সোমবার- ২৩ মার্চ, ২০২৬

কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে মামলা, গেটম্যান ২ আসামির প্রশিক্ষণ ছিল না

কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে মামলা, গেটম্যান ২ আসামির প্রশিক্ষণ ছিল না
print news

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেন ও বাসের সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে দুই কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তে উঠে এসেছে দায়িত্বে থাকা দুই ব্যক্তি নিয়মিত গেটম্যান ছিল না এবং গেট পরিচালনায় তাদের কোনো প্রশিক্ষণও ছিল না।

লাকসাম রেলওয়ে থানা সূত্র জানায়, আহত বাসযাত্রী শেফালী আক্তার বাদী হয়ে সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে এ মামলা করেন। এতে অভিযুক্ত করা হয়েছে গেটম্যান হিসেবে দায়িত্বে থাকা হেলাল উদ্দিন ও ওয়েম্যান মেহেদী হাসানকে। থানার ওসি জসিম উদ্দিন খন্দকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন :  যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও তেলের দাম বাড়ানো হয়নি: অর্থমন্ত্রী

মামলার এজাহারে বলা হয়, শেফালী আক্তার চুয়াডাঙ্গা থেকে ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের একটি বাসে করে লাকসামে বাবার বাড়িতে আসছিলেন। পথে পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে ঢাকাগামী ‘চট্টগ্রাম মেইল’ ট্রেনের সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত হন এবং আহত হন আরও অনেকে।

শেফালী আক্তার নিজেও আহত হন; আহত হন তার মা ও খালাও। বাদীর অভিযোগ, লেভেল ক্রসিংয়ে দায়িত্বে থাকা কর্মীদের গাফিলতির কারণেই এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

গত শনিবার (২১ মার্চ) রাত প্রায় ৩টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার জাঙ্গালিয়া এলাকার ওই লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে। চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী যাত্রীবাহী বাসটির সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই প্রাথমিকভাবে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি কারণ অনুসন্ধানে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন :  এপৃলে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা, আচরণবিধি ও নির্দেশনা প্রকাশ

রেলওয়ের একাধিক সূত্র জানায়, গেটম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক হলেও ওই দুই কর্মী এমন কোনো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছিল না। তবুও তাদের দিয়ে লেভেল ক্রসিং পরিচালনা করা হচ্ছিল।

এ বিষয়ে কুমিল্লা নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুর আলম বলেন, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে প্রশিক্ষণহীন কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয়। এতে জননিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে পড়ে।

আরও পড়ুন :  যুদ্ধের ২৩ দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস ২৫ জ্বালানিবাহী জাহাজ

রেলওয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জরুরি পরিস্থিতিতে তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম রেলওয়ে বিভাগের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাচ্ছে না। তদন্ত প্রতিবেদন এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঈশান/খম/মসু 

আরও পড়ুন

জনপ্রিয়

You cannot copy content of this page