বৃহস্পতিবার- ১২ মার্চ, ২০২৬

কর্ণফুলীর বালুমহাল ইস্যুতে পুলিশ-ব্যবসায়ী দ্বদ্ব

কর্ণফুলীর বালুমহাল ইস্যুতে পুলিশ-ব্যবসায়ী দ্বদ্ব

# বন্দরের অনুমোদন থাকলেও ড্রেজিং বন্ধ
# সিএমপি কমিশনারকে বন্দরের চিঠি

র্ণফুলী নদীর বালুমহাল ইস্যুতে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ও ইজারাদার ব্যবসায়ীর দ্বন্ধ চরম পর্যায়ে পৌছেছে। বন্দরের অনুমোদন, সরকারি রাজস্ব পরিশোধ এবং চুক্তি থাকা সত্ত্বেও পুরিেেশর নির্দেশে কর্ণফুলী নদীর বৈধ প্রতিষ্ঠানের ড্রেজিং ও বালি উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

এতে কোটি কোটি টাকার ক্ষতির পাশাপাশি কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। উদ্বেগ তৈরী হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষেরও। গত ১০ মার্চ বুধবার এ বিষয়ে সিএমপি কমিশনার বরাবর একটি চিঠি প্রেরণ করেছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বন্দর সচিবের স্বাক্ষরে হাইড্রোগ্রাফার বিভাগের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর উজানে ড্রেজিং কার্যক্রম বন্ধ থাকলে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়ে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে মারাত্নক প্রভাব পড়তে পারে। কর্ণফুলী নদীর উজানে চলমান ড্রেজিং ও ডা¤িপং কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর দেশের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের ৯২ শতাংশেরও বেশি আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পরিচালনা করে। ফলে বন্দরকে দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং নাব্যতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বন্দর সূত্র জানায়, নদীর নাব্যতা কমে গেলে বড় জাহাজ বন্দরে প্রবেশে বাধার মুখে পড়ে। এতে জাহাজ হ্যান্ডলিং সক্ষমতা কমে যায় এবং জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বন্দরের সীমানা হালদা নদীর মোহনা থেকে দক্ষিণে কক্সবাজার এবং উত্তরে সীতাকুন্ড পর্যন্ত বিস্তৃত।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, কর্ণফুলী নদীর উজানে পানির প্রবাহ ও নাব্যতা বাড়ানো হলে ভাটির দিকে পলি জমা কমে। এতে বন্দরের জেটি এলাকাসহ নদীর নিুাংশে নাব্যতা বজায় রাখা সহজ হয় এবং ড্রেজিং ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। শাহ আমানত সেতুর উজান ও ভাটিতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং শেষ হওয়ার পর বর্তমানে সংরক্ষণ ড্রেজিং কার্যক্রম চলছে। সদরঘাট থেকে বাকলিয়া চর পর্যন্ত এলাকায় আটটি খালের মুখে ড্রেজিং করায় খালের মুখের নাব্যতা বেড়েছে। ফলে শহরের ব্যবহৃত পানি সহজে নদীতে পড়ছে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এছাড়া বাকলিয়া চর, শিকলবাহা, নাজিরচর ও কালুরঘাট এলাকায় নদীর গভীরতা কমে যাওয়া স্থানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন-২০২২ অনুযায়ী ইজারা দিয়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট গভীরতা বজায় রেখে ড্রেজিংয়ের অনুমতি দিয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্বে এসব এলাকায় অবৈধভাবে বালি ও মাটি উত্তোলন করা হতো।

তবে সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গত ৯ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় ড্রেজিং ও ডা¤িপং কার্যক্রম বন্ধ রাখার মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ১ মার্চ থেকে কাজ পুনরায় শুরু হলেও বাকলিয়া থানার পক্ষ থেকে আবারও ড্রেজিং ও ডা¤িপং স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন :  জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ছুটির দিনেও খোলা থাকবে বিপিসির ডিপো

চিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ড্রেজিং বন্ধ থাকলে কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা দ্রুত কমে যাবে। এতে বন্দরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হবে এবং দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রম মারাত্নকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে নদীর নাব্যতা কমে গেলে চট্টগ্রাম শহরে জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

