনের গাড়িতে চড়ি। গাড়িটি আমার আত্নীয়ের। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ভাই এসব বিষয়ে কথা বলতে আমার ভাল লাগছে না। অন্য বিষয়ে কথা বললে আপনার সাথে আমার বন্ধুত্ব হতে পারে। সমির নামে এক প্রতিবেশিকে এসব অভিযোগের জন্য দায়ী করে তিনি বলেন, তার সাথে জায়গা-জমি নিয়ে আমার ঝামেলা আছে। এ কারণে গত ৭-৮ বছর ধরে সে এসব করছে। এ কারণে তাকে আমি থানায়ও দিয়েছি। জেলও খেটেছে। এসব কাজ আর না করার জন্য মুচলেকাও দিয়েছে। এরপর কিছুদিন সে নিরব ছিল, এখন আবার শুরু করেছে। অন্য আরেক প্রশ্ন করা হলে এইচ এম আলী আযম খান বলেন, ভাই এখন আমি ব্যস্ত আছি, আপনার সাথে পরে কথা বলব বলে নিজেই ফোনের সংযোগ কেটে দেন তিনি। কিন্তু পরে তিনি আর কোন ফোনকল রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভুমি অধিগ্রহণ শাখার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কামরুজ্জামানের মুঠোফোনে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। ব্যস্ততা দেখিয়ে তিনি একটি টেক্সট মেসেজে জানান, তিনি নিজেই ফোন করে কথা বলবেন। কিন্তু তিনি ফোন আর করেননি। ফলে কথা বলতে রবিবার দুপুরে দপ্তরে গেলেও তিনি ছিলেন না। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত না। এমন কোন অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। আমি আসার পর কোন অভিযোগ থাকলে বলেন। বিষয়টির খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। (দ্বিতীয় পর্ব আসছে শীঘ্রই)
৩৭ দিন আগে
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে বসানো হয়েছে নতুন ৯৮ ইঞ্চির টেলিভিশন! যার দাম সাত লাখ টাকা। একনেকের বৈঠকে এলে প্রধানমন্ত্রী যেন টেলিভিশনটি চোখে পড়ে এটাই ছিল উদ্দেশ্য। আর সুদূর চীন দেশ থেকে এই টেলিভিশন উড়িয়ে আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এনইসি সম্মেলন কক্ষে দেখা যায় টেলিশিনটি। এটি কক্ষের প্রবেশ পথের বাম দিকের দেয়ালে লাগানো হয়েছে। একনেক বৈঠকে সভাপতিত্ব করার সময় যেটি প্রধানমন্ত্রীর চোখেও পড়ার কথা নয়। কিন্তু গত ৬ এপৃল তিনি পরিকল্পনা কমিশনে একনেক সভায় যোগ দেবেন। তাই তড়িঘড়ি করে টেলিভিশনটি বদলানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সূত্রমতে, ঢাকার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একটি টেলিভিশন আগেই ছিল। যেটি পরিকল্পনা বিভাগের নাজিয়া-সালমা সম্মেলন কক্ষ থেকে এনে লাগানো হয়েছিল। সেটি দিয়েই কাজ চলছিল। কোনো কারণে টেলিভিশনটির এক কোনা ভেঙে যায়। আর ব্যস, তাতেই অজুহাত মিলে গেল টেলিভিশন কেনার। বসানো হলো চকচকে নতুন টেলিভিশন। কোনাভাঙা টেলিভিশন যেন প্রধানমন্ত্রীর চোখে পড়াও নিষেধ। তাই পুরনো সেই টেলিভিশনটি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে নাজিয়া-সালমা সম্মেলন কক্ষে। জানা গেছে, সাত লাখ টাকার এই টেলিভিশন কিনতে করা হয়েছিল নিড অ্যাসেসমেন্ট কমিটি ও ক্রয় কমিটি। এমনকি বোকাবাক্সটি বুঝে নিতেও নাকি করা হয়েছিল একটি কমিটি। এসব কমিটির পেছনে ব্যয় সম্পর্কে এখনো তেমন কিছু জানা যায়নি। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন বিভাগের প্রধান (অতিরিক্ত সচিব) গোলাম মোছাদ্দেক বললেন, ‘আমরা সব ধরনের নিয়ম মেনে ইজিপিতে টেন্ডারের মাধ্যমে সরকারি সংস্থা টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস) থেকে এটা কিনেছি। প্রায় সাত লাখ টাকা দাম পড়েছে। দুই দফায় দাম কমিয়ে বাজার যাচাই করে তার পরই কেনা হয়েছে।’চলমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সরকার যেখানে সবদিকে ব্যয় সাশ্রয়ের পথে হাঁটছে, সেখানে এমন বিলাসী কেনাকাটার কেন প্রয়োজন পড়ল, সে প্রশ্ন রাখি তার কাছে। জবাবে তিনিই জানালেন, টেলিভিশন কেনার জন্য কমিটি করা হয়েছিল। কমিটির সদস্যরাই নিরীক্ষা করে জানিয়েছেন যে কেনা প্রয়োজন।এই অ্যাসেসমেন্ট কমিটির সদস্যদের নাম জানতে চাইলে তিনি বললেন, পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট ও এসডিপি প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. তমিজ উদ্দিন আহমেদ এবং মেইনটেন্যান্স শাখার রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী মো. মইনুল হাসান।তবে নিড অ্যাসেসমেন্ট কমিটির সদস্য হিসেবে যাদের নাম বলা হলো তারা অবশ্য জানালেন ভিন্ন কথা। বললেন, এ বিষয়ে নাকি তারা কিছুই জানেন না। তমিজ উদ্দিন আহমেদ বললেন, ‘আমি কোনো কমিটির সদস্য নই। এমনকি টিভি কেনার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। মইনুল হাসান জানতে পারেন।অবশ্য কিছু নাকি জানেন না মইনুল হাসানও। তার দাবি, কত টাকায় টিভি কেনা হয়েছে, তা জানাতে পারবেন গোলাম মোছাদ্দেক। নানা হাত ঘুরে জানা গেল কেনাকাটার দায়িত্ব পালন করেছেন প্রশাসন বিভাগের সাধারণ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস। তার কাছে সাত লাখ টাকা কম, কারণ এর আগে নাকি আরও বেশি দামে টিভি কেনা হতো।রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘আগে যারা এমন টিভি কিনেছিলেন সেগুলো ১৪ লাখ টাকা দাম ছিল। আমরা তো প্রায় সাত লাখ টাকায় কিনেছি। এজন্য কোনো কমিশন নেওয়া হয়নি, দুর্নীতি হয়নি এক টাকারও।সরকার যখন নানাভাবে ব্যয় কমানোর কথা বলছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও অতিথিদের আপ্যায়নে কাটছাঁট করা হচ্ছে মাছ-মাংস। সেখানে তার চোখে পড়বে কি পড়বে না— এমন স্থানে লাগানোর জন্য পরিকল্পনা কমিশন কিনছে সাত লাখ টাকার টেলিভিশন।এ বিষয়ে কথা হয় পরিকল্পনা বিভাগের সাবেক সচিব মামুন-আল-রশীদের সঙ্গে। বৈশ্বিক এ পরিস্থিতিতে এমন বিলাসী ব্যয় মোটেও উচিত হয়নি বলে মত তার। তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের টিভি কেনার আগ্রহের পেছনে কমিশন বাণিজ্য বা অন্য কোনো লাভ থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। যাতে সামনের দিনে এ ধরনের বাহুল্য ব্যয় বন্ধ করা যায়।
৩৯ দিন আগে
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সাবেক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর অনিয়ম তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২-এর সহকারী পরিচালক সম্প্রতি মো. রাজু আহমেদ এ বিষয়ে চিঠি দেন বর্তমান মেয়র শাহাদাত হোসেনকে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সাবেক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর আমলে শ্রমিক, কর আদায়কারী, অফিস সহায়ক, সড়ক তদারককারী, সুপারভাইজার ও সড়ক পরিদর্শকসহ বিভিন্ন পদে বিপুল জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়। বিশেষ করে তার মেয়াদের শেষ দুই বছরে অন্তত ১৮৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যা এখন আলোচনার কেন্দ্রে। এ পরিপ্রেক্ষিতে দুদক এসব নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি, আবেদনপত্র, নিয়োগ পরীক্ষার রেকর্ড এবং নিয়োগপত্রসহ সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নথি চেয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, রেজাউল করিম চৌধুরীর আমলে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের জন্য পরীক্ষা ছাড়াই চাকরির ব্যবস্থা করেছেন এবং পরে তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পদায়ন করা হয়। শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দিয়েই একলাফে উচ্চ গ্রেডের পদে পদায়ন করা হয়েছে অন্তত ৬৪ জনকে, যা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। চসিকের জনবল কাঠামো অনুযায়ী, শ্রমিক পদ ২০তম গ্রেডের হলেও, সেখান থেকে সরাসরি ১০ম গ্রেডের উপসহকারী প্রকৌশলী, ১৬তম গ্রেডের কর আদায়কারী বা অনুমতিপত্র পরিদর্শক পদে পদায়ন করা হয়েছে।এছাড়া রেজাউল করিম চৌধুরীর আমলে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালককে মারধরের ঘটনাও ঘটে, যা তখন বেশ আলোচিত হয়। কাজের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২৩ সালের ২৯ জানুয়ারি প্রকৌশলী মো. গোলাম ইয়াজদানী ঠিকাদারদের হামলার শিকার হন।সাবেক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর মেয়াদকালে নগরের চারটি ওয়ার্ডে বাসাবাড়ি ও দোকান-অফিস থেকে সরাসরি বর্জ্য সংগ্রহ (ডোর-টু-ডোর) কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করে সিটি করপোরেশন। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—মেসার্স পাওয়ার সোর্স, ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রাইভেট সার্ভিস ও চান্দগাঁও ক্লিনার্স সার্ভিস। এসব প্রতিষ্ঠান তৎকালীন মেয়র ও এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠদের মালিকানাধীন ছিল বলেও বিতর্ক তৈরি হয়। এ ঘটনায় সাবেক মেয়রের ব্যক্তিগত নথি, তার দায়িত্বকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র, ২৫টি উন্নয়ন প্রকল্পে কার্যাদেশ প্রদানের দলিল এবং বর্জ্য সংগ্রহের চুক্তিপত্রসহ সব প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ তলব করেছে দুদক। সাত কর্মদিবসের মধ্যে এসব নথি জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সিটি কর্পোরেশনকে।চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বর্তমান মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও আইন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
৩৯ দিন আগে
বৈশাখ শুরু। ফলে প্রতিবছরের মতো কোরবানির আগের চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) আওতাধিন গরুর বাজারগুলো টেন্ডার দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আর প্রতিবছরের মতোই এবছরও গরুবাজার নিয়ে চলছে টেন্ডার-টেন্ডার খেলা। অবশেষে শুরু হাট কালেকশনের নামে লুটপাটের প্ল্যান। এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিবারের মতো এবারও তিন দফা টেন্ডার আহ্বান করেও চট্টগ্রাম শহরের সবচেয়ে বড় পশুর বাজার সাগরিকা গরুর বাজারের ইজারা সম্পন্ন করা হয়নি। গত বছরের মতো হাট কালেকশনের পথে চলছে সাগরিকা গরুর বাজারটি। গতবারও এই পথে হেঁটে ২ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব কম আয় হয়েছে চসিকের। যা মূলত হয়েছে লুটপাট। ঠিক এবারও সাগরিকা গরুর বাজার নিয়ে টেন্ডার-টেন্ডার খেলায় হযবরল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, নিয়মানুযায়ী চসিকের নিয়ন্ত্রণাধীন চারটি হাট এবং ঘাট পহেলা বৈশাখ থেকে ৩০ চৈত্র সময়ের জন্য ইজারা দেয়া হয়। প্রতিবছর পহেলা বৈশাখ থেকে যাতে ঠিকাদার কার্যক্রম শুরু করতে পারেন সেভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। এবছরও সেভাবে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে গরুর বাজার ইজারা দেয়ার টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কিন্তু টেন্ডারে কেউ অংশগ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে মার্চ মাসে আহ্বান করা হয় দ্বিতীয় দফা টেন্ডার। তাতে মাত্র একটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। ফলে ওই টেন্ডার বাতিল করা হয়। গত ১ এপৃল পুনরায় তৃতীয়দফা টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এতে পাঁচটি দরপত্র বিক্রি হয়। এর মধ্যে টেন্ডার জমা পড়ে তিনটি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতা জনৈক ইরফান সরওয়ারী খাঁন সরকারের ভ্যাট ট্যাক্সসহ ৮ কোটি ৮৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দর উল্লেখ করে। দ্বিতীয় দরদাতা ফজলে আলিম চৌধুরী (মীরা মেরিন) ভ্যাট ট্যাক্সসহ ৮ কোটি ১৪ লাখ ৭২ হাজার ২৩৩ টাকা এবং তৃতীয় দরদাতা সাজ্জাদ হোসাইন ভ্যাট ট্যাক্সসহ ৭ কোটি ১৯ লাখ ৪৪ হাজার ৩৭৫ টাকা দর উল্লেখ করেন। কিন্তু প্রত্যাশীত দরের অজুহাতে এই টেন্ডারও বাতিল করা হয়। ইতোমধ্যে বছর শুরু হওয়ায় গত পহেলা বৈশাখ থেকে বিশাল এই গরু বাজারের ইজারা আবারো হাট কালেকশনে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে নতুন করে চতুর্থ দফা টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যা প্রহসন বলে মনে করছেন ইজারাদাররা। ইজারাদারদের ভাষ্য, হাট কালেকশনের নামে লাখ লাখ টাকা নয় ছয় করার সুযোগ তৈরির জন্যই ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে না। এতে সরকার দেড় কোটি টাকারও বেশি নিশ্চিত ভ্যাট ও ট্যাক্স থেকে বঞ্চিত হবে। সরকারের এই রাজস্ব লুটে খাবে হাট কালেকশনের দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তি ও চসিকের সংশ্লিষ্ট রাজস্ব কর্মকর্তারা। ইজারাদাররা গতবছরের বিষয়টিকে উদাহরণ হিসেবে সামনে এনে বলেন, গতবছর একাধিক টেন্ডারে পর সর্বোচ্চ সাগরিকা গরুর বাজারের দর উঠেছিল ৭ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সেই টেন্ডার সম্পন্ন না করে হাট কালেকশনের নামে প্রথম চার মাসের জন্য দেয়া হয় ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকায়। পরে দুই মাসের জন্য দেয়া হয় ২১ লাখ টাকায় এবং পরবর্তীতে আবার ৬ মাসের জন্য দেয়া হয় ৯৯ লাখ টাকায়।টেন্ডারে সাড়ে সাত কোটিরও বেশি টাকায় বাজার ইজারা দেয়া না হলেও হাট কালেকশনে পাওয়া যায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার কম। এর মধ্যে হাট কালেকশনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি ৫৫ লাখ টাকা আটকে রেখেছেন। পুনরায় উক্ত ব্যক্তিকে হাট কালেকশনের দায়িত্ব দেয়ায় সংশ্লিষ্টদের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে তৃতীয় দফা টেন্ডারের পর বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে সিদ্ধান্ত চাওয়ার নিয়ম থাকলেও এক্ষেত্রে অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করে বলা হয়েছে যে, ইতোমধ্যে চতুর্থ দফা টেন্ডার আহ্বানের প্রক্রিয়া চলমান রেখেছে চসিকের রাজস্ব বিভাগ। জানা গেছে, চসিকের রাজস্ব বিভাগে কর্মরত রতি-মহারতি কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাট কলেকশনের দায়িত্ব দেওয়ার ব্যক্তির দহরম-মহরম সম্পর্ক রয়েছে। ফলে নানা কুটকৌশলে অত্যন্ত গোপনীয়তার সহিত ভাগবাটোয়ারা চলে। এক্ষেত্রে কোটি টাকার হিসেব-নিকেশ হয়। টেন্ডারে অংশ নেয়া বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিষয়টিতে দৃষ্টিপাত করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা সিটি মেয়রের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে । বিষয়টি নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব বিভাগের একাধিক কর্মকর্তাকে ফোন করা হলেও তারা ফোন ধরেননি। একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিন দফা টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। কিন্তু প্রথম দফায় কেউ টেন্ডার নেননি, দ্বিতীয় দফায় মাত্র একজন এসেছিলেন। তৃতীয় দফায় তিনজন দরপত্র দাখিল করলেও প্রত্যাশিত দর পাওয়া যায়নি। তাই হাট কালেকশনের উদ্যোগ নিতে হয়েছে। হাট কালেকশন টেন্ডারে উল্লেখিত দরের চেয়ে বেশি না কম-এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি এ বিষয়ে কিছুই বলতে পারবেন না বলে জানান। এ বিষয়ে কথা বলতে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনিও কোনরকম সাড়া দেননি।
৪১ দিন আগে