এই অবস্থায় দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে কর্ণফুলী নদীর উজানে বন্দরের নিয়োজিত ঠিকাদারদের মাধ্যমে ড্রেজিং ও ডা¤িপং কার্যক্রমে সহযোগিতা দিতে চিঠিতে সিএমপির প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিষয়টিকে জরুরি উল্লেখ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ৩ মার্চ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে দুটি পৃথক আবেদনে চারটি প্রতিষ্ঠান এ অভিযোগ তুলে ধরে বলেছেন, সব ধরনের লাইসেন্স ও চুক্তি থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বৈধ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতি বাড়ছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ড্রেজিং কাজ শেষ না হলে নদীর নাব্যতা কমে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে এসএডি-তাজ (জেভি) শাহ আমানত ডকইয়ার্ড, মেসার্স মহি উদ্দিন এন্টারপ্রাইজ, এমএস-এমইউ (জেভি) এবং তাজ এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আবেদনে জানিয়েছে, তারা সরকারি বিধি মেনে এবং রাজস্ব পরিশোধ করে দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় বালি ও মাটি উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের কয়েক মাস আগে থেকে সংশ্লিষ্ট থানাগুলো মৌখিক ও লিখিত নির্দেশে তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলে। এই নির্দেশ মেনে চলতে গিয়ে মাসের পর মাস কাজ বন্ধ রয়েছে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানগুলোর। ফলে কর্ণফুলী নদীর ড্রেজিং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে এবং চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা না গেলে নদীর নাব্যতা কমে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৮ মে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হাইড্রোগ্রাফি বিভাগ চুক্তিনামা নম্বর ১৩-২৫ এর মাধ্যমে এসএডি-তাজ (জেভি)-কে কর্ণফুলী নদীর বাম তীরে নির্ভীক জেটি থেকে নৌ-পুলিশ কেন্দ্রের পূর্ব পর্যন্ত কাটিং বেন্ড জোন-এ সংরক্ষণমূলক ড্রেজিংয়ের অনুমতি দেয়। প্রায় ৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকার এ প্রকল্পে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ ঘনমিটার বালি ও মাটি উত্তোলনের কথা রয়েছে।

শর্ত অনুযায়ী গ্র্যাব ড্রেজারের মাধ্যমে উত্তোলিত বালি ও মাটি বাল্কহেড ও হুপারের মাধ্যমে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অপসারণ করতে হবে এবং তা নদী বা সাগরে ফেলা যাবে না। প্রকল্পটির মেয়াদ এক বছর। এছাড়া গত ১৪ জুলাই মহিউদ্দিন এন্টারপ্রাইজকে আউটার বার এলাকায় নাব্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিনা খরচে ড্রেজিংয়ের অনুমতি দেওয়া হয়, যেখানে দৈনিক নির্দিষ্ট পরিমাণ ড্রেজিং বাধ্যতামূলক।

আরও পড়ুন :  জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ছুটির দিনেও খোলা থাকবে বিপিসির ডিপো

১৯ আগস্ট এমএস-এমইউ (জেভি)-কে পোর্ট লিমিটের ভেতরের খালসমূহে পানি প্রবাহ বজায় রাখতে প্রায় ৪ কোটি ৫ লাখ টাকার সংরক্ষণ ড্রেজিং কাজের অনুমোদন দেওয়া হয়, যার মেয়াদও এক বছর। আবেদনকারীরা এসব কার্যাদেশ, চিফ হাইড্রোগ্রাফারের অনুমোদনপত্র এবং ইজারা চুক্তির কপি আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করেছেন।

তাদের দাবি, বন্দরের নির্দেশনা অনুযায়ী ড্রেজিং শেষে উত্তোলিত বালি ও মাটি নির্ধারিত স্থানে অপসারণ না করলে মোহনায় পলি জমে নদীর নাব্যতা কমে যেতে পারে। এতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হচ্ছে যেভাবে
মেসার্স বাকলিয়া সেইলস সেন্টারের মতে, দেশীয় প্রযুক্তির মিনি ড্রেজারের মাধ্যমে উত্তোলিত বালি তারা বিক্রি করে থাকে। তাদের দাবি, গত ৯ নভেম্বর প্রশাসনের একটি দল বিক্রয়কেন্দ্রে এসে বালি বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেয়। পরে গত ১২ নভেম্বর কমিশনারের কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করা হলেও এখনো কোনো অনুমতি পাওয়া যায়নি।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বন্দর ইজারা ও যন্ত্রাংশ ব্যয়সহ মোট ১ কোটি ৬৩ লাখ ৯৩ হাজার ৮০ টাকার ক্ষতির বিষয়টি তারা গত ১ মার্চ লিখিতভাবে বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে। বিক্রি পুনরায় শুরু করতে গেলেও বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। বিক্রয়কেন্দ্রটি বাকলিয়ার রাজাখালী নোমান কলেজ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত।

পুলিশের ভাষ্য
বিষয়টি নিয়ে বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান এবং কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিন বলেন, পুলিশ কমিশনারের নির্দেশেই অবৈধ বালুমহাল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বন্দরের অনুমোদনপ্রাপ্ত কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠানকে হয়রানি করা হচ্ছে না।

তারা বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে এবং পুলিশ সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে। রাতে কোনো বালিবাহী ট্রাক পাওয়া গেলে ট্রাফিক আইনে মামলা করা হয়। বন্দরের চুক্তিভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো যদি কোনো কারণে অসন্তুষ্ট হন, তাহলে তারা সিএমপি কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারেন।

ওসিরা জানান, নির্বাচনের আগে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে বালুমহালের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১২ ফেব্রুয়ারি। এরপর প্রায় এক মাস পার হলেও বন্দরের অনুমোদনে পরিচালিত ড্রেজিং ও বালি উত্তোলন কার্যক্রম কেন বন্ধ রয়েছে সে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।

বালু বন্ধের মুলে
২০২৫ সালের মার্চ মাসের শেষ দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় ভোরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে দুই ব্যক্তি নিহত হন। মোটরসাইকেলে এসে একদল সন্ত্রাসী একটি প্রাইভেট কারকে ধাওয়া করে এ হামলা চালায়। এতে গাড়ির চালক ও এক যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, বালুমহাল দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর দ্বন্দ্ব এবং পূর্বশত্রুতাই এ হত্যাকান্ডের পেছনে কাজ করেছে। ওই ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাচনের আগে বৈধ ও অবৈধ সব বালুমহালের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার উদ্যোগ নেয় সিএমপি।

আরও পড়ুন :  জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ছুটির দিনেও খোলা থাকবে বিপিসির ডিপো

তবে পরবর্তী সময়েও নগরীতে বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালের ২৫ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় গুলিতে নিহত হন কথিত সন্ত্রাসী আলী আকবর ওরফে ঢাকাইয়া আকবর। আবার গত ৮ নভেম্বর চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় সরোয়ার হোসেন বাবলাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত চারজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রায় দুই দশক ধরে বিদেশে পালিয়ে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদ চট্টগ্রামের অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার নির্দেশে চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার এবং নির্মাণ খাতে প্রভাব বিস্তারের মতো নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই নগরীর বায়েজিদ থানার চালিতাতলী এলাকায় সরোয়ার হোসেন বাবলাকে হত্যা করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, অন্য এলাকায় সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও সেখানে বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়নি। অথচ বাকলিয়া ও কোতোয়ালী এলাকায় বন্দরকেন্দ্রিক বৈধ ব্যবসা বন্ধ রাখা হয়েছে কেন সে বিষয়ে ¯পষ্ট ব্যাখ্যা নেই।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার এবং জনসংযোগ ও মিডিয়া শাখার দায়িত্বে থাকা আমিনুর রশীদ বলেন, বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে পরে সিএমপি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মন্তব্য জানাতে পারবেন। তিনি বলেন, বৈধ কোনো প্রতিষ্ঠানকে পুলিশ হয়রানি করার কথা নয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার মো. ওবায়দুর রহমান (এইচ২) বিএন বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের আওতায় কর্ণফুলী নদীতে ড্রেজিং এবং খাল খননের কাজ চলছে। চাক্তাই ও রাজাখালী খালের মুখে ড্রেজিং স¤পন্ন হয়েছে এবং আরও কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ফিশারিঘাট, জোবায়ের খাল, লইট্টা খাল, বিএফটি খাল, অভয় মিত্র খাল এবং পিকে সেন খালের মুখে খননকাজ করা হয়েছে। ড্রেজারের মাধ্যমে কর্ণফুলী নদী থেকে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার ঘনমিটার মাটি তোলা হচ্ছে এবং প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রায় ২৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কর্ণফুলী ড্রেজিং প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নদীর নাব্যতা ধরে রাখতে চার কিলোমিটার এলাকায় ড্রেজিং ও খাল খনন চলছে। ইতোমধ্যে নদীর তলদেশে জমে থাকা পলিথিনের স্তর অপসারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ঈশান/খম/বেবি

আরও পড়ুন

জনপ্রিয়

You cannot copy content of this